বাংলাদেশ বার্তা টুডে
নোবিপ্রবি অর্থনীতি বিভাগের ৯ম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের ৯ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মোকাম্মেল করিম তৌফিক। অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “তোমাদের এই দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তোমরা দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে এবং দায়িত্ব পালন করবে। তোমাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তোমরা বড় স্বপ্ন দেখবে এবং তা বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করবে। একই সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা পোষণ করবে।” তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ, সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি হওয়া প্রয়োজন। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রাখার জন্য তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। তিনি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার সফলতা কামনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মোকাম্মেল করিম তৌফিক বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভকামনা জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর পরিসরে প্রবেশ করবে। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে অর্থনীতি বিভাগের ৯ম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন এবং তাদের শিক্ষা ও পথচলায় শিক্ষকদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় এসএসসি’র জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের জমকালো সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১২টায় বাগআঁচড়া ডাঃ আফিল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে কলেজ শাখার উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অদম্য মেধাবীদের এই সাফল্যে পুরো মিলনায়তনজুড়ে আনন্দের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। বাগআঁচড়া ডাঃ আফিল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহামুদ আলম। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আব্দুল আহাদ ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হানিফার রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহামুদ আলম বলেন,আজকের এই অর্জন কেবল তোমাদের একার নয়; এর পেছনে রয়েছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অক্লান্ত পরিশ্রম। জিপিএ-৫ পাওয়া সফলতার শেষ ধাপ নয়, বরং এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা মাত্র। আগামী দিনে সৎ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মেধার পাশাপাশি চরিত্র গঠনে মনোযোগী হতে হবে, যেন তোমরা সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সর্বোচ্চ অবদান রাখতে পারো।এসময় তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা সুলতানা মুক্তি। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,আমরা পারফর্ম করবো, কিন্তু কখনো অহংকারী হবো না। আমাদের পতন শুরু হয় ঠিক তখনই, যখন আমরা চিন্তা করি 'আমিই সেরা'। এই অহংকার মনে আসতে দেওয়া যাবে না। পরিশ্রম ও চেষ্টা সবসময় অব্যাহত রাখতে হবে। নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে ধাপে ধাপে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। সফলতার জন্য আত্মবিশ্বাস সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ নাসিম জামান রিফাত, সাতক্ষীরা সরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী রেজিস্ট্রার (সার্জারী) ডাঃ আসাদুজ্জামান ও মহেশপুর সরকারী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (হিসাব বিজ্ঞান) আবু রায়হান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বাগআঁচড়া ডাঃ আফিল উদ্দীন ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য তাজউদ্দীন আহম্মেদ, বিদ্যুৎসাহী সদস্য আসাদুজ্জামান মিঠু, শহিদুল ইসলাম, চালিতাবাড়ীয়া আরডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কায়ুম, চন্দনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহানিমা আক্তার, নায়ড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার, বাগআঁচড়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহানারা খাতুন এবং জামতলা ডিএসটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন অতিথিরা। শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা এবং আগামীতে আরও ভালো ফলাফলের অনুপ্রেরণা জানিয়ে উৎসবমুখর এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
উঠানে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ ফেলে পালালো স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় আফরোজা বেগম (১৮) নামের পাঁচ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী ও তাঁর স্বজনেরা। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে পুলিশ ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে। এর আগে গত রোববার ঢাকার গাজীপুরের কোনাবাড়ির একটি ভাড়া বাসায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। নিহত আফরোজা বেগম নিথক গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী এবং উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে আফরোজার সঙ্গে দীন ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন এই দম্পতি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত এবং আফরোজাকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করতেন স্বামী। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার রাতে আফরোজা তাঁর বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানিয়ে আকুতি করে বলেন, "আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।" এর কিছুক্ষণ পরই ফোন কেটে যায়। পরবর্তীতে স্বামী দীন ইসলাম তাঁর শ্বশুরকে ফোন করে আফরোজা অসুস্থ দাবি করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত টাকা পাঠাতে বলেন। কিন্তু টাকা পাঠাতে সামান্য দেরি হলেই দীন ইসলাম জানান আফরোজা মারা গেছেন। সোমবার সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে আফরোজার রক্তাক্ত লাশ লালমনিরহাটের নিথক গ্রামে নিয়ে আসা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি অচেনা গাড়ি থেকে আফরোজার দেহ টেনেহিঁচড়ে উঠানে নামিয়ে রেখেই দ্রুত পালিয়ে যান স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন। লাশের শরীরে মারাত্মক ক্ষতচিহ্ন থাকায় তাঁকে কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের। নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "গাজীপুরের বাসায় আফরোজাকে তাঁর স্বামী কুপিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে। লাশের পুরো শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। আমাদের কাছে চিকিৎসার টাকা চেয়েছিল, তা দিতে না পারায় লাশ এনে উঠানে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে গেছে। আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।" ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। লাশের সঙ্গে ঢাকা উত্তরা ‘শিন শিন জাপান হাসপাতাল’-এর একটি কাগজপত্র পাওয়া গেছে, যেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, মরদেহে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। ওসি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাসূল সা. এর আদর্শই সর্বোত্তম আদর্শ : হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” বিশ্ব ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ ও আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। তিনি আরবের জাহেলিয়া বা অন্ধকার যুগের অবসানকারী ও মানবতার মুক্তির প্রকৃত দিশারি। তিনি বিশ্ববাসীর জন্য আশীর্বাদ, মহান আল্লাহর ভাষায় রাহমাতুল্লিল আলামিন। তার প্রতি আমাদের সশ্রদ্ধ দরুদ ও সালাম, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হযরত মুহাম্মদ সা. ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে আরবের মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ, মাতার নাম আমিনা। জন্মকালে তাঁর পিতা জীবিত ছিলেন না। আর মাত্র ৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন তার মা। তাই পিতা-মাতার অবর্তমানে শৈশবে তাঁকে লালন-পালন করেন তাঁর দাদা ও চাচা। দাদা আবদুল মুত্তালিব ছিলেন বিখ্যাত কুরাইশ বংশের নেতা। শৈশব থেকেই মুহাম্মদ সা. ছিলেন শান্ত-শিষ্ট ও জাহেলিয়াতের কালিমামুক্ত। কৈশোরে তাঁর হৃদয়ে সমাজ-সংস্কৃতি বিষয়ে ভাবাগের উদয় হয়। সমকালীন আরব সমাজের মারামারি-হানাহানি দেখে তাঁর কোমল হৃদয় ব্যথিত হয়। তিনি চিন্তা করলেন কিভাবে হানাহানি বন্ধ করা যায় এবং আর্ত-পীড়িতদের সেবা করা যায়। এ জন্য সমবয়সী তরুণদের ঐক্যবদ্ধ করলেন। আর গঠন করলেন ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে একটি শান্তিসংঘ। চলমান অন্যায়যুদ্ধ বন্ধ করা ছিল তাদের লক্ষ্য, যা সব যুগের তরুণ-যুবকদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তাদের এ উদ্যোগে অন্যায়যুদ্ধ বন্ধ হলেও সমাজের অন্ধকার-কুসংস্কার দূর হলো না। এতে মুহাম্মদ সা. এর কোমল হৃদয় আরও ব্যাকুল হয়। সারাক্ষণ চিন্তায় থাকেন মানবমুক্তির অন্বেষায়, চলে যান মক্কার অদূরে নির্জন হেরা গুহায়। সেখানে গভীর ধ্যানে মগ্ন হন তিনি। খুঁজতে থাকেন মানবতার মুক্তি। এমতাবস্থায় মুক্তির দিকনির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা জিবরাইল ফিরেশতাকে পাঠান তাঁর কাছে। জিবরাইল এসে মহান আল্লাহর বাণী পড়তে বললেন তাঁকে। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকায় তিনি পড়তে অক্ষমতা জানান। পরে জিবরাইলের মাধ্যমে তিনি শিক্ষা লাভ করেন। আর মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সর্বশেষ নবী ও রাসূল হিসেবে মনোনীত করেন। অধিকন্তু মানবতার মুক্তির পথনির্দেশ দিয়ে তাঁর ওপর আল কুরআন অবতীর্ণ করেন। এরপর তিনি মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। তাওহিদের বাণী ও মুক্তির মশাল হাতে নিয়ে তিনি ছুটে চলেন দ্বারে দ্বারে। মুক্তিকামী মানুষ তাঁকে সহজে গ্রহণ করলেও অন্ধকার-কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্যক্তিরা বাদ সাধে। তারা অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে, ষড়যন্ত্র করে, লোভ দেখিয়ে, যুদ্ধ-সংঘর্ষ বাধিয়ে মুহাম্মদ সা. এর অগ্রযাত্রাকে রোধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু সত্যনিষ্ঠ-দৃঢ়প্রত্যয়ী মুহাম্মদ সা. আল্লাহর সাহায্যে সুন্দর-ন্যায়ের পথে অবিচল থাকেন। আর মহান আল্লাহর নির্দেশনা ও চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে তিনি মানুষের মন জয় করেন। ফলে জাহেলিয়ার তমসা দূরীভূত হয়ে সত্য-ন্যায়ের আলো উদ্ভাসিত হয় প্রায় সমগ্র আরব বিশ্বে। অবশেষে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আওয়াল তারিখে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে মদিনা শরিফে তিনি ইন্তেকাল করেন। হযরত মুহাম্মদ সা. ইন্তেকাল করলেও বিশ্ব ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে আছেন। সততা, ধৈর্য, সহনশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতাসহ সব সদগুণাবলির সমন্বয় ঘটেছিল মহানবী সা. এর জীবনে। লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষসহ মানবিক কোনো দুর্বলতা স্পর্শ করেনি তাঁকে। সারা জীবন কাটিয়েছেন সত্য ও ন্যায়ের পথে। অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন তিনি কঠিন বিপদ আর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে। তাঁর অনুসৃত নীতি-আদর্শ সারা বিশ্বের শতাধিক কোটি মানুষ পালন করেন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থসহ জীবনের সামগ্রিক ক্ষেত্রে মহানবী সা. এর অনুপম আদর্শ অনুকরণীয়। মহান আল্লাহর বাণী ‘আল্লাহর রাসূল (মুহাম্মদ সা.)-এর জীবনাদর্শে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ অভিভাবক। শত ব্যস্ততা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও পরিবারের প্রতি ছিলেন যথাযথ দায়িত্বশীল। হযরত মুহাম্মদ সা. আদর্শ স্বামী ছিলেন। তিনি স্ত্রীদের অধিকার যথাযথভাবে পালন করেছেন। এ কারণে একাধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে স্ত্রীদের কোনো অভিযোগ ছিল না। স্ত্রীদের যথাযথ অধিকার আদায় ও তাঁদের প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, ‘তোমরা মহান আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তোমাদের স্ত্রীদের গ্রহণ করেছ; সুতরাং তোমরা তাদের সাথে সদাচরণ করবে। তোমরা যা খাবে তাদেরও তা খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে তাদেরও তা পরাবে’। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সৌহার্দ্যপূর্ণ করতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ (আবু দাউদ ও তিরমিজি) মহানবী সা. ছিলেন স্নেহপরায়ণ পিতা। তিনি সন্তানদের মধ্যে কোনো বৈষম্য করেন নাই এবং অন্যরাও যেন বৈষম্য না করেন সে জন্য তিনি ছেলেমেয়ে সন্তানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন। শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজপ্রতিষ্ঠায় মহানবী সা. এর ভূমিকা অনন্য। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সমাজে বসবাসকারী প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত ছিল। শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তাঁর আদর্শ অনুকরণীয়। আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি তিনি ছিলেন যথাযথ দায়িত্বশীল। তাদের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন আন্তরিক ও যত্নশীল। তিনি নিজে আত্মীয়-স্বজনের সাথে সদাচরণ করেছেন এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন। আর আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন না করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম) এমনিভাবে প্রতিবেশীদের প্রতি সদাচরণ ও সহানুভূতিতে তাঁর তুলনা হয় না। প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন সদা জাগ্রত। প্রতিবেশীদের প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘সে ব্যক্তি মুমিন নয়, যার প্রতিবেশী তাঁর নির্যাতন থেকে নিরাপদ নয়।’ (বুখারি ও মুসলিম) অধিকন্তু গরিব-অসহায় প্রতিবেশীকে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘সে ব্যক্তি মুসলিম নয়, যে নিজে পেট পুরে খায় অথচ তাঁর প্রতিবেশী অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটায়।’ (বায়হাকি) এ ছাড়া নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, দাসপ্রথা উচ্ছেদ ও কৌলিন্যপ্রথা বিলোপ করে সাম্যভিত্তিক সমাজপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ সা. অনুকরণীয় আদর্শ স্থাপন করেছেন। রাষ্ট্রব্যবস্থায় হযরত মুহাম্মদ সা. ছিলেন উদারনৈতিক। রাষ্ট্রে বসবাসকারী সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধান তাঁর নীতি। এ কারণে মদিনায় প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থায় ইহুদি খ্রিস্টান পৌত্তলিকসহ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে নয়, বরং আইনের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার করাই ছিল তাঁর বিচারপদ্ধতি। এ জন্য তিনি সম্ভ্রান্ত কিংবা নিকৃষ্ট হিসেবে জাতিকে বিভাজিত করেননি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ন্যায়বিচারে অবিচল থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ন্যায়বিচারে তোমরা সাবধান হবে! অতীতে অনেক জাতি ন্যায়বিচার না করার কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। আমার কন্যা ফাতেমার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারও হাত কাটা হবে।’ (বুখারি ও মুসলিম) মহানবী সা. এর এমন কঠোর ন্যায়বিচারে জাহেলিয়া আরব সমাজেও শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। মহানবী সা. ভিন্ন ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহানুভূতিশীল-সহমর্মী ছিলেন। এ জন্য যুদ্ধবন্দীদের সাথে তিনি সদাচরণ করেছেন। পৌত্তলিক তায়েফবাসী প্রতিনিধিদলকে তিনি মদিনার মসজিদে স্থান দিয়েছেন। একইভাবে নাজরানের খ্রিস্টানদের জন্য মসজিদে নববীতেই উপাসনার ব্যবস্থা করেছেন। ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে তিনি মদিনায় আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন। এমনিভাবে ভিন্ন ধর্মের প্রতি তিনি উদারতা দেখিয়েছেন। তিনি ছিলেন দয়া ও ক্ষমার মূর্তপ্রতীক। যাদের অত্যাচারে তিনি বারবার ক্ষত-বিক্ষত হয়েছেন, যারা তাঁকে মাতৃভূমি মক্কা থেকে বিতাড়িত করেছে তাদের জন্য বিজয়কালে তিনি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। চরম শত্রুকেও পরম মমতায় তিনি কাছে টেনেছেন। প্রকৃতপক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. অনুপম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। মহান আল্লাহর ভাষায়, ‘নিশ্চয়ই আপনি (মুহাম্মদ সা.) উত্তম চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছেন।’ (আল কালাম : ৪) আর সংঘাতপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে মহানবী সা. এর আদর্শ অনুকরণীয় হতে পারে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা যেন উপরিউক্ত আলোচনার প্রতি বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আমল করার তাওফিক দান করুন আমিন। লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
এলোকেশী উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তঃশ্রেণী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
ধামরাইয়ে এলোকেশী উচ্চ বিদ্যালয়ের আন্তঃশ্রেণী ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার ফাইনালে ১০ম শ্রেণি চ্যাম্পিয়ন এবং ৯ম শ্রেণি রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) ধামরাই উপজেলার জলসীন এলাকার এলোকেশী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ী ১০ম শ্রেণিকে চ্যাম্পিয়ন এবং ৯ম শ্রেণিকে রানার-আপ ঘোষণা করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন। অনুষ্ঠানটি এলোকেশী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মোঃ আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত থেকে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বগুণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। আন্তঃশ্রেণী ফুটবল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের পাশাপাশি ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বরিশালের গৌরনদীতে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বরিশাল জেলার গৌরনদীতে মোঃ আল আমিন হাওলাদার (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ডুমুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, রবিবার সন্ধ্যায় মোঃ আল আমিন কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে গৌরনদী মডেল থানায় খবর দেন। পরে গৌরনদী থানার এএসআই মোঃ আমির হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর মরদেহ গৌরনদী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত মোঃ আল আমিন হাওলাদার ওই এলাকার মৃত লাল মিয়া হাওলাদারের ছেলে। তাঁর মা মনজিলা বেগম জানান, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিক হাসান রাসেল বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
হাত ছেড়ে দিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর সময় গাছের সাথে ধাক্কা লেগে মৃ/ত্যু
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের পিয়ারাপুর নামক স্থানে হাত ছেড়ে দিয়ে মোটরসাইকেল চালানোর সময় গাছের সাথে ধাক্কা লেগে শাওন মিয়া নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। সে পার্শ্ববর্তী বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার গাড়িদহ সরদারপাড়া গ্রামের শিবলু মিয়ার পুত্র। আজ সোমবার বেলা সাড়ে১১ টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ-রাজাবিরাট সড়কের পিয়ারাপুর নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও গোবিন্দগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে শাওন রাজা বিরাট থেকে একটি মোটরসাইকেল যোগে গোবিন্দগঞ্জের দিকে আসছিলেন। এ সময় রাস্তা ফাঁকা পেয়ে হাত ছেড়ে দিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি ইউক্যালিপটাস গাছের সাথে সজোড়ে ধাক্কা লাগলে তিনি গুরুতর আহত হয়। তাকে দ্রুত গোবিন্দগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সারাদেশে অবিলম্বে গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে (ইউপিসিসি)'র উদ্যোগে স্মারকলিপি প্রদান
সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়ার হাতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার ১৭ই আগস্ট ২০২৬ ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রাম'র কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি শিব্বির আহমেদ ওসমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম। স্মারকলিপিতে সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন, গুম, খুন বন্ধ, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দি সাংবাদিকদের অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদানকালে ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রাম'র সভাপতি শিব্বির আহমেদ ওসমান বলেন, "গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলো গণমাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে দেশে সাংবাদিকদের ওপর যে নির্যাতন, গুম ও মিথ্যা মামলার হয়রানি চলছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে রুদ্ধ করছে। আমরা অবিলম্বে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সকল কালো আইন বাতিল বা সংশোধন করার দাবি জানাচ্ছি। সংগঠনের সহ-সভাপতি জামাল চৌধুরী বিপ্লব বলেন, সত্য প্রকাশে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া একটি সুস্থ সমাজ কল্পনা করা যায় না। তাই অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সকল কাল্পনিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ সাংবাদিকরা কারাবন্দি হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা চাই অবিলম্বে কারাবন্দি সাংবাদিকদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি ও সামাজিক পরিবেশ তৈরি করা হোক। ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রাম'র কার্যকরী কমিটির পক্ষে সভাপতি শিবির আহমেদ ওসমান ও সাধারণ সম্পাদক মো.শফিকুল ইসলাম স্মারকলিপিতে ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন:১. সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন, গুম ও খুনের ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।২. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল রাজনৈতিক, কাল্পনিক, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।৩. পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গ্রেপ্তারকৃত এবং বর্তমানে কারাবন্দি সকল সাংবাদিককে অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।৪. কর্মক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জানমালের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি ও সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।৫. গণমাধ্যম দমনমূলক সকল কালো আইন বাতিল বা সংশোধন করতে হবে।স্মারকলিপিতে আশা প্রকাশ করা হয় যে, দেশে স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতার পরিবেশ রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।উল্লেখ্য, এই স্মারকলিপির অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রাম'র সহ-সভাপতি জামাল চৌধুরী বিপ্লব, যুগ্ম- সম্পাদক কবির আহমেদ মানিক, মাহমুদ হায়দার জীবন, সহ-সাধারণ সম্পাদক রোকন উদ্দিন জয়, সাংগঠনিক সম্পাদক অরূপ চন্দ্ সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অলি চৌধুরী এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান প্রমুখ।
মহালছড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ ধরা পড়লেন ৭০ বছরের সাবেক ইউপি মেম্বার
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৩ হাজার ৭০০ টাকাসহ মো. আবুল কালাম (৭০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৬ আগস্ট ২০২৬) রাতে মহালছড়ি থানা এলাকায় মাদক উদ্ধার ও পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মোঃ আবুল কালাম চৌংড়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের মৃত মনির উদ্দিন শেখের ছেলে। বর্তমানে তিনি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের লেমুছড়ি শান্তিপুর এলাকায় বসবাস করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহালছড়ি থানার জিডি নং-৫২২, তারিখ ১৬/০৮/২০২৬-এর ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তার বসতঘরের বারান্দা থেকে ৪২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির অর্থ হিসেবে দাবি করা নগদ ৩ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এসব আলামত জব্দ করে তাকে থানায় নেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ এরফানুল হক চৌধুরী ও মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন। অভিযানে এসআই (নিঃ) মাছুম আলম, এসআই শফিকুল ইসলাম, এএসআই (নিঃ) প্রলয় কুমার চক্রবর্তীসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবা ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মোংলায় দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের ঘোষণা: অর্থনৈতিক রূপান্তরের অপেক্ষায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
মোংলায় দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নৌপরিবহন ও সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।.. মোংলা নদীর ওপর দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন, সড়ক ও সেতু এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। রোববার ১৬ আগস্ট বিকেলে মোংলা বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক সংবর্ধনা সভায় তিনি জানান, এই অঞ্চলের যোগাযোগ অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন করতে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে। মূলত মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তাকে ত্বরান্বিত করতেই এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোংলাকে একটি পরিকল্পিত শিল্প ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সেতুটি নির্মিত হলে মোংলা বন্দরের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সুগম হবে এবং পরিবহন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মোংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে, যেখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পরবর্তী ধাপে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হলে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই অঞ্চলের বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ সংবর্ধনা সভায় মন্ত্রীর কাছে মোংলার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, কেবল সেতু নির্মাণ নয়, বরং অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুবিধাগুলো যেন স্থানীয়রা দ্রুত ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে নেওয়া মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্থানীয় নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, মোংলার উন্নয়ন কেবল একটি প্রকল্পের ওপর নির্ভর করছে না, বরং বন্দর ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। প্রশাসনিক ও কারিগরি পর্যায়ে যে সকল জটিলতা রয়েছে, তা নিরসনে দ্রুত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সুশীল সমাজ। তাদের মতে, সরকারি প্রকল্পের সময়সীমা যেন কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব অবকাঠামোর কাজ দৃশ্যমান হবে এবং স্থানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় রেখে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পরিশেষে, দশম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের এই উদ্যোগ মোংলার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। ৮৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর। যদি এই উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে এবং জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষের আয়োজনে ফাঁকা চেয়ার, চাষিরাই জানেন না কর্মসূচির খবর
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে মৎস্যচাষী ও জেলেদের উপস্থিতি ছিল সীমিত। অনুষ্ঠানে অতিথিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা, বক্তব্য ও বিভিন্ন কর্মসূচি চললেও নির্ধারিত আসনের বড় একটি অংশই ছিল ফাঁকা। আরও বিস্ময়কর, উপজেলার অনেক মৎস্যচাষী জানিয়েছেন, তাঁদের ঘিরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে এমন আয়োজন হচ্ছে,এ খবরই তাঁরা আগে জানতেন না। ফলে মাঠপর্যায়ের মৎস্যচাষীদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা নিশ্চিত না করে আয়োজনটি অনেকটা আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় মৎস্যচাষীদের অভিযোগ, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো কর্মসূচিতে আধুনিক মাছ চাষ, রোগবালাই প্রতিরোধ, উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যচাষের নানা বিষয়ে পরামর্শ ও সচেতনতামূলক আলোচনা হওয়ার কথা। একই সঙ্গে প্রকৃত চাষীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করারও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তাঁদের অনেককেই কর্মসূচির বিষয়ে জানানো হয়নি। স্থানীয় মৎস্যচাষী মিলন দাস বলেন, ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের অনুষ্ঠান হচ্ছে, এমন খবর আমরা আগে জানতাম না। আমাদের জানানো হলে আমরা অবশ্যই অংশ নিতাম।’ সফল মৎস্যচাষী নুরুন্নবী বলেন, ‘মাছ চাষের সঙ্গে আমরা সরাসরি জড়িত। অথচ এমন কর্মসূচিতে আমাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না। শুধু অনুষ্ঠান করলেই তো মৎস্যচাষিদের উপকার হবে না।’ নোহালী এলাকার মৎস্যচাষী আশরাফুল বলেন, ‘মৎস্যচাষিদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিলে আমরা উপকৃত হতাম। কিন্তু আয়োজনের খবরই যদি না পাই, তাহলে অংশগ্রহণ করব কীভাবে?’ অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, অতিথিদের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত আসনের বড় একটি অংশ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। উপস্থিতির এই চিত্র কর্মসূচির প্রচার, অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রকৃত মৎস্যচাষীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্দেশ্য শুধু আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান আয়োজন নয়; বরং মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে সচেতন করা, তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও চাষপদ্ধতির সঙ্গে তাঁদের পরিচিত করা। সেখানে মাঠের মৎস্যচাষীরাই যদি কর্মসূচির খবর না পান, তাহলে এর জনসম্পৃক্ততা ও কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করা গেছে, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘আমি প্রচার করেছি। তবে উপস্থিতি কম ছিল, এটা ঠিক।’ উপজেলার বড়পিটে কতজন মৎস্যচাষী আছেন কিংবা উপজেলায় মোট কতজন মৎস্যচাষী রয়েছেন,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটি জানা নেই।’ প্রচার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি থাকলেও প্রকৃত মৎস্যচাষীদের বড় একটি অংশ কর্মসূচির খবর না পাওয়ার অভিযোগ করায় প্রচারের ধরন ও পরিধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মৎস্যচাষীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যেই জাতীয় মৎস্য পক্ষ সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মাঠপর্যায়ের চাষীদের কাছে এর সুফল পৌঁছাবে,এখন সেটিই দেখার বিষয়।
পশ্চিম সকদী মেধাবিকাশ কিন্ডারগার্টেনের ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জন
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মেধা বিকাশ কিন্ডারগার্টেনের ছাত্রীর মৃত্যু নিয়ে নানান গুঞ্জন শোনা যায়। (২৮ জুলাই ২৬) এ ঘটনা ঘটে। জানাযায়, মেধা বিকাশ কিন্ডারগার্টেনের ৫ ম শ্রেণির ছাত্রী আয়েশা আক্তার (নোমেরা) শাখা ডাকাতিয়া নদীতে পড়ে মারা যায়। কিন্তু তার মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন শোনা যায়। বিদ্যালয়ে টিউবয়েল না থাকা ও এমনকি কেউ তাকে ধাক্কা মেরে নদীতে ফেলে দেয় বলে এরকম গুঞ্জন চলছে। সাঁতার জানা বা ১০ বছর বয়সী কোন ছেলে মেয়ে পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা খুবই কম।লঞ্চ ও নৌকা ডুবে অথবা বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটার কথা শোনা যায়। এছাড়া ১০ বছর বয়সী কোন ছেলে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা কোথায় ও শোনা যায়নি। আয়েশা আক্তারের মৃগী রোগ রয়েছে একা আগে কেউ জানেনি।তাঁর মৃত্যুর পর মৃগী রোগের কথা প্রচার করা হয়। তাঁর যদি মৃগী রোগ থেকে থাকে তাঁর চিকিৎসার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেখা প্রয়োজন। এরকম একটা মৃত্যুর ঘটনা সরজমিন একাধিক তদন্ত করা প্রয়োজন। এনিয়ে প্রশাসন বিদ্যালয় কতৃপক্ষকে একাধিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্সুইরেন্স চট্টগ্রাম মেট্রো সার্ভিস পয়েন্টের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ এজলাসের জন্মদিন উদযাপিত
উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্সুইরেন্স লিমিটেডের চট্টগ্রাম মেট্রো সার্ভিস পয়েন্টের সুযোগ্য ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ এজলাসের জন্মদিন উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মেট্রো সার্ভিস পয়েন্টের কার্যালয়ে এক আন্তরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্সুইরেন্স চট্টগ্রাম মেট্রো সার্ভিস পয়েন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ এজলাসকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরবর্তীতে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শুভ জন্মদিনের কেক কাটেন তিনি। এ সময় উপস্থিত সবাই তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং পেশাগত জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মোহাম্মদ এজলাস একজন অত্যন্ত দক্ষ, পরিশ্রমি ও গতিশীল সংগঠক। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনায় চট্টগ্রাম মেট্রো সার্ভিস পয়েন্ট প্রতিনিয়ত সাফল্যের নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে। গ্রাহকসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ এজলাস সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "সহকর্মীদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমার কাজের মূল অনুপ্রেরণা। বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইন্সুইরেন্সের সেবার মান অক্ষুণ্ণ রেখে চট্টগ্রাম মেট্রো সার্ভিস পয়েন্টকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা সবাই একযোগে কাজ করে যাব।" পরশেষে মোনাজাতের মাধ্যমে ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজারের দীর্ঘায়ু ও প্রতিষ্ঠানের সাফল্য প্রার্থনা করা হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে আনন্দময় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
রাঙ্গুনিয়া রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হলেন খোরশেদ আলম ফারুকী
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী জনাব খোরশেদ আলম ফারুকী। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এই দায়িত্বপ্রাপ্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নবনিযুক্ত সভাপতিকে বিদ্যালয় পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও উষ্ণ সংবর্ধনা। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, খোরশেদ আলম ফারুকীর দূরদর্শী ও দক্ষ নেতৃত্বে রাজাভুবন উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং যুগোপযোগী হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, পাঠদানের গুণগত মান বৃদ্ধি এবং ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও মনে করছেন সবাই। দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত সভাপতি খোরশেদ আলম ফারুকী বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও সার্বিক কল্যাণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী সহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সুন্দরবনে বাঘের পেটে স্বামী ও দেবর! পেটের তাগিদে বাঘ বিধবার করুন জীবন সংগ্রাম
একদিকে সুন্দরবনের ঘন ম্যানগ্রোভ বন, অন্যদিকে নদীঘেরা জনপদ। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের আড়ালে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যেন প্রতিদিনই বেঁচে থাকার এক কঠিন পরীক্ষা। জীবিকার তাগিদে কখনো নদীতে কাঁকড়া ধরতে, কখনো বনে মধু সংগ্রহ করতে যেতে হয় তাদের। আর সেই জীবিকার পথেই বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ দক্ষিণ কদমতলা (সাধুপাড়া) গ্রামের উষা মণ্ডল তেমনই এক বেদনাবিধুর জীবনের প্রতিচ্ছবি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে বাঘের আক্রমণে তিনি হারিয়েছেন তাঁর স্বামী ফনিভুষন মণ্ডল ও দেবর হরিদাস মণ্ডলকে। দুই উপার্জনক্ষম পুরুষকে হারিয়ে আজও সন্তান-পরিবার নিয়ে কঠিন জীবনসংগ্রাম করে চলেছেন তিনি। ফনিভুষন মণ্ডলের সংসারে ছিল তিন ছেলে ও এক মেয়ে—ভবসিন্ধু মণ্ডল, ভবেশ মণ্ডল, রমেশ মণ্ডল ও সুমিত্রা মণ্ডল। অন্যদিকে তাঁর ছোট ভাই হরিদাস মণ্ডলের কোনো সন্তান ছিল না। পরিবারের দাবি, ২০০২ সালের সুন্দরবনে গিয়ে আর জীবিত ফিরে আসেননি দুই ভাই। তবে সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতি আজও মুছে যায়নি। দুই উপার্জনক্ষম মানুষকে হারানোর পর উষা মণ্ডলের পরিবারের সামনে নেমে আসে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের নিজস্ব কোনো কৃষিজমি বা উল্লেখযোগ্য সম্পদ নেই—শুধু বসতভিটাটুকুই সম্বল। ফলে স্বজন হারানোর শোক বুকে নিয়েই জীবন ও জীবিকার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে পরিবারটিকে। সুন্দরবনসংলগ্ন মানুষের জীবনে সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা হলো—যে বন তাদের স্বজন কেড়ে নেয়, জীবিকার জন্য অনেক সময় সেই বনেই আবার ফিরতে হয়। বাঘের ভয়, নদীর স্রোত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও সুপেয় পানির সংকট—সবকিছুকে সঙ্গী করেই উপকূলের দরিদ্র মানুষকে জীবন চালাতে হয়। দিনের শেষে ঘরে খাবার তুলে দেওয়ার তাগিদ তাদের অনেক সময় মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই নদী ও বনের দিকে যেতে বাধ্য করে। উষা মণ্ডলের জীবন সেই নির্মম বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। স্বামী ও দেবরকে হারানোর ক্ষত হয়তো কখনো শুকায়নি। কিন্তু ক্ষুধার কাছে শোকেরও যেন কোনো অবকাশ নেই। সন্তান-পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়েছে জীবনের সঙ্গে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে সুন্দরবন বিস্ময়কর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নদী, খাল, গোলপাতা ও ম্যানগ্রোভ বন নিয়ে এই বন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু সুন্দরবনের একেবারে প্রান্তে বসবাসকারী মানুষের কাছে এই বন শুধু সৌন্দর্যের নয়—এটি একই সঙ্গে জীবিকা, ভয় এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের নাম। কোনো পরিবার বাঘের আক্রমণে স্বামী হারায়, কোনো পরিবার হারায় বাবা কিংবা ভাইকে। কেউ নদীতে ডুবে যায়, কেউ ঘূর্ণিঝড়ে সর্বস্ব হারায়। তবুও পরদিন আবার জীবিকার সন্ধানে বের হতে হয়। উষা মণ্ডলের মতো নারীদের জীবন তাই শুধু ব্যক্তিগত শোকের গল্প নয়; এটি সুন্দরবন উপকূলের অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। বিশেষ করে বাঘের আক্রমণে স্বামী বা পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানো নারীদের জন্য বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও আয়বর্ধক কর্মসূচি প্রয়োজন। উষা মণ্ডলের মতো অসহায় নারীদের জীবনসংগ্রাম কেবল সহানুভূতির গল্প হয়ে থাকলে চলবে না। প্রয়োজন বাস্তব সহায়তা—যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারেন। উষা মণ্ডলের জীবনসংগ্রামের গল্পটি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং মানবিক সংগঠনগুলোর নজরে আসা জরুরি। বাঘের আক্রমণে স্বামী ও দেবরকে হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করে আসা এই পরিবারের বাস্তব অবস্থা সরকারি পর্যায়ে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তি এবং একটি টেকসই বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একজন স্বামীহারা নারীর হাতে শুধু কিছু অর্থ তুলে দেওয়া নয়—তার জন্য এমন একটি নিরাপদ জীবিকার পথ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে আগামী দিনগুলোতে তাকে আর জীবনবাজি রেখে বনের ওপর নির্ভর করতে না হয়। উষা মণ্ডলের গল্প আমাদের বিবেকের কাছে একটি প্রশ্ন রেখে যায়—প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে যাঁরা আমাদের সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখেন, তাঁদের জীবন যখন বিপন্ন হয়, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কার? আজ প্রয়োজন সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা। প্রয়োজন উষা মণ্ডলের মতো বাঘবিধবা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিতভাবে দাঁড়ানো। কারণ একটি পরিবারকে বাঁচানো মানে শুধু একটি পরিবারকে সাহায্য করা নয়—একটি প্রজন্মকে নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া।