বাংলাদেশ বার্তা টুডে
হিমালয়ের কোলে নেপাল কেন বারবার দুর্যোগের ফাঁদে?
হিমালয়ের কোলে নেপাল কেন বারবার দুর্যোগের ফাঁদে? ভূমিকম্প, হড়পা বান, ভূমিধস থেকে হিমবাহ—ভূগোলই কি ‘অভিশাপ’? বিশেষ প্রতিনিধি, সঞ্জয় মজুমদার হিমালয়ের কোলে ছোট্ট দেশ নেপাল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই দেশটিই আবার বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল। কখনও ভয়াবহ ভূমিকম্প, কখনও ভূমিধস, কখনও আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বান—প্রকৃতির একের পর এক আঘাতে বারবার বিপর্যস্ত হয় নেপালের জনজীবন। সাম্প্রতিক ঘটনাই তার ভয়াবহ উদাহরণ। ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি বড় হিমবাহ ধসের পর বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল স্রোত নদীতে নেমে আসে। পরে তা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও debris flow-তে রূপ নেয়। US Geological Survey (USGS)-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধস প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নেমে গিয়ে নদীপথের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—নেপালেই কেন এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি এত বেশি? পাতের সংঘর্ষের ওপর দাঁড়িয়ে নেপাল এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে নেপালের ভূতাত্ত্বিক অবস্থানে। নেপাল ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে অবস্থিত। ভারতীয় প্লেট ক্রমাগত উত্তর দিকে সরে গিয়ে ইউরেশীয় প্লেটের নিচে প্রবেশ ও তার সঙ্গে সংঘর্ষ করছে। এই দীর্ঘস্থায়ী ভূ-প্রক্রিয়ার ফলেই হিমালয়ের সৃষ্টি এবং অঞ্চলটি এখনও অত্যন্ত সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক এলাকায় রয়েছে। ফলে নেপালে ভূমিকম্পের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আর শক্তিশালী ভূমিকম্প শুধু ভবন ধসায় না—পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল করে ভূমিধস, তুষারধস ও নদীপথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ২০১৫ সালের ভয়াবহ গোরখা ভূমিকম্পের পরও হিমালয়ের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভূমিধস ও পাহাড়ি ধসের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ একটি ভূমিকম্প অনেক সময় নিজেই শেষ বিপদ নয়; এর পর শুরু হতে পারে একাধিক ‘secondary hazard’। নেপালের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম। অল্প দূরত্বের মধ্যেই সমতল তরাই অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মিটার উচ্চতার পাহাড় ও পর্বতশৃঙ্গে পৌঁছে যাওয়া যায়। এই তীব্র উচ্চতার পার্থক্যের কারণে পাহাড়ের ঢাল অনেক জায়গায় অত্যন্ত খাড়া। বর্ষার প্রবল বৃষ্টি মাটির ভেতরে পানি ঢুকিয়ে ঢালের স্থিতিশীলতা কমিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে বিশাল ভূমিধস নামতে পারে। আর পাহাড়ি নদীগুলো সরু উপত্যকা দিয়ে দ্রুতগতিতে নিচে নামে। ফলে ওপরের দিকে ভূমিধস, হিমবাহ ধস বা নদীপথে বাধা সৃষ্টি হলে নিচের জনপদে তার প্রভাব পৌঁছাতে সময় লাগে খুবই কম। এই কারণেই নেপালে একটি দুর্যোগ অনেক সময় আরেকটি দুর্যোগকে ডেকে আনে—ভূমিধস থেকে নদী বন্ধ, নদী বন্ধ থেকে হ্রদ, পরে বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা। নেপালের দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ু। দেশটির বার্ষিক বৃষ্টিপাতের বড় অংশ মাত্র কয়েক মাসের বর্ষা মৌসুমে নেমে আসে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নেপালের বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে তীব্র মৌসুমি বৃষ্টিপাত, দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠন একসঙ্গে কাজ করে। বিশেষ করে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢাল দ্রুত পানি শোষণ করে ভারী হয়ে ওঠে। তখন ভূমিধসের পাশাপাশি নদীর পানিও হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে নেপালের বর্ষা মানেই শুধু বৃষ্টি নয়—একসঙ্গে বন্যা, ভূমিধস, সড়ক বিচ্ছিন্নতা ও পাহাড়ি জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। নেপালের আরেকটি বড় ঝুঁকি উচ্চ হিমালয়ের হিমবাহ ও হিমবাহজাত হ্রদ। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কোথাও বরফ গলছে, কোথাও নতুন বা বড় হিমবাহ-হ্রদ তৈরি হচ্ছে। সেই হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে নেমে আসতে পারে Glacial Lake Outburst Flood বা GLOF—অর্থাৎ হিমবাহজাত হ্রদের আকস্মিক প্লাবন। আর সাম্প্রতিক বিপর্যয়টি দেখিয়েছে, বিপদ শুধু হিমবাহ-হ্রদ থেকেই আসতে হবে এমন নয়। পাহাড়ের ওপর হিমবাহ ও শিলাস্তরের অস্থিতিশীলতা থেকেও বিশাল ধস নেমে নদীকে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার উৎসে পরিণত করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন কি ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে? বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ এখানেই সবচেয়ে বেশি। উচ্চ হিমালয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহের পশ্চাদপসরণ এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটির বরফ গলে যাওয়ার ফলে পাহাড়ি ঢালের স্থিতিশীলতা কমতে পারে। এতে ভূমিধস, শিলাধস, হিমবাহ ধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ঘটনাতেও বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন। তবে একটি নির্দিষ্ট দুর্যোগ সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। শুধু প্রকৃতি নয়, মানুষের বসতিও বাড়াচ্ছে ঝুঁকি নেপালের দুর্যোগের গল্পে শুধু প্রকৃতিকে দায়ী করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। পাহাড়ি নদীর তীর, ভূমিধসপ্রবণ ঢাল এবং সংকীর্ণ উপত্যকার আশপাশে জনবসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে ওঠায় মানুষের ঝুঁকি বাড়ছে। কোথাও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, কোথাও পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ বা অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রাকৃতিক ঢালের স্থিতিশীলতাকে আরও দুর্বল করতে পারে। ফলে দুর্যোগের ‘hazard’ যখন মানুষের বসতি ও অবকাঠামোর সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা পরিণত হয় বড় ধরনের ‘disaster’-এ। এক বিপদ থেকে আরেক বিপদ—নেপালের সবচেয়ে বড় সমস্যা নেপালের দুর্যোগকে তাই আলাদা আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। একটি ভূমিকম্প ভূমিধস ঘটাতে পারে। ভূমিধস নদী আটকে দিতে পারে। নদীতে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি হলে তার পেছনে পানি জমতে পারে। সেই বাঁধ ভেঙে গেলে নেমে আসতে পারে হড়পা বান। একইভাবে প্রবল বর্ষা ভূমিধস ঘটাতে পারে, আবার পাহাড়ি ঢালে জমে থাকা বরফ ও হিমবাহের অস্থিতিশীলতাও বাড়াতে পারে। অর্থাৎ নেপালের প্রকৃত ঝুঁকি শুধু ‘বন্যা’ বা ‘ভূমিকম্প’ নয়—বরং একাধিক প্রাকৃতিক বিপদের পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা। সাম্প্রতিক গবেষণাতেও নেপালের এই compound বা cascading disaster risk-এর বিষয়টি উঠে এসেছে। তাহলে কি নেপালের দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব? প্রকৃতির ভূতাত্ত্বিক অবস্থান বদলানো সম্ভব নয়। হিমালয়ের অবস্থানও বদলাবে না। কিন্তু বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন— - ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল ও নদী অববাহিকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ; - হিমবাহ ও হিমবাহজাত হ্রদের উন্নত মনিটরিং; - দ্রুত কার্যকর Early Warning System; - ভূমিকম্প-সহনশীল অবকাঠামো; - ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপরিকল্পিত বসতি নিয়ন্ত্রণ; - পাহাড়ি সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কঠোর পরিবেশগত ও ভূতাত্ত্বিক মূল্যায়ন; - স্থানীয় জনগণকে দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ও উদ্ধার প্রস্তুতির আওতায় আনা। ভূগোল ‘অভিশাপ’ নয়, কিন্তু ঝুঁকির বাস্তবতা নেপাল প্রকৃতির রোষে বারবার পড়ে—এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল নয়। তবে এর পেছনে কোনো অলৌকিক কারণ নেই। নেপালের অবস্থানই তাকে একই সঙ্গে ভূমিকম্প, ভূমিধস, বন্যা, হিমবাহ ধস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়েছে। হিমালয়ের জন্ম যে ভূতাত্ত্বিক শক্তির কারণে, সেই শক্তিই আজও পাহাড়কে অস্থির রাখছে। বর্ষার বৃষ্টি সেই অস্থিরতাকে আরও বাড়ায়। আর উষ্ণ পৃথিবী হিমবাহ ও উচ্চ পর্বতাঞ্চলের ঝুঁকিকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। তাই নেপালের সামনে প্রশ্নটি শুধু ‘পরের দুর্যোগ কবে?’ নয়। প্রশ্ন আরও বড়—পরের দুর্যোগ আসার আগেই কতটা প্রস্তুত হতে পারবে হিমালয়ের এই দেশ?
মাটির গন্ধে ২৫ বছর, মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন অনিক পাল
মাটির গন্ধে ২৫ বছর, মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন অনিক পাল মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা: আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। একসময় ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত মাটির হাঁড়ি, কলসি, পাতিল, সরা কিংবা ফুলের টবের জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিক, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের নানা পণ্য। তবুও সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসা বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা বাজারের ব্যবসায়ী অনিক পাল। লিটন পালের ছেলে অনিক পাল প্রায় ২৫ বছর ধরে মাওনা বাজারে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের ব্যবসা করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাটির সঙ্গে তার এই পথচলা শুধু জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়, বরং বাঙালির প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্যকে ধরে রাখার এক ধরনের প্রচেষ্টাও। মাওনা বাজারে অনিক পালের দোকানে ঢুকলেই চোখে পড়ে নানা আকৃতি ও নকশার মাটির সামগ্রী। সারি সারি সাজানো রয়েছে মাটির কলসি, হাঁড়ি, পাতিল, সরা, ফুলের টব, বিভিন্ন ধরনের পাত্র, শোপিস ও সৌন্দর্যবর্ধক সামগ্রী। কোনোটি প্রাকৃতিক মাটির রঙে, আবার কোনোটি রঙের ছোঁয়ায় পেয়েছে নান্দনিক সৌন্দর্য। দোকানের এক পাশে বড় আকৃতির মাটির পাত্র, অন্য পাশে ছোট ছোট বাহারি সামগ্রী—সব মিলিয়ে দোকানটি যেন মাটির তৈরি পণ্যের এক ছোট্ট প্রদর্শনী। দোকানের ভেতর ও সামনে বিভিন্ন ধরনের মাটির তৈরি পণ্য সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে কিছু পণ্যে ব্যবহার করা হয়েছে উজ্জ্বল রং ও নকশা। বিশেষ করে ফুলের টব, বাহারি পাত্র, কলসি ও শোপিসের মতো পণ্যগুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি ঘর সাজাতেও ব্যবহার করা যায়। অনিক পাল জানান, প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আগের তুলনায় বর্তমানে মাটির তৈজসপত্রের ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। তারপরও মানুষের মধ্যে মাটির তৈরি পণ্যের প্রতি এক ধরনের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। অনেকে রান্না, পানি সংরক্ষণ কিংবা ঘর সাজানোর জন্য এখনো মাটির পাত্র কিনে থাকেন। একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরেই মাটির তৈরি সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার ছিল। রান্নাঘরে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পানি রাখার জন্য কলসি, খাবার পরিবেশনের জন্য মাটির থালা-বাটি—সবকিছুতেই ছিল মাটির উপস্থিতি। মাটির পাত্রে রান্না করা খাবারের স্বাদ ও গন্ধ নিয়েও মানুষের মধ্যে রয়েছে আলাদা অনুভূতি। তবে সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসায় এসব পণ্যের ব্যবহার কমে গেছে। বর্তমানে মৃৎশিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আধুনিক পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। প্লাস্টিক ও স্টিলের সামগ্রী তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় অনেকেই সেদিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি মাটির পণ্যের কাঁচামাল, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও মাটির তৈরি পণ্যের চাহিদা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বর্তমানে ঘর সাজানো, বাগান করা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং শৌখিন ব্যবহারের জন্য মাটির পাত্র ও সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে নান্দনিক নকশায় তৈরি ফুলের টব, কলসি ও বিভিন্ন শোপিস নতুন প্রজন্মের কাছেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য কারিগরের জীবন-জীবিকা। মাটি সংগ্রহ থেকে শুরু করে সেটিকে উপযোগী করা, চাকায় ঘুরিয়ে পাত্র তৈরি, শুকানো, পোড়ানো এবং পরে রং ও নকশা করার প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন হয় দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। একটি মাটির পণ্য ক্রেতার হাতে পৌঁছানোর আগে এর পেছনে থাকে কারিগরের শ্রম, সময় ও সৃজনশীলতা। অনিক পালের মতো ব্যবসায়ীরা সেই পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাচীন এই শিল্পের ধারাটিও টিকিয়ে রাখছেন। তার দোকানে সাজানো প্রতিটি মাটির পাত্র যেন বাংলার গ্রামীণ জীবনের পুরোনো দিনের গল্প বলে। মাটির তৈরি এসব সামগ্রীর মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে ব্যবহারিক প্রয়োজন, অন্যদিকে রয়েছে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছাপ। পরিবেশবিদ খোরশেদ আলম বলেন, মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কারিগর ও ব্যবসায়ীদের সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইন ও নতুন পণ্য তৈরি করে মাটির সামগ্রীকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। মাওনা বাজারে ২৫ বছরের ব্যবসায়িক পথচলায় অনিক পাল তাই শুধু মাটির পাত্র বিক্রি করছেন না; তার দোকানের প্রতিটি মাটির সামগ্রীর মধ্য দিয়ে যেন টিকে আছে বাংলার পুরোনো দিনের এক টুকরো সংস্কৃতি। আধুনিকতার ভিড়ে মাটির সেই গন্ধ হারিয়ে না গিয়ে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আরও দূর এগিয়ে যাক—এটাই প্রত্যাশা।
কালিগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে
কালিগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জের বন্দকাটি গ্রামের মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে এক সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে। দীর্ঘ ২ মাস রুদ্ধশ্বাস অভিযানের ফলে এই ফোন উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, কালিগঞ্জ উপজেলার ভয়াবহ মাদকের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে কৃষ্ণনগর বিষ্ণুপুর ও দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়ন মিলে। এই সিন্ডিকেট দীর্ঘবছর ধরে সরাসরি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে কালিগঞ্জ উপজেলার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছে। সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসার কারণে এই এলাকায় সহজে মিলছে মরণঘাতী মাদক ইয়াবা। হাতের নাগালে ইয়াবা পাওয়ার কারণে অল্প বয়সী যুবক থেকে মধ্য বয়সী যুবকরা ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়েছে। প্রতিপিছ ইয়াবা বিক্রি হয় খুচরা ৩৫০ টাকা দরে আর পাইকারী ২৫০-২৮০ টাকা দরে। ইয়াবার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ওই এলাকায় চুরি ডাকাতি ছিনতাই বেড়ে গেছে। ছোট ছোট দল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে কিশোরগাং। যারা চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি ডাকাতি করে সর্বস্ব লুট করছে। যার ফলে এলাকায় বসবাস করতে পারছে না সাধারণ মানুষ। এমতাবস্থায় একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিম অত্র এলাকায় অবস্থান করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে। টানা ৭ দিন অনুসন্ধান করে কিশোরদের ইয়াবাসেবন ভিডিও, মাদককেনাবেচার ভিডিও ও সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসার রুট কল রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। অনুসন্ধান শেষে সাতক্ষীরা ফেরার দিন রাতে সাংবাদিক মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর অবস্থানরত বাসা থেকে মাদক সিন্ডিকেট তথ্যবহুল তার ব্যবহৃত দুটি ফোন ও একটি স্বর্ণের আংটি রাতে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। এই সিন্ডিকেটের মূল উদ্দেশ্য ছিল অনুসন্ধানী ফুটেজগুলো নষ্ট করা যাহাতে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করতে পারে। এই সিন্ডিকেটের সদস্য বন্দকাটি গ্রামের আবু সাইদের পুত্র বিপ্লব হোসেন, যোগেস্বর সরকার, সৌরভ সরকার নেতৃত্বে এক মাদক সম্রাটের নির্দেশে ফোন ডাকাতির পর বিক্রি করে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুরে গ্রামের বাবু ডাকাতের কাছে। বাবু ডাকাত ফোনটি বিক্রি করে একই গ্রামের মনিরুল কাগুজীর কাছে। মনিরুল কাগুজী ফোনটি বিক্রি করে তার সাবেক স্ত্রী তাহমিনার কাছে যে বসবাস করে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায়। পুলিশের বিশেষ টিমের ফোন ট্যাকিং করা হলে এসকল তথ্য পা-ওয়া যায়। পরবর্তীতে কালিগঞ্জ থানার দক্ষ পুলিশ অফিসার এরশাদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি ধরা পড়ে। এই চক্রটি এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কিশোর গাং সৃষ্টি, চুরি ডাকাতির সাথে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা অবস্থা অবনতি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুশীল নাগরিক সমাজ। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফা বলেন, কালিগঞ্জের ভয়াবহ মাদকের সিন্ডিকেট এই বন্দকাটি গ্রামে। প্রকাশ্য ইয়াবা বিক্রির ফলে কিশোর থেকে যুবক সকলে ইয়াবা আসক্ত। যার ফলে এলাকায় চুরি ডাকাতি বেড়ে চলেছে। মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ আজ নিরুপায় এদের ভয়ে মুখ খুলতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি আমরা দ্রুত এই পরিস্থিতির উত্তরণ চাই। কালিগঞ্জ থানায় কর্মরত এএসআই এরশাদ বলেন, কালিগঞ্জের বন্দকাটি মাদকের একটি বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। এই মাদক সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক খুব শক্তিশালী। আমি শুনেছি তারা সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে আসে প্রকাশ্য বিক্রি। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর তথ্যবহুল ফোন দুটি চুরি করে। আমরা বিশেষ কারিগরি সহয়তায় একটি ফোন উদ্ধার ও চোর সনাক্ত করি। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্দকাটিতে প্রকাশ্য ইয়াবা বিক্রি ফলে চুরি ডাকাতি বেড়ে গেছে। এলাকায় বাসা বাড়ি থেকে মানুষের পালিত হাস মুরগিও চুরি করছে। বন্দকাটি কয়েকটি কিশোর গাং আমরা সনাক্ত করেছি। এদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে এক সাংবাদিকদের দুটি ফোন ও সোনার আংটি চুরি করে। এই চোরচক্রের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী। প্রায় দুই মাস ধরে রুদ্রশ্বাস অভিযানে পুলিশের বিশেষ কারিগরি সহায়তায় ফোন উদ্ধার করে চোর সনাক্ত করা হয়েছে।
নোবিপ্রবিতে ১১ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি
নোবিপ্রবিতে ১১ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি মোঃ জাহিদ হাসান নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করতে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। আর সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন-নোবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও নোবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের একজন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। পরে এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, “রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া সার্বিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দ্রোহে প্রেম, প্রেমে দ্রোহ: নজরুলের দর্শনে আজকের মানুষের মুক্তির পাঠ
দ্রোহে প্রেম, প্রেমে দ্রোহ: নজরুলের দর্শনে আজকের মানুষের মুক্তির পাঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি মোহাম্মদ হাসান সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে বাংলা সাহিত্যাকাশে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব যেন এক ধূমকেতুর উজ্জ্বল উপস্থিতি। তিনি শুধু কবি নন, শুধু গীতিকার, সুরকার কিংবা সাহিত্যিকও নন—তিনি ছিলেন এক অনন্য জীবনদর্শনের নির্মাতা। তাঁর কলমে যেমন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের অগ্নিশিখা জ্বলে উঠেছে, তেমনি একই কলমে উচ্চারিত হয়েছে মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা, সাম্য, স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িকতার অমর বাণী। নজরুলকে তাই কেবল ‘বিদ্রোহী কবি’ পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তাঁর দর্শনের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়—দ্রোহ ও প্রেম তাঁর কাছে পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অন্যের পরিপূরক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর বিদ্রোহের উৎস ছিল মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আর মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাই তাঁর দ্রোহকে দিয়েছে নৈতিক শক্তি। নজরুলের দর্শনকে তাই এক কথায় বলা যায়—‘দ্রোহে প্রেম, প্রেমে দ্রোহ’। দ্রোহের আগুনে জ্বলে উঠেছিল মানবমুক্তির স্বপ্ন নজরুলের সাহিত্যজীবনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য তাঁর দুর্বার দ্রোহ। ঔপনিবেশিক শাসনের নিপীড়ন, সামাজিক বৈষম্য, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা এবং মানুষের ওপর মানুষের আধিপত্য—কোনো কিছুর বিরুদ্ধেই তিনি নীরব থাকেননি। তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে শুধু একটি কবিতা নয়; এটি যেন এক যুগের আত্মপ্রকাশ। কবি ঘোষণা করেন— “আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না— অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণভূমে রণিবে না।” এই উচ্চারণে ব্যক্তিগত অহংকারের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে নিপীড়িত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। কবির ‘বিদ্রোহী’ সত্তা কোনো ধ্বংসের নেশায় উন্মত্ত সত্তা নয়; বরং সে অন্যায় ধ্বংস করে ন্যায়ের পৃথিবী নির্মাণ করতে চায়। এখানেই নজরুলের দ্রোহের সঙ্গে তাঁর মানবতাবাদী দর্শনের গভীর সম্পর্ক। তিনি ভাঙতে চেয়েছেন অত্যাচারের কাঠামো, মানুষকে নয়; ধ্বংস করতে চেয়েছেন শোষণের ব্যবস্থা, মানবতাকে নয়। মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই নজরুলের দর্শনের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তিগুলোর একটি হলো সাম্য ও মানবমর্যাদা। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, শ্রেণি কিংবা লিঙ্গের পরিচয় দিয়ে মানুষকে বিভক্ত করার যে প্রবণতা সমাজে যুগের পর যুগ চলে এসেছে, নজরুল তার বিরুদ্ধে ছিলেন আপসহীন। ‘মানুষ’ কবিতায় তাঁর উচ্চারণ— “গাহি সাম্যের গান— মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।” এই একটি পঙ্ক্তির মধ্যেই যেন নজরুলের মানবতাবাদী দর্শনের সারকথা নিহিত। তাঁর কাছে মানুষের পরিচয়ই সর্বপ্রথম। ধর্ম মানুষের জন্য, মানুষ ধর্মের জন্য নয়; সমাজ মানুষের কল্যাণের জন্য, মানুষ কোনো সংকীর্ণ সামাজিক পরিচয়ের বন্দী হওয়ার জন্য নয়। আজ যখন ধর্মীয় পরিচয়, জাতিগত বিভাজন, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামাজিক বৈষম্য মানুষের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে চলেছে, তখন নজরুলের এই মানবতাবাদী উচ্চারণ নতুন করে আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করে—আমরা কি সত্যিই মানুষকে মানুষের মর্যাদায় দেখতে শিখেছি? নজরুলের প্রেম ব্যক্তিগত নয়, বিশ্বজনীন নজরুলের সাহিত্য পড়লে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে—তাঁর প্রেমের জগৎ ছিল বহুমাত্রিক। সেখানে আছে নারী-পুরুষের প্রেম, প্রকৃতির প্রেম, সৃষ্টির প্রতি মমতা, আধ্যাত্মিক অনুভব এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তাঁর অসংখ্য গান ও কবিতায় প্রেম কখনো রাধা-কৃষ্ণের চিরন্তন আকর্ষণের রূপ নিয়েছে, কখনো বিরহের বেদনা, কখনো প্রকৃতির সৌন্দর্য, আবার কখনো মানবতার মহত্তম অনুভূতি হয়ে উঠেছে। এই প্রেমই তাঁর দ্রোহকে মানবিক করেছে। কারণ যে মানুষ ভালোবাসতে জানে না, সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ভিত্তিক সংগ্রামও করতে পারে না। নজরুলের বিদ্রোহ তাই প্রতিহিংসার বিদ্রোহ নয়; এটি ভালোবাসার অধিকার প্রতিষ্ঠার বিদ্রোহ। তিনি চেয়েছেন এমন একটি পৃথিবী, যেখানে মানুষ মানুষকে শোষণ করবে না, ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি হবে না, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান মানবিক মর্যাদাকে গ্রাস করবে না এবং নারী-পুরুষ কেউই বৈষম্যের শিকার হবে না। ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে নজরুল নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বুঝতে হলে তাঁর ধর্মভাবনাকেও গভীরভাবে অনুধাবন করতে হয়। তিনি ধর্মকে অস্বীকার করেননি; বরং ধর্মের নামে ভণ্ডামি, কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িকতা ও মানুষের ওপর মানুষের আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে ইসলামি ঐতিহ্যের পাশাপাশি হিন্দু পুরাণ, শাক্ত ভাবনা, বৈষ্ণব প্রেমতত্ত্ব এবং মানবতাবাদী চেতনার অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। এই বহুত্ববাদী সৃষ্টিশীলতা প্রমাণ করে—নজরুলের কাছে ধর্ম বিভেদের দেয়াল নয়, বরং মানুষের আত্মিক বিকাশের একটি পথ। তাঁর অসাম্প্রদায়িকতা ছিল নিছক রাজনৈতিক স্লোগান নয়; এটি ছিল তাঁর জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত একটি মানবিক অবস্থান। তিনি চেয়েছিলেন এমন সমাজ, যেখানে মানুষ প্রথমে মানুষ—তারপর অন্য সব পরিচয়। নারীকে দেখেছেন সমঅধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নজরুলের সাম্যবাদী দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর নারী-চেতনা। তিনি নারীকে কেবল প্রেমের উপকরণ বা সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখেননি; বরং সমাজ নির্মাণের সমঅধিকারসম্পন্ন শক্তি হিসেবে দেখেছেন। ‘নারী’ কবিতায় তিনি নারী-পুরুষের সম্মিলিত অবদানের কথা উচ্চারণ করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে সভ্যতার নির্মাণে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজও যখন নারীর অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমঅংশীদারিত্ব নিয়ে সমাজে নানা প্রশ্ন বিদ্যমান, তখন নজরুলের নারী-চেতনা আমাদের জন্য গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর সাম্যের দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কোনো সমাজ প্রকৃত অর্থে মুক্ত হতে পারে না, যদি তার অর্ধেক জনগোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হয়। নজরুলের বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল নতুন সমাজ নির্মাণ নজরুলের দ্রোহকে অনেক সময় শুধু ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু তাঁর সাহিত্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তাঁর বিদ্রোহের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল সৃষ্টি। তিনি পুরোনো অন্যায়কে ভাঙতে চেয়েছেন নতুন ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি শোষণের কাঠামো ধ্বংস করতে চেয়েছেন মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি সাম্প্রদায়িকতার দেয়াল ভাঙতে চেয়েছেন ভ্রাতৃত্বের সমাজ নির্মাণের জন্য। এই কারণে নজরুলের বিদ্রোহ মূলত নির্মাণমুখী বিদ্রোহ। তাঁর কাছে বিপ্লব মানে শুধু রাজপথের মিছিল, অস্ত্রের ঝনঝনানি কিংবা ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; মানুষের চিন্তা, বিবেক ও মূল্যবোধের পরিবর্তনও বিপ্লবের অপরিহার্য অংশ। আজকের পৃথিবীতে নজরুল কেন আরও প্রাসঙ্গিক নজরুলের মৃত্যুর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও তাঁর প্রশ্নগুলো আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যায়নি। বরং নতুন বাস্তবতায় অনেক প্রশ্ন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় বিভাজন, জাতিগত বিদ্বেষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক নিপীড়ন, নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা এবং মতপ্রকাশের সংকট—এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে নজরুলের মানবিক দর্শনকে নতুন করে পাঠ করা জরুরি। তাঁকে শুধু জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করলেই নজরুলকে ধারণ করা হয় না। তাঁর কবিতার কয়েকটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করলেই তাঁর প্রতি আমাদের দায় শেষ হয় না। নজরুলকে ধারণ করার অর্থ হলো অন্যায়ের সামনে নীরব না থাকা, মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা, সাম্প্রদায়িক বিভাজন প্রত্যাখ্যান করা এবং দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। নজরুল আমাদের শিখিয়েছেন—দ্রোহ মানে কেবল ‘না’ বলা নয়; দ্রোহ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়ের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলা। প্রেম মানে কেবল আবেগ নয়; প্রেম মানে মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রতি দায়বদ্ধতা। স্মরণ নয়, নজরুলকে ধারণ করার সময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানোর সবচেয়ে বড় উপায় হতে পারে তাঁর দর্শনকে জীবনে প্রয়োগ করা। আজ আমাদের প্রয়োজন এমন এক নজরুলচর্চা, যেখানে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার আগুন আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী করবে, ‘মানুষ’ কবিতার সাম্যবোধ আমাদের বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠতে শেখাবে, তাঁর প্রেমের গান আমাদের হৃদয়কে কোমল করবে এবং তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা আমাদের সমাজকে আরও সহনশীল ও মানবিক করে তুলবে। নজরুল চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর কণ্ঠ থেমে যায়নি। তাঁর কবিতা আজও প্রশ্ন করে, তাঁর গান আজও হৃদয়ে আলোড়ন তোলে, তাঁর দ্রোহ আজও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিবেককে জাগিয়ে তোলে। তাই নজরুলের মৃত্যু নেই—আছে কেবল শারীরিক অনুপস্থিতি। যতদিন পৃথিবীতে অন্যায় থাকবে, ততদিন তাঁর দ্রোহ প্রয়োজন হবে। যতদিন মানুষের মধ্যে বিভেদ থাকবে, ততদিন তাঁর সাম্যের বাণী প্রয়োজন হবে। যতদিন ঘৃণা মানুষের হৃদয়কে অন্ধ করবে, ততদিন তাঁর প্রেমের দর্শন প্রয়োজন হবে। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য আমাদের সামনে যে অমোঘ সত্যটি রেখে গেছে তা হলো—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ আর মানুষের প্রতি প্রেম একই মানবিক চেতনার দুই রূপ। সেই কারণেই নজরুল আজও প্রাসঙ্গিক, আজও প্রেরণার, আজও আমাদের বিবেকের কবি। পঞ্চাশ বছর পর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করি—নজরুল, তুমি শুধু ইতিহাসের কবি নও; তুমি বর্তমানেরও পথপ্রদর্শক। তোমার বিদ্রোহ আমাদের সাহস দিক, তোমার প্রেম আমাদের মানবিক করুক, আর তোমার সাম্যের স্বপ্ন আমাদের সমাজকে আরও ন্যায়ভিত্তিক করে তুলুক। শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় ও চেতনায়—জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অমর হোন। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
পশ্চিম সুন্দরবনে বন অপরাধের লাগাম টানতে হিমশিম বন বিভাগ: দুই মাসে ৮৯ মামলা
পশ্চিম সুন্দরবনে বন অপরাধের লাগাম টানতে হিমশিম বন বিভাগ: দুই মাসে ৮৯ মামলা ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে গত দুই মাসে বন অপরাধবিরোধী ১০৮টি অভিযানে ৪৬ জনকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ শিকারি সরঞ্জাম জব্দ করেছে বন বিভাগ।.. সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় চলমান কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবে গত জুন ও জুলাই মাসে পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে বন অপরাধবিরোধী ১০৮টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বন বিভাগ। এই দুই মাসের ব্যবধানে সংঘটিত বিভিন্ন বন অপরাধের দায়ে মোট ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ৮৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের তালিকায় রয়েছে ৩০ কেজি হরিণের মাংস, দেড় হাজার মিটার হরিণ ধরার মালা ফাঁদ, ৮৯টি নৌকা, তিনটি ট্রলার এবং বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার সরঞ্জাম। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দায়ের করা ৮৯টি মামলার মধ্যে ১৯টি পিওআর, ৬৯টি ইউডিওআর এবং একটি সিওআর মামলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূলত বন এলাকায় অবৈধ প্রবেশ, বিষ প্রয়োগ করে মৎস্য শিকার এবং বন্যপ্রাণী নিধনের মতো গুরুতর অপরাধের বিরুদ্ধে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে, যা সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান সুরক্ষায় বন বিভাগের নিয়মিত তৎপরতারই প্রতিফলন। অভিযানে উদ্ধার হওয়া উপকরণের ধরন বিশ্লেষণ করলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে অপরাধীদের ভয়াবহ তৎপরতার চিত্র ফুটে ওঠে। জব্দকৃত উপকরণের মধ্যে ১ হাজার ২০০ কেজি কাঁকড়া, ৬১০ কেজি চিংড়ি, ১৮৫ কেজি সাদা মাছ, ৪৭ বোতল বিষ এবং ৫৩টি মাছ ধরার জাল রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে স্থানীয় অসাধু চক্র বনের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে আইন অমান্য করে নিয়মিত বিষ প্রয়োগ ও নিষিদ্ধ পদ্ধতি ব্যবহার করছে। বিশেষ করে হরিণ শিকারের জন্য দেড় হাজার মিটার মালা ফাঁদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনাটি উদ্বেগজনক, কারণ এটি বন্যপ্রাণী নিধনের পরিকল্পিত প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে। ভুক্তভোগী পরিবেশবিদদের মতে, বন বিভাগের নজরদারি জোরদার করা সত্ত্বেও অপরাধীদের কৌশলী তৎপরতা বন্ধ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসাধু জেলেরা এবং শিকারিরা বনের গহীনে ঢুকে যেভাবে বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরছে, তা জলজ প্রাণীর প্রজনন ও সামগ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় ডেকে আনছে। পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বন অপরাধের সংখ্যা কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও অপরাধের ধরণ ও সরঞ্জাম উদ্ধারের হার উদ্বেগজনক। গত বছর ১১০টি অভিযানে ৪৭ জনকে আটক এবং ৮২টি মামলা করা হয়েছিল, যেখানে এ বছর ১০৮টি অভিযানে ৮৯টি মামলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে পশ্চিম সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান দাবি করেছেন যে, নিয়মিত টহল ও অভিযানের ফলে সামগ্রিকভাবে বন অপরাধের হার হ্রাস পাচ্ছে। তিনি জানান, সুন্দরবনে অবৈধ প্রবেশ ও বন্যপ্রাণী শিকার রোধে বনরক্ষীরা তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করছেন। তবে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তাদের উৎসমূল চিহ্নিত করতে আরও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহলের কথা বলা হলেও, বনের বিশাল আয়তন এবং জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রতীয়মান হয়। সুন্দরবনের সুরক্ষায় এই আইনি পদক্ষেপগুলো কেবল সাময়িক প্রতিকার নয়, বরং অদূর ভবিষ্যতে বনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী প্রশাসনিক মডেল প্রয়োজন। বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জব্দকৃত সরঞ্জামের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বন বিভাগকে আরও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। যদি বনের অভ্যন্তরে অবৈধ প্রবেশ এবং বিষ প্রয়োগের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে তা সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও পেশাগত নিরাপত্তার পাশাপাশি বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সচেতনতা ও কঠোর আইন প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই।
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের আরেকটি জয়, ধরে রেখেছে শীর্ষস্থান
টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের আরেকটি জয়, ধরে রেখেছে শীর্ষস্থানী! টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে মোহাম্মদ রুবেল এবং হাতে সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স চলছেই। ডারউইনে নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইকার্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক দল, মাত্র ৯৭ রানে ৮ উইকেট হারায়। শেষের দিকে ভালো জুটি গড়ে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ১৪৩ রানের লক্ষমাত্রা দাঁড় করায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন জর্ডান সিল্ক। এছাড়া ম্যাট হ্যামন্ড ২৬ ও ক্যাডেল ম্যাকমাহন ২৫ রান করেন। বাংলাদেশের ইমার্জিং দলের হয়ে মোহাম্মদ রুবেল ২১ রানের খরচায় ৫টি উইকেট নেন। বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ব্যাটিং করতে নেমে দলীয় তৃতীয় ওভারে আরিফুলের উইকেট হারিয়ে ফেলে। এরপর ক্রিজে নামেন দূরন্ত ফর্মে থাকে ড্যাশিং ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। তিনি খেলেন ৩৭ বলে ৪৭ রানের দারুণ এক ইনিংস, যাতে ছিলো দুটি চার ও একটি ছক্কা। হাফ সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে তিনি বিদায় নেন। সাব্বিরের বিদায় দল কিছুটা চাপে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ১০ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল সহজেই জয় পায়।
ঘিওর খাদ্যগুদামে 120 টন চাল-গম উধাও, দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
ঘিওর খাদ্যগুদামে 120 টন চাল-গম উধাও, দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে (এলএসডি) মজুত খাদ্যশস্যের হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত মজুতের অসংগতি পাওয়ার অভিযোগে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং ঘিওর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও খাদ্য পরিদর্শক শ্রী বিপুল কুমার। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) খাদ্য অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রশাসন বিভাগ, খাদ্য অধিদপ্তরের ২৫/০৮/২০২৬খ্রি. তারিখের ৪৯০নং স্মারকে গঠিত কমিটি জনাব শ্রী বিপুল কুমার, খাদ্য পরিদর্শক তথা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ঘিওর এলএসডি, মানিকগঞ্জ (খাদ্য পরিদর্শক, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, তালতলী, বরগুনায় বদলির আদেশাধীন) এর বিরুদ্ধে ঘিওর এলএসডিতে মজুত যাচাইয়ের সময় সরকারি হিসাবের তুলনায় ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া যায়। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া বস্তা কম পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৫০০টি। খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে মানিকগঞ্জের ঘিওর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও খাদ্য পরিদর্শক শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগের প্রকৃতি ও গুরুতরতা বিবেচনায় একই বিধিমালার ১২ ধারায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
জনগণই আমার শক্তি’- মাদক-সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত মোগরাপাড়া গড়ার অঙ্গীকার হাজী আশরাফ উদ্দিনের
জনগণই আমার শক্তি’- মাদক-সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত মোগরাপাড়া গড়ার অঙ্গীকার হাজী আশরাফ উদ্দিনের নারায়নগঞ্জ (সোনারগাঁ) সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী আশরাফ উদ্দিন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) গোহাট্রা বায়তুল নূর এ জামে মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় শেষে মুসল্লি ও স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর আগে জুমার নামাজের পূর্বে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তিনি। হাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আপনাদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমার লক্ষ্য আপনাদের সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলা। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের শক্তি ও সহযোগিতা থাকলে যেকোনো ভালো কাজ সফল করা সম্ভব। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ছিলাম না, এখনও নেই। আমি কোনো রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আসিনি। আমি এসেছি আপনাদের সেবা করার জন্য। জনগণই আমার শক্তির উৎস। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই আমি সফল হতে চাই, ইনশাআল্লাহ। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, ইউনিয়নের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা কাছ থেকে জানার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে মা-বোনদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা জানার চেষ্টা করছি। মানুষের কথা শুনেই তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আমাকে ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নেবেন। আমি ভালো মানুষ নাকি খারাপ মানুষ, তা বিচার করার অধিকার আপনাদের। কারণ আপনারা আগামী পাঁচ বছরের জন্য একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। তাই আবেগে নয়, বিবেক ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একজন ভালো মানুষকে নির্বাচিত করবেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা যদি আমাকে যোগ্য ও ভালো মানুষ মনে করেন, তাহলে আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে মোগরাপাড়া ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ইউনিয়নে পরিণত করতে কাজ করব। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে হাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে মোগরাপাড়া ইউনিয়নে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী কিংবা সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ইউনিয়নের তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমি দুর্নীতিবাজ নই এবং কোনো দুর্নীতিবাজকেও প্রশ্রয় দেব না। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে চাই। ইউনিয়ন পরিষদকে মানুষের সেবার একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। জুমার নামাজ শেষে হাজী আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী আশরাফ উদ্দিনের জনসংযোগকে ঘিরে মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সিংগাইরে রাস্তার কোন কাজ না করেই বিল উত্তোলন, অর্থ নেতার পকেটে
সিংগাইরে রাস্তার কোন কাজ না করেই বিল উত্তোলন অর্থ নেতার পকেটে সাইফুল ইসলাম সিংগাইর মানিকগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জে সিংগাইরে রাস্তার এক ইঞ্চি কাজ না করেও বিল উত্তোলন করে বিএনপি নেতাদের পকেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানাগেছে , সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড রাজেন্দ্রপুর গ্রামের পাকা সড়ক সংযোগ মিজানের বাড়ী হতে হাসপাতাল মোড় আলমাছের বাড়ী পর্যন্ত একটি মাটির রাস্তা করার শর্তে পিআইও অফিসের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে এমপির কোটায় ৪লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। ঐ ওয়ার্ডের মেম্বার কে সভাপতি করেন। কাগজ কলমে প্রকল্প দিয়ে মেম্বার কে দিয়ে ২ লক্ষ টাকা বিল উত্তোলন করে, ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যুবদল নেতা গোলাম মাওলা বিএনপির সাবেক সভাপতি লুৎফর রহমান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে টাকা হাতিয়ে নেন । ঐ রাস্তার কোন দৃশ্যমান কাজ না করে কিভাবেব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে তারা দুইলক্ষ টাকা বিল উত্তোলন করলেন এ অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে কানাঘুষা । তবে রাস্তার সভাপতি ইদ্রিস মেম্বার টাকা উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন আমি আগে কাজ করে পরে বিল উত্তোলন করতে চেয়েছিলাম কিন্ত নেতাদের চাপে আমার বিলে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। তবে দুুই লক্ষ টাকার মধ্যে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা রহমান গংরা নিয়ে গেছে। আর ৫০:: হাজার টাকা আমার নিকট আছে। তারা সাত দিনের মধ্যে কাজ করার কথা বলছে,আগেই নিউজ করিয়েন না। রাস্তার মাটি না ফেলে রাস্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ করায় ক্ষুন্ন হচ্ছে সরকারের মান। । প্রকল্পের বিল উত্তোলন করলেওরাস্তায় এক টাকার কাজ করেনি। বিএনপি নেতা নেতা সাইফুর বলেন, সরকারি পথ বাদ দিয়ে অন্যত্র কৃষি জমি বিনষ্ট করে রাস্তা করতে গেলে স্থানীয়দের বাঁধার মুখে কৃষি জমিতে ঐ কাজ করতে পারেন নাই। কিন্ত অর্থ হরিলুটের করছেন,। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিএনপি নেতা আঃ হাই বলেন আমি শুনেছি রহমান রাস্তার কাজের কথা বলে দেড় লক্ষ টাকা নিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোন কাজ করেন নাই। সরকারি টাকা হজম করতে পারবেনা কাজ করতেই হবে। বিএনপি নেতা আওলাদ হোসেন বলেন , টাকা তুলা হয়েছে সত্য। আমরা বসে কাজ করে সমাধান করব। পিআইও অফিসের প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামান বলেন , রাস্তার তথ্য দিয়ে কি করবেন। রাস্তার কাজ করার জন্য চাপ দিয়েছি। রাস্তা হয়ে যাবে , টাকা আত্মসাৎ এরকোন সুযোগ নেই।
মাগুরার শ্রীপুরে 'জ্বীনের বাদশা'সহ ৩ যুবক গ্রেফতার
মাগুরার শ্রীপুরে 'জ্বীনের বাদশা'সহ ৩ যুবক গ্রেফতার আব্দুর রশিদ মোল্লা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুরে পুলিশের নিয়মিত টহল পার্টির বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের মোঃ আমির আলী বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল্লাহ বিশ্বাস ওরফে 'জ্বীনের বাদশা', তারাউজিয়াল গ্রামের মুহিদুল ইসলাম চপল এবং আল হেলাল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল্লাহ বিশ্বাস অনলাইন জুয়ার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত ছিল। শ্রীপুর থানা পুলিশ জানায়, আসামীদের মধ্যে আল হেলাল একটি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন। অপর দুই আসামি আব্দুল্লাহ বিশ্বাস ও মহিদুল ইসলাম চপলকে ১৫১ ধারায় মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ ওলি মিয়া বলেন, "মহিদুল ইসলাম চপল ও আব্দুল্লাহ বিশ্বাসকে মারামারি সংক্রান্ত ঘটনায় রাতে আটক করে থানায় আনা হয়। আল হেলালকে ওয়ারেন্ট মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় অপরাধ দমনে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
পাঁচবিবিতে যুবকের পরনের লুঙ্গিতে পাওয়া গেলো ২০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট
পাঁচবিবিতে যুবকের পরনের লুঙ্গিতে পাওয়া গেলো ২০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট মোস্তাকিন হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মো. জুয়েল (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বাগজানা ব্রিজসংলগ্ন রতনপুর বাজারগামী সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক জুয়েল পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাগজানা ব্রিজ অতিক্রম করে রতনপুর বাজার যাওয়ার রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে পাঁচবিবি থানা পুলিশ। এ সময় আশরাফুলের বাড়ির সামনে সন্দেহজনকভাবে চলাচলকারী জুয়েলকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২০০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, আটক যুবক অভিনব কৌশলে তার পরনের লুঙ্গিতে টাপেন্টাডল ট্যাবলেট লুকিয়ে বহন করছিলেন। পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তামবিরুল ইসলাম বলেন, আটক জুয়েল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পাঁচবিবি উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাঙালি ভুলে যাচ্ছে ভাদ্র মাসের তালের পিঠার স্বাদ
বাঙালি ভুলে যাচ্ছে ভাদ্র মাসের তালের পিঠার স্বাদ রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা; গ্রামবাংলার মানুষের মধ্যে বছরব্যাপী যে পিঠা বানানোর সংস্কৃতি চালু রয়েছে, তার মধ্যে ভাদ্রে তালের পিঠা বানানো একটি বিশেষ স্থান দখল করে রেখেছে। ষড়ঋতুর বাংলায় এখন চলছে ভাদ্র মাস আর ভাদ্র মাস এলেই শহর কিংবা গ্রাম সর্বত্রই কদর বাড়ে পাকা তালের। একসময়ে সারাদেশের মতো নেত্রকোনার জনপদেও ভাদ্র মাসে প্রচুর পাকা তাল পাওয়া যেতো তখন প্রতিটা ঘরে ঘরে তালে পিঠা বানানোর ধূম পড়ে যেতো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্য অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। বাংলা লোকসংস্কৃতিতে ভাদ্র মাসের পাকা তালের সঙ্গে গ্রামীণ জীবনের এক গভীর ও সুমধুর সম্পর্ক রয়েছে। ভাদ্র মাসের পাকা তাল নিয়ে গ্রামবাংলায় অনেক জনপ্রিয় লোকসংগীত প্রচলিত রয়েছে। হাসান মতিউর রহমান রচনায়- ‘ভাদ্র মাসে তালের পিঠা, কার্তিক মাসে শসা মিঠা।‘ এছাড়াও ভাদ্র মাসের পাকা তাল নিয়ে গ্রামবাংলায় প্রচলিত অনেক লোকগান বা পল্লিগীতি রয়েছে- ‘ভাদ্র মাসে গাছের তলায় ঝইরা পড়ে তাল, পাকা তালের মৌ-মৌ গন্ধে করে যে মাতাল।‘ ও ‘তালের পিঠা বেজায় মিঠা খেতে ভারি মজা’এবং ‘ভাদ্র-আশ্বিন মাসের তালের পিঠা, খায় যে রাজা-প্রজা’ ইত্যাদি। তাছাড়া ভাদ্র মাসের তালের পিঠা নিয়েও জনপ্রিয় অনেক গ্রাম্য প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে- ‘ভাদ্র মাসে তালের পিঠা, খাইতে লাগে জবর (খুব) মিঠা।‘ ও ‘ভাদ্র মাসে গাছে গাছে পাকে দেখো তাল/তোমার সঙ্গে তালের পিঠা খাইনা কতকাল।‘ গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, ভাদ্র মাসের গরমে তাল পাকে। তাই সহজেই বোঝা যায় ভাদ্র মাসের সঙ্গে তালের একটা গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এই ভাদ্র মাস থেকেই বাজারে উঠতে থাকে পাকা তাল। যা দিয়ে নানা রকম সুস্বাদু পিঠা বানানো হয়। বাঙালি সংস্কৃতিতে তালের পিঠা একটি বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে এবং ভাদ্র মাস এই ঐতিহ্যবাহী খাবার উপভোগ করার উপযুক্ত সময়। সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, ভাদ্র মাসের শুরুতেই এলাকার ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি বাজারে মিলছে পাকা তাল। কিন্তু তা অপ্রতুল নয়, দামও বেশি। বাজারে বড় সাইজের তাল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং মাঝারি ও ছোট সাইজের পাকা তাল আকৃতিভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে তালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে ভোজন রসিক বাঙালিদের। জেলা সদরের সাতপাই এলাকার নিরঞ্জন সরকার, পরিমল দাস, ঠাকুরাকোনা এলাকার শফিক মিয়া, বারহাট্টা এলাকার জজ মিয়া, ক্ষিতিশ দাসের সাথে কথা বললে তারা জানান, জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই এখন শাঁসযুক্ত প্রায় সব তাল বিক্রি করে দেয়া হয় তাই পাকা তাল খাওয়ার সুযোগ খুব একটা হয় না। শাঁস ব্যবসায়ীরা পুরো গাছ ধরে ক্রয় করে নিয়ে যায়। এমন এক সময় ছিল তখন আমাদের এলাকায় প্রচুর তাল গাছ ছিল। তখন প্রতিটা গাছেই তাল পাকানো হতো। গাছ থেকে পাকা তাল মাটিতে পড়লে তা কুড়িয়ে একসাথে জমা করে নিজেরাও পিঠা বানিয়ে খেতাম আর কিছু তাল আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে পাঠানো হতো। কিন্তু এখন তালগাছের সংখ্যা কমেগেছে। তাছাড়া বর্তমানে বেশির ভাগ তালের বাগান মালিকরা গাছের তালগুলো কচি অবস্থাতেই বিক্রি করে দেন। তাই বাজারে এখন সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৬০ টাকার নিচে পাকা তাল পাওয়া যায় না। কথা হয় গৃহবধূ সোমা সরকার ও মৃনালীনি দত্তের সাথে তারা বলেন, প্রতিবছর আমাদের বাড়িতে তালের পিঠা ও তালের বড়া তৈরি করে পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে খাই। এছাড়াও জন্মাষ্টমী, নন্দোৎসব এবং ভাদ্র মাসের শুক্লা নবমীতে ‘তালনবমী’ ব্রততে নানা ধরনের তালের পিঠা তৈরি করে করি। কিন্তু আমাদের এলাকায় তাল গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আগের মতো বেশি করে পিঠা বানাতে পারিনা। এমন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তালের পিঠা খাওয়ার স্বাদ ভুলে যেতে হবে। বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (স্কুল ও কলেজ) বাংলা সাহিত্য বিষয়ের সহকারি অধ্যাপক ও সাংবাদিক বিজয় চন্দ্র দাসের সাথে তিনি বলেন, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ভাষায়- ‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে/ সব গাছ ছাড়িয়ে/ উঁকি মারে আকাশে।’ আর আকাশে উঁকি মারা তালগাছ প্রায় ৬০ ফুটের মতো উঁচু হতে পারে। আর সে কারণেই বহুদূর থেকেও সে গাছ দেখে বলা যায় বলেই কবি খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীনের ছড়ায় লিখেছেন- ‘ওই দেখা যায় তালগাছ, ওই আমাদের গাঁ’। সব তালগাছেই যে তাল হবে, তা নয়। ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি, ‘পুরুষ’ গাছে তাল ধরে না- সে গাছ থেকে শুধুই রস পাওয়া যায়। তাল হয় ‘মাতরি’ (‘মাতৃ’র অপভ্রংশ) বা নারী গাছে। তিনি আরও বলেন, আষাঢ় ও শ্রাবণ এ দুই মাস তাল খাওয়ার চল নেই। এ সময় তাল বড় হতে থাকে। এই বড় হতে থাকার সময় এর স্বাদ তিতা হয়। বর্ষা শেষ হয়ে শরতের প্রথমে ভাদ্রের প্রচণ্ড গরমে তাল পাকতে শুরু করে। মূলত তাল খাওয়া শুরু এ সময়েই। পাকা তাল গাছ থেকে খসে পড়ে। শরতের লিলুয়া বাতাসে পাকা তাল ধুপধাপ খসে পড়লে কাড়াকাড়ি করে তার দখল নেওয়া শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারই বটে। তবে ভাদ্রের তাল কুড়ানো শৈশব আজ শুধুই স্মৃতি। তার আশা, স্ব-উদ্যোগ বেশি বেশি তালগাছ লাগালে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামস উদ্দিন বাবুল শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি পল্লী গাঁয়ের ছেলে। গ্রামে আমার জন্ম, গ্রামেই কেটেছে আমার দুরন্ত শৈশব। একসময়ে আমাদের গ্রামে প্রচুর তালগাছ দেখা যেত। ভাদ্র মাস এলেই প্রতিটি ঘরে ঘরে তাল পিঠা বানানোর উৎসব চলতো।সারারাত ধরে তৈরি পিঠা বানিয়ে ভোরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাওয়ার আনন্দ ছিল ভিন্ন মাত্রার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে তালগাছ কমেগেছে, সেইসঙ্গে ম্লান হয়েছে ঐতিহ্যও। এখন আর তেমনভাবে চোখে পড়ে না তাল কুড়ানো, পিঠা বানানো ও তা বিলানোর দৃশ্য।
মঠবাড়িয়ার পানি সংকট নিরসনে সরেজমিনে ইউএনও
মঠবাড়িয়ার পানি সংকট নিরসনে সরেজমিনে ইউএনও সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া :পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার পানি সরবরাহের অনিয়ম, দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানির সমস্যা নিরসনে সরেজমিনে পরিদর্শনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. আতাউর রাব্বী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় পানির পাইপে ছিদ্রসহ সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। পরিদর্শনকালে ইউএনও পৌর বাসিন্দা ও পৌরসভা কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পানি সরবরাহের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে ছিদ্রযুক্ত পাইপ মেরামত, পানির মান নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত পানি সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ সময় পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান কাওসার, মঠবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুজ্জামান আবির, সাধারণ সম্পাদক নিজামুল কবির মিরাজসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের পানি সংকট ও ভোগান্তি নিয়ে প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট অনেকটাই কমে আসবে। তাছাড়া ৫৩ কোটি টাকার প্রকল্পের দুর্নীতি অনুসন্ধান করে দোষীদের ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. আতাউর রাব্বী বলেন, বিগত বছরগুলোতে কী হয়েছে, সেটা চিন্তা না করে আমরা নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। গ্রাহকেরা যেন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় এস্টিমেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করব।
বীরগঞ্জে দোকান ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, ১ জন আটক
বীরগঞ্জে দোকান ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, ১ জন আটক।। দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর শহরের স্লুইচ গেট রাস্তায় মিয়া মার্কেটে দোকান ঘর ভাঙচুর মার্কেট মালিক কে মারধর, চুরি, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত বীরগঞ্জ পৌর শহরের মাকরাই এলাকার কামিল উদ্দিনের ছেলে পিয়াল আহম্মেদ সহ এজাহার নামীয় ১৪ জন, অজ্ঞাতনামা ১৫/১৬ জনের সমন্বয় ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে ক্ষতিগ্রস্ত মোতলেবুর রহমান ফারুক মিয়া। মামলা নং- ২৪, তারিখ- ২৬/০৮/২০২৬ইং। বাদীর লিখিত এজাহার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রদলের নেতা পিয়াল আহম্মেদের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জনের একটি সঙ্গবদ্ধ দল মিয়া মার্কেটের সামনে রবিউল ইসলাম নামের ১ যুবক কে মারপিট করতে থাকে। মার্কেট সংলগ্ন বাদীর বাসা হওয়ার বাদীর স্ত্রী ও তার ভাই জুয়েল মিয়া বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তার স্ত্রীর শ্লীলতাহানী ঘটায় এবং জুয়েল মিয়াকে বেদম মারপিট ও মার্কেটে ব্যাপক ত্রাস সৃষ্টি করে দোকান মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের মালামাল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাট করে নিয়ে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। চুরি ছিনতাইসহ ক্ষতির পরিমান ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১ শত টাকা দাবী করা হয়েছে। ২১ তারিখের ঘটনা মামলা করতে বিলম্বের কারন হিসাবে বাদী বলেন আহত ছোট ভাইয়ের চিকিৎসার ব্যস্ত ছিলো। মারাত্মক আহত জুয়েল মিয়াকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। জুয়েল মিয়া এখনও সেখানেই চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত পায়েলসহ অন্যান্যরা পলাতক থাকার কারণে যোগাযোগ করে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের অভিভাবকেরা জানান যাদের নামে মামলা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ কলেজ পড়ুয়া এবং ছাত্রদলের সদস্য। এ ব্যপারে ২৭ আগষ্ট সকালে অফিসার ইনচার্জ বীরগঞ্জ থানা সাইফুল ইসলাম জানায়, তিনি ২৬ আগষ্ট বাদীর লিখিত এজাহার পাওয়া মাত্র মামলা রেকর্ড করেছেন মর্মে স্বীকার করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতাউর রহমান ২৭ আগষ্ট রাতে বীরগঞ্জ পৌর শহরের ৪ নং ওয়ার্ডের শান্তিবাগ (দাসপাড়া) গ্রামের আকরাম হোসেনের পুত্র নজিবুল ইসলাম বাপ্পি কে গ্রেফতার করে ২৮ আগষ্ট আদালতে প্রেরন করেছেন।