বাংলাদেশ বার্তা টুডে
বারহাট্টায় মা/দক বিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলাধীন চিরাম ইউনিয়নের তাহেরা মান্নান উচ্চ বিদ্যালয় ও বালাম মাদ্রাসায় মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৮ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে এই ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম, বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক, চিরাম তাহেরা মান্নান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হুসেন ও অন্যান শিক্ষকগণ, চিরাম ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহসহ বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক বৃন্দ।
প্রতিকার ও শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মো. উজ্জ্বল মিয়া (৩৫) তার ৭ বছর বয়সী ছেলে মো. হানিফ মিয়াকে বলৎকারের অভিযোগ এনে প্রতিবেশী মো. রাজ্জাক মিয়া (৪০)-এর বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।এদিকে থানায় দাখিল কৃত এজাহার তুলে নেয়ার৷ জন্য বলাৎকারির জ্যেঠাতো ভাই (অব:) এস আই বাদীপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করে আসছে মর্মে,, বাদীপক্ষ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় ধোপাডাঙ্গা নতুন বাজারের আশার আলো বিদ্যাপীঠের সামনে বলাৎকারি ও তার ভাই,এস আই আমিনুলের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী হাতে ঝাড়ু উচিঁয়ে মানববন্ধন করেন।মানববন্ধন চলাকালে উল্লেখিত ব্যাক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, ভিকটিমের পিতা,উজ্জ্বল, ূদাদা,জাহিদ হাসান জাহিদ, জ্যেঠা জাবেদ হোসেন, আশার আলো বিদ্যাপীঠের অধ্যাক্ষ মাহবুবার রহমান প্রমূখ। মানববন্ধন শেষে নতুন বাজার এলাকায় ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল প্রদর্শন করেন উল্লেখ্য যে গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:০০টার দিকে অভিযুক্ত মো. রাজ্জাক মিয়া শিশু হানিফ মিয়াকে পাউরুটি দেওয়ার কথা বলে নিজের বাড়ি সংলগ্ন বেকারি কারখানার ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে মাটিতে শুইয়ে জোরপূর্বক ভাবে বলৎকার করা হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত বেকারি কারখানা থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা শিশুটির শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে শিশুটি গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় উপস্থিত সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন মোছাঃ হেফি বেগম (৩২), মোছাঃ মিনু বেগম (২৫) ও মোছাঃ শাহিদা বেগম (৩৫)। তারা দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. উজ্জ্বল মিয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরবর্তীতে থানায় দাখিল করা হবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
পীরগঞ্জে বন বিভাগের বিরুদ্ধে কৃষিজমিতে বনায়নের অভিযোগ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বাঁশগাড়া মৌজায় প্রায় ২০০ কৃষক পরিবারের আবাদি জমিতে বন বিভাগ জোরপূর্বক বনায়ন করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা। এ অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং কৃষিজমি রক্ষার দাবি জানান তারা। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বাঁশগাড়া মৌজার প্রায় ২৫.৮৫ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদ করে আসছেন। তাদের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র, খাজনা পরিশোধের রসিদ এবং আদালতে চলমান মামলার নথি তাদের কাছে রয়েছে। এরপরও বন বিভাগ ওই জমিকে সরকারি বনভূমি দাবি করে সেখানে বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তারা কৃষি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। আদালতেও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কৃষিজমিতে বনায়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, প্রায় ২০০ ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষক পরিবারের জীবিকা এই জমির ওপর নির্ভরশীল। জমিতে বনায়ন করা হলে তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন এবং জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়বে। তারা প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পীরগঞ্জে সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার ও বনভূমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও বন বিভাগের বিভিন্ন অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
মানবতার অনন্য নজির: তৃষ্ণার্ত সুনীল পেলেন জলের ধারা, ভাঙা ঘরে আশার আলো জাগালেন সেনাসদস্য শামসুজ্জামান
একসময় যাত্রা মঞ্চে রাজার মতো দরাজ কণ্ঠে হুকুম দিতেন তিনি, যার অভিনয়ে মুগ্ধ হতো হাজারো দর্শক। করতালি আর পুরস্কারে ভরে উঠত ঝুলিক। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে ১৫ বছর আগে এক ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়িয়াদহ গ্রামের সেই যাত্রা শিল্পী সুনীল হালদার। দুর্ঘটনার পর থমকে যায় সুনীলের জীবনের গতি, বন্ধ হয়ে যায় উপার্জনের পথ। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও ঘরে রয়েছে একমাত্র দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলে রবি হালদার (গুজি) ও তার পরিবার। চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে দিন পার করা এই পঙ্গু পরিবারের প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ ছিল এক ফোঁটা সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা। প্রতিবেশীর নলকূপ থেকে বহু কষ্টে মাটির পাত্রে পানি বয়ে এনে নান্দায় জমা রেখে তৃষ্ণা মেটাতেন তারা। দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে পানি আনার এই অবর্ণনীয় কষ্ট চোখ এড়ায়নি একই গ্রামের কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গর্বিত সদস্য মোঃ শামসুজ্জামান-এর। ছুটিতে বাড়ি এসে নিজ গ্রামের অসহায় এই পরিবারের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখে তিনি চুপ থাকতে পারেননি। কোনো সরকারি তহবিল বা অনুদানের অপেক্ষায় না থেকে, নিজের অর্জিত বেতনের টাকা জমিয়ে সুনীল হালদারের উঠোনে বসিয়ে দিয়েছেন একটি নতুন টিউবওয়েল (নলকূপ)। সেনাসদস্য শামসুজ্জামানের এই উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারের বছরের পর বছর ধরে চলা পানির কষ্টই দূর করেনি, বরং এলাকায় মানবিকতার এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি গ্রামের মেহনতি মানুষের বিপদে-আপদে এভাবে এগিয়ে আসায় সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছেন এই সেনাসদস্য। নতুন নলকূপ পেয়ে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে সুনীল হালদার বলেন, "অন্যের বাড়ি থেকে মাটির পাত্রে পানি আইনে খাওয়া যে কী কষ্টের, তা ভাষায় বুঝানো যাবে না। সেনা সদস্য শামসুজ্জামান বাপের মতো কাজ করেছে, আমাগো পানির কষ্ট একবারে ঘুচায় দিল।" এ বিষয়ে সেনাসদস্য মোঃ শামসুজ্জামান জানান, "দেশের নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এই ক্ষুদ্র চেষ্টাটুকু করেছি। একজন অসহায় মানুষের কষ্ট একটু হলেও লাঘব করতে পারাটাই জীবনের বড় তৃপ্তি। আমাদের সমাজে প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এভাবে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তবে অনেক নীরব কষ্টই দূর করা সম্ভব।"
শ্রীপুরে মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা উড়াল সেতুর নিচের অব্যবহৃত স্থানকে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ফুলের বাগান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উড়াল সেতুর নিচে বাগানটির তত্ত্বাবধানে দায়িত্বে রয়েছেন হাসান মিয়া তিনি সর্বক্ষণ বাগানের পরিচর্যার কাজে থাকেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানটিতে বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ রোপণ করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে স্থানটি এখন সবুজে ঘেরা একটি আকর্ষণীয় পরিবেশে পরিণত হয়েছে। এতে একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে ধুলাবালি ও ময়লা-আবর্জনা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আবেদ আলী জানান, আগে উড়াল সেতুর নিচের স্থানটি অব্যবহৃত ও অপরিচ্ছন্ন ছিল। বর্তমানে ফুলের বাগান তৈরির ফলে এলাকাটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে এবং পথচারীদের কাছেও এটি প্রশংসিত হচ্ছে। মাওনা চৌরাস্তার ব্যবসায়ী খাইরুল আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে উড়াল সেতুর নিচে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল, প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই, এখন উড়াল সেতুর নিচে ফুল ফলের বাগানে পরিণত হয়েছে পরিবেশটাও ভালো হয়েছে নাই কোন দুর্গন্ধ, সেতুর পাশে মহাসড়ক দিয়ে মানুষ স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারছে কোন দুর্গন্ধ নেই। বাস চালক জালাল মিয়া জানান, আমরা দেখছি দেখে আসছি প্রতিদিনই সেতুর নিচে কাঁচামালের ব্যবসায়ীরা সারাদিনের বেচাকেনা শেষে যেসব ময়লা জমে থাকতো এগুলোর সব সেতুর নিচে ফেলে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছিল প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এখানে আর ময়লা ফালানো হচ্ছে না যার দরুন পরিবেশটা অনেক ভালো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বাগানের সৌন্দর্য বজায় রাখতে সবাইকে গাছপালা রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো।
শুধু আইন করে নয় জনসচেতনতার মাধ্যমেই মাদক নির্মূল সম্ভব
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শুধু আইন প্রয়োগ কিংবা শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাদকের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আমরা মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই কার্যক্রমকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা। আমার মতে, এ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। শুধু আইন করে কিংবা শাস্তি দিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয় । তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা চাই, সবাই এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জনসচেতনতা সৃষ্টি। মানুষকে বারবার জানাতে হবে যে মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি। এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করতে হবে।” তিনি বলেন, মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে পারলেই তরুণ প্রজন্মকে এই অভিশাপ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সহজ হবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো: বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলীসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও মাদক সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ।
স্বাস্থ্যসেবার সংকট নিরসনের ৫ দফা দাবি নিয়ে বান্দরবানে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
বান্দরবান সদর হাসপাতালের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূরীকরণ, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু, আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনসহ ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছে ‘বান্দরবান সচেতন ছাত্র সমাজ’। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু বান্দরবান সদর হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার চরম সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও তালবাহানার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, হাসপাতালে আইসিইউ না থাকা, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সংকট এবং হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা সতর্ক করেন। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির সমর্থনে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থানজামা লুসাই এবং জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করেন। ছাত্রসমাজের ৫ দফা দাবি গুলো হলো 1. বান্দরবান ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে। 2. সদর হাসপাতালে অবিলম্বে আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করতে হবে। 3. আধুনিক সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে হবে। 4. হাম প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অবহেলার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। 5. পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত ওষুধের সংস্থান নিশ্চিত করে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মঠবাড়িয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষকের ভিডিও ভাইরাল: শিক্ষক বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার টিকিকাটা নূরিয়া কামিল মাদ্রাসার এক প্রভাষকের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। অনৈতিক অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর উক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে রবিবার ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোঃ মনিরুজ্জামান বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ধামুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং দুই সন্তানের জনক। ২০২৩ সালে এনটিআরসিএ-এর (NTRCA) সুপারিশে টিকিকাটা নূরিয়া কামিল মাদ্রাসায় বাংলা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। যানাগেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোঃ মনিরুজ্জামান মাদ্রাসায় যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানের কাছেই একটি বাসা ভাড়া নেন। প্রাইভেট পড়ানোর সূত্র ধরে এক ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারী প্রবাসীর স্ত্রী হওয়ায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জানা গেছে, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি আড়াল করতে তারা একই ভবনের পাশাপাশি ফ্ল্যাটও ভাড়া নেন। সেখানে বিষয়টি স্থানীয়দের জানাজানি হয়ে গেলে পরবর্তীতে তারা বাসা পরিবর্তন করেন। তবে কৌশলে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। কৌশলে যোগাযোগ রাখার একপর্যায়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয়রা তাকে একটি বাসার খাটের নিচ থেকে বের করে মারধর করছে। ঘটনার সময় শিক্ষক মনিরুজ্জামান তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফোন করে টাকার জন্য সাহায্য চাইলে প্রথম স্ত্রী তাকে ভর্ৎসনা করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির কোথাও তাদের বিয়ের বিষয়ে কোনো কথা বলতে শোনা যায়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক মনিরুজ্জামান জানান, গত ৩০ জুন আমি ওই নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। যারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছিল, তারা আমার কাছে টাকা দাবি করেছিল। তা না পেয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিডিওটি নেটে ছড়িয়ে দিয়েছে। কাজী মোঃ ইয়াকুব আলীও বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিয়ের প্রায় ২০-২৫ দিন আগেই ওই নারী তার আগের প্রবাসে থাকা স্বামীকে ডিভোর্স দেন। তাদের বিয়ের যাবতীয় কাগজপত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু জাফর জানান, গত ১৭ জুলাই রুবেল নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বাসা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে ভিডিও করে। কেউ কেউ তার কাছে এক লাখ টাকা দাবিও করেছিল। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও ভিডিও প্রকাশের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা বিয়ে করেছেন কি না, তা আমাদের আগে জানা ছিল না। তিনি আরও জানান, প্রায় ২-৩ মাস আগেই ওই প্রবাসীর বোন শাহিনুর লিখিত অভিযোগ দিলে উক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক থানায় বিয়ের বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি এখনও নিশ্চিত নন।
নারী ও শিশু নির্যাতন: বর্তমান বাস্তবতা ও আমাদের দায়বদ্ধতা
নারী ও শিশু নির্যাতন: বর্তমান বাস্তবতা ও আমাদের দায়বদ্ধতা - নিকোলাস বিশ্বাস নারী ও শিশু নির্যাতন কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কিংবা অপরাধের পরিসংখ্যানগত হিসাব নয়; এটি একটি সমাজের মানবিকতা, নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ববোধের এক গভীর সংকটের প্রতিচ্ছবি। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে সামনে আসছে। শারীরিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, অপহরণ ও হত্যার মতো অপরাধগুলো আমাদের দৈনন্দিন সামাজিক জীবনে এক চরম নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে। নারী ও শিশু নির্যাতন কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয়, রাজনৈতিক, পারিবারিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক - সবক্ষেত্রেই এ ধরনের অপরাধ অহরহ ঘটছে। অপরাধীরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক কুসংস্কার এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অসহায় ও দুর্বল মানুষদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। আমাদের সমাজে নারী ও শিশুরা তুলনামূলকভাবে আর্থ-সামাজিক অবস্থানগত কারণে দুর্বল হওয়ায় অপরাধীরা প্রায়ই তাদের সহজ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে। এই নিষ্ঠুর বাস্তবতা কেবল ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিকভাবে পুরো সমাজের শান্তি, কল্যাণ ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে। বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা ও প্রবণতা বিশ্বব্যাপী নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি ২০২৬ সালেও অত্যন্ত সংকটাপন্ন ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন দেশে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, সম্মুখসারিতে কাজ করা মানবসেবা ও সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর তীব্র অর্থসংকট এবং লিঙ্গসমতার অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কয়েক দশকের আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, বিশ্বজুড়ে এখনো প্রায় প্রতি তিনজন নারীর একজন তার জীবদ্দশায় ঘনিষ্ঠ সঙ্গী কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নির্যাতনের হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত হয়রানি ও হুমকির মাধ্যমে নারী সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক আন্দোলনকারী ও পরিচিত ব্যক্তিত্বদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) শিশুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি স্থানীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অপরাধীদের প্রতি 'শূন্য-সহনশীলতা' নীতি কার্যকর করা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসানের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। দেশের বর্তমান বাস্তবতা ও চিত্র বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা মারাত্মকভাবে বাড়ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ এবং শিশু মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এক মাসেই সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ২,০১১টি মামলা নিবন্ধিত হয়েছে - যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর গত নয় মাসের মধ্যে একক মাসে সর্বোচ্চ। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১,৬২১ জন নারী ও কিশোরী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১,০৪২। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ ধরনের ঘটনা প্রায় ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম অর্ধে ৪৯০ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯৫ জন শিশু শারীরিক নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা অথবা যৌন নির্যাতনের পর করুণ পরিণতি হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়াও সংগৃহীত উপাত্তসমূহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে নির্দেশ করে: ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ৮৬ শতাংশ শিশু শৃঙ্খলার নামে শারীরিক সহিংসতার মুখোমুখি হয় এবং দেশের ৪৭.২ শতাংশ কিশোরীর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বাল্যবিবাহ হয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ৭০ শতাংশ নারী তাদের জীবদ্দশায় সঙ্গীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হন। বাংলাদেশে ১০২টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এবং '১০৯ ও ১০৯২১' জাতীয় হেল্পলাইনের মতো আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে চরম দুর্বলতা রয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নথিভুক্ত হওয়া ৫,৬০০টিরও বেশি যৌন সহিংসতার মামলার মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ মামলায় আসামির শাস্তি বা রায় কার্যকর হয়েছে। জরুরি ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশকে অতিসত্বর একটি ডেডিকেটেড 'শিশু বিষয়ক বিভাগ' প্রতিষ্ঠা করতে হবে, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংস্কার করতে হবে এবং পেশাদার ও সমাজভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কর্মী দল গঠন করতে হবে। সেই সাথে বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বিত একটি কার্যকরী কর্মগোষ্ঠী গঠন করা প্রয়োজন, যা সুনির্দিষ্ট দায়িত্বের মাধ্যমে অরক্ষিত নারী ও শিশুদের সুরক্ষা দেবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে একটি স্থায়ী সুরক্ষা বলয়ে রূপান্তর করবে। তবে এ তথ্যগুলো মূল ঘটনার একটি অংশমাত্র। সামাজিক কলঙ্ক, প্রতিশোধের ভয়, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং সামাজিক চাপের কারণে অধিকাংশ ভুক্তভোগী আইনি সহায়তা নিতে পারেন না এবং আদালতের বাইরে আপস করতে বাধ্য হন। প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মানসিক প্রভাব প্রযুক্তির বিকাশ অপরাধের ধরণ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়াকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছে। স্মার্টফোন ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট এখন সবার হাতে থাকায় যেকোনো নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অতীতেও সহিংসতা হতো, কিন্তু প্রযুক্তি অপ্রতুল থাকায় এত দ্রুত তা সামাজিক প্রভাব তৈরি করতে পারতো না। সামাজিক মাধ্যমে নির্যাতনের বিষয় ছড়ানোর দুটি দিক রয়েছে: ক) ইতিবাচক প্রভাব: অন্যায়ের ভিডিও বা ছবি জনমত গঠন করতে সাহায্য করে, অপরাধীকে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে। খ) নেতিবাচক প্রভাব: সহিংসতার ভয়াবহ দৃশ্য বারবার দেখার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ, আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। নারী ও শিশুদের ওপর এই মানসিক প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর হয়। কোনো মা যখন একটি শিশুর ওপর নির্যাতনের ভিডিও দেখেন, তখন নিজ সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তার মনে স্থায়ী শঙ্কা তৈরি হয়। একইভাবে, প্রকাশ্যে কোনো নারীকে লাঞ্ছিত হতে দেখলে অন্য নারীদের মনে ভয় জন্মায় এবং তারা নিজেদের স্বাধীনতা ও চলাফেরা সংকুচিত করতে পারেন। এভাবে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও প্রযুক্তি মারফতে পুরো সমাজে এক যৌথ মানসিক আঘাত ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়া প্রযুক্তির অসচেতন ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন না রাখা, সংবেদনশীল ছবি বারবার পোস্ট করা কিংবা গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার দ্বিতীয়বার সামাজিকভাবে হেনস্থা ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন। প্রযুক্তি কেবল একটি মাধ্যম; তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। রাজনৈতিক সংঘাত ও পারিবারিক সহিংসতা দলীয় সংঘাত ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নারী ও শিশুদের ওপর নির্যাতনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। গণতান্ত্রিক চর্চায় মতাদর্শিক ভিন্নতা স্বাভাবিক, কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধ কোনো ব্যক্তির ওপর অমানবিক অত্যাচারকে সমর্থন করতে পারে না। গণপিটুনি, শারীরিক নির্যাতন, প্রকাশ্যে অপমান ও নৃশংসতা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে। ক্ষমতা প্রদর্শন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসতাকে যখন নিয়মিত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন সমাজ ধীরে ধীরে সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলে। একসময় মানুষের এই কষ্ট দেখে সমাজ উদাসীন হয়ে পড়ে, যা একটি অসুস্থ সামাজিক ব্যবস্থার লক্ষণ। একইভাবে, পারিবারিক সহিংসতা একটি মারাত্মক কিন্তু গোপনীয় সমস্যা। পরিবার ও সমাজ প্রায়ই একে 'ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়' বলে এড়িয়ে যায়। স্ত্রীর ওপর নির্যাতন, শিশুদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নিষ্ঠুরতা এবং বয়োবৃদ্ধ বা দুর্বলদের অপমান করা গুরুতর অপরাধ হলেও সম্মানহানি ও সংসার টিকিয়ে রাখার চাপে ভুক্তভোগীরা নীরব থাকেন। এই নীরবতা অপরাধীকে আরও উৎসাহিত করে। তাই পরিবার ও সমাজকে এ নীরবতা ভেঙে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সমাধানের মূল পথ ও করণীয় নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে শুধু আইন সংশোধন বা আলোচনার আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও বহুমুখী পদক্ষেপ: ১. কঠোর ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ: রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার তোয়াক্কা না করে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘসূত্রতা বিচারব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস নষ্ট করে। ২. নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষা: পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিশুদের সহমর্মিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও লিঙ্গসমতার শিক্ষা দিতে হবে। ছেলেদের শেখাতে হবে যে শক্তি কখনো অন্যকে নিপীড়নের অধিকার দেয় না। মেয়েদেরও তাদের অধিকার, আত্মরক্ষা এবং হয়রানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। ৩. ভিকটিম দোষারোপ বন্ধ করা: সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। ভুক্তভোগীর পোশাক, চলাফেরা বা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে অপরাধীর ওপর থেকে দায় সরানোর মানসিকতা বাদ দিতে হবে। অপরাধের সমস্ত দায় সম্পূর্ণভাবে অপরাধীর; তবে ভুক্তভোগী সহানুভূতি ও আইনি সমর্থন পাওয়ার যোগ্য। ৪. গণমাধ্যম ও রাজনীতির দায়িত্ব: গণমাধ্যমকে ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রেখে দায়িত্বশীল পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি মেনে চলতে হবে এবং কোনো অপরাধীকে দলীয় আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সম্মিলিত দায়িত্ব ও উপসংহার একটি সভ্য সমাজের পরিচয় তার বড় বড় অট্টালিকা, প্রযুক্তি বা অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে নয়; বরং তার সবচেয়ে দুর্বল ও অরক্ষিত নাগরিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার দেওয়ার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। নারী ও শিশুর সুরক্ষা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সমাজ, নাগরিক সমাজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা অপরাধকে সমর্থন করার নামান্তর। আজ যে ঘটনা অন্যের পরিবারে ঘটছে, তা আগামীকাল আমাদের নিজেদের ঘরেও ঘটতে পারে। আমাদের এমন এক সমাজ তৈরি করতে হবে যেখানে নারীরা ঘরে ও বাইরে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং শিশুরা ভয়হীন পরিবেশে বড় হবে। কোনো মতপার্থক্যই সহিংসতাকে বৈধ করতে পারে না। নীরবতা ভেঙে সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার মাধ্যমেই আমরা একটি বাসযোগ্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। (নিকোলাস বিশ্বাস একজন উন্নয়নকর্মী এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল-UNFPA মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত।
পাঁচবিবিতে জলাবদ্ধতা দূর করে মডেল পৌরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতি মেয়র প্রার্থী ডালিমের
আসন্ন পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সাইফুল ইসলাম ডালিম বলেছেন, দলের দুঃসময়ে আমি অভিভাবকের মতো নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করেছি।এবার আমি পাঁচবিবি পৌরবাসীর অভিভাবক হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা দূর করে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব মডেল পৌরসভা গড়ে তুলব। সোমবার বিকেলে পাঁচবিবি পৌর বিএনপির ৯ ওয়ার্ড শাখার আয়োজনে দানেজপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডালিম আরও বলেন, বর্তমানে পৌর এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা সড়কসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অথচ অনেক গ্রামীণ এলাকাও এখন পৌরসভার তুলনায় উন্নত। এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে পৌরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আহসান হাবিবের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হান্নান চৌধুরী, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইট, থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাঈদ ইবনে আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম ও আবু তাহের। এ সময় আরও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পিন্টু, থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, সাবেক অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম, পৌর জিয়া পরিষদের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আওরঙ্গজেব আমিন, ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডল ও মাহবুব আলম জামিল, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোকাররম আজিজ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জনাবুর রহমান জনি, পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক ফরহাদ হোসেন মিঠন, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নাজমা আক্তার, পৌর মহিলা দলের সভাপতি নিলুফা ইয়াছমিন, সাধারণ সম্পাদক গোলশান আরা গ্যালিন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রাব্বানী মাস্টার ও আনিছুর রহমান আনিস, যুবদল নেতা হাফিজুর রহমান আকন্দ রিপন ও নয়ন হোসেন প্রধান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরুজ্জামান, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির, সদস্য সচিব হাসানুর রহমান রাব্বি, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফয়সাল হোসেন আপেল, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আর আই রকি এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম নয়ন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সোবহান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য আবু হেনা মোস্তফা কামাল (লিটন চৌধুরী), বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সহস্রাধিক সাধারণ মানুষ।
বান্দরবানে বন্যাদুর্গত ৭৫৬ টি পরিবারের পাশে গো আপ ফাউন্ডেশন
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তরুণদের নেতৃত্বাধীন অলাভজনক মানবিক সংগঠন গো আপ ফাউন্ডেশন। সংগঠনের 'ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার রেসপন্স টিম' স্থানীয় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে দুর্গম এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। ১০ দিনব্যাপী পরিচালিত এই মানবিক উদ্যোগে বান্দরবানের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৭৫৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। তারাচা, ছ্যাংগা, বটতলী, গোয়েলাখোলার, ফজর আলী পাড়া, ব্রিগেড এলাকা, মুসলিম পাড়া, চড়ুই পাড়া, ভরাখালি ও লাঙ্গিপাড়া সহ মোট ২১ টি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এই সহায়তার আওতায় আসে। খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে গো আপ ফাউন্ডেশন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগিতায় ইউনিসেফ প্রদত্ত হাইজিন কিট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দুর্গম ও প্রান্তিক বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে। এই কিটে রয়েছে স্যানিটারি ন্যাপকিন, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, সাবানসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী, পাশাপাশি সচেতনতামূলক লিফলেট ও স্টিকার। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি হ্রাসে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ইশতিয়াক উদ্দিন আহমদ খান বলেন, "দেশের যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় গো আপ ফাউন্ডেশন সবসময় প্রস্তুত। আলহামদুলিল্লাহ, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা ৭৫৬ টি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় হাইজিন কিট বিতরণের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পেরেছি। তবে আমাদের কাজ এখানেই থেমে নেই—শীঘ্রই একটি মেডিকেল ক্যাম্পেইন শুরু হবে এবং এরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসনে কাজ করবে গো আপ ফাউন্ডেশন। এই মানবিক সহযোগিতার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও ইউনিসেফকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।" ত্রাণ কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেওয়া বান্দরবানের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী রোমানা বলেন, "পাহাড়ধস আর বন্যার পানিতে ঘরের চাল পর্যন্ত ডুবে যাওয়া মানুষগুলোর কষ্ট চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। নিজের এলাকার মানুষের এই দুঃসময়ে গো আপ ফাউন্ডেশনের হয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছি। আমাদের এই লড়াই এখনই থামছে না।" সংগঠনের আরেক স্বেচ্ছাসেবক আব্দুল জাহিদ বলেন, "দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু আমাদের টিমের তরুণদের মনোবল এবং সাধারণ মানুষের মুখের আকুতি আমাদের থামতে দেয়নি। দুর্যোগ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠপর্যায়ে এভাবেই কাজ করে যেতে চাই আমরা। বর্তমানে বান্দরবানে কাজ করছে গো আপ ফাউন্ডেশনের টিম। যেসব এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে, বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে সেসব এলাকাতেও সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আশ্বস্ত করে বলেন, "এই দুঃসময়ে বান্দরবানের মানুষের পাশে সবসময় থাকবে গো আপ ফাউন্ডেশন।" গো আপ ফাউন্ডেশন একটি হিউম্যানিটেরিয়ান ও যুব-নেতৃত্বাধীন অলাভজনক সংস্থা, যা দেশের যেকোনো জাতীয় সংকটে তরুণদের সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত।
নড়াইলের লোহাগড়ায় স্বামীর পুরু/ষা/ঙ্গ কা/টার অভি/যোগে স্ত্রী আ/টক
নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভা এলাকায় রুবেল শেখ (২৮) নামে এক ভাংড়ি ব্যবসায়ী যুবকের পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী আদরী বেগমের (২০) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী যুবকের পুরুষাঙ্গের ক্ষতস্থানে আটটি সেলাই লেগেছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল থেকে জানান, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে পৌরসভার গোপিনাথপুর গ্রামে আহত যুবকের শ্বশুর বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহত রুবেল শেখ যশোর জেলার ধলগ্রামের শহিদ শেখের ছেলে। তিনি লোহাগড়া পৌরসভার গোপিনাথপুরে তার শ্বশুর বাড়ি এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তার স্ত্রী আদরী বেগম ওই গ্রামের বাদলের মেয়ে। ভুক্তভোগী রুবেল শেখ অভিযোগ করে বলেন, তার স্ত্রী আদরী বেগমের সঙ্গে তার বিভিন্ন সময়ে পরকীয়া সন্দেহের জেরে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। এর জেরে মঙ্গলবার ভোরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রী আদরি বেগম তার বুকের উপরে বসে ধারালো ব্লেড জাতীয় বস্তু দিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার চেষ্টা করেন। এসময় তিনি চিৎকার চেঁচামেচি করলে বাড়িতে থাকা অন্য লোকজন ও স্থানীয়দের সহোযোগিতায় তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে তার ক্ষত স্থানে ৮টি সেলাই দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুবেল শেখের অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্ত্রী অভিযুক্ত আদরী বেগমকে আটক করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশের একটি দল। আদরী বেগম পুলিশ হেফাজতে থাকায় এসব অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী আদরী বেগমকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল থেকে।
মোরেলগঞ্জে ক্লিনিক সিলগালার পর এবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত
ব্যক্তিগত ক্লিনিক সিলগালার পর এবার অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবন, এমনকি শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ শৃঙ্খলা-২ শাখার সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বরখাস্তাদেশ দেওয়া হয়। রোববার (২৬ জুলাই) স্বাক্ষরিত ওই চিঠি সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগে পৌঁছায়। ওই চিঠিতে বলা হয়- ডা. কামাল হোসেন মুফতি মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পরিদর্শনকালে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, পরিত্যক্ত ভবন, এমনকি শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়; যা চিকিৎসাসেবার সুনাম নষ্ট করছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী- কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা প্রস্তাব বা বিভাগীয় কার্যধারা রুজু করা হলে, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগের মাত্রা ও প্রকৃতি, অভিযুক্ত কর্মচারীকে তাহার দায়িত্ব হতে বিরত রাখার আবশ্যকতা, তদন্তকার্যে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা- ইত্যাদি বিবেচনা করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে। সে অনুযায়ী, ডা. কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্তের প্রজ্ঞাপনের তারিখ হতে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা প্রাপ্য হবেন। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান বলেন, কামাল হোসেন মুফতিকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি শুনেছি। আমরা চিঠি পেয়েছি। ওই চিঠির আদেশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দুই ঘণ্টাব্যাপী পরিদর্শনে মন্ত্রী হাসপাতালে নানা অনিয়ম দেখতে পান। হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ খুলে চক্ষু চরকগাছ হয় মন্ত্রী ও সরকারি আমলাদের। পরিত্যক্ত ওই ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ভর্তি সরকারি ঔষধ, স্যালাইন, সুই সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী। এমনকি শৌচাগারেও স্যালাইন ও ওষুধের স্তূপ দেখতে পান মন্ত্রী। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বিভাগীয় পরিচালককে মোবাইল ফোনে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য) শফিউর রহমান ও বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স ম মাহবুবুর রহমান হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। ওই দিন সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন মুফতির পরিচালিত ব্যক্তিগত ক্লিনিক সিলগালা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতালের দেয়ালের পাশেই ‘ফ্যামিলি হেলথ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের ওই ক্লিনিকটি তিনি পরিচালনা করছিলেন।
মহালছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আশিকার বহুমুখী সহায়তা
সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) খাগড়াছড়ির মহালছড়ি সদর ইউনিয়নে বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে খাদ্য, স্বাস্থ্যবিধি, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ সহায়তা বিতরণ করেছে উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস (Ashi ka Development Associates)। স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ (Start Fund Bangl adesh)-এর সহযোগিতায় B075 প্রকল্পের আওতায় সোমবার সকাল ১০টায় মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে এ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মানিক রঞ্জন খীসা, মহালছড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সুপর্ণা দে এবং মহালছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতিদীপক সেন। অনুষ্ঠানে আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সেফগার্ড ফোকাল ঝুমলিয়া চাকমা এবং উপজেলা ফোকাল তঞ্চঙ্গ্যা টি.এফ. টার্জানিন। এ সময় মোট ১০০ জন উপকারভোগীর মাঝে ১০০টি খাদ্য ও হাইজিন কিট (Food & Hygi ene Kits) বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি ১০ জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা সহায়তা সামগ্রী (Educat i on Support Mat er i als) এবং ১০টি পরিবারের মাঝে আশ্রয়ণ উপকরণ (Shelter Kits) প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার দুঃস্থ ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে এ ধরনের সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি প্রশাসন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে উপকারভোগীদের হাতে খাদ্য, স্বাস্থ্যবিধি, শিক্ষা ও আশ্রয়ণ সামগ্রী তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
পঞ্চগড়ের ধনিপাড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে মাইক্রোবাসের ধাক্কা, চালকসহ গুরুতর আহত ৬
পঞ্চগড়, ২৭ জুলাই ২০২৬: পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধনিপাড়া এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের ধাক্কায় চালকসহ অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি সময়মতো দেখতে না পেরে দ্রুতগতির মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন এবং যানবাহনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।