বাংলাদেশ বার্তা টুডে
রাঙ্গুনিয়া রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন খোরশেদ আলম ফারুকী
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী জনাব খোরশেদ আলম ফারুকী। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই দায়িত্বপ্রাপ্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নবনিযুক্ত সভাপতিকে বিদ্যালয় পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও উষ্ণ সংবর্ধনা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, খোরশেদ আলম ফারুকীর দূরদর্শী ও দক্ষ নেতৃত্বে রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং যুগোপযোগী হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, পাঠদানের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও মনে করছেন সবাই। দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত সভাপতি খোরশেদ আলম ফারুকী বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও সার্বিক কল্যাণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সুন্দরবনে বাঘের পেটে স্বামী ও দেবর! পেটের তাগিদে বাঘ বিধবার করুন জীবন সংগ্রাম
একদিকে সুন্দরবনের ঘন ম্যানগ্রোভ বন, অন্যদিকে নদীঘেরা জনপদ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আড়ালে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যেন প্রতিদিনই বেঁচে থাকার এক কঠিন পরীক্ষা। জীবিকার তাগিদে কখনো নদীতে কাঁকড়া ধরতে, কখনো বনে মধু সংগ্রহ করতে যেতে হয় তাদের। আর সেই জীবিকার পথেই বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ দক্ষিণ কদমতলা (সাধুপাড়া) গ্রামের উষা মণ্ডল তেমনই এক বেদনাবিধুর জীবনের প্রতিচ্ছবি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে বাঘের আক্রমণে তিনি হারিয়েছেন তাঁর স্বামী ফনিভুষন মণ্ডল ও দেবর হরিদাস মণ্ডলকে। দুই উপার্জনক্ষম পুরুষকে হারিয়ে আজও সন্তান-পরিবার নিয়ে কঠিন জীবনসংগ্রাম করে চলেছেন তিনি। ফনিভুষন মণ্ডলের সংসারে ছিল তিন ছেলে ও এক মেয়ে—ভবসিন্ধু মণ্ডল, ভবেশ মণ্ডল, রমেশ মণ্ডল ও সুমিত্রা মণ্ডল। অন্যদিকে তাঁর ছোট ভাই হরিদাস মণ্ডলের কোনো সন্তান ছিল না। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের সুন্দরবনে গিয়ে আর জীবিত ফিরে আসেননি দুই ভাই। তবে সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতি আজও মুছে যায়নি। দুই উপার্জনক্ষম মানুষকে হারানোর পর উষা মণ্ডলের পরিবারের সামনে নেমে আসে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের নিজস্ব কোনো কৃষিজমি বা উল্লেখযোগ্য সম্পদ নেই—শুধু বসতভিটাটুকুই সম্বল। ফলে স্বজন হারানোর শোক বুকে নিয়েই জীবন ও জীবিকার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে পরিবারটিকে। সুন্দরবনসংলগ্ন মানুষের জীবনে সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা হলো—যে বন তাদের স্বজন কেড়ে নেয়, জীবিকার জন্য অনেক সময় সেই বনেই আবার ফিরতে হয়। বাঘের ভয়, নদীর স্রোত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সুপেয় পানির সংকট—সবকিছুকে সঙ্গী করেই উপকূলের দরিদ্র মানুষকে জীবন চালাতে হয়। দিনের শেষে ঘরে খাবার তুলে দেওয়ার তাগিদ তাদের অনেক সময় মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই নদী ও বনের দিকে যেতে বাধ্য করে। উষা মণ্ডলের জীবন সেই নির্মম বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। স্বামী ও দেবরকে হারানোর ক্ষত হয়তো কখনো শুকায়নি। কিন্তু ক্ষুধার কাছে শোকেরও যেন কোনো অবকাশ নেই। সন্তান-পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়েছে জীবনের সঙ্গে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সুন্দরবন বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নদী, খাল, গোলপাতা ও ম্যানগ্রোভ বন নিয়ে এই বন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু সুন্দরবনের একেবারে প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের কাছে এই বন শুধু সৌন্দর্যের নয়—এটি একই সঙ্গে জীবিকা, ভয় এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের নাম। কোনো পরিবার বাঘের আক্রমণে স্বামী হারায়, কোনো পরিবার হারায় বাবা কিংবা ভাইকে। কেউ নদীতে ডুবে যায়, কেউ ঘূর্ণিঝড়ে সর্বস্ব হারায়। তবুও পরদিন আবার জীবিকার সন্ধানে বের হতে হয়। উষা মণ্ডলের মতো নারীদের জীবন তাই শুধু ব্যক্তিগত শোকের গল্প নয়; এটি সুন্দরবন উপকূলের অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। বিশেষ করে বাঘের আক্রমণে স্বামী বা পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানো নারীদের জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও আয়বর্ধক কর্মসূচি প্রয়োজন। উষা মণ্ডলের মতো অসহায় নারীদের জীবনসংগ্রাম কেবল সহানুভূতির গল্প হয়ে থাকলে চলবে না। প্রয়োজন বাস্তব সহায়তা—যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারেন। উষা মণ্ডলের জীবনসংগ্রামের গল্পটি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং মানবিক সংগঠনগুলোর নজরে আসা জরুরি। বাঘের আক্রমণে স্বামী ও দেবরকে হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসা এই পরিবারের বাস্তব অবস্থা সরকারি পর্যায়ে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তি এবং একটি টেকসই বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একজন স্বামীহারা নারীর হাতে শুধু কিছু অর্থ তুলে দেওয়া নয়—তার জন্য এমন একটি নিরাপদ জীবিকার পথ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে আগামী দিনগুলোতে তাকে আর জীবনবাজি রেখে বনের ওপর নির্ভর করতে না হয়। উষা মণ্ডলের গল্প আমাদের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন রেখে যায়—প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে যাঁরা আমাদের সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখেন, তাঁদের জীবন যখন বিপন্ন হয়, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কার? আজ প্রয়োজন সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা। প্রয়োজন উষা মণ্ডলের মতো বাঘবিধবা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিতভাবে দাঁড়ানো। কারণ একটি পরিবারকে বাঁচানো মানে শুধু একটি পরিবারকে সাহায্য করা নয়—একটি প্রজন্মকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া।
মাতৃকালীন ভাতার কাড দেওয়ার নামে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে
মাতৃকালিন ভাতা দেওয়ার নামে ঘুষ ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে জনপ্রতিনিধি ও গাড়াদিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের বিরুদ্বে। মাতৃকালিন ভাতায় থাবার মুল হোতারা হলেন বায়রা ইউনিয়নের ১,২ও ৩ নং ওয়াডের মহিলা সদস্য সেলিনা ও গারাদিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি খায়রুল ইসলাম মিলন। সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানাগেছে৷ মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের আর্দশগ্রামের হদদরিদ্র খাদিজা মাতৃকালিন ভাতার আবেন করেন কিন্তু মাতৃকালিন ভাতার কাডের বিপরীতে ঘুষ দিতে হয়েছে একটি সিন্ডিকেটকে । ঐ গ্রামের দিনমজুর জসিমের স্ত্রী সাহিদা জানান মেম্বার সেলিনা কে ৫৫০০ টাকা ঘুষ দিয়ে ভাতা পেয়েছি একবার ২৪ শত আরও দুইবার ১৫শত ও ১২ শত টাকা। যে ঘুষ মেম্বার নিয়েছে তাতে আমার কোন লাভ হয়নাই। একই খপ্পরে পড়ে ঐ গ্রামের শহিদুল মিয়া তার স্ত্রীর জন্য ভাতার কাড বানাতে সেলিনা মেম্বার ১২ হাজার টাকা দেন। একই গ্রামের মিন্টু মিয়ার স্ত্রী খাদিজা জানান, মাতৃকালিন ভাতার কাড বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৪৫ শত টাকা টাকা ঘুষ নেন কমিউনিট ক্লিনিকের খায়রুল ইসলাম মিলন। তিনি আমাকে ফোন দিলে আমি ক্লিনিকে গিয়ে টাকা দিয়ে আসি। এখনও ভাতার খবর নেই। কিছু বললে ভাতার কাড হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বদলি হয়ে এখন বলধারা কমিউনিটি ক্লিনিকে আছেন ।।ইউনুস সানোয়ারের মত একাধিক দরিদ্র লোককে মাতৃতকালিন ভাতার ব্যবস্থা করার কথা বলে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেন সেলিনা মেম্বার ও মিলন । ইতিপূর্বে ঐ জনপ্রতির বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি পত্রিকায় ভাতা , ভিজিডিকাড নানা অনিয়ম নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ হয় স্থানীয় প্রভাবশালী দের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করেন। গর্ভকালীন ভাতার কাডের নামের তালিকা ধরে সঠিক তদন্ত করলে নারী জনপ্রতিনিধি সেলিনা ও কমিনিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপির দূর্নীতির ভয়াবহ চিত্র বের হয়ে আসবে । জনপ্রতিনিধি সেলিনা ও ঐ ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের ভয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান টাকা দিলে ভাতা হবে আরটাকা না দিলে হবে না। তাদের অনিয়ম ও ঘুষদূনীতির কারণে সরকারের জনমুখী সেবা ভেস্তে যেতে বসেছে। ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন সামনে নির্বাচন আমার জনপ্রিয় তা নষ্ট করার জন্য এসব বলছে প্রতিপক্ষরা। সিএইচ সিপি খায়রুল ইসলাম মিলন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি জৈনক এক মেম্বার কে ভাতার জন্য টাকা দিয়েছিলাম ভাতা না হলে টাকা ফেরৎ দিয়ে দিব। সিংগাইর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার বললেন, এ-বিষয়টি আমার জানা নেই , আপনার কাছ হতে জানলাম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়ায় এমপি মুফতি আমির হামজার গাড়ি ও গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে হামলা: থানায় এজাহার দায়ের
কুষ্টিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ ছয়রাস্তা মোড়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার সমর্থক এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এমপি মুফতি আমির হামজার ব্যবহৃত গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার পক্ষে কুষ্টিয়া সদর থানায় এই এজাহার জমা দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর ও রাশেদ খানকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার কথিত বক্তব্যের প্রতিবাদে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে জেলা গণঅধিকার পরিষদ। অন্যদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মসূচি শেষে নিজ গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তাঁর গাড়িটি ছয়রাস্তা মোড় এলাকায় গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়। একই ঘটনায় গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়েও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে ছয়রাস্তা মোড় ও আশপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার পক্ষে থানায় একটি এজাহার জমা পড়েছে। এজাহারটি যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কালিগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, পুরস্কৃত হলেন সফল মৎস্যচাষিরা
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আধুনিক ও টেকসই মৎস্যচাষে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন কমিটির আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌকির আহমেদ এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাইনুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কালিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ সাইফুল বারী সফু, সাধারণ সম্পাদক সুকুমার দাশ বাচ্চু, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি শেখ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শংকর কুমার দে, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি এম হাফিজুর রহমান শিমুল ও পুরস্কারপ্রাপ্ত মৎস্যচাষি জাহাঙ্গীর হোসেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও এ খাত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। মৎস্য খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ এবং জলাশয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা। বক্তারা আরও বলেন, শুধু মাছের উৎপাদন বাড়اলেই হবে না, নিরাপদ ও মানসম্মত মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য মৎস্যচাষি, ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জলাশয় ও মৎস্যসম্পদ সুরক্ষিত রাখা গেলে এ খাত আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর অবদান বাড়বে। সভায় দেশের মৎস্য খাতের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে করণীয় বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে মাছ চাষে মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনা সভা শেষে মৎস্যচাষ ও উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখা সফল খামারিদের মধ্যে পুরস্কার ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। অতিথিরা নির্বাচিত মৎস্যচাষিদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। আয়োজকেরা বলেন, মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই মৎস্যচাষে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মৎস্যচাষি ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
আখেরি চাহার শোম্বা তাৎপর্য ও শিক্ষা : হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” আখেরি চাহার শোম্বা তাৎপর্য ও শিক্ষা, এ দিনটি মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে থাকে। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবনে এ দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। ফারসি ভাষায় ‘আখের’ অর্থ শেষ, আর ‘চাহার শোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকেই আখেরি চাহার শোম্বা বলা হয়। এ দিনে নবিজি (স.) শেষ বারের মতো রোগ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর শোকর আদায় করেছিলেন বলে প্রতি বছর মুসলমানরা শুকরিয়ার দিবস হিসেবে দিনটি পালন করে থাকেন। রসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবনের প্রতিটি কথা ও কাজ, তার সব আচরণ, প্রতিটি পদক্ষেপ তথা সমগ্র জীবনই সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে অনুকরণীয় অনুসরণীয়; যা কুরআনুল করিমে নানা আঙ্গিকে ব্যক্ত হয়েছে। তবে নবুওয়াত জীবনের প্রথম অধ্যায় মক্কি জীবনের ১৩ বছর তাকে নির্মম নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে। হিজরতের পর মদিনায় গিয়েও তাকে ইহুদি-মোনাফেকদের নতুন ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। মক্কার কাফেররা মদিনার ইহুদি মোনাফেকদের যোগসাজশে তাকে অশান্তিতে রেখেছিল। নানা কৌশলে তার প্রাণনাশের চেষ্টা পর্যন্ত করেছে। ৭ম হিজরিতে হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মুহরম মাসে ইহুদিদের একটি চক্র ‘লবিদ ইবনে আসম’ যিনি জাদুবিদ্যায় খুব পারদর্শী ছিলেন, তাকে দিয়ে তারা মুহাম্মদ (স.)-কে জাদু করান। লবিদ কৌশলে নবিজির এক ইহুদি গোলামের মাধ্যমে তার ব্যবহৃত চিরুনি ও চুল সংগ্রহ করে। তারপর মোমের একটি পুতুল বানিয়ে তাতে ১১টি সুচ বিদ্ধ করে একটি সুতায় কুফরি মন্তর পড়ে ১১টি গিট দেয়। সবকিছু পুতুলটির মধ্যে রেখে একটি কূপে পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রেখে দেয়। এই জাদুর প্রভাবে রসুলুল্লাহ (স.) শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। অতঃপর হজরত জিবরাইল (আ.) সুরা ফালাক ও সুরা নাস নিয়ে অবতীর্ণ হন। এ দুইটি সুরার আয়াতসংখ্যা ১১। মহান আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তার প্রিয় হাবিবকে জানিয়ে দেন—ইহুদি লবিদ আপনাকে জাদু করেছে, আপনি অমুক কূপ থেকে জাদুর সরঞ্জাম তুলে তাতে এই সুরা দুইটির একেকটি আয়াত পাঠ করে ফুঁক দিতে থাকুন। নবিজি হযরত আলী (রাদ্বি.)-এর মাধ্যমে জাদুর সব সরঞ্জাম উদ্ধার করে সুরা ফালাক ও নাসের ১১টি আয়াত পর্যায়ক্রমে পাঠ করালে জাদুর কার্যকরিতা নষ্ট হয়ে যায়, এতে তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। এরপর নবী (স.) গোসল করেন এবং বলেন আমার শরীরটা এখন অনেক হালকা মনে হচ্ছে, আমি নিজেকে পূর্ণ সুস্থ মনে করছি। এই দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার। নবিজির সুস্থতার খবর পেয়ে একে একে স্ত্রীগণ তার কাছে আসেন, মেয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা (রাদ্বি.), ইমাম হাসান ও হুসাইন (রাদ্বি.)-কে নিয়ে উপস্থিত হন। বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরাম নবিজির হুজরার কাছে এসে ভিড় জমান। নবিজি আবেগজড়িত কণ্ঠে সবাইকে বলেন, ‘হে আমার প্রিয় সাহাবি ও ভ্রাতৃবৃন্দ! আমার মৃত্যুর পর, আমার বিয়োগে তোমাদের অবস্থা কীরূপ হতে পারে?’ এ কথা শুনে সবাই কাঁদতে আরম্ভ করেন। তিনি সবাইকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, কেউ চিরকাল থাকে না, আমাকেও আমার রবের হুকুম মানতে হবে, তার কাছে যেতে হবে। এরপর তিনি মসজিদে নববিতে প্রবেশ করে হযরত আবু বকর সিদ্দিককে (রাদ্বি.) ইমামতি করার নির্দেশ করেন। রাসূল (স.)-এর জীবদ্দশায় আবু বকর (রাদ্বি.)-কে দিয়ে ইমামতি করিয়ে তিনি ইঙ্গিত করলেন যে, আমার ইন্তেকালের পর তোমাদের প্রথম খলিফা হবেন, আমার প্রিয় সাথি আবু বকর। নবিজিকে পূর্ণ সুস্থ দেখে সাহাবায়ে কেরাম খুবই আনন্দিত হন, প্রত্যেকে নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সাদকা করেন। হজরত আবু বকর (রাদ্বি.) তৎকালীন সময়ে ৫ হাজার দিনার গরিবদের দান করে দেন। হজরত উমার ফারুক (রাদ্বি.) ৭ হাজার দিনার সাদকাহ্ করেন। হজরত ওসমান গনি (রাদ্বি.) করেছিলেন ১০ হাজার দিনার। হযরত আলি (রাদ্বি.) দান করেন ৩ হাজার দিনার। সাহাবী আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদ্বি.) এই খুশির সংবাদে ১০০ উট আল্লাহর রাস্তায় দান করেন। এ থেকে আমরা শিক্ষা পেতে পারি, নবির প্রতি সাহাবিদের ভালোবাসা কেমন ছিল। এক কথায় বলা যায়, নবি (স.)-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল নিখাদ ও অতুলনীয়। তারা নবিজির জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করতে পর্যন্ত দ্বিধা করেননি। প্রিয় নবি (স.)-এর প্রিয় উম্মতের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে—জীবনের সবকিছুর চেয়ে যেন আমরা নবিজিকে ভালোবাসি, তার অনুসৃত পথে নিজেদের জীবন সাজাই। যেহেতু নবি (স.)-এর রোগমুক্তির দিনটি ছিল সমগ্র জগতের জন্য খুশির দিন, তাই এ দিনে আল্লাহর কাছে আমাদের ফরিয়াদ থাকবে, তিনি যেন যাবতীয় অকল্যাণ থেকে দূরে রেখে আমাদেরকে সুস্থ সুন্দর জীবন দান করেন। আমিন। লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে নোবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) রাজধানী ঢাকায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে নোবিপ্রবি উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অগ্রগতির বিভিন্ন দিক অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান আরও উন্নত করা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নোবিপ্রবির সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। এ সময় অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি। সৌজন্য সাক্ষাতে নোবিপ্রবির শিক্ষা ও গবেষণার প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে উভয়ের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
ইজারা ব্যবস্থা- প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা বিষয়ে বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেটের ১০ দফা দাবি উত্থাপন
বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে আজ সিলেট প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনটির সভাপতি খালেদ উদ দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আলোচ্য বিষয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, নুরুল ইসলাম মকবুল সমন্বয়ক জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখা, নুরুল হুদা সালেহ প্রবীন রাজনীতিক সদস্য বাঙলাদেশ লেখক শিবির, আকলিছ আহমেদ চৌধুরী সাবেক সহ-সভাপতি বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখা, আরো বক্তব্য রাখেন, কৃষক মজুর মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মোঃ সাহেব আলী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এবং সদস্য জুনেদ আহমেদ। গোয়াইনঘাট উপজেলার দক্ষিণ প্রতাপপুরের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ, বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মজনু মুহিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সদস্য শিরিন মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিল, বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ মুহিবুর রহমান, অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক শামসুল কিবরিয়া। মিনহাজ আহমেদের উপস্থাপিত প্রবন্ধে ইজারা ব্যবস্থার প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও আইনের প্রয়োগ উঠে এসেছে। সেই সাথে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করা হয়। গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা শাওন দেবনাথের বক্তব্যে বালু উত্তোলনের কারণে দক্ষিণপতাপুর গ্রামের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষক-মজুর -মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মোঃ সাহেব আলীর বক্তব্যে উথাইরা গাং এ পরিবেশ বিপন্ন করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আলোচনা করা হয়। এই সংগঠনের অপর সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের বক্তব্যে জনগণের সম্পদ বালু- মাটি -পাথর ও জলাশয়ের উপর অধিকার আদায়ে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। নুরুল ইসলাম মকবুল ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জনগণের আন্দোলন সংগ্রামের দিকটি তুলে ধরেন। সাংবাদিক বদরুল ইসলামের বক্তব্যে নদী খাল দখল করে ঘর বাড়ি নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্যে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের বালু ও মাটি উত্তোলনের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে খালেদ উদ দীন বালু -মাটি -পাথর পানি প্রাকৃতিক সম্পদের উপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। যার মধ্যে রয়েছে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপন আইন ২০১০ বাতিল, বালু-মাটি-পাথর ও পানি প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে নীতিমালা প্রণয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যক্তি খাতে ইজারা না দেওয়া, অভিযুক্ত ইজারাদারদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা, হাইড্রোগ্রাফিক, ব্যথিমেট্রিক সার্ভে এবং নদীর গঠনগত সমীক্ষার ভিত্তিতে বালুমহাল ও জলমহালের সীমানা নির্ধারণ, বালু-মাটি -পাথর ও পানি প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে ও বিক্রয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা, নদীর ভূ প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জীবন ও জীবিকা রক্ষা করা। আলোচনা সভা হতে উপরোক্ত দাবি আদায়ে সংগঠিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকীতে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোবিপ্রবি ছাত্রদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) বাদ আছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন, নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান জানান, বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে স্মরণ করে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানান। নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন জানান, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে স্মরণ করে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা তাঁর রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করছি। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর তাঁর জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি :স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৯ তলা বিশিষ্ট আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রোববার(১৬ আগস্ট) ঝিনাইদহের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ সদর সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, - আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের রেখে যাওয়া অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কেবল স্বাস্থ্যখাত নয়, বরং দেশের চিকিৎসা পদ্ধতিই পরিবর্তন করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের চিকিৎসা খাতকে মারাত্মকভাবে অবহেলা হয়েছে। সকল খাতে লুটপাট করা হয়েছে, চিকিৎসা খাতেও ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছে। দায়বদ্ধতার অভাব ছিল, যে কারণে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হয়েছে। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাসপাতালের ওষুধ ক্রয়েও দুর্নীতি হয়েছে। দেশের স্বাস্থ্যখাতকে নতুন একটি শৃঙ্খলার মধ্যে চিকিৎসা পদ্ধতিকে আমরা নিয়ে আসতে চাচ্ছি। চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সংকট ও রোগীদের সেবা সহজীকরণে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেবো না। তিনি বলেন, আগামীতে ১৫১ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালুর পর এসব হাসপাতালে প্রসূতি নারীদের জন্য ২৫ শয্যার বিশেষ ওয়ার্ড রাখা হবে। শিশুদের জন্য ২০ শয্যার পৃথক ওয়ার্ড রাখা হবে। এই হাসপাতালগুলোতেই কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো সেবা আমরা চালু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্যখাত ও চিকিৎসা সেবার পদ্ধতিই বদলে যাবে। এর আগে সকালে মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। সেই সাথে হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান ও খাবারের মান নিয়েও রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। পরে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
নোবিপ্রবি এসিসিই বিভাগের ১৫তম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। এসিসিই বিভাগের অধ্যাপক ড. ফতেহ নূর রোবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. তানভীর হোসেন, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে ১৫তম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিচারণ করেন এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষায় সাফল্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে শিক্ষার্থীরা এখন কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশ করছে। অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য তারা বিদায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও অনুভূতি প্রকাশ করা হয়। তারা বিভাগের শিক্ষক, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং শিক্ষা ও পথচলায় শিক্ষকদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়।
রংপুর মেডিকেলকে দালালমুক্ত করতে ৩০ দিনের রোডম্যাপ
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা, জনবল সংকট দূর করা এবং ১ হাজার শয্যার পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো গড়ে তুলতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরি ও প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছয়তলা আইসোলেশন ভবনের ফলক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় চার কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। বহির্বিভাগ থেকে ভর্তি রোগী পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রোগী ও স্বজনেরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই হাসপাতালের সেবার মান বাড়বে না। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য হাসপাতালের সামগ্রিক সেবাব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ তৈরি করে তা প্রকাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ১ হাজার শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়গুলো রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানসহ পেশাজীবী চিকিৎসক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জে ১৪৭ বোতল এসকাফ জব্দ, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১৪৭ বোতল ফেনসিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য ‘এসকাফ’ জব্দ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য মজুদের অভিযোগে মো. মনিরুজ্জামান (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের খামারভাতি গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১৩, রংপুরের সিপিএসসি’র একটি আভিযানিক দল। র্যাব-১৩ জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. মনিরুজ্জামানের বসতবাড়িতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় বাড়ির উঠানে বিশেষভাবে রাখা ১৪৭ বোতল এসকাফ সিরাপ জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিজ বাড়িতে মজুদের অভিযোগে বাড়ির মালিক মনিরুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার খামারভাতি গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে। পরে জব্দকৃত মাদক ও সংশ্লিষ্ট আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী অধিনায়কের পক্ষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে র্যাব-১৩-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সোনারগাঁও বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষকদের সন্মাননা
শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যকে উৎসাহিত করা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, কৃতি শিক্ষকদের সম্মাননা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। হামছাদী ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম, সোনারগাঁও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সনমান্দী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল হক টিক্কা,কনফিডেন্স নিটওয়্যার লিমিটেড ও কনফিডেন্স টেক্সওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেফায়েত উল্লাহ আবেদ। আরো বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর – এ ইয়াসিন নোবেল, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম সরকার, আবদুর রাহিম , শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত বি. আর. বিলকিস, শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষানুরাগী আজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক বৃত্তিপ্রাপ্ত চারজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত বি. আর. বিলকিস এবং উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সভায় বক্তারা বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে বিদ্যালয়ের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত করা সম্ভব। বক্তারা আরও বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের সংবর্ধনা ও সম্মাননা আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি হয় এবং অন্য শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল ও সাফল্যের জন্য অনুপ্রাণিত হয়। অনুষ্ঠানে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপি ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, হামছাদী এলাকার বিভিন্ন সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সোনারগাঁও জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালিত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে “রূপালী মৎস্য, স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্যে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা হলরুম ও চত্বরে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রোববার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসন ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান। সোনারগাঁও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিম, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁও পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান সেন্টু, উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক সেলিম হোসেন দিপু, জেলা যুবদল নেতা হারুন অর রশিদ মিঠু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর – এ ইয়াসিন নোবেল প্রমুখ। এসময় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্য চাষ অনেক মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস। সোনারগাঁওয়ের মৎস্য চাষিরা আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে মাছের উৎপাদন আরও বাড়াতে পারেন। মৎস্য খাতের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন,নদী-খাল, জলাশয় ও পুকুরে পরিকল্পিতভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সেরা কার্প মিশ্র মৎস্য চাষি হিসেবে মঙ্গলেরগাঁওয়ের গাজী নাহিদুল ইসলাম ও দৌলতপুরের রমজান হোসেন এবং সেরা তেলাপিয়া চাষি হিসেবে কৃষ্ণপুরার মো. আফাজ উদ্দিনকে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা চত্বরের পুকুরে ৪০ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।