বাংলাদেশ বার্তা টুডে
সীমান্তে কৃষকদের সাথে ধস্তাধস্তি, অস্ত্র ফেলে পালাল বিএসএফ
সীমান্তে কৃষকদের সাথে ধস্তাধস্তি, অস্ত্র ফেলে পালাল বিএসএফ হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশি কৃষকদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিরোধ ও ধাওয়ার মুখে নিজেদের দুটি শর্টগান ও একটি ওয়াকিটকি ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের বনচৌকি আমঝোল সীমান্তের ৯০৭ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, বিকেলে আমঝোল সীমান্ত সংলগ্ন নিজেদের কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন কয়েকজন বাংলাদেশি কৃষক। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা অন্যায়ভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে এবং কৃষকদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। কৃষকদের চিৎকারে আশপাশের স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্রুত এগিয়ে এসে বিএসএফ সদস্যদের ঘিরে ফেলে ও ধাওয়া দেয়। গ্রামবাসীর তোপের মুখে পড়ে এবং তীব্র ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা তাদের কাছে থাকা দুটি শর্টগান এবং একটি ওয়াকিটকি ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে দ্রুত ভারতের সীমানার দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে বনচৌকী ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিএসএফের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেন। পরবর্তীতে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, "সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (কোম্পানি কমান্ডার) পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যকার বৈঠক শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।" বর্তমানে উক্ত সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শ্রীপুরে এক নারীকে অপহরণ করতে এসে ভুয়া সিআইডির ৭ সদস্য আটক
শ্রীপুরে এক নারীকে অপহরণ করতে এসে ভুয়া সিআইডির ৭ সদস্য আটক আব্দুর রশিদ মোল্লা, মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুরে নারী অপহরণের চেষ্টার সময় ভুয়া সিআইডি পরিচয়ধারী ৭ জনকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে শ্রীপুর থানার নাকোল পশ্চিমপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। মাগুরা জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর থানা ও নাকোল ক্যাম্পের পুলিশ এসআই মো. আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ভুয়া সিআইডি লেখা ৪টি জ্যাকেট, ১টি খেলনা পিস্তল, অপহরণে ব্যবহৃত ১টি নোহা মাইক্রো ও ৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। *আটকৃতরা হলেন* ঝিনাইদহ সদরের পাগলাখানা গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের মেয়ে মোছা. আসমা খাতুন (৩১), একই এলাকার মো. আ. রশিদের ছেলে মো. হাসানুজ্জামান হাছান (২৮), মো. সাহাউদ্দিনের ছেলে মো. ওসমান গনি (২৫), আরবপুরের মো. আ. করিমের ছেলে সালমান সাহ (২৫), কুড়িগ্রামের বড়ুঙ্গামারীর মো. রবিউল ইসলামের ছেলে মো. ছাব্বির হোসেন (২), ঝিনাইদহ সদরের আড়মুখের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে মো. সাকিব (২৩) এবং মাগুরার শালিখার দেবিলার মো. নাজিম উদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মো. আল আমিন হোসেন (২)। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে মাগুরা জেলা পুলিশ জানায়, জনগণের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে পুলিশ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ফান্ড রেইজিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত
বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ফান্ড রেইজিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত। আফজাল মিয়া বিশ্বনাথ প্রতিনিধি। সিলেটসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের ফান্ড রেইজিং ইভেন্ট। গত রোববার, ২৩ আগস্ট নিউবেরি পার্কস্থ আলডারবরাহ সাউথের ফোর্ড স্পোর্টস সোশ্যাল ক্লাবে এ ফান্ড রেইজিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের অন্যতম ফাউন্ডার ট্রাস্টি, ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের ইউকে কমিটির পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বার, ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টারের পার্মানেন্ট মেম্বার এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের লাইফ মেম্বার আলহাজ্ব মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক ও হোস্ট মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন। সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভি ও পিস হোমের ফাউন্ডার, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিছবাহ জামাল এবং ইয়াং ট্যালেন্ট প্রেজেন্টার তামান্না মিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় এবং ফরহাদ হোসেন টিপু ও মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরীর সহযোগিতায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে পবিত্র কোর
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহকে মহিউদ্দিন আহমেদের শুভেচ্ছা
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহকে মহিউদ্দিন আহমেদের শুভেচ্ছা শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শ্রীপুর ঐক্য সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুরবাসীসহ দেশ-বিদেশের সকল মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবতা ও ন্যায়বিচারের অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর শিক্ষা ও তাৎপর্য হৃদয়ে ধারণ করে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। এ সময় মহিউদ্দিন আহমেদ মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। পাশাপাশি দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মোবারক। ২৬/৮/২৬ইং
শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃ/ত্যু
শৈলকুপায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু একরামুল ইসলাম তুষার, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গবাদিপশুর ঘাস কাটার বৈদ্যুতিক মেশিনে স্পর্শ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক দম্পতির করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬আগস্ট) সকালে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—মাধবপুর গ্রামের অমরেন্দ্র নাথ ভৌমিক (৭০) এবং তাঁর স্ত্রী মিনা ভৌমিক (৬০)। সকালে অমরেন্দ্র নাথ নিজ বাড়ির গোয়ালঘরে গবাদিপশুর খাবার প্রস্তুতির জন্য বৈদ্যুতিক মেশিনে ঘাস কাটতে যান। কাজের একপর্যায়ে তিনি দুর্ঘটনাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্বামীকে ছটফট করতে দেখে স্ত্রী মিনা রানী ভৌমিক দ্রুত তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। কিন্তু কোনো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা না থাকায় তিনিও ঘটনাস্থলে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারাত্মক আহত হন। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাঁদের উদ্ধার করেন। চিকিৎসার জন্য দুজনকে দ্রুত শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ড. আসাদুজ্জামান জোহা জানান, "হাসপাতালে আনার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। মূলত অতিরিক্ত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কারণেই তাঁদের প্রাণহানি ঘটেছে।" একই সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মাধবপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গঙ্গাচড়া বেতগাড়ী হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন
গঙ্গাচড়া বেতগাড়ী হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন রফিকুল ইসলাম সাবুল: রংপুর প্রতিনিধি পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রংপুরের গঙ্গাচড়া বেতগাড়ী হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও কর্ম এবং ইসলামে শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্মের ওপর কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোরশেদুল হক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, কবি ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাবুল এবং বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। আলোচনা সভায় বক্তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের শান্তি, মানবিকতা, সহিষ্ণুতা ও ভ্রাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
গ্যাস আছে, কিন্তু চুলায় নেই: ঢাকার মানুষের দিন কাটছে অপেক্ষায়
গ্যাস আছে, কিন্তু চুলায় নেই—ঢাকার মানুষের দিন কাটছে অপেক্ষায় নিম্নচাপের গ্যাসে রান্নাঘর থেকে CNG স্টেশন ও শিল্পকারখানা—সংকটের চাপ কোথায় কতটা, আর এর দায় কার? বিশেষ প্রতিনিধি সঞ্জয় মজুমদার ঢাকার একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সকাল শুরু হওয়ার কথা ছিল রান্নাঘরের চুলায় আগুন জ্বালানোর মধ্য দিয়ে। কিন্তু অনেক পরিবারের বাস্তবতা এখন ভিন্ন। চুলার নব ঘুরিয়েও কাঙ্ক্ষিত আগুন মিলছে না; কোথাও সামান্য আগুন জ্বললেও তা দিয়ে রান্না শেষ করা কঠিন। বাধ্য হয়ে কেউ electric stove, কেউ induction cooker, আবার কেউ মাটির চুলা বা LPG সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে গ্যাসের সংকট শুধু একটি জ্বালানি সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই—এটি এখন নগরজীবনের সময়, ব্যয় ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় পরিবারগুলোকে বিকল্প চুলা ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—দেশে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে, তাহলে ঢাকার অনেক বাসাবাড়ির চুলায় পর্যাপ্ত গ্যাস পৌঁছাচ্ছে না কেন? তথ্য বলছে, Titas-এর বিতরণ নেটওয়ার্কে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২ বিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহ ১.৫ বিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ Titas-এর আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকায়। গ্যাসের এই ঘাটতির পেছনে LNG সরবরাহের অস্থিরতা বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। জুলাইয়ে মহেশখালীর একটি LNG টার্মিনালে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সরবরাহ প্রায় ৪৫০ mmcfd কমে যাওয়ার কথা Titas জানিয়েছিল। তখন Titas-এর আওতাধীন সব ধরনের গ্রাহককে তীব্র নিম্নচাপের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। পরবর্তী সময়ে LNG সরবরাহে ওঠানামা অব্যাহত থাকায় জাতীয় গ্যাস সরবরাহও চাহিদার তুলনায় অনেক কম ছিল। এক পর্যায়ে জাতীয় দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ mmcfd-এর বিপরীতে সরবরাহ প্রায় ১,৯৩০ mmcfd-এ নেমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়। কিন্তু সংকটের প্রভাব শুধু রান্নাঘরে থেমে নেই। ঢাকার রাস্তায় CNGচালকদের জন্য তৈরি হয়েছে আরেক বাস্তবতা। গ্যাসের চাপ কমে গেলে অনেক CNG স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। একজন চালককে একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে যদি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তার দৈনিক ট্রিপ কমে যায়, আয় কমে যায় এবং সেই ঘাটতি শেষ পর্যন্ত পরিবহনব্যবস্থার ওপরও পড়ে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে গ্যাস-সংকটের কারণে CNG স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ queues-এর কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলেও সংকটের অভিঘাত স্পষ্ট। নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুরসহ রাজধানীর আশপাশের শিল্প এলাকায় নিম্ন গ্যাসচাপের কারণে বহু কারখানা উৎপাদন বন্ধ বা কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নরসিংদীতেই ৩০০-এর বেশি ছোট-বড় কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার দাবি এসেছে। অর্থাৎ একটি পরিবারের রান্নাঘরের যে সংকট, তার সঙ্গে দেশের উৎপাদন, শ্রমিকের কর্মঘণ্টা এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির একটি সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। গ্যাসের সংকট আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপরও চাপ তৈরি করছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি হওয়ায় সরবরাহ কমে গেলে gas-fired power plants-এ উৎপাদন কমার ঝুঁকি তৈরি হয়। সাম্প্রতিক গ্যাস-সংকটের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে load shedding বৃদ্ধির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ফলে একজন নগরবাসী একই সময়ে দুটি সংকটের মুখোমুখি হতে পারেন—চুলায় গ্যাস নেই, আবার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা electric stove চালাতেও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এখানেই প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে। দেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে চাহিদা বাড়ছে। ফলে LNG আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন হ্রাস এবং পর্যাপ্ত নতুন অনুসন্ধান না হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অর্থাৎ বর্তমান সংকটকে শুধু একটি LNG terminal-এর কারিগরি ত্রুটি দিয়ে ব্যাখ্যা করলে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দিকটি আড়ালে থেকে যায়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো দেশের গ্যাস বিতরণ অবকাঠামো। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো distribution ও service line পরিবর্তনের কাজ চলার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। তাই অনুসন্ধানের প্রয়োজন—কত কিলোমিটার পাইপলাইন পুরোনো, কোথায় leakage বেশি, কোথায় network upgrade প্রয়োজন এবং অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ কতটা এগিয়েছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস-সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এক নয়। তাৎক্ষণিকভাবে LNG supply স্বাভাবিক করা, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন ধরে রাখা এবং বিতরণব্যবস্থায় চাপের ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, পাইপলাইন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, LNG নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। তবে এই সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে সাধারণ মানুষ। একটি পরিবারকে যখন রান্নার জন্য electric stove বা LPG কিনতে হয়, CNGচালককে যখন দীর্ঘ সময় স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, কারখানাকে যখন generator চালাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়, আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে যখন গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব পড়ে—তখন গ্যাসের সংকট আর শুধু “energy sector-এর সমস্যা” থাকে না। এটি সরাসরি জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনীতির সমস্যা হয়ে ওঠে। এই প্রতিবেদনের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে ঢাকার অন্তত পাঁচটি এলাকার বাসিন্দা, কয়েকটি CNG স্টেশনের চালক ও কর্মী, restaurant ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের বক্তব্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে Titas Gas, Petrobangla, RPGCL এবং বিদ্যুৎ বিভাগের বক্তব্য নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানতে হবে—বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ কী এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকারের হাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা কতটা আছে। সবশেষে প্রশ্নটি খুব সরল: গ্যাসের জন্য মানুষ যদি প্রতিদিন অপেক্ষা করে, সেই অপেক্ষার মূল্য কে দিচ্ছে? একজন গৃহিণী অতিরিক্ত সময় দিয়ে, একজন CNGচালক আয় হারিয়ে, একজন কারখানা মালিক উৎপাদন কমিয়ে এবং একজন শ্রমিক কর্মঘণ্টা হারিয়ে—সবাই কি একই সংকটের আলাদা আলাদা মূল্য পরিশোধ করছেন? ঢাকার রান্নাঘরের ছোট্ট একটি আগুনের শিখা তাই আজ দেশের বৃহত্তর জ্বালানি ব্যবস্থার একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—গ্যাস কি সত্যিই নেই, নাকি সরবরাহব্যবস্থার কোথাও গিয়ে সাধারণ মানুষের চুলায় পৌঁছানোর আগেই তার সংকট শুরু হয়ে যাচ্ছে?
ছাত্রদল থেকে জাতীয় যুবশক্তির তাড়াইল উপজেলা শাখার কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান লিয়ন
ছাত্রদল থেকে জাতীয় যুবশক্তির তাড়াইল উপজেলা শাখার কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান লিয়ন রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান লিয়ন। জানা যায়, চলতি মাসের ২১ তারিখে তাড়াইল উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক কমিটি আগামী ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন জেলা কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল ও তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক তাড়াইল উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক কমিটিতে তাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাহমুদুল হাসান লিয়ন দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত। ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি জাতীয় যুবশক্তির মাধ্যমে তাড়াইলের যুবসমাজকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেছেন। মাহমুদুল হাসান লিয়ন বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা বিবেচনা করেই আমি ছাত্রদল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার মনে হয়েছে ছাত্রদলকে অনেক ক্ষেত্রেই তরুণদের রাজনৈতিকভাবে গড়ে তোলার জায়গা হিসেবে নয়, বরং শুধু আন্দোলন-সংগ্রামের সময় ব্যবহার করা হয়। আবার ক্ষমতা বা প্রভাবের সুযোগ এলে বিএনপির কিছু নেতা নতুন নতুন আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে এবং দীর্ঘদিন মাঠে থাকা কর্মীদের বঞ্চিত করে। আমি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করিনি এবং কোনো নেতার কাছে বা প্রশাসনের কাছে ব্যক্তিগত কিংবা অন্যায় কোনো সুবিধা নেওয়ার জন্য যাইনি। তাই নিজের বিবেক, নীতি ও আদর্শের সঙ্গে আপোষ করে কোনো প্ল্যাটফর্মে থাকার চেয়ে সরে আসাকেই সঠিক সিদ্ধান্ত মনে করেছি। তিনি বলেন, প্ল্যাটফর্ম পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার সবসময় অটুট থাকবে।
রবিউল আউয়াল: নবীপ্রেমের আবেগ থেকে সুন্নাহর বাস্তব জীবনে
রবিউল আউয়াল: নবীপ্রেমের আবেগ থেকে সুন্নাহর বাস্তব জীবনে মোহাম্মদ হাসান ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। মুসলিম উম্মাহর কাছে এ মাসের তাৎপর্য অনন্য। কারণ, মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক, আল্লাহর প্রিয় হাবিব ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক অধ্যায় এ মাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে তাঁর জন্ম ও ইন্তেকালের স্মৃতি এ মাসকে মুসলিম হৃদয়ে গভীর আবেগ, ভালোবাসা ও আত্মজিজ্ঞাসার মাসে পরিণত করেছে। তবে রবিউল আউয়ালকে ঘিরে আবেগের পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান ও ভারসাম্য। এ মাসের নির্দিষ্ট কোনো দিনকে শরিয়ত স্বতন্ত্রভাবে বিশেষ ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করেছে—এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ কোরআন-সুন্নাহয় নেই। তাই এ মাসের মর্যাদা উপলব্ধি করতে গিয়ে যেমন অতিরঞ্জন পরিহার করতে হবে, তেমনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সুন্নাহ ও আদর্শ অনুসরণের অঙ্গীকারে রূপ দিতে হবে। রহমতের নবীর আগমন আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭) তিনি এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজসহ পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শিরক, কুসংস্কার, সামাজিক অবিচার, জুলুম ও নৈতিক অবক্ষয় গভীরভাবে বিস্তার লাভ করেছিল। মহানবী (সা.) মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আহ্বান করেছেন। শিরকের পরিবর্তে তাওহিদ, জুলুমের পরিবর্তে ন্যায়, অজ্ঞতার পরিবর্তে জ্ঞান এবং অনৈতিকতার পরিবর্তে তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর দাওয়াত শুধু একটি নির্দিষ্ট জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য ছিল না; বরং তা ছিল সমগ্র মানবজাতির জন্য। জন্মতারিখ নিয়ে মতভেদ, সোমবারের বিষয়টি নিশ্চিত রবিউল আউয়ালের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের স্মৃতি জড়িত থাকলেও তাঁর জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে সহিহ হাদিসের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তিনি সোমবার জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এ দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এ দিন আমার ওপর ওহি নাজিল হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২) এ হাদিস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—নবীজির জন্মের স্মরণ কেবল আবেগের বিষয় নয়; বরং তাঁর জীবনের শিক্ষা, তাঁর ইবাদত ও তাঁর সুন্নাহর সঙ্গে নিজেদের জীবনকে সম্পৃক্ত করার বিষয়। নবীপ্রেম ঈমানের দাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা একজন মুমিনের ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের মধ্য থেকে তাদেরই একজন রাসুল পাঠিয়েছেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৬৪) রাসুল (সা.)-এর আগমন ছিল মানবজাতির জন্য আল্লাহর এক মহান নিয়ামত। তাঁর প্রতি ভালোবাসা তাই কোনো সাময়িক আবেগ নয়; এটি ঈমানের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সত্যিকারের নবীপ্রেমের পরিচয় কী? নবীপ্রেম শুধু তাঁর নাম শুনে আবেগাপ্লুত হওয়া নয়, শুধু মুখে ভালোবাসার কথা বলা নয়, কিংবা শুধু নির্দিষ্ট সময়ে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করাও নয়। সত্যিকারের নবীপ্রেমের প্রমাণ হলো—তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, তাঁর সুন্নাহকে ভালোবাসা, তাঁর চরিত্র অনুসরণ করা এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর দেখানো পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আল-আহজাব, আয়াত: ২১) অতএব, নবীপ্রেমের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনেই। আমাদের পরিবারে আমরা কেমন? প্রতিবেশীর সঙ্গে আচরণ কেমন? ব্যবসায় সততা কতটুকু? দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষায় আমরা কতটা সচেতন? রাগের সময় আমরা কতটা সংযমী? ক্ষমা করার মানসিকতা কতটুকু? এসব প্রশ্নের উত্তরেই প্রতিফলিত হবে আমাদের নবীপ্রেমের বাস্তবতা। মহান চরিত্রের সর্বোত্তম আদর্শ রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ। আল্লাহ তাআলা তাঁর চরিত্রের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।’ (সুরা আল-কলম, আয়াত: ৪) তিনি ছিলেন সত্যবাদী, আমানতদার, দয়ালু, ক্ষমাশীল, বিনয়ী ও ন্যায়পরায়ণ। শত্রুর প্রতিও তিনি মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। এতিম, দরিদ্র, অসহায়, নারী, শিশু ও দুর্বল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা মানবসভ্যতার জন্য অনন্য শিক্ষা। আজ আমরা যদি তাঁর প্রতি ভালোবাসার দাবি করি, তাহলে আমাদের কথাবার্তা, আচরণ, লেনদেন, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক দায়িত্বে তাঁর আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। দরুদ ও সালামের মাধ্যমে নবীপ্রেমের প্রকাশ আল্লাহ তাআলা মুমিনদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠাও এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।’ (সুরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫৬) তাই রবিউল আউয়াল হোক বেশি বেশি দরুদ পাঠের উপলক্ষ। তবে দরুদ শুধু একটি মাসের আমল নয়; বরং একজন মুমিনের সারা জীবনের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী পড়তে হবে, তাঁর হাদিস জানতে হবে, তাঁর চরিত্র সম্পর্কে জানতে হবে এবং তাঁর সুন্নাহকে নিজের জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। রবিউল আউয়ালে আমাদের করণীয় রবিউল আউয়ালকে কেন্দ্র করে কোরআন-সুন্নাহয় প্রমাণিত নয়—এমন কোনো নির্দিষ্ট আমলকে শরিয়ত নির্ধারিত বিশেষ ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। বরং এ মাসকে আত্মশুদ্ধি, নবীজির জীবনচর্চা এবং সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকারের মাস হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। এ মাসে বিশেষভাবে— এক. বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করা। দুই. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী, হাদিস ও শামায়েল অধ্যয়ন করা। তিন. তাঁর সুন্নাহ সম্পর্কে জানা এবং বাস্তব জীবনে তা অনুসরণের চেষ্টা করা। চার. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা এবং ফরজ ইবাদতে যত্নবান হওয়া। পাঁচ. কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও নফল ইবাদত বৃদ্ধি করা। ছয়. সোমবার নফল রোজা রাখার সুন্নাহ পালনের চেষ্টা করা। সাত. সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও শিক্ষা সম্পর্কে জানানো। আট. সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, দয়া ও ন্যায়পরায়ণতার মতো নবীজির গুণাবলি নিজেদের জীবনে ধারণ করা। ভালোবাসা হোক জীবনের পরিবর্তনের শক্তি রবিউল আউয়াল আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আত্মজিজ্ঞাসা হাজির করে—আমরা কি সত্যিই রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ভালোবাসি? যদি ভালোবাসি, তাহলে তাঁর সুন্নাহ আমাদের জীবনে কতটা আছে? আমাদের নামাজে, ব্যবসায়, পারিবারিক সম্পর্কে, সামাজিক আচরণে, কথাবার্তায়, মানুষের অধিকার রক্ষায় এবং নৈতিকতার চর্চায় তাঁর আদর্শ কতটা প্রতিফলিত হচ্ছে? নবীপ্রেমের সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ হলো নিজের জীবনকে তাঁর আদর্শের আলোয় পরিবর্তন করা। কারণ ভালোবাসা শুধু অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ থাকলে তার পূর্ণতা আসে না; ভালোবাসা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের কর্ম ও চরিত্রে প্রকাশ পায়। রবিউল আউয়াল তাই শুধু স্মরণের মাস নয়—এটি আত্মশুদ্ধিরও আহ্বান। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীতে একজন মহান আদর্শ মানুষ এসেছিলেন, যাঁর জীবন ছিল মানবতার জন্য পথনির্দেশ। তাঁর জীবনকে জানার, তাঁর শিক্ষা বোঝার এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত কল্যাণ। আসুন, রবিউল আউয়ালকে সামনে রেখে আমরা একটি অঙ্গীকার করি—রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে শুধু মুখে ভালোবাসব না; বরং তাঁর সুন্নাহকে জীবনের পথ বানাব। তাঁর চরিত্র অনুসরণ করব, তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠ করব, তাঁর জীবন ও শিক্ষা অধ্যয়ন করব এবং পরিবার ও সমাজে তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব। কারণ সত্যিকারের নবীপ্রেম হলো—মুহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসা, তাঁর সুন্নাহকে ভালোবাসা এবং তাঁর দেখানো পথে জীবন পরিচালনা করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের তাওফিক এবং তাঁর আদর্শে জীবন গড়ার সামর্থ্য দান করুন। আমাদের দরুদ ও সালাম কবুল করুন এবং কিয়ামতের দিন তাঁর শাফায়াত নসিব করুন। আমিন। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব নাগরিক সমাজ
প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব নাগরিক সমাজ নিজস্ব প্রতিনিধি: রংপুরে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগে ভারী হয়ে উঠেছে স্থানীয় পরিবেশ। একটি পরিবারের চারটি প্রাণ অকালে ঝরে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজনদের আহাজারির পাশাপাশি গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বিবেকবান ও সচেতন নাগরিক সমাজকে। এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি পরিবারকে মুহূর্তের মধ্যে শূন্য করে দেওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারের বেদনা নয়—এটি মানবতা, নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের প্রতি এক কঠিন প্রশ্ন। প্রিয়জন হারানোর শোক কতটা অসহনীয়, তা কেবল স্বজনরাই অনুভব করতে পারেন। তাই এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি এখন মানুষের হৃদয়ের গভীর আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা নৃশংসভাবে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঘটনার পেছনে যে কারণই থাকুক না কেন, সত্য উদঘাটনের একমাত্র পথ হলো নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া। তাই কোনো ধরনের চাপ, প্রভাব কিংবা আবেগের কাছে নতি স্বীকার না করে ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে এবং ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, কোনোভাবেই যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে—এটাই এখন সাধারণ মানুষের প্রধান দাবি। তবে একই সঙ্গে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানি, মিথ্যা মামলা কিংবা অন্য কোনো ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করাও রাষ্ট্র ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কারণ একজন নিরপরাধের প্রতি অন্যায়ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। সচেতন মহলের মতে, গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের চারজনকে হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার শুধু একটি পরিবারের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে না; বরং সমাজে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করবে। অন্যদিকে বিচারহীনতা কিংবা অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে তা সমাজে অপরাধপ্রবণতা ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ অবস্থায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি স্থানীয় জনগণের আকুল আবেদন—ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হোক, সত্য উদঘাটন করা হোক এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। চারটি প্রাণের বিনিময়ে একটি পরিবারের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু স্বজনদের হৃদয়ের ক্ষত হয়তো কিছুটা প্রশমিত হতে পারে যদি তারা দেখতে পান—সত্যের জয় হয়েছে, অপরাধীরা আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সর্বস্তরের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—কোনো প্রভাব নয়, কোনো পক্ষপাত নয়; সত্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে হোক বিচার। প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের প্রতি রাষ্ট্র ও সমাজ ন্যায়বিচারের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করুক।
মহানবী (সা.) এর সার্বজনীন আদর্শ ও চারিত্রিক গুণাবলি। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
মহানবী (সা.) এর সার্বজনীন আদর্শ ও চারিত্রিক গুণাবলি। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ ব্যক্তি গোষ্ঠী সম্প্রদায় জাতিধর্ম নির্বিশেষে গোটা মানবজাতির জন্য প্রয়োগ যোগ্য সার্বজনীন উত্তম আদর্শ ও কল্যাণ নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করেছেন রাহমাতুললিল আলামীন মহানবী (সা.) তিনি ছিলেন সর্বোত্তম আদর্শ মহান আল্লাহ বলেন নি:সন্দেহে তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ-তার জন্য যে আল্লাহ ও আখিরাতকে কামনা করে থাকে এবং আল্লাহকে অনেক স্মরণ করে (সূরাহ আহযাব আয়াত নং-২১) ইসলামের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে মহানবী পৃথিবীতে আগমন করেছেন তাঁর বাণীর সার্বজনীনতার আওতায় মুমিনগণ তো বটেই এমনকি গোটা বিশ্ব জীব-জন্তু কীট-প্রতঙ্গ নিসর্গ জগত সকল মাখলুকাত কল্যাণ ও শান্তির আশ্বাস পায় প্রিয়নবী (সা.) সারা সৃষ্টি জগতের জন্য কল্যাণ ও শান্তির শ্রেষ্ঠ বার্তাবাহী বিশ্বজগতের জন্য রহমত এব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন আমি তো আপনাকে প্রেরণ করেছি বিশ্বজগতের জন্য রহমত সরুপ (সূরাহ আম্বিয়া আয়াত নং-১০৭) রাসূল (সা.) এর চরিত্র মাধুরী মুহাম্মদ (সা.) হলেন মহান চরিত্রের অধিকারী ও আদর্শের জীবন্ত প্রতীক জন্মের পর হতেই তার মাঝে বিরাজ করেছিলো সর্বোত্তম চরিত্র মাধুরী সর্বোত্তম আদর্শ মহৎ মানুষ ও সর্বোত্তম প্রতিবেশি ইত্যকার মহত্তম গুণাবলী বাল্যকাল থেকেই তার স্বভাব ছিল কলুষতা কাঠিন্য কর্কশতা ও অহংকার থেকে মুক্ত তিনি ছিলেন দয়াশীল শ্রদ্ধাশীল সহানুভূতিশীল ও ঔদার্যশীল এবং নিষ্কুলুস ও নির্ভেজাল মহামানব শৈশব থেকে মহানবী (সা.) সত্যবাদী ও ন্যায়নিষ্ঠ ছিলেন তাই আরবের সকলে মিলে তাঁকে আখ্যা দিয়েছিল আল আমীন। সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব মহানবী (সা.) এর উপর আল্লাহ তায়ালা কুরআন নাযিল করেন তাঁকে পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম উপহার দিয়ে বিশ্ববাসীকে ডেকে বলেছেন তার চরিত্রের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ। তাই ইসলাম ধর্ম হল আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সকল ধর্মের শেষ ধর্ম বিশ্ব ধর্মের সর্বশেষ সংস্করণ রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন তেমনি সর্বশেষ ঐশী বানীবাহক তাই দেখা যায় ইসলাম একমাত্র ধর্ম যেখানে সকল ধর্মের সুন্দরতম গুণ গুলোর পূর্ণতম বিকাশ সম্ভবপর হয়েছে আর মহানবী (সা.) এর চরিত্র বৈশিষ্ট ও সকল নবী রাসূলদের শ্রেষ্ঠ গুণাবলীর অভূর্তপূর্ব সমাবেশ ঘটেছে মহানবী (সা.) এর মধ্যে ছিল আদম (আ.) এর তত্তবা ও ক্রন্দন, নূহ (আ.) এর দাওয়াতী চরিত্র ও কষ্ট সহিষ্ণুতা, মুসা (আ.) এর সংগ্রামী জীবন ও পৌরুষন ইব্রাহীম (আ.) এর একত্ববাদ ত্যাগ ও কুরবানী ইসমাঈলের ছবর সত্যবাদীতা ও আত্মত্যাগ, হারুন (আ.) এর কোমলতা, দাউদ (আ.) এর যাদুময় সুমিষ্টকণ্ঠ, শুকর ও সাহসিকতা, সুলাইমানের রাষ্ট্র পরিচালনা বিচার জ্ঞান ও ঐশ্বর্য সালেহ (আ.) এর বিনীত প্রার্থনা ইয়াকুব (আ.) এর ধৈর্য, ইউছুফ (আ.) এর দৈহিক সৌন্দর্য চারিত্রিক মাধুর্য শুকর সবর ও সেনানায়কত্ব ইউনুছ (আ.) এর অনুশোচনা ও আফসোস যাকারিয়া (আ.) এর কঠোরশ্রম ইয়াহহিয়া এর সরলতা আইউব (আ.) এর কঠোর ধৈর্য যাকারিয়া ইলিয়াছ ও ঈসা (আ.) এর যুহদ বা দুনিয়া ত্যাগ ঈসা (আ.) এর দারিদ্রতা ও অমায়িকতা ইত্যাদি লাখ পয়গাম্বরের লাখ বৈশিষ্ট্যকে আল্লাহতায়ালা আখেরী রাসূলের আখলাকে হাছানার মধ্যে এইভাবে জমা করে দিয়েছেন। যেমন সকল নবী রাসূলের তামাম মহীফা ও কিতাব সমূহকে আখেরী নবীর উপর নাযিলকৃত কুরআনে মজীদের মধ্যে সন্নিবেশিত করে দিয়েছেন। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন ঐ সকল নবী রাসূলদের কে আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়ে ছেন। আপনি তাদেরই পথ অনুসরণ করেন। হিম্মত দৃঢ়তা সাহস ধৈর্য কৃতজ্ঞতা নির্ভরতা ভাগ্যের ওপর সন্তুষ্টি বিপদ সহ্য করা ত্যাগ অল্পে তুষ্টি স্বাবলম্বিতা কুরবানী দানশীলতা নম্রতা উন্নতি ও অনুন্নতি এবং ছোট ও বড় সব রকমের নৈতিক বৃত্তি সবগুলো একসাথে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট পাওয়া যেত। সকল বিষয়ে সঠিক মনোভাব ও পুর্ণাঙ্গ নৈতিকতার সমাবেশ দেখা যায় একমাত্র মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনে। সুতরাং যদি তুমি ধনী হয়ে থাক, তাহলে মক্কার ব্যবসায়ী ও বাহরাইনের অর্থশালী মুহাম্মদ (সা.) এর অনুগামী হও। যদি তুমি গরিব হয়ে থাক, তাহলে আবু তালেব গিরি সঙ্কটের কয়েদী ও মদীনার প্রবাসীর অবস্থা শ্রবণ কর। যদি তুমি বাদশাহ হয়ে থাক, তাহলে কুরাইশদের অধিপতি মুহাম্মাদ (সা.) কে এক নজর দেখ। যদি তুমি বিজয়ী হয়ে থাক, তাহলে বদর ও হুনাইনের সিপাহসালারের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ কর। যদি তুমি পরাজিত হয়ে থাক, তাহলে উহুদ যুদ্ধ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর। যদি তুমি শিক্ষক হয়ে থাক, তাহলে মদীনার সুফফার পরে শিক্ষালয়ের মহান শিক্ষকের প্রতি দৃষ্টিপাত কর। যদি তুমি ছাত্র হয়ে থাক, তাহলে জিবরাঈলের সম্মুখে উপবেশনকারীর দিকে তাকাও। যদি বক্তৃতা ও উপদেশ দানকারী হয়ে থাক, তাহলে মদীনার মসজিদে মিম্বরের উপর দন্ডায়মান মহান ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সা.)-এর কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুন। যদি তুমি নি:সঙ্গ ও অসহায় অবস্থায় সত্যের প্রতি আহবানকারীর দায়িত্ব পালন করতে চাও, তাহলে মক্কার সহায়-সম্বলহীন নবীর আদর্শ তোমার জন্য আলোকবর্তিকার কাজ করবে। যদি তুমি আল্লাহর অনুগ্রহে শত্রুদের পরাজিতও বিরোধীদের দূর্বল করতে সক্ষম হয়ে থাক, তাহলে মক্কা বিজয়ী মুহাম্মদ (সা.) এর ক্ষমার আদর্শ অনুসরণ কর। যদি তুমি নিজের কারবার এবং পার্থিব বিষয়াবলীর ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে চাও, তাহলে বনী নাযীর খায়বার ও ফিদাকের ভু-সম্পত্তির মালিক মুহাম্মদ (সা.)-এর কাজ কারবার ও ব্যবস্থাপনা দেখ। যদি তুমি এতিম হয়ে থাক, তাহলে মক্কার আবদুল্লাহ ও আমিনার কলিজার টুকরাকে ভুল না। যদি শিশু হয়ে থাক, তাহলে হালিমা সাঈদার আদরের দুলালকে দেখ। যদি যুবক হয়ে থাক, তাহলে মক্কার মেষ পালকের জীবনী পাঠ কর। যদি ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী হয়ে থাক, তাহলে বসরা সফরকারী দলের অধিনায়কের দৃষ্টান্ত অনুসরণ কর। যদি আদালতের বিচারক ও পঞ্চায়েতের বিবাদ মীমাংসাকারী হয়ে থাক, তাহলে কাবা গৃহে সূর্যকিরণ প্রবেশের পূর্বে প্রবেশকারী এবং ‘হাজরে আসওয়াদকে’ পূন: স্থাপনজনিত বিবাদ মীমাংসাকারীকে দেখ। মদীনার কাঁচা মসজিদের বারান্দায় উপবেশনকারী বিচারকের দিকে নজর কর, যাঁর দৃষ্টিতে বাদশাহ্ ফকীর, আমীর-গরীব সব সমান ছিল। যদি তুমি স্বামী হয়ে থাক তাহলে খাদিজা (রা:) ও আয়শার (রা:) মহান স্বামীর পবিত্র জীবন অধ্যায়ন কর। যদি তুমি সন্তানের পিতা হয়ে থাক, তাহলে ফাতেমার পিতা এবং হাসান হুসাইনের নানার অবস্থা জিজ্ঞেস কর। বস্তুত তুমি যাই হও না কেন এবং যে অবস্থায় থাক না কেন, তোমার জীবনের জন্য আদর্শ, তোমার চরিত্র সংশোধনের উপকরণ, তোমার অন্ধকার গৃহের জন্য আলোক বর্তিকা ও পথ নির্দেশক মুহাম্মাদ (সা.)। তাই ঈমানী আলোক বর্তিকার অনুসন্ধানরত প্রতিটি মানুষের জন্য একমাত্র মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনই হিদায়াতের উৎস ও নাজাতের মাধ্যম। রাসূলের চারিত্রিক গুণাবলী : মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনে মাজীদে বলেন, হে নবী আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহবায়ক রূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে প্রেরণ করেছি। (সূরাহ আহযাব, আয়াত নং-৪৫-৪৬) উপরোল্লিখিত আয়াতদ্বয়ে মহান আল্লাহ রাসূল (সা.) কে প্রেরণের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি রাসূলুল্লাহর বিশেষ গুণাবলী, উল্লেখ করেছেন। এখানে রাসূলের পাঁচটি গুণ বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম গুণটি হল স্বাক্ষীদাতা। তিনি কিয়ামতের দিন উম্মতের জন্য সাক্ষ্য প্রদান করবেন। আয়াতে বর্ণিত দ্বিতীয় গুণটি হচ্ছে, তিনি সুসংবাদ প্রদানকারী। তিনি দ্বীয় উম্মতের মধ্য থেকে সৎ ও শরীয়ত অনুসারী ব্যক্তি বর্গকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন। আয়াতে বর্ণিত তৃতীয় গুণটি হচ্ছে, সর্তককারী বা ভীতিপ্রদর্শনকারী। তিনি অবাধ্য ও নাফরমান ব্যক্তিবর্গকে পরকালের আযাব ও জাহান্নামের ভয় প্রদর্শন করেন। আয়াতে বর্ণিত চতুর্থ গুণ হচ্ছে, আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী স্বীয় উম্মতকে আল্লাহ পাকের সত্তা ও অস্তিত্ব এবং তাঁর আনুগত্যের প্রতি আহবান করবেন। তিনি মানব মন্ডলীকে আল্লাহপাকের দিকে তাঁর অনুমতি সাপেক্ষেই আহবান করেন। এ শর্তের সংযোজন ইঙ্গিত করে যে, তাবলীগ ও দাওয়াতের কাজ অত্যন্ত কঠিন, যা আল্লাহর অনুমতি ও সাহায্য ব্যতীত মানুষের সাধ্যের বাইরে। উক্ত আয়াতে পঞ্চম গুণ হচ্ছে, তিনি ছিলেন জ্যোতিষ্মান প্রদীপ বিশেষ। জাবির ইবনে সামুরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে নামায আদায় করতাম। তাঁর নামায ছিল মধ্যম এবং খুতবা ও ছিল মধ্যম। (মুসলিম) আবু কাতাদাহ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি নামায পড়তে আসি এবং ইচ্ছা করি দীর্ঘ নামায পড়বো। কিন্তু যখন কোন শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনি, তখন নামায সংক্ষিপ্ত করে ফেলি। কেননা এটা আমি পছন্দ করিনা যে, কোন শিশুর মা কষ্ট পাক। (সহীহ বুখারী) হযরত যিয়াদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মুগিরা (রা.) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাহাজ্জুদ নামাযে এত অধিক সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তাঁর উভয় পা অথবা গোড়ালী ফুলে যেত। এজন্য লোকেরা যখন বলাবলি করতো, আল্লাহর নবীর এতো কষ্ট করার প্রয়োজন কী? তখন নবী তাদেরকে বলতেন, আমি কি আল্লাহর কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? (সহীহ বুখারী) হযরত আয়শা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ যখন জনগণকে কোন কাজের নির্দেশ দিতেন, তখন এমন কাজের নির্দ্দেশই দিতেন, যা তারা করতে পারতো। (সহীহ বুখারী) জনৈক সাহাবী আম্মাজান আয়শা (রা.) কে জিজ্ঞাসা করেন, রাসূলুল্লাহর চরিত্র কেমন? আয়শা (রা.) বলেন, পবিত্র কুরআনই মহানবী (সা.)-এর চরিত্র। অর্থাৎ কালজয়ী আল কুরআনের অসাধারণ নৈপুন্য ও আদর্শ সম্বলিত দৃষ্টি ভঙ্গিই সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রিসালতকে বিশ্বাস করা ফরয, তাঁকে মহব্বত করা ফরয, তাঁর সুন্নাতের অনুসরণ করা ফরয। মহানবী (সা.) কুরআন ও সুন্নাত ইসলামের দুটি বস্তু আমাদের নিকট আমানত রেখে গেছেন। এদুটি আকড়িয়ে ধরলে আমরা কখন ও পথ ভ্রষ্ট হবো না। কুরআন হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার কালজয়ী বিধানাবলী ও নির্দেশাবলী। আর সুন্নাতের পারিভার্ষিক অর্থ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ আল্লাহ তায়ালার নির্দেশাবলীকে কার্যকরী করতে গিয়ে যে পথের উপর দিয়ে অগ্রসর হয়েছেন সে পথ। মোট কথা একজন মুসলমানের সাফল্য ও আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার জন্য যে দুটি বস্তুু প্রয়োজন তাহল কুরআন ও সুন্নাত। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কতিপয় চরিত্রের বর্ণনা নিম্নে প্রদান করা হলো : (১) তাকওয়া ও আল্লাহভীতি : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবার চেয়ে বেশী তাকওয়া অবলম্বনকারী ছিলেন। তিনি গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশী ভয় করতেন। হযরত আয়িশা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (বিশেষ লোকদেরকে উদ্দেশ্য করে) বলেন আল্লাহ সম্পর্কে আমি তাদের চেয়ে বেশী অবগত এবং আল্লাহকে আমি তাদের চেয়ে বেশী ভয় করি।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৭৫০) নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় রবের পূর্ণ অনুগত ছিলেন। তিনি পরিপূর্ণভাবে মহান আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে চলতেন। তিনি আমলে সালেহ বেশী আদায় করতেন। হযরত আশিয়া (রা.) নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থার বিবরণ দিয়ে বলেন নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল ছিল ধারাবাহিক। তিনি যা পারতেন, তোমাদের কেউ কি তা পারবে? তিনি সিয়াম পালন করতেন যে, আমরা বলতাম তিনি-এর ধারাবাহিকতা আর পরিত্যাগ করবেন না। আবার তিনি সিয়াম পালন বাদ দিতেন এমন যে, আমরা বলতাম, তিনি আর সিয়াম পালন করবেন না। তুমি তাঁকে রাত্রে নামাযরত অবস্থায় দেখতে না চাইলেও নামাযরত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পাবে। তুমি তাঁকে রাত্রে ঘুমন্তাবস্থায় দেখতে না চাইলেও ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে দেখতে পাবে। (জামি তিরমিযী, হাদীস নং-৭০০) হযরত আউফ বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একরাতে রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি মিসওয়াক করলেন। অত:পর উজু করলেন। এরপর দাঁড়িয়ে নামায আরম্ভ করলেন। আমিও তার সাথে নামাযে দাঁড়ালাম। তিনি সূরাহ বাকারা পড়া শুরু করলেন। তিনি রহমত সংক্রান্ত আয়াত এলেই থামলেন আর তা আল্লাহর নিকট চাইলেন এবং আজাব সম্পর্কিত আয়াত এলেই থামলেন আর তা থেকে পানাহ চাইলেন। অত:পর দাঁড়ানোর পরিমাণ রুকুতে অবস্থান করলেন এবং দু’আ পড়লেন। অত:পর সিজদা করলেন এবং অনুরূপ দু‘আ পড়লেন। এরপর (পরবর্তী রাক’আতে) সূরাহ আলে ইমরান পড়লেন। অত:পর একেকটি সূরাহ পড়লেন থেমে থেমে। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১১২০) হযরত আশিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় করতেন, দাঁড়িয়ে আদায় করতেন, এমনকি তাঁর উভয় পা ফুলে যেত। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কেন আপনি এমন করছেন, অথচ আপনার পূর্বের ও পশ্চাতের সমপ্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে? জওয়াবে তিনি বললেন, হে আয়েশা! আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হবো না? (মুসনাদে আহমাদ, হা. : ২৩৭০০) (২) দানশীলতা ও বদান্যতা : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দানশীলতা, উদারতা ও বদান্যতায় ছিলেন সর্বোচ্চ উদাহরণ। হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু চাওয়া হলে তিনি ‘না বলতেন না। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৩১১) হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট কিছু চাওয়া হলে তিনি দিয়ে দিতেন। আজকে এই পর্যন্ত সংকিপ্ত আকারে আলোচনা করলাম, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন যেন উপরিউক্ত আলোচনার প্রতি আমল করার তাওফিক দান করেন আমীন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে সুসংবাদ!
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে সুসংবাদ! বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য স্বল্প সময়ের মেন্টর হতে আগ্রহ দেখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার এবিডি ভিলিয়ার্স। সম্প্রতি নিজের ইউটিউবে বাংলাদেশের কোচ হওয়ার প্রসঙ্গে প্রোটিয়া লিজেন্ড ক্রিকেটার ডিভিলিয়ার্স জানান, এই মুহুর্তে কোচ হবার মতো চিন্তাভাবনা করছেন না তিনি। তবে, কিছুদিনের জন্য দলের মেন্টর হতে বা ব্যাটসম্যানদের সাথে কিছুদিন কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিসিবি যদি ডিভিলিয়ার্সকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে কাজে লাগাতে পারে, তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য হবে সেরা সুযোগ। পুরো বিশ্বের বিভিন্ন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা, ব্যাটিংয়ে হিটিং এবিলিটি বাড়াতে এবং স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ম্যাচ জয়ের টোটকা তিনি ক্রিকেটারদের সাথে শেয়ার করবেন। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের দারুণ এক সম্ভাবনার কথা বলে।
ক্যাম্পাস বিনির্মাণে নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের শিক্ষার্থীবান্ধব ৬ প্রস্তাব
ক্যাম্পাস বিনির্মাণে নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের শিক্ষার্থীবান্ধব ৬ প্রস্তাব মোঃ জাহিদ হাসান নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, নোবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দ। আলোচনায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। আলোচনায় পকেট গেইট সার্বক্ষণিক খোলা রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে ৩৬০ ডিগ্রি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কারের ভাড়া ৫ টাকায় নামিয়ে আনা, ব্যাকলগ ও ইমপ্রুভমেন্টের নিয়ম পুনর্বিবেচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহন বন্ধ এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বাসগুলো দ্রুত মেরামত করে পরিবহন বহরে যুক্ত করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। ইমপ্রুভমেন্টের ক্ষেত্রে সিজিপিএ ৩.০০-এর নিচে থাকা শিক্ষার্থীদের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাকলগের বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানানো হয়। আলোচনায় নোবিপ্রবি ছাত্রদল নেতা সাব্বির হোসেন শান্ত, শাখাওয়াত সায়েম, সাখাওয়াত হোসেন, খায়রুল আমান শাওন ও আনিসুর রহমান সিফাতসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আরও শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ করে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।
কালীগঞ্জ উপজেলা দন্ত চিকিৎসা কল্যাণ সমিতি গঠন
কালীগঞ্জ উপজেলা দন্ত চিকিৎসা কল্যাণ সমিতি গঠন একরামুল ইসলাম তুষার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা দন্ত চিকিৎসা কল্যাণ সমিতির কমিটি গঠন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আমিনুর রহমান আমিনের সভাপতিত্বে দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের ভূষণ রোডের লাক্সারি ডাইন রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেনঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক প্যানেল মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হামিদুল ইসলাম হামিদ। তিনি বলেন, - প্রাথমিক দন্ত চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন ও সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রোগীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদের দক্ষতা ও পেশাগত মানোন্নয়নে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ভিপি ইসরাইল হোসেন জীবন, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা সদস্য রেজাউল ইসলাম, হিউম্যান রাইটস ভয়েসের কালীগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বাবু ও কালীগঞ্জ পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দন্ত চিকিৎসক রতন কুমার বিশ্বাস। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দন্ত চিকিৎসক ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হামিদ আগামী দুই বছরের জন্য ৩১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। এতে আমিন ডেন্টালের দন্ত চিকিৎসক আমিনুর রহমান আমিন সভাপতি, মেহেনাজ ডেন্টালের দন্ত চিকিৎসক কাজী রাশেদ সাধারণ সম্পাদক এবং ফারিয়া ডেন্টাল কেয়ারের দন্ত চিকিৎসক বাদশা ফয়সাল আহমেদ সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। সহ-সভাপতি ফিরোজ ডেন্টালের ফিরোজুর রহমান ফিরোজ, প্রদীপ কুমার বিশ্বাস ও মোদাচ্ছের হোসেন। সহ-সাধারণ সম্পাদক, আরিফুর রহমান সুমন ও রতন মণ্ডল। কোষাধ্যক্ষ, আনারুল ইসলাম এবং প্রচার সম্পাদক পদে সুবীর বিশ্বাসসহ অন্যান্য সদস্যরা দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে, হামিদুল ইসলাম হামিদ। সহকারী উপদেষ্টা, মাহবুবুর রহমান মিলন, ইসরাইল হোসেন জীবন, রেজাউল ইসলাম ও মেহেদী হাসান বাবু। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দুই বছরের মেয়াদে সমিতির কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত সদস্য ও অতিথিরা।
সাতক্ষীরা দেবহাটায় শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন ও গণমিছিল
সাতক্ষীরা দেবহাটায় শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন ও গণমিছিল শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার দেবহাটায় শ্মশানের জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন ও গণমিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্ত করা হয়েছে সুবর্ণাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদেষের জগদীশ সরকারকে। হাতে প্রতিবাদী ব্যানার, মুখে স্লোগান। এভাবেই দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ এলাকায় মানববন্ধন ও গণমিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সুবর্ণাবাদ মহাশ্মশানের দাহ্য কাঠ রাখার স্থান ও শ্মশানের জমি দখল করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি তাদের। “আমাদের শ্মশানের জায়গা দখলমুক্ত করে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।” মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত করে শ্মশানের জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানান। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদেষের জগদীশ সরকারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। “স্থানীয়দের দাবি, শ্মশানের নির্ধারিত স্থান দ্রুত দখলমুক্ত করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করুক প্রশাসন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।” এসময় বক্তব্য দেন দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সবুজ, উপজেলা হিন্দু বৈদ্য খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চন্দ্র কান্ত মল্লিক, স্থানীয় ইউপি সদস্য বিধান চন্দ্র, মহাশ্মশানের সহ সভাপতি পরিতোষ গোলদার, কোষাধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি হালদার, স্বপ্না মল্লিক, রেনুকা হালদার প্রমুখ।