বাংলাদেশ বার্তা টুডে
বিশ্বনবী (সা.) সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত : হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সমগ্র সৃষ্টি তথা বিশ্বমানবের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির পয়গাম নিয়ে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ১২ রবিউল আওয়াল সোমবার প্রভাতের সময় মহাবিশ্বে আগমন করলেন প্রিয় নবী, শেষ নবী, রহমাতুল্লিল আলামিন, শান্তির অগ্রদূত, মানবতার মুক্তির দিশারি হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সৃষ্টির শুরু থেকেই উভয় জগতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সব রহমত ও দয়া এ নবীর অসিলায় প্রবাহিত করছেন। মহানবী (সা.)-এর আগমনের দিন পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্ব ভুবনের জন্য নিঃসন্দেহে রহমত ও বরকতময়।মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘হে নবী আমি আপনাকে সারাবিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (২১-সূরা আম্বিয়া : আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন বিশ্ব তথা মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে। হজরত আদম (আ.)- এর মাধ্যমে দুনিয়ার বুকে প্রথম নবীর আগমন, হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)’র আগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে নবী-রসুলের আগমন পর্বের সমাপ্তি টানা হয়েছে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.)’র পর পৃথিবীতে আর কোনো নবী আসবেন না। তিনি হলেন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য মনোনীত নবী। কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীতে আসবে তারা তার উম্মতের মধ্যেই গণ্য হবে। পৃথিবীতে আর কোনো নবী আসবে না। মুহাম্মদ (সা.)’র আগে যে নবী-রসুল (আ.) এসেছেন তাদের বিশেষ সম্প্রদায়ের নবী রসুল হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আখেরি নবীর আগমন ঘটেছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। ঈমানের দৃঢ়তা মুমিনের জীবনে এনে দেয় প্রকৃত শান্তি ঈমানের দৃঢ়তা মুমিনের জীবনে এনে দেয় প্রকৃত শান্তি মহানবী (সা.) দুনিয়ায় এসেছিলেন মিথ্যা থেকে মানুষকে দূরে রাখতে। যারা সত্যের পথের অনুসারী তাদের আখিরাতের জীবনে কীভাবে পুরস্কৃত করা হবে তার বার্তাবাহক হিসেবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছি, অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ (৩৪-সূরা সাবা : ২৮) রাসুল (সা.)’র আগমনের কথা পবিত্র কোরআনের পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোতেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর পাঠানো রসুল, সত্যতা বিধানকারী সেই তাওরাতের, যা আমার আগে এসেছে, আর সুসংবাদদাতা এমন একজন রসুলের যে আমার পরে আসবে, যার নাম হবে আহমদ।’ (৬১-সূরা আস-সফ : ৬) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কোনো একটি বিশেষ দল বা সম্প্রদায়ভুক্ত নবী ছিলেন না এবং তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য বিশ্বনবী। কারণ তাঁর পর দুনিয়ায় আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না।এই প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, “অন্য নবীরা তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন, আর আমি বিশ্বের সব মানুষের জন্য প্রেরিত হয়েছি।” মহানবী (সা.) পৃথিবীতে আবির্ভূত হন এমন এক কঠিন সময়ে যখন সমগ্র পৃথিবী আইয়ামে জাহেলিয়াতের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। কোথাও শান্তি ছিল না, স্বস্তি ছিল না, ধর্মের নামে অধর্ম বিরাজ করছিল সর্বত্র। শিরক ও কুফরের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল সবাই। নারীদের সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হচ্ছিল অবলীলায়, কন্যাসন্তানকে দেয়া হচ্ছিল জীবন্ত কবর। মারামারি, হানাহানি, খুন-খারাবির উন্মত্ততায় গোটা সমাজ ছিল টালমাটাল, পৃথিবীর সেই করুণ অবস্থা নিরসনের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ(সা.)-কে সিরাজুম মুনিরা বা প্রদীপ্ত চেরাগরূপে প্রেরণ করলেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, “হে নবী! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁরই দিকে আহ্বানকারীরূপে এবং প্রদীপ্ত চেরাগরূপে।” (সূরা আহজাব, আয়াত ৪৫-৪৬)। সমগ্র সৃষ্টির প্রতি সষ্টার এই যে মহান করুণা তাঁর জন্য মানবকুল তাঁর কাছে ঋণী। পরবর্তী পর্যায়ে যার মাধ্যমে এই রহমত ও নিয়ামতের অধিকারী হল, তাঁরই নিকট ঋণী। সেই মাধ্যম হলো মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.), যিনি মানব জাতিকে জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দিলেন, পবিত্র করলেন। সমগ্র মানবকুল সৃষ্টি জগত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁরই কাছে ঋণী। কে তাকে স্বীকার করল, কে করুণা সে কথা এখানে গৌণ। তিনি সকল মানুষকে, সকল নবীকে, সকল আসমানী কিতাবকে স্বীকার করেছেন। কাউকে অস্বীকার করার মতো মানসিক দুর্বলতা তাঁর মধ্যে মোটেই ছিলনা। তাই তিনি বিশ্বনবী, শ্রেষ্ঠ নবী (সা.)। সকল মানবিক আশা-আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীক হলেন তিনি। রাসুল (সা.)’র মন ছিল আকাশের মতো উদার, সত্যে প্রতি অবিচল। জীবনে কোনো দিন কোন প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেননি। কোন মিথ্যা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি, দানে-ধ্যানে জ্ঞানে, বিচারে-সহানুভবতায় তিনিই ছিলেন তার দৃষ্টান্ত। তার পরিকল্পনা শক্তি ছিল অসাধারণ, তার সংকল্পও ছিল তেমনি সুন্দর। যে কোন ন্যায়, সত্য পরিকল্পনাকে কার্যকরী করে মহান আল্লাহর হুকুম কায়েম করাই ছিল রাসুল (সা.)’র একমাত্র লক্ষ্য। বিশ্বের সব মানুষের কাছে দ্বীনে মুহাম্মদীর প্রকৃত দিকনির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া ও কার্যক্রমই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বর্তমান মুসলিম উম্মাহর এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণ ও ইসলামের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রধান উপায় হচ্ছে প্রিয় নবীকে ভালোবাসা ও অনুসরণ করা। যেহেতু রাসুলের প্রতি ভালোবাসাকে আল্লাহ তাঁর প্রতি ভালোবাসার মাপকাঠি হিসেবে ঘোষণা করেছেন, সেহেতু রাসুলপ্রেমই আল্লাহপ্রাপ্তির পূর্বশর্ত! যার ভেতর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা নেই, সে মুমিন হতে পারে না। শুধু বাহ্যিক সুন্নাত পালন রাসুলপ্রেম নয়। বাহ্যিক সুন্নাহর সঙ্গে আন্তরিক ও আত্মিক সম্পর্ক থাকতে হবে এবং এ আত্মিক সম্পর্কের ফলে প্রেমিকের দৃষ্টিতে শুধু প্রেমাস্পদই বিরাজ করে। আল্লাহপাক বান্দার কল্যাণার্থে অসংখ্য ‘নিয়ামত ও রহমত’ প্রদান করেছেন। তার মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ‘নিয়ামত ও রহমত’ হচ্ছে আমাদের প্রিয় নবীজির ইহধামে শুভাগমন! আর এই নিয়ামত ও রহমত পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশেই আছে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির উপায়। যেহেতু প্রিয় নবীর শুভাগমন জগদ্বাসীর প্রতি আল্লাহর বিশেষ রহমত, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণে বিভ্রান্ত মানবজাতি আলোর পথের সন্ধান পেয়েছেন, গোমরাহীর অতলগহ্বরে নিমজ্জিত দিকভ্রম বনি আদম তাঁরই অসিলায় আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মর্যাদাপ্রাপ্ত। নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, লাঞ্ছিত, মানব গোষ্ঠীকে তিনি চিরকল্যাণকর আদর্শের পথে আহ্বান করেছেন এবং সম্মান ও মর্যাদার উচ্চাসনে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুতরাং তাঁর আবির্ভাব উম্মতের জন্য কত বড় রহমত ও সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদ্যাপন করে সেই মহান রবের নিয়ামত প্রিয় নবীকে স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মধ্যেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তির পথ ও পাথেয়। তাই মহানবী (সা:) এর জীবনের সুমহান আদর্শের ওপর গভীর আলোকপাত করে মানব জীবনে তা বাস্তাবায়ন করার প্রত্যয়দীপ্ত শপথ নিতে হবে আজ। তাহলে তার জীবন দর্শনের সঠিক মূল্যায়ন হবে। রাসুলুল্লাহ(সা.) গোত্রীয় শাসনের স্বৈরাচারে দগ্ধ, মুষ্টিমেয় বিত্তশালীর শোষণে নিঃস্ব, সামাজিক দূরাচারে অতিষ্ঠ মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেয়েছেন। তিনি বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তাওহিদের বাণী প্রচারের দায়ে স্বজাতির নির্যাতনে নিরুপায় হয়ে জন্মভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরতে বাধ্য হয়েছিলেন। অতঃপর ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে ইহুদি, পৌত্তলিক, খ্রিস্টান ও মুসলমানদের নিয়ে মদিনাতে একটি স্বাধীন-স্বতন্ত্র জাতি ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে রাসুলের আদর্শিক জাগরণ সমগ্র আরবকে আয়ত্ত্ব করে নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজ যখন দেশের বিপুল মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে, যখন অন্য-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-চিকিৎসার অভাব জনজীবনে প্রকট হয়ে উঠছে, যখন মানুষ একে অপরের দ্বারা নির্যাতিত ও অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে- তখন ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর শিক্ষা হোক ও শপথ হোক রাসুল (সা.)’র ভালোবাসার দাবিতে সংঘাত নয়, চাই রাসুল (সা.)’র আদর্শের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ। আমরা রাসূল (সা.)’র সাথে যত বেশি মহব্বতের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারব, যত বেশি দরুদ ও সালাম পাঠাব ততই বাতিল, তাগুত আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: সবার জন্য হোক মুবারক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
গোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির নতুন নেতৃত্বে তাওহীদ-তাওহিদুল
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) ডিবেটিং সোসাইটির ৭ম কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদ আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. তাওহিদুল আহমেদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাফিরা হক প্রতিষ্ঠা নির্বাচিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. তাওহিদুল আহমেদ বলেন, “একটি ক্লাব তখনই সত্যিকার অর্থে বড় হয়ে ওঠে, যখন তার প্রতিটি সদস্য এটিকে নিজের জায়গা বলে মনে করে। ডিবেটিং সোসাইটি-কে আমি এমন একটি পরিসর হিসেবে দেখতে চাই, যেখানে নতুনরা সাহস পাবে, অভিজ্ঞরা পথ দেখাবে, আর সবাই একসঙ্গে শিখবে ও বেড়ে উঠবে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার বিশ্বাস, একটি ক্লাবের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানুষ। তাই সবার অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের প্রিয় ক্লাবটিকে আরও প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ করে এগিয়ে নেওয়াই আমার অঙ্গীকার।” নবনির্বাচিত সভাপতি তাওহীদ আহমেদ বলেন, “ডিবেটিং সোসাইটি আমার কাছে শুধু একটি বিতর্কের ক্লাব নয়, এটি আমার ও আমাদের অনেকের শেখা, বেড়ে ওঠা এবং নিজেদের প্রকাশ করার একটি জায়গা। ‘যুক্তিই হোক শক্তি’—এই বিশ্বাসকে সামনে রেখে আমি চাই, আমাদের প্রতিটি সদস্য বিতর্কের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, মুক্তচিন্তা ও নেতৃত্বের গুণে সমৃদ্ধ হোক। আগেরদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে সবার অংশগ্রহণে আমাদের প্রিয় ক্লাবটিকে আরও প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করে সামনে এগিয়ে নেওয়াই আমার প্রত্যয়।”
নোবিপ্রবিতে সিট নিয়ে ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ছাত্রদল নেতা ও সাবেক সমন্বয়ক
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রথম প্রহর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় দফায় দফায় সংঘটিত এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক সমন্বয়ক ও এক ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন—শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ফলিত গণিত বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং কৃষি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন (এক্সচেঞ্জ) নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত তিনটার দিকে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারী আনিসুর রহমান সিফাতের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সিফাতকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি পকেট গেটের দিকে চলে যান। এরপর পকেট গেট এলাকায় সামিউল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর ঠোঁট ফেটে যায় এবং পরে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, ঘটনা থামাতে গেলে হলের ভেতরে মারধরের শিকার হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন। মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত বলেন, “সিট নিয়ে তুচ্ছ বাকবিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা অন্যায়ভাবে আমার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় এবং মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়, বিশেষ করে ফিশারিজের রায়হান কবির রাশেদ ও ইকোনমিক্সের তানভীর ভুইঁয়া।” নিজের ওপর হামলাকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগস্টের ১০ তারিখও ওরা ছাত্রলীগ করেছে, এখন বড় ছাত্রদল হয়ে গেছে। ছাত্রলীগ দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি চলে না। আর ছাত্রলীগের স্টাইলে পেশিশক্তির রাজনীতি নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গুপ্ত শিবিরকে দিয়ে যখন কমিটি দেওয়া হয় আর ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি করা হয় তখন তাদের থেকে এর চেয়ে বেশি কিইবা আশা করতে পারি।” ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসান বলেন, “আমি ঐ রুমে রাতের খাবার খেতে গিয়েছিলাম। একটা সিট এক্সচেঞ্জ নিয়ে বাক-বিতণ্ডার হয়, পরে সেটার একটা সমাধান হয় এবং সবাই চলে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তারা পরিকল্পিতভাবে এসে ছাত্রদলের দায়িত্বশীল এক নেতার ওপর এমন হামলা করে। যা সুস্পষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল। আমি ইতিমধ্যে বিষয়টি কেন্দ্রে জানিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। তবে যতটা জানি এটা সিনিয়র ও জুনিয়রের মধ্যকার ঝামেলা কোনো পলিটিক্যাল বিষয় নয়। আমি বিষয়টি ভালোভাবে খুঁজে দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।” এদিকে, এ বিষয়ে একাধিকবার কল দিয়েও শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, “আমি এই বিষয়ে অবগত রয়েছি। হলের প্রভোস্ট বডির সবাইকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং আমরা প্রক্টরিয়াল বডির একটি সভা ডাকছি। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এরই মধ্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।”
ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে এআই সিস্টেম উদ্বোধন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে চালু হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালুর ফলে মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমানোর পাশাপাশি ট্রাফিক আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ও সড়কে আইন ভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, অবৈধভাবে গাড়ি পার্ক করা, মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার চালানো এবং উল্টো পথে যানবাহন চালানোর মতো অপরাধ এআই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে। শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট যানবাহনের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে যানবাহনের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হবে। আইন লঙ্ঘনকারী কোনো যানবাহন শনাক্ত হলে সেটির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জরিমানার অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকবে। হাইওয়ে পুলিশ বলছে, নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে মহাসড়কে ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ। এ সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনায় যাত্রী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।
২য় ধাপে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করেছে গো আপ ফাউন্ডেশন
২০২৬ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকার মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছে আলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংস্থা গো আপ ফাউন্ডেশন। প্রথম ধাপে পাহাড়ি ৭৫৬টি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পের। ফুটস্টেপ বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইউনিসেফ প্রদত্ত হাইজিন কিট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি এরিস্টো ফার্মার সহযোগিতায় বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৩০০ পরিবারকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, বন্যা পরবর্তী সময়ে পানিবাহিত ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন বান্দরবানের বহু বাসিন্দা। ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী এবং ২ জন চিকিৎসকের সমন্বয়ে এই মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন গো আপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "বন্যার শুরু থেকে আমরা যেভাবে আপনাদের পাশে আছি, ঠিক সেভাবেই পুনর্বাসন পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকব।" তিনি আরও বলেন, যাদের বাড়িঘর ভেঙে গেছে তাদের বাসস্থান মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে এবং যাদের ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে তাদের মাঝে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় এলাকায় স্যানিটেশন ব্যবস্থা (টয়লেট) নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। যেসব শিক্ষার্থীর বই-খাতা বন্যার পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হবে যাতে তাদের পড়াশোনা ব্যাহত না হয়। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি করতে তাদের মাঝে মাল্টি কার্ট বিতরণেরও ঘোষণা দেন তিনি। বক্তব্যে তিনি বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে। এ সময় উপস্থিত চিকিৎসক বলেন, "বন্যা পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে অনেক রোগী আমাদের কাছে এসেছেন। আমরা চেষ্টা করেছি প্রত্যেককে যথাযথ চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ দিতে।" উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবী জাহিদ বলেন, "আমরা যখন প্রথম বান্দরবানে পৌঁছাই, তখন পরিস্থিতি ছিল খুবই কঠিন। কিন্তু আমাদের পুরো টিম রাত-দিন এক করে কাজ করে গেছে — খাবার প্যাকেজিং থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, মেডিকেল ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত। মানুষের মুখে যখন একটু স্বস্তি দেখি, তখন সব ক্লান্তি ভুলে যাই। এই কাজে আমাদের সাথে যারা ছিলেন — স্থানীয় প্রশাসন, ফুটস্টেপস বাংলাদেশের ভাইয়েরা — সবার সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।" উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবী সানজিদা বলেন, "বন্যার্ত মানুষের কষ্ট সরাসরি দেখে আমরা আরও দায়িত্ববোধ অনুভব করেছি। গো আপ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগে অংশ নিতে পেরে আমি গর্বিত।" গো আপ ফাউন্ডেশন জানায়, শীঘ্রই দ্বিতীয় ধাপে আরও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের তালিকাভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে। সংস্থাটি সবার কাছে এই মানবিক উদ্যোগে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য একজন আদর্শ পল্লী চিকিৎসক
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ৪ নং নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চাপরাইল বাজারে রোগী দেখেন পল্লী চিকিৎসক বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য এলাকার একজন পল্লী চিকিৎসক হিসেবে বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন ভদ্র, বিনয়ী ও ভালো মনের মানুষ বিশেষ করে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে তাঁর প্রতি একটি আলাদা আস্থা তৈরি হয়েছে। সাধারণত প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষের পক্ষে প্রতিবার দূরের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়ভাবে অভিজ্ঞ একজন চিকিৎসকের পরামর্শ ও সেবা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করলেও তিনি বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন না। এলাকার সাধারণ মানুষের তার সম্পর্কে নেতিবাচক কোন বিষয় পোষণ করেন না। এ বিষয়ে স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে তুলে ধরা হলো। মো. সবুজ হোসেন, গ্রাম - আড়ুয়াশলুয়া, মো. রেদোয়ান গ্রাম - চাপরাইল, ওলিয়ার রহমান, গ্রাম বলাকান্দর,মুছা করিম,গ্রাম - ষাটবাড়িয়া, আসাদুজ্জামান, গ্রাম - তেঘুরীহুদা, এছাড়াও এলাকার কিছু সংখ্যক মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বড় একটি অংশ যদি বলেন যে, বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য তাঁদের কাছে একজন ভালো মানুষ ও উপকারী চিকিৎসাসেবাদাতা, তিনি কারও সঙ্গে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন না। আমরা কারও বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের বিরোধিতা করছি না। বরং আমরা চাই, সংবাদ হোক নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তার তদন্ত হোক; অভিযোগ সত্য হলে অবশ্যই তা প্রকাশ করা হোক। একইভাবে কোনো ব্যক্তির দীর্ঘদিনের সেবার কারণে যদি সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়ে থাকে, সেই ইতিবাচক বাস্তবতাও যেন আড়াল না হয়। এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এলাকার সাধারণ মানুষ। একজন অভিজ্ঞ স্থানীয় চিকিৎসকের সেবার সুযোগ সীমিত হয়ে যায় এবং তার ফলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবে, অত্র এলাকার শেষ আশ্রয় স্থাল বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য। তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে অদ্যাবধি চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। "সংবাদ হোক সত্যের,"
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘিরে বড় প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বে আসতে পারে ‘বড় চমক’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনকে ঘিরে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন একটি শক্তিশালী, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের প্রত্যাশা করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা নেতৃত্বে আসবেন, তাদেরকে ছাত্রদলের সকল ইউনিট সাদরে গ্রহণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ নুর-বীন আব্দুর রহমান রাহাত। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ইনশাআল্লাহ বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা এবং ক্যাম্পাসের কল্যাণমূলক কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা এমন একটি কমিটি প্রত্যাশা করছি, যে কমিটি সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও বলেন, “নেতৃত্বে যারা আসবেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল ইউনিট তাদের সাদরে গ্রহণ করে নেবে। নতুন নেতৃত্বের প্রতি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থা ও প্রত্যাশা রয়েছে। যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের প্রতিটি ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।” রাহাতের মতে, একটি কেন্দ্রীয় কমিটি শুধু সাংগঠনিক কাঠামোর পরিবর্তন নয়; বরং এটি সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে ইতিবাচক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, ক্যাম্পাসের পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে ছাত্রদলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই কমিটি একটি বড় চমক হতে চলেছে, ইনশাআল্লাহ। তবে সেই চমক শুধু নেতৃত্বের তালিকায় নয়—সংগঠনের কার্যক্রম, সাংগঠনিক গতিশীলতা এবং নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান হবে বলে আমরা আশা করি।” ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। তৃণমূলের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে এবং সাংগঠনিক ঐক্য আরও সুদৃঢ় করবে। মোঃ নুর-বীন আব্দুর রহমান রাহাত বলেন, “আমরা চাই নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আরও সুসংগঠিত, কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে নিজেদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করুক। যারা নেতৃত্বে আসবেন, তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা ও শুভকামনা থাকবে।” সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং দেশের বিভিন্ন ইউনিট ও ক্যাম্পাসে সংগঠনের ইতিবাচক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। মোঃ নুর-বীন আব্দুর রহমান রাহাত গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদল
গাইবান্ধা জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ডিবি ওসিকে সম্মাননা
গাইবান্ধা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলার সাতটি উপজেলার ৮২ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা, মাদক উদ্ধার, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানসহ অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকারকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন ডিবি ওসি আব্দুল মোত্তালিব সরকারের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন। সু্ত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের গ্রেফতার, অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এসব কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ডিবি ওসিকে এ বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কাপ্তাই প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি ঘোষিত : সভাপতি কবির হোসেন , সম্পাদক ঝুলন দত্ত
পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন রাঙামাটির কাপ্তাই প্রেসক্লাবের ১ বছর মেয়াদী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে কাপ্তাই শিলছড়ি নিসর্গ রিভার ভ্যালি এন্ড পড হাউস এ রাঙামাটি প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কাপ্তাই প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে এই কমিটির ঘোষণা করেন রাঙামাটি জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক। এতে প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে নির্বাচিত করা হয়েছে দৈনিক আজাদী ও দৈনিক ইত্তেফাকের কাপ্তাই প্রতিনিধি এবং রুপসী কাপ্তাইয়ের নির্বাহী সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক কাজী মোশাররফ হোসেনকে। এছাড়া কমিটিতে সভাপতি হিসাবে মনোনিত হয়েছে দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক পূর্বকোন এর কাপ্তাই প্রতিনিধি মো: কবির হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হয়েছেন বাংলাদেশ বেতার, দৈনিক আজকের পত্রিকা, দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং দৈনিক গিরিদর্পনের কাপ্তাই প্রতিনিধি ঝুলন দত্ত। এছাড়া কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সিনিয়র সহ সভাপতি : আলমগীর কবির ( দৈনিক জনতার সংবাদ, ) অর্থ সম্পাদক নুর হোসেন মামুন( দৈনিক শেয়ার বিজ), নির্বাহী সদস্য রবিউল হোসেন চৌধুরী রিপন, (দৈনিক সাঙ্গু), এম বাবুল( দৈনিক আলোকিত পাহাড় ও ঢাকা প্রতিদিন) এবং জয়নাল আবেদীন ( দৈনিক ঘোষণা) এদিকে এদিন কাপ্তাই প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২ টা হতে দুপুর ২ টা পর্যন্ত কাপ্তাই শিলছড়ি নিসর্গ রিভার ভ্যালি এন্ড পড হাউস এ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক। এসময় তিনি বলেন, সাংবাদিকরা হলেন সমাজের দর্পণ, সাংবাদিকরা সততা, দক্ষতা, মেধা এবং নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। মুলধারার সাংবাদিকরা একসাথে থাকলে কোন অপ-সাংবাদিকতা কিছু করতে পারবে না। কাপ্তাই প্রেসক্লাবের বিগত কমিটির সভাপতি কবির হোসেন এর সভাপতিত্বে বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ঝুলন দত্ত, বাচিক শিল্পী নুর মোহাম্মদ বাবু এবং ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার ওসমান গনির সঞ্চালনায় এসময় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াস। এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, রাঙ্গুনিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস তালুকদার এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ নাসির। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই প্রেসক্লাবের বিগত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির, কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য মংচাই মারমা, স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক সাঙ্গুর কাপ্তাই প্রতিনিধি রবিউল হোসেন চৌধুরী রিপন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কাপ্তাইয়ের মরহুম সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জঙ্গিবাদের নতুন ছায়া: আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সতর্কতা ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নতুন কোনো বাস্তবতা নয়। ২০০৫ সালের দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা থেকে শুরু করে হলি আর্টিজান হামলা—অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে, উগ্রবাদী তৎপরতাকে শুরুতেই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা না গেলে তা দ্রুত বড় নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বোমা ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার, নব্য জেএমবির তৎপরতা নিয়ে আলোচনা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেল গঠনের চেষ্টার তথ্য—সব মিলিয়ে বিষয়টিকে তাই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। তবে একই সঙ্গে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোও সমাধান নয়। বরং প্রয়োজন তথ্যনির্ভর তদন্ত, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করা। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের প্রতিবেদনে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএসের কর্মকাণ্ডের পরিবর্তিত কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। বড় সংগঠিত ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন সেলের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা এবং শক্তিশালী লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক তৈরির যে প্রবণতার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে সংগঠনটির সেল গঠনের চেষ্টার কথা যদি প্রতিবেদনে উঠে এসে থাকে, তাহলে সেটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দায়িত্ব। জাতিসংঘের কোনো প্রতিবেদনকে অন্ধভাবে সত্য ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি কোনো আশঙ্কাকে গুরুত্বহীন মনে করে উপেক্ষা করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। প্রয়োজন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টির দ্রুত ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান। এরই মধ্যে সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকায় বিস্ফোরক বা বোমা উদ্ধারের ঘটনাগুলো নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জঙ্গিবাদের সরাসরি সম্পর্ক আছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানোর কারণ নেই। কিন্তু বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো একই সময়ে ঘটতে থাকলে সেগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খুঁজে দেখা জরুরি। এখানেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। সিটিটিসি বলছে, তারা প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করছে এবং এই মুহূর্তে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা দেখছে না। এই বক্তব্য স্বস্তিদায়ক। কিন্তু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘বড় ঘটনা ঘটেনি’—এটিকে কখনোই ‘ঝুঁকি নেই’-এর সমার্থক হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং বড় ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য আগাম সতর্কতাই সবচেয়ে কার্যকর নিরাপত্তা কৌশল। বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। জঙ্গিবাদ সাধারণত একদিনে বড় আকার ধারণ করে না। ছোট ছোট সংগঠন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ, অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, প্রচার এবং গোপন নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে একটি কাঠামো তৈরি হয়। তাই বোমা উদ্ধারের মতো ঘটনাকে কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখলে চলবে না; একই সঙ্গে এগুলোর উৎস, অর্থের প্রবাহ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকতার দিকও তদন্ত করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা। কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক দুর্বলতা বা সামাজিক অস্থিরতার সুযোগ উগ্রবাদী গোষ্ঠী নিতে পারে—এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে। কারাগার থেকে জঙ্গি আসামির পালিয়ে যাওয়া কিংবা পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিদের কার্যক্রমও তাই যথাযথ নজরদারির আওতায় থাকা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যও জরুরি—কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী ধরে নেওয়া যাবে না; আইন, আদালত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো—জঙ্গিবাদ মোকাবিলার বিষয়টি যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন বা হয়রানির হাতিয়ার না হয়ে ওঠে। কোনো বিস্ফোরণ, বোমা উদ্ধার কিংবা উগ্রবাদী তৎপরতার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু তদন্তের ফলাফলের আগে রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা সংগঠনের ভিত্তিতে কাউকে জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হলে প্রকৃত হুমকি শনাক্ত করার কাজই দুর্বল হয়ে পড়বে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কেউ কেউ যে ‘প্রক্সি’ তৎপরতা কিংবা বাইরের অর্থায়নের সম্ভাবনার কথা বলছেন, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু এমন সংবেদনশীল অভিযোগের ক্ষেত্রেও অনুমান ও প্রমাণকে আলাদা রাখতে হবে। কোন দেশ, কোন সংগঠন বা কোন পক্ষ অর্থায়ন করছে—এমন দাবি কেবল গোয়েন্দা তথ্য, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ এবং তদন্তের ভিত্তিতেই করা উচিত। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ মোকাবিলা শুধু পুলিশের কাজ নয়। এটি একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু। পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, কারা কর্তৃপক্ষ, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উগ্রবাদী প্রচারণা, অর্থ সংগ্রহ, নিয়োগ ও যোগাযোগের বিষয়গুলোতে নজরদারি আরও আধুনিক করতে হবে। তবে নজরদারি মানেই নির্বিচার হয়রানি নয়। নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনকে অক্ষুণ্ণ রেখেই সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করতে হবে। কারণ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শক্তি শুধু কঠোর হাতে অপরাধ দমনে নয়; বরং একই সঙ্গে ন্যায়বিচার ও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সক্ষমতায়। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়া মানেই দেশে জঙ্গিবাদের বড় উত্থান ঘটেছে—এমন সিদ্ধান্ত যেমন অতিরঞ্জিত, তেমনি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়াও বিপজ্জনক। এখন সবচেয়ে প্রয়োজন সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি তথ্য যাচাই করা। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে আতঙ্ক নয়, আস্থা তৈরি করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হবে গুজব নয়, তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করা। গণমাধ্যমের দায়িত্ব হবে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে অনুসন্ধানী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করা। আর নাগরিকদের দায়িত্ব হবে সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা দেখলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকা। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো—আগে শনাক্ত করা, প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা এবং বড় ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা। বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা আমাদের সতর্ক করেছে। বর্তমানের ঘটনাগুলো সেই সতর্কবার্তাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে শোনার দাবি রাখে। তাই এখন আতঙ্ক নয়—প্রয়োজন সতর্কতা, গোয়েন্দা সক্ষমতা, আইনের শাসন এবং রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। লেখক: মোহাম্মদ হাসান সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
যুদ্ধের ক্ষত মুছে মানবতার পাশে UNHCR: মধ্য আফ্রিকায় শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের নতুন আশার ঠিকানা
সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকটে জর্জরিত মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে (CAR) অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR (United Nations High Commissioner for Refugees)। যুদ্ধ ও সহিংসতায় ঘরহারা মানুষকে শুধু জরুরি সহায়তা নয়, বরং নিরাপত্তা, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবিকার সুযোগ এবং মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যতের পথ দেখাতে কাজ করছে সংস্থাটি। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বহু মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দেশের ভেতরে কিংবা সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। নতুন করে সুদানের সংঘাতের প্রভাবও দেশটির মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমন বাস্তবতায় শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষ এবং নিজ দেশে ফিরে আসা জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় UNHCR গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা UNHCR-এর অন্যতম প্রধান কাজ। জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আশ্রয়, গৃহস্থালি সামগ্রী, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আশ্রয় ও বসবাসের পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। তবে UNHCR-এর কাজ শুধু ত্রাণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তার সঙ্গে তাদের সংযোগ করে দেওয়াও সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শিকার নারী ও শিশুরা। তাদের সুরক্ষায় UNHCR বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য নিরাপদ স্থান, শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম, কমিউনিটিভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকারদের প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির লক্ষ্য—সংকটের মধ্যেও যেন নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার কোনোভাবেই উপেক্ষিত না হয়। সুদানে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্ত অতিক্রম করে CAR-এ আসা মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব নতুন আগত শরণার্থীর নিবন্ধন, সুরক্ষা, জরুরি সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সেবার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে UNHCR কাজ করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত মানবিক সাড়া প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের প্রয়োজন শনাক্ত করা এবং তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সংস্থাটির অন্যতম অগ্রাধিকার। বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপরও জোর দিচ্ছে UNHCR। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকা, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা চলছে। কারণ একটি তাঁবু কিংবা সাময়িক আশ্রয় একজন মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারে সাময়িকভাবে; কিন্তু একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রয়োজন শিক্ষা, কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন। নাগরিকত্বের প্রমাণ বা প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র না থাকলে একজন মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই রাষ্ট্রহীনতা প্রতিরোধ এবং জন্মনিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় নাগরিক নথিপত্র পাওয়ার সুযোগ বাড়াতেও UNHCR সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে যারা নিজ দেশে বা নিজ এলাকায় ফিরে যেতে চান, তাদের জন্য স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করাও UNHCR-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রত্যাবর্তনের পর তারা যেন সমাজে পুনরায় একীভূত হতে পারেন এবং আবারও বাস্তুচ্যুতির শিকার না হন—সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে UNHCR সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মানবিক সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে যুক্ত করাই এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। তবে বিপুল মানবিক চাহিদার তুলনায় অর্থায়নের ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জীবনরক্ষাকারী ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে UNHCR-এর কার্যক্রম তাই কেবল একটি মানবিক সহায়তা কর্মসূচি নয়; এটি ঘরহারা মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ ফিরে পাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা। সংঘাতের অন্ধকারে যখন অসংখ্য মানুষ ঘর, স্বজন ও স্বাভাবিক জীবন হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়ায়, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ মানবিকতার এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। আশ্রয় থেকে অধিকার, জরুরি সহায়তা থেকে আত্মনির্ভরতা—মধ্য আফ্রিকায় UNHCR-এর কার্যক্রম যেন ঘরহারা মানুষের জীবনে নতুন করে আশার আলো জ্বালানোর এক নিরন্তর প্রয়াস।
জাবিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ৫৫তম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কামরুল আহসান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, সাবেক প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সোহেল রানা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। নবীনদের উদ্দেশে বক্তারা শিক্ষাজীবনে নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়। নবীনবরণকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অ্যালান ডোনান্ড, বাংলাদেশের সাবেক একজন পেস বোলিং বিপ্লবী কোচ!
অ্যালান ডোনান্ড, বাংলাদেশের সাবেক একজন পেস বোলিং বিপ্লবী কোচ! বাংলাদেশের পেস বোলিং সাফল্যের পেছনে সবচাইতে বড় অবদান রাখা কোচদের একজন হলেন অ্যালান ডোনাল্ড। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর সাবেক পেস বোলিং কোচ ভূয়সী প্রশংসায় ভাসিয়েছেন টাইগারদের। নিজেদের ওপর অটুট বিশ্বাস রেখে ম্যাচের যেকোনো পরিস্থিতিতে পিছিয়ে না গিয়ে যে সাহসী মানসিকতা বাংলাদেশ দল দেখিয়েছে—সেটা সত্যিই দেখার মতো। এই আত্মবিশ্বাসই যেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন শক্তি! আর এই শক্তির মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন সাবেক কোচ তিনি। বাংলাদেশে অনেক কোচ আসবে যাবে, কিন্তু অ্যালান ডোনাল্ডকে পেস বোলিং বিপ্লবী কোচ হিসেবে বাংলাদেশ কৃতজ্ঞচিত্তে মনে রাখবে।
বিশ্বনবী (সা.) সমগ্র সৃষ্টির জন্য রহমত। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সমগ্র সৃষ্টি তথা বিশ্বমানবের ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তির পয়গাম নিয়ে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ১২ রবিউল আওয়াল সোমবার প্রভাতের সময় মহাবিশ্বে আগমন করলেন প্রিয় নবী, শেষ নবী, রহমাতুল্লিল আলামিন, শান্তির অগ্রদূত, মানবতার মুক্তির দিশারি হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সৃষ্টির শুরু থেকেই উভয় জগতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সব রহমত ও দয়া এ নবীর অসিলায় প্রবাহিত করছেন। মহানবী (সা.)-এর আগমনের দিন পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্ব ভুবনের জন্য নিঃসন্দেহে রহমত ও বরকতময়।মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘হে নবী আমি আপনাকে সারাবিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।’ (২১-সূরা আম্বিয়া : আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সর্বশেষ ও শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন বিশ্ব তথা মানব জাতির জন্য রহমত হিসেবে। হজরত আদম (আ.)- এর মাধ্যমে দুনিয়ার বুকে প্রথম নবীর আগমন, হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)’র আগমনের মাধ্যমে পৃথিবীতে নবী-রসুলের আগমন পর্বের সমাপ্তি টানা হয়েছে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.)’র পর পৃথিবীতে আর কোনো নবী আসবেন না। তিনি হলেন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য মনোনীত নবী। কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ পৃথিবীতে আসবে তারা তার উম্মতের মধ্যেই গণ্য হবে। পৃথিবীতে আর কোনো নবী আসবে না। মুহাম্মদ (সা.)’র আগে যে নবী-রসুল (আ.) এসেছেন তাদের বিশেষ সম্প্রদায়ের নবী রসুল হিসেবে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আখেরি নবীর আগমন ঘটেছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। ঈমানের দৃঢ়তা মুমিনের জীবনে এনে দেয় প্রকৃত শান্তি ঈমানের দৃঢ়তা মুমিনের জীবনে এনে দেয় প্রকৃত শান্তি মহানবী (সা.) দুনিয়ায় এসেছিলেন মিথ্যা থেকে মানুষকে দূরে রাখতে। যারা সত্যের পথের অনুসারী তাদের আখিরাতের জীবনে কীভাবে পুরস্কৃত করা হবে তার বার্তাবাহক হিসেবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছি, অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।’ (৩৪-সূরা সাবা : ২৮) রাসুল (সা.)’র আগমনের কথা পবিত্র কোরআনের পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোতেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর পাঠানো রসুল, সত্যতা বিধানকারী সেই তাওরাতের, যা আমার আগে এসেছে, আর সুসংবাদদাতা এমন একজন রসুলের যে আমার পরে আসবে, যার নাম হবে আহমদ।’ (৬১-সূরা আস-সফ : ৬) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কোনো একটি বিশেষ দল বা সম্প্রদায়ভুক্ত নবী ছিলেন না এবং তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য বিশ্বনবী। কারণ তাঁর পর দুনিয়ায় আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না।এই প্রসঙ্গে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, “অন্য নবীরা তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন, আর আমি বিশ্বের সব মানুষের জন্য প্রেরিত হয়েছি।” মহানবী (সা.) পৃথিবীতে আবির্ভূত হন এমন এক কঠিন সময়ে যখন সমগ্র পৃথিবী আইয়ামে জাহেলিয়াতের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। কোথাও শান্তি ছিল না, স্বস্তি ছিল না, ধর্মের নামে অধর্ম বিরাজ করছিল সর্বত্র। শিরক ও কুফরের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছিল সবাই। নারীদের সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হচ্ছিল অবলীলায়, কন্যাসন্তানকে দেয়া হচ্ছিল জীবন্ত কবর। মারামারি, হানাহানি, খুন-খারাবির উন্মত্ততায় গোটা সমাজ ছিল টালমাটাল, পৃথিবীর সেই করুণ অবস্থা নিরসনের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ(সা.)-কে সিরাজুম মুনিরা বা প্রদীপ্ত চেরাগরূপে প্রেরণ করলেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, “হে নবী! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি; আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁরই দিকে আহ্বানকারীরূপে এবং প্রদীপ্ত চেরাগরূপে।” (সূরা আহজাব, আয়াত ৪৫-৪৬)। সমগ্র সৃষ্টির প্রতি সষ্টার এই যে মহান করুণা তাঁর জন্য মানবকুল তাঁর কাছে ঋণী। পরবর্তী পর্যায়ে যার মাধ্যমে এই রহমত ও নিয়ামতের অধিকারী হল, তাঁরই নিকট ঋণী। সেই মাধ্যম হলো মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.), যিনি মানব জাতিকে জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দিলেন, পবিত্র করলেন। সমগ্র মানবকুল সৃষ্টি জগত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাঁরই কাছে ঋণী। কে তাকে স্বীকার করল, কে করুণা সে কথা এখানে গৌণ। তিনি সকল মানুষকে, সকল নবীকে, সকল আসমানী কিতাবকে স্বীকার করেছেন। কাউকে অস্বীকার করার মতো মানসিক দুর্বলতা তাঁর মধ্যে মোটেই ছিলনা। তাই তিনি বিশ্বনবী, শ্রেষ্ঠ নবী (সা.)। সকল মানবিক আশা-আকাঙ্খার মূর্ত প্রতীক হলেন তিনি। রাসুল (সা.)’র মন ছিল আকাশের মতো উদার, সত্যে প্রতি অবিচল। জীবনে কোনো দিন কোন প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেননি। কোন মিথ্যা তাকে স্পর্শ করতে পারেনি, দানে-ধ্যানে জ্ঞানে, বিচারে-সহানুভবতায় তিনিই ছিলেন তার দৃষ্টান্ত। তার পরিকল্পনা শক্তি ছিল অসাধারণ, তার সংকল্পও ছিল তেমনি সুন্দর। যে কোন ন্যায়, সত্য পরিকল্পনাকে কার্যকরী করে মহান আল্লাহর হুকুম কায়েম করাই ছিল রাসুল (সা.)’র একমাত্র লক্ষ্য। বিশ্বের সব মানুষের কাছে দ্বীনে মুহাম্মদীর প্রকৃত দিকনির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া ও কার্যক্রমই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। বর্তমান মুসলিম উম্মাহর এই সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণ ও ইসলামের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের প্রধান উপায় হচ্ছে প্রিয় নবীকে ভালোবাসা ও অনুসরণ করা। যেহেতু রাসুলের প্রতি ভালোবাসাকে আল্লাহ তাঁর প্রতি ভালোবাসার মাপকাঠি হিসেবে ঘোষণা করেছেন, সেহেতু রাসুলপ্রেমই আল্লাহপ্রাপ্তির পূর্বশর্ত! যার ভেতর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা নেই, সে মুমিন হতে পারে না। শুধু বাহ্যিক সুন্নাত পালন রাসুলপ্রেম নয়। বাহ্যিক সুন্নাহর সঙ্গে আন্তরিক ও আত্মিক সম্পর্ক থাকতে হবে এবং এ আত্মিক সম্পর্কের ফলে প্রেমিকের দৃষ্টিতে শুধু প্রেমাস্পদই বিরাজ করে। আল্লাহপাক বান্দার কল্যাণার্থে অসংখ্য ‘নিয়ামত ও রহমত’ প্রদান করেছেন। তার মধ্যে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ ‘নিয়ামত ও রহমত’ হচ্ছে আমাদের প্রিয় নবীজির ইহধামে শুভাগমন! আর এই নিয়ামত ও রহমত পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশেই আছে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির উপায়। যেহেতু প্রিয় নবীর শুভাগমন জগদ্বাসীর প্রতি আল্লাহর বিশেষ রহমত, তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণে বিভ্রান্ত মানবজাতি আলোর পথের সন্ধান পেয়েছেন, গোমরাহীর অতলগহ্বরে নিমজ্জিত দিকভ্রম বনি আদম তাঁরই অসিলায় আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মর্যাদাপ্রাপ্ত। নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, লাঞ্ছিত, মানব গোষ্ঠীকে তিনি চিরকল্যাণকর আদর্শের পথে আহ্বান করেছেন এবং সম্মান ও মর্যাদার উচ্চাসনে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুতরাং তাঁর আবির্ভাব উম্মতের জন্য কত বড় রহমত ও সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উদ্যাপন করে সেই মহান রবের নিয়ামত প্রিয় নবীকে স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মধ্যেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তির পথ ও পাথেয়। তাই মহানবী (সা:) এর জীবনের সুমহান আদর্শের ওপর গভীর আলোকপাত করে মানব জীবনে তা বাস্তাবায়ন করার প্রত্যয়দীপ্ত শপথ নিতে হবে আজ। তাহলে তার জীবন দর্শনের সঠিক মূল্যায়ন হবে। রাসুলুল্লাহ(সা.) গোত্রীয় শাসনের স্বৈরাচারে দগ্ধ, মুষ্টিমেয় বিত্তশালীর শোষণে নিঃস্ব, সামাজিক দূরাচারে অতিষ্ঠ মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেয়েছেন। তিনি বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তাওহিদের বাণী প্রচারের দায়ে স্বজাতির নির্যাতনে নিরুপায় হয়ে জন্মভূমি ছেড়ে মদিনায় হিজরতে বাধ্য হয়েছিলেন। অতঃপর ঐতিহাসিক মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে ইহুদি, পৌত্তলিক, খ্রিস্টান ও মুসলমানদের নিয়ে মদিনাতে একটি স্বাধীন-স্বতন্ত্র জাতি ও সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে রাসুলের আদর্শিক জাগরণ সমগ্র আরবকে আয়ত্ত্ব করে নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সুশাসন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আজ যখন দেশের বিপুল মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে, যখন অন্য-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-চিকিৎসার অভাব জনজীবনে প্রকট হয়ে উঠছে, যখন মানুষ একে অপরের দ্বারা নির্যাতিত ও অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে- তখন ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর শিক্ষা হোক ও শপথ হোক রাসুল (সা.)’র ভালোবাসার দাবিতে সংঘাত নয়, চাই রাসুল (সা.)’র আদর্শের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ। আমরা রাসূল (সা.)’র সাথে যত বেশি মহব্বতের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারব, যত বেশি দরুদ ও সালাম পাঠাব ততই বাতিল, তাগুত আমাদের কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা: সবার জন্য হোক মুবারক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
গাজীপুরে শিশু মুসাকে ব/লাৎ/কার এবং হ/ত্যা মাম/লায় আসামির মৃ/ত্যু/দ/ণ্ড
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পাঁচ বছরের শিশু মুসা আহম্মেদ রাফিকে অপহরণ ও শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি মহির উদ্দিন ওরফে মহরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক আলমগীর আল মামুন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৬ জুন সকালে কালিয়াকৈর পৌরসভার কালামপুর উত্তরপাড়া এলাকায় বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু মুসা। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সহায়তায় একটি সীমানাপ্রাচীরের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. শামীম মীর বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আইন অনুযায়ী, উচ্চ আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে এ দণ্ড কার্যকর হবে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত শিশু মুসার পরিবার।