বাংলাদেশ বার্তা টুডে
স্ক্রলের গভীরে: অ্যালগরিদমের যুগে সাহিত্যের প্রতিরোধ
দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা কত কিছু 'পড়ি'? সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গেই হাতে চলে আসে ফোন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার—একের পর এক পোস্ট স্ক্রল করি। নিউজ পোর্টালের হেডলাইন চোখ বুলাই, বন্ধুর স্ট্যাটাস দেখি, গ্রুপের শত শত মেসেজ পার করি। বিরক্তিতে বা আনন্দে তাৎক্ষণিক রিঅ্যাক্ট করি, মাঝে মাঝে কমেন্ট লিখি। দিনশেষে মাথা বালিশে রেখে যখন ভাবি, মনে হয়—এত কিছু দেখলাম, জানলাম, পড়লাম; কিন্তু মনটা যেন শূন্য। সকালে দেখা সেই পোস্টের বিষয়বস্তু, যে ভিডিওতে মুহূর্তের জন্য উত্তেজিত হয়েছিলাম, তার মূল বক্তব্য—কিছুই আর ঠিকঠাক মনে পড়ে না। তথ্যের এই প্লাবনে আমরা ভেসে যাই, কিন্তু কোনো কিছুই যেন আঙিনায় থিতু হয় না। এই দ্রুততা আর ক্ষণস্থায়ীতার মধ্যেই দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে—সাহিত্যের মতো একটি ধীর, নিস্তব্ধ ও গভীর মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা কি আজও অক্ষুণ্ণ? আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন তথ্য ও যোগাযোগের গতি অভূতপূর্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথ্যের প্রসারকে যেমন গণতান্ত্রিক করেছে, তেমনি জ্ঞানার্জনের পথকে সহজ করেছে। এখন মফস্বলের কোনো তরুণও তার লেখা বিশ্বের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পায়; সাহিত্য চর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে—অনলাইন গল্পপত্রিকা, সাহিত্যভিত্তিক গ্রুপ, কবিতা পাঠের লাইভ সেশন। কিন্তু এই দ্রুততারই একটি অন্ধকার পাশ রয়েছে। সংক্ষিপ্ততা, স্পষ্টতা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার এই সংস্কৃতিতে দীর্ঘ সময় ধরে একটি লেখা বা ভাবনার সঙ্গে থাকার অভ্যাস ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। মনোযোগের এই সংকট আমাদের চিন্তার গভীরতাকেও সংকুচিত করছে। ঠিক এই খানেই সাহিত্য নিজের প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করে। সাহিত্য পাঠককে একটি গল্পের ভেতর ডুব দিতে বলে, একটি চরিত্রের সঙ্গে দিনের পর দিন কাটাতে বলে, কোনো সময়, সমাজ বা পরিবেশকে অনুভব করতে বলে। এটি ধৈর্যের পাঠ, গভীর মনোযোগের অনুশীলন। কোনো উপন্যাস যখন আমরা ধীরে ধীরে পড়ি, তখন আমরা শুধু ঘটনা আত্মস্থ করি না, তার পাশাপাশি প্রশ্নও করি—'কী ঘটল' নয়, 'কেন ঘটল', 'আমি যদি এই চরিত্রের জায়গায় হতাম, তাহলে কী করতাম'—এই আত্মজিজ্ঞাসাই সাহিত্যের প্রধান উপহার, যা সামাজিক মাধ্যমের দ্রুত ও খণ্ডিত তথ্যপ্রবাহে সহজে পাওয়া যায় না। সাহিত্য সমালোচনামূলক চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন তৈরি করে, যা যেকোনো ভাইরাল তথ্যকে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে যাচাই-বিশ্লেষণের মানসিকতা গড়ে তোলে। বিশেষ করে, সাহিত্য আমাদের একই ঘটনার একাধিক সত্যের সহাবস্থান দেখায়—উপন্যাসের নায়ক নিজের চোখে যেমন একটি সত্য দেখে, অন্য চরিত্র তার থেকে ভিন্ন সত্য দেখে; পাঠককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, ভাবতে হয়। এই অভিজ্ঞতা আমাদের কোনো একটি সত্যকে সহজে চূড়ান্ত বলে মেনে নেওয়ার বদলে তার ভেতরের ভিন্ন দিকগুলো দেখতে শেখায়। শুধু তাই নয়, সাহিত্য মানবিক বোধের উৎস। একটি উদাহরণ দিই: মহাশ্বেতা দেবীর 'হাজার চুরাশির মা' পাঠককে শুধু এক মায়ের সংগ্রামের গল্পই শোনায় না, সে তাকে নিয়ে যায় স্বাধীনতা-উত্তর বাংলার এক ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক জগতে। পাঠকও শেষ পর্যন্ত যেন ওই মায়ের দুঃখ, ক্ষোভ ও ভালোবাসার কিছুটা নিজের ভেতর অনুভব করেন—এমনকি যদি তাঁর নিজের জীবন তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। এই অভিজ্ঞতা ডিজিটাল বিশ্বের একটি শিরোনাম বা ভিডিও ক্লিপে সহজে সম্ভব নয়। সাহিত্য আমাদের কল্পনাকেও সক্রিয় করে। চলচ্চিত্র তার দৃশ্যের একটি নির্মিত রূপ আমাদের সামনে হাজির করে; সাহিত্য সেই দৃশ্যের অনেকখানি নির্মাণের দায়িত্ব পাঠকের কল্পনার হাতে তুলে দেয়। ভাষার দিক থেকেও সাহিত্য আমাদের সমৃদ্ধ করে—সামাজিক মাধ্যমের সংক্ষিপ্ত, তথ্যবহুল ভাষার বিপরীতে সাহিত্য ভাষার সূক্ষ্ম ব্যবহার শেখায়, যা একই অনুভূতিকে ভিন্ন মাত্রায় প্রকাশ করতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো—সাহিত্য আর সামাজিক মাধ্যম কি পরস্পরের শত্রু? নিশ্চয়ই না। সামাজিক মাধ্যম আজ সাহিত্যের বিজ্ঞাপনের স্থান, তরুণ লেখকদের আত্মপ্রকাশের মঞ্চ, নতুন বইয়ের খবর জানার দ্রুততম পথ। কিন্তু এই সহাবস্থানের মধ্যেই একটি সূক্ষ্ম বিপদ আছে। সাহিত্যচর্চার স্বাভাবিক ধীরতা ও নিবিড়তার সঙ্গে যখন তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তার চাপ যুক্ত হয়, তখন লেখকের মনোযোগ কখনো কখনো সৃষ্টির বদলে প্রতিক্রিয়া পাওয়ার দিকে সরে যেতে পারে। এখানে আরও একটি মৌলিক পার্থক্য আছে: অ্যালগরিদম সাধারণত আমাদের আগের পছন্দের ভিত্তিতে পরবর্তী পছন্দ অনুমান করে—আমরা যা পছন্দ করি, তার আরও কিছু আমাদের সামনে হাজির হয়। সাহিত্য তার বিপরীত কাজ করে। এটি আমাদের এমন মানুষ, এমন জীবন, এমন প্রশ্ন ও এমন মতের সামনে দাঁড় করায়, যা আমরা নিজেরা হয়তো খুঁজে নিতাম না। এই অস্বস্তিকর, অচেনা জগতের মুখোমুখি হওয়াই সাহিত্যকে অ্যালগরিদম থেকে আলাদা করে এবং তার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে। বোঝা জরুরি যে, তথ্য পাওয়া এবং জ্ঞান অর্জন এক নয়; মতামত প্রকাশ করা এবং চিন্তা করা এক জিনিস নয়। আমরা কয়েক সেকেন্ডে একটি খবর শেয়ার করতে পারি; কিন্তু তার প্রেক্ষাপট, মানুষের জীবনে তার অভিঘাত এবং ঘটনাটির মানবিক অর্থ বুঝতে আমাদের দ্রুত তথ্যপ্রবাহের বাইরে আরও গভীর পাঠের প্রয়োজন হয়—সাহিত্য সেই গভীরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। বাংলাভাষী সমাজের বাস্তবতায় এর প্রাসঙ্গিকতা গভীর। বাংলা ভাষার সাহিত্যঐতিহ্য আমাদের গৌরবের। বর্তমান প্রজন্মকে এককথায় ‘সাহিত্যবিমুখ’ বলে আখ্যা দেওয়া ঠিক হবে না; কারণ তারা ই-বুক, অডিওবুক, অনলাইন পত্রিকা ও সাহিত্যবিষয়ক পডকাস্টের মতো নতুন মাধ্যমেও সাহিত্যের সংস্পর্শে আসছে। কিন্তু 'পড়া' মানে কি কেবল চোখ বুলানো? নাকি তার মধ্যে থেমে ভাবার, প্রশ্ন করার সুযোগ আছে? পাঠের মাধ্যম বদলাচ্ছে—বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল পাঠচক্র, সাহিত্য পডকাস্ট, ডিজিটাল বই ও সাহিত্য প্ল্যাটফর্ম—এসব নতুন পথ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু মাধ্যম যাই হোক, মূল চ্যালেঞ্জ হলো পাঠকের মধ্যে থেমে ভাবার অভ্যাসটি ধরে রাখা। বইমেলায় মানুষের উপস্থিতি অন্তত এটুকু মনে করিয়ে দেয়—বইয়ের প্রতি আগ্রহ এখনও নিঃশেষ হয়নি; তবে এটি শুধু উৎসবের আনন্দে সীমাবদ্ধ না থেকে নিত্যজীবনের অভ্যাস হয়ে উঠতে হবে। স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য যেন 'অতিরিক্ত বোঝা' না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। ভবিষ্যতের কথা ভাবলে দেখি, অ্যালগরিদম দিন দিন আমাদের মনোযোগকে আরও খণ্ডিত করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের আগ্রহ ও চাহিদা অনুমান করে আরও বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক কনটেন্ট পরিবেশন করতে পারে; ফলে আমরা চাইলে এমন এক তথ্যপরিসরে আটকে পড়তে পারি, যেখানে নতুন বা অস্বস্তিকর ভাবনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ কমে যায়। ঠিক এই সময়ে সাহিত্য হয়ে উঠতে পারে এক ধরনের মানসিক প্রতিরোধ। কারণ যারা গভীরভাবে পড়তে জানে, তারা অ্যালগরিদমের তৈরি একই ধরনের তথ্যের বৃত্তে আটকে থাকে না; তারা প্রশ্ন করতে জানে, ভিন্ন মতকে গ্রহণ করতে জানে, নিজের চিন্তার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধার করে। এই অর্থে সাহিত্য শুধু একটি শিল্পমাধ্যম নয়; এটি আমাদের মনোযোগের ওপর অন্যের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে নিজের ভেতরের স্বাধীন জায়গাটি রক্ষা করারও একটি উপায়। সাহিত্য তাই কোনো পলায়ন নয়, বরং ডিজিটাল নির্ভরতার মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। সামাজিক মাধ্যম আমাদের যুক্ত করে ক্ষণিকের সঙ্গে; সাহিত্য যুক্ত করে নিরবধির সঙ্গে। আমরা যদি শুধু যা দ্রুত পাই, তাই গ্রহণ করতে থাকি, তবে হারিয়ে যাবে সেই গভীর মানবিক অভিজ্ঞতাগুলো—যা সময় নেয়, নিস্তব্ধতা চায়, আত্মনিবেদন দাবি করে। তাই প্রযুক্তির এই দাপুটে অগ্রযাত্রায় সাহিত্যের প্রয়োজন কমেনি; বরং মানুষের মনোযোগ যখন ছিন্নভিন্ন, মতামত যখন ভাসাভাসা, তখন সাহিত্যের আহ্বান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—থামো, ভাবো, গভীরে যাও। আর সেই গভীরেই লুকিয়ে আছে আমাদের নিজেদের সঙ্গে নিজের দেখা, যা কোনো স্ক্রল কখনো দেয় না। লেখক : জহিরুল ইসলাম, গণমাধ্যমকর্মী, চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার।
শ্রীপুরে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণ
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি, সেলাই মেশিন ও বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। একসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদ ভূঁইয়া। আজ (১৩ আগস্ট )বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুবিধাভোগীদের মাঝে এসব সহায়তা বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দরিদ্র পরিবারের নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি সহায়তাপ্রাপ্তদের সঠিকভাবে এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। বৃহস্পতিবার শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে চেম্বার অফ কমার্স কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করেন। এ সময় মিষ্টি বিতরণ করে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান তারা। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঠাকুরগাঁওয়ে শুরু হয় আলোচনা ও উচ্ছ্বাস। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এ খবরে আনন্দ প্রকাশ করেন। জেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু বিএনপির মহাসচিব নন, তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দেওয়া একজন অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন। তার মতো অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ায় তারা বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পেলে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের গর্ব। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার খবরে আমরা আনন্দিত। এটি ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্যও গর্বের বিষয়। রাজনীতির দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়নের খবরে তাই নিজ জেলায় আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। মিষ্টি বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সেই আনন্দই প্রকাশ করছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
রংপুরে রিকশার গ্যারেজে বৃদ্ধের রক্তাক্ত মরদেহ, হত্যার ঘটনায় তদন্তে পুলিশ
রংপুর নগরীর তাজহাট আনসারীর মোড় এলাকায় রিকশার গ্যারেজের ভেতর থেকে আব্দুর রহমান (৬৫) নামে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে গ্যারেজের শাটারের তালা কেটে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আব্দুর রহমানকে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা গ্যারেজের শাটার বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি সেলাই রেঞ্চ উদ্ধার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এছাড়া গ্যারেজের একটি আলমারি ও ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহমান ওই এলাকায় রিকশার গ্যারেজ পরিচালনা করতেন এবং সেখানেই বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে গ্যারেজের শাটারে বাইরে থেকে তালা ঝুলতে দেখে স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে শাটারের ফাঁক দিয়ে ভেতরে তাকালে মেঝেতে আব্দুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তালা কেটে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, আব্দুর রহমানের একাধিক বিয়ে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধ ছিল। পাশাপাশি তিনি গ্যারেজে টাকা-পয়সা রাখতেন বলেও স্থানীয়দের জানা ছিল। এ কারণে পারিবারিক বিরোধ কিংবা টাকা লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। গ্যারেজের পাশের সেলুনের মালিক নাদিম জানান, রাতে গ্যারেজের শাটার বন্ধ করার পর কেউ ডাকাডাকি করলেও আব্দুর রহমান সাধারণত শাটার খুলতেন না। রিকশার মালিকরা এলেও ভেতর থেকেই কথা বলতেন। বুধবার রাতে তিনি কোনো চিৎকার বা অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পাননি। তার ধারণা, পরিচিত কেউ পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে থাকতে পারে। গ্যারেজসংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা হিরু মিয়া বলেন, রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি গ্যারেজের শাটার নামানো অবস্থায় দেখেছেন। সকালে চিৎকার শুনে বাইরে এসে লোকজনের ভিড় দেখতে পান। পরে শাটারের ফাঁক দিয়ে আব্দুর রহমানের মরদেহ দেখতে পান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহতের এক প্রতিবেশী জানান, আব্দুর রহমান গ্যারেজে নিজের কাছে টাকা-পয়সা রাখতেন। একাধিক বিয়ে নিয়ে সন্তানদের সঙ্গেও তার বিরোধ ছিল বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনাস্থলে সিআইডি আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও তদন্ত করছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আব্দুর রহমানের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্যারেজে থাকা আলমারির টাকা-পয়সা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার অংশ এবং একটি ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওসি আরও বলেন, নিহতের পরিচিত কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্তের সঙ্গে গেছেন। তারা মামলা করতে চাইলে অভিযোগ গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গাজীপুরে ঝুট ব্যবসার বিরোধে সাংবাদিককে কু/পি/য়ে র/ক্তাক্ত
গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি শরীফ ওমর টুটুল গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ইন্ডেসরি পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা তার মাথার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার ও সেলাই করেছেন। আহত সাংবাদিকের অভিযোগ, কারখানার সামনে সশস্ত্র লোকজনের অবস্থানের খবর পেয়ে তিনি সংবাদ সংগ্রহে যান। সেখানে হামিদ মণ্ডলের লোকজনের কাছে পরিস্থিতি জানতে চাইলে পেছন থেকে রামদা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। হামিদ মণ্ডল, তার ছেলে সোহেলসহ হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। ঘটনার দিন সকাল থেকে সোহেলের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কারখানার আশপাশে অবস্থান ও মহড়া দিচ্ছিল বলেও তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট কালাম দাবি করেন, ঘটনাস্থলে কোনো পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়নি। তাদের পক্ষের লোকজন ধাওয়া খেয়ে চলে যাওয়ার পরই সাংবাদিক টুটুলকে কুপিয়ে আহত করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. দূর্জয় জানান, আঘাতে সাংবাদিকের মাথার কয়েকটি স্তর কেটে গেছে। ক্ষতস্থান সেলাই করা হয়েছে এবং সিটি স্ক্যানের পর তার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। গাছা থানার ওসি গোলাম রাব্বানি জানান, পুলিশ বিষয়টি অবগত রয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই নজরুল ইসলামকে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। পুলিশ ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি থাকলে তদন্তের স্বার্থে তা দিতে অনুরোধ করেছে। এ ঘটনায় গাজীপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদার জানিয়েছেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এদিকে হামিদ মণ্ডল ও তার ছেলে সোহেলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
নওগাঁর ধামইরহাটে মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, বাবা গ্রেফতার
নওগাঁর ধামইরহাটে ১৫ বছর বয়সী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আবুল মঞ্জুর মিঠু (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে নওগাঁ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত মিঠু উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের গোবড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়িতে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে ভুক্তভোগীর দাদি আনজু আরা বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত মিঠুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধামইরহাট থানার এসআই বজেন্দ্রনাথ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার পর তাকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
হাতীবান্ধায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেফতার, কার ও সরঞ্জাম উদ্ধার
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার, দেশীয় অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ভোররাতে হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী মৌজায় সাবেক সংসদ সদস্য মো. মোতাহার হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়ির সামনের পাটগ্রাম-লালমনিরহাট মহাসড়ক থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলার তরফ কামাল গ্রামের মো. সোহরাব হোসেন (৪০) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পিংগলাকাঠী গ্রামের মো. আলামিন (৩৪) পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পাটগাড়ি গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম (৪৭) রংপুরের কোতোয়ালী থানার রামপুরা এলাকার প্রাইভেটকার চালক মো. মাসুদ পারভেজ মাসুদ (৩৭)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে হাতীবান্ধা থানার এসআই মো. জাকিউল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদকবিরোধী অভিযান শেষে থানায় ফিরছিল। পথে দক্ষিণ গড্ডিমারী এলাকায় সাবেক এমপি মো. মোতাহার হোসেনের পরিত্যক্ত বাড়ির সামনে মহাসড়কে একটি সাদা প্রাইভেটকার সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের গাড়িটি প্রাইভেটকারটির সামনে থামতেই চালকের আসনে একজনকে দেখতে পায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিত্যক্ত বাড়িটি থেকে আরও ৭-৮ জন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া করে চারজনকে হাতেনাতে আটক করতে পারলেও বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে প্রাইভেটকারটিতে তল্লাশি চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—১টি ব্যাটারিচালিত গ্রাইন্ডিং মেশিন ও ১টি ড্রিল মেশিন ৮টি ড্রিল বিট ও ৪টি গ্রাইন্ডিং ব্লেড ৪টি স্লাইড রেঞ্চ, ১টি প্লাস, ২টি ক্যাবল কাটার প্লাস ও ৩টি স্ক্রু ড্রাইভার ২টি হ্যাক্স ব্লেড, ২টি লোহার ছেনি ও ১৫টি বিভিন্ন ধরনের চাবি ২টি কসটেপ, ১টি ছোরা ও ১টি লোহার তৈরি দা। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানা গেছে যে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি, মানবপাচার ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টও মুলতবি রয়েছে। তারা একটি সক্রিয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য। এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৮, ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় একটি মামলা (মামলা নম্বর: ২১/১৩ আগস্ট) দায়ের করা হয়েছে। হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান সরকার জানান,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা ও ওয়ারেন্ট রয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সভাপতির সাথে ঠাকুরগাঁওয়ে মতবিনিময় সভা
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লার সাথে ঠাকুরগাঁও জেলার ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সংগঠক, ক্রীড়া সংবাদিক ও অংশীজনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভাটির আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো: নাজমুল হক সুমন, জেলা ক্রীড়া অফিসার মো: ইয়ামিন হোসেন, ঠাকুরগাঁও টাউন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কৃতী ফুটবলার ফারুক হোসেন জুলু, বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের এডহক কমিটির সদস্য ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব চৌধুরী মাহেবুল্লাহ আবু নুর, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ডেপুটি কো অর্ডিনেটর মোছা: শাহিন আরা সুলতান গণী, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এ্যাড. আশিকুর রহমান রিজভী, সালন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মো: মাসুদ রানা, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা মেহেবুবা শিরিন, জাতীয় দলের খেলোয়াড় রিমা আক্তার প্রমুখ। মতবিনিময় সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠনের সদস্য, ক্রীড়া সংবাদিক, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সদস্য, বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠকসহ বিভিন্ন অংশীজনের সদস্যগণ অংশ নেন। এ সময় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার আওতায় ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। পরবর্তিতে উল্লেখিত সুপারিশসমূহ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে কাজ করা হবে বলে জানান প্রধান অতিথি।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রস্তুতিমূলক সভা
গাজীপুরের কালীগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নসহ শিক্ষা কার্যক্রমের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার এর সভাপতিত্বে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা জামিল আহমেদ, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম, উপজেলা তথ্য আপ ছোয়া তামান্না, আইটি এক্রপার্ট তাওহিদ, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তিন মাসের জীবনযুদ্ধ থামল: না-ফেরার দেশে কুষ্টিয়ার বিরল শারীরিক অবস্থার যমজ শিশু দুটি
চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ও দেশবাসীর প্রার্থনাকে নস্যাৎ করে দিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জন্ম নেওয়া শরীর জোড়া লাগা যমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মলগ্ন থেকেই বুক থেকে পেট পর্যন্ত সংযুক্ত থাকা দুই বোনের তিন মাসের দীর্ঘ বাঁচার লড়াই অবশেষে চিরতরে থেমে গেল। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে দুই শিশুকে একই কবরে দাফন করা হয়। এর আগে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। একসঙ্গে পৃথিবীর আলো দেখা এই দুই বোনের শেষ বিদায়ও হলো একসঙ্গে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার যমজ শিশুর শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি হলে তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকেই তাদের অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে এবং একপর্যায়ে শরীর নীল হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বুধবার তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সন্ধ্যায় মারা যায় দুই বোন। শিশু দুটির বাবা নাহিদ হাসান জানান, হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড পূর্বের সব চিকিৎসার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানায় যে, দুই শিশুর হৃদপিণ্ডে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ধমনী ছিল না। এর মধ্যে জয়নব কিছুটা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারলেও উম্মে কুলসুমের শ্বাস নিতে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছিল। শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় অস্ত্রোপচারের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। শোকাচ্ছন্ন বাবা নাহিদ হাসান আরও বলেন, তার সন্তানদের বিরল শারীরিক অবস্থার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা সরকারের উচ্চ মহলের নজরে আসে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। তিনি গণমাধ্যমকর্মী ও সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া মধ্যপাড়া গ্রামের নাহিদ হাসান (২৬) ও সানজিদা ইয়াছমিন মুক্তা (২২) দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে জন্ম নেয় জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই তাদের বুক থেকে পেট পর্যন্ত অংশ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অবুঝ দুই শিশুর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নওগাঁর পত্নীতলায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর
নওগাঁর পত্নীতলায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে শ্যামল ওরাও (৪০) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নজিপুর-ধামইরহাট আঞ্চলিক সড়কের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্যামল ওরাও উপজেলার আকবরপুর ইউনিয়নের রায়তারা গ্রামের বিরশা ওরাওয়ের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে আঞ্চলিক সড়কে উঠছিলেন শ্যামল। এ সময় সড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়ামুল হক জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ময়মনসিংহ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে পলিসি ক্যাম্পে জাককানইবির শিক্ষার্থী
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনা বিদ্যা বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অপর্ণা সরকার পলিসি ক্যাম্প ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ।প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে নির্বাচিত তরুণদের সঙ্গে তিনিও এই পাঁচ দিনব্যাপী আবাসিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তিনি Youth for Policy-এর ময়মনসিংহ কমিটির Public Relation Officer (PRO) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। Institute for Informed Development (IID)-এর আয়োজনে এবং Youth for Policy (YfP)-এর উদ্যোগে আয়োজিত Policy Camp 2026-এর মূল লক্ষ্য তরুণদের নেতৃত্ব, নাগরিক সম্পৃক্ততা ও নীতি-সম্পৃক্ততা বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। বর্তমানে অপর্ণা সরকার অপু Youth for Policy-সহ বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।দীর্ঘদিন ধরে তিনি যুব নেতৃত্ব, সামাজিক উন্নয়ন এবং নীতি-অ্যাডভোকেসির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের এবং মার্জিনালাইজড কমিউনিটি-যেমন হরিজন, দলিত, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর-শিক্ষার হার নিশ্চিত করা, শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান এবং তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষাকে সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে IID-এর নেতৃত্বে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে হরিজন, দলিতসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সরাসরি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্যের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধানের উপায় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করেছেন। Policy Camp 2026 হবে পাঁচ দিনব্যাপী একটি আবাসিক কর্মসূচি। এতে নীতি প্রক্রিয়া, নেতৃত্ব, নাগরিক অংশগ্রহণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় এবং বাস্তব সমস্যা বিশ্লেষণ বিষয়ে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাবেন অংশগ্রহণকারীরা। বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন, দলীয় কাজ, আলোচনা এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তারা নীতি বিষয়ে জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবেন। অংশগ্রহণকারীদের ১৫ আগস্ট ২০২৬ ক্যাম্পে চেক-ইন করতে হবে। মূল কার্যক্রম চলবে ১৬ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ২১ আগস্ট চেক-আউটের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে। পলিসি ক্যাম্প ২০২৬-এ নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে অপর্ণা সরকার অপু বলেন,“জননীতি সম্পর্কে গভীরভাবে শেখা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী তরুণদের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার এই সুযোগ আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান এবং আমি সুযোগটি পেয়ে গর্ববোধ করছি।আমি বিশ্বাস করি, নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।এই ক্যাম্প থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আমি তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে কাজে লাগাতে চাই।” আয়োজকদের মতে , Policy Camp 2026-এ অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব, যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রেও এ কর্মসূচি সহায়ক হবে। এদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহযোগিতা ও অনুমতি দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে Youth for Policy।
গরমে বাজারে ঊঠেছে শীতের শিম, পাঁচবিবিতে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে
শীতকালীন সবজি শিম এখন পাওয়া যাচ্ছে গ্রীষ্মের মৌসুমেও। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর বাজারে উঠেছে গ্রীষ্মকালীন শিম। অসময়ের এই সবজি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা কেজি দরে। মৌসুমের বাইরে শিম বাজারে পাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে আগ্রহ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পাঁচবিবি পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায়,অধিকাংশ সবজির দোকানেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে গ্রীষ্মকালীন শিম। খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা দরে শিম বিক্রি করছেন। আর পাইকারি বাজারে এই সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪০ টাকা কেজি দরে। বাজারে সবজি কিনতে আসা এক নারী বলেন, সবজি কিনতে এসে শিম চোখে পড়ল। অসময়ের শিম এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তাই ৪০ টাকা দিয়ে এক পোয়া শিম কিনেছি। আরেক ক্রেতা বলেন, দুই দিন আগে বাজারে এসে নতুন শিম উঠতে দেখি। সেদিন কিনে খেয়েছিলাম। খেতে বেশ সুস্বাদু লেগেছে। তাই আজ আবার এক পোয়া শিম কিনলাম। পাঁচবিবি বাজারের এক সবজি ব্যবসায়ী বলেন, আমরা পাইকারদের কাছ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে শিম কিনেছি। বর্তমানে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। অসময়ের সবজি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশ ভালো। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত শিম গ্রীষ্ম মৌসুমে বাজারে আসায় অনেক ক্রেতাই কৌতূহল নিয়ে কিনছেন। দাম তুলনামূলক বেশি হলেও স্বাদ নিতে অনেকেই অল্প পরিমাণে শিম কিনছেন।
‘ভোটের সঙ্গে উন্নয়ন নয়’—মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ
ভোটের পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করার অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নগর জামায়াতের উদ্যোগে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেস ক্লাব ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। এতে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। এটিএম আজম খান অভিযোগ করেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া গেছে যে রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ায় এ অঞ্চল কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবিধানিক অধিকারকে খাটো করে। তিনি বলেন, কোন দলকে ভোট দেওয়া হবে, সেটি জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নের সম্পর্ক তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সমাবেশে রংপুরের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে কর্মসংস্থান ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত না করে রংপুরের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বিক্ষোভ মিছিলে মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, অ্যাসাইনমেন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল গনি, কোতোয়ালি থানা আমির মাওলানা গোলাম কিবরিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীপুরে স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে ব্লেড, অভিভাবকদের ক্ষোভ
মাগুরার শ্রীপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বনরুটির ভেতরে ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গত ০৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার স্কুল ফিডিংয়ের দেওয়া বনরুটি বাড়িতে নিয়ে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম অর্চি তার ছোট বোনের সাথে ভাগ করে খাওয়ার সময় রুটির মাঝ বরাবর একটি আস্ত ধারালো ব্লেড দেখতে পায়। শুক্র ও শনিবার স্কুল বন্ধ থাকায় রোববার বনরুটিসহ বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকদের কাছে মৌখিক অভিযোগ জানান ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বিলকিস আক্তার লিজা বলেন, "বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে দেওয়া বনরুটিটি মেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। রাতে প্যাকেট খুলে দুই বোন রুটিটি মাঝখান থেকে ছিঁড়তে গিয়েই দেখি ভেতরে একটি আস্ত ব্লেড। পরে দাদাকে জানিয়ে রোববার স্কুলে এনে হেড ম্যাডামকে দেখাই। শিশুদের খাবারে এমন মরণঘাতী ব্লেড পাওয়ার পর আমরা খুবই শংকিত। আমরা চাই শিশুরা স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার পাক।" স্কুলের সহকারী শিক্ষক প্রবীর চক্রবর্তী জানান, "৯ আগস্ট এক অভিভাবক রুটিটি এনে দেখান। রুটির মাঝ বরাবর একটি আস্ত ব্লেড ছিল। পরে প্রধান শিক্ষিকাকে জানানো হয়। এমন ঘটনা খুবই দুঃখজনক।" হরিন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা শিরিন বলেন, "ঘটনার দিন আমি ছুটিতে ছিলাম। পরে এসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সাথে কথা বলি। তাদের অভিযোগ ও রুটির ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। শিশুদের খাবারে এ ধরনের ব্লেড পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।" এ বিষয়ে স্কুল ফিডিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, "এ ধরনের কোনো ঘটনা আমাদের কেউ জানায়নি। বিষয়টি আমার জানা নেই।" খামারপাড়া ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মোমিনুর রহমান বলেন, "ঘটনাটি যদি স্কুলের বাইরে হয়ে থাকে তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারতাম। তবে অভিযোগের প্রমাণ থাকলে আমরা রিপোর্ট লিখব।" এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, "এমন ঘটনা আমার জানা নেই। প্রমাণসহ কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ খাবারের পরিবর্তে বনরুটিতে ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।