বাংলাদেশ বার্তা টুডে
AI ব্যবহার করে ফরহাদ হোসেন আজাদের নামে অপপ্রচারের অভিযোগ, পঞ্চগড়ে সংবাদ সম্মেলন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে পানি ও সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদের নামে ভুয়া ভিডিও ও ছবি প্রচারের প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে জেলা ও পৌর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরহাদ হোসেন আজাদকে জড়িয়ে ভুয়া ভিডিও ও ছবি প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। বক্তারা বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা জাসাস নেতা ইউনুস শেখ, পঞ্চগড় পৌর বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন রনিক, অ্যাডভোকেট আব্দুল বারি, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রকনুজ্জামান জাপান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন তাপস, কৃষক দলের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ জেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিদ্যালয় কতৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের পশ্চিম সকদী গ্রামে বিদ্যালয় চলাকালীন পানিতে ডুবে এক শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানাযায়, পশ্চিম সকদী গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডে প্রতিষ্ঠিত মেধা বিকাশ কিন্ডারগার্টেনের ৫ ম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থী নোমেরা পানিতে ডুবে মারা যায়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২৬) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নোমেরা প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে ক্লাস করার জন্য আসে ।এদিন বিদ্যালয়ে গিয়ে পাশে থাকা ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে সে চলে যায়। নদীর তীরে খেলা করতে গিয়ে পা ফসকে পড়ে গিয়ে ডুবে যায়। কিন্তু মৃত্যুর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয় কতৃপক্ষের কোন খোঁজ খবর নেই। পরে এলাকার মুনসুর নামে এক ব্যক্তি শিক্ষার্থীর মরদেহ ডাকাতিয়া নদীর শাখা নদীতে ভেসে উঠতে দেখে ডাক চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে চাঁদপুর আড়াই শ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সূত্র জানায়, সামান্য একটু জায়গার উপরে মেধাবিকাশ কিন্ডারগার্টেন পরিত্যক্ত একটি ইটভাটার পাশে নির্মাণ করা হয়।সামান্য বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ পানিতে ডুবে যায়। বিদ্যালয়ের নেই কোন শৃঙ্খলা ও পরিবেশ। মনগড়া করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টির চারপাশ ঝোপঝাড়ে বরে আছে। এখানে শিক্ষার পরিবেশ নেই। প্রতিদিন বিদ্যালয় চলাকালীন ও হাপেনার সময়ে ছাত্র ছাত্রীরা নদীর তীরে খেলা ধূলা করতে চলে যায়।কিন্তু শিক্ষকরা সেদিকে খেয়াল রাখেননি। যদি খেয়াল রাখতেন তা হলে নোমেরার মতো একটি নিষ্পাপ প্রাণ অকালে ঝরে যেতো না।অপর এক সূত্র জানায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যদি সচেতন হতো তাহলে শিশু শিক্ষার্থীরা নদীর তীরে গিয়ে খেলা ধূলা করতো না।এমনকি পাশে সিআইপি সড়ক,শিশুরা সিআইপি সড়কে চলে যায়।কিন্তু এ কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে একটি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। সেই কিন্ডারগার্টেন ও সুন্দর পরিবেশে চলে আসছে। এব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল বলেন, বিদ্যালয় কতৃপক্ষের উদাসীনতা, দায়িত্ব অবহেলা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি সচেতন না হওয়ার কারণে নোমেরা পানিতে ডুবে মারা যায়। তার মৃত্যুর জন্য বিদ্যালয় কতৃপক্ষের উদাসীনতাই দায়ি।বিদ্যালয় কতৃপক্ষের এমন উদাসীনতা থাকলে তাহলে ছাত্র ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে এই বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো ভালো। বিদ্যালয়ে নেই কোন পরিবেশ। শিশু নোমেরার মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এব্যাপারে ইউপি সদস্য মুনসুর খান বলেন , খবর পেয়ে স্কুলের কাছে এসে দেখি লাশ ব্রিক ফিল্ডে নিয়ে শুয়ে রেখেছে।পরে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসি।ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যু দুঃখ জনক। এব্যাপারে, উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম বলেন, পানিতে ডুবে শিশু শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে কোন কিছু জানান না। আপনার নিকট থেকে এখন জেনেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, পানিতে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা আমার জানা নেই। কেজি স্কুল আমাদের দেখার দায়িত্ব না।ওটা তারা নিজেরাই দেখেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, উল্লেখ্য, নোমেরা তার নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে। তার বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাশিয়ালি গ্রামে।
মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষির ওপর নোবিপ্রবিতে সেমিনার
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি: গবেষণা ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। মুখ্য আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। এছাড়াও নোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিন এবং নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, "দেশে জলবায়ু ও কৃষি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এখনও তুলনামূলকভাবে কম এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নও সহজে পাওয়া যায় না। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য ও বন্যার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান"। মুখ্য আলোচক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নোবিপ্রবির এ প্রকল্পটি দেখেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালককে উৎসাহিত করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা বর্তমানে আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখনই জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন এবং আধুনিক, অভিযোজন সক্ষম কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রথাগত কৃষি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান। সেমিনারে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে প্রকল্প পরিচালক জানান, "সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা ও এর বহুমাত্রিক প্রভাব, কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মিটিগেশন ও অ্যাডাপটেশন কৌশল, মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে ভবিষ্যতে সয়াবিন ও বার্লি চাষের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়"। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
কালীগঞ্জে রাশেদ খানের আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে রাশেদ খানের আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার( ২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী সচিব মোঃ রাশেদ খান এর আগামী বৃহস্পতিবার কালীগঞ্জ আগমন উপলক্ষে বিকাল ৪ ঘটিকার সময় কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে থানা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে প্রস্তুতি সভা ইউনিয়ন অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক সফল প্যানেল মেয়র, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ গণমানুষের নেতা হামিদুল ইসললাম হামিদ। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপির সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন নেতৃবৃন্দ।
শিকলে বন্দি শফিকুলের ৪০টি বছর! ঠাই হয়নি পাকা বাড়িতে
বাড়ির বাহিরের উঠানের এক কোনায় বারান্দায় পায়ে শিকল বাঁধা বৃদ্ধ শফিকুল ইসলাম(৮০)। এভাবেই ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেটে যাচ্ছে ৪০ বছর। এলকার সম্পদশালীদের অন্যমত হয়েও এ বৃদ্ধের ঠাঁই হয়নি পাকা বাড়ির কোন এক কোনায়। বৃদ্ধ শফিকুল ইসলাম লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর গ্রামের বাসিন্দা। উত্তর বালাপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের পাকা বাড়িটি বৃদ্ধ শফিকুলের স্ত্রী সন্তানরা বসবাস করেন। তার ঠাঁই হয়েছে সেই বাড়ি বাহিরের উঠানের ৫০ গজ দুরে বাঁশ বাগানের নিচে গুদামের বারান্দায়। পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, যৌবন বয়সে তেজদৃপ্ত শফিকুল ইসলাম স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন। কাক ডাকা ভোরে কোদাল কাস্তে আর গরু বাছুর নিয়ে বেড়িয়ে পড়তেন নিজের জমিতে। হালচাষ করে চলত তার সংসার। ফসল দিয়ে প্রতি বছর জমি ক্রয় করে জমি করেছেন প্রায় ২৫ দোন(২৭ শতাংশে দোন)। দুই ছেলে দুই মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। তার বড় মেয়ে রেহানা বেগম চন্দ্রপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য। যৌবনের শেষ দিকে হঠাৎ পারিবারিক চাপে মানসিক ভারসাম্য হারান শফিকুল ইসলাম। প্রথম দিকে কবিরাজের মাধ্যমে তাবিজ কবজের চিকিৎসা করায় পরিবার। কিন্তু উন্নতি না হয়ে দিন দিন অবনতি হতে থাকে। মানসিক ভারসাম্যহীন পরিচয় মিলে এক সময়ের তেজদৃপ্ত যুবক শফিকুলের। নামের সাথে যুক্ত হয় শফিকুল পাগলা। পাগলের জমি বিক্রি অসম্ভব হেতু চিকিৎসাও চলে ধিরগতিতে। জমি বিক্রি না হলেও বন্দক রেখে শফিকুলকে পাঠানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে। পাবনা মানসিক হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসার পরে সেখানে অবনতি ঘটলে তাকে বাড়ি পাঠান চিকিৎসকরা। সেই থেকে পায়ে শিকল পড়ে বাড়ির উঠানের এক কোনায় গুদাম ঘরের উন্মুক্ত বারান্দায় বেঁধে রাখা হয়। সেখানে একটা কাঠের চৌকিতে বসেই কেটে যাচ্ছে ৪০ বছর। সেই বারান্দায় থাকা খাওয়া শৌচকাজ সব সাড়তে হচ্ছে এ বৃদ্ধকে। বিড় বিড় করে একাই কথা বলেন। কেউ গেলে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। শিকল খুলে দেয়ার আকুতি জানালেও কেউ খুলে দেয় না। খুলে দিলেই হারিয়ে যাবে অথবা প্রতিবেশীদের আঘাত করবে ক্ষতি করবে। সপ্তাহে একদিন বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান বৃদ্ধ বাবাকে গোসল করান, বারান্দার মলমুত্র পরিস্কার করে দেন। বড় ছেলে ব্যাতিত কেউ ভিড়েন না শফিকুলের কাছে। স্ত্রী মালেকা বেগমকে দেখলেই রেগে তেড়ে উঠেন। যার কারন কেউ জানেন না। পেটে ক্ষুধা পেলে চিৎকার করে তখন বড় ছেলে খাবার নিয়ে সামনে দিলে নিরবে খেয়ে নেন বৃদ্ধ শফিকুল। নেই মশারী বা মশার কয়েল, নেই ভাল বিছানা কিংবা ফ্যান। শীত কুয়াশা রোদ বৃষ্টি কিংবা ঝড়। সকল প্রতিকুল পরিবেশে থেকেও সর্দ্দি জ্বর টুকুও নেই বৃদ্ধ শফিকুলের। ভাংচুর করে আঘাত করে তাই দুই ছেলে আর স্ত্রীর পাকা বাড়ির কোন কক্ষেও জায়গা হয়নি তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শফিকুলের এক বাল্যবন্ধু বলেন, কিশোর থেকে যৌবন বয়সে প্রচন্ড রকমের পরিশ্রমী আর সাহসী ছিলেন শফিকুল। ৪০ বছর আগে হঠাৎ কি যে হলো? মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাগল হলেন। মানুষের ক্ষতি করা শুরু করলেন। তখন থেকে তাকে শিকল বন্দি করা হয়েছে। সম্ভবত পারিবারিক চাপে এমনটা হয়েছেন। তবে তার সম্পদ বলতে জমিগুলো। সে জমিও তো বিক্রি করতে পারছে না পরিবার। যার কারনে উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে অসুস্থতা বেড়েছে। পুরুষের সুখ শান্তি পরিবারে। তার ব্যতয় ঘটলে মানসিক রোগী। কঠোর পরিশ্রম করে সম্পদ করলেও তার চিকিৎসায় সেই সম্পদ কাজে লাগছে না। তাকে দেখলে বেশ মায়া হয়, যোগ করেন শফিকুলের বাল্যবন্ধু। শফিকুলের স্ত্রী মালেকা বেগম বলেন, প্রায় ৩৮/৪০ বছর আগে হঠাৎ মাথায় সমস্যা দেখা দেয়। প্রথম দিকে কবিরাজের চিকিৎসা করেছি ভাল হয়নি। পরে জমি বন্দক রেখে রংপুর পাবনায় চিকিৎসা করানো হলেও কোন উন্নতি হয়নি। পরে চিকিৎসা বাদ দিয়ে এখানে শিকলে বেঁধে রেখেছি। ক্ষিদে পেলে চিৎকার করে তখন বড় ছেলে খাবার দেয়। মাঝে মধ্যে গোসল করানো হয়। জায়গাটা পায়খানা প্রসাবে দুর্গন্ধ উঠে মাঝে মধ্যে বড় ছেলেই পরিস্কার করে দেয়। বড় ছেলে গেলে কিছু করে না। আমি বা অন্য কেউ গেলে ক্ষতি করতে তেড়ে উঠে। মশারী, কয়েল বা ফ্যান দিলে ভেঙে ফেলে তাই দেয়া হয়না। তবুও তার সর্দ্দি জ্বর পর্যন্ত নেই। স্বামীর কষ্ট দেখে খারাপ লাগলেও বাড়িতে নেয়ার মত পরিবেশ নেই। বাড়ি নোংরা করে ফেলে। শফিকুলের বড় মেয়ে ইউপি সদস্য রেহানা বেগম বলেন, আমার জন্মের ৫ বছর পরে বাবা মানসিক রোগে আক্রান্ত হন। সেই থেকে তিনি শিকলবন্দি। ঘরে রাখলে ঘর নষ্ট করে, মশারী বা গরম কাপড় দিলেও তা ছিড়ে ফেলে। তাই বারান্দায় রাখা হয়েছে। জমি অনেক থাকলেও তা বিক্রির সুযোগ না থাকায় টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় নি। বাবা কষ্টে পড়ে থাকেন দেখে মায়া লাগলেও কিছু করার নেই। চন্দ্রপুর ইউপি সদস্য আমির হামজা বলেন, জন্মের পর থেকে দেখে আসছি তিনি শিকল বন্দি। ছেড়ে দিলে হারিয়ে যায় তাই বেঁধে রেখেছে পরিবার। এটা অমানবিক হলেও কিছু করার নেই তার পরিবারের। তবে উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থতার ব্যবস্থার করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।
নির্মাণের ১১ বছর পরও তালাবদ্ধ শার্শার ১০ শয্যার হাসপাতাল
সরকারি অর্থে নির্মিত আধুনিক ভবন। রোগীদের জন্য বেড আছে, চেয়ার-টেবিল আছে, চিকিৎসাকেন্দ্রের সাইনবোর্ডও টাঙানো। নেই শুধু চিকিৎসাসেবা। নির্মাণের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোড়পাড়া বাজারে সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি আজও চালু হয়নি। একদিকে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসার অভাবে চারটি ইউনিয়নের লাখো মানুষকে প্রতিনিয়ত ছুটতে হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালে। স্থানীয় সূত্র জানায়,উপজেলার সীমান্তবর্তী নিজামপুর, ডিহি, লক্ষণপুরসহ আশপাশের এলাকার মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে নির্মাণ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১১ বছর। এখনও সেখানে একজন চিকিৎসকও বসেননি, একজন রোগীও চিকিৎসা পাননি। মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দরজা-জানালায় মরিচা ধরেছে, দেয়ালের রং খসে পড়ছে। রোগীদের জন্য আনা বেড, চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ধুলাবালিতে ঢেকে নষ্ট হওয়ার পথে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে পরিত্যক্ত ভবনটি মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, হাসপাতালটি চালু থাকলে প্রসূতি মা, নবজাতক ও জরুরি রোগীরা সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু এখন কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে নাভারণ বা যশোর সদর হাসপাতালে নিতে হয়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই সড়কপথে রোগীর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার এই বাস্তবতা সীমান্তবাসীর কাছে চরম হতাশার। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালটি চালুর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি বিনিয়োগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। উপজেলা মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তা ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “ভবন ও কিছু আসবাবপত্র পাওয়া গেছে। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির বরাদ্দ এখনও পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি পদ অনুমোদন ও জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের সমন্বয়হীনতা এবং প্রশাসনিক জটিলতাই হাসপাতালটি চালু না হওয়ার অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “গোড়পাড়াসহ উত্তর শার্শার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে।” সীমান্তাঞ্চলের মানুষের দাবি, আর কোনো আশ্বাস নয়—দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি বরাদ্দ এবং বহু প্রতীক্ষিত গোড়পাড়ার ১০ শয্যার হাসপাতালটি চালু করে লাখো মানুষের চিকিৎসাসেবার অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
সুন্দর ব্যবহার ও আচরণের বিনিময়ে জান্নাত: হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আজ আমি আপনাদের হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই,সুন্দর ব্যবহার ও আচরণের বিনিময়ে জান্নাত নিয়ে, সেই সম্পর্কে নিম্নে সংকিপ্ত আকারে আলোচনা তুলে ধরছি, “ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ” মানুষের একটি ভালো কথা যেমন একজনের মন জয় করে নিতে পারে,তেমনি একটু খারাপ বা অশোভন আচরণ মানুষের মনে কষ্ট আসে।সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে আমাদের উচিৎ সর্বদা মানুষের সঙ্গে ভালো ও সুন্দরভাবে কথা বলা। সুন্দর ব্যবহার ও আচার-আচরণ বলতে আমরা বুঝি কারও সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলা,দেখা হলে সালাম দেওয়া,কুশলাদি জিজ্ঞেস করা,কর্কশ ভাষায় কথা না বলা, ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত না হওয়া,ধমক বা রাগের সুরে কথা না বলা,পরনিন্দা না করা,অপমান-অপদস্ত না করা,উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা,গম্ভীর মুখে কথা না বলা,সর্বদা হাসিমুখে কথা বলা,অন্যের সুখে সুখী হওয়া এবং অন্যের দুঃখে দুঃখী হওয়া।এছাড়া কারও বিপদে দেখা করে সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা ও সুন্দর আচরণের অন্তর্ভুক্ত। সুন্দর আচরণ আমরা সবাই প্রত্যাশা করি।কিন্তু আমরা প্রায়ই অন্যের সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করতে ভুলে যাই।সামান্য একটু অসতর্কতার কারণে আমাদের আচরণে একজন মানুষ অনেক কষ্ট পেতে পারে।তাই আমাদের সবসময় সচেতন থাকা উচিত; যাতে আমাদের আচরণে কেউ বিন্দুমাত্র কষ্ট না পায়। যার আচরণ যত বেশি সুন্দর সবাই তাকে তত বেশি ভালোবাসে,সম্মান ও শ্রদ্ধা করে।যার আচরণ ভালো নয় সবাই তাকে ঘৃণা করে ও এড়িয়ে চলে।সুন্দর ব্যবহার সুন্দরভাবে কথা বলা সুন্দর মনের পরিচয় বহন করে। মানুষের একটি ভালো কথা যেমন একজনের মন জয় করে নিতে পারে,তেমনি একটু খারাপ বা অশোভন আচরণ মানুষের মনে কষ্ট আসে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ হিসেবে আমাদের উচিৎ সর্বদা মানুষের সঙ্গে ভালো ও সুন্দরভাবে কথা বলা। সুন্দর ব্যবহারের কারণে যে মুখটি প্রিয় হয়,বিপরীতভাবে অসুন্দর ব্যবহার করায় একই মুখটি অপ্রিয় হয়ে যায়।তাই সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ ও সুন্দর ব্যবহার করতে হবে। সুন্দর আচরণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়, পরকালে বিনিময় হিসেবে মেলে অনন্ত সুখের জান্নাত। এ প্রসঙ্গে হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় সুন্দর আচরণের চেয়ে অধিক ভারী আমল আর কিছুই হবে না। যে ব্যক্তি অশ্লীল ও কটু কথা বলে বা অশোভন আচরণ করে,তাকে আল্লাহ তায়ালা ঘৃণা করেন।আর যার ব্যবহার সুন্দর সে তার ব্যবহারের কারণে নফল রোজা ও তাহাজ্জুদের সওয়াব লাভ করবে।’ -সুনানে তিরমিজি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন,‘সবচেয়ে বেশি যা মানুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে তা হলো-আল্লাহতায়ালার ভয় ও সুন্দর আচরণ।আর সবচেয়ে বেশি যা মানুষকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবে তা হলো-(মানুষের) মুখ এবং লজ্জাস্থান।’ -সুনানে তিরমিজি হজরত রাসূল (সা.) বলেছেন,‘সুন্দর আচরণই নেক আমল।’–সহিহ মুসলিম হাদিসে রাসূল (সা.) আরও বলেছেন,‘তোমাদের মধ্যে যার আচার-ব্যবহার সুন্দর,সে আমার সবচেয়ে বেশি প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন সে আমার সবচেয়ে কাছে থাকবে।’-সুনানে তিরমিজি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেন,‘অশোভন-অশ্লীল কথা ও আচরণের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।আর যার আচরণ যত সুন্দর তার ইসলাম তত সুন্দর।’ -মুসনাদে আহমদ আরেক হাদিসে আছে,রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘যার আচার-ব্যবহার সুন্দর,আমি তার জন্য সর্বোচ্চ জান্নাতে একটি বাড়ির নিশ্চয়তা প্রদান করছি।-সুনানে আবু দাউদ হজরত রাসূল (সা.) আরও বলেছেন,‘যদি কেউ বিনম্রতা ও নম্র আচরণ লাভ করে তাহলে সে দুনিয়া ও আখেরাতের পাওনা সব কল্যাণই লাভ করল।আর রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সুন্দর আচরণ বাড়িঘর ও জনপদে বরকত দেয় এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।’–আহমদ আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সুন্দর ব্যবহার ও আচরণের তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন। লেখক: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট এর সাবেক ইমাম ও খতীব: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট এর সাবেক প্রিন্সিপাল: সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
সংসদ সদস্য-জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্তঃ আন্দোলন স্থগিত
সংসদ সদস্য-জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্তঃ আন্দোলন স্থগিত ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ বাগেরহাট জেলার সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচির শেষ দিনে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ এবং জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে এলাকাবাসী, কৃষক, পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের সদস্যরা অংশ নেন। আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে খাল দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার সব সরকারি খাল পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি খাল দখলমুক্ত করার দাবির সঙ্গে প্রশাসন সম্পূর্ণ একমত। তিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার সরকারি খালগুলো পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে তারা স্পষ্ট করে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আবারও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আন্দোলনকারীদের দাবি, জেলার সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল এবং হোজির খালসহ বিভিন্ন সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব খালে বাঁধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষের কারণে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষিকাজে পানির সংকট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে জেলার খালগুলো আবারও জনগণের জন্য উন্মুক্ত হবে এবং কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর জেলা প্রশাসকের হাতে স্মারকলিপি প্রধানের মাধ্যমে এ আন্দোলনের আপাতত স্থগিত করা হয়।
কালীগঞ্জে বিধবার সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভ‚মিদস্যু ওমর ফারুক গংয়ের বিরুদ্ধে বিধবা মাসুমা বেগমের বসত বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা ও লুট শেষে সম্পত্তি জবরদখল করে মার্কেট, কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও অফিস নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের মৃত মোঃ সিরাজুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী মাসুমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে জানান, বড়গাঁও গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম শেখের পুত্র আব্দুল আউয়াল শেখ ও তার পুত্র ওমর ফারুক শেখ, আলমগীর হোসেন শেখ বকুল ও জাইদুল ইসলাম শেখ স্থাণীয় সন্ত্রাসী, চিহ্নিত ভূমিদস্যু এবং জবর দখলকারী। দীর্ঘদিন যাবৎ ওমর ফারুক শেখ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের মাধ্যমে গবীর, অসহায় ও নিরীহ মানুষের জমিজমা জবরদখল করে আসছে। তাদের এসব সন্ত্রাসী কাজের কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন নির্যাতন, পুলিশি হয়রানী ও হামলা মামলার স্বীকার হতে হয়। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মূখ না খুলে নীরবে সহ্য করে নেয়। আমার স্বামী গত ৮ জুলাই ২০১০ইং তারিখে ৬০৩৯নং হেবার ঘোষণাপত্র রেজিষ্ট্রি দলিলমূলে আমাকে ২৭.৫০শতাংশ সম্পত্তি প্রদান করেন। আমি উক্ত সম্পত্তি নিজ নামে নামজারী ও জমাভাগ করে ১৫৩৯নং হোল্ডিং খোলে ১৪৩২ সন পর্যন্ত খাজনাদি পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখল করে আসছি। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর ওমর ফারুকগং আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে আমাদের সাথে শক্রতা শুরু করে। আমি সম্পত্তি রক্ষার্থে বিগত সময়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, কালীগঞ্জ থানা ও গাজীপুরের পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেও অদৃশ্য কারণে কোন আইনী সহযোগীতা পাইনি। বরং ওমর ফারুক শেখ গং গত ২০২২ সনের ২১ অক্টোবর সকাল ১১ টায় ওমর ফারুক গং আমার বাড়ীতে প্রবেশ করিয়া বিভিন্ন প্রজাতির ৩৫/৪০টি গাছ কাটিয়া নিয়া যায়। সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীর সময়ে ভাড়াটিয়াদের দোকান ঘর থেকে ভয়ভীতি দেখাইয়া দোকান ভাঙ্গিয়া নিয়া যায়। ৩১ অক্টোবর ২০২২ইং সকাল ৭ ঘটিকায় পূনরায় ওমর ফারুক গং অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে বাড়ীতে প্রবেশ করে ইটের পাকা বাউন্ডারী ওয়াল ভাঙ্গিয়া আমার ঘর হইতে আমাকে ও আমার সন্তানদের মারধর করিয়া বাহির করিয়া দেয়। পরে আমার ঘরের আসবাবপত্র, টাকা-পয়সা, গহনা সহ সকল কিছু লুটপাট করিয়া নিয়া শেষে বসতবাড়ী ও টিনসেট বিল্ডিং দখল করিয়া ঘরের মালামাল আগুনে পোড়াইয়া ফেলে। আমাদের সম্পত্তি জবরদখলে ওমর ফারুক গংদের বাধা দিলে তারা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। মোঃ ওমর ফারুক শেখ গং আমাদের জমি জবর দখল করে তাতে ৭টি দোকান ঘর, একটি অফিস ও একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল নির্মাণ করিয়া ভাড়া দিয়া নিজেদের দখলে রাখিয়াছে। বর্তমানে আমি আমার এক প্রতিবন্ধী সহ চারজন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। এছাড়াও ওমর ফারুক শেখগং বড়গাঁও গ্রামের পাচু শেখের পুত্র ফিরোজ আলী, আসমত আলী, সুলতান উদ্দিন, হেকমত আলী ও মুসকত আলীর জমি জবর দখল করে নুরে মদিনা কওমী মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমতি প্রদান করে প্রতিমাসে ভাড়া আদায় করে নিজেরা ভোগ করছে। সংবাদ সম্মেলনে ওমর ফারুক শেখ গংয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক আমাদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন এর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এ সময় অন্যান্যের মাঝে মাসুমা বেগমের পুত্র মোঃ মেহেদী হাসান শেখ, মোঃ আনা নুর ইসলাম শেখ সাকিল, মোঃ মিনহাজুর রহমান শেখ ও মোঃ মাজহারুল ইসলাম শেখ, মাসুমা বেগমের বোন মোসা. হালিমা বেগম, মোসা. আলেয়া বেগম ও মোসা. সালমা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলা:যুবদল ও শ্রমিকদলের দুই নেতা আটক
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর প্রতিনিধি সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হাতুড়ি হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে কুয়াকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদ সিকদার (ওরফে পঁচা শহিদ) এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি নাসির হাওলাদার। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তাদের কলাপাড়া আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে গত ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকত সংলগ্ন এলাকায় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তার মাথা ও দুই পায়ে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক হোটেল কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ শিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন সাংবাদিক কে এম বাচ্চু। ওই ঘটনার জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন বলেও দাবি পরিবারের। আহত সাংবাদিকের পরিবারের ভাষ্য, হামলায় কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বায়েজিদ শিকদার রানা, পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদ শিকদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহিদ শিকদার, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লিসহ আরও চার থেকে পাঁচজন অংশ নেন। হামলার সময় কে এম বাচ্চু একা ছিলেন। পরিবার আরও জানায়, সরকারি জমি থেকে গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নারী-সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানানোয় অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কে এম বাচ্চু পরিবেশ, পর্যটন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশন, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য। এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, “বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা কমিটি না থাকায় আমাদের পক্ষে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।” কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, “সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, “মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
সাতক্ষীরায় ৩১ কোটি ৯৪ লাখ টাকার মা/দক ধ্বং/স করল বিজিবি
সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা প্রায় ৩২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে (বিজিবি)। নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান, পিবিজিএম, বিপিএম (সেবা), বিজিওএম, পিএসসি। বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১১ জুলাই পর্যন্ত সাতক্ষীরার শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্তে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪১ জনকে আটক করা হয়। একই সময়ে ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৭ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৪০৬ বোতল বিভিন্ন ধরনের মদ, ১৫ হাজার ৭৮ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ১৮ হাজার ৬৫৪টি ইয়াবা, ৭৫ হাজার ৭৬৬ প্যাকেট ভারতীয় পাতার বিড়ি, ৩ দশমিক ৮১ কেজি গাঁজা, ২১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৭টি বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, এক হাজার ৪৭০ পাতা সুখি বড়ি, ১৫ হাজার ৭৪৬টি মাদকজাতীয় ট্যাবলেট, ১ কেজি হেরোইন, ৮ বোতল (১০০ মিলি) ও ৬ বোতল (৫০ মিলি) এলএসডি এবং ২ দশমিক ৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। অনুষ্ঠানের শুরুতে নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ, পিএসসি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি নীলডুমুর ব্যাটালিয়নের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ্ মোঃ আশরাফুল আলাম, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান জাহান কনক প্রমুখ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার করা প্রাণঘাতী মাদক ধ্বংসের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
পারিবারিক বিরো/ধের জেরে হাম/লা: ছোট ভাইয়ের আ/ঘাতে মৃ/ত্যু বড় ভাই'র
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আসু তালুকদার বাড়িতে আজ (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের আঘাতে বড় ভাই নিজাম উদ্দিন (৪৫) নিহত হন। নিহত নেজাম উদ্দিন আবদুল হামিদের জ্যেষ্ঠ ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে ছোট ভাই মোহাম্মদ সুমনের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর তার শ্বশুর ও স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোনারগাঁও অবৈধ চুনা কারখানা উচ্ছেদ, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে পরিচালিত তিনটি চুনা কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কারখানাগুলো উচ্ছেদ করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। অভিযানে অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত প্রায় ৩৫০ ফুট পাইপ ও বার্নার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার সোনাখালী, মল্লিকেরপাড়া ও অর্জুন্দী এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিমন সরকার। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিমন সরকার জানান, দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁওয়ে একটি চক্র অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুনা কারখানা পরিচালনা করে আসছিল। এতে সরকার প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছিল। অভিযানে তিনটি চুনা কারখানার মোট ছয়টি ভাটার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কারখানাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত প্রায় ৩৫০ ফুট পাইপ ও বার্নার জব্দ করে বিনষ্ট করা হয়েছে। অভিযানের সময় তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং তিতাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজমিরীগঞ্জে এনসিপির পথসভা: 'দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ' এর ডাক
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উদ্যোগে 'দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ' শীর্ষক এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপজেলার স্থানীয় একটি জনাকীর্ণ স্থানে এই পথসভার আয়োজন করা হয়।রাষ্ট্র সংস্কার ও একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এই পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।পথসভায় বক্তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, "একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনই আমাদের মূল লক্ষ্য। জুলাইয়ের গণজাগরণের চেতনাকে বুকে ধারণ করে টেকসই রাষ্ট্র সংস্কারে দেশের প্রতিটি নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।"ব্যতিক্রমী এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্থানীয় জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পথসভায় স্থানীয় এনসিপি নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।।
গঙ্গাচড়ায় প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হলো অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অবৈধ মৎস্য আহরণে ব্যবহৃত প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ বিকেলে গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদ মাঠে জব্দ করা এসব চায়না দুয়ারী জাল প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তারা।