বাংলাদেশ বার্তা টুডে
শাহজাহান সিদ্দিককে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করলেন গংগাচড়ার শিক্ষকরা
শাহজাহান সিদ্দিককে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করলেন গংগাচড়ার শিক্ষকরা রফিকুল ইসলাম সাবুল রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের শূন্য পদে জনাব শাহজাহান সিদ্দিক যোগদান করায় তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন গংগাচড়া উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। যোগদান উপলক্ষে নবনিযুক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান সিদ্দিককে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেন গংগাচড়া উপজেলা শিক্ষকবৃন্দ। এ সময় শিক্ষকরা তাঁর সফলতা ও দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় গংগাচড়া উপজেলা শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চান, স্বপন, মোরশেদুল হকসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকরা আশা প্রকাশ করেন, শাহজাহান সিদ্দিকের দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে রংপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। পরে শিক্ষকবৃন্দ নবনিযুক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহজাহান সিদ্দিকের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দায়িত্ব পালনে সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.)’র জসনে জুলুস
কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী (সা.)’র জসনে জুলুস আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশ আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাত, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফ, বাংলাদেশ হিজবুর রাসুল (সাঃ) ও ইসলামী ছাত্রসেনা উপজেলার যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য পবিত্র জসনে জুলুস অনুষ্টিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খানকা ও মসজিদ থেকে আসা শত শত সুন্নী জনতা স্থাণীয় সোমবাজার ঈদগাহ্ মাঠে উপস্থিত হয়। পরে বাংলাদেশ আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাত উপজেলা সভাপতি মাওলানা মোঃ আল-আমিন দেওয়ান আল-আবিদী, বাংলাদেশ হিজবুর রাসুল (সাঃ) সভাপতি আলহাজ্ব দেওয়ান শফিউদ্দিন আহমাদ, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ রেজাউল করিম ভূইয়া, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ উপজেলা সভাপতি আবু তাহের খান মোঃ আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন এর নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য জশনে জুলুছ উপজেলার বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এর তাৎপর্য ও গুরুত্ব” শীর্ষক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। বাংলাদেশ আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাত উপজেলা সভাপতি মাওলানা মোঃ আল-আমিন দেওয়ান আল-আবিদীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী হোসেন ভূইয়ার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, তুমলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ সিরাজ উদ্দিন, সোমবাজার ঐতিহাসিক ৫০তম সুন্নী মহাসম্মেলন কমিটির সভাপতি মোঃ আরব আলী, শাজাহানপুর রেলওয়ে হাফিজীয়া সুন্নীয়া আলীয়া মাদ্রাসার সাবেক প্রভাষক মাওলানা মোঃ মাকসুদুল হাসান, বাংলাদেশ আহলে ছুন্নাত ওয়াল জামাত উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ আওলাদ হোসেন, অর্থ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শায়ের মো. আনিছুর রহমান, ইসলামিক যুব ফ্রন্ট বাংলাদেশ জেলা আহবায়ক শাকিল আহমেদ দরাই, ইসলামী ছাত্রসেনা সাবেক উপজেলা সভাপতি মাওলানা হাফেজ মো. আল-মামুন প্রমূখ। বক্তাগণ বলেন, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মানবতার মুক্তির দূত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শুভ আগমন করেন। মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য নিহিত রয়েছে অফুরন্ত কল্যাণ ও সফলতা। পরিশেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও মুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন দরবার শরীফের আশেকান, ভক্ত ও মুরিদান সহ সুন্নী মতাদর্শের তরিকত পন্থী শত শত সুন্নী জনতা উপস্থিত ছিলেন।
এনজিও'র অন্তরালে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার এবং অনৈতিক কাজের অভিযোগ
এনজিও'র অন্তরালে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার এবং অনৈতিক কাজের অভিযোগ গাইবান্ধা সদর উপজেলার রিফায়েতপুর বাদিয়াখালিতে মৃত আঃ লথিব(লতু সেখ) এর ছেলে ওমর ফারুক ২০০৮ সালে সমাজ সেবার নিবন্ধন নিয়ে নিবন্ধন নং ১২৪৬ এবং ২০১৩ সালে এনজিও ব্যুরোর নিবন্ধন নিয়ে নিবন্ধন নং ২৭৬৮ নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলে বেকার শিক্ষিত যুবক দের টার্গেট করে পঞ্চাশ হাজার থেকে দুলাখ টাকার বিনিময়ে (যা জামানত বলে) উচ্চ বেতনে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাইবান্ধা সহ কুড়িগ্রাম, রংপর,বগুড়া, সিরাজগঞ্জ,পাবনা,জামালপুর জেলার কমপক্ষে এক থেকে দেড় হাজার বেকার যুবকদের নিকট কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীদের সুত্রে জানাযায়, সে বিশেষ করে ২০২৩ সালে একটি ভারায় হেলিকপ্টার নিয়ে ঢাকা থেকে কয়েকজন ভারাটে ব্যক্তিকে নিয়ে বাদিয়াখালি হাই স্কুল মাঠে নেমে পাশে থাকা তার অফিসে সবার সঙ্গে দাতা সংস্থার লোক বলেন।তারা সরেজমিনে দেখে ৮০০ কোটি টাকার চেক দেন বলে সকলে জানান এবং কয়েক দিনের মধ্যে আরো এক হাজার কোটি টাকা চেক প্রদান করবে বলে জানান। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক অনেক বেকার যুবকের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে তার অফিসের কিচ্ছু চাটুকার লোক দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ আসছে। কুড়িগ্রামের আলিফ, মফফিজুল,শাহীন ইবনে ওয়াহাব,রবিউল হক, গাইবান্ধা কুপতলার বিপুল মিয়া, আজিজুর, আমিনুল ইসলাম, বিজয়,বাবু মিয়া,নাজমুল, সোহেল সহ বিভিন্ন জেলার ভুক্তভোগীরা জানান, নির্বহী পরিচালক ওমর ফারুক তাদের পোস্ট অনুযায়ী, পঞ্চাশ হাজার থেকে দুই লক্ষ টাকা জামানত নিয়ে নিয়োগপত্র প্রদানের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম, বগুড়া সিরাজগঞ্জ সহ কয়েকটি জেলায় রুম নিয়ে জাঁকজমক ভাবে প্রথম দিন অভিস উদ্বোধন করে দিয়ে আসতেন। অফিস উদ্বোধনের মাস পেরিয়ে গেলে কোন কাজ না থাকায় এবং বেতন না পাওয়ায় ভুক্তভোগীরা হেড অফিসে চলে আসলে তাদের নানা অজুহাত দেখিয়ে চেক পেয়েছে আইনি জটিলতার কারনে টাকা ছাড় পাচ্ছেনা এমন টা বলে চাটুকার কয়েকজন কর্মকর্তা রেখে সবাই কে কদিন এর জন্য অপেক্ষা করতে বলে বাড়ি যেতে বলেন। মাস বছর অপেক্ষার প্রহর পেড়িয়ে গেলেও কোন যোগাযোগ আজ অবধি পাননি। অনেকে চাপ প্রয়োগ করে তিনশত টাকার স্টাম্পে টাকা ফেরত দেয়ার চুক্তিপত্র করে দিয়েও সময় পেরিয়ে গেলেও তার অজুহাত শেষ হচ্ছেনা। উল্লেখ্য স্থানীয় লোকজন একটু কিছু বলতে গেলেও প্লাস্টিকের কয়েকটি ভাঙ্গা চেয়ার এক জায়গায় রেখে মিথ্যা চাঁদার দাবিতে মিথ্যা হামলা করার অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী অনেকেই অভিযোগ করেও আইনি প্রতিকার পাচ্ছেনা। তাই তারা সমাজ সেবা অধিদপ্তর, উপজেলা এবং জেলা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংস্থার নিবন্ধন বাতিল ভুক্তভোগীদের টাকা উদ্ধার সহ ওমর ফারুক সহ তার চাটুকার সহযোগীদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান
পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ
পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ রফিকুল ইসলাম সাবুল রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবগঠিত এডহক কমিটি গঠনে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও কয়েকজন অভিভাবক নবগঠিত এডহক কমিটি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনার একপর্যায়ে নবগঠিত কমিটির সভাপতি আব্দুল গনি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত বিএনপি নেতৃবৃন্দ। পরে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ মো. মাসুদ রানা, দলীয় নেতৃবৃন্দ ও অভিভাবকরা অধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে প্রতিষ্ঠানের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে সভা করেন। সভায় শাহ মো. মাসুদ রানা অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই গোপনে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে এ কমিটি গঠন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বক্তারা বলেন, গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কমিটি না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে সমস্যা সমাধানে এডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই নির্দেশনার সুযোগ নিয়ে পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসে এডহক কমিটি গঠনের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হলে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি জানা যায়। এরপর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও অভিভাবকরা নবগঠিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে গঠনপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তারা দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে নবগঠিত কমিটি বাতিল করে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সকলের সম্মতিক্রমে নতুন এডহক কমিটি গঠনের দাবি জানান। সভায় ২ নম্বর হরিদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রাসেল বলেন, দ্রুত দাবি মেনে নেওয়া না হলে জোরালো আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হারুনুর রশিদ, ২ নম্বর হরিদেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সুরুজ, যুবদল নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ীই নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুল গনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
পাঁচবিবিতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
মোস্তাকিন হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বোরো ধান চাষের উপকরণ—সার ও কীটনাশক সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাশপিয়া তাসরিন। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ ছাড়া আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে সার ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ যাতে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও যথাযথভাবে বিতরণ করা হয়, সে বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন পপি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাসান আলী, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম, পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তামবিরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ কুমার পাল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম ডালিম,কড়িয়া ও আটাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম সামছুল আরেফিন আবু চৌধুরী, উপজেলা জামায়াতের আমির সুজাউল করিমসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সতর্কবার্তা কোথায় হারাল? হিমালয়ের জলপ্রলয়ে ১৬৫ মৃত্যু, নিখোঁজ ৮২৬
সতর্কবার্তা কোথায় হারাল? হিমালয়ের জলপ্রলয়ে ১৬৫ মৃত্যু, নিখোঁজ ৮২৬ তিব্বত থেকে হঠাৎ নেমে আসে বরফ-পাথর ও পানির ঢল; ১৯ সেতু, প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ধ্বংস—৬ লাখের বেশি SMS সতর্কবার্তা পাঠালেও প্রশ্ন রয়ে গেছে সময় নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধি, সঞ্জয় মজুমদার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ও বরফ-পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ জনে। সর্বশেষ সরকারি হিসাবে ৮২৬ জন এখনো নিখোঁজ এবং ৭৩ জন আহত। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৭৯ জন পর্যটক; তাঁদের ৪৬৬ জন বিদেশি। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রায় ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ পর্যন্ত বলা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিপর্যয়ের কেন্দ্র নেপালের রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদী। তিব্বতের দিকে নদীর প্রবাহে বরফ-পাথরের ধস ও অস্থায়ী বাধা তৈরি হওয়ার পর হঠাৎ বিপুল পানি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্রোত ভোটেকোশি থেকে ত্রিশূলী হয়ে নারায়ণী নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক প্রযুক্তিগত হিসাবে শুধু দেবঘাট এলাকা দিয়ে প্রায় ২ কোটি ঘনমিটার অতিরিক্ত পানি প্রবাহিত হয়েছে। এখানেই দুর্যোগের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নেপালের Flood Forecasting Division-এর প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল ৯:০৫টায় তিব্বত দিক থেকে বড় ঢল ভোটেকোশিতে প্রবেশের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর ৯:১৫–৯:১৬টার মধ্যে রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ানের নদীতীরবর্তী এলাকায় ৬ লাখের বেশি SMS সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু এর আগেই গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যবেক্ষণ স্টেশন নীরব হয়ে যায়। সকাল ৮:৫০টায় Syabrubesi-এর স্বয়ংক্রিয় পানি-পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ডেটা পাঠানো বন্ধ করে দেয়। শেষ রিডিং ছিল ১.৬২ মিটার। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে তিব্বত থেকে ভয়াবহ ঢলের তথ্য আসে। ৯:২০টায় Betrawati পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও ডেটা পাঠানো বন্ধ করে। অর্থাৎ সমস্যা শুধু সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নয়। বড় প্রশ্ন—বিপদ শনাক্ত হওয়া, তথ্য সীমান্ত পেরিয়ে আসা এবং মানুষের কাছে সতর্কতা পৌঁছানোর মধ্যে কতটা কার্যকর সময় ছিল? বন্যায় অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ধ্বংস হয়েছে। নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমান্তমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিমুরে ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, পানি ও কাদার স্রোত মুহূর্তের মধ্যে বাজার ও যানবাহন ভাসিয়ে নেয়। সীমান্ত এলাকায় থাকা শত শত যানবাহনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নেপালের সরকারি হিসাবে নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে ৫৭৯ জন পর্যটক। তাঁদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি। ভারতীয়, মার্কিন, ইউক্রেনীয়, অস্ট্রেলীয় ও ব্রিটিশ নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন। অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবরের পথে ছিলেন। তিব্বতের গিরং এলাকাতেও ৫৫৮ জন নিখোঁজ এবং তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। ফলে দুই অঞ্চল মিলিয়ে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। নেপালের সরকারি হিসাবে ৭৩ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর হাজারো সদস্য অংশ নিচ্ছেন। হেলিকপ্টারে দুর্গম এলাকায় খাবার, চিকিৎসা সামগ্রী ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে। নদীর তীর, ধ্বংসস্তূপ ও নিম্নাঞ্চলে নিখোঁজদের সন্ধান চলছে। বন্যার আগে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছিল। প্রথমে সেটিকেই সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে ভূমিকম্পকে মূল ট্রিগার হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি। স্যাটেলাইট ও ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে বরং বরফ-পাথরের বিশাল ধস এবং নদীর প্রবাহে অস্থায়ী বাধা তৈরির বিষয়টি সামনে এসেছে। এই দুর্যোগ দেখিয়ে দিল, পাহাড়ি আকস্মিক বন্যায় কয়েক মিনিটের সতর্কতাও জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করতে পারে। নেপাল সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে—এটি সরকারি তথ্যেই স্পষ্ট। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ স্টেশনগুলো কেন বিপর্যয়ের ঠিক আগে ডেটা হারাল, তিব্বত থেকে তথ্য কত দ্রুত এলো এবং স্থানীয় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার মতো সময় আদৌ ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি মেলেনি। এ কারণেই নেপাল-তিব্বত সীমান্তের এই বিপর্যয় শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর নয়। এটি সীমান্তপারের তথ্য আদান-প্রদান, আগাম সতর্কীকরণ প্রযুক্তি, পর্যটন নিরাপত্তা এবং হিমালয় অঞ্চলের দুর্যোগ প্রস্তুতির বড় পরীক্ষা। সর্বশেষ সরকারি চিত্র: মৃত — ১৬৫ | নিখোঁজ — ৮২৬ | আহত — ৭৩ | নিখোঁজ পর্যটক — ৫৭৯ | বিদেশি নিখোঁজ পর্যটক — ৪৬৬ | ধ্বংস সেতু — ১৯ | ধ্বংস সড়ক — প্রায় ৪০ কিলোমিটার। মূল অনুসন্ধানী প্রশ্ন একটাই—সতর্কবার্তা কি দেওয়া হয়েছিল, নাকি মানুষের কাছে পৌঁছানোর আগেই হিমালয়ের জলপ্রলয় তাদের ঘিরে ফেলেছিল?
মাছ ধরতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ভ্যানচালক সালাউদ্দিন; মরদেহ উদ্ধার
মাছ ধরতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ভ্যানচালক সালাউদ্দিন; মরদেহ উদ্ধার সবুজ অরণ্য (বোয়ালখালী) চট্টগ্রাম প্রতিনিধি-ঃ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ছন্দারিয়া খাল থেকে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সাহানু (৩৮) নামে এক ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরখিদিরপুর এলাকার ছন্দারিয়া খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সালাউদ্দিন চরখিদিরপুর নবাব আলী চৌধুরী বাড়ির মৃত দেলা মিয়ার ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। গত বছর দেশে ফিরে এলাকায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। পাশাপাশি বাড়ির পাশের খালে প্রায়ই মাছ ধরতেন তিনি। নিহতের স্ত্রী জোস্না আক্তার জানান, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাছ ধরার জন্য ছন্দারিয়া খালের দিকে বের হন সালাউদ্দিন। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। সকালে স্থানীয়রা খালের ভাঙন ঠেকাতে বসানো ব্লকের ওপর তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
মাগুরায় চুরির রহস্য উদঘাটন, ২ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ১১ লক্ষ টাকা ও মোটরসাইকেল
মাগুরায় চুরির রহস্য উদঘাটন, ২ জন গ্রেফতার, উদ্ধার ১১ লক্ষ টাকা ও মোটরসাইকেল আব্দুর রশিদ মোল্লা, মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের অভিযানে চুরির রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ১১ লাখ ১০ হাজার ৫৩০ টাকা, ২টি মোবাইল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ২৫.০৮.২০২৬ খ্রি: সকাল ৯টা থেকে ১০টার দিকে মাগুরা সদর থানাধীন এমআর রোডে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে ট্রাইকন এন্টারপ্রাইজের অফিসে এক ব্যক্তি মুখে মাস্ক পরে প্রবেশ করে অফিসের ড্রয়ার থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, পিপিএম-সেবা এর নির্দেশে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল হাসানের তত্ত্বাবধানে সিসিআইসি ও এসআই অজয় দাসের নেতৃত্বে বিভিন্ন স্থানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোর চক্রকে শনাক্ত করা হয়। এরপর ২৭.০৮.২০২৬ খ্রি: রাত ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে চুরির মূল পরিকল্পনাকারী মো: বান্নী হাসান (২৬) পিতা- তারিকুল শেখ, মাতা- শারমিন বেগম এবং চোর চক্রের অপর সদস্য মো: আসিফ শেখ (২০) পিতা- কওসার শেখ, মাতা- সেলিনা বেগম, উভয়ের ঠিকানা: গ্রাম- চর গোয়ালপাড়া, পো: শ্রীপুর, থানা- শ্রীপুর, জেলা- মাগুরা কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চুরি সংক্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার ও বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। চুরির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। মাগুরা জেলা পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনগণকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
মোংলা বন্দরে বড় ধরনের রাজস্ব জালিয়াতি শনাক্তঃ যন্ত্রাংশের আড়ালে বিলাসবহুল গাড়ির চালান
মোংলা বন্দরে বড় ধরনের রাজস্ব জালিয়াতি শনাক্তঃযন্ত্রাংশের আড়ালে বিলাসবহুল গাড়ির চালান ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা, যার বাজারমূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি নামমাত্র শুল্ক দিয়ে গাড়িগুলো খালাসের অপচেষ্ট.. মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আমদানিকৃত চারটি বিলাসবহুল গাড়ির একটি বড় চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গত ১৯ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হলে এই জালিয়াতির বিষয়টি উন্মোচিত হয়। ঢাকার গেন্ডারিয়াভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে এই পণ্যগুলো আমদানি করে। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪ অনুযায়ী, চালানটিতে ১৬৪টি প্যাকেজে ১৪ ধরনের পণ্যের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এগুলো সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশ নয়, বরং চারটি বিলাসবহুল গাড়িকে বড় বড় খণ্ডে কেটে কৌশলে আমদানি করা হয়েছে যাতে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যমতে, এই চালানটির ঘোষিত ইনভয়েস মূল্য মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার দেখানো হলেও এর প্রকৃত বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে। তদন্তকারী সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়িগুলোকে এমনভাবে কাটা হয়েছে যা পুনরায় সংযোজন করলে অবিকল গাড়ির মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য ফিরে পায়। বিআরটিএ এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, গাড়ির বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ, সংবেদক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ অটুট রয়েছে। অভিযুক্ত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা শুল্ক-কর পরিশোধের চেষ্টা করেছিল, যেখানে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে আমদানি করা হলে রাষ্ট্রের কোষাগারে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব জমা হওয়ার কথা ছিল। এই ধরনের কারসাজি কেবল সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করছে না, বরং আমদানির আইনি কাঠামোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মতে, এটি নিছক যন্ত্রাংশ আমদানির নামে আংশিক সংযোজিত অবস্থায় মোটরযান আমদানির একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতি, যা জিআরআই আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসটি ইন্টারন্যাশনালের ভূমিকা ও আমদানিকারকের এমন জালিয়াতির বিষয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এনবিআর জানিয়েছে, জব্দকৃত গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডাব্লিউ ৬৫০ আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলোর প্রকৃত মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও বয়স বিবেচনায় চূড়ান্ত শুল্ক-কর নির্ধারণের কাজ করছে। আইন অনুযায়ী, কোনো পণ্য খণ্ডিত অবস্থায় থাকলেও যদি তাতে মূল পণ্যের এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার বা অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে, তবে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবেই গণ্য করতে হবে। এ কারণেই এই চালানটিকে সাধারণ যন্ত্রাংশ হিসেবে ছাড়পত্র না দিয়ে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে বড় ধরনের রাজস্ব ফাঁকির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনাটি দেশের বন্দরগুলোতে চলমান তদারকির দুর্বলতা এবং অসাধু আমদানিকারকদের অপতৎপরতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। বিলাসবহুল গাড়ি আমদানিতে কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির এই চেষ্টা পরিবহন খাতে আমদানিনীতি ও শুল্কায়নের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের জালিয়াতি রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বন্দরগুলোতে কায়িক পরীক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অসাধু চক্রগুলো বারবার সরকারি রাজস্বের ক্ষতিসাধন করবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আমদানিনীতির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
গাজীপুর মহানগরে কোনাবাড়ীতে একসাথে কয়েকটি ঝুটের গোডাউনে আগুন, আপাতত নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুর মহানগরে কোনাবাড়ীতে একসাথে কয়েকটি ঝুটের গোডাউনে আগুন, আপাতত নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর প্রতিনিধি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ১২টি ঝুটের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের টানা প্রায় চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোনাবাড়ী মেট্রো থানাধীন দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকার বাচ্চু মিয়ার পলি গোডাউন থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের একাধিক গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানান। পরে কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকায় সারাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। পাঁচটি ইউনিটের সদস্যরা প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বাতাসের গতি বেশি থাকায় আগুন নেভানোর কাজে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তদন্ত শেষে নিশ্চিত করা যাবে
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ও দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জি এম নুর ইসলাম আর নেই
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি ও দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জি এম নুর ইসলাম আর নেই শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং স্থানীয় জনপ্রিয় দৈনিক ‘দৃষ্টিপাত’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক জি এম নুর ইসলাম শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) বৃহস্পতিবার ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এক নজরে তাঁর জীবন ও অবদান: সাংবাদিকতায় ভূমিকা: বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সত্য প্রকাশের মাধ্যমে তিনি সাতক্ষীরার সংবাদজগতে এক অনন্য স্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর সম্পাদিত ‘দৈনিক দৃষ্টিপাত’ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে আসছে। নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন: সাতক্ষীরার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সামাজিক পরিচিতি: সমাজসেবা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের অভিভাবক হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ, রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়েছে। মরহুমের জানাজার সময় ও দাফনের স্থান পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে।
নওগাঁয় এক শিশুকে ধর্ষ/ণের অভিযোগ, দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
নওগাঁয় এক শিশুকে ধর্ষ/ণের অভিযোগ, দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর রাণীনগরে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলছিল শিশুটি। এ সময় প্রতিবেশী দুই কিশোর মোবাইলে কার্টুন দেখানোর কথা বলে তাকে একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে শিশুটির মা তাকে খুঁজতে বের হলে দুই কিশোর শিশুটিকে ওই বাড়িতে রেখে চলে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পরে শিশুটিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল "বাংলাদেশ বার্তা টুডে" নিউজের প্রতিবেদককে জানান, শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে রাতেই অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির শরীরে আঘাত ও রক্তক্ষরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার স্বীকারুক্তি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার দুই কিশোরকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘিওরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা
ঘিওরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জের ঘিওরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষকরা বক্তব্য দেন। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে করণীয় নিয়েও মতামত দেন বক্তারা। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জানে আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল মামুন ভূঁইয়া, ঘিওর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই চিন্ময় মন্ডল ও ঘিওর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সোহেল রানা খন্দকার । সভায় উপস্থিত ছিলেন বালিয়াখোড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আওয়াল, পয়লা ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. হারুন অর রশিদ, বড়টিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শামছুল আলম খান রওশন, সিংজুরী ইউপি চেয়ারম্যান আবু মো. আসাদুর রহমান মিঠু, ঘিওর ইউপি চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম টুটুলসহ শিক্ষক ও কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ ।
২০১৪ সালের খুনের মামলার আসামী বিএনপি নেতার আত্মসমর্পণের পর কারাগারে
২০১৪ সালের খুনের মামলার আসামী বিএনপি নেতার আত্মসমর্পণের পর কারাগারে সোনারগাঁও ( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সদস্য ও কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম ডালিমকে হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। পরে তাকে আরও একটি চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সোনারগাঁ থানার একটি হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন ডালিম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডালিমকে পরে একটি চাঁদাবাজি মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর কাঁচপুরের লিটন নামে এক ব্যক্তি খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের বড়বোন রাশিদা বেগম বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ডালিম দুই নম্বর আসামি ছিলেন। মামলাটি বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। এদিকে ডালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির পাশাপাশি প্রতারণা করে বিয়ের অভিযোগও করেছেন এক নারী। তিনি ডালিমের বিরুদ্ধে বিয়ের পর স্বীকৃতি না দেওয়া ও হুমকির অভিযোগ করেন।
ধামইরহাটে আত্রাই নদীত ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ধামইরহাটে আত্রাই নদীত ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২৭ আগষ্ট(বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টায় শিমুলতলী ব্রীজের পার্শ্বে রসপুর গ্রামের পাশ্বে আত্রাই নদীতে এ ঘটনাটি ঘটে। দুই শিক্ষার্থী হলো উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের রসপুর গ্রামের যুবদল নেতা তহিদুল ইসলামের ছেলে জিসান (৮) ও একই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে তাহমিদ হোসেন (৮)। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায় , শিশু দুটি সকালে বাড়ির পার্শ্বে আত্রাই নদীতে মাছ ধরতে যায় । পরে তারা নদীতে নামলে নিচের দিকে তলিয়ে যায়। প্রথমে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয় এবং পরে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমান জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা যায় যে শিশু দুটি নদীতে মাছ ধরতে পানিতে নামেন তারা। পরে তলিয়ে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।