বাংলাদেশ বার্তা টুডে
কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীল বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় গৃহকর্ত্রী খুন, বাবা-মেয়ে গুরুতর আহত
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়ীতে দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দল গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে গৃহকর্তা ও তার মেয়েকে গুরুতর জখম করেছে। নিহতের নাম মোসা. কামরুন নাহার আক্তার (৩৫)। আহত তার স্বামী মঞ্জুরুল হক (৪০) ও মেয়ে সানজিদা আক্তার (১৬)। ঘটনাটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা তেঁতুইবাড়ি গ্রামে ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে নগরভেলা গায়েনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির গ্রিলের গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে ১০-১২ জনের একদল ডাকাত। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। বাড়িতে ঢুকেই তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের কোপাতে শুরু করে। এ সময় ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। ততক্ষণে মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. কামরুন নাহার আক্তার মারা যান। আহত ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার মেয়ে সানজিদা আক্তার মিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফাইজুর রহমান বলেন, ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে গৃহকর্ত্রী মোসা. কামরুন নাহার ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহত দুইজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই পরিবার একটি এনজিও থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিতে এসে ডাকাত দলের সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বাড়ির ভেতরের আসবাবপত্র সব গোছানো অবস্থায় রয়েছে। বাড়ির সদস্যরা হাসপাতালে থাকায় কোনো মালামাল বা টাকা লুট হয়েছে কি না তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, হামলার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ডাকাত বেশে এসে এই হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তাঁরা ভেতরে প্রবেশের পর বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
সোনারগাঁও ঐতিহ্যবাহী স্কুলের শিক্ষার মান নিয়ে জনমনে নানাহ প্রশ্ন
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ৩৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী তাহেরপুর হাজী লাল মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির মাত্র ৩১ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। ৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন অকৃতকার্য হওয়ায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার মানের এমন অবনতির জন্য বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, পরিচালনা পর্ষদের দুর্বলতা, শিক্ষক-সমন্বয়ের অভাব ও প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতিকে দায়ী করছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টি এলাকায় সুনাম ধরে রাখলেও পরবর্তী সময়ে পরিচালনা পর্ষদের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয় পরিচালনায় প্রকৃত শিক্ষিত ও সচেতন অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনায় অনেকে প্রধান শিক্ষক নূরুল আহাদের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, অতীতে পরিচালনা পর্ষদে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ও সক্রিয় অভিভাবকদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব না থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ রয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের সাবেক এক অভিভাবক সদস্য বলেন, প্রধান শিক্ষক নূরুল আহাদ যোগদানের পর বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তার দাবি, শিক্ষকদের একটি অংশ নানা কারণে অনেকটা কোনঠাসা থাকায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরের সমস্যাগুলো নিয়ে কার্যকরভাবে কথা বলতে পারেননি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল আহাদ বলেন, “সাবেক পরিচালনা পর্ষদ যেভাবে মতামত দিয়েছে, সে অনুযায়ী আমাদের চলতে হয়েছে। শিক্ষকদের পাঠদানে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। অন্যান্য বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির দিক থেকে কিছুটা দুর্বল ছিল। এ কারণে ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। শিক্ষকদের মধ্যে কোনো সমন্বয়হীনতা আছে বলে আমি মনে করি না। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান আরও ভালো হবে।” সম্প্রতি অনুমোদিত বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি রকিবুল হাসান বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন যথাযথ নজরদারি না থাকায় বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, আগের পরিচালনা পর্ষদের অধিকাংশ সদস্যের পর্যাপ্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না। তিনি বলেন, “আমি এখন দায়িত্ব পেয়েছি। শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব।” সোনারগাঁ উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাঈদুর রহমান বলেন, “তাহেরপুর হাজী লাল মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ সন্তোষজনক নয়। সম্প্রতি নতুন একটি পরিচালনা কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকদের কার্যক্রম তদারকি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিভাবকদের প্রত্যাশা, নতুন পরিচালনা কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাহলেই ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আবারও তার হারানো সুনাম ফিরে পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মঠবাড়িয়ায় ঘর থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, ছেলে পুলিশের হেফাজতে
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বসতঘর থেকে পুলিন মিস্ত্রি (৬৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচশতকুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে পবিত্র মিস্ত্রিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা পুলিন মিস্ত্রির ঘরে গিয়ে তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। একই ঘরে তাঁর ছেলে পবিত্র মিস্ত্রিকেও অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্থানীয়রা পবিত্রকে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পুলিনের মরদেহের বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায় , পুলিন মিস্ত্রির স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি পুনরায় বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে ছেলে পবিত্রের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পারিবারিক বিরোধ কিংবা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এদিকে পবিত্র মিস্ত্রি দাবি করেছেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘরে ঢুকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে তাঁর এ দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী ও মঠবাড়িয়া ওসি (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন ঘটনাটি তদন্ত করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর পবিত্র মিস্ত্রিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মঠবাড়িয়া থানার ওসি (তদন্ত) শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, নিহতের ছেলে দাবি করেছেন, অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে চেতনানাশক স্প্রে করে। পরে তাঁর বাবার কাছে থাকা জিনিসপত্র না দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে এবং তাকে অন্য একটি ঘরে আটকে রাখে।তবে পুলিশ তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে ছেলের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ওসি (তদন্ত) আরও বলেন, নিহতের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিকেলে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মহাদেবপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ আবারও গ্রেপ্তার
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মাসুদুর রহমান মাসুদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন পুরাতন বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, কুঞ্জবন গ্রামের জসিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে মাসুদুর রহমান মাসুদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানোর অভিযোগসহ একাধিক মামলা রয়েছে। শনিবার দুপুরে পুরাতন ব্রিজ এলাকা থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মাসুদ ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে মহাদেবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ওমর ফারুক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালানোর অভিযোগসহ মামলা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
শ্রীপুরে বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ১৫ আগস্ট বাদ আছর শ্রীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব খন্দকার আব্বাস উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নালিম, জহুরুল হক মিলন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা খলিলুর রহমান, শ্রীপুর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ইদ্রিস আলী বিশ্বাস। এছাড়াও শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক, জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা টুকু খান, শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মেহেদী হাসান অন্তর, সাবেক আহ্বায়ক ইমরান হোসেন এবং সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক লিমন খানসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একইসাথে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান।
তীব্র গ্যাস সংকট: পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে সিএনজি, ভুক্তভোগী ড্রাইভার সাধারণ যাত্রী
হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে সিএনজি গ্যাসের সংকট। জেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস সংগ্রহ করতে পারছে না গ্যাসচালিত সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য গণপরিবহন। বিশেষ করে প্রতি মাসের শেষভাগে (২৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে) গ্যাসের রেশনিং বা পর্যাপ্ত চাপ না থাকার কারণে চালকদের ভোগান্তি চরম সীমায় পৌঁছায়। পাম্পের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সড়ক-মহাসড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে। শত চেষ্টা করেও চাহিদামতো গ্যাস না পেয়ে অনেক চালককে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে, যা তাদের দৈনিক আয়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এদিকে সড়কে গ্যাসচালিত সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। এই সুযোগে কিছু অসাধু চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বা দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দূরপাল্লা ও স্থানীয় রুটের যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়ায় যাতায়াত করছেন। ভুক্তভোগী চালক ও সাধারণ জনগণ এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ঝিনাইদহে বেগবতী নদী থেকে রমজানের ম/র/দেহ উদ্ধার
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মোঃ রমজান আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রমজান আলী হরিপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল আলীর ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট বুধবার দুপুর ১টা ১২ মিনিটের দিকে রমজান আলী মহারাজপুর ইউনিয়নের বিষয়খালী এলাকার দিকে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিহতের ছেলে জুয়েল জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে খিঁচুনি রোগে ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই নদীতে মাছ ধরা ও শাক-সবজি সংগ্রহ করতে যেতেন। নদীতে গেলে হঠাৎ খিঁচুনি উঠলে পানিতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার নদীতে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে এরপরও তিনি মাঝে মাঝে নদীতে যেতেন। তিনদিন ধরে বাবার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় জুয়েল আশঙ্কা করেন, হয়তো খিঁচুনি উঠে নদীতে পড়ে গিয়ে তার বাবা মারা যেতে পারেন। এরই মধ্যে স্থানীয়রা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে নিহতের ছেলে জুয়েল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি দেখে তার বাবা মোঃ রমজান আলী হিসেবে শনাক্ত করেন। পরিবারের ধারণা, খিঁচুনি উঠে নদীতে পড়ে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সুন্দরবনে হরিণ শিকারের মহোৎসব: ৪৫ কেজি মাংসসহ আটক ২ পাচারকারী
সুন্দরবনের দাকোপ এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪৫ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড, যা বন্যপ্রাণী নিধন রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের জানান দিচ্ছে।.. সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে কোস্ট গার্ড। গত রাতে দাকোপ উপজেলার নলিয়ান বাজার ও দোয়ানিরগেট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট নলিয়ানের একটি চৌকস দল। এই অভিযানে ৪৫ কেজি হরিণের মাংসসহ দুই পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে, যাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মাংসের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৯ হাজার টাকা। কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। মূলত বনের গভীরে হরিণ শিকারের পর পাচারের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ চক্রটি যখন নলিয়ান এলাকায় অবস্থান করছিল, তখনই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলে এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পাচারকারীদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। ঘটনাটি সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, কারণ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে অস্ত্র ও ফাঁদ পেতে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এখন জননিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আটককৃত পাচারকারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দকৃত মাংসের পরিমাণ থেকে স্পষ্ট যে, সুন্দরবনে হরিণ শিকারের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, বনের ভেতরের অভয়ারণ্যগুলোতে নিয়মিত টহলের অভাব এবং অসাধু শিকারিদের সাথে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ এই ধরনের অপরাধকে বারবার উসকে দিচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ৪৫ কেজি মাংস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে বনের সংরক্ষিত প্রাণীদের নির্বিচারে নিধন করে বাজারে চড়া দামে বিক্রির একটি অশুভ বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে বনের ভেতর থেকে হরিণ শিকার করে তা নদীপথে পাচার করা হয়, যা দীর্ঘকাল ধরে সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থানকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যদিও আটককৃতদের পরিচয় ও তাদের সহযোগীদের বিষয়ে তদন্ত চলছে, তবুও এই ঘটনাটি সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পাচারকারীদের বেপরোয়া মনোভাবকেই জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে। ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপে কোস্ট গার্ড সদস্যরা জব্দকৃত মাংস এবং আটককৃত পাচারকারীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নলিয়ান ফরেস্ট অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে শিকার ও মাংস পাচারের দায়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি উঠেছে সচেতন মহল থেকে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী নিধন ও পাচার সংক্রান্ত আইনে মামলা দায়ের করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হবে। তবে কেবল আটক বা মামলা দিয়েই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, কোস্ট গার্ড ও বন বিভাগের মধ্যকার সমন্বয় আরও নিবিড় করা প্রয়োজন এবং বনের প্রবেশপথগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো জরুরি। কর্তৃপক্ষের এমন কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকলে পাচারকারীরা কিছুটা হলেও কোণঠাসা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে, তবে বনের ভেতরের সুরক্ষাবলয় আরও শক্তিশালী করা না গেলে এই অপরাধ থামানো কঠিন হবে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও বেগবান করার অঙ্গীকার করেছে কোস্ট গার্ড। এই ঘটনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুন্দরবনে চোরা শিকারিদের দৌরাত্ম্য যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা বনের হরিণ ও বাঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীদের অস্তিত্বকে সংকটাপন্ন করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও বনভিত্তিক জীবিকার ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এই ধরনের অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যদি বন্যপ্রাণী পাচার রোধে প্রশাসনিক কঠোরতা বজায় না থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই কেবল অভিযান নয়, বরং বনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে একটি টেকসই সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি, যা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অক্ষত রাখতে পারবে।
বীরগঞ্জে ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ২০২৬ সালের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ও কৃতকার্য হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ আগষ্ট শনিবার সকাল ১১ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ তামজিদ আহম্মেদ। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ডাঃ মোঃ ওবায়দুল হক, সাংবাদিক মোঃ নাজমুল ইসলাম (মিলন), মাধ্যমিক শাখার ইনচার্জ শিক্ষক মোঃ সুরুজ্জামান, প্রতিষ্ঠানের জিএম মোঃ রুবেল ইসলাম প্রমুখ। এসময় অধ্যক্ষ তার বক্তব্যে বলেন, ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল টি ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করে। এই বিদ্যালয়ে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৮ জনের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছিল ১৫ জন। ২০২৫ সালে ৩০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপি এ- ৫ পেয়েছিল ২জন, ১জন অকৃতকার্য হয়েছিল। ২০২৬ সালে ৭২ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপি এ- ৫ পেয়েছে ২৫ জন। এদের মধ্যে গোল্ডেন পেয়েছে ১১ জন। এ গ্রেড প্রাপ্ত হয়েছে ৩৩ জন, এ মাইনাস প্রাপ্ত হয়েছে ১২ জন এবং বি গ্রেডে ২জন কৃতকার্য হয়েছেন। তিনি বিদ্যালয়ের এই ক্রমবর্ধমান সাফল্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিবহনের ড্রাইভার ও তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীগণসহ সকল শুভাকাঙ্কিদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জনিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
ক্যাশলেস সোমালিয়া: নিজস্ব টাকা নেই, ডলারই ভরসা! কীভাবে চলছে দেশ?
বিশ্বের যেকোনো দেশে কেনাকাটা বা লেনদেনের জন্য সাধারণত সেই দেশের নিজস্ব ব্যাংকনোট বা মুদ্রাই প্রধান মাধ্যম। কিন্তু এই নিয়মের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া। এখানে কোনো কেনাকাটা করতে গেলে পকেটে সোমালিয়ার নিজস্ব কোনো কাগজের টাকা রাখার প্রয়োজন পড়ে না। দেশটির অর্থনৈতিক জীবনযাত্রা প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল মার্কিন ডলার এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের ওপর। এটিএম বুথে মিলছে ডলার, পকেটে নেই কাগুজে নোট। সোমালিয়ার রাস্তায় হাঁটলে বা দোকানে গেলে এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে। শাকসবজি কেনা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁর বিল মেটানো, কিংবা ট্যাক্সি ভাড়া—সবকিছুই মেটানো হচ্ছে ডলারে। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, দেশের যেকোনো এটিএম বুথে কার্ড গলিয়ে টাকা তুলতে গেলে সোমালিয়ার কোনো মুদ্রা নয়, বরং বেরিয়ে আসে চকচকে মার্কিন ডলার! বড় বড় শপিং মল তো বটেই, এমনকি ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছেও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে ডলারে লেনদেন করা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। সোমালিয়ার একটি দাপ্তরিক মুদ্রা রয়েছে, যার নাম ‘সোমালি শিলিং। তবে বাস্তবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায়। এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক কারণ: দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: ১৯৯১ সালে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের পতনের পর শুরু হয় টানা গৃহযুদ্ধ। ফলে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থনৈতিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। মুদ্রাস্ফীতি ও জাল নোটের দাপট: সরকারের অভাবের সুযোগে বিভিন্ন অসাধু গোষ্ঠী এবং মিলিশিয়া বাহিনী দেদারসে ভুয়া ও জাল ‘সোমালি শিলিং’ বাজারে ছাড়তে থাকে। এর ফলে শিলিংয়ের মান দ্রুত কমতে থাকে এবং সাধারণ মানুষ স্থানীয় মুদ্রার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। বিকল্প হিসেবে ডলারের আগমন: চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সঞ্চয় বাঁচিয়ে রাখতে সোমালিয়ার জনগণ বিকল্প হিসেবে স্থিতিশীল মুদ্রা মার্কিন ডলারকে বেছে নেয়। মোবাইল ব্যাংকিং ও ক্যাশলেস বিপ্লব-কাগুজে সোমালি শিলিংয়ের অপ্রতুলতা এবং ছোট মূল্যমানের ডলারের সংকটের কারণে সোমালিয়ায় এক অভূতপূর্ব ‘ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। সোমালিয়ার বড় বড় টেলিকম কোম্পানিগুলো (যেমন: Zaad, EVC Plus) অত্যন্ত সহজ মোবাইল আর্থিক সেবা চালু করে। এর মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র লেনদেনও (যেমন ৫০ সেন্ট বা এক ডলার) ফোনের এক ক্লিকেই সেরে ফেলা যায়। বর্তমানে দেশের প্রায় সকল প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বদলে এই মোবাইল ভলটে ডলার জমা রাখেন এবং ফোন নম্বর ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করেন। যদিও মার্কিন ডলার সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে, তবুও নিজস্ব মুদ্রার অভাব একটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও কেন্দ্রীয় আর্থিক নিয়ন্ত্রণের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সোমালিয়ার বর্তমান সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও একটি নিরাপদ ও নতুন ‘সোমালি শিলিং’ বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে, যাতে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থাকে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা যায়। তবে আপাতত, প্রযুক্তি ও মার্কিন ডলারের মেলবন্ধনে সোমালিয়া বিশ্বমঞ্চে এক অনবদ্য ক্যাশলেস এবং ডলারভিত্তিক সমাজের অনন্য উদাহরণ হয়ে রয়েছে!
সাতক্ষীরায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান
সাতক্ষীরায় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট, ২০২৬) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এককালীন এই আর্থিক সুবিধা হাতে পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।অনুষ্ঠানের শুরুতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত হয়ে সারা দেশের এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এবং শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরাই জাতি গড়ার কারিগর। তাদের শেষ বয়সের রাষ্ট্রীয় পাওনা যথাসময়ে বুঝিয়ে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজের সভাপতিত্বে স্থানীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত এবং জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবির।এছাড়াও সুধী সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক আবুল হাসান হাদী, যুগ্ন আহবায়ক তাসকিন আহমেদ চিশতী এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মিনি। অনুষ্ঠান মঞ্চে এবং দর্শকাসনে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত সুবিধাভোগী অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।
মনসা পূজা ঘিরে জমজমাট নেত্রকোনার পাঁঠার হাট
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব মনসা পূজা ঘিরে নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলোতে জমে উঠেছে পাঁঠার হাট। আগামী ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজা। মনসা পূজা উপলক্ষে এ দিন সনাতনী সম্প্রদায়ের অনেকেই দেবী মনসার উদ্দেশ্যে পাঁঠা, মেষ ও হাঁস বলি দিয়ে থাকেন। তাই প্রতি বছরই এ পূজাকে ঘিরে শ্রবণ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় বাজারগুলোতে জমে ওঠে পাঁঠার হাট। পূজার দিন যতই এগিয়ে আসে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা ততই বেড়ে যায়। সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১২ টার পর থেকে সময় বাড়ার সাথে সাথে হাটে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি শুরু হয় কেনাবেচার ব্যস্ততা। প্রতিটি হাটে স্থানীয়দের পালিত ছাগলের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে মাঝারি ও বড় পাঁঠা ক্রয় করে উপজেলার বিভিন্ন হাটে বিক্রি করতে আসা বেপারীদেরও দেখা গেছে। ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের পাঁঠা ১০ হাজার টাকা থেকে সত্তর হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকানো হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাঁঠা ক্রয় করতে দেখা গেছে অনেককে। জেলা সদরের মৌগাতি, পুকুরিয়া, ঠাকুরাকোনা থেকে পাঁঠা কিনতে আসা জিতেন্দ্র চৌধুরী, নিরঞ্জন সরকার, তিনু রায়, পিযুষ মল্লিক সহ কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের এলাকায় মনসা পূজা প্রচলন বেশি, প্রায় সব বাড়িতেই হয়। মনসা পূজার বাকি আর মাত্র ২ দিন। পূজাকে কেন্দ্র করে পাঁঠার বাজার বেশ জমজমাট। তাই দর কষাকষির পাশাপাশি বেচা-কেনাও ভালোই হচ্ছে। জেলার কিছু কিছু এলাকায় রড় পাঁঠা কেনা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। তাই এ সময়ে বিক্রেতারা বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় পাঁঠা কিনে এনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। বাজারে ছোট সাইজের পাঁঠার দাম তূলনামূলক বেশি তবে বড় সাইজের পাঁঠার দাম অনেকটাই কম। অন্যদিকে পাঁঠা বিক্রি করতে আসা জেলা সদরের কালিয়ারা গাবরাগাতী এলাকার ঝুটন সরকার, অরুণ সরকার, ঠাকুরাকোনা এলাকার নজরুল ইসলাম, রহমত উল্লাহসহ কয়েকজন বিক্রেতা জানান, বাজারে কয়েক’শ ব্যবসায়ী পাঁঠা নিয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, সুনামগঞ্জ, সিলেটসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে পাঁঠা এনে বিভিন্ন হাটে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন। আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী উপজেলার গ্রাম ঘুরে পাঁঠা কিনে বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। বাজারগুলোতে ছোট-বড় যেকোনো আকারের পাঁঠা পাওয়া যাচ্ছে। এই বছর পাঁঠার চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভালো পাবেন বলে আশা করছেন তারা। তারা জানান, ভূষিসহ পাঁঠার খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাঁঠা লালন-পালনে এ বছর খরচ একটু বেশি। তারপরও সন্তোষজনক দাম পেলে পাঁঠা বিক্রি করে দিচ্ছি। বিভিন্ন বাজারের ইজারাদাররা জানান, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। ছুটের টাকার পরিমাণও কম নিচ্ছি এ কারণে এবার বাজারে প্রচুর দেশি-বিদেশি পাঁঠা ও ভেড়া এসেছে।
বকশীগঞ্জে ভুট্টাবোঝাই অটোভ্যানের চাপায় কিশোরীর মৃত্যু
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টাবোঝাই ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের চাপায় আঁখি মনি (১৩) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আঁখি মনি ওই এলাকার কালু শেখের মেয়ে। নিহতের জেঠাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম জানান, দুপুরে বাড়ির পাশের সড়ক পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল আঁখি মনি। এ সময় ভুট্টাবোঝাই একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান তাকে চাপা দিলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আঁখি মনির মৃত্যু হয়। বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নিবন্ধন ও স্বাধীনতার সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম
সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক সামনে এসেছে, তা নিছক একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রশ্ন নয়—এটি গণতান্ত্রিক অধিকার, পেশাগত দায়বদ্ধতা ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা সম্পর্কিত একটি গভীর নীতিগত দ্বন্দ্ব। গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বার কাউন্সিলের আদলে সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব রয়েছে। একইসঙ্গে মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও নীতি-নৈতিকতাবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানাসহ কার্যকর বিধান এবং প্রেস কাউন্সিলের স্বতঃপ্রণোদিত তদন্তের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। একদিকে সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার পেশার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে—এই বাস্তবতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাষ্ট্রীয় নিবন্ধনব্যবস্থা যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে না, এমন নিশ্চয়তা কোথায়? এই দ্বন্দ্বের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে মূল প্রশ্নটি—সাংবাদিকতার পেশাগত মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র কি সাংবাদিককে নিবন্ধিত করবে, নাকি রাষ্ট্রের কর্তব্য এমন একটি স্বাধীন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে সাংবাদিকতা নিজস্ব পেশাগত ও নৈতিক কাঠামোর মাধ্যমেই জবাবদিহিমূলক থাকে? সুতরাং বিতর্কটি আসলে নিবন্ধন থাকবে কি থাকবে না—এত সরল নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো, সাংবাদিকের পেশাগত স্বীকৃতি কি রাষ্ট্রীয় অনুমোদনের সমার্থক হবে, নাকি তা স্বাধীন পেশাগত কাঠামোর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে? বাস্তব সংকট ও উদ্যোগ বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম আজ নানা সংকটের মুখোমুখি। নামসর্বস্ব সংবাদমাধ্যম, অনিয়মিত প্রকাশনা, পরিচয় ও মালিকানা-অস্পষ্ট অনলাইন সংবাদমাধ্যম—এসব সমস্যা যেমন বাস্তব, তেমনি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের ঘটনাও দুর্লভ নয়। সরকার ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং ৮ জুলাই সংসদে এ সংশোধনের প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশের একটি খসড়া প্রকাশ করেছে। এই উদ্যোগগুলোর পেছনে যে চালিকাশক্তি, তা হলো পেশার মান ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রয়াস—এ কথা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, সংকটের সমাধান যেন সংকটের চেয়ে বড় না হয়। সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার বন্ধের প্রয়োজন যেমন বাস্তব, তেমনি সেই প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকিও সমান বাস্তব। নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ: এক নয় এখানে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগত পার্থক্য পরিষ্কার করা প্রয়োজন—নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ এক জিনিস নয়। নিবন্ধন হতে পারে প্রশাসনিক রেকর্ড, পেশাগত স্বীকৃতি, অথবা সংবাদমাধ্যমের বৈধতা যাচাইয়ের একটি ব্যবস্থা। অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ বলতে বোঝায় এমন ক্ষমতা, যার মাধ্যমে নিবন্ধন বা স্বীকৃতি প্রত্যাহার, সংবাদ প্রকাশে বিধিনিষেধ, জরিমানা, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ অথবা সরকারি অনুমোদনের ওপর সাংবাদিকতার অধিকারকে নির্ভরশীল করে তোলা যায়। মূল প্রশ্ন তাই নিবন্ধন শব্দটিতে নয়; প্রশ্ন হলো—নিবন্ধনের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রকৃতি ও সীমা কীভাবে যুক্ত হচ্ছে? যদি নিবন্ধনব্যবস্থা এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যে তা সহজেই নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে, তাহলে সেটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য হুমকি। অন্যদিকে, যদি কোনো স্বীকৃতি বা নিবন্ধনব্যবস্থা স্বায়ত্তশাসিত পেশাগত কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়, রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত থাকে এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বাধীন আপিলের ব্যবস্থা থাকে, তাহলে তা পেশাগত মান ও জবাবদিহি বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে। পেশা ও অধিকার: দ্বৈত পরিচয়ের জটিলতা সাংবাদিকতা কি পেশা, নাকি গণতান্ত্রিক অধিকারচর্চার একটি ক্ষেত্র? এই প্রশ্নটি নিবন্ধটির বৌদ্ধিক কেন্দ্রে অবস্থান করে। বাস্তবতা হলো—সাংবাদিকতা একইসঙ্গে পেশা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অধিকারচর্চা। একজন সাংবাদিক তার শ্রমের বিনিময়ে পেশাগত আয় করেন—অর্থাৎ এটি পেশা। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের স্বাধীনতা শুধু সাংবাদিকের ব্যক্তিগত অধিকার নয়; এটি নাগরিকের তথ্য জানার অধিকারকে কার্যকর করে। তাই পেশাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা যেতে পারে; কিন্তু নাগরিকের জানার অধিকারকে রাষ্ট্রীয় লাইসেন্সের ওপর নির্ভরশীল করা যায় না। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির (ICCPR) ১৯ অনুচ্ছেদও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, এবং বাংলাদেশ ২০০০ সালে এই চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়। রাষ্ট্র যদি সাংবাদিকের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে, তবে সেই সংজ্ঞা ভবিষ্যতে কাদের বাদ দেবে? ডিজিটাল যুগে স্বাধীন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, ফ্রিল্যান্সার, ব্লগার, নাগরিক সাংবাদিক—তাদের অবস্থান কী? যখন একজন সাধারণ নাগরিক একটি দুর্নীতির ভিডিও ধারণ করে প্রকাশ করেন এবং তা জাতীয় সংবাদে পরিণত হয়, তখন তাকে সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত করার প্রয়োজন কোথায়? নাগরিক সাংবাদিকতা ও পেশাদার সাংবাদিকতার সীমারেখা ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে। এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত একটি সংকীর্ণ সংজ্ঞা সাংবাদিকতার স্বাভাবিক বিবর্তনকে আটকে দিতে পারে। মন্ত্রী নিজেও সংসদে পডকাস্ট, ব্লগিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টের বিষয়ে প্রচলিত আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছেন—এটি ইঙ্গিত দেয় যে ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার পরিধি নির্ধারণ করা কতটা জটিল। পৃথক উদ্যোগ, পৃথক প্রক্রিয়া এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন—‘প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধন’ ও ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ’—এই দুটি ভিন্ন উদ্যোগ। প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের প্রস্তাবটি ২০২৬ সালের ৮ জুলাই সংসদে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল ১৯ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আর্টিকেল ১৯-এর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, খসড়াটিতে কমিশনের কাঠামো, মর্যাদা, কমিশনারদের দায়িত্ব এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা—সব দিক থেকেই সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবল আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বের প্রভাব স্পষ্ট; ফলে কমিশনটি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকিতে পড়বে এবং এটি আইসিসিপিআরের ১৯ অনুচ্ছেদে প্রতিফলিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই খসড়ায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের ‘সাংবাদিক’-এর সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, খসড়া প্রকাশের জন্য মাত্র তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছিল, যা স্বচ্ছতা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অভাব নির্দেশ করে। উল্লেখ্য, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন ২০২৫ সালের ২২ মার্চ তাদের প্রতিবেদন সরকার প্রধানের কাছে জমা দিয়েছিল। প্রায় এক বছর পর এসে অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে, যা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা নিয়ে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: লাইসেন্স না থাকলেই জবাবদিহি নেই? বহু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে—যেমন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া—সাংবাদিকতার জন্য রাষ্ট্রীয় লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ‘রাষ্ট্র সাংবাদিককে লাইসেন্স দেয় না’—এর অর্থ এই নয় যে সাংবাদিকতার কোনো জবাবদিহি নেই। সেখানে জবাবদিহির কাঠামো সম্পূর্ণ ভিন্ন—আইন, আদালত, মানহানি-সংক্রান্ত প্রতিকার, সম্পাদকীয় নীতি, পেশাগত নৈতিকতা, প্রেস কাউন্সিল, স্বনিয়ন্ত্রণ, পাঠকের কাছে সংশোধন, মালিকানা ও স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত বিধান—এই সবকিছু মিলেই গড়ে ওঠে জবাবদিহির কাঠামো। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা দেখায়, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মাত্রা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিসরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অ্যাক্রিডিটেশন ও নিবন্ধন—এ দুইয়ের পার্থক্যও মনে রাখা জরুরি। নির্দিষ্ট সরকারি ভবন, অনুষ্ঠান বা নিরাপত্তাসংবেদনশীল স্থানে প্রবেশের জন্য অ্যাক্রিডিটেশন একটি যৌক্তিক ব্যবস্থা হতে পারে, যা অনেক দেশেই প্রচলিত। কিন্তু অ্যাক্রিডিটেশনকে সাংবাদিকতার পেশাগত বৈধতা বা সাংবাদিক হওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার তিনস্তর গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে শুধু সাংবাদিকের স্বাধীনতা হিসেবে দেখলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এটি তিনটি স্তরে ব্যাখ্যা করা উচিত: প্রথমত, সাংবাদিকের স্বাধীনতা—প্রশ্ন করার, অনুসন্ধান করার ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা। দ্বিতীয়ত, সম্পাদকের স্বাধীনতা—মালিক, সরকার, বিজ্ঞাপনদাতা ও রাজনৈতিক চাপের বাইরে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। তৃতীয়ত, নাগরিকের অধিকার—নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার অধিকার। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সুবিধা নয়; এটি নাগরিকের জানার অধিকার রক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত। এই তিনটি স্তরের কোনো একটি দুর্বল হলে অন্যগুলোও শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাংবাদিক স্বাধীন না হলে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হয়; আর সম্পাদকীয় স্বাধীনতা দুর্বল হলে নাগরিকের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মালিকানা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা: আরেকটি বড় প্রশ্ন সাংবাদিক নিবন্ধন নিয়ে আলোচনা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো—সাংবাদিক কি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হলেই স্বাধীন? প্রকৃতপক্ষে, আরও প্রশ্ন আছে: সংবাদমাধ্যমের মালিক কে? বিজ্ঞাপননির্ভরতা কতটা? রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মালিকানা কীভাবে সম্পাদকীয় স্বাধীনতাকে প্রভাবিত করে? সাংবাদিকের চাকরির নিরাপত্তা কেমন? সংবাদমাধ্যম অর্থনৈতিকভাবে টেকসই কি না? অর্থাৎ, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এবং প্রকৃত সম্পাদকীয় স্বাধীনতা থাকা—একই বিষয় নয়। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন মালিকানার কেন্দ্রীভবন কমাতে ‘ওয়ান হাউস, ওয়ান মিডিয়া’ নীতিসহ বিভিন্ন সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত না হলে সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নিবন্ধন থাকলেও মালিকানা ও অর্থনৈতিক চাপ থেকে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত হবে না। বিকল্প নীতিমডেল প্রশ্ন তাই ফিরে আসে—সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার ঠেকানোর বৈধ প্রয়োজনকে কীভাবে এমনভাবে মোকাবিলা করা যায়, যাতে সেই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে? প্রথমত, রাষ্ট্রীয় নিবন্ধন নয়, একটি স্বাধীন, স্বশাসিত ও বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান সাংবাদিকদের পেশাগত স্বীকৃতি দিতে পারে। আর্টিকেল ১৯-এর সুপারিশ অনুযায়ী, যেকোনো গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নির্বাহী নিয়ন্ত্রণমুক্ত হতে হবে। প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধনের মাধ্যমে এমন একটি কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে, যা সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবে। দ্বিতীয়ত, সংবাদমাধ্যম নিবন্ধন ও সাংবাদিক নিবন্ধন—এই দুটি বিষয় আলাদা করা উচিত। একটি সংবাদমাধ্যম আইনগতভাবে নিবন্ধিত হওয়া এবং সেখানে কর্মরত প্রত্যেক সাংবাদিকের রাষ্ট্রীয় লাইসেন্স থাকা—এক জিনিস নয়। দেশে ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যম নিবন্ধিত রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের এই নিবন্ধনব্যবস্থা বহাল রেখে সাংবাদিকদের জন্য পৃথক লাইসেন্স চালু করা অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ। তৃতীয়ত, স্বেচ্ছামূলক পেশাগত সার্টিফিকেশন চালু করা যেতে পারে। সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাই, অনুসন্ধানী পদ্ধতি ও আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বেচ্ছায় সার্টিফিকেট নেওয়ার ব্যবস্থা—যা পেশার মান বাড়াবে, কিন্তু বাধ্যতামূলক না হওয়ায় স্বাধীনতার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে না। চতুর্থত, পরিচয়পত্রের অপব্যবহার হলে সাংবাদিক হওয়ার অধিকার বাতিল না করে প্রচলিত ফৌজদারি, দেওয়ানি বা প্রশাসনিক আইনের মাধ্যমেই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, প্রতারণা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পঞ্চমত, ভুল সংবাদ, নৈতিক লঙ্ঘন বা হয়রানির অভিযোগের জন্য একটি স্বাধীন অভিযোগ-নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এতে সাংবাদিক সংগঠন, সুশীল সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে, যাতে অভিযোগের নিষ্পত্তি হয় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে। সুরক্ষার শর্তাবলি যদি কোনো নিবন্ধনব্যবস্থা প্রস্তাবই করা হয়, তবে কয়েকটি শর্ত অনিবার্য—কোনো মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না; রাজনৈতিক সরকারের হাতে নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা থাকবে না; নিবন্ধন প্রত্যাখ্যানের লিখিত কারণ ও স্বাধীন শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে; আদালতে আপিলের অধিকার থাকতে হবে; নিবন্ধন বা স্বীকৃতির কোনো সিদ্ধান্তই সংবাদ প্রকাশের বৈধতা নির্ধারণের ভিত্তি হতে পারবে না; এবং ‘মিথ্যা’, ‘হয়রানিমূলক’ ও ‘নৈতিকতাবিরোধী’ শব্দগুলোর আইনগত সংজ্ঞা অত্যন্ত স্পষ্ট হতে হবে। আর্টিকেল ১৯-এর ভাষায়, ভবিষ্যতের যেকোনো গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রককে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নির্বাহী নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকতে হবে,এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের প্রাসঙ্গিক আইনের আওতায় সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। যে ভারসাম্য আমাদের সামনে সাংবাদিকতার সংকটের সমাধান প্রয়োজন, কিন্তু সেই সমাধান যেন সাংবাদিকতার স্বাধীনতার চেয়ে বড় সংকট তৈরি না করে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব সাংবাদিককে অনুমোদিত কণ্ঠে পরিণত করা নয়; বরং এমন আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করা, যেখানে ভুয়া পরিচয়, প্রতারণা ও পেশাগত অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর জবাবদিহি থাকবে এবং একই সঙ্গে সত্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতাও সুরক্ষিত থাকবে। রাষ্ট্র সাংবাদিকতার পেশাগত মান নির্ধারণের একচ্ছত্র কর্তৃপক্ষ নয়; রাষ্ট্রের দায়িত্ব এমন একটি কাঠামো নিশ্চিত করা, যেখানে সাংবাদিকতা স্বাধীনভাবে নিজের মান ও জবাবদিহির প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারকে যদি নিবন্ধনের নামে সংকুচিত করা হয়, তবে সেই সংকীর্ণতা থেকে গণতন্ত্রও রক্ষা পায় না। সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে একটি ভারসাম্যের ওপর—যেখানে পেশার মান থাকবে, কিন্তু তা হবে স্বনির্ধারিত; যেখানে জবাবদিহি থাকবে, কিন্তু তা হবে স্বাধীনতার শত্রু নয়; যেখানে রাষ্ট্রের ভূমিকা থাকবে সীমিত ও স্বচ্ছ—নিয়ন্ত্রকের নয়, বরং স্বাধীনতার প্রহরীর। সাংবাদিকতার প্রকৃত পরীক্ষা তাই কে নিবন্ধিত—শুধু সেই প্রশ্নে নয়। প্রশ্ন হলো, কে প্রশ্ন করতে পারছে, কে সত্য অনুসন্ধান করতে পারছে এবং সেই প্রশ্ন করার কারণে তার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে কি না। লেখক : জহিরুল ইসলাম, গণমাধ্যমকর্মী, চকরিয়া-পেকুয়া, কক্সবাজার।
মঠবাড়িয়ায় বিনামূল্যে চক্ষু শিবির
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিনামূল্যে দরিদ্র রোগিদের চক্ষু চিকিৎসা সেবা ক্যাম্প ও চোখের ছানি অপারেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার মঠবাড়িয়া সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বরিশাল ইস্পাহানি ইসলামীয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এর সহযোগিতায় এবং তরী মহিলা সংস্থার উদ্যোগে এ চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়ে। পৌর বিনপির সাবেক সভাপতি কে.এম হুমায়ুন কবির এ চক্ষু সেবা ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। এসময় মহিলা অধিদপ্তরের উপরিচালক আলতাফ হোসেন, সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার হালদার, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজামুল কবির মিরাজ, সাংবাদিক শ্যামল মিত্র ও সুমন বেপারী উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল ইস্পাহানি ইসলামীয়া চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাদিব ইমাম দিনব্যাপী চার শতাধিক রোগিকে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র, ছানি অপারেশনসহ বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা প্রদান করেন।