বাংলাদেশ বার্তা টুডে
নীলফামারী-গাইবান্ধায় র্যাবের অভিযান: ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ২
নীলফামারী-গাইবান্ধায় র্যাবের অভিযান: ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ২ রফিকুল ইসলাম সাবুল : রংপুর প্রতিনিধি নীলফামারী ও গাইবান্ধায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও হেরোইন জব্দ করেছে র্যাব-১৩। এ সময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব-১৩ এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৮ আগস্ট রাত ২টা ২৫ মিনিটে নীলফামারীর ডোমার থানার সোনারায় আমিনুর হাজির মোড় এলাকার পাকা সড়কে অভিযান চালায় র্যাব-১৩ নীলফামারী ক্যাম্পের একটি দল। অভিযানে ১৯০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসার অভিযোগে মো. মাসুদ পারভেজ সোহেল (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ডোমার উপজেলার ছোটরাউতা ডাংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, একই রাতে গাইবান্ধা সদর থানার পূর্ব সবুজপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি দল। রাত ৩টার দিকে পরিচালিত ওই অভিযানে ৬ পুরিয়া হেরোইন, যার ওজন ০.০৭ গ্রাম, এবং ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসার অভিযোগে মো. হানিফ মিয়া (৪৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি গাইবান্ধা পৌরসভার পূর্ব সবুজপাড়া এলাকার বাসিন্দা। র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
জামায়াত-এনসিপি শেখ হাসিনা ফিরে আসার সমস্ত পথ তৈরি করছে: রাশেদ খাঁন
জামায়াত-এনসিপি শেখ হাসিনা ফিরে আসার সমস্ত পথ তৈরি করছে: রাশেদ খাঁন একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম অভিমুখে জামায়াত-এনসিপির লংমার্চের ঘোষণা , , 'ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফেরার সমস্ত পথ তৈরি করছে, বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নিজ গ্রামে মুরারীদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, - জামায়াত-এনসিপির এমপিরা সংসদে সরকারি দলের এমপিদের মতো সুবিধা চাইছে। তারা কি সুবিধা পাচ্ছে না? জামায়াত ১৭ বছর তাদের কার্যালয়ের খুলতে পারেনি। তারা এখন আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতন করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। জনগণ জামায়াত-এনসিপির সেই স্বপ্ন পূরণ করতে দেবে না। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান, মুন্সী কামাল আজাদ পান্নুসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাটে চুরির অভিযোগে কিশোরকে হাত বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
লালমনিরহাটে চুরির অভিযোগে কিশোরকে হাত বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মসজিদের মাইক চুরির অভিযোগে সৌরভ রায় (১৫) নামে এক কিশোরকে দুই হাত রশি দিয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার শিকার সৌরভ রায় হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকার ক্ষিতিষ রায়ের ছেলে। বর্তমানে সে কালীগঞ্জের কালভৈরব এলাকায় তার নানাবাড়িতে অবস্থান করছিল। পুলিশ, মা'মলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌরভের মা প্রায় ১০–১২ দিন আগে দুই ছেলেকে নিয়ে কালীগঞ্জে তাঁর বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সৌরভ কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বত্রিশ হাজারী গ্রামের চাপারহাট বাজারে একটি মসজিদের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তাকে পথরোধ করে মসজিদের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আটকে রেখে মসজিদের মাইক চুরির অভিযোগ করা হয়। কিশোরটি চুরির অভিযোগ অস্বীকার ও প্রতিবাদ করলে তাকে দুই হা'ত রশি দিয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর সৌরভকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কিশোরের দুই হাত রশি দিয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করছেন। এ সময় কেউ কেউ তাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারছেন। একপর্যায়ে মারধরের শিকার কিশোরকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। ভিডিওটি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিকের নজরে এলে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ ওই কিশোরের সন্ধান করে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। এ ঘটনায় সৌরভের মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করে মা'মলা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওয়া লিখিত অভিযোগটি শুক্রবার নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলার নম্বর ৪৯। কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, চাপারহাট বাজারের একটি মসজিদের মাইক চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে রশি দিয়ে বাঁশের সঙ্গে দুই হাত বেঁধে মারধরের ভিডিও পুলিশের নজরে আসে। পরে পুলিশ ওই কিশোরের সন্ধান করে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। ওসি বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। পাশাপাশি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
দূর্গাপুর মানবিক সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান
দূর্গাপুর মানবিক সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান রাজশাহী দূর্গাপুর প্রতিনিধি : মো: মোমিন জাদরান, দূর্গাপুর মানবিক সেবা ফাউন্ডেশন এর পক্ষে সিংগা পৌর এলাকার বাসিন্দা ফরিদা (৪৬) নামের এক অসুস্থ ব্যাক্তিকে শুক্রবার রাত ৮ টায় সার্বিক সহযোগিতা ও নগদ অর্থ সেবা প্রদান করা হয়েছে। ভুক্তভোগী, ফরিদা বলেন,আমি এক্সিডেন্ট হয়ে রাজশাহী মেডিকেল দীর্ঘ দিন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে এখন বাড়িতে বিছানাগত হয়ে আছি এমন সময় আমাকে এ মানবিক ফাউন্ডেশন সার্বিক সহযোগিতা করায় সন্তুষ্ট প্রকাশ করছি। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন দূর্গাপুর মানবিক সেবা ফাউন্ডেশন। এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, মানব কল্যাণে নিবেদিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হাসানুজ্জামান সাগর, ও সাধারণ সম্পাদক, মো: মোমিন জাদরান, এবং তরুণদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরুণ প্রজন্মের পরামর্শে এবং চাহিদার প্রেক্ষিতে কাজ চলমান থাকবে ।প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, রক্তদান শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি , থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সহায়তা শীতার্ত গরিব অসহায় মানুষদের মাঝে কম্বল বিতরণ, , দুস্ত শিক্ষার্থী, কর্মজীবি এবং চিকিৎসায় সহায়তা করা। দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের জন্য চিকিৎসা এবং সেবা প্রদান করা । তরুণ প্রজন্মের একতাবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মানে কার্যকরী ভুমিকা রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।সর্বশেষে, মানবতার সেবায় কাজ করা তরুণদের একতাবদ্ধ করা এবং স্বনির্ভর হতে উদ্ভুদ্ধ করা দূর্গাপুর মানবিক সেবা ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য।
লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে মুছে ফেলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের নাম
হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট: মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও শহীদের নাম সংরক্ষণের বদলে লালমনিরহাটে ঐতিহাসিক একটি স্মারক থেকে শহীদের নাম মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশদ্বারে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ‘শহীদ মোফাজ্জল হোসেন তোরণ’-এর নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে শুধু ‘শহীদ তোরণ’ লেখা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তোরণের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এ ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদের স্মৃতি মুছে ফেলার অভিযোগ তুলে ক্ষো'ভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা সংস্কার বা পরিবর্তন করা হলেও সেখানে যাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতিতে স্থাপনাটি নির্মিত, তাঁর নাম মুছে ফেলা উচিত নয়। বরং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই শহীদের পরিচয় ও আত্মত্যাগ তুলে ধরা প্রয়োজন। কে ছিলেন শহীদ মোফাজ্জল হোসেন? স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত ইতিহাস ও বিভিন্ন সময়ের সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহীদ মোফাজ্জল হোসেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের সন্তান। ১৯১২ সালের ২০ জানুয়ারি বারী উদ্দিন সরকারের পরিবারে তাঁর জন্ম। পরবর্তীতে তিনি রেলওয়েতে চাকরি করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় লালমনিরহাট রেলওয়ে এলাকায় কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল লালমনিরহাটে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘটিত হ'ত্যাযজ্ঞে তিনি শহীদ হন বলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ইতিহাসসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে জানা যায়। স্থানীয় ইতিহাস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওইদিন পাকিস্তানি সেনারা লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পাশে পাঁচ শতাধিক মানুষকে জড়ো করে তাঁদের ওপর ব্রাশফা'য়ার চালায়। এতে মোফাজ্জল হোসেনসহ বহু মানুষ নি'হত হন। ওই হ'ত্যাযজ্ঞে পাকিস্তানি বাহিনীকে স্থানীয় রাজাকার-আলবদররা সহযোগিতা করেছিল বলেও বিভিন্ন বর্ণনায় উঠে এসেছে। স্মরণে নির্মিত হয়েছিল তোরণ- শহীদ মোফাজ্জল হোসেনের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে স্বাধীনতার পর তাঁর নিজ এলাকা কাউনিয়াসহ বিভিন্ন স্থাপনার নাম তাঁর নামে রাখা হয়। লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম পাশে নির্মাণ করা হয় ‘শহীদ মোফাজ্জল হোসেন তোরণ’। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৩ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগমন্ত্রী এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন ও কাউনিয়া রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে থাকা ‘শহীদ মোফাজ্জল হোসেন তোরণ’ উদ্বোধন করেন। শহীদ মোফাজ্জল হোসেনের স্মৃতির সঙ্গে রেলওয়ের পাশাপাশি তাঁর পরিবারেরও গভীর সম্পর্ক ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে মোসাব্বের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় ছিলেন। শুধু লালমনিরহাট নয়, কাউনিয়াতেও শহীদ মোফাজ্জল হোসেনের স্মৃতি সংরক্ষণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাউনিয়া রেলস্টেশনের পুরোনো তোরণটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর স্টেশনের ওভারব্রিজটির নাম ‘শহীদ মোফাজ্জল হোসেন ওভারব্রিজ’ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওভারব্রিজ সংস্কারের সময় সেখান থেকে তাঁর নাম মুছে ‘কাউনিয়া জংশন’ লেখা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শহীদ মোফাজ্জল হোসেনের নাম পুনঃস্থাপনের দাবিও উঠেছে। কাউনিয়ায় তাঁর স্মৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক ‘কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়’। ফলে একইভাবে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের তোরণ থেকেও তাঁর নাম মুছে ফেলে শুধু ‘শহীদ তোরণ’ করায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে- মুক্তিযুদ্ধের একজন শহীদের পরিচয় কি এভাবেই ধীরে ধীরে আড়াল হয়ে যাবে? ‘নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে শহীদ মোফাজ্জল হোসেনের কথা’ লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণেও উঠে এসেছে শহীদ মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে এই এলাকার সম্পর্ক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়াত পিতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছালাম এবং প্রয়াত ফুপা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও তৎকালীন টেপা মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দার রহমানের মুখে তিনি বহুবার শহীদ মোফাজ্জল হোসেনের কথা শুনেছেন। বাবার রেলওয়েতে চাকরির সুবাদে কাউনিয়া মোফাজ্জল হোসেন সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে এক বছর পড়ার সুযোগও হয়েছিল তাঁর। স্থানীয় একাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ শুধু স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তাঁদের নাম ও পরিচয়ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের তোরণে ‘শহীদ মোফাজ্জল হোসেন’ নামটি পুনঃস্থাপন করা হোক এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলোর ঐতিহাসিক পরিচয় সংরক্ষণ করা হোক।
গাজীপুরে জামাতার কুড়ালের আঘাতে শ্বশুর নিহত
গাজীপুরে জামাতার কুড়ালের আঘাতে শ্বশুর নিহত গাজীপুর প্রতিনিধি গাজীপুরের কালীগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে মজিদ মোড়ল (৭০) নামে এক কলা ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার জামাতা মোজাম্মেল হোসেন ওরফে মুজা সরকারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে জামালপুর কলাপট্টিতে নিজের দোকানে থাকা অবস্থায় মজিদের ওপর হামলা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, স্ত্রী শাহানাজ বেগমকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে জামাতার সঙ্গে মজিদের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন মোজাম্মেল একটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে দোকানে এসে তা থেকে কুড়াল বের করে মজিদকে আঘাত করেন বলে স্বজনদের অভিযোগ। পরে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
চিকিৎসক না হয়েও প্রেসক্রিপশন দেওয়ার অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারালেন অন্তঃসত্ত্বা নারী
জগদল বাজারে চিকিৎসক না হয়েও প্রেসক্রিপশন দেওয়ার অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারালেন অন্তঃসত্ত্বা নারী পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড় | ২৮ আগস্ট ২০২৬ পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল বাজারে চিকিৎসক না হয়েও রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রোকসানা আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ রোগীদের দিয়ে থাকেন। তাঁর দেওয়া ওষুধ সেবনের পর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছে পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকসানা আক্তার পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। তবে তিনি চিকিৎসক নন। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জগদল বাজারের মাতৃসেবা ফার্মেসিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হলে রোগীদের প্রেসক্রিপশন লেখার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তাঁর দাবি, রোগীদের ওষুধ লেখার অনুমতি রয়েছে তাঁর। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট একই এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী শারমিন আক্তার ওই ফার্মেসিতে চিকিৎসার জন্য যান। তখন তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রোকসানা আক্তার তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েক ধরনের ওষুধ লিখে দেন। পরিবারের দাবি, এসব ওষুধ সেবনের পর শারমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় চিকিৎসক না হয়েও ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। শারমিনের স্বামী মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। চিকিৎসক না হয়েও তাঁকে বিভিন্ন ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ওষুধ সেবনের পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত গর্ভের সন্তানটি মারা যায়। তিনি ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেওয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ সরবরাহ করা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করেন। স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক বলেন, সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীকে চিকিৎসক না হয়েও এভাবে ওষুধ দেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এলাকার ফার্মেসিগুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসক না হলে এ ধরনের ওষুধ লেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শারমিন আক্তারের গর্ভের সন্তান মৃত্যুর সঙ্গে রোকসানা আক্তারের দেওয়া ওষুধের সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো চিকিৎসা পরীক্ষা বা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পরই গর্ভের সন্তান মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি টুনামেন্টে মতলর পৌর একাদশকে হারিয়ে ইলিয়টগঞ্জের জয়
বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি টুনামেন্টে মতলর পৌর একাদশকে হারিয়ে ইলিয়টগঞ্জের জয় মতলব দক্ষিণ প্রতিনিধি: বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে মতলব পৌরসভা একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইলিয়টগঞ্জ বাদল রায় একাডেমি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মতলব দক্ষিণ উপজেলার আশ্বিনপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় মতলব পৌরসভা একাদশ ও গৌরীপুর বাদল রায় একাডেমি। খেলার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মতলব পৌরসভা একাদশ। একের পর এক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। প্রথমার্ধে উভয় দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধেও মাঠের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের দখলে রাখে মতলব পৌরসভা একাদশ। দলের খেলোয়াড়রা বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে আক্রমণ তৈরি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। খেলা শেষ হওয়ার মাত্র তিন মিনিট আগে গৌরীপুর বাদল রায় একাডেমির খেলোয়াড় ইকবাল সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে মতলব পৌরসভা একাদশ। এর কিছুক্ষণ পর গোল করার সহজ একটি সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন দলের স্ট্রাইকার নিপু। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে গৌরীপুর বাদল রায় একাডেমি। ম্যাচে পরাজিত হলেও পুরো খেলায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায় মতলব পৌরসভা একাদশ। দলটি ম্যাচের বড় একটি সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে বেশ কয়েকটি কার্যকর আক্রমণ তৈরি করে। তবে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত পরাজয় মেনে নিতে হয় তাদের। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি মতলব পৌরসভা একাদশ। মতলব পৌরসভা একাদশের টিম ম্যানেজার ফয়সাল খন্দকার বলেন, “আমাদের দল পুরো ম্যাচে ভালো খেলেছে এবং বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। ফুটবলে গোলই শেষ কথা। শেষ মুহূর্তে একটি গোল হজম করে ম্যাচটি হারতে হয়েছে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে আমরা সন্তুষ্ট। এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করব।” মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি তরুণদের আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। আশ্বিনপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচটিও উপভোগ করতে বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের প্রশিক্ষণ
ঝিনাইদহে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের প্রশিক্ষণ একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কিশোরী ও সুশীল সমাজের সদস্যদের সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে ঝিনাইদহে ৩ দিনব্যাপী অ্যাডলোসেন্ট গার্লস ক্লাব (এজিসি) ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২৮ আগস্ট) শহরের এইড কমপ্লেক্সের প্রশিক্ষণ কক্ষে এ প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা। আরও উপস্থিত ছিলেন সার্ভিস এন্ড ভিশন এডিফাই (সেভ)’র নির্বাহী পরিচালক আয়াশা সিদ্দিক আশা, মনিটরিং অফিসার সুমাইয়া আক্তার দীনা, প্রজেক্ট কোর্ডিনেটর জাহিদ্দুজমান সেলিম, ফিল্ড অফিসার রোকনুজ্জামান। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়।সেভ’র আয়োজনে সিসু ও বান্ধব ডেনমার্কে’র সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষনে ঝিনাইদহ সদর ও শৈলকুপা উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন কিশোরী শিক্ষার্থী এবং ১০ জন শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ৩ দিন ব্যাপী এই প্রশিক্ষণে কিশোরীদের অধিকার, বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, সচেতনতা বৃদ্ধি, নেতৃত্বের দক্ষতা, ও সামাজিকভাবে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করেন আয়োজকরা।
ঝিকরগাছায় পুকুরে বিষ, ভেসে উঠল হাজারো মাছ!
ঝিকরগাছায় পুকুরে বিষ, ভেসে উঠল হাজারো মাছ! মহিউদ্দীন বাপ্পী,শার্শা বেনাপোল(যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের ঝিকরগাছায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। সকালে পুকুরে গিয়ে হাজার হাজার মাছ মরে পানিতে ভেসে থাকতে দেখে হতবাক হয়ে পড়েন পুকুর মালিক আব্দুল মান্নান। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বড়পোদাউলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুকুর মালিক আব্দুল মান্নান জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই পুকুরটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। গ্রামের প্রায় ১০ কাঠা জমির পুকুরটিতে রুই মাছের পোনা, মিলগেল জাপানি, বাটা, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। মাছগুলো ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগে মুহূর্তেই তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে পুকুরে গিয়ে দেখেন, পানিতে হাজার হাজার পোনা মাছ মরে ভেসে আছে। বড় মাছগুলোও পানিতে চিৎ হয়ে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তিনি পুকুরে নেমে পানিতে বিষের গন্ধ পান। পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারণে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। এতে তিনি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর আরে বলেন, “অনেক কষ্ট ও টাকা বিনিয়োগ করে মাছগুলো বড় করছিলাম। এখন সব শেষ হয়ে গেছে। যারা রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ দিয়ে আমার মাছ মেরে ফেলেছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।” এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল মান্নান জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
২১ বছরেও নেই সেন্ট্রাল ড্রেনেজ, অল্প বৃষ্টিতেই ভেসে যায় নোবিপ্রবির সড়ক-মাঠ
২১ বছরেও নেই সেন্ট্রাল ড্রেনেজ, অল্প বৃষ্টিতেই ভেসে যায় নোবিপ্রবির সড়ক-মাঠ মোঃ জাহিদ হাসান নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো গড়ে ওঠেনি সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক, খেলার মাঠ, আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনের আশপাশ। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসিন্দারা। বিশেষ করে বিবি খাদিজা হল ও আবদুল মালেক উকিল হলের সামনের সড়কে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। একই পরিস্থিতি দেখা যায় কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনের সড়কেও। পানি নামার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পর দীর্ঘ সময় ধরে সড়কগুলো পানিতে ডুবে থাকে। সঠিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডেও সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে বৃষ্টির পর মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কার্যকর সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুব্রত দে বলেন, প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও কোনো সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম রাখা হয়নি। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। আবাসিক হল থেকে বের হওয়া কিংবা ক্লাসে যাওয়া এখন চরম দুর্ভোগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।বর্ষা মৌসুমে খেলার মাঠ পানি জলাবদ্ধ হয়ে থাকে। ফলে মাঠটি খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুফাচ্ছেল হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিক না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। যার ফলে অনেকের পানিবাহিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে থাকে।তাছাড়া জলবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন পোকামাকড় ও মশার উপদ্রবও বাড়তে দেখা যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হক অমি বলেন, প্রশাসন তো আর পায়ে হেঁটে চলাচল করে না, তারা সব সময় গাড়িতে চলাফেরা করে। তাই আমাদের জলাবদ্ধতার ভোগান্তি তাদের চোখে পড়ে না। ড্রেনেজ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলো পানিতে ভেসে যায়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বছর যাওয়ার পরও পানি নিষ্কাশনের ভালো কোনো সিস্টেম না থাকা দুঃখের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। এতে সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম রাখা হয়েছে। তবে মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের আগেই প্রয়োজন অনুযায়ী পানি যাতে জমে না থাকে, সে জন্য এখন থেকেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
হিমালয়ের কোলে নেপাল কেন বারবার দুর্যোগের ফাঁদে?
হিমালয়ের কোলে নেপাল কেন বারবার দুর্যোগের ফাঁদে? ভূমিকম্প, হড়পা বান, ভূমিধস থেকে হিমবাহ—ভূগোলই কি ‘অভিশাপ’? বিশেষ প্রতিনিধি, সঞ্জয় মজুমদার হিমালয়ের কোলে ছোট্ট দেশ নেপাল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই দেশটিই আবার বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল। কখনও ভয়াবহ ভূমিকম্প, কখনও ভূমিধস, কখনও আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বান—প্রকৃতির একের পর এক আঘাতে বারবার বিপর্যস্ত হয় নেপালের জনজীবন। সাম্প্রতিক ঘটনাই তার ভয়াবহ উদাহরণ। ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে একটি বড় হিমবাহ ধসের পর বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল স্রোত নদীতে নেমে আসে। পরে তা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও debris flow-তে রূপ নেয়। US Geological Survey (USGS)-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ধস প্রায় ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নেমে গিয়ে নদীপথের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—নেপালেই কেন এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি এত বেশি? পাতের সংঘর্ষের ওপর দাঁড়িয়ে নেপাল এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে নেপালের ভূতাত্ত্বিক অবস্থানে। নেপাল ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে অবস্থিত। ভারতীয় প্লেট ক্রমাগত উত্তর দিকে সরে গিয়ে ইউরেশীয় প্লেটের নিচে প্রবেশ ও তার সঙ্গে সংঘর্ষ করছে। এই দীর্ঘস্থায়ী ভূ-প্রক্রিয়ার ফলেই হিমালয়ের সৃষ্টি এবং অঞ্চলটি এখনও অত্যন্ত সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক এলাকায় রয়েছে। ফলে নেপালে ভূমিকম্পের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আর শক্তিশালী ভূমিকম্প শুধু ভবন ধসায় না—পাহাড়ের ঢাল অস্থিতিশীল করে ভূমিধস, তুষারধস ও নদীপথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ২০১৫ সালের ভয়াবহ গোরখা ভূমিকম্পের পরও হিমালয়ের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভূমিধস ও পাহাড়ি ধসের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ একটি ভূমিকম্প অনেক সময় নিজেই শেষ বিপদ নয়; এর পর শুরু হতে পারে একাধিক ‘secondary hazard’। নেপালের ভূপ্রকৃতি অত্যন্ত দুর্গম। অল্প দূরত্বের মধ্যেই সমতল তরাই অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মিটার উচ্চতার পাহাড় ও পর্বতশৃঙ্গে পৌঁছে যাওয়া যায়। এই তীব্র উচ্চতার পার্থক্যের কারণে পাহাড়ের ঢাল অনেক জায়গায় অত্যন্ত খাড়া। বর্ষার প্রবল বৃষ্টি মাটির ভেতরে পানি ঢুকিয়ে ঢালের স্থিতিশীলতা কমিয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে বিশাল ভূমিধস নামতে পারে। আর পাহাড়ি নদীগুলো সরু উপত্যকা দিয়ে দ্রুতগতিতে নিচে নামে। ফলে ওপরের দিকে ভূমিধস, হিমবাহ ধস বা নদীপথে বাধা সৃষ্টি হলে নিচের জনপদে তার প্রভাব পৌঁছাতে সময় লাগে খুবই কম। এই কারণেই নেপালে একটি দুর্যোগ অনেক সময় আরেকটি দুর্যোগকে ডেকে আনে—ভূমিধস থেকে নদী বন্ধ, নদী বন্ধ থেকে হ্রদ, পরে বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা। নেপালের দুর্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ু। দেশটির বার্ষিক বৃষ্টিপাতের বড় অংশ মাত্র কয়েক মাসের বর্ষা মৌসুমে নেমে আসে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নেপালের বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিতে তীব্র মৌসুমি বৃষ্টিপাত, দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং দুর্বল ভূতাত্ত্বিক গঠন একসঙ্গে কাজ করে। বিশেষ করে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢাল দ্রুত পানি শোষণ করে ভারী হয়ে ওঠে। তখন ভূমিধসের পাশাপাশি নদীর পানিও হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে নেপালের বর্ষা মানেই শুধু বৃষ্টি নয়—একসঙ্গে বন্যা, ভূমিধস, সড়ক বিচ্ছিন্নতা ও পাহাড়ি জনপদের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা। নেপালের আরেকটি বড় ঝুঁকি উচ্চ হিমালয়ের হিমবাহ ও হিমবাহজাত হ্রদ। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। কোথাও বরফ গলছে, কোথাও নতুন বা বড় হিমবাহ-হ্রদ তৈরি হচ্ছে। সেই হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে নেমে আসতে পারে Glacial Lake Outburst Flood বা GLOF—অর্থাৎ হিমবাহজাত হ্রদের আকস্মিক প্লাবন। আর সাম্প্রতিক বিপর্যয়টি দেখিয়েছে, বিপদ শুধু হিমবাহ-হ্রদ থেকেই আসতে হবে এমন নয়। পাহাড়ের ওপর হিমবাহ ও শিলাস্তরের অস্থিতিশীলতা থেকেও বিশাল ধস নেমে নদীকে মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বন্যার উৎসে পরিণত করতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন কি ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে? বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ এখানেই সবচেয়ে বেশি। উচ্চ হিমালয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহের পশ্চাদপসরণ এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটির বরফ গলে যাওয়ার ফলে পাহাড়ি ঢালের স্থিতিশীলতা কমতে পারে। এতে ভূমিধস, শিলাধস, হিমবাহ ধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ঘটনাতেও বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন। তবে একটি নির্দিষ্ট দুর্যোগ সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। শুধু প্রকৃতি নয়, মানুষের বসতিও বাড়াচ্ছে ঝুঁকি নেপালের দুর্যোগের গল্পে শুধু প্রকৃতিকে দায়ী করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। পাহাড়ি নদীর তীর, ভূমিধসপ্রবণ ঢাল এবং সংকীর্ণ উপত্যকার আশপাশে জনবসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো গড়ে ওঠায় মানুষের ঝুঁকি বাড়ছে। কোথাও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, কোথাও পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ বা অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রাকৃতিক ঢালের স্থিতিশীলতাকে আরও দুর্বল করতে পারে। ফলে দুর্যোগের ‘hazard’ যখন মানুষের বসতি ও অবকাঠামোর সঙ্গে মিশে যায়, তখন তা পরিণত হয় বড় ধরনের ‘disaster’-এ। এক বিপদ থেকে আরেক বিপদ—নেপালের সবচেয়ে বড় সমস্যা নেপালের দুর্যোগকে তাই আলাদা আলাদা ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। একটি ভূমিকম্প ভূমিধস ঘটাতে পারে। ভূমিধস নদী আটকে দিতে পারে। নদীতে অস্থায়ী বাঁধ তৈরি হলে তার পেছনে পানি জমতে পারে। সেই বাঁধ ভেঙে গেলে নেমে আসতে পারে হড়পা বান। একইভাবে প্রবল বর্ষা ভূমিধস ঘটাতে পারে, আবার পাহাড়ি ঢালে জমে থাকা বরফ ও হিমবাহের অস্থিতিশীলতাও বাড়াতে পারে। অর্থাৎ নেপালের প্রকৃত ঝুঁকি শুধু ‘বন্যা’ বা ‘ভূমিকম্প’ নয়—বরং একাধিক প্রাকৃতিক বিপদের পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা। সাম্প্রতিক গবেষণাতেও নেপালের এই compound বা cascading disaster risk-এর বিষয়টি উঠে এসেছে। তাহলে কি নেপালের দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব? প্রকৃতির ভূতাত্ত্বিক অবস্থান বদলানো সম্ভব নয়। হিমালয়ের অবস্থানও বদলাবে না। কিন্তু বিপর্যয়ের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন— - ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল ও নদী অববাহিকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ; - হিমবাহ ও হিমবাহজাত হ্রদের উন্নত মনিটরিং; - দ্রুত কার্যকর Early Warning System; - ভূমিকম্প-সহনশীল অবকাঠামো; - ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপরিকল্পিত বসতি নিয়ন্ত্রণ; - পাহাড়ি সড়ক ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কঠোর পরিবেশগত ও ভূতাত্ত্বিক মূল্যায়ন; - স্থানীয় জনগণকে দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ও উদ্ধার প্রস্তুতির আওতায় আনা। ভূগোল ‘অভিশাপ’ নয়, কিন্তু ঝুঁকির বাস্তবতা নেপাল প্রকৃতির রোষে বারবার পড়ে—এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল নয়। তবে এর পেছনে কোনো অলৌকিক কারণ নেই। নেপালের অবস্থানই তাকে একই সঙ্গে ভূমিকম্প, ভূমিধস, বন্যা, হিমবাহ ধস ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে দাঁড় করিয়েছে। হিমালয়ের জন্ম যে ভূতাত্ত্বিক শক্তির কারণে, সেই শক্তিই আজও পাহাড়কে অস্থির রাখছে। বর্ষার বৃষ্টি সেই অস্থিরতাকে আরও বাড়ায়। আর উষ্ণ পৃথিবী হিমবাহ ও উচ্চ পর্বতাঞ্চলের ঝুঁকিকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। তাই নেপালের সামনে প্রশ্নটি শুধু ‘পরের দুর্যোগ কবে?’ নয়। প্রশ্ন আরও বড়—পরের দুর্যোগ আসার আগেই কতটা প্রস্তুত হতে পারবে হিমালয়ের এই দেশ?
মাটির গন্ধে ২৫ বছর, মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন অনিক পাল
মাটির গন্ধে ২৫ বছর, মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন অনিক পাল মহিউদ্দিন আহমেদ শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা: আধুনিকতার ছোঁয়ায় মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। একসময় ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত মাটির হাঁড়ি, কলসি, পাতিল, সরা কিংবা ফুলের টবের জায়গা দখল করেছে প্লাস্টিক, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের নানা পণ্য। তবুও সময়ের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসা বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পকে আঁকড়ে ধরে আছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা বাজারের ব্যবসায়ী অনিক পাল। লিটন পালের ছেলে অনিক পাল প্রায় ২৫ বছর ধরে মাওনা বাজারে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের ব্যবসা করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাটির সঙ্গে তার এই পথচলা শুধু জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়, বরং বাঙালির প্রাচীন লোকজ ঐতিহ্যকে ধরে রাখার এক ধরনের প্রচেষ্টাও। মাওনা বাজারে অনিক পালের দোকানে ঢুকলেই চোখে পড়ে নানা আকৃতি ও নকশার মাটির সামগ্রী। সারি সারি সাজানো রয়েছে মাটির কলসি, হাঁড়ি, পাতিল, সরা, ফুলের টব, বিভিন্ন ধরনের পাত্র, শোপিস ও সৌন্দর্যবর্ধক সামগ্রী। কোনোটি প্রাকৃতিক মাটির রঙে, আবার কোনোটি রঙের ছোঁয়ায় পেয়েছে নান্দনিক সৌন্দর্য। দোকানের এক পাশে বড় আকৃতির মাটির পাত্র, অন্য পাশে ছোট ছোট বাহারি সামগ্রী—সব মিলিয়ে দোকানটি যেন মাটির তৈরি পণ্যের এক ছোট্ট প্রদর্শনী। দোকানের ভেতর ও সামনে বিভিন্ন ধরনের মাটির তৈরি পণ্য সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে কিছু পণ্যে ব্যবহার করা হয়েছে উজ্জ্বল রং ও নকশা। বিশেষ করে ফুলের টব, বাহারি পাত্র, কলসি ও শোপিসের মতো পণ্যগুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি ঘর সাজাতেও ব্যবহার করা যায়। অনিক পাল জানান, প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আগের তুলনায় বর্তমানে মাটির তৈজসপত্রের ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। তারপরও মানুষের মধ্যে মাটির তৈরি পণ্যের প্রতি এক ধরনের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। অনেকে রান্না, পানি সংরক্ষণ কিংবা ঘর সাজানোর জন্য এখনো মাটির পাত্র কিনে থাকেন। একসময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরেই মাটির তৈরি সামগ্রীর ব্যাপক ব্যবহার ছিল। রান্নাঘরে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পানি রাখার জন্য কলসি, খাবার পরিবেশনের জন্য মাটির থালা-বাটি—সবকিছুতেই ছিল মাটির উপস্থিতি। মাটির পাত্রে রান্না করা খাবারের স্বাদ ও গন্ধ নিয়েও মানুষের মধ্যে রয়েছে আলাদা অনুভূতি। তবে সময়ের সঙ্গে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসায় এসব পণ্যের ব্যবহার কমে গেছে। বর্তমানে মৃৎশিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আধুনিক পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। প্লাস্টিক ও স্টিলের সামগ্রী তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় অনেকেই সেদিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি মাটির পণ্যের কাঁচামাল, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদেরও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও মাটির তৈরি পণ্যের চাহিদা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বর্তমানে ঘর সাজানো, বাগান করা, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং শৌখিন ব্যবহারের জন্য মাটির পাত্র ও সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে নান্দনিক নকশায় তৈরি ফুলের টব, কলসি ও বিভিন্ন শোপিস নতুন প্রজন্মের কাছেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে। মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য কারিগরের জীবন-জীবিকা। মাটি সংগ্রহ থেকে শুরু করে সেটিকে উপযোগী করা, চাকায় ঘুরিয়ে পাত্র তৈরি, শুকানো, পোড়ানো এবং পরে রং ও নকশা করার প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন হয় দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। একটি মাটির পণ্য ক্রেতার হাতে পৌঁছানোর আগে এর পেছনে থাকে কারিগরের শ্রম, সময় ও সৃজনশীলতা। অনিক পালের মতো ব্যবসায়ীরা সেই পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রাচীন এই শিল্পের ধারাটিও টিকিয়ে রাখছেন। তার দোকানে সাজানো প্রতিটি মাটির পাত্র যেন বাংলার গ্রামীণ জীবনের পুরোনো দিনের গল্প বলে। মাটির তৈরি এসব সামগ্রীর মধ্যে একদিকে যেমন রয়েছে ব্যবহারিক প্রয়োজন, অন্যদিকে রয়েছে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছাপ। পরিবেশবিদ খোরশেদ আলম বলেন, মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কারিগর ও ব্যবসায়ীদের সরকারি-বেসরকারিভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে এই শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি আধুনিক ডিজাইন ও নতুন পণ্য তৈরি করে মাটির সামগ্রীকে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। মাওনা বাজারে ২৫ বছরের ব্যবসায়িক পথচলায় অনিক পাল তাই শুধু মাটির পাত্র বিক্রি করছেন না; তার দোকানের প্রতিটি মাটির সামগ্রীর মধ্য দিয়ে যেন টিকে আছে বাংলার পুরোনো দিনের এক টুকরো সংস্কৃতি। আধুনিকতার ভিড়ে মাটির সেই গন্ধ হারিয়ে না গিয়ে নতুন প্রজন্মের হাত ধরে আরও দূর এগিয়ে যাক—এটাই প্রত্যাশা।
কালিগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে
কালিগঞ্জে মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জের বন্দকাটি গ্রামের মাদক সিন্ডিকেটের কবল থেকে এক সাংবাদিকের ফোন উদ্ধার করা হয়েছে এএসআই এরশাদের নেতৃত্বে। দীর্ঘ ২ মাস রুদ্ধশ্বাস অভিযানের ফলে এই ফোন উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, কালিগঞ্জ উপজেলার ভয়াবহ মাদকের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে কৃষ্ণনগর বিষ্ণুপুর ও দক্ষিণশ্রীপুর ইউনিয়ন মিলে। এই সিন্ডিকেট দীর্ঘবছর ধরে সরাসরি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে কালিগঞ্জ উপজেলার খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে আসছে। সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসার কারণে এই এলাকায় সহজে মিলছে মরণঘাতী মাদক ইয়াবা। হাতের নাগালে ইয়াবা পাওয়ার কারণে অল্প বয়সী যুবক থেকে মধ্য বয়সী যুবকরা ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়েছে। প্রতিপিছ ইয়াবা বিক্রি হয় খুচরা ৩৫০ টাকা দরে আর পাইকারী ২৫০-২৮০ টাকা দরে। ইয়াবার টাকা যোগাড় করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ওই এলাকায় চুরি ডাকাতি ছিনতাই বেড়ে গেছে। ছোট ছোট দল নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে কিশোরগাং। যারা চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি ডাকাতি করে সর্বস্ব লুট করছে। যার ফলে এলাকায় বসবাস করতে পারছে না সাধারণ মানুষ। এমতাবস্থায় একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিক টিম অত্র এলাকায় অবস্থান করে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে। টানা ৭ দিন অনুসন্ধান করে কিশোরদের ইয়াবাসেবন ভিডিও, মাদককেনাবেচার ভিডিও ও সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা আসার রুট কল রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। অনুসন্ধান শেষে সাতক্ষীরা ফেরার দিন রাতে সাংবাদিক মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর অবস্থানরত বাসা থেকে মাদক সিন্ডিকেট তথ্যবহুল তার ব্যবহৃত দুটি ফোন ও একটি স্বর্ণের আংটি রাতে ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। এই সিন্ডিকেটের মূল উদ্দেশ্য ছিল অনুসন্ধানী ফুটেজগুলো নষ্ট করা যাহাতে মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ না করতে পারে। এই সিন্ডিকেটের সদস্য বন্দকাটি গ্রামের আবু সাইদের পুত্র বিপ্লব হোসেন, যোগেস্বর সরকার, সৌরভ সরকার নেতৃত্বে এক মাদক সম্রাটের নির্দেশে ফোন ডাকাতির পর বিক্রি করে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুরে গ্রামের বাবু ডাকাতের কাছে। বাবু ডাকাত ফোনটি বিক্রি করে একই গ্রামের মনিরুল কাগুজীর কাছে। মনিরুল কাগুজী ফোনটি বিক্রি করে তার সাবেক স্ত্রী তাহমিনার কাছে যে বসবাস করে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায়। পুলিশের বিশেষ টিমের ফোন ট্যাকিং করা হলে এসকল তথ্য পা-ওয়া যায়। পরবর্তীতে কালিগঞ্জ থানার দক্ষ পুলিশ অফিসার এরশাদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি ধরা পড়ে। এই চক্রটি এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কিশোর গাং সৃষ্টি, চুরি ডাকাতির সাথে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা অবস্থা অবনতি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুশীল নাগরিক সমাজ। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ মোস্তফা বলেন, কালিগঞ্জের ভয়াবহ মাদকের সিন্ডিকেট এই বন্দকাটি গ্রামে। প্রকাশ্য ইয়াবা বিক্রির ফলে কিশোর থেকে যুবক সকলে ইয়াবা আসক্ত। যার ফলে এলাকায় চুরি ডাকাতি বেড়ে চলেছে। মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ আজ নিরুপায় এদের ভয়ে মুখ খুলতে পারে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি আমরা দ্রুত এই পরিস্থিতির উত্তরণ চাই। কালিগঞ্জ থানায় কর্মরত এএসআই এরশাদ বলেন, কালিগঞ্জের বন্দকাটি মাদকের একটি বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে। এই মাদক সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক খুব শক্তিশালী। আমি শুনেছি তারা সরাসরি টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে আসে প্রকাশ্য বিক্রি। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকীর তথ্যবহুল ফোন দুটি চুরি করে। আমরা বিশেষ কারিগরি সহয়তায় একটি ফোন উদ্ধার ও চোর সনাক্ত করি। বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্দকাটিতে প্রকাশ্য ইয়াবা বিক্রি ফলে চুরি ডাকাতি বেড়ে গেছে। এলাকায় বাসা বাড়ি থেকে মানুষের পালিত হাস মুরগিও চুরি করছে। বন্দকাটি কয়েকটি কিশোর গাং আমরা সনাক্ত করেছি। এদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গিয়ে এক সাংবাদিকদের দুটি ফোন ও সোনার আংটি চুরি করে। এই চোরচক্রের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী। প্রায় দুই মাস ধরে রুদ্রশ্বাস অভিযানে পুলিশের বিশেষ কারিগরি সহায়তায় ফোন উদ্ধার করে চোর সনাক্ত করা হয়েছে।
নোবিপ্রবিতে ১১ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি
নোবিপ্রবিতে ১১ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি মোঃ জাহিদ হাসান নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করতে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জুন ২০১৫ থেকে মে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নয়ন, আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্য যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। আর সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন-নোবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও নোবিপ্রবি রিজেন্ট বোর্ডের একজন সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) একজন উপযুক্ত প্রতিনিধি। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। পরে এসব বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) তামজিদ হোছাইন চৌধুরী বলেন, “রিজেন্ট বোর্ডের ৭০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া সার্বিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”