বাংলাদেশ বার্তা টুডে
মোংলায় কোস্টগার্ডের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী
মোংলায় কোস্টগার্ডের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট মোংলায় কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে কোস্টগার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বন, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এনরুট ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আজ ২৬ আগস্ট ২০২৬-এ এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী জনাব শেখ ফরিদুল ইসলাম, এমপি। কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৯ হাজার ৪০০ চারা রোপণ করা হবে। এসব চারা উপকূলীয় এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা, মাটি ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, মোংলা ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চলমান সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই সবুজায়নে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বাগেরহাটে মাদক, ছুরি ও জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ১১
বাগেরহাটে মাদক, ছুরি ও জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ১১ ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ বাগেরহাটে জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৪ লিটার চোলাই মদ, ৫৫টি ছুরি এবং ৯০ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে। পৃথক এসব অভিযানে মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। পুলিশ সুপার জানায়, বাগেরহাট সদর থানার পৌরসভাধীন নাগেরবাজার এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে এলাকার বিভিন্ন গমনাগমনের পথ ব্লকেড করে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি এবং স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭ জন পুরুষ ও ১ জন নারীসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৪০ পুরিয়া গাঁজা, যার ওজন ২০০ গ্রাম, ৪ লিটার চোলাই মদ এবং অপরাধকাজে ব্যবহৃত ৫৫টি ছুরি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নাগেরবাজারের বিষ্ণু রবি দাস (৩৫), পল্টু রবি দাস (৩৫), জয় রবি দাস (২৫), কৃষ্ণনগরের মো. রিফাত (২৪), সাবেকডাঙ্গার সিরাজ (২০), খেগরাঘাটের বিপ্লব মিস্ত্রী (৩৬), কচুয়া পট্টির নিমাই সাহা (৪০) এবং নাগেরবাজার পতিতালয় এলাকার পলি (৪৫)। এদিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার পৃথক অভিযানে বাগেরহাট সদর থানাধীন খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন পুকুরপাড় থেকে ৯০ হাজার টাকার জাল নোটসহ আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা জাল নোটগুলোর প্রতিটির মূল্য ১ হাজার টাকা। জাল টাকা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার রুহিতলাবুনিয়ার মো. আকলাস ভুইয়া (৫৫), বুড়িখালীর আশিকুর রহমান মোল্লা (২৩) এবং একই এলাকার মো. শিবলু ফকির (২৪)। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে মোট ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৪ লিটার চোলাই মদ, ৫৫টি ছুরি এবং ৯০ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি ঘোষণা
নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটি ঘোষণা সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মাওলানা আব্দুল আউয়াল, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুফতি বশিরুল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাওলানা মহিউদ্দিন খান দায়িত্ব পেয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) বাদ জোহর নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি জামে মসজিদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধ, দেশের স্বার্থ এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। নবগঠিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দিন খান বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। দেশের ইসলাম, ইসলামী মূল্যবোধ ও মুসলিম উম্মাহর স্বার্থ রক্ষায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। নারায়ণগঞ্জে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মী এবং আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। তিনি আরও বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার এবং শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে হেফাজতে ইসলাম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। নতুন কমিটির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে আমরা আশাবাদী। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, হেফাজতে ইসলামের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে নারায়ণগঞ্জে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। পাশাপাশি জেলার প্রতিটি স্তরে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করে আলেম-ওলামাদের ঐক্য সুদৃঢ় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
কালীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাত গ্রেফতার
কালীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাত গ্রেফতার আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে নাগরী ইউনিয়নের পূর্বাচল ১৫নং সেক্টরের ৫৬ নং সেঁতুর উত্তর পূর্ব দিকে একটি নম্বর প্লেটবিহীন ট্রাক নিয়ে ৭/৮ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে অবস্থান নেয়। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে বরগুনার তালতলী থানার ছোটবাগী গ্রামের মোস্তফা হাওলাদারের পুত্র বিল্লাল হাওলাদার ও পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার কল্যান কলস গ্রামের মৃত দুলালের পুত্র রবিনকে আটক করে। এসময় তাদের নিকট থেকে একটি অশোক লিল্যান্ড ট্রাক, একটি লোহার কাটার, একটি নাম্বার প্লেট (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৩২৩১), একটি পাইপ রেঞ্চ, একটি কাস্তে এবং ৫টি লোহার দন্ড উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং ২১) দায়ের করা হয়। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামীদের বুধবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কালীগঞ্জে ১ প্রতিষ্ঠান কে অর্থদণ্ড ৪ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত
কালীগঞ্জে ১ প্রতিষ্ঠান কে অর্থদণ্ড ৪ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুর কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় অভিযান পরিচালনা করে নাম বিহীন প্রতিষ্ঠানে জরিমানা ও মাদক সেবনের দায়ে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (২৬ আগষ্ট) উপজেলার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্যাট সহকারী কমিশনর (ভূমি) আল আমীন হালদার'র নেতৃত্বে উপজেলার বেরুয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এক নামবিহীন প্রতিষ্টান কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৩ ধারায় বক্তারপুর ইউনিয়ন'র বেরুয়া গ্রামের আঃ রহেদ'র ছেলে মোঃ আলম শেখ (২৮) কে ০১ টি মামলায় ৫০,০০০/- জরিমানা ও ৩০(ত্রিশ) দিন বিনাশ্রম কারাদন্ডসহ নামবিহীন প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারায় বাংলা মদ ও গাজা সেবনের দায়ে তুমলিয়া ইউনিয়ন'র চুয়ারিয়াখোলা গ্রামের মৃত আঃ কাদির হোসেন'র ছেলে মোবারক হোসেন (৫১), চড়েরখোলা গ্রামের মৃত সেলেন পালমা'র ছেলে সুহৃদ পালমা (৪১),সাতানীপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন'র ছেলে ইকবাল (৪৩) কে ০৩ টি মামলায় ১০০/- টাকা করে মোট ৩০০/- জরিমানা ও ০২ জনকে ৩০(ত্রিশ) দিন করে এবং ০১ জনকে ৬০(ষাট) দিন বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। জানাযায় এই নামবীহিন প্রতিষ্ঠান টি বহুদিন যাবৎ বেরুয়া গ্রামে নকল পণ্য উৎপাদন করে যাচ্ছে,যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। অভিযান পরিচালনার সময় প্রসিকিউটর মিজানুর রহমান, এস আই, কালীগঞ্জ থানা,গাজীপুর ও বেঞ্চ সহকারী আল আমিন উপস্থিত ছিলেন।
গোবিন্দগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে কিশোর নিখোঁজ,মরদেহ উদ্ধার
গোবিন্দগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে কিশোর নিখোঁজ,মরদেহ উদ্ধার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীতে গোসল করতে নেমে আসিফ (১৪) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার খলসী এলাকায় করতোয়া নদীতে এ ঘটনা ঘটে।নিখোঁজ আসিফ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের বকচর মধ্যপাড়া গ্রামের ফুলমিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ফুটবল খেলা শেষে কয়েকজনের সঙ্গে করতোয়া নদীতে গোসল করতে নামে আসিফ। একপর্যায়ে নদীতে তলিয়ে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয়রা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। মরদেহ উদ্ধার করে।
উজিরপুরে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন
উজিরপুরে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন মোঃ কাওছার হোসেন, বরিশাল প্রতিনিধিঃ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহান দিন। উজিরপুরে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ)। এ উপলক্ষে ২৬ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে "মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনী" শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২০২৬ খ্রিঃ (১৪৪৮ হিজরী) উদযাপন উপলক্ষে উজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সহিদুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক মোঃ আলী সুজা। উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ শহীদুল ইসলাম খান, পৌর যুবদলের আহবায়ক শাহাবুদ্দিন আকন সাবু, উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম রকিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উজিরপুর উপজেলা শাখার মুজাহিদ কমিটির সভাপতি মাসউদ হাসান ফিরোজ, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মাইদুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মোঃ নুর হোসেন, উপজেলা ট্রেইনিং ইনসট্রাক্টর সৈয়দ গফ্ফার, উপজেলা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মোঃ সামসুদ্দোহা চৌধুরী, উজিরপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কাজী ইসরাত জাহান। উজিরপুর উপজেলা যুব ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা ডি.এম আল আমিন, পৌর ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধা আলমগীর হোসেন, উপজেলা মৎস কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ নাসরিন আক্তার, উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা চিন্ময় পান্ডে, পল্লী বিদ্যুৎ বরিশাল-২ জোনের ডিজিএম গোপাল চন্দ্র শিব, উজিরপুর প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাওছার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ নুরুল ইসলাম আসাদ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ সোহাগ হাওলাদার, সদস্য মোঃ খলিলুর রহমান। বক্তারা তাদের আলোচনায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবনের আদর্শ, সাম্য, ন্যায়বিচার, শান্তি ও মানবতার শিক্ষা তুলে ধরেন। বর্তমান সমাজে রাসূল (সাঃ)-এর দেখানো পথ অনুসরণের আহ্বান জানান তারা। সবশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উজিরপুর উপজেলা শাখার মুজাহিদ কমিটির সভাপতি মাসউদ হাসান ফিরোজ। অনুষ্ঠানে উজিরপুর উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে নেমে, পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই স্কুলছাত্রের
সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে নেমে, পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই স্কুলছাত্রের মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা: গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়েH পানিতে ডুবে দুই স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশুই একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহতরা হলো—বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বী (১১) এবং একই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মুত্তাসীন (১১)। তারা দুজনই বাপ্তা-বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতদের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠান শেষে রাব্বী ও মুত্তাসীন কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুতিয়া নদীতে সাঁতার কাটতে যায়। একপর্যায়ে সাঁতার কাটার সময় একজন পানিতে বিপদে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপর শিশুও পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে দুজনই নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। ঘটনাটি দেখে সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা ভয়ে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে নেমে অনেক খোঁজাখুঁজির পর দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে দুই শিশুর পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুই শিশুর আকস্মিক মৃত্যুতে বাপ্তা-বেলদিয়া এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একসঙ্গে দুই শিশুকে হারিয়ে তাদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর শোক। স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে সুতিয়া নদীতে পানির গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নদীতে নামার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অসাবধানতার কারণে যেন আর কোনো পরিবারের সন্তানকে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়, সে জন্য নদীতে শিশুদের সাঁতার কাটার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বীরগঞ্জে মডেল মসজিদের উদ্বোধন
বীরগঞ্জে মডেল মসজিদের উদ্বোধন। দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বহুল প্রত্যাশিত মডেল মসজিদের উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু। ২৬ আগষ্ট বুধবার যোহরের নামাজ পুর্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক দিনাজপুর মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বীরগঞ্জ সুমা খাতুন, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক ভিপি উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আমিরুল বাহার, বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক নমিরুল ইসলাম চৌধুরী সেনা, যুবদলের সদস্য সচিব এবং মরিচা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব তানভীর চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম, নিজপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ শিপন, উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহজাহান আলী সহ দলীয় বিভিন্ন শ্রেনীর নেতৃবৃন্দ ও শত শত মুসল্লি নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। মোঃ মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি মডেল মসজিদের ফলক উম্মুক্ত ও যোহরের নামাজ আদায় করেন। এ সময় মুনাজাত পরিচালনা করেন হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওঃ আবুল হাসিম এবং যোহরের নামাজে ইমামতি করেন অত্র মডেল মসজিদের নব নিয়োগ প্রাপ্ত ইমাম মাওঃ মতিয়ার রহমান।
দুর্ঘটনায় আহত বখতিয়ারের পাশে নোবিপ্রবি, সফল অস্ত্রোপচার
দুর্ঘটনায় আহত বখতিয়ারের পাশে নোবিপ্রবি, সফল অস্ত্রোপচার মোঃ জাহিদ হাসান নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আব্দুল মালেক উকিল হলে দুর্ঘটনায় আহত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বখতিয়ার হাসিনের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন, বিভাগ, সহপাঠী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মিলিত সহযোগিতায় তার চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত ২৪ আগস্ট রাতে নওগাঁয় তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তিনি আগের তুলনায় সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ২২ আগস্ট আব্দুল মালেক উকিল হলের সিঁড়ির নিচে জমে থাকা পানিতে দুর্ঘটনাবশত পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন বখতিয়ার হাসিন। এতে তার পায়ের প্যাটেলা (হাঁটুর হাড়) ভেঙে চার টুকরো হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর তার সহপাঠীরা দ্রুত তাকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। পরে তার চিকিৎসার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বয় শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী, আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ কাইয়ুম ও সংশ্লিষ্টরা আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নোয়াখালী সদর হাসপাতাল থেকে বখতিয়ারকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের নির্ধারিত সময় এগিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হয়। এতে অস্ত্রোপচারের সময় প্রায় দুই দিনের মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। ঢাকায় বখতিয়ারের চিকিৎসার বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আইরিন আক্তারও সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে নওগাঁয় নেওয়া হয়। সেখানে পঙ্গু হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গত ২৪ আগস্ট রাতে তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বখতিয়ারকে নওগাঁয় নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াসহ যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করেন সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাছান। একই সঙ্গে তার পরিবারকেও চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বখতিয়ার হাসিনকে ৩০ হাজার টাকা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ক্লাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ২১ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তার চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “বখতিয়ারকে প্রথমে নোয়াখালী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে নওগাঁয় নেওয়া হয়। সেখানে পঙ্গু হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তাকে ৩০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে সর্বোচ্চ সহযোগিতার চেষ্টা করছে। আশা করি, সে দ্রুত সুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসবে।” রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন হৃদয় বলেন, “বখতিয়ার আহত হয়েছে শুনে সঙ্গে সঙ্গে সদর হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে জাহিদ ভাই, মাসুদ স্যার, ভিসি স্যারসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রশাসন পুরো বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে সাহায্য করার। ভিসি স্যার, জাহিদ ভাই, মাসুদ স্যার, আমাদের বিভাগের চেয়ারম্যান স্যার, আইরিন ম্যামসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।” একই বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান শান্তা বলেন, “আবদুল মালেক উকিল হলে দুর্ঘটনায় বন্ধু বখতিয়ারের হাঁটুর প্যাটেলা ভেঙে চার টুকরো হয়ে যাওয়ার পর শুরু থেকেই নোবিপ্রবি প্রশাসন যেভাবে সহযোগিতার মনোভাব দেখিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স প্রদান থেকে শুরু করে খোঁজখবর নেওয়া কিংবা আর্থিক সাহায্য করা, সবকিছুর জন্যই আমরা কৃতজ্ঞ।” তিনি বলেন, “বিশেষ করে সংকটের সময়ে আমরা প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছিলাম। বিষয়টি ভিসি স্যার যে আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করেছেন এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।” নুসরাত জাহান শান্তা আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের কঠিন সময়ে পাশে থেকে স্যার যে মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং সুস্থ ও কল্যাণময় রাখুন, স্যার।” বখতিয়ারের সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, হল প্রশাসন, বিভাগ, সহপাঠী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তার চিকিৎসা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগও বখতিয়ারের পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় চালিয়ে নিতে সহযোগিতা করছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে ঢাকায় চিকিৎসার উদ্যোগ, পরে নওগাঁয় নেওয়া, অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহায়তা-প্রতিটি পর্যায়েই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত সহযোগিতা অব্যাহত ছিল। বর্তমানে বখতিয়ার চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো।
সারের ঘাটতি নেই, যতটা সংকট তার চেয়ে বেশি রটানো হচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী
সারের ঘাটতি নেই, যতটা সংকট তার চেয়ে বেশি রটানো হচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাট: দেশে সারের ঘাটতি নেই জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং সার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ‘সরকার সার উৎপাদন ও আমদানিতে প্রচুর ভর্তুকি দিচ্ছে। সারের সংকট যতটা বাস্তব, তার চেয়ে বেশি রটানো হচ্ছে।’ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে লালমনিরহাটে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় সারের সংকটের কথা আলোচনায় এলেও বাংলাদেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। আমরা ইতিমধ্যে ডিলারের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করেছি এবং খুচরা বিক্রেতার সংখ্যাও আরও বাড়ানো হবে। লালমনিরহাটের তথ্য নিয়ে দেখেছি, গত বছরের চেয়ে এবার বরাদ্দ অনেক বেশি দেওয়া হয়েছে।’ কালোবাজারি ও কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সার নিয়ে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। কেউ অনিয়ম বা সার মজুত করার চেষ্টা করলে ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসককে সারের বাজার ও বিতরণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে মনিটরিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ অবৈধভাবে সার মজুত রাখলে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি। খবর পেলেই গুদামে অভিযান চালিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভরা মৌসুমেও চড়া দামে ইলিশ
ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ চলতি ভরা মৌসুমেও চড়া দামে বাজারে বিকোচ্ছে ইলিশ মাছ।চরম হতাশায় খালি হাতে বাড়ি ফিরছে অধিকাংশ জেলেরা।লোকশানে জেলেদের দাদন দিয়ে আড়ৎদার মহাজনরা। সরবরাহ কমায় ভরা মৌসুমের দুই মাস শেষ হতে চললেও বাজারে ইলিশের দেখা মিলছে না বললেই চলে। যেটুকু মিলছে তারও গড় আকার আগের চেয়ে ছোট। বিক্রিও হচ্ছে চড়া দামে। ফলে ভরা মৌসুমেও সাধারণ মানুষের পাতে উঠছে না ইলিশ। মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, নদীতে নাব্যতা সংকট, দূষণ, প্রজনন ব্যাহত হওয়া ও অবাধে জাটকা নিধনে দিন দিন উৎপাদন কমছে ইলিশের। গবেষকরা জানিয়েছেন, একসময়ের ৪৫০ গ্রাম গড় ওজনের ইলিশ এখন ৩০০ গ্রামে নেমে এসেছে। মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্ষাকেই ইলিশের প্রধান মৌসুম ধরা হয়। দেশে আহরিত মোট ইলিশের ৭০ ভাগ পাওয়া যায় দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও সাগরে। তবে কয়েক বছর ধরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির হার ক্রমে নিম্নমুখী। তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ হয়েছিল ৫ দশমিক ৩২ লাখ টন। ২০১৯-২০ সালে তা বেড়ে হয় ৫ দশমিক ৫০ লাখ টন, ২০২০-২১ সালে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ ও ২০২১-২২ সালে হয় ৫ দশমিক ৬৬ লাখ টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন বেড়ে ৫ দশমিক ৭১ লাখ টনে পৌঁছায়। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৭ টনে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা পাঁচ লাখ টনে নেমে এসেছে। কেবল উৎপাদন ও সরবরাহ নয়, আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে ইলিশের দৈহিক আকারও। ইলিশ গবেষক ও বাংলাদেশ মৎস্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিগত দুই বছর ইলিশের সামগ্রিক উৎপাদন কমছে, শুধু তা-ই নয়; ইলিশের আকারও ছোট হয়েছে। একটা সময় ইলিশের গড় ওজন ছিল ৪০০-৪৫০ গ্রাম। এখন ৩০০-৩৫০ গ্রামে নেমে আসছে।’ জলবায়ু সংকটে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, নদীদূষণ, নাব্যতা সংকট ও প্রজনন পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে।’ পরিস্থিতি উত্তরণে নদী ব্যবস্থার পরিবেশ রক্ষা ও সঠিক গবেষণার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান জানান, ‘একটি ইলিশ এক-দেড় কেজি ওজনের হতে অন্তত দেড় বছর সময়ের প্রয়োজন হয়। নদীতে ডিম ফোটার পর বাচ্চা ইলিশ সাগরে যায় এবং একটু বড় হয়ে আবার ডিম ছাড়তে মিঠাপানিতে ফিরে আসে। কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত মাছ শিকারের কারণে এ জীবনচক্র পূর্ণ হতে পারছে না। তিনি বলেন, ‘মোহনায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, বালি উত্তোলন, শিল্প-কারখানার দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে নদীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া সাগরে ট্রলিং জাহাজের মা-মাছ ও জাটকা শিকারের কারণে বড় ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। আইন অমান্যকারীদের অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান থাকলেও নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার থামছে না।’ তবে বাজারে ছোট আকারের ইলিশের সরবরাহও কম। এছাড়া বাজারগুলোয় এ মাছ দীর্ঘদিন ধরে হিমায়িত করে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে এক কেজি ইলিশ কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। বাঙালির প্রিয় ইলিশ এখন শুধু রাজাদের মাছে পরিণত হয়েছে।’ ক্রেতারা আরো বলেন, ‘মৌসুমেও যদি এত দাম হয়, তবে সাধারণ মানুষ ইলিশ খাবে কীভাবে? নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কোনো তদারকি চোখে পড়ে না।’ তবে বাজারে ইলিশের এ চড়া দামের পেছনে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত হাতবদলকে দায়ী করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, আহরণ থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত ইলিশ চার দফা হাতবদল হয়। এর প্রতিটি ধাপে দাম বাড়ে। পাশাপাশি দাদন, অতি মুনাফা, বরফ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ইলিশ আহরণের খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। আবার অনেক বিক্রেতা অধিক লাভের আশায় ফ্রিজিং করে বাঙ্কারে মাছ মজুদ করেন। এক বিক্রেতা জানান, সরবরাহ কম থাকায় তারা আগের বছরের মজুদ করা ‘হিম ইলিশ’ বিক্রি করছেন। বর্তমানে বাজারে জাটকা বা ৩০০-৪০০ গ্রামের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়, এক কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার ৫০০ টাকায় ও দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। তবে ফ্রিজিং করা ইলিশের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ‘ফ্রিজিং করা ইলিশ ছয় মাস পর গুণগত ও পুষ্টিমান হারাতে শুরু করে। দীর্ঘদিন এভাবে রাখা মাছ খেলে ক্রেতাদের ফুড পয়জনিং হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।’ ইলিশ সংকটের স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে সরকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোয়। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) আওতায় সারা দেশে ২০টি কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি বন্ধ এবং নয়টি টেনেটুনে চলছে। খুলনা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সরবরাহ সবচেয়ে কম। ভরা মৌসুমে চলতি জুলাই পর্যন্ত এখানে মাত্র দেড় হাজার কেজি ইলিশ এসেছে। অথচ ২০২২ সালের জুলাইয়ে এসেছিল ৩৮ হাজার ৫৪৬ কেজি, ২০২৩ সালে ১৫ হাজার ৯৭৬ ও ২০২৪ সালে ৮ হাজার ৩৯১ কেজি। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বড় মোকাম গুলোতেও ইলিশ মাছের আমদানি কমেছে আশংকাজনক হারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে ইলিশ রক্ষায় নিঝুম দ্বীপ, নাফ নদীসহ ছয়টি এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। সে অভয়াশ্রমগুলো কার্যকরভাবে রক্ষা করা যায়নি। এতে উৎপাদন কমেছে। তাদের মতে জাটকা ও মা-মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ করা গেলে ইলিশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এর জন্য মৎস্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও বিধিমালা, ১৯৮৫-এর সঠিক প্রয়োগ, নিষিদ্ধ ট্রলিং বন্ধ করা, সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা ও জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে উপযুক্ত প্রণোদনা দেয়া জরুরি।
২৭ বছর বিনা বেতনে রেলগেট কিপারের দায়িত্বে বেলাল
বিনা বেতনের রেলগেট কিপারের দায়িত্বে বেলাল- নিয়োগপত্র নেই, বেতন নেই- তবুও রেলগেট কিপারের দায়িত্ব পালন করছেন বেলাল হোসেন হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট: বয়স ৬৫ পেরিয়েছে। জীবনের পড়ন্ত বেলায়ও থামেনি মানুষের জন্য তার ছুটে চলা। নিজের ছোট্ট মুদি দোকানের আয় দিয়ে সংসার চালালেও মানুষের নিরাপত্তাকে দিয়েছেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে কোনো নিয়োগপত্র, বেতন কিংবা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই রেলগেট কিপারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন লালমনিরহাট পৌরসভার খোঁচাবাড়ি মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা বেলাল হোসেন। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে রেললাইনের পাশে ছোট্ট মুদি দোকানে। কিন্তু দূর থেকে ট্রেনের হুইসেল শুনলেই বদলে যায় তার ব্যস্ততা। মুহূর্তেই দোকান ছেড়ে ছুটে যান রেলগেটের কাছে। যানবাহন ও পথচারীদের রেললাইন পারাপার বন্ধ করে নিশ্চিত করেন নিরাপদ চলাচল। ট্রেন চলে গেলে আবার ফিরে আসেন নিজের দোকানে। এভাবেই দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কেটে গেছে। দেখতে দেখতে এই দায়িত্ব পালনের ২৭ বছর পার করেছেন বেলাল হোসেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রেলগেটে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী গেটকিপার না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পারাপার করেন মানুষ। প্রতিদিন অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন রেললাইন অতিক্রম করে। পাশাপাশি পায়ে হেঁটেও চলাচল করেন অনেকে। ফলে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এই ঝুঁকির মধ্যেই মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে নিজের মতো করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বেলাল। লালমনিরহাট থেকে আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা হয়ে পাটগ্রামের বুড়িমারী পর্যন্ত চলাচলকারী রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশে প্রতিদিন একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে। ট্রেন চলাচলের সময় সামান্য অসতর্কতাও ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আর সেই দুর্ঘটনা এড়াতেই বছরের পর বছর ধরে সতর্ক প্রহরীর মতো রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন বেলাল হোসেন। বেলাল হোসেন বলেন, আমি কোনো বেতন বা সুযোগ-সুবিধার জন্য এই কাজ করি না। এত বছর ধরে মানুষকে নিরাপদে রেললাইন পার হতে সাহায্য করছি। ট্রেন আসার খবর পেলেই দোকান রেখে গেটে চলে যাই। যতদিন পারি মানুষের জন্য এই কাজ করে যেতে চাই। তার এই দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের কথা জানেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের ভাষ্য, বেলাল হোসেন না থাকলে এই রেলগেট দিয়ে মানুষের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠত। স্থানীয়রা বলেন, বেলাল চাচা দীর্ঘদিন ধরে নিজের দায়িত্ব মনে করে রেলগেট পাহারা দিচ্ছেন। তিনি না থাকলে কখন যে দুর্ঘটনা ঘটে, বলা যায় না। রেলওয়ের উচিত এখানে দ্রুত একজন স্থায়ী গেটকিপার নিয়োগ করা। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—২৭ বছর ধরে যিনি বিনা পারিশ্রমিকে মানুষের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন, তার এই অবদানের মূল্যায়ন হবে কবে? বেলালের এই দায়িত্ব পালনের পেছনে নেই কোনো নিয়োগপত্র। নেই মাসিক বেতন। নেই সরকারি সুযোগ-সুবিধাও। তারপরও দায়িত্ব পালনে তার কোনো ক্লান্তি নেই। নিজের জীবিকার তাগিদে দোকান চালানোর পাশাপাশি মানুষের জীবন রক্ষার কাজটিকেও তিনি যেন নিজের দায়িত্ব হিসেবে নিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, শুধু বেলাল হোসেনের ওপর নির্ভর করে এমন গুরুত্বপূর্ণ রেলগেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রেলওয়ের উচিত দ্রুত এখানে একজন স্থায়ী গেটকিপার নিয়োগ করা। একই সঙ্গে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে স্বেচ্ছায় মানুষের নিরাপত্তায় অবদান রাখায় বেলাল হোসেনকে সম্মাননা বা উপযুক্ত স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার মোহাম্মদ তসলিম আহমেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লালমনিরহাটের ওই রেলগেটে গেটকিপার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। রেলপথের নিরাপত্তা নিয়ে যখন বারবার দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, তখন ৬৫ বছর বয়সী বেলাল হোসেন যেন হয়ে উঠেছেন এক নীরব প্রহরী। রাষ্ট্রীয় কোনো পরিচয়পত্র নেই, নেই বেতনের নিশ্চয়তা—তবুও ২৭ বছর ধরে মানুষের নিরাপদ পথচলার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—বেলালের এই দীর্ঘদিনের অবদান যেন হারিয়ে না যায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থায়ী গেটকিপার নিয়োগের পাশাপাশি এই নীরব স্বেচ্ছাসেবকের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেবে। কারণ মানুষের জীবন রক্ষায় ২৭ বছরের এই দায়িত্ববোধ শুধু একটি
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)-২০২৬ উপলক্ষে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) ১২ রবিউল আউয়াল বেলা ১১টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (প্রভাতী শাখা) খান মকছুদর রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক (দিবা শাখা) জিএম আলতাফ হোসেন, সহকারী শিক্ষক রোকেয়া সুলতানা, মো. মহব্বত হোসেন, মৌলভী আবুল কালাম আযাদ, মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানসহ অন্যরা। বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও শান্তির বার্তা নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁরা শিক্ষার্থীদের মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান। আলোচনা সভা শেষে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিম, খালিদ ও মাহিদ।
মাজার ধ্বংসের চেষ্টা হলে ঘরে বসে থাকবে না মানুষ: প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
মাজার ধ্বংসের চেষ্টা হলে ঘরে বসে থাকবে না মানুষ: প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় | ২৬ আগস্ট ২০২৬ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার, পীর-আউলিয়াদের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, কোনো মাজার ধ্বংস বা ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার অপচেষ্টা হলে সাধারণ মানুষ আর ঘরে বসে থাকবে না। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত উপজেলা শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মাজারের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতে বিভিন্ন সময়ে মাজার ভাঙচুর এবং খাদেমদের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, পীর-আউলিয়া ও মাজারকে কেন্দ্র করে দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধ্বংসের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে ধর্মপ্রাণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। কৃষকদের সারসংকটের প্রসঙ্গে তিনি জানান, কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে শিগগিরই ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। এতে অতিরিক্ত দামে সার কেনার সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতা প্রদান এবং কৃষক কার্ডের সুবিধা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচনা, দোয়া ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।