বাংলাদেশ বার্তা টুডে
পঞ্চগড়ের পাঁচবারের সাবেক মেয়র তৌহিদুল ইসলাম আর নেই
পঞ্চগড়ের পাঁচবারের সাবেক মেয়র তৌহিদুল ইসলাম আর নেই পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড় | ৩১ আগস্ট ২০২৬ পঞ্চগড় পৌরসভার পাঁচবারের সাবেক মেয়র, পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. তৌহিদুল ইসলাম আর নেই। রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আলহাজ্ব মো. তৌহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন পঞ্চগড়ের স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র হিসেবে পাঁচবার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দল-মত নির্বিশেষে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জনসেবা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং হাসপাতালে মরহুমকে দেখতে ছুটে যান বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি। তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুতে পঞ্চগড়বাসী একজন দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবককে হারালেন। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে।
মান্দায় ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে, ৪ মাস পর তরুণীকে নিয়ে উধাও যুবক: আতঙ্কে পরিবার
মান্দায় ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে, ৪ মাস পর তরুণীকে নিয়ে উধাও যুবক: আতঙ্কে পরিবার মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলায় নিজের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা গোপন করে এবং ভুয়া জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে এক তরুণীকে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রায় ৪ মাস পর গভীর রাতে ওই তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ চকবাবুল গ্রামে। নিখোঁজ তরুণীর নাম সুমাইয়া আক্তার। পরিবারের দাবি, চলতি বছরের ২০ মার্চ স্থানীয় একটি কাজী অফিসে ইমরান নামে এক যুবকের সঙ্গে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। তরুণীর পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের সময় ওই যুবক নিজেকে মো. ইমরান, পিতা ইব্রাহিম হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় তিনি যে জন্মনিবন্ধন দেখান, তাতেও একই পরিচয় উল্লেখ ছিল। সেখানে তার ঠিকানা হিসেবে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের বড় মেরুং গ্রামের কথা উল্লেখ করা হয়। বিয়ের পর ইমরান পরিচয় দেওয়া ওই যুবক সুমাইয়াকে নিয়ে মান্দায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন। প্রায় চার মাস পর গত ১৭ জুলাই গভীর রাতে সুমাইয়াকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাড়ি থেকে চলে যান বলে অভিযোগ পরিবারের। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সুমাইয়ার সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে গত ২১ জুলাই থেকে তার সঙ্গে পরিবারের কারও কোনো ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফোনেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে খোঁজ করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ইমরান নামে পরিচয় দেওয়া ওই যুবকের প্রকৃত নাম দ্বীপ্পো চাকমা বলে তারা দাবি করছেন। তার বাবার নাম গোলক চাকমা, মায়ের নাম কল্পনা চাকমা এবং বর্তমান ঠিকানা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বড়দাম গ্রাম বলে তথ্য পেয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। সুমাইয়ার মা বলেন, “বিয়ের সময় আমার মেয়েকে নিজের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা ভিন্নভাবে জানিয়েছিল। বিয়ের পর প্রায় চার মাস আমাদের বাড়িতেই ছিল। পরে রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। মেয়েটা কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না। এতে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় দেখানো জন্মনিবন্ধন নিয়েও অসঙ্গতি রয়েছে। ওই যুবকের প্রকৃত পরিচয় ও মেয়ের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরিবারের স্বজনরা জানান, মেয়েকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত যুবক বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম মহানগর নাগরিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠিত সভাপতি হামিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া,সাংগঠনিক সম্পাদক অরূপ চন্দ্র
বৃহত্তম চট্টগ্রাম মহানগর নাগরিক ফোরামের নতুন কমিটি গঠিত সভাপতি হামিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়া,সাংগঠনিক সম্পাদক অরূপ চন্দ্র মিলন বৈদ্য শুভ, চট্টগ্রাম (প্রতিনিধি): নাগরিক ফোরামের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আবু সাঈদ ও মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিনের অনুমোদনক্রমে ‘বৃহত্তম চট্টগ্রাম মহানগর নাগরিক ফোরাম’-এর নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে হামিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুলাল কান্তি বড়ুয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অরূপ চন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফোরাম সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখাই নবগঠিত কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নগরবাসীর নাগরিক অধিকার, বিভিন্ন সমস্যা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফোরামের নেতৃবৃন্দ জানান, আগামী দিনে চট্টগ্রাম মহানগরের নাগরিক সমস্যা সমাধানে নবগঠিত কমিটির তিন নেতার নেতৃত্বে নগরবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি জনগণের কল্যাণে ফোরামের সাংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে প্রাথমিকভাবে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রাজনীতিতে শিষ্টাচার: ভিন্নমত হোক যুক্তির, ভাষা হোক সভ্যতার
রাজনীতিতে শিষ্টাচার: ভিন্নমত হোক যুক্তির, ভাষা হোক সভ্যতার মোহাম্মদ হাসান পক্ষ-বিপক্ষ, মত-মতান্তর, ভিন্নমত কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা—এসব রাজনীতির চিরাচরিত উপাদান। রাজনীতি যেখানে মত ও আদর্শের সংঘাতের ক্ষেত্র, সেখানে মতবিরোধ থাকবেই। পরনিন্দা, সমালোচনা কিংবা প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করাও গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ। কিন্তু মতের অমিল যখন পারস্পরিক অশ্রদ্ধা, ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশ্লীলতা ও রুচিহীন ভাষায় রূপ নেয়, তখন তা আর সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ থাকে না। বরং তা রাজনীতির সৌন্দর্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ—দুটোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। একসময় রাজনীতির মঞ্চে এমন কিছু স্লোগান উচ্চারিত হয়েছে, যা মানুষের মস্তিষ্কে ঝড় তুলেছে, চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে, রাজনৈতিক আবেগকে নাড়া দিয়েছে। স্লোগান ছিল তীক্ষ্ণ, বক্তব্য ছিল কঠোর; কিন্তু ভাষায় ছিল ছন্দ, বক্তব্যে ছিল রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি ন্যূনতম শালীনতার সীমারেখা। এখন সেই রাজনৈতিক ভাষার জায়গায় কোথাও কোথাও ঢুকে পড়ছে অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ শব্দ, ব্যক্তিগত কটাক্ষ এবং এমন সব ‘শব্দবোমা’, যা উচ্চারণ করতেও বিবেকে বাধে। প্রশ্ন হলো—এ কোন রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে আমরা এগোচ্ছি? মুখ মানুষের কথা বলার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই মুখ দিয়ে যা ইচ্ছা বলা যেমন সভ্যতার পরিচয় নয়, তেমনি যা ইচ্ছা খাওয়াও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। কথারও একটি খাদ্যবিধি আছে—সেখানে যুক্তি থাকবে, সৌজন্য থাকবে, সংযম থাকবে। রাজনৈতিক বক্তব্য যত কঠোরই হোক, তাতে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও সামাজিক শালীনতার সীমা অতিক্রম করার কোনো প্রয়োজন নেই। অশালীন ভাষায় হয়তো মুহূর্তের জন্য মাঠ গরম করা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হাইপ’ তৈরি করা যায়, কয়েক দিনের জন্য ভাইরাল হওয়া যায়। কিন্তু ভাইরাল হওয়া আর মর্যাদা অর্জন করা এক কথা নয়। আলোচনায় আসা আর ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়াও এক বিষয় নয়। সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকে যুক্তি, আদর্শ, নেতৃত্বের প্রজ্ঞা ও আচরণ; গালিগালাজ কিংবা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য নয়। রাজনীতিতে শিষ্টাচার কোনো দুর্বলতা নয়; বরং এটি একজন রাজনীতিকের শক্তির পরিচয়। যে নেতা প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেও তাকে সম্মান করতে জানেন, তিনিই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারক। কারণ গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো—আমি আপনার মতের সঙ্গে একমত নই, কিন্তু আপনার মত প্রকাশের অধিকারকে অস্বীকার করছি না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র গালি নয়, যুক্তি। অপমান নয়, তথ্য। হুমকি নয়, জনগণের আস্থা। একজন নেতার আচরণ তার কর্মীদের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। নেতৃত্বে যদি শিষ্টাচার, সংযম ও সৌজন্য থাকে, কর্মীদের মধ্যেও তার প্রতিফলন ঘটে। বিপরীতে নেতৃত্ব যদি প্রতিপক্ষকে অপমান করাকে রাজনৈতিক যোগ্যতার মাপকাঠি বানিয়ে ফেলে, তাহলে কর্মীদের কাছ থেকেও সভ্য ও সংযত আচরণ প্রত্যাশা করা কঠিন। দলীয় ক্ষমতার মোহে কাউকে গালিগালাজ করলেই কেউ বড় নেতা হয়ে যান না। বড়জোর কিছুদিন আলোচনায় থাকা যায়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করা যায় না। দুঃখজনকভাবে সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্নমতকে গালিগালাজ ও অপমান করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার অনেকটাই উচ্চারণ বা লেখার অযোগ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অংশ এই প্রবণতাকে শুধু জায়গাই দিচ্ছে না, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে উৎসাহও দিচ্ছে। ফলে যুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে ব্যক্তিকে একটি তকমা লাগিয়ে দেওয়া, অর্ধসত্য বা খণ্ডিত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া, বিদ্বেষ উসকে দেওয়া এবং প্রতিপক্ষকে হেয় করাই যেন সহজ পথ হয়ে উঠেছে। এখানে সবচেয়ে বড় আশঙ্কার জায়গাটি হলো—এই ভাষা কেবল রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। তা সমাজের বৃহত্তর অংশে ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত যে ভাষা ও আচরণ আমরা দেখি, তা তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক ও সামাজিক মনোজগতেও প্রভাব ফেলছে। যুক্তির জায়গায় গালিগালাজ, মতবিরোধের জায়গায় অপমান এবং শ্রদ্ধার জায়গায় বিদ্বেষ প্রতিষ্ঠিত হলে একটি প্রজন্ম ধীরে ধীরে সহনশীলতা ও সংলাপের সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলবে। কোনো সভ্য সমাজের জন্য এটি শুভ লক্ষণ নয়। এখানে এসে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দিকেও তাকাতে হয়। দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়ছে, শিক্ষার হার বাড়ছে, উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ছে; কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—নৈতিক মানুষ কতটা বাড়ছে? শিক্ষিত হওয়া আর সুশিক্ষিত হওয়া এক বিষয় নয়। ডিগ্রি একজন মানুষকে শিক্ষিত পরিচয় দিতে পারে, কিন্তু নৈতিকতা তাকে প্রকৃত অর্থে মানুষ করে। দুর্নীতি, ঘুষ, প্রতারণা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার কেবল অশিক্ষিত মানুষের হাতে ঘটে না; বরং শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত মানুষের একটি অংশও এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এখানেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য ও ব্যর্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে। আমরা কি শুধু চাকরির বাজারের জন্য মানুষ তৈরি করছি, নাকি বিবেকবান নাগরিকও তৈরি করছি? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং উন্নত চরিত্র গঠনের বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। কারণ একজন মানুষ কত বড় পদে গেলেন, কত ডিগ্রি অর্জন করলেন কিংবা কত অর্থ উপার্জন করলেন—এসবের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তিনি মানুষ হিসেবে কতটা সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক। রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের সঙ্গেও শিক্ষার এই সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। আমরা রাজনীতি নিয়ে যতটা আলোচনা করি, শিক্ষা নিয়ে ততটা করি না। ঘরে, বাইরে, অফিস-আদালতে, হাট-বাজারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে—রাজনীতি নিয়ে আমাদের আগ্রহের কমতি নেই। অথচ একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষার ভূমিকা নিয়ে সেই মাত্রায় সামাজিক ও রাজনৈতিক আলোচনা খুব একটা দেখা যায় না। রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে যেমন আলোচনা হয়, তেমনি শিক্ষা সংস্কার নিয়েও সমান গুরুত্বে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। কারণ সৎ, দায়িত্বশীল ও নৈতিক নাগরিক ছাড়া কোনো সংস্কারই স্থায়ী হতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বদলানো সম্ভব, আইন পরিবর্তন করা সম্ভব, নীতিমালা সংশোধন করা সম্ভব; কিন্তু মানুষের নৈতিক চরিত্রের পরিবর্তন ছাড়া এসব উদ্যোগের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন। তাই রাজনৈতিক সংস্কারের আলোচনায় ‘শিষ্টাচার’কে প্রান্তিক কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক শিষ্টাচার আসলে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অন্যতম ভিত্তি। প্রতিপক্ষকে সম্মান করা, ভিন্নমত সহ্য করা, যুক্তির মাধ্যমে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করা, ভুল হলে তা স্বীকার করার মানসিকতা তৈরি করা—এসবই সভ্য রাজনীতির লক্ষণ। আমাদের মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ শত্রু নয়। আজ যে ব্যক্তি আপনার প্রতিপক্ষ, আগামীকাল কোনো জাতীয় স্বার্থে তার সঙ্গে একই টেবিলে বসতে হতে পারে। মতের অমিল থাকতেই পারে; কিন্তু সম্পর্কের দরজা বন্ধ করে দেওয়া গণতন্ত্রের পথ নয়। বরং গণতন্ত্রের শক্তি হলো মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও সহাবস্থান। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, তর্ক থাকবে, তীব্র সমালোচনা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যেন চরিত্রহননে পরিণত না হয়, সমালোচনা যেন অশ্লীলতায় না নামে এবং প্রতিবাদ যেন অসভ্য ভাষার আশ্রয় না নেয়—এই সীমারেখাটি আমাদের নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে। কারণ ভাষা শুধু শব্দের সমষ্টি নয়; ভাষা একটি সমাজের রুচি, সংস্কৃতি ও মানসিকতার প্রতিচ্ছবি। আজ আমরা যে ভাষা ব্যবহার করছি, আগামী প্রজন্ম সেই ভাষাই উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে। তাই রাজনীতিকদের দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্র পরিচালনা বা ক্ষমতার রাজনীতি করা নয়; সমাজের ভাষা ও আচরণের মানও নির্ধারণ করা। নেতারা যদি সংযত হন, কর্মীরাও সংযম শিখবেন। নেতারা যদি যুক্তি দিয়ে কথা বলেন, কর্মীরাও যুক্তির মূল্য বুঝবেন। আর নেতারা যদি গালিগালাজকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানান, তাহলে সেই বিষ সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়বে। সুতরাং সময় এসেছে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন করে শিষ্টাচারের চর্চা ফিরিয়ে আনার। ভিন্নমত থাকবে, মতবিরোধ থাকবে, কঠোর সমালোচনাও থাকবে—কিন্তু ভাষা হবে সভ্য, বক্তব্য হবে যুক্তিনির্ভর এবং আচরণ হবে দায়িত্বশীল। রাজনীতিকে যদি সত্যিই জনকল্যাণের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হয়, তাহলে গালির বদলে যুক্তি, বিদ্বেষের বদলে সহনশীলতা, অপমানের বদলে সম্মান এবং অশালীনতার বদলে শিষ্টাচারকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির মানদণ্ড করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু পরীক্ষার ফল, সনদ কিংবা চাকরির বাজারের প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নৈতিক ও মানবিক মানুষ তৈরির অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কারণ শিক্ষা যদি বিবেক তৈরি না করে, রাজনীতি যদি শিষ্টাচার শেখাতে না পারে এবং সমাজ যদি ভিন্নমতকে সম্মান করতে না শেখে—তাহলে উন্নয়নের বাহ্যিক চাকচিক্য যতই বাড়ুক, একটি সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব হবে না। দিনশেষে রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ক্ষমতা নয়, মানুষের আস্থা। আর সেই আস্থা অর্জনের প্রথম শর্ত—শিষ্টাচার। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
লালমনিরহাটে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে চুরি
লালমনিরহাটে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে চুরি হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের আদিতমারীতে খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বাড়ির সর্বস্য লুটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ৬দিনেও তদন্ত শেষ করেনি পুলিশ। অভিযুক্তের হুমকীতে শ্বঙ্কিত ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার। ভুক্তভোগির অভিযোগে প্রকাশ, আদিতমারী উপজেলা টেপা পলাশী গ্রামের মৃত নুর হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম জমি ক্রয় করতে গরুসহ বিভিন্ন পন্য বিক্রি করে সাড়ে ৪লাখ টাকা জমিয়েছেন। সারা দেশে ভবঘুরে ঘুরে বেড়ানো প্রতিবেশি চিহ্ণিত চোর নওশের আলী এ খবর পেয়ে সাম্প্রতি বাড়িতে আসেন। গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যায় মনিরুলের বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ অপ্রয়োজনীয় গল্পগুজব করেন। এক পর্যায়ে তাদের বাড়ির রান্না করা খাবার টেবিলে রেখে গৃহবধু অন্যকাজে রুমের বাহিরে যান। এ সুযোগে খাবারে চেতনা নাশক কিছু মিশিয়ে বাড়ি থেকে ছটকে পড়েন নওশের আলী। পরে তারা সবাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন তাদের বাড়ির কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশিরা তাদের আত্নীয়দের ফোন করে ডেকে এনে বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখতে পান সবাই ঘুমে অচেতন ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো। পরে স্থানীয়রা মনিরুল তার স্ত্রী রাবেয়া ও ছেলে মুন্না মিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ্য হলে তারা বুঝতে পারেন নওশের তাদের জমানো সাড়ে ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করতে তাদের খাবারে চেতনানশক মিশিয়েছে। এ ঘটনায় কৃষক মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে নওশের আলীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল তদন্ত করলেও অদৃশ্য কারনে ৬দিনেও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত বা চোরাই পন্য উদ্ধারে সফল হয়নি পুলিশ। অন্যদিকে থানায় অভিযোগ দেয়ার খবরে ক্ষিপ্ত হয়ে নওশের আলী বাদিকে দেখে নেয়ার হুমকী দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগির। মনিরুল ইসলামের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বলেন, নওশের চিহ্ণিত চোর। সব সসয় দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি করে। কিছুদিন হলো বাড়ি এসেছে। জমি কেনার কথা শুনে সেদিন হঠাৎ আমার বাড়িতে এসে অপ্রয়োজনীয় গল্পগুজব করে। খাবার টেবিলে খাবার রেখে আমি বাহিরে গেলে সে কিছু সময় একা থেকে আমাদেরকে না বলেই বাড়ি ত্যাগ করে। বাদি মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা রাতের খাবার খেয়ে অচেতন হয়ে পড়ি। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি হাসপাতালে। আমার নগদ টাকা সাড়ে ৪লাখ ও স্বার্ণালঙ্কার চুরি করেছে নওশের। বিষয়টি থানাকে লিখিত অবগত করলে আজ কাল বলে বিলম্ব করে মঙ্গলবার রাতে জানায় মামলা এখানে হবে না। আদালতে মামলা করতে বলেন ওসি। চোর মোটা অঙ্কে টাকায় থানাকে কিনেছে। তাই আমাদের মামলা নেয়নি। এমনকি অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি। তবে অভিযুক্ত নওশের আলী মুঠোফোনে বলেন, আমি এলাকাতেই কম থাকি, তাদের বাড়িও যাইনি। তারা অসুস্থ্য হয়েছিল তা শুনেছি। চুরির অভিযোগ আপনার উপরে কেন? এমন প্রশ্নে তিনি ফোন কেটে দেন। আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত চোরাই পন্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি। আইনে সুযোগ রয়েছে তদন্ত করেই মামলা নেয়ার। আর অভিযুক্ত পালিয়ে যাবে কোথায়?। মামলা না নেয়া বা হয়রানীর করা যে অভিযোগ বাদির তা সঠিক নয়। আমি নিজেই তদন্তে যাবো।
গরুর খামারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, খেলেন দুধ; দেখলেন ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি
গরুর খামারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, খেলেন দুধ; দেখলেন ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ব্যতিক্রমী সফরে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালিত গরুর খামার পরিদর্শন, খামারে উৎপাদিত দুধ পান এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি ঘুরে দেখলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ী ইউনিয়নে প্যারাগন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের খামার পরিদর্শনে যান তিনি। পরে একই ইউনিয়নের চন্দনের হাটে গিয়ে সরিষা থেকে ঘানিতে তেল তৈরির প্রাচীন পদ্ধতি প্রত্যক্ষ করেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খাপরিখাল এলাকায় প্যারাগন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের ডেইরি ফার্মে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডিয়েন ডাওসহ মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। খামার ঘুরে দেখার সময় রাষ্ট্রদূতকে উন্নত জাতের প্রায় ১ হাজার ২০০ গরুর পালন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গাভির পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত জাতের গরুর প্রজনন নিয়েও তারা বিস্তারিত জানান। প্যারাগন ডেইরির কর্মকর্তারা জানান, দুধ উৎপাদন বাড়াতে গরুর পুষ্টির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা সয়াবিন, ভুট্টাসহ বিভিন্ন উন্নতমানের পশুখাদ্য উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমেরিকান জেনেটিক্স ব্যবহার করে উন্নত জাতের গরু পালনের কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। পরিদর্শনকালে খামারের ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। পরে খামারে উৎপাদিত দুধ পান করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত খামার পরিদর্শন শেষে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, উন্নত জেনেটিক্স ও মানসম্মত পশুখাদ্য বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এসব কৃষিপণ্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্যও বাংলাদেশে নতুন বাজারের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এরপর বেতগাড়ী ইউনিয়নের চন্দনের হাটে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেখানে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী তেলের ঘানি ঘুরে দেখেন তিনি। সরিষা থেকে ঘানিতে তেল উৎপাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান এবং এ পদ্ধতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। গ্রামবাংলার পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি দেখে আগ্রহ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “ঘানিভাঙা সরিষার তেল তৈরির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি এখনও সুন্দরভাবে টিকে আছে দেখে ভালো লাগল।” রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তার স্ত্রী ডিয়েন ডাও, মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা নিকোল ক্লারিসা বেসনার্ড, সৈয়দ ফাইজুস সালেহিন ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ। এ সময় রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল হাই সরকার, রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস ছবুর এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। পরে সকাল ১১টার দিকে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গঙ্গাচড়া ত্যাগ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্যারাগন ডেইরি ফার্মে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ সফর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। উন্নত জেনেটিক্স ও মানসম্মত পশুখাদ্যের ব্যবহার বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রপ্তানিকারকদের জন্য বাংলাদেশে নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
রাণীনগরে বাছুরসহ ছয় গরুর নিলাম স্থগিত
রাণীনগরে বাছুরসহ ছয় গরুর নিলাম স্থগিত মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর রাণীনগর থানা চত্বরে এক মাসের বেশি সময় ধরে রাখা পাঁচটি উদ্ধার করা গরুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি বাছুর। একটি গরু থানায় থাকা অবস্থায় এঁড়ে বাছুর জন্ম দেওয়ায় বর্তমানে গরুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ টি তে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে আদালতের নির্দেশে এসব গরুর নিলাম স্থগিত করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই র্যাবের সহযোগিতায় নাটোরের নলডাঙ্গা এলাকা থেকে আসলাম নামের এক গরু চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ১৫ জুলাই ভোরে নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছোট চৌগ্রাম এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় অসিত নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে তার গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি গরু উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মধ্যে একটি গরু তখন গর্ভবতী ছিল। উদ্ধার করা গরুগুলোর প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়ায় আদালতের নির্দেশে সেগুলো রাণীনগর থানায় রাখা হয়। পরে চুক্তিভিত্তিক একজন ব্যক্তির মাধ্যমে গরুগুলোর খাবার ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। থানায় থাকা অবস্থাতেই একটি গরু সম্প্রতি বাছুর জন্ম দেয়। এদিকে, নওগাঁর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর গত ২৭ আগস্টের নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বাছুরসহ ছয়টি গরু ৩০ আগস্ট বিকেল ৩টায় রাণীনগর থানা চত্বরে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির সময় নির্ধারণ করা হয়। নিলামে অংশগ্রহণকারীদের পাঁচ হাজার টাকা জামানত এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিলামের নির্ধারিত সময়ের আগেই পপি রাণী হালদার নামে এক নারী নিলাম স্থগিতের আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। আবেদনটি বিচারাধীন থাকায় ৩০ আগস্ট আদালতের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে নিলাম কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। ফলে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাণীনগর থানায় থাকা বাছুরসহ ছয়টি গরুর নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
তেঁতুলিয়ায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা, আসামি ধরতে পুলিশের অভিযান
তেঁতুলিয়ায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা, আসামি ধরতে পুলিশের অভিযান পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় | ৩০ আগস্ট ২০২৬ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের পর অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় সানোয়ার হোসেন (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হচ্ছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে শিশুটির বাবা মাসুদ আলী বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। রোববার সকালে তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত যেই হোক, তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট তেঁতুলিয়ার টাইয়াগছ এলাকায় শিশুটির সঙ্গে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপের কারণে চিকিৎসা কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি আপোষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে স্থানীয় লোকজন ঝাড়ু ও জুতা হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড় জাতীয় মহাসড়কের শালবাহান ইউনিয়নের রবীন্দ্র সরণী বাইপাস এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর মামলা করতে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধেও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং মামলা না করার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। তবে সুলতানা রাজিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। অবরোধের খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসাইন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, থানার ওসি লাইছুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। ইউএনও আনোয়ার হোসাইন জানান, শিশুটির পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা হওয়ার পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত সানোয়ার হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিবেশী একটি পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরে সানোয়ার হোসেনকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্য ও অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গঙ্গাচড়ায় দুঃস্থদের জন্য ডাসের মানবিক উদ্যোগ
গঙ্গাচড়ায় দুঃস্থদের জন্য ডাসের মানবিক উদ্যোগ মোঃ শফিকুজ্জামান সোহেল গঙ্গাচড়া রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ করেছে দুঃস্থ উন্নয়ন সংস্থা (ডাস)। একই অনুষ্ঠানে আয়োজিত হয়েছে মতবিনিময় সভা। রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার ডাক্তারপাড়া এলাকায় দুঃস্থ উন্নয়ন সংস্থার (ডাস) সম্মেলন কক্ষ ও কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ১০ জন দুঃস্থ ও অসহায় উপকারভোগীর প্রত্যেককে দুটি করে মোট ২০টি ছাগল দেওয়া হয়। আয়োজকদের আশা, ছাগল পালনের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ধীরে ধীরে আয় বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। দুঃস্থ উন্নয়ন সংস্থার (ডাস) নির্বাহী পরিচালক মো. চাঁদ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, দুঃস্থ মানুষের হাতে সম্পদ তুলে দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ছাগল পালনের মাধ্যমে উপকারভোগীরা নিজেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারবেন। এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হলে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গাচড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক, কবি, লেখক, সাহিত্য ও শিল্পী আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক, প্রগতি ব্যায়ামাগার গঙ্গাচড়ার নির্বাহী পরিচালক সিফাত জাহান এবং দুঃস্থ উন্নয়ন সংস্থার (ডাস) প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাখাওয়াত হোসেন সোহাগ। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে ডাসের নির্বাহী পরিচালক মো. চাঁদ মিয়া বলেন, দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। শুধু সহায়তা নয়, উপকারভোগীদের আয় করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। ছাগল বিতরণের এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলে অসহায় মানুষও নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন। এ জন্য ভবিষ্যতেও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন (BNF), ঢাকার সহযোগিতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করে দুঃস্থ উন্নয়ন সংস্থা (ডাস), ডাক্তারপাড়া, গঙ্গাচড়া, রংপুর।
বিএনপি'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ধামইরহাট উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রবীণ নেতা মোঃ আখরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি: মোঃ মোস্তাকিন হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার সর্বস্তরের জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ নেতা ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আখরাজুল ইসলাম চৌধুরী। আসন্ন ধামইরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, "গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছর অতিক্রম করে বিএনপি আজ এদেশের মানুষের সবচেয়ে আস্থাভাজন রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি ধামইরহাটের সাধারণ জনগণসহ জাতীয়তাবাদী দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও বিপ্লবাত্মক অভিনন্দন।" বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং দলীয় ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ধামইরহাটের মাটি থেকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে।" শুভেচ্ছান্তে: মোঃ আখরাজুল ইসলাম চৌধুরী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, আসন্ন ধামইরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, ধামইরহাট উপজেলা, নওগাঁ। সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, উপজেলা বিএনপি, ধামইরহাট, নওগাঁ। সদস্য, উপজেলা বিএনপি, ধামইরহাট, নওগাঁ।
রুবেল সভাপতি ও নুরুল হুদাকে সাধারণ সম্পাদক করে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন তাড়াইল উপজেলা শাখার কমিটি গঠন
রুবেল সভাপতি ও নুরুল হুদাকে সাধারণ সম্পাদক করে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন তাড়াইল উপজেলা শাখার কমিটি গঠন রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস)-এর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা শাখার ৩১ সদস্যের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মাকদুম সাত্তার রুবেলকে সভাপতি এবং এটিএম নুরুল হুদাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। শুক্রবার (২৮আগস্ট) জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার মোহাম্মদ জাকারিয়া আলম বাপ্পী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন স্বাক্ষরিত তাড়াইল উপজেলা শাখার ৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন। সভাপতি মাকদুম সাত্তার রুবেল বলেন, জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ তাড়াইল উপজেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, প্রতিভাবান শিল্পীদের বিকাশ এবং সংগঠনের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত করার জন্যই এই কমিটির আর্বিভাব হয়েছে। সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠ ও সফলভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চোখের দৃষ্টি থেকে জীবিকার উন্নয়ন: মহালছড়িতে আরজিআইএল প্রকল্পের উদ্বোধন
চোখের দৃষ্টি থেকে জীবিকার উন্নয়ন—মহালছড়িতে আরজিআইএল প্রকল্পের উদ্বোধন মোঃ কাউছারুল ইসলাম, মহালছড়ি প্রতিনিধিঃ খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে “Reading Glass for Improvement Livelihood (RGIL)” প্রকল্পের উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১.০০ টায় মহালছড়ি উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স কক্ষে গ্রীন হিলের আয়োজনে এবং VisionSpring Bangladesh-এর আর্থিক সহযোগিতায় United Purpose ও গ্রীন হিলের বাস্তবায়নে এ সভার আয়োজন করা হয়। মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সভার উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, গ্রীন হিলের নির্বাহী পরিচালক যতন কুমার দেওয়ান (ইডি), মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ শরীফ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এডিন চাকমা এবং মহালছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক সেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছানোয়ার হোসেন। সভায় আরজিআইএল প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে পাঠ সহায়ক চশমার ভূমিকা তুলে ধরা হয়। প্রকল্পের উপস্থাপনা করেন সংহতি চাকমা, ফিল্ড অফিসার। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্রীন হিলের বিটু দত্ত।
লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত
লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট: বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন করেছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে তিনি তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় পৌঁছান। পরে ব্যারেজের বিভিন্ন অংশ পায়ে হেঁটে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি তিস্তা নদী, ব্যারেজের বিভিন্ন স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনকে ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। তার সফরসূচিতে তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিস্তা ব্যারেজ উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেচ অবকাঠামো। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এবং নীলফামারীর ডালিয়া এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর ওপর এটি নির্মিত। সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় উত্তরাঞ্চলের কৃষির জন্য ব্যারেজটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর আগে রোববার সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে তিনি লালমনিরহাট ছাড়াও পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও নীলফামারীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ ও পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলার বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখবেন।
বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণী গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু
বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণী গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে পম্পি বড়ুয়া (২৫) নামে এক তরুণী গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কক্সবাজার রেলপথের বোয়ালখালী অংশের ১৩ নম্বর রেলওয়ে ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পম্পি বড়ুয়া চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কাঝর দিঘীর পাড় গ্রামের ভাগ্যধন বড়ুয়া ও প্রয়াত পূরবী বড়ুয়ার কন্যা। তাঁর শ্বশুরবাড়ি একই উপজেলার পূর্ব ইদিলপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের জুয়েল বড়ুয়ার স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার ১৩ নম্বর রেলওয়ে ব্রিজের ওপর ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন পম্পি বড়ুয়া। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পম্পি বড়ুয়ার এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে তাঁর পিত্রালয় ও শ্বশুরবাড়িসহ স্বজন-পরিজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সী এই তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকাতেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কীভাবে পম্পি বড়ুয়া রেললাইনের ওপর উঠেছিলেন এবং দুর্ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
চুনারুঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত
চুনারুঘাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের চিমটিবিল সিমান্তে বিএসএফের গুলিতে সোহাগ মিয়া নামের এক যুবক নিহত হয়েছে। সে সীমান্ত এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। ৩০ আগস্ট দুপুরে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের চিমটিবিল খাসপাড়া সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহতের চাচা আব্দুল কাদির জানান, প্রতিদিনের ন্যায় আজ সকালে নিহত সোহাগ মিয়া সীমান্ত এলাকায় গরু রাখতে গেলে, বিএসএফ অতর্কিতভাবে তার ওপর গুলি চালায়। একপর্যায়ে তাকে খুঁজে না পাওয়া গেলে তার পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর ঘটনাটি নিশ্চিত করেন থানার এস আই তারেক নাজির।