বাংলাদেশ বার্তা টুডে
বাগেরহাটে ১১ চোরাই গরু সহ পিকআপ ভ্যান উদ্ধার, গ্রেফতার ৩
বাগেরহাটের ফকিরহাটে চুরি হওয়া ১১টি ছোট-বড় গরু উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় চোরাইকৃত গরু পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা গরু চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিটে খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নের কাটেঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে গরুগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া গরুর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, ফকিরহাট থানার একটি চুরির মামলার তদন্তে প্রকাশিত আসামি ইমরান শেখ (৪০) ও নাহিদ শেখ (২৭)কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে ফকিরহাট উপজেলার শিউলি ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে চোরাইকৃত গরু পরিবহনে ব্যবহৃত খুলনা মেট্রো-ন-১১-২০২২ নম্বরের একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খুলনার তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের আরিফ মোল্লার বাড়িতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখানকার গোয়ালঘর থেকে চুরি হওয়া ১১টি গরু উদ্ধার করা হয়। এ সময় চোরাইকৃত গরু সংরক্ষণের অভিযোগে আরিফ মোল্লা (৩৮)কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন— বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার শ্যামবাঘাত গ্রামের ইমরান শেখ (৪০), রামপাল উপজেলার সোলাকড়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের নাহিদ শেখ (২৭) এবং খুলনার তেরখাদা উপজেলার কাটেঙ্গা গ্রামের আরিফ মোল্লা (৩৮)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান শেখের বিরুদ্ধে হত্যা, সংগোপনে গৃহে প্রবেশ, চোরাই মাল গ্রহণ, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ ছয়টি নিয়মিত মামলা এবং একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। নাহিদ শেখের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চোরাই মাল গ্রহণ ও চুরির অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে। আরিফ মোল্লার বিরুদ্ধে চোরাই মাল গ্রহণ ও মারামারির দুটি মামলা রয়েছে। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, ফকিরহাটের চুরির মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করে চুরি হওয়া গরু ও ব্যবহৃত পিকআপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরবটি রাখা নিয়ে কথাকাটাকাটি: সাদুল্লাপুরে মাদ্রাসার পিওনকে মারধর, মাংস ভান্ডার উচ্ছেদ
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট বাজারে সবজির কেজিখানেক বরবটি রাখাকে কেন্দ্র করে ধাপেরহাট নায়েবিয়া দাখিল মাদ্রাসার পিওন মিজানুর রহমানকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে 'ভাই ভাই মাংস ভান্ডার'-এর কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। পরে এই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে উক্ত মাংসের দোকানটি উচ্ছেদ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ ধাপেরহাট বাজারের 'ভাই ভাই মাংস ভান্ডার'-এর সামনে মাত্র ৩ কেজি বরবটি রাখেন নায়েবিয়া দাখিল মাদ্রাসার পিওন মিজানুর রহমান। এতে দোকানের কর্মচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাকে সেখান থেকে বরবটি সরিয়ে নিতে বলে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মাংস ভান্ডারের কর্মচারীরা মিজানুর রহমানের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। এদিকে, একজন মাদ্রাসা কর্মচারীকে এভাবে প্রকাশ্যে মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে ধাপেরহাট নায়েবিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহায়তায় অন্যায়ের প্রতিবাদে ও বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে 'ভাই ভাই মাংস ভান্ডার' উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একজন সাধারণ মানুষকে মারধর করা একেবারেই অনুচিত হয়েছে। তবে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বাজার কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সঠিক নজরদারি প্রয়োজন ছিল। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা জানান, অন্যায়ভাবে মাদ্রাসার কর্মচারীর ওপর হামলার প্রতিবাদেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
নেদারল্যান্ডস থেকে এসে আটোয়ারীতে প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য ভবন নির্মাণে ২৯ স্বেচ্ছাসেবী
পঞ্চগড়, ৩০ জুলাই ২০২৬: মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুদূর নেদারল্যান্ডস থেকে আসা ২৯ জনের একদল স্বেচ্ছাসেবী। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় 'আগমনী কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী সমাজকল্যাণ সংস্থা'-এর স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণে তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন। পেশায় তারা শিক্ষক, ব্যাংকার, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। নিজ নিজ কর্মব্যস্ততা ছেড়ে সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে ইট, বালু ও সিমেন্টের কাজ করছেন তারা। স্থানীয় নির্মাণশ্রমিকদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে ভবন নির্মাণে অংশ নেওয়ায় এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই বিদেশি স্বেচ্ছাসেবীরা। সংস্থার সভাপতি জফর আলী জানান, ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হলে কুষ্ঠমুক্ত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে। এতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি স্থায়ী সেবাকেন্দ্র গড়ে উঠবে। আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, বিদেশি স্বেচ্ছাসেবীদের এমন মানবিক উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার উজ্জ্বল উদাহরণ। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও উৎসাহিত করবে। দেশ-বিদেশের মানুষের সম্মিলিত এই মানবিক উদ্যোগ আটোয়ারীতে মানবসেবার এক অনন্য নজির হয়ে থাকবে।
গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশের অভিযানে ২,২০০ কেজি জিরানী জব্দ, গ্রেপ্তার ২; মূল হোতা শাহিন পলাতক
গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮৮ বস্তা জিরানী (মোট ২,২০০ কেজি) জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আতিক ও শাহজালাল নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে জব্দকৃত জিরানী উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এসব জিরানী আসল জিরার সঙ্গে মিশিয়ে বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, এ চক্রের মূল হোতা বগুড়ার শাহিন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আতিক ও শাহজালালের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা ডিবি পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উবহাটা ইউনিয়নের সেবক হতে চান রিপন তরফদার
চুনারুঘাট উপজেলার ৭নং উবহাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, এনজিও কর্মকর্তা ও জনপ্রিয় যুব সংগঠক রিপন তরফদার।উবহাটা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মাদকমুক্ত ও আদর্শ মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানামুখী সামাজিক ও মানবিক কাজ পরিচালনা করে আসছেন।রিপন তরফদার পেশাগতভাবে একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) কর্মরত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত। অবহেলিত উবহাটা ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্যেন্নয়নে এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কল্যাণকর কিছু করার স্বপ্ন নিয়েই তিনি এবার চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।এলাকার তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে তিনি দীর্ঘসময় ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। যুবকদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে উবহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন ক্রীড়া ক্লাবে তিনি নিয়মিত নিজস্ব অর্থায়নে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি সবসময় বলেন, "যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে মাঠের খেলাধুলার বিকল্প নেই।"এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রিপন তরফদার করোনাকালীন সংকটসহ বিভিন্ন দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। উবহাটা ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং দরিদ্র মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। একজন সৎ, শিক্ষিত ও তরুণ সমাজসেবক হিসেবে ইতিমধ্যেই তিনি ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।নির্বাচনী প্রস্তুতি ও স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রিপন তরফদার বলেন, "আমার জন্ম এই উবহাটা ইউনিয়নে । এখানকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট আমি কাছ থেকে দেখেছি। উবহাটা ইউনিয়নের মানুষকে নিয়ে আমি বড় স্বপ্ন দেখি। অবহেলিত এই ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি চেয়ারম্যান পদের চেয়ে জনগণের সেবক হয়ে সারাজীবন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। আশা করি, আগামী নির্বাচনে ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ আমাকে তাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।"
হবিগঞ্জ পৌর এলাকা সার্বিক পরিস্তিতি স্বভাবিক হয়েছে ১৪৪ প্রত্যাহার
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জননিরাপত্তা নিয়ে আর কোনো শঙ্কা না থাকায় বৃহস্পতিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। এর ফলে পৌর এলাকায় চলাচল, সভা-সমাবেশ ও অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর আর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, গত ২৯ জুলাই হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার ক্ষমতাবলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। ওই আদেশের আওতায় পৌর এলাকায় চার বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে যে, বর্তমানে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা না থাকায় পূর্বে জারি করা ১৪৪ ধারার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জেলা যুবদল ও জেলা ছাত্রদলের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই শহরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। সম্ভাব্য সংঘাত ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসন সকাল ১০টার পর থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৪৪ ধারা জারির পর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনবহুল এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর তিন প্লাটুন সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারি জোরদার করায় কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বুধবার দিনভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক বিরাজ করে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন চলাচল এবং জনসমাগম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম ছিল। তবে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সারাদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিবেদন এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং জনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা নেই। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪৪ ধারা প্রত্যা জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ও নাগরিক কার্যক্রম পরিচালনায় আর কোনো প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সোনারগাঁও শিয়ালের আক্রমণ, আহত ১৫
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সোনারকান্দী, ভটেরকান্দী ও নয়াপাড়া গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে পৃথক সময়ে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জলাতঙ্ক (র্যাবিস) প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনও প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে পথচারী ও বাড়ির আঙিনায় থাকা মানুষকে এলোপাতাড়ি আক্রমণ করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুব বলেন, “শিয়ালের কামড়ে আহত সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও র্যাবিস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এলাকায় শিয়ালের উপদ্রব বৃদ্ধির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুয়া ভিডিও ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে দেবীগঞ্জে সনাতনী সমাজের মানববন্ধন
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়), ৩০ জুলাই: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সর্বস্তরের সনাতনী সমাজ। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে দেবীগঞ্জ শহরের বিজয় চত্বরে অনুষ্ঠিত ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পঞ্চগড় জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, পরিকল্পিতভাবে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা ওই ভিডিও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বক্তারা আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি দায়িত্ব ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার জনপ্রিয়তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হরিশ চন্দ্র রায়, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মদন মোহন রায়, সাবেক প্রধান শিক্ষক হরিশ চন্দ্র রায়, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অনীল চন্দ্র রায়, পামুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনি ভূষণ রায় এবং দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরেশ চন্দ্র রায়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষ হয়।
নওগাঁ শহরে বিআরটিসি বাসের চাপায় শিক্ষকের মৃ/ত্যু
নওগাঁয় যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাসের চাপায় আ.ত.ম ইউসুফ নামে এক কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮ টার দিকে শহরের দয়ালের মোড়ে এ মর্মান্তিক দূর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইউসুফ হলেন নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জয়পুরহাট টেকনিকেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সকালে শিক্ষক আ.ত.ম ইউসুফ মোটরসাইকেল চালিয়ে জয়পুরহাট টেকনিকেল স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে শহরের দয়ালের মোড়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার সাথে ধাক্কা লেগে রাস্তার মাঝে পড়ে যান। এসময় বিপরীত দিক বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে শহরের মুক্তির মোড়ের দিকে আসা দ্রুতগতির একটি বিআরটিসি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে বাসের চাকায় পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। অটোরিকশার ধাক্কার কারণে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে সড়কে পড়ে যান ওই শিক্ষক। তবে বাস চালকের কোন দোষ ছিলনা বলে জানান স্থানীয়রা। সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান
জাককানইবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত একাধিক
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ছাত্রদলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিরোধ থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রদলের একটি কর্মসূচিতে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মীকে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। বিষয়টি মীমাংসা করতে ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার ঘটনাস্থলে যান। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে ঘটনাটি দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রথম দফার সংঘর্ষে ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজালাল জনি আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহিমের অভিযোগ, সদস্য সচিব মামুন সরকারের অনুসারী রাব্বি ও আরও কয়েকজন উপস্থিত থেকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান। রাব্বি আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার সকালে অগ্নিবীণা হলের ডাইনিংয়ে বহিষ্কৃত সেই শিক্ষার্থী রিজওয়ানুল করিম রাব্বী হামলার শিকার হন। তিনি ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী। পরে তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্রদল শাখার আহ্বায়ক হাবিব দাবি করেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের বিষয়টি ঠিক নয়। সিনিয়র-জুনিয়রদের একটি ছোট ইস্যু বড় আকার নিয়েছিল, যা তিনি ও সদস্য সচিব উপস্থিত থেকে সমাধান করে দিয়েছেন। ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে সত্যতা মিললে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, ঘটনাটি জুনিয়র-সিনিয়রদের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি থেকে হয়েছিল, যা পরে দুই পক্ষ আলোচনায় বসে সমাধান করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে প্রশাসন ঘটনাস্থলে যায়। প্রশাসন ও ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানায় সাংবাদিককে লাঞ্ছিত ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
গত বুধবার ২৯শে জুলাই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানায় এক বিএনপি নেতাকে আদালতে পাঠানোর সময় দায়িত্ব পালনরত বিজয় টিভির সাংবাদিক মোর্শেদ আলম খোকনের ওপর হামলার চেষ্টা এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাটি থানা প্রাঙ্গণেই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর উপস্থিতিতে ঘটে। এ সময় সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি কিংবা টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
গংগাচড়ায় প্রতিপক্ষের হামলার অভিযোগ, নারীসহ দুজন আহত
রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার তালুক হাবু মাঝাপাড়া এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতে হাজিরার সুযোগে একটি বসতবাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মিলন মিয়া সহ ৯জনের নাম উল্লেখ করে গংগাচড়া মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছেন মোছা. আনিছা বেগম (৫৫)। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনিছা বেগমের স্বামী ও দুই ছেলে আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, হামলায় আনিছা বেগমের নাতি মো. মোরছালিন গুরুতর আহত হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। আনিছা বেগমও হামলা ঠেকাতে গিয়ে হাতে গুরুতর আঘাত পান এবং তার আঙুলে সেলাই দিতে হয়। এছাড়া পরিবারের এক নারী সদস্যের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী মোছাঃ আনোয়ার বেগম জানান হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে এবং যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহত মোরছালিনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র থানায় জমা দেওয়ার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এজাহার দায়ের করা হয় বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মোতালেবকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তার ফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে গংগাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুর ছবুর জানিয়েছে, আবুল কাশেম ও আব্দুর রহিমের জমি বিরোধী নিয়ে অনেক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ এজহার দায়ের করেছেন বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংস্কারের অভাবে বেহাল বড়বিলের সড়ক, বিপাকে ২ হাজার মানুষ
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক এখন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুল মাজেদের বাড়ি থেকে তেলিপাড়া এবং শালমারা কবরস্থান থেকে মকসুদুলের বাড়ি সংলগ্ন পাকা মসজিদ পর্যন্ত সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, কাদায় পরিণত হয় পুরো সড়ক। বিশেষ করে কালভার্টের দুই পাশের গর্ত রাতের অন্ধকারে হয়ে উঠে মৃত্যু ফাঁদ। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার মানুষের। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুমে কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত—তা বোঝার উপায় থাকে না। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা। স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর বলেন, সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে। এমনকি সামাজিক অনুষ্ঠানেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক সময় বরযাত্রী বহনকারী গাড়িও এ পথে চলতে পারে না। মুকুল মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগে তার বাড়িতে আসা এক অতিথি ভ্যানসহ সেতুর পাশের গর্তে পড়ে আহত হয়েছেন। প্রতিদিনই এমন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আরিফ মিয়া নামে একজনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এই সড়কই এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। কৃষিপণ্য বাজারজাত করা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরে যাতায়াত—সবকিছুর জন্যই এই সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই এলাকার ভ্যানচালক বাবলু মিয়া বলেন, বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ডুবে যায়। তখন ভ্যান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়েক দিন আগে গর্তে পড়ে তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। আরেক ভ্যানচালক সুরুজ মিয়া জানান, সড়কের করুণ অবস্থার কারণে অনেক সময় রাতে ভ্যান বাড়িতে নেওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে রেখে সকালে আবার নিয়ে বের হতে হয়। চার বছর ধরে সড়কটির সংস্কার হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। কথা হয় স্থানীয় দোকানদার কাদের এর সঙ্গে তিনি জানান, রাস্তার কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন অসুস্থ রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীরা। জরুরি মুহূর্তে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ অসুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, ভ্যানও ঠিকমতো নিয়ে যাওয়া যায় না। অনেক সময় রোগীকে কোলে করেই অপেক্ষাকৃত ভালো সড়ক পর্যন্ত নিতে হয়। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার করা হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহীনুর রহমান শাহিন বলেন, চলতি বছরের অতিবৃষ্টিতে সড়কটি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে সংস্কারকাজ শুরু করা হোক। তাদের আশা, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রায় ২ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
লালমনিরহাটে বিচারক সংকটে বাড়ছে মামলাজট, ভোগান্তিতে বিচারপ্রার্থী
ভবন ও বিচারক সংকটের কারণে লালমনিরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। এতে মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে। বাড়ছে মামলার জট। বিচারপ্রার্থী মানুষকে বারবার তারিখ নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলা আদলতে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলা হয়েছে ৩১ হাজার ৬৪৯টি। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলা সংখ্যা ১১ হাজার ৫৪৭টি, এর বিপরীতে ৯টি এজলাস রয়েছে। ৯ জন বিচারকের বিপরীতে ৬ জনের পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। আদালতের প্রকাশিত বিচারক তালিকায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ জন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ জন। আর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ জনের বিপরীতে কোনো বিচারকের নাম উল্লেখ নেই। ৬ জন বিচারকের অভাবে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে এতে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বিচারপ্রার্থী নুর হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য ৪০ কিলোমিটার দূর থেকে তাকে আদালতে আসতে হয়। বিচারক স্বল্পতার কারণে শুনানি না হওয়ায় মামলা নিস্পত্তি হচ্ছে না। দিনের পর দিন আদালত চত্বরে তিনি আসেন আর তারিখ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। এতে তার সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের বিচারপ্রার্থী আদম আলী জানান, বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট আদালতের দূরত্ব ৯৫ কিলোমিটার। আদালতের সময়মতো আসতে ভোরে ট্রেনে উঠতে হয়। মামলার ধার্য তারিখে আদালতে এসে যদি শুনানি না হয়, তাহলে আবার কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়। লালমনিরহাট জেলা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, “২০০৭ সালে বিচার বিভাগ আলাদা হলেও লালমনিরহাটে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন না থাকায় বিচারকার্য পরিচালনায় বিচারকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ছোট রুমে আদালত বসে। আইনজীবীদের বসার জায়গা থাকে না। আইনজীবীর সহকারীদের প্রবেশ করার মতো পরিবেশ নেই। ভিন্ন ভিন্ন মামলার আসামি হওয়া স্বত্বেও একসঙ্গে এজলাসে রেখে শুনানি করা হয়। মামলার আসামি বেশি হলে এজলাসের বাহিরে রেখেই হাজিরা দিতে হয়। নেই নারীদের বসার নিরাপদ জায়গা।” আইনজীবী সৈকত আহমেদের জানান, বিচারক সংকটের পাশাপাশি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য আধুনিক ও আলাদা ভবনের অভাবে বিচার কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, “চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ করাসহ অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দিলে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।” এদিকে লালমনিরহাট বিচার বিভাগীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, সম্প্রতি বিভিন্ন আদালতে বিচারক বদলি ও পদায়নের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ না হলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে না বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) লালমনিরহাট জেলার সভাপতি আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, আদালতে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত শূন্য পদে বিচারক নিয়োগ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য পৃথক ও আধুনিক ভবন নির্মাণ এবং বিচারিক অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। না হলে মামলা জট ও বিচার বিলম্ব প্রকট আকার ধারণ করবে।”
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি’র মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে একজন আসামিসহ ভারতীয় ইস্কফ সিরাপ ও মোটরসাইকেল জব্দ
সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর সিন্দুরখান বিওপি’র টহলদল মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একজন আসামিসহ প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা মূল্যের ১০ বোতল ভারতীয় ইস্কফ সিরাপ এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সিন্দুরখান বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পাট্টাব্রিজ নামক স্থানে সন্দেহভাজন একটি মোটরসাইকেল তল্লাশি করে ১০ বোতল ভারতীয় ইস্কফ সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেলসহ একজন আসামিকে হাতে-নাতে আটক করা হয়। আটককৃত মালামাল ও আসামিকে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা দায়েরের মাধ্যমে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। *আটককৃত আসামির বিবরণ: মোঃ শাহজাহান (৩০), পিতা-মোঃ চান মিয়া, গ্রাম-কুঞ্জবন, ডাকঘর-জানাউরা, থানা-শ্রীমঙ্গল, জেলা-মৌলভীবাজার।* ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধ করে যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে রক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ও চোরাচালান ব্যবসায়ী চক্রকে শনাক্ত ও আটক করতে বিজিবি’র গোয়েন্দা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।