বাংলাদেশ বার্তা টুডে
চুনারুঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে শ্রীবাউর সরকারি বালকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান, আতঙ্কে অভিভাবকরা
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার শ্রীবাউর সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চরম আতঙ্কের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মূল ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই বিকল্প হিসেবে এই অস্থায়ী টিনশেড ঘরে ক্লাস নিতে হচ্ছে। তবে জরাজীর্ণ এই টিনশেড ঘরের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টি হলেই চাল দিয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়, আর ঝড়-তুফানের দিনে পুরো ঘরটিই কাঁপতে থাকে। প্রচণ্ড গরমে টিনের তাপে ঘরের ভেতরের পরিবেশ হয়ে ওঠে দুর্বিষহ, যা কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পরিবেশে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে তারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। সন্তানদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনেকেই এখন তাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। দ্রুত একটি নতুন ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ করা না হলে এই অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত কষ্ট ও ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবন সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কোমলমতি শিশুদের সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত এখানে একটি বহুতল বা মানসম্মত নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সদরপুরে ঘরের জানালার রড ভেঙে কিশোরীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধ/র্ষ/ণ, আ/টক দুই
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গভীর রাতে বসতঘরের জানালার ভেঙে এক কিশোরী কে তুলে নিয়ে (১৫) দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুই অভিযুক্তকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বর্তমানে ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১টার দিকে উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। কিশোরীর চাচা জানায় , ঘটনার রাতে কিশোরীর দাদির চোখে চিকিৎসার জন্য তিনি ও তার মা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরী, ছোট বোন ও ছোট ভাই ছিল। আনুমানিক রাত ১টার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল ঘরটি ঘিরে ফেলে। দুর্বত্তরা প্রথমে দরজা খোলার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। ভেতর থেকে দরজা খুলতে অস্বিকার করলে দুর্বৃত্তরা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায় পরবর্তীতে কিশোরীকে একটি মোটরসাইকেলে করে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ওই এলাকার বাসিন্দাদের সুত্রে জানা যায়, দলবদ্ধ ধর্ষণের পর কিশোরী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে অনুমান রাত ৩টার দিকে, ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর দৃবৃত্তরা কিশোরীকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ধাওয়া দিয়ে দুই জনকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে। পরে গণপিটুরি দিয়ে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটককৃতরা হলেন, একই এলাকার ইসমাইল মৃধার ছেলে হেলাল মৃধা (২০) ও টিটু শিকদারের ছেলে রইস শিকদার (১৬)। ভুক্তভোগীর মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এই অবস্থা দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়েকে ঘরের দরজা ভেঙে উঠিয়ে নিয়ে যায়। রাত তিনটার দিকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায়। আমি এই ঘটনায় জড়িত সকলের বিচার চাই"। কিশোরীর ছোট বোন জানায়," দুর্বত্তরা জানালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে আমার বোনের চুলের মুটি ধরে তাকে টেনে হেচড়ে বের করে নিয়ে যায়"। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শামছুল আজম বলেন, "গণধর্ষণের ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন আরও, এলাকাবাসী যে দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে তারা বর্তমানে থানায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন"।
জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সেই তিন শিক্ষক, আজ তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে
দুই বছর আগের সেই উত্তাল জুলাই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, তখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণও হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের প্রতীক। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির ঘটনার বিরুদ্ধে যখন অধিকাংশ শিক্ষক নীরব ছিলেন, তখন মাত্র তিনজন শিক্ষক প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিপীড়নবিরোধী সমাবেশ করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই তিন শিক্ষকই আজ দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানান এবং নিপীড়নের প্রতিবাদে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন। সেই সময় আন্দোলন ঘিরে দেশে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির খবর আসছিল বিভিন্ন স্থান থেকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কিংবা ব্যক্তিগত ঝুঁকির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এই তিন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের ভাষায়, এটি ছিল একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব পালন। দুই বছর পর ফিরে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের তিনজনই এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। আন্দোলনের পর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ প্রথমে নোবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার সম্প্রতি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন, ঐসময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে গিয়েছিল , এক পর্যায়ে তারা সব শিক্ষকদের মেইল করে অনুরোধ করে ওদের সাথে থাকার জন্য। আমরাও আগে থেকে প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম এরপর ওদের মেইল পেয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমরাও ওদের সাথে গিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করবো। বিশেষ করে আমি, জাহাঙ্গীর স্যার, শফিক স্যার আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেই। তিনি আরও বলেন , তখন আমরা কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশায় আন্দোলনে নামিনি। আমার অনুভূতি ছিলো আমরা তো শিক্ষক আমাদের ছাত্রদের উপর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে থাকা যতটা ইম্পর্ট্যান্ট, যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে তখন তাদের পাশে থাকা আরো বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। এতে আমরা চাকরিচ্যুত হওয়া, এরেস্ট হওয়া এবং মেরেও ফেলতে পারতো এগুলো নিয়ে চিন্তা না করে আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে দাড়াই। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শহিদ মিনারের সামনে দাড়িয়েছি যখন দেখেছি আমাদের ছাত্রদের দাবি ন্যায্য, তারা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছিলো তখন তাদের উপর গুলি ছোড়া হচ্ছিলো, তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো। বিশেষ করে আবু সাঈদকে যখন গুলি করে হত্যা করা হয় তখন আমরা ছাত্রদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করি। ঐসময় এই চিন্তা করিনি আমাদের চাকরি চলে যাবে আমাদের ক্ষতি হবে বা এরকম কিছু। তিনি জানান, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। আমাদের ১৯৭১ এ জন্ম হয়নি দেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি, আমার জীবদ্দশায় ভবিষ্যতে আবার যদি কখনো দাড়াতে হয় দেশের জন্য আবারো দাড়াবো, ইনশাআল্লাহ। অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, আমি আন্দোলন করেছি একটি বৈষম্যবিরোধী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, প্রত্যেকে প্রত্যেকের অধিকার ফিরে পাক। এর জন্য যে আমাকে কিছু পেতে হবে তাই আন্দোলন করিনি। ছাত্র সমাজের উপর হামলা, সারাদেশে গুম, খুন, হত্যা এর প্রতিবাদে ঐ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় ধারণ করি; আজকের ছাত্র আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এজন্য আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে যতটুকু করার আমি করি। দায়িত্ব পেয়েছি এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, সরকারকেও ধন্যবাদ। দায়িত্ব পাওয়াই বড় কথা নয় এই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারাই মূল বিষয়। দুই বছরের ব্যবধানে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সেই ছোট্ট প্রতিবাদ আজ ইতিহাসের একটি অধ্যায় হয়ে আছে। সেই সমাবেশে উপস্থিত তিন শিক্ষক এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের অংশ। তাঁদের এই পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং সংকটময় সময়ে নৈতিক অবস্থান, শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি উপলক্ষ।
গাইবান্ধায় সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। গত ৩০ জুলাই রাতে গাইবান্ধা জেলা প্রেসক্লাবে সরকার পাড়ার বাসিন্দা মোঃ মোকছেদুর রহমান (পিতা: জাহেদুল ইসলাম আজাদ) কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ওই সাংবাদিক। এক লিখিত প্রতিবাদলিপিতে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বাবু জানান, গত ২৮ জুলাই সরকার পাড়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছিল। ওই সময় মোকছেদুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা সংস্কারকাজে বাধা দিয়ে রাস্তাটি দখলের চেষ্টা চালায়। পথচারীরা এতে বাধা দিলে মোকছেদুর ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত ও আহত করে। এসময় প্রবীন সাংবাদিক মোঃ হায়দার আলী (৯৫) কে মোকছেদুর রহমান গায়ে হাত এবং বিবস্ত্র করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৮ জুলাইয়ের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং উক্ত ঘটনার সাথে তার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। সাংবাদিক বাবুর অভিযোগ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে 'অপসো নিন' কোম্পানি থেকে চাকরিচ্যুত হওয়া মোকছেদুর রহমান নিজস্ব অপকর্ম ঢাকতে এবং জমি সংক্রান্ত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এবং সমাজে সুপরিচিত একজন গণমাধ্যমকর্মীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সোনারগাঁও ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টারের বক্সে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৯৫৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। র্যাব-১১ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে সোনারগাঁ থানাধীন মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেহ ও মোটরসাইকেল তল্লাশি করে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টারের বক্সে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ হাজার ৯৫৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পাঁচোড়া এলাকার আবুল কালাম আজাদ (৩৬) এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আনন্দপুর এলাকার সবুজ (২৯)। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার দুজন একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলের এয়ার ফিল্টারের বক্সে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ও বিক্রি করতেন বলে র্যাব দাবি করেছে। র্যাব-১১ জানায়, মাদক নির্মূলে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পঞ্চগড়ে নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের মতবিনিময়
পঞ্চগড়, ১ আগস্ট ২০২৬: পঞ্চগড়ে নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি। সভাপতিত্ব করেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক জনাবা শুকরিয়া পারভীন। মতবিনিময় সভায় নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, আত্মনির্ভরশীলতা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে বিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। নারী উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও তাদের এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েও মতবিনিময় করা হয়। সভায় নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পঞ্চগড়ের নারী উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও উদ্যোক্তা বিকাশে এ ধরনের মতবিনিময় সভা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে ভূমিকা রাখবে।
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ঢাকা-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে অধ্যাপক কামরুল ইসলাম তরফদার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট জসিম উদ্দিন আহমদ বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে অধ্যাপক কামরুল ইসলাম তরফদার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সি এম কয়েস সামী পেয়েছেন ৫৮৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট জসিম উদ্দিন আহমদ ৮৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. জিয়াউল ইসলাম মুন্না পেয়েছেন ৭২১ vote।কোষাধ্যক্ষ পদে রিপন কবির লস্কর ৭৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সৈয়দ লোকমান আহমদ পেয়েছেন ৭৩৯ ভোট। বিভাগ ও জেলাভিত্তিক সহ-সভাপতি পদে বিজয়ীরা:সহ-সভাপতি (জালালাবাদ): মো: এহছানে এলাহী (৮৭৬ ভোট) ও ইঞ্জি: আজিজুর রহমান (৬৬৯ ভোট)।সহ-সভাপতি (সিলেট): তোফায়েল খান (৮৭৩ ভোট) ও ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী (৬৫৭ ভোট)।সহ-সভাপতি (মৌলভীবাজার): আব্দুল মজিদ চৌধুরী (৮১৮ ভোট) ও সৈয়দ মুসতাক আহমদ (৭১০ ভোট)।সহ-সভাপতি (সুনামগঞ্জ): আকবর হোসেন মঞ্জু (৮৬৬ ভোট) ও ডা: সৈয়দ উমর খৈয়াম (৬৬৪ ভোট)।সহ-সভাপতি (হবিগঞ্জ): আনোয়ার হোসেন চৌধুরী (১০৫৮ ভোট) ও সফিকুল বারী (৪৯০ ভোট)।সহ-সভাপতি (মহিলা): ডা: সামিয়া মুবিন (১০৪৭ ভোট) ও শাহনাজ আহমদ মালিক (৪৮৪ ভোট)।অন্যান্য সম্পাদকীয় পদে বিজয়ীরা:যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক-১: জাকির হোসেন (৮২২ ভোট)।যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক-২: এড. আবুল কালাম (৮১৫ ভোট)।দপ্তর সম্পাদক: শফিকুল ইসলাম সজল (৯০৭ ভোট)।সাংগঠনিক ও জনসংযোগ সম্পাদক: ব্যারিস্টার সৈয়দা সীমা করীম (৯৫০ ভোট)।শিক্ষা, সাহিত্য ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক: নেছার আলী (৯২৫ ভোট)।ক্রীড়া, চিত্তবিনোদন ও সংস্কৃতি সম্পাদক: ক্যাপ্টেন মিজানুর রহমান (৮৮৮ ভোট)।মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: ব্যারিস্টার নাসরিন আক্তার শীলা (৭৮৭ ভোট)।আন্তর্জাতিক ও প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক: মো: মিজানুর রহমান (৭৬২ ভোট)।চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা সম্পাদক: ডা: আবুল কালাম চৌধুরী (৯০৯ ভোট)।নবনির্বাচিত কমিটি। জালালাবাদ (বৃহত্তর সিলেট) ঢাকার বাসিন্দাদের কল্যাণ এবং এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। জালালাবাদ এসোসিয়েশন ঢাকা-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনে নবনির্বাচিত সভাপতি দেশবরেণ্য নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ৯৮৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। পরিচয়জন্ম ও আদি নিবাস: তিনি বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পেশা তিনি দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ও প্রখ্যাত নাক-কান-গলা (ENT) রোগ এবং হেড-নেক সার্জন। তাঁর উচ্চতর চিকিৎসা ডিগ্রিগুলোর মধ্যে রয়েছে:MBBS, FCPS, FICS, FACS, FRCS।পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ববিএসএমএমইউ: তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU) হাসপাতালের নাক-কান-গলা (ENT) বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং অধ্যাপক।ইএনটি ইনস্টিটিউট: তিনি ঢাকার 'ইএনটি অ্যান্ড হেড নেক ক্যান্সার ইনস্টিটিউট'-এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জালালাবাদ এসোসিয়েশন তিনি সংগঠনটির একজন দীর্ঘকালীন আজীবন সদস্য এবং বর্তমানে নবনির্বাচিত সভাপতি (২০২৬-২০২৭ মেয়াদ)।হবিগঞ্জ এসোসিয়েশন, তিনি 'হবিগঞ্জ এসোসিয়েশন, ঢাকা'-এর বর্তমান সভাপতি।তিনি 'হবিগঞ্জ হার্ট ফাউন্ডেশন'-এরও সভাপতি সামাজিক ও চিকিৎসা সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সোনারগাঁয়ে পুকুরে ডুবে ৮ বছরের শিশুর মৃ/ত্যু, আ/হত ১
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পৌরসভার চিলারবাগ এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে আয়ান (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় রোজা নামে অপর এক শিশু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে শহীদ মজনু পার্ক সংলগ্ন একটি পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে আয়ান, রোজা ও শান্তা নামে তিন শিশু চিলারবাগ এলাকার শহীদ মজনু পার্ক সংলগ্ন একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের বাড়ি ফিরে যেতে বললেও তারা কথা শোনেনি। একপর্যায়ে শান্তা বাড়ি ফিরে গেলেও আয়ান ও রোজা পুকুরে থেকে যায়। পরে তারা পানিতে তলিয়ে গেলে বিষয়টি কেউ টের পায়নি। কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা শিশুদের খোঁজাখুঁজি শুরু করলে স্থানীয়দের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন যে, আয়ান ও রোজা পুকুরে গোসল করছিল। পরে স্বজনরা পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আয়ানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রোজা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত আয়ান সনমান্দি ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকার জামাল হোসেনের ছেলে। সে তার নানীর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। আয়ান ও রোজা সম্পর্কে মামা-খালা। এ মর্মান্তিক ঘটনায় দুই পরিবারের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করতে হবে: ত্রাণ মন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অঙ্গীকার করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকে যদি একটি করে গাছ লাগাই, তাহলে দেশব্যাপী সবুজায়নের যে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে, তা বাস্তবে রূপ নেবে। শুক্রবার (৩১শে জুলাই) বিকালে লালমনিরহাট কালেক্টরেট মাঠে ১০ দিনব্যাপী ‘লালমনিরহাট জেলা বৃক্ষমেলা, ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, একটি বৃক্ষ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না; এটি ব্যক্তি, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ নিশ্চিত করে। পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কিছু মানুষের অসচেতনতা ও দায়িত্বহীন আচরণ উদ্বেগজনক। বিভিন্ন সড়কের আইল্যান্ড, উন্মুক্ত স্থান ও জনসমাগম এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে রোপণ করা গাছ অনেক সময় অযত্ন, অবহেলা কিংবা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে পরিবেশের জন্য হুমকি উল্লেখ করে তিনি নব-রোপিত গাছের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন,বেসরকারি নার্সারি মালিকদের উৎসাহিত করতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের উৎপাদিত গাছের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নার্সারি মালিক সমিতির জন্য স্থান বরাদ্দেরও আশ্বাস দেন তিনি। সরকারের ঘোষিত ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, লালমনিরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবু ইমাম মো. রাশেদুন্নবী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শাইখুল আরেফিন, রংপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, নার্সারি মালিক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ১০ দিনব্যাপী এ মেলায় ৩০টি স্টল স্থান পেয়েছে। স্টলগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পরে মন্ত্রী জেলার চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি লালমনিরহাট জেলা পরিষদের নতুন অডিটোরিয়ামে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর মূল্যায়ন সভায় অংশগ্রহণ করেন।
দক্ষিণ রাউজানে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ধর্মীয় নাটক "কৃষ্ণ হারা বৃন্দাবন"
চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাউজান কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী মা মগদ্বেশ্বরী ও গঙ্গা মন্দির অঙ্গনে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে বিশেষ ধর্মীয় নাটক "কৃষ্ণ হারা বৃন্দাবন"। বিশিষ্ট নাট্যকার কুমার নিরঞ্জন-এর রচনায় নির্মিত নাটকটির সম্পাদনা ও নির্দেশনায় : রাজীব পাঠক। সংগীত পরিচালনায় : চট্টলার বিশিষ্ট সুরকার মিলন আচার্য। নেপথ্যে কন্ঠে : মিলন আচার্য ও লাকী আচার্য। নাটকটি প্রযোজনা করছেন দক্ষিণ রাউজান কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী মা মগদ্বেশ্বরী ও গঙ্গা মন্দির পরিচালনা পরিষদ। পরিবেশনায় : সংলাপ থিয়েটার, চট্টগ্রাম। নাটকের মূল উপজীব্য ও কাহিনী : ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন বৃন্দাবন ত্যাগ করে মথুরায় গমন করেন, তখন গোটা বৃন্দাবন যেন এক গভীর শূন্যতায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। গোপ-গোপী, সখা-সখী, নন্দ-যশোদা এবং সমগ্র বৃন্দাবনবাসী প্রিয় শ্রীকৃষ্ণের বিচ্ছেদ বেদনায় কাতর হয়ে ওঠেন। সেই বিচ্ছেদের বেদনা, প্রেম, ভক্তি এবং কৃষ্ণপ্রেমে উদ্বেলিত বৃন্দাবনের হৃদয়স্পর্শী অনুভূতিই এই নাটকের মূল উপজীব্য। নাটকটিতে তুলে ধরা হয়েছে বৃন্দাবনের মানুষের অসীম কৃষ্ণভক্তি, শ্রীকৃষ্ণের শৈশব স্মৃতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে বৃন্দাবনের নিঃসঙ্গ ও বেদনাময় পরিবেশ। একই সঙ্গে নাটকটি দর্শকদের সামনে ভক্তি, প্রেম ও আত্মত্যাগের এক অনন্য বার্তা পৌঁছে দেবে বলে আয়োজকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলীবৃন্দ নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করবেন স্থানীয় ও আমন্ত্রিত একঝাঁক প্রতিভাবান নাট্যশিল্পী। নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেন- শ্রীকৃষ্ণ: সুজন দাশ বলরাম: রাজীব মল্লিক বীতংস: তীলেশ পারিয়াল সুধাম: শংকর চৌধুরী বসুধাম: অসীম চৌধুরী বাসু শ্রীধাম: তন্ময় দাশ গুপ্ত পিকলু নন্দরাজ: দোলন কৃষ্ণ ঘোষ আয়ান ঘোষ: অমল কান্তি দে শিব: প্রদীপ্ত তালুকদার মাকালী: সায়ন্তি দাশ গুপ্তা কোমল ছোট কৃষ্ণ: তীর্থ মহাজন অর্জুন ব্রাহ্মণ: মোশারফ হোসেন কালান্তর: অ্যাডভোকেট শিবু প্রসাদ ভদ্র দয়ানাথ: মাষ্টার সমীর চন্দ্র দে নিমে বাগ্দী: রিটন কান্তি দে কৃপাচার্য: রাজীব পাঠক রাধা: অর্থি ভট্টাচার্য অস্তি: শিপ্রা চৌধুরী কুটিলা: চৈতী সেন রুক্মিনি: বৈশাখী স্মারক : জীবন চন্দ্র দে। আমন্ত্রন ও প্রত্যাশা : মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ধর্মপ্রাণ সনাতনী ভক্তবৃন্দ ও সর্বস্তরের দর্শকদের এই ব্যতিক্রমী ধর্মীয় নাটকটি উপভোগ করার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, নাটকটি দর্শকদের মাঝে ভক্তি, মানবতা ও শ্রীকৃষ্ণপ্রেমের চিরন্তন বার্তা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবে এবং এলাকায় এক উৎসবমুখর ধর্মীয় আবহ সৃষ্টি করবে।
সোনারগাঁও মাদক,চুরি,ছিনতাই বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পৌরসভা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক সচেতনতার লক্ষ্যে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী । শুক্রবার দুপুর ২টায় সোনারগাঁও পৌরসভার লাহাপাড়া এলাকার সমাজবাসীর উদ্যোগে লাহাপাড়া জামে মসজিদের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে । মিছিলটি লাহাপাড়া গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে সোনারগাঁও. জি. আর ইনস্টিটিউশন স্কুল এন্ড কলেজ রোড হয়ে সোনারগাঁও পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁও পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার দুলাল মিয়া, সমাজ সেবক হাজী আব্দুল কাইয়্যুম, ডাঃ আব্দুর রহমান, সাদেকুর রহমান, লাহাপাড়া ঈদগাহ ও কবরস্থান কমিটির সভাপতি সাংবাদিক ভিপি পারভেজ, এ্যাডভোকেট সফর উদ্দীন সবুর, মোঃ ইউসুফ, মোঃ মোশাররফ মোল্লা, মোঃ আল-আমিন, মোঃ সোহেল, লাহাপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি ইব্রাহীম নোমান, মোঃ আব্দুল হাই প্রমুখ । এসময় এলাকারবিভিন্ন শ্রেণীর মানুষজন উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকায় ব্যাপকভাবে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামের যুবক ছেলেদের মধ্যে মাদক সেবনের প্রবনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাদকের কারনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ও গ্রামে চুরি, ছিনতাই ব্যপকভাবে বেড়েছে। বক্তারা আরও বলেন, একটি সুন্দর সমাজ গড়তে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার বিকল্প নেই। প্রশাসনের পাশাপাশি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হবে তা নাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজম্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।
শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক ঘটনার অভিযোগ: কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী সাময়িক বরখাস্ত
শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. জলিলুর রহমানকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস নোটে, এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই অভিযুক্ত কর্মচারীকে ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি সামনে আসার পর ২৭ জুলাই বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শেখ মো. মাঈনুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রতিবেদন ম্যানেজিং কমিটির কাছে দাখিল করে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বাক্ষরিত আদেশে মো. জলিলুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী (অফিস সহকারী) মো. জলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অশ্লীল, অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ছবি ও ভিডিও ২৬ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমাজের শালীনতা, নৈতিকতা ও রুচিবোধে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এ কারণে বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান বলেন, “অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।” এদিকে ঘটনাটি নিয়ে কুয়াকাটায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর মর্যাদা ও গোপনীয়তা বিবেচনায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, এ ধরনের ভিডিও প্রচার করা অনৈতিক এবং এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের, বিশেষ করে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর, আরও ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিওতে ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে তরুণী এলিন
পঞ্চগড়, ৩১ জুলাই ২০২৬: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে নিজের ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও মানহানির অভিযোগ তুলেছেন পঞ্চগড়ের তরুণী রাহেমীন মারিয়া এলিন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্যে এলিন জানান, তিনি পঞ্চগড়ের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের বিএসএস শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। পারিবারিক পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মারিয়া সরকার’ নামে পরিচিত হলেও তিনি মুসলিম এবং পঞ্চগড়ের স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে একটি সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনার সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে একটি রেস্টুরেন্টে স্মারক হিসেবে ছবি তুলেছিলেন। সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে সেই পুরোনো ছবিটি যুক্ত করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এলিন দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওতে থাকা নারী তিনি নন। এরপরও তার ছবি ব্যবহার করে ভিন্ন পরিচয় তুলে ধরা হচ্ছে, যা তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও জানান, উপস্থাপনার কাজের কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার পরিচয় ও ছবি রয়েছে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। কয়েকদিন আগে ব্যক্তিগতভাবে একটি পুরোনো ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করলেও পরে ভুল ব্যাখ্যার আশঙ্কায় সেটি মুছে ফেলেন। তার অভিযোগ, সেই ছবিটি সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে অপপ্রচারে ব্যবহার করা হয়েছে। এলিন বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হিন্দু তরুণী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে তার সম্মানহানি হয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, তার বাবা-মা দুজনই মারা গেছেন এবং অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা ও নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে তিনি বলেন, ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে অথবা অন্য কোনো ঘটনার ভিডিওও হতে পারে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার সম্মানহানির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান রাহেমীন মারিয়া এলিন।
চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়ায় বনরক্ষীদের অভিযানে অবৈধ শুটকির মাচা ধ্বংস,শুঁটকি চিংড়ি,নৌকা ও কীটনাশক এবং জাল জব্দ
পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের চরাপুটিয়ার বনাঞ্চলে বৃহস্পতিবার বিকেলে বনরক্ষীরা অভিযান চালিয়ে ধ্বংস করেছে তিনটি অবৈধ শুঁটকির মাচা (টংঘর)। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ শুঁটকি চিংড়ি, নৌকা ও কীটনাশক এবং মাছ ধরার জাল। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে দিন ব্যপী নিয়মিত টহলৈকালে সুন্দরবনের চরাপুটিয়া টহল ফাঁড়ির আওতাধীন কাগা খাল, ইন্দুরকানী খাল ও হরমাল খাল সংলগ্ন দুর্গম সুন্দরবনের মধ্যে তল্লাশী চালিয়ে বনের মধ্যে অবৈধভাবে জেলেদের বানানো শুঁটকি তৈরীর মাচা টংঘর দেখতে পায়। এ সময় হরমাল খালের আগায় বনের মধ্যে বানানো মাচা (টংঘর) থেকে ২ বস্তা শুঁটকি চিংড়ি, ৫ বস্তা শুঁটকি করার জন্য মাচায় বিছানো তাজা চিংড়ি জব্দ করেন। এ ছাড়া ২টি জেলে নৌকা, ২টি টুনা জাল এবং ২ লিটার বিষ (কীটনাশক), ৩ বস্তা চালসহ আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করেন বনরক্ষীরা। এ সময় বনরক্ষীদের দেখতে পেয়ে শুঁটকিকরণ জেলেরা সুন্দরবনের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে বনরক্ষীরা শুঁটকির মাচা ভেঙ্গে ধংস করে ফেলে। অপর ঘটনায় একই এলাকার সুন্দরবনের খাল থেকে কাকড়া ধরার অবৈধ চারু বোঝাই একটি নৌকা আটক করেন বনরক্ষীরা। এ সময় নৌকায় থাকা জেলেরা লাফিয়ে পড়ে সুন্দরবনের মধ্যে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। নৌকা থেকে ৯৫টি চারু জব্দ করা হয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে তিন মাসের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারী রয়েছে। এক শ্রেণির অসাধূ জেলে বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সুন্দরবনের চরাপুটিয়ার দুর্গম বনাঞ্চলের মধ্যে শুঁটকির মাচা (টংঘর) বানিয়ে সুন্দরবনের খালে বিষ দিয়ে চিংড়ি মাছ ধরে শুঁটকি করছিলো। বনরক্ষীদের অভিযানে শুঁটকির মাচা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। বন অপরাধীদের ধরার জন্য সুন্দরবনে টহল কার্যক্রম আরো জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে ডিএফও জানিয়েছেন।
আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো জুলাই সনদের আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে ; আইন মন্ত্রী
আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো জুলাই সনদের আলোকেই বাস্তবায়ন হবে বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মন্ত্রী আরও বলেন, আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনার আলোকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। আমরা সেই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে প্রায় সবগুলো সংস্কারই গ্রহণ করেছি। এর বাইরে বাকি যেগুলো আছে, সেগুলো সংশোধনের জন্য আমরা বিশেষ কমিটি গঠন করেছি। জুলাই সনদের আলোকে সংস্কারগুলো এগিয়ে নিয়ে, যে সংশোধনগুলো করার দরকার, আমরা সেগুলো করব। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে বৃক্ষরোপন ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তাহলে এবারে সরকার আইনগত যা যা করণীয়, তা করবে। উনি (শেখ হাসিনা) বলেছেন, উনি নিজেই আসবেন। নিজে আসলে তো ভালো। তিনি দেশে আসলে আসবেন, আদালতের মুখোমুখি হবেন। এখানে আইনের বাইরে সরকার কিছু করবে না। হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার আইন, আদালত, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর যদি নিয়ন্ত্রণ করতো, তাহলে মামলাই হতো না। কিন্তু ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। এখন যথাযথ ভাবে আইনগত ভাবে মামলার তদন্ত হবে। তদন্ত সাপেক্ষ্যে যারা অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসন আয়োজিত বৃক্ষরোপন ও মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারি রাশেদ খান, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদসহ অন্যান্যরা।