বাংলাদেশ বার্তা টুডে
রংপুরে ডিবির অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
রংপুরে ডিবির অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম সাবুল:রংপুর প্রতিনিধি রংপুরের গংগাচড়ায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ও একটি নীল রঙের অ্যাপাচি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। রোববার (২৪ আগস্ট) রাত ২টা ৩৫ মিনিটের দিকে গংগাচড়া মডেল থানাধীন ৫ নম্বর লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পূর্ব ইচলী মৌজার মহীপুর ব্রিজের উত্তর পাশে জনৈক নূর ইসলামের হোটেলের সামনে পাকা সড়কে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রংপুর জেলা পুলিশের ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) ভূষণ চন্দ্র বর্মন, এসআই (নিরস্ত্র) আমিনুল ইসলাম ও এসআই (নিরস্ত্র) মো. সফিকুল গনির নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় ঘটনাস্থলেই তাদের আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের দেখানো মতে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ও নীল রঙের অ্যাপাচি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মধ্যম কাদমা এলাকার রনজিত চন্দ্র রায়ের ছেলে শ্রী কমল চন্দ্র রায় (২৮) এবং উত্তর জাওরানী এলাকার মৃত জাহেদুল ইসলামের ছেলে মো. মাহবুব হোসেন (৩২)। পরে জব্দকৃত আলামত ও গ্রেপ্তার দুই আসামিকে গংগাচাড়া মডেল থানায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গংগাচাড়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রংপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান
নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান মিলন বৈদ্য শুভ, চট্টগ্রাম: শ্রুতিঅঙ্গনের ১৫তম বর্ষের নিয়মিত শাস্ত্রীয় ও উপশাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবস স্মরণে এক মনোজ্ঞ শাস্ত্রীয়-উপশাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পার্থ প্রতিম বিশ্বাস ও প্রণিতা দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদীর সহযোগী সম্পাদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি ও শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ রউফ বলেন, বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের মতো অসাম্প্রদায়িক, বিস্ময়কর প্রতিভাবান ও দুর্সাহসিক কবি আর নেই। তিনি নজরুলের সাম্য ও মানবতার চেতনা তুলে ধরে বলেন, “গাহি সাম্যের গান—মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।” ধর্ম-বর্ণ, জাতি ও দেশ-কালের বিভেদ ভুলে মানবতার জয়গানই ছিল নজরুলের সৃষ্টির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তিনি আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ হল বাঙালির মাথার উপর ছাতা আর নজরুল হল অন্তরাত্মা।” প্রায় শত বছর আগে নজরুল তাঁর গান, কবিতা, নাটক ও উপন্যাসে দেশাত্মবোধ, নারী জাগরণ, ইসলামী গান, শ্যামাসংগীত, বিদ্রোহ, গজল, প্রেম, প্রকৃতি, রাগপ্রধান গান, ভাটিয়ালি ও পল্লীগীতিসহ বিভিন্ন ধারার অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি রেখে গেছেন। নতুন প্রজন্মের মাঝে নজরুলের এই সৃষ্টিকর্ম ও মানবতাবাদী চেতনা ছড়িয়ে দিতে পারলে আকাশ সংস্কৃতির যুগে সমাজের অস্থিরতা, হিংসা ও হানাহানি অনেকাংশে কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শ্রুতিঅঙ্গনের সভাপতি সুজিত কুমার ভট্টাচার্য সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট সকলের অবদানের কথা তুলে ধরেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস, অরুণ রায়, প্রণব দে, সঞ্জয় দে প্রমুখ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে মঙ্গলদ্বীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শুরু হয়। অনিল কুমার ঘোষের কথায়, উস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়ার সুরে এবং লিটন দাশের সংগীতায়োজনে ভৈরবী রাগপ্রধান গান ‘বাজে মোহন বেণু কদম কাননে সখী’ পরিবেশিত হয়। এরপর নজরুলের পটদীপ রাগে ‘হে প্রিয়, আমারে দিব না ভুলিতে’ এবং প্রার্থনা সংগীত ‘অনাদি কাল হতে অনন্ত লোক গাহে তোমারি জয়’সহ ‘মোরা আর জনমে হংস-মিথুন ছিলাম’ ও ‘চাঁদের কন্যা চাঁদ সুলতানা, চাঁদের চেয়েও জ্যোতি’ পরিবেশন করেন শ্রুতিঅঙ্গনের শিল্পীবৃন্দ। একক সংগীত পরিবেশনায় রাগ মেঘমল্লার ও দাদরা ‘বরষন লাগী সাবন বোধিয়া রাজা’ পরিবেশন করেন শ্রুতিঅঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রশিক্ষক লিটন দাশ। তবলায় ছিলেন তিষাণ ঘোষ, হারমোনিয়ামে অনির্বাণ দত্ত এবং তানপুরায় নিপা দত্ত ও নীলকান্ত ভৌমিক। পরবর্তীতে শিল্পীদের একক পরিবেশনায় একের পর এক মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশিত হয়। অনির্বাণ দত্ত পরিবেশন করেন ‘রঞ্জসী শাহী দিলহি দোকান’—গজল, মিশ্র ইমন রাগে। মনস্বিতা চৌধুরী পরিবেশন করেন ‘রঙ্গী সারি গোলাবি চুনেরিয়া’—মিশ্র পাহাড়ি রাগের ঠুমরী। সৃজিতা দে পরিবেশন করেন ‘আয়েনা বালমা কা করু সজনী’—ভৈরবী রাগে। প্রণিতা দেব পরিবেশন করেন নজরুলসংগীত ‘চাঁদের মত নিরবে এসো প্রিয়’—শিবরঞ্জনীতে। পুষ্পিতা শীল পরিবেশন করেন ‘এ কেমন রাত্রি এলো ভোর’—রাগপ্রধান গান, দাদরা ও শিবরঞ্জনীতে। নিলয় দত্ত পরিবেশন করেন নজরুলসংগীত ‘এলো ঐ পূর্ণ শশী’। এছাড়া পাপড়ি দাশের কণ্ঠে ‘সাচি বলো শ্যাম’, মেঘলিনা ঘোষের কণ্ঠে ‘আমার দেয়া ব্যথা ভোলো’, নিপা দত্তের কণ্ঠে ‘দাঁড়ালে দুয়ারে মোর’ এবং দরবারী রাগে গজল ‘মেরে হাম না ফাস মেরে হাম নাবা’, বিনয় দাশের কণ্ঠে নজরুলসংগীত ‘আমার বিফল পূজাঞ্জলি’ পরিবেশিত হয়। যন্ত্রসংগীতে বাঁশিতে রাহুল সরকার, কিবোর্ডে নিখিলেশ বড়ুয়া, বেহালায় শ্যামল চন্দ্র দাশ, অক্টোপ্যাডে নন্দন নন্দী এবং তবলায় তিষাণ ঘোষ ও শ্রীয়ম দে প্রমুখ শিল্পী সহযোগিতা করেন। নজরুলের গান ও শাস্ত্রীয় সংগীতের সুরে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে সংগীতপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতিতে থিয়েটার ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এক মনোরম সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন না পেয়ে মহাসড়কে শ্রমিকরা, শ্রীপুরে ওয়াশিন মিলের সামনে উত্তেজনা
দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন না পেয়ে মহাসড়কে শ্রমিকরা, শ্রীপুরে ওয়াশিন মিলের সামনে উত্তেজনা শ্রীপুর( গাজীপুর) সংবাদদাতা গাজীপুরের শ্রীপুরে দীর্ঘদিনের বেতন বকেয়া থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন ওয়াশিন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের কয়েক শ শ্রমিক। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় জৈনা বাজার ইউটার্ন এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে তাঁরা বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান। শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। খবর পেয়ে মাওনা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তাঁদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে কারখানার সামনে নেওয়া হলে প্রায় ৪০ মিনিট পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানার বিভিন্ন বিভাগে কর্মরতদের দুই থেকে তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। চলতি মাসের ২৪ তারিখ চলে গেলেও বেতন না পাওয়ায় অনেকেই সংসারের খরচ চালাতে পারছেন না। বাড়িভাড়া, বাজার-সদাই ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে গিয়ে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। কয়েকজন শ্রমিক বাড়িভাড়া দিতে না পারায় ঘরে তালা দেওয়ার অভিযোগও করেন। সালমা আক্তার নামে এক শ্রমিক বলেন, দিনের পর দিন কাজ করেও সময়মতো বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই তাঁরা বকেয়া বেতনের দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে বেতন পরিশোধে বিলম্বের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তাঁরা। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান জানান, শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিন স্পিনিং মিলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুড়িগ্রামে ছাত্রের মাদক সেবনের ভিডিও ফেসবুকে, মাদরাসা শিক্ষার্থী বহিষ্কার
কুড়িগ্রামে ছাত্রের মাদক সেবনের ভিডিও ফেসবুকে, মাদরাসা শিক্ষার্থী বহিষ্কার কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ২৪.০৮.২৬ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদক সেবন ও সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) ওই মাদরাসা ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে মাদরাসা কতৃপক্ষ। এর আগে গত কয়েকদিন আগে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, উপজেলার বড়লই দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্র আবু সায়েদের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর ও যাচাই-বাছাই করে কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়লই এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় আতিকুর রহমান, আতাউর রহমান খন্দকার ও মিল্টন জানান, মাদক সেবন ও ফেসবুকে মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় বড়লই দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। সেই সঙ্গে মাদক প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান করছি। যাতে করে আমাদের তরুণ প্রজন্মরা মাদকের দিকে ঝুঁকে না যায়। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আবু সায়েদের বাবা রেজাউল ইসলাম জানান, আমার ছেলে অপরাধ করেছে মাদক সেবন করছে। যার শাস্তি হিসেবে তাকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করেছে। এখানে আমার বলার কিছু নেই। বড়লই দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার সুপার নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে মাদকসহ যেকোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওই শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে শোডাউন: নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ
ক্যাম্পাসে শোডাউন—নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পৃথক ঘটনায় বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ, হামলা ও শোডাউনের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলামকে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাফরাতুল ইসলাম নাবিলসহ কয়েকজন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরপর দুই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপস্থিতি, দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, দলীয় কোন্দলকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে এনে হামলা কিংবা প্রকাশ্যে শোডাউনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার দুপুর ১টার দিকে একদল বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে হাসিবুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন। বহিরাগতদের এভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় বলে জানান তারা। এদিকে, এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা তৈরি হয়। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততায় হামলা ও শোডাউনের পৃথক অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সংঘর্ষের ফলে বিগত কিছুদিন ধরে ছাত্রদলের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার সংস্কৃতি চলতেছে, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করতেছে। তাদের অভ্যন্তরীণ মারামারির সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তারা ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করে, যেটার এখন পর্যন্ত কোনো বিচার করা হয় নাই। তাদের সংঘর্ষের জের ধরে প্রশাসন পকেট গেট বন্ধ করে দেয়, এতে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ করিয়েছে, যেটা ক্যাম্পাসের একাডেমিক এনভায়রনমেন্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আজকেও ক্লাস-পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সেক্রেটারি বহিরাগতদের নিয়ে হোন্ডা শোডাউন দেয়। এটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।” মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেখা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আমরা চাই ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ থাকুক।” শিক্ষার্থীদের একাংশের ভাষ্য, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের এনে হামলা কিংবা দলীয় শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে শোডাউন—দুই ধরনের ঘটনাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তারা। সোমবার বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ছাত্রদল বহিরাগত দ্বারা অ্যাটাক করে মারামারিতে আমাদের ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়। তাদেরকে দেখতে এসেছে। এছাড়া এটা শোডাউন বা অন্য কিছু না।” অন্যদিকে, ১৮ আগস্টের ঘটনায় বহিরাগত এনে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন বলেন, “আমরা কখনোই বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত এনে পেশিশক্তির প্রদর্শন করিনি। আজকে যিনি বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে শোডাউন দিয়েছেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।” ক্যাম্পাসে বহিরাগত এনে শোডাউনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, “আমরা সকালে তাকে বহিরাগত নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেছি। সাথে সাথে সে চলে গিয়েছিল। এরপর দুপুরের দিকে আবার তাকে বহিরাগতসহ শোডাউন দিতে দেখা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা তাদের এ ধরনের কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার জন্য বলেছি।” এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক দিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। তবে সোমবার হাসিবুল ইসলামকে বহিরাগতদের সঙ্গে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।
সাতক্ষীরায় নারী ও শিশু ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ
সাতক্ষীরায় নারী ও শিশু ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেখ জোবায়ের আল জামান,সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় যৌন শোষণ ও নির্যাতন-সংক্রান্ত (SEC) ঘটনা তদন্ত, ভুক্তভোগীদের ট্রমা ও মানসিক প্রতিক্রিয়া এবং শিশুবান্ধব বিচারিক প্রক্রিয়া বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে নারী ও শিশু বিষয়ক হেল্প ডেস্কের নারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তার অংশগ্রহণে “Training for Law Enforcement Officials on SEC Investigation, Traumatization & Victimhood and/or Child Friendly Court Room Procedures” শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। Association for Community Development (ACD)-এর উদ্যোগে এবং Free A Girl Nederland ও ZEEMAN-এর আর্থিক সহযোগিতায় প্রশিক্ষণটির আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল যৌন শোষণ ও নির্যাতন-সংক্রান্ত ঘটনা তদন্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নির্যাতনের শিকার শিশু ও ভুক্তভোগীদের ট্রমা ও মানসিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং শিশুদের জন্য সংবেদনশীল ও শিশুবান্ধব বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম। প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার সাওন রেজা, প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এস.এম. আহসান উল্লাহ সরকার এবং এরিয়া ম্যানেজার কৃষ্ণা রানী বিশ্বাস। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে যৌন শোষণ ও নির্যাতন-সংক্রান্ত ঘটনা তদন্তের বিভিন্ন দিক, ভুক্তভোগীর ট্রমা ও মানসিক প্রতিক্রিয়া, ভিক্টিমহুড, ভুক্তভোগী ও শিশুর প্রতি সংবেদনশীল আচরণ এবং সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিশুবান্ধব আদালত কক্ষ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক এবং এসব ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক করণীয় তুলে ধরা হয়। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা শিশু ও নারী ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, মর্যাদা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও শিশুবান্ধব আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে নারী ও শিশু বিষয়ক হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা, সহায়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম শিশু ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক ও সংবেদনশীল আচরণ এবং আইনগত প্রক্রিয়াকে আরও শিশুবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য অংশগ্রহণকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারী ভুক্তভোগীদের কার্যকর সুরক্ষা, ন্যায়বিচার এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
নোবিপ্রবিতে পরিবেশবান্ধব দুইটি ই-কার উদ্বোধন
নোবিপ্রবিতে পরিবেশবান্ধব দুইটি ই-কার উদ্বোধন মোঃ জাহিদ হাসান নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের সুবিধার্থে পরিবেশবান্ধব দুটি ইলেকট্রনিক কার (ই-কার) উদ্বোধন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ই-কার দুটি উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “নোবিপ্রবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কার চালু করা একটি সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে শুরু করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ই-কার চক্রাকারে পরিচালিত হবে। এটি সবার যাতায়াতকে যেমন সহজ ও নিরাপদ করবে, তেমনি ক্যাম্পাসে কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।" এ সময় উপাচার্য নোবিপ্রবিকে পরিবেশ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করেন। উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে নোবিপ্রবি পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, পরিবেশবান্ধব ই-কার থেকে সম্পূর্ণ জিরো কার্বন নিঃসরণ হয় এবং এটি বৈদ্যুতিক চার্জের মাধ্যমে চললেও পরবর্তীতে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালনা করা যাবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে ই-কারগুলো সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাচল করবে।
শার্শায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বেনাপোলে মানববন্ধন
শার্শায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বেনাপোলে মানববন্ধন যশোর প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, লাঞ্ছনা ও অশোভন আচরণের প্রতিবাদে বেনাপোলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস ভবনের সামনে স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির তীব্র দাবি জানান। মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন সময় টেলিভিশনের বেনাপোল প্রতিনিধি আজিজুল হক, এসএ টিভির নাসির উদ্দিন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির এম এ রহিম, আনন্দ টিভির আইয়ুব হোসেন পক্ষী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহাজান সবুজসহ স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,সংবাদ সংগ্রহের মতো পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের পথকে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করে। অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা। উল্লেখ্য, গত রোববার (২৩ আগস্ট) শার্শার নাভারন বুরুজবাগান বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির প্রথম সভা চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে যান স্থানীয় সাংবাদিকরা। সভা চলাকালে অজ্ঞাত একদল সন্ত্রাসী কমিটির সভাপতি তানজীর ইসলাম কনিকে গালিগালাজ শুরু করে এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা স্থানীয় শ্যামলাগাছি বাজারের একটি দোকানে চা খাওয়ার সময় ওই সন্ত্রাসী দল দ্বিতীয় দফায় এসে সাংবাদিক আতিকুজ্জামান রিমুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্লিনিকের পরিচালক গ্রেপ্তার
লালমনিরহাটে স্কুলছালালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্লিনিকের পরিচালক গ্রেপ্তারত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ক্লিনিকের পরিচালক গ্রেপ্তার হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউসুফ আলী (৪০) নামের এক ক্লিনিক পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (২৪ আগস্ট) ভোরে উপজেলার চাপারহাট চব্বিশ হাজার গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইউসুফ আলী কালীগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনশর গ্রামের মৃত আসমত আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় ‘নিউ রূপসী বাংলা’ ক্লিনিকের পরিচালক। র্যাবের দাবি, তিনি ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর প্রতিবেশী। র্যাব এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী ছাত্রীর ছয় মাস বয়সী ছোট ভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা চিকিৎসার জন্য লালমনিরহাটে যান। এ সময় বাড়িতে ওই ছাত্রী একা থাকার সুযোগে ইউসুফ আলী বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরে বাড়িতে ফিরে মেয়েকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান তার মা। এরপর তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার পর থেকে ইউসুফ আলী আত্মগোপনে ছিলেন। র্যাব-১৩ জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোর ৩টা ২০ মিনিটে চাপারহাট চব্বিশ হাজার গ্রামের এরশাদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতন
অভিযুক্তকে ছেড়ে দিলো পুলিশ মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতন সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ১১ বছরের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গত ২১ আগস্ট রাতে উপজেলার বেতমোর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আইয়ুব হাওলাদার (৩৫)। তিনি তুষখালী ইউনিয়নের জানখালী বাজার এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে এবং বেতমোর বাজারের একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী। এদিকে ঘটনার পরদিন সকালে পুলিশ অভিযুক্ত আইয়ুবকে আটক করলেও পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে তাৎক্ষণিক না পাওয়ার অজুহাতে তাকে ছেড়ে দেয়। শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশু ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে ওই শিশুটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে রাস্তায় অবস্থান করছিল। পরিবারের শাস্তির ভয়ে বাড়িতে না ফিরে সে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সুযোগে আইয়ুব হাওলাদার শিশুটিকে ফুসলিয়ে ডেকে এনে বেতমোর বাজারে নিজ ফার্নিচার দোকানের পিছনের একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক নির্যাতন চালান। শিশুটির আত্মচিৎকারে একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ছেড়ে দিয়ে দোকানের শাটার খুলে দেয়। পরদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইয়ুব হাওলাদারকে আটক করে। স্থানীয়দের দাবি, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আইয়ুব শিশুটিকে নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর "ভুক্তভোগী শিশুকে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি" এমন কারণ দেখিয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে ছেড়ে দেয়। শিশু যৌন নির্যাতনের মতো মারাত্মক অভিযোগ ওঠার পরও কোনো ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা বা আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান, আইয়ুব হাওলাদারের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক শিশুর ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর ইতিহাস রয়েছে। ইতিপূর্বেও একই ধরনের দুটি ঘটনায় স্থানীয় শালিসে তাকে মোটা অঙ্কের জরিমানা প্রদান করতে হয়েছিল। তবে সেসব ঘটনায় পূর্বে কোনো মামলা হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি। ঘটনার বিষয়ে দায়িত্বে থাকা মঠবাড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ না পাওয়া এবং তাদের তাৎক্ষণিক খুঁজে না পাওয়ার কারণে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, "ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
কালীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ
কালীগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ,শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে এবং বিদ্যালয়গুলোতে ক্রীড়া কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে দক্ষিণ সোম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগষ্ট) বিকেলে তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু বকর মিয়া দক্ষিণ সোম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান এডহক কমিটির দাতা সদস্য মোঃ আল-আমিন দেওয়ান এর হাতে এসব ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শিখা বেগম, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিতরণ করা ক্রীড়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, বল, স্টাম্পসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সরঞ্জাম। এসব সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবু বকর মিয়া বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে। তাই বিদ্যালয়গুলোতে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি সহ সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ইউনিয়ন পরিষদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত ক্রীড়া সামগ্রীর অভাব ছিল। ইউনিয়ন পরিষদের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা ক্রীড়া সামগ্রী তাদের খেলাধুলায় আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সোনারগাঁয়ে ট্রাক ডাকাতিকালে ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার
সোনারগাঁয়ে ট্রাক ডাকাতিকালে ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ট্রাক ডাকাতি করার সময় এক ভুয়া পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ট্রাক আটকিয়ে ট্রাকটি ডাকাতি চেষ্টা করে। গ্রেফতারকৃত ভুয়া পুলিশের নাম হিরা শেখ (৪০) । গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার কাঁচপুর চাঁদমহল সিনেমার সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশের পোশাক কটি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনারগাঁ থানার উপ পরিদর্শক আরিফুজ্জামানে নেতৃত্বে এএসআই সাইফুল ইসলাম ও সংগীয় ফোর্সের নিয়ে ভুয়া পুলিশ হিরা শেখকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় পুলিশের পোশাকদারী আরো পাঁচজন পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানাসহ বিভিন্ন থানা ডাকাতি ও অস্ত্র মামলাসহ ১৩ টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত হিরা শেখ বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ থানার পটিখালী এলাকার মৃত আলী আকবর শেখ ছেলে। সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক জানায়, ডাকাতির একটি তথ্য পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের পোশাক পড়ে ডাকাতি করার সময় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরো পাঁচজন পুলিশের পোশাকদারী পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে। গ্রেফতারকৃতকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।
সুন্দরবনে বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তাণ্ডব: ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহৃত
সুন্দরবনে বনদস্যু ‘বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী’র তাণ্ডব: ট্রলারসহ ৫ জেলে অপহৃত ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে হানা দিয়েছে বনদস্যু বাহিনী, জিম্মি করা হয়েছে ৫ জেলেকে। গত ২২ আগস্ট শনিবার রাত আটটার দিকে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় সশস্ত্র বনদস্যু বাহিনী বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ভয়াবহ এক হামলা চালায়। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রাণ বাঁচাতে উপকূলের এসব চরে আশ্রয় নেওয়া জেলেদের ওপর অতর্কিত এই হামলা চালানো হয়। দস্যুরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর ও উত্তর রাজাপুর গ্রামের পাঁচজন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর হাওলাদার, শিহাব হাওলাদার, সাব্বির হাওলাদার, রিপন হাওলাদার এবং জাকির হাওলাদার রয়েছেন। দস্যুরা কেবল জেলেদেরই অপহৃত করেনি, বরং তাদের ব্যবহৃত একটি ফিশিং ট্রলারও ছিনতাই করে নিয়ে গেছে, যা উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অপহৃত জেলেদের মহাজন বাবুল মাঝি জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল থাকায় জেলেরা বাধ্য হয়ে সুন্দরবনের নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে শ্যালার চরের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। কিন্তু দস্যুরা আগে থেকেই সেখানে ওঁত পেতে ছিল। মহাজনের ভাষ্যমতে, দস্যুরা কোনো প্রকার পূর্ব সংকেত ছাড়াই হামলা চালিয়ে তিনটি পৃথক ট্রলার থেকে পাঁচজন জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। অপহরণের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দস্যু বাহিনীর পক্ষ থেকে মুক্তিপণ বা অন্য কোনো বিষয়ে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি, যা অপহৃত জেলেদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সুন্দরবনের দুর্গম গহীনে তাদের কোথায় আটকে রাখা হয়েছে তা অজানা থাকায় স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দস্যুরা এই পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য কোস্ট গার্ডের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করার আশ্বাস দেওয়া হলেও, দস্যু বাহিনীর এমন দুঃসাহসিক তৎপরতা প্রশাসনিক নজরদারির সীমাবদ্ধতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। জেলেদের দাবি, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো জরুরি। সুন্দরবনের প্রাণকেন্দ্র থেকে জেলে অপহৃত হওয়ার এই ঘটনাটি উপকূলীয় মৎস্য আহরণ খাতের জন্য একটি অশনিসংকেত। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে বনদস্যুদের এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতা জেলেদের পেশাগত নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে অপহৃতদের উদ্ধার করা না যায় এবং বনদস্যু বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে সুন্দরবন সংলগ্ন হাজার হাজার জেলের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে এখন কঠোর অবস্থানে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই, অন্যথায় বনদস্যুরা পুনরায় সুন্দরবনের আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হবে।
পঞ্চগড়ে হানিট্রাপের অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার
পঞ্চগড়ে হানিট্রাপের অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড়, ২৪ আগস্ট ২০২৬: পঞ্চগড়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে আটকে রেখে অশ্লীল ভিডিও ধারণ এবং ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে কথিত হানিট্রাপ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আবু রায়হান হৃদয় (২৪) ও মোছা. সুরাইয়া পারভীন স্বরনী (১৯)। রোববার (২৩ আগস্ট) পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের গেট এলাকা থেকে ওই ব্যবসায়ীকে ৪-৫ জনের একটি দল জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে অজ্ঞাত একটি স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়। একপর্যায়ে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পঞ্চগড় সদর থানায় এজাহার দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে আবু রায়হান হৃদয় ও সুরাইয়া পারভীন স্বরনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, আবু রায়হান হৃদয় পঞ্চগড় সদর উপজেলার রাজনগর (খালপাড়া) এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। তার স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামপুর (বটতলা বাজার) এলাকায়। অপরদিকে সুরাইয়া পারভীন স্বরনী পঞ্চগড় পৌরসভার কায়েতপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর তাদের পঞ্চগড় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের দাবি, আদালতে তারা ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজশাহীতে খাদ্য উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই এর জরিমানা
রাজশাহীতে খাদ্য উৎপাদনকারী দুই প্রতিষ্ঠানকে বিএসটিআই এর জরিমানা আবু কাওসার মাখন রাজশাহী ব্যুরো রাজশাহীতে বিএসটিআইয়ের গুণগত মানসনদ নবায়ন ছাড়াই পণ্যের লেবেলে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জন্মদিনের কেক উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মোঃ শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ জরিমানা করা হয়। এই অভিযানে বিএসটিআইয়ের গুণগত মানসনদ নবায়ন ছাড়াই পণ্যের লেবেলে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ব্যবহার করে খাবার পানি উৎপাদন ও বিক্রি করায় ‘রোজ পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার’কে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, বিএসটিআইয়েরমো গুণগত মানসনদ গ্রহণ না করে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জন্মদিনের কেক উৎপাদন ও বিক্রি করায় একই এলাকার ‘শোয়াইব সিফাত বেকারী’কে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস উইংয়ের কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: শাহারিয়ার ইসলাম সাংবাদিকদের জানান,এমন অভিযান চলমান থাকবে। জরিমানা করে প্রতিষ্ঠান গুলো কে সতর্ক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।নিয়ম না মানলে পর্বতীতে কঠর শাস্তি দেওয়া হবে এমন কি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হবে।