বাংলাদেশ বার্তা টুডে
কুড়িগ্রামে সার লুটের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি, উদ্ধার ১২২ বস্তা
কুড়িগ্রামে সার লুটের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি উদ্ধার ১২২ বস্তা হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ২৫.০৮.২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকটের কারণে ৩দিন আগে ২২৫ বস্তা ইউরিয়া সার লুট ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ নিয়ে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১২২ বস্তা সার। এখনও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, সার লুটের ঘটনার তিন রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। সোমবার বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে তা তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তে সার ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্স, সত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার লুট ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কেন্দ্রীয়ভাবে জেনারেল ম্যানেজারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিসিআইসি তদন্ত কমিটি গতকালই তদন্ত শেষ করে ঢাকায় ফিরে গেছেন। আর স্থানীয় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএডিসি) এর আওতায় ১১৪ জন ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) আওতায় ৯৪জন সার ডিলার রয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে বিএডিসি ৩জন ও বিসিআইসি ১ জন ডিলার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কোথাও কোথাও কম বেশি রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীতে সকল ডিলারদের সমন্বিতভাবে সমহারে ইউরিয়া সারসহ অন্যান্য সার সরবরাহের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যক্রম চলছে। আগস্ট মাসে জেলায় ইউরিয়ার চাহিদা ছিল ৫৮৭৫ মেট্রিকটন যা সরবরাহ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের চাহিদা ইউরিয়ার ৪৬৪৪ মেট্রিকটন। আমন মৌসুমে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ইউরিয়া সার প্রয়োগের সময়সীমা শেষ হবে বিধায় ইউরিয়া সারের ঘাটতি থাকবে না। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। আবার কোনো কোনো ডিলার নিয়মিত বিক্রয়কেন্দ্র খোলেন না। ফলে ধান রোপণের পর সঠিক সময়ে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে তাঁদের। এ নিয়ে কৃষি বিভাগের দাবী, উপজেলায় কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার রয়েছে। শিলখুড়িতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ ডিলারসংখ্যা ও ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্য। কিন্ত কৃষকরা বলেন, বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় তাঁরা সার পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিলখুড়িতে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়লেও আগের কাঠামো অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার অনেক ডিলারের গুদামঘর নিজ ইউনিয়নের বাইরে অবস্থিত। শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের গুদাম ইউনিয়নের বাইরে বলে জানা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ঘটনার দিন ইউনিয়নের নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা না থাকায় একসঙ্গে কয়েক শ কৃষক সেখানে ভিড় করেন। এতে মজুতের তুলনায় কৃষকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সংকট ও উত্তেজনা তৈরি হয়। শিলখুড়ির উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ডিলার পয়েন্টে গিয়ে ঘুরেছেন। এক দিনও বিক্রয়কেন্দ্র খোলা পাননি। রোববার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে সকাল আটটায় লাইনে দাঁড়িয়েও সাড়ে নয়টার আগে ডিলার আসেননি। পরে সার সংকটের কথা বলে বিতরণ বন্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে কৃষকেরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিম বলেন, কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যাবার ঘটনায় রোববার রাতে ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল জিডি করেছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১২২ বস্তা সার পাওয়া গেছে। অন্য সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
আমরা শুধু সীমান্ত পাহারা দিই না: সীমান্তবাসী কীভাবে ভালো থাকবে সেটিও আমাদের দায়িত্ব
আমরা শুধু সীমান্ত পাহারা দিই না, সীমান্তবাসী কীভাবে ভালো থাকবে,সেটিও আমাদের দায়িত্ব” দিনাজপুর বিজিবির সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান মোস্তাকিন হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি ‘আমরা শুধু সীমান্ত পাহারা দিই না, সীমান্তবাসী কীভাবে ভালো থাকবে এবং কীভাবে তারা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে, সেটিও আমাদের দায়িত্বের অংশ। বলেছেন দিনাজপুর বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই অংশ হিসেবে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্ত এলাকার ১০ জন শিক্ষিত বেকার যুবককে হাঁস-মুরগি পালন বিষয়ে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দিয়েছে জয়পুরহাট-২০ বিজিবি। প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দুপুরে পাঁচবিবি বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন দিনাজপুর বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান ও জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. লতিফুল বারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাইমেনা শারমীন, জেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মকছুদুল কবীর, পাঁচবিবি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা, পাঁচবিবি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তুহিন রেজাসহ বিজিবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান আরও বলেন,বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সীমান্তবর্তী মানুষের কল্যাণে আমরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ত্রাণ সহায়তা, শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে হাঁস-মুরগি পালনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিজিবির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সীমান্ত এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা হলে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে তারা অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
নাগেশ্বরীতে পাঠচক্র ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ
নাগেশ্বরীতে পাঠচক্র ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ২৫.০৮.২৬ শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাঝে জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস ও পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের নাগেশ^রীতে পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা, বৃক্ষরোপন, গাছের চারা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হয়েছে। রশিদ মন্ডল আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে এবং রশিদ মন্ডল যুব ফাউন্ডেশন ও রশিদ মন্ডল স্পর্টস ক্লাবের সহযোগিতায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পাঠচক্র, কুইজ প্রতিযোগিতা ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। পুরস্কার বিজয়ী ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী ও অতিথিবৃন্দের মাঝেও গাছের চারা বিতরণ করে সংগঠনটি। নাগেশ্বরী দয়াময়ী পাইলট একাডেমির প্রধান শিক্ষক কে এম আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজানের সঞ্চালণায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, বিশেষ অতিথি থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদ, নেওয়াশী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিনারুল ইসলাম, গ্লোবাল যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি জাকারিয়া আলম, ইতি পাঠাগারের সভাপতি আন্জু আরা বেগমসহ অনেকে।
শরণখোলায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত: বাল্যবিবাহ, মাদক ও জুয়া মুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান
শরণখোলায় উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত: বাল্যবিবাহ, মাদক ও জুয়া মুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান মোঃ নাজমুল ইসলাম সবুজ শরণখোলা প্রতিনিধিঃ বাল্যবিবাহ, মাদক ও জুয়ার আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে রক্ষা এবং উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে শরণখোলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবাগত শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ান ইফতেখারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্থিতা হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিয়ার রহমান খান, জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেনডাক্তার প্রিয় গোপাল বিশ্বাস, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা,ডাক্তার শফিকুল ইসলাম বাবুল, বিএনপি নেতা,দেবব্রত সরকার, কৃষি কর্মকর্তা,সহকারী অধ্যাপক আঃ মালেক রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, শরণখোলা প্রেসক্লাব,প্রধান শিক্ষক নান্না মিয়া, সভাপতি, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি,মোঃ মহিউদ্দিন বাদল, সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা বিএনপি,মোঃ মিজানুর রহমান মিজান, উপ-পরিদর্শক, শরণখোলা থানা পুলিশ সভায় বক্তারা শরণখোলার সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মাদক ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সামাজিক এই ব্যাধিগুলো নির্মূলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়। একই সাথে উপজেলার সার্বিক অগ্রগতি ও জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদন করা হয়।
মঠবাড়িয়ায় জমি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবলীগ নেতাদের নামে মানববন্ধন
মঠবাড়িয়ায় জমি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবলীগ নেতাদের নামে মানববন্ধন সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের সালিশ বৈঠকে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে মঠবাড়িয়া পৌরসভার সামনের প্রধান সড়কে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. রিপন মাতুব্বরসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মী জি এম খালেক, রাসেল জমাদ্দার, মিলন জমাদ্দার ও জিয়া জমাদ্দারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান তারা। জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে উপজেলার তুষখালী ইউনিয়নের শাখারীকাঠি গ্রামে খালেক জমাদ্দার গং এবং হেমায়েত আকন গংদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ ঘটে। ধান রোপণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে স্থানীয় সালিশদার ও থানা পুলিশের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালেই উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষেরই অন্তত ছয়জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে মোফাজ্জেল হোসেন জোমাদ্দারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত অন্যান্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
ফিডের দাম না কমালে ‘কাফনের কাপড়’ পরে রাস্তায় নামার ঘোষণা শ্রীপুরের খামারিদের
ফিডের দাম না কমালে ‘কাফনের কাপড়’ পরে রাস্তায় নামার ঘোষণা শ্রীপুরের খামারিদের মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা: পোলট্রি, গবাদিপশু ও মৎস্য খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গাজীপুরের শ্রীপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন প্রান্তিক খামারিরা। ফিডের দাম কমানোসহ বিভিন্ন দাবি আদায়ে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর ‘কাফনের কাপড়’ পরে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন খামারিরা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের জৈনা বাজার এলাকায় ফুটওভার ব্রিজের নিচে বাংলাদেশের প্রান্তিক পোলট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘খামারি বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে খামারিরা অংশ নেন। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পোলট্রি খামারের উৎপাদন ব্যয়ের বড় একটি অংশই খাদ্য বাবদ ব্যয় হয়। বর্তমানে ফিডের দাম একের পর এক বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। অথচ ডিম ও মুরগির বাজারমূল্য অনেক সময় উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকায় প্রান্তিক খামারিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। খামারিদের দাবি, সম্প্রতি বিভিন্ন কোম্পানির ফিডের দাম প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে দুই হাজার মুরগির একটি খামারে মাসে অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে ছোট ও মাঝারি খামারিরা পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা বন্ধ করার ঝুঁকিতে পড়েছেন। বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পোলট্রি খাতের নানা সমস্যা নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছেন। ডিমের দাম কমে যাওয়ার সময়ও তারা আন্দোলন করেছেন। তখন উৎপাদন ব্যয় কমানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে ফিডের দাম আরও বেড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সিন্ডিকেটের কারণে খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে খামারিরা উৎপাদিত ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। ডা. এমরানুল হক স্বপন বলেন, পোলট্রি উৎপাদনে মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ খাদ্যের পেছনে চলে যায়। তাই ফিডের দাম কমানো ছাড়া খামারিদের সংকট কাটানো সম্ভব নয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রান্তিক খামারিদের বড় একটি অংশ খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারেন। মানববন্ধন থেকে খামারিরা ফিডের দাম কমানো, ভুট্টা ও অন্যান্য কাঁচামালের ওপর কর প্রত্যাহার বা সমন্বয়, সয়াবিন ও ভুট্টাসহ ফিডের কাঁচামালে সরকারি ভর্তুকি এবং পোলট্রি খাতে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান। পাশাপাশি ফিড মিলগুলোতে বিএসটিআইয়ের নামে হয়রানি বন্ধের দাবিও করেন তারা। বাংলাদেশ প্রান্তিক পোলট্রি খামারি পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান মামুন বলেন, “আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে ফিডের দাম কমাতে হবে। অন্যথায় ১ সেপ্টেম্বর কাফনের কাপড় পরে আমরা রাজপথে নামব।” দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। খামারিদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় শুধু তারা নন, পুরো পোলট্রি খাতই এখন সংকটের মুখে। দ্রুত খাদ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব ডিম ও মাংসের বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
নোবিপ্রবি এগ্রিকালচার বিভাগের ৯ম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
নোবিপ্রবি এগ্রিকালচার বিভাগের ৯ম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মোঃ জাহিদ হাসান নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) এগ্রিকালচার বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। একটি দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের নিশ্চয়তা শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়, এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ভবিষ্যতের কৃষিকে হতে হবে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও সহনশীল।” বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরা শুধু কৃষির শিক্ষার্থী নও, তোমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম কারিগর। তোমাদের অর্জিত জ্ঞানকে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে এবং কৃষির বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।” এ সময় কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে কৃষি অনুষদ ও গবেষণার জন্য আরও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির আশ্বাস দেন উপাচার্য। জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও এগ্রিকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন। বক্তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শুভকামনা জানান এবং দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে তাদের দক্ষতা ও মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। এ সময় এগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই মাংস ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতে দুই মাংস ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) উপজেলা প্রতিনিধিঃ গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দোলান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স বিহীন দুই মাংস ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। মঙ্গলবার(২৫ আগষ্ট) সকালে বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্টেট আল আমীন হালদার (১৯১১৫) সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে উপজেলার দোলান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ এর ২৪ ধারায় ২ দুই মাংস ব্যাবসায়ী ইব্রাহিম খলিলুল্লার ছেলে ইকবাল সরকার (৩০) ও আমির উদ্দিন'র ছেলে আজিজুল ইসলাম (৪৪) কে ১০,০০০ টাকা করে মোটা ২০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মামলার প্রসিকিউটর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহমুদুল হাসান ও বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা
সাদুল্লাপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৯ নম্বর বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহিন সরকারের শালাইপুর গ্রামের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা রাসায়নিক সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় শাহিন সরকারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার শালাইপুর এলাকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন সরকারের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাড়ি থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সারের মধ্যে রয়েছে— ইউরিয়া সার: ১৩ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা। জিপসাম সার: ২৮ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ২ হাজার ৮০০ টাকা। ডিএপি সার: ১৬ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। টিএসপি সার: ১৩ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা। পটাশ সার: ২ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ২ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে ৭২ বস্তা রাসায়নিক সার, যার আনুমানিক মোট মূল্য ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা। অভিযান শেষে সার মজুদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে অভিযুক্ত মো. শাহিন সরকারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযুক্ত মো. শাহিন সরকার (৬০) উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার গ্রামের মৃত বদিউজ্জামান সরকারের ছেলে। তিনি ৯ নম্বর বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে অবৈধভাবে মজুত, বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে
জিম্মায় গিয়ে শর্ত ভঙ্গ, মন্ত্রীর নির্দেশে ফের গাজীপুর সাফারি পার্কে নিহার কলি-সম্রাট বাহাদুর
জিম্মায় গিয়ে শর্ত ভঙ্গ, মন্ত্রীর নির্দেশে ফের গাজীপুর সাফারি পার্কে নিহার কলি-সম্রাট বাহাদুর মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা দুটি হাতি—নিহার কলি ও সম্রাট বাহাদুরকে শর্তসাপেক্ষে মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। তবে জিম্মার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় আবারও বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে হাতি দুটিকে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে তাদের সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ১২ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিহার কলি ও সম্রাট বাহাদুরকে দুই ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। জিম্মায় দেওয়ার সময় তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু শর্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জিম্মাদাররা সেই শর্ত যথাযথভাবে পালন না করায় বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসে। পরে হাতি দুটির নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৪ আগস্ট) বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে হাতি দুটিকে পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নেন। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাদি হাতি নিহার কলিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এলাকা থেকে এবং পুরুষ হাতি সম্রাট বাহাদুরকে জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে তাদের গাজীপুর সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তারেক রহমান জানান, সোমবার দিবাগত রাতে নিহার কলি সাফারি পার্কে পৌঁছেছে। সম্রাট বাহাদুর মঙ্গলবার যেকোনো সময় পার্কে পৌঁছাবে। পার্কে পৌঁছানোর পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের নির্ধারিত শেডে স্থানান্তর করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। কীভাবে সাফারি পার্কে এসেছিল দুই হাতি ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাহুত নজরুল ইসলামকে পিষে হত্যার ঘটনার পর সম্রাট বাহাদুরকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে আনা হয়। একই বছরের ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে নিহার কলিকে উদ্ধার করা হয়েছিল। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হাতি দুটিকে ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের পর তাদের সাফারি পার্কে এনে রাখা হয়। পরপর হাতির মৃত্যুতে উদ্বেগ এদিকে গাজীপুর সাফারি পার্কের হাতিশালায় সম্প্রতি পরপর দুটি হাতির মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। গত ২৪ মে শিকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী রাজু বাহাদুরের ওপর চার বছর বয়সী হাতি জয়িতা হামলা করলে রাজু বাহাদুর গুরুতর আহত হয়। এতে তার একটি পা ভেঙে যায়। পরে রাজু বাহাদুরের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গত ৭ আগস্ট রাজু বাহাদুরের মৃত্যু হয়। এর একদিন আগে, ৬ আগস্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আরও একটি হাতির মৃত্যু হয়। পরপর হাতির মৃত্যুর ঘটনায় সাফারি পার্কের হাতিগুলোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এরপর নিহার কলি ও সম্রাট বাহাদুরকে শর্তসাপেক্ষে তাদের মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জিম্মার শর্ত যথাযথভাবে পালন না করার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত আবারও তাদের বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হলো। এখন থেকে সাফারি পার্কেই বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হবে হাতি দুটিকে।
হবিগঞ্জের অলিপুরে ফিটনেসবিহীন ‘লক্কড়-ঝক্কড়’ গাড়ির দাপট: মাসোহারা বাণিজ্যে নীরব প্রশাসন
হবিগঞ্জের অলিপুরে ফিটনেসবিহীন ‘লক্কড়-ঝক্কড়’ গাড়ির দাপট: মাসোহারা বাণিজ্যে নীরব পুলিশ । হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের ওলিপুরে একের পর এক শিল্প কারখানা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে ওঠায় কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েক লাখ শ্রমিকের। তবে প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতে এই বিশাল শ্রমিক জনগোষ্ঠীকে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকি। তাদের যাতায়াতের প্রধান বাহন এখন স্থানীয় সড়কের লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন শত শত ‘লক্কড়-ঝক্কড়’ গাড়ি। অভিযোগ উঠেছে, হাইওয়ে ও থানা পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে অবাধে চালানো হচ্ছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন। ঝুঁকিপূর্ণ গাড়িতে লাখো শ্রমিকের যাতায়াতসরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ওলিপুরের বিভিন্ন সংযোগ সড়কে শ্রমিক বহনের জন্য যেসব বাস, মিনিবাস ও লেগুনা ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশেরই বডি ভাঙাচোরা, জানালা ও লাইট ভাঙা এবং ইঞ্জিন অত্যন্ত জরাজীর্ণ। ফিটনেস সার্টিফিকেট তো দূরের কথা, কোনো কোনো গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত নেই। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চলের লাখ লাখ শ্রমিক প্রতিদিন বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব গাড়িতে যাতায়াত করছেন। ৯৯ শতাংশ চালকেরই নেই লাইসেন্স অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওলিপুর ও আশপাশের এলাকায় এসব ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি যারা চালাচ্ছেন, তাদের প্রায় ৯৯ শতাংশ চালকেরই কোনো বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকা এই আনাড়ি চালকদের হাতে প্রতিনিয়ত জিম্মি হচ্ছেন সাধারণ শ্রমিকরা। ফলে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।পুলিশের মাসোহারা বাণিজ্যের অভিযোগনিয়ম অনুযায়ী ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব। স্থানীয় চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, পুলিশকে নিয়মিত নির্দিষ্ট অংকের ‘মাসোহারা’ বা চাঁদা দিয়ে এসব গাড়ি চালানো হচ্ছে। মাসোহারা দেওয়া গাড়িগুলোকে পুলিশ টোকেন বা মৌখিক আশ্বাসে ছেড়ে দেয়, যার কারণে মহাসড়কে কোনো প্রকার আইনগত বাধার মুখে পড়তে হয় না এসব অবৈধ যানবাহনকে। ক্ষোভ ও দ্রুত ব্যবস্থার দাবিঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে অনেক শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটতে পারে। অবিলম্বে এই মাসোহারা বাণিজ্য বন্ধ করে ফিটনেসবিহীন গাড়ি উচ্ছেদ এবং লাইসেন্সধারী দক্ষ চালক নিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
বিশ্ব মানবতার শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক হজরত মুহাম্মদ (সা.) : হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
বিশ্ব মানবতার শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক হজরত মুহাম্মদ (সা.) হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ডহীন মানুষ যেমন দাঁড়াতে পারে না, ঠিক তেমনি শিক্ষাবিহীন কোনো জাতি পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। মানুষের মধ্যে আল্লাহপ্রদত্ত যেসব গুণাবলি ও প্রতিভা সুপ্ত রয়েছে, তার বিকাশ ঘটে শিক্ষার মাধ্যমে। পবিত্র কোরআনের প্রথম কথাই হলো ‘পড়ো’। মানব জাতির উদ্দেশ্যে এটিই হলো আল্লাহর প্রথম নির্দেশ। শিক্ষা বিস্তারে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ নীতি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মাত্র ২৩ বছরে মানব জাতির এক অপূর্ব জাগরণ এনে দিয়েছেন। যারা একদিন তাঁর প্রাণের শত্রু ছিল, তারাই তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করে পরম বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। যেখানে সর্বত্র রক্তক্ষয়ী সংঘাত, খুন-খারাবির আগুন দাবানলের মতো জ্বলে উঠেছিল, সেখানে তাঁর শিক্ষার কারণেই শান্তি ও মীমাংসার ফুল ফুটেছিল। যে সমাজে প্রস্তরনির্মিত মূর্তিগুলোকে সিজদা করা হচ্ছিল, সেখানেই তাওহিদের পতাকা উড্ডীন করা হয়েছিল। প্রিয়নবী (সা.) যে পন্থায় মানুষকে সত্যের শিক্ষা দিয়েছিলেন, তন্মধ্যে একটি হলো মানুষের প্রতি দয়ামায়া, তাদের কল্যাণ কামনা এবং তাঁর বিনম্র স্বভাব। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে রাসুল (সা.)-এর বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ করেছেন এভাবে- ‘আল্লাহপাকের অনুগ্রহে (হে রাসুল!) আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয়ের অধিকারী হয়েছেন, আর যদি আপনি রূঢ় মেজাজ ও কঠিন হৃদয় বিশিষ্ট হতেন, তাহলে এসব লোক আপনার চার পাশ থেকে দূরে সরে যেত।’ (৩ : ১৫৯) দ্বিতীয়ত, প্রিয়নবী মানুষকে যে কাজের শিক্ষা প্রদান করতেন, তিনি নিজেও সে কাজ করতেন। অর্থাৎ তাঁর উপদেশ বা ওয়াজ-নসিহত শুধু মানুষের জন্য ছিল না বরং নিজে এর ওপর সর্বপ্রথম আমল করতেন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বমানবতার শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক শিক্ষক এবং শিক্ষা শব্দ দুটি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষকের মাধ্যমেই শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটে থাকে। মানব জাতির শিক্ষক মূলত মহান রাব্বুল আলামিন। প্রথমেই তিনি তাদের তাঁর প্রতি আনুগত্য করার শিক্ষাদান করেন। সব মানুষের আত্মাকে একসঙ্গে সৃষ্টি করে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রভু নই? সব আত্মা সমস্বরে বলে উঠল- হ্যাঁ; আপনিই আমাদের প্রভু’। (৭: ১৭২) মহান আল্লাহ কলমের সাহায্যে মানুষের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু একমাত্র মহান আল্লাহর অতিশয় প্রিয় নবী (সা.)-কে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ.)-এর মারফত মৌখিকভাবে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে প্রস্তুত করেন। আল্লাহর রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এমনকি স্কুল বা মক্তবে পাঠ গ্রহণ করেননি। এখানে একটা কথা মনে রাখতে হবে যে মানুষের জ্ঞান হচ্ছে- ‘Derived knowledge’ বা সংগৃহীত জ্ঞান। কিন্তু আমাদের নবীজির জ্ঞান ছিল ‘Revealed knowledge’ বা নাজিলকৃত জ্ঞান। স্বয়ং আল্লাহই ছিলেন তাঁর শিক্ষক। এ কথার যথার্থতা প্রমাণে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন- ‘শপথ নক্ষত্রের, যখন তা অস্তমিত হয়, তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মদ সা.) বিভ্রান্ত নয় এবং বিপথগামী নয় এবং তিনি নিজ ইচ্ছায় কোনো কথা বলেন না, ওহি যা তাঁর কাছে প্রত্যাদেশ হয়। তাঁকে শিক্ষা দেয় এক মহা শক্তিশালী সত্তা’ (৫৩:১-৫)। তাঁর শিক্ষা ছিল নিখুঁত। তাঁর ব্যবহার ছিল নমনীয় এবং আচরণ ছিল উদার ও ভালোবাসাপূর্ণ। মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রিয় বান্দা ও রাসুল (সা.)-কে জন্মগতভাবেই শিক্ষকসুলভ আচরণ দান করেছিলেন। তাই তো নবী (সা.) নিজেই বলেছেন- ‘নিশ্চয়ই আমি মু’আল্লিম (শিক্ষক) হিসেবে (দুনিয়ায়) প্রেরিত হয়েছি’। (দারিমী) আল্লাহ বলেন- ‘হে মানুষেরা! আমি তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসুল পাঠিয়েছি। যে তোমাদের কাছে আমার আয়াত (কোরআন) পাঠ করে শোনায়, তোমাদের জীবন পরিশুদ্ধ করে, তোমাদের কিতাব ও হিকমত (কোরআন ও বিজ্ঞান) শিক্ষা দেয় এবং তোমরা যে বিষয়ে কিছুই জানতে না, সেটা শিক্ষা দেয়’ (২ : ১৫১)। আল্লাহ যেখানে নিজেই নবীজিকে শিক্ষা দিয়েছেন, সেখানে নবীজির উক্তিগুলো যে বিজ্ঞানসম্মত হবে, তাতে আর সন্দেহ কোথায়? মূলত মহানবী (সা.) একজন বিশ্বসেরা শিক্ষক ছিলেন এবং মহান আল্লাহই তাঁকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক বানিয়েছিলেন, তাঁর শিক্ষাকে মানুষ অতি সহজেই গ্রহণ করতে বাধ্য হতো এবং তাঁর পদতলে এসে আনুগত্য স্বীকার করে ইসলামে দীক্ষিত হতো। তিনি প্রথমে নিজে শিখতেন এবং পরে অন্যকে সেই জ্ঞান শিক্ষাদান করতেন, ফলে সেই শিক্ষা সহজেই কার্যকর হতো। শিক্ষাবিস্তারে মহানবী (সা.)-এর বাস্তব পদক্ষেপ মহানবী (সা.)-এর আগমনের আগে যেখানে সীমাহীন মূর্খতা বিরাজমান ছিল, সম্ভ্রান্ত পরিবারে লেখাপড়া দোষ হিসাবে বিবেচিত হতো। মহানবী (সা.) আগমনের পর সেখানে প্রতিটি ঘর ফিকহ, হাদিস ও তাফসিরের বিদ্যালয়ে পরিণত হয়ে গেল। এতদসত্ত্বেও প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষে ফিকহ সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ ও শিক্ষাদানের উপযোগী সময় করে নেওয়া খুব কঠিন ছিল। এ কারণে প্রত্যেক দল ও গোত্রের মধ্য থেকে কিছুসংখ্যক লোককে মহানবী (সা.) দায়িত্ব দিলেন, যাতে তারা শিক্ষাদান ও উপদেশ দানের কর্তব্য সম্পাদন করতে পারে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত- ‘আরবের প্রত্যেক গোত্রের একটি দল মহানবী (সা.)-এর কাছে যেত এবং তাঁর কাছে ধর্মীয় বিষয়াদি জিজ্ঞেস করে ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করত।’ শিক্ষা ও উপদেশ দানের বিভিন্ন নিয়ম পদ্ধতি ছিল। প্রথমত, ১০-২০ দিন কিংবা এক মাস দুই মাস অবস্থান করে আকায়েদ বা মৌলিক বিশ্বাস ও অন্যান্য জরুরি মাসয়ালা শিখে নিত। এরপর আপন গোত্রে ফিরে গিয়ে তাদের তা শিক্ষা দিত। উদাহরণস্বরূপ মালেক ইবনে হুয়াইরেস (রা.) প্রতিনিধি দল নিয়ে এসে ২০ দিন অবস্থান করলেন এবং জরুরি মাসয়ালা শিখে নিলেন। দ্বিতীয় পদ্ধতি ছিল খুব স্থায়ী। অর্থাৎ মুসলমানগণ স্থায়ীভাবে মদিনায় বাস করতেন এবং চরিত্র সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতেন। তাদের জন্য ‘সুফ্ফা’ নামের বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। এতে বেশির ভাগ ওইসব মুসলমান অবস্থান করতেন, যারা যাবতীয় পার্থিব ক্রিয়া-কর্ম থেকে মুক্ত হয়ে দিন-রাত ইবাদত ও জ্ঞানার্জনে মগ্ন থাকতেন। মহানবী (সা.) শিক্ষক ও শিক্ষার প্রতি যে অনুরাগী ছিলেন এবং শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতেন এর প্রমাণ নিম্নে বর্ণিত হাদিস থেকে আমরা তার শিক্ষা পাচ্ছি। নবী (সা.) একদিন মসজিদে গেলেন। মসজিদে তখন দুটি মজলিস চলছিল: একটি হচ্ছে জিকিরের মজলিস, অন্যটি পাঠদানের। নবী (সা.) পাঠদান তথা জ্ঞানচর্চার মজলিসটিতে বসলেন এবং মন্তব্য করলেন যে আমাকে শিক্ষকরূপে প্রেরণ করা হয়েছে। (মিশকাত, কিতাবুল ইলম পর্ব) শিক্ষাবিস্তারে রাসুল (সা.)-এর বাস্তব পদক্ষেপের এক জ্বলন্ত উদাহরণ হলো- বদরের যুদ্ধে যুদ্ধাহত বন্দিদের মুক্তিপণ নির্ধারণে। দ্বিতীয় হিজরি ১৭ রমজান শুক্রবার বদরের যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এই যুদ্ধে পরাজিত ৭০ জন কাফিরকে বন্দি করে মদিনায় আনা হয়। এসব বন্দির প্রত্যেকের মুক্তিপণ হিসেবে অর্থ জরিমানার নিয়ম ছিল। কিন্তু প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এতটা বিচক্ষণ ছিলেন, তিনি ঘোষণা দিলেন- ‘বন্দিদের মধ্যে যারা শিক্ষিত, তারা ১০ জন করে নিরক্ষরকে শিক্ষাদান করতে পারলে বন্দিজীবন থেকে মুক্তি পাবে। তিনি এতটা শিক্ষানুরাগী ছিলেন যে মদিনায় মসজিদে নববীর একাংশ ইবাদতের জন্য নির্ধারিত রেখে বাকি অংশের কিছুটা প্রশাসনের জন্য এবং অন্য অংশকে শিক্ষার জন্য মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহার করেন। এই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ‘সুফ্ফা’ নামে পরিচিত ছিল। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই সুফ্ফাটি দেখাশোনা করতেন এবং হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে সাইদ আল আ’স (রা.)-কে এখানকার শিক্ষক নিযুক্ত করলেন। এই সুফ্ফাটি অবৈতনিক ছিল এবং এখানে সর্বপ্রকার লেখাপড়ার ব্যবস্থা ছিল। ‘মুসনাদে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলে’ বলা হয়েছে, হজরত আনাস (রা.) বলেন- সুফ্ফা শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৭০ জন রাতের বেলায় এক শিক্ষকের কাছে যেতেন এবং সকাল পর্যন্ত শিক্ষালাভে মশগুল থাকতেন। (৩য় খণ্ড, পৃ. ১৩৭) বস্তুত সাহাবায়ে কিরাম প্রিয়নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে যে শিক্ষাই লাভ করতেন, সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর আমল শুরু করতেন। এটি ছিল প্রিয়নবীর শিক্ষার বৈশিষ্ট্য এবং সাহাবায়ে কিরামের আদর্শ। মহানবীর আগমনের আগে আরবে লেখার প্রচলন ছিল না বললেই চলে। তখন অল্প পরিসরে প্রস্তরখণ্ড, কাঠ ও গাছের ছাল বা পাতায় লিপিবদ্ধ করে রাখা হতো। কিন্তু রাসুল (সা.) আগমনের সঙ্গে সঙ্গে যেন লিখনপদ্ধতিও নিয়ে আসলেন। তখন কোরআন মজিদকে লিপিবদ্ধ ও সুসংহত করার প্রয়োজন ছিল সর্বাধিক। প্রথমদিকে কোরআনের সঙ্গে হাদিসের সংমিশ্রণের আশঙ্কায় হাদিস লিখতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সংমিশ্রণের আশঙ্কা দুরীভূত হওয়ায় লেখার মাধ্যমে কোরআন ও হাদিস প্রচার ও প্রসারে নতুন মাত্রা যোগ হলো। তাই এ কথা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, রাসুল (সা.) কিভাবে শিক্ষা বিস্তারের কাজকে ত্বরান্বিত করেছিলেন এবং অশিক্ষিত লোকদের শিক্ষাদানের বাস্তব পদক্ষেপকে সফল করে তুলেছিলেন। মোটকথা, মানবসমাজে জ্ঞান ও শিক্ষার বিস্তারে রাসুল (সা.)-এর আদর্শকে এক কথায় ‘Mile stone’ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। প্রায় ১৫০০ বছর আগেই আরবের মরুভূমিতে মহানবী (সা.) বিদ্যা শিক্ষাকে ফরজ করে দিয়ে ক্ষান্ত হননি, তিনি এর জন্য গ্রহণ করেছিলেন অসংখ্য বাস্তবমুখি পদক্ষেপ। ইদানীং বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদগণ যে সমস্যা নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন, কমিশনের পর কমিশন ও শিক্ষানীতি গ্রহণ করে শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তবমুখী করার যে প্রাণান্তকর শ্রম সাধনা করে চলেছেন, মূলত মহানবী (সা.) প্রায় ১৫০০ বছর আগেই তা করে দেখিয়েছেন। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা যেন আমাদেরকে উপরিউক্ত আলোচনার প্রতি আমল করার তাওফিক দান করেন আমীন। লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের সামনে কতটা বড় সংকট
পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কি পানির দখলে? জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের সামনে কতটা বড় সংকট সঞ্জয় মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি | পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন আর শুধু তাপমাত্রা বৃদ্ধির হিসাব করলেই হয় না—হিসাব করতে হচ্ছে পানিরও। কোথাও অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা, কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, আবার কোথাও মিঠাপানির উৎসে বাড়ছে লবণাক্ততা। জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীর পানিচক্রকে ক্রমেই অনিশ্চিত করে তুলছে। বিশ্বব্যাংকের ভাষায়, জলবায়ু সংকটের কেন্দ্রেই রয়েছে পানি; বন্যা ও খরার তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপরও চাপ বাড়ছে। এই বৈশ্বিক বাস্তবতার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। নদী, খাল, বিল ও জলাভূমিনির্ভর এই দেশের কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, মৎস্য, শিল্প, নগরজীবন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন—সবকিছুই পানির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। অথচ জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল ও দূষণ, ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো একাধিক চাপ বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তাকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে। বাংলাদেশের পানি সংকটের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হলো—দেশটি একই সঙ্গে অতিরিক্ত পানি এবং নিরাপদ পানির ঘাটতির মুখোমুখি। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি ও উজানের প্রবাহে নদী প্লাবিত হয়ে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়; আবার শুষ্ক মৌসুমে অনেক অঞ্চলে পানীয় জল ও সেচের জন্য চাপ বাড়ে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নদীভাঙনের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয় বলে সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইতেও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। বাংলাদেশেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে একদিনে ৪১২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টির মতো চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যার ফলে আকস্মিক বন্যায় বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে সংকটের চেহারা আরও ভয়াবহ। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি নদী, মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানিতে প্রবেশ করায় অনেক এলাকায় নিরাপদ মিঠাপানির উৎস সংকুচিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে উপকূলীয় বাংলাদেশের নদীর লবণাক্ততা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই লবণাক্ততা শুধু পানীয় জলের সমস্যা নয়; এটি কৃষি, মৎস্য, জীবিকা এবং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও যুক্ত। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ত পানি ব্যবহারের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে গবেষণাও হয়েছে। অর্থাৎ উপকূলের মানুষের কাছে জলবায়ু পরিবর্তন কোনো দূরবর্তী বৈশ্বিক তত্ত্ব নয়। অনেক পরিবারের কাছে এটি প্রতিদিনের প্রশ্ন—আজকের পানিটা কোথা থেকে আসবে? বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হলেও শুধু নদীর সংখ্যা দিয়ে পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পানি দূষণ, দখল, পলি জমা এবং আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি নদী যদি দূষিত হয় কিংবা শুষ্ক মৌসুমে তার প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়, তাহলে মানচিত্রে নদী থাকলেও মানুষের জন্য সেটি নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। বিশ্বব্যাংকের Monsoons, Rivers, and Tides প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের সঙ্গে পানির গভীর সম্পর্ক এবং পানি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে। পানি সংকটের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক এখন বৈজ্ঞানিক গবেষণায়ও স্পষ্ট। জলবায়ু পরিবর্তন বৃষ্টিপাতের ধরন, নদীর প্রবাহ, বন্যা, খরা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের মতো নিচু ও ঘনবসতিপূর্ণ বদ্বীপে এসব পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণাভিত্তিক একটি জলবায়ু মডেলিং বিশ্লেষণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় শতবর্ষে একবার সংঘটিত ভয়াবহ storm tide-এর উচ্চতা শতাব্দীর শেষে বর্তমান প্রায় ৩.৫ মিটার থেকে বিভিন্ন জলবায়ু পরিস্থিতিতে প্রায় ৪.৯–৫.৪ মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই গবেষণায় কিছু ধরনের চরম storm-tide ঘটনার পুনরাবৃত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনাও দেখানো হয়েছে। এ ধরনের পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য ঝুঁকির মডেল হিসেবে দেখা উচিত। তবে বার্তাটি স্পষ্ট—উপকূলীয় বাংলাদেশের জন্য পানি ও জলবায়ু নিরাপত্তাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ ক্রমেই কমছে। ঠিক এমন এক সময়ে ২৩ থেকে ২৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে World Water Week 2026। এবারের প্রতিপাদ্য—“Water for People and Progress”। বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারক, গবেষক, পানি বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একটি ন্যায্য ও পানি-নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন। আন্তর্জাতিক এই আলোচনায় বাংলাদেশের গুরুত্ব আলাদা। কারণ বাংলাদেশের পানির ভবিষ্যৎ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে না। আন্তঃসীমান্ত নদী, উজানের পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় লবণাক্ততা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে পানি বাংলাদেশের জন্য পরিবেশগত সম্পদের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়। আগামী দিনের পানি সংকট শুধু পানি থাকবে কি থাকবে না—এমন সরল প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, নিরাপদ পানি কে পাবে, কতটা পাবে এবং কত খরচে পাবে। পানি যদি শহর ও গ্রামের মধ্যে, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে কিংবা কৃষি, শিল্প ও মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের মধ্যে অসমভাবে বণ্টিত হয়, তাহলে পানি সংকট সামাজিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশ্বব্যাংক বলছে, বিশ্বে ২ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে রয়েছে এবং পানি নিরাপত্তা এখন বৈশ্বিক উন্নয়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা। বাংলাদেশের জন্য নদী ও জলাভূমি রক্ষা, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির টেকসই ব্যবহার, উপকূলীয় লবণাক্ততা মোকাবিলা, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শুধু দুর্যোগের পর ত্রাণ দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা করা যাবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ। বাংলাদেশের সামনে তাই এখন একটি কঠিন বাস্তবতা—পানি হয়তো হারিয়ে যাবে না, কিন্তু নিরাপদ পানি ক্রমেই দুর্লভ ও মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। আজ যে নদীকে আমরা দখল করছি, যে জলাশয় ভরাট করছি, যে পানিকে দূষিত করছি কিংবা যে ভূগর্ভস্থ পানি সীমাহীনভাবে তুলে নিচ্ছি—তার মূল্য হয়তো দিতে হবে আগামী প্রজন্মকে। তাই প্রশ্নটি শুধু “পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কি পানির দখলে?” নয়। আরও বড় প্রশ্ন হলো— আমরা কি এমন একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করছি, যেখানে পানি থাকবে—কিন্তু নিরাপদ পানি থাকবে না?
পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রশিদবিহীন অসংখ্য দলিল পুড়ানোর অভিযোগ
পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রশিদবিহীন ও পড়ে থাকা অসংখ্য দলিল পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অফিসে পড়ে থাকা এসব দলিল ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার জন্য কয়েক দফা মাইকিং করা হয়। কিন্তু এরপরও অফিসে বিপুলসংখ্যক দলিল পড়ে ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব পুরোনো দলিলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জমি-জমা সংক্রান্ত নথিও থাকতে পারে। ফলে যথাযথ যাচাই-বাছাই, তালিকা প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া দলিল পুড়িয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কোন কোন দলিল পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, সেগুলোর তালিকা করা হয়েছে কি না, নথিগুলোর মেয়াদ ও সংরক্ষণ বিধিমালা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কার অনুমোদনে হচ্ছে? বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত দলিলের সঙ্গে মানুষের মালিকানা ও অধিকার সরাসরি জড়িত থাকায় বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে পীরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং দলিল ধ্বংসের সরকারি বিধিমালা কী বলা হয়েছে—তা জানার পরই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে নারীর অনশন, আত্মহত্যার হুমকি
স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে শিক্ষকের বাড়িতে নারীর অনশন, আত্মহত্যার হুমকি রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ন্যামতপুর ইউনিয়নের দেওপুর গ্রামে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছায়েদুজ্জামান ওরফে ফারুক মাস্টারের বাড়িতে অনশন করছেন জোসনা আক্তার নামে এক নারী। স্বীকৃতি না পেলে ওই বাড়িতেই আত্মহত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি। সোমবার (২৪ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফারুক মাস্টারের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন জোসনা আক্তার। এ সময় তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল ছায়েদুজ্জামান ওরফে ফারুক মাস্টার তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাকে নিজ বাড়িতে রেখে সংসার করেছেন। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানেও তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে গেছেন। তবে পরবর্তীতে ফারুক মাস্টার তাদের সম্পর্ক অস্বীকার করছেন বলে অভিযোগ করেন জোসনা। জোসনা আক্তার আরও অভিযোগ করেন, ফারুক মাস্টার বিভিন্ন কৌশলে তার জমিজমা ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া তিনি সাড়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় ভয়ভীতি দেখিয়ে গর্ভপাত করানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জোসনা আক্তার বলেন, “আমি স্ত্রী হিসেবে সামাজিক ও আইনগত স্বীকৃতি চাই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আমার সঙ্গে সংসার করেছেন। এখন আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছেন। আমার দাবি মেনে নেওয়া না হলে এই বাড়িতেই আত্মহত্যা করব।” স্থানীয় বাসিন্দা খুরশিদ মিয়া (৬০) বলেন, ফারুক মাস্টার বিভিন্ন সময় জোসনা আক্তারকে তার বাড়িতে নিয়ে আসতেন। সেখানে তাকে খাওয়া-দাওয়া ও বিশ্রাম করতে দেখা গেছে। প্রতিবেশী জমেলা (৬৫) বলেন, ফারুক মাস্টার জোসনাকে বিয়ে করেছেন কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মতো সংসার করতে দেখেছেন। অনেকবার একই খাটে অবস্থান করতেও দেখেছেন বলে জানান তিনি। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত তিন থেকে পাঁচ বছর ধরে ফারুক মাস্টার ও জোসনা আক্তারের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় আলোচিত। অনেকেই তাদের বিয়ে হয়েছে বলে ধারণা করতেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও এতদিন কেউ প্রকাশ্যে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বর্তমানে জোসনা আক্তারের অনশন ও আত্মহত্যার হুমকির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এদিকে স্থানীয়রা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি অনশনরত নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অভিযোগের বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছায়েদুজ্জামান ওরফে ফারুক মাস্টারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে। উল্লেখ্য, জোসনা আক্তারের করা বিয়ে, সম্পত্তি, গর্ভপাতসহ অন্যান্য অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।