বাংলাদেশ বার্তা টুডে
বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিচ্ছেন জিওন
বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নিজস্ব অর্থায়নে অত্যাধুনিক হাইব্রিড সোলার ইনভার্টার ও আইপিএস ব্যবস্থা করে দিয়েছেন গঙ্গাচড়ার কৃতী সন্তান ও স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কে এম রেজওয়ানুল বারী জিওন। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির রোগী, স্বজন ও চিকিৎসক-কর্মচারীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি চিকিৎসাসেবা, রোগীদের পরিচর্যা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিচালনায় ভোগান্তি বাড়ত। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জিওন হাসপাতালের জন্য আধুনিক হাইব্রিড সোলার ইনভার্টার ও আইপিএসের ব্যবস্থা করেন। এ উদ্যোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা জিওনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। অনেকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলছেন, ‘গঙ্গাচড়াবাসী আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’ জিওন বলেন, ‘গঙ্গাচড়ার মানুষের জন্য কিছু করতে পারা আমার দায়িত্ব ও সৌভাগ্যের বিষয়। হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রোগীদের কষ্ট হবে—এটি মেনে নেওয়া কঠিন। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাসপাতালের জন্য হাইব্রিড সোলার ইনভার্টার ও আইপিএসের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতেও অবহেলিত জনপদের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।’ তিনি বলেন, হাইব্রিড সোলার ইনভার্টার ও আইপিএস ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এগুলো স্থাপন ও চালু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এলাকাবাসী বলেন, ‘হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা করা অত্যন্ত মানবিক উদ্যোগ। জিওনের এই উদ্যোগে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। অবহেলিত জনপদের কল্যাণে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা গঙ্গাচড়াকে এগিয়ে নেবে।’ স্থানীয়রা জিওনের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। পাশাপাশি তাঁর ব্যবসা ও ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর রিজিকে বরকত দান করুন।’ গঙ্গাচড়াবাসীর প্রত্যাশা, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসবেন।
জুয়ার আসর থেকে ২ ইউপি সদস্যসহ আটক ৫
নেত্রকোনার বারহাট্টা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে জুয়া খেলার আসর থেকে দুইজন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাস ও জুয়া খেলার সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে (১৩ আগস্ট) বুধবার মধ্য রাতে উপজেলার আসমা ইউনিয়নের হরিয়াতলা গ্রামের মেম্বার মার্কেট এলাকায় এ অভিযান চালায় বারহাট্টা থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার আসমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও হরিয়াতলা গ্রামের মৃত নবী নেওয়াজের ছেলে মো. লিটন মিয়া (৫০) এবং একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ছয়গাঁও গ্রামের মো. সামছুদ্দিনের ছেলে মো. এমদাদুল হক হীরা (৪০)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— উপজেলার আসমা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. লিটন মিয়া (৫০), ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. এমদাদুল হক হীরা (৪০), ছয়গাঁও গ্রামের মো. একদিল মিয়া (৩৮), হরিয়াতলা গ্রামের মুদিদোকানের মালিক মো. সাব্বির আহমেদ (৩২) এবং একই গ্রামের হিরেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বশর্মা (৩৭)। পুলিশ জানায়, উপজেলার হরিয়াতলা গ্রামের পাকা রাস্তা সংলগ্ন মেম্বার মার্কেটে মো. সাব্বির আহমেদের মুদির দোকানের ভেতর জুয়ার আসর বসেছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাকালে জুয়া খেলার সামগ্রীসহ হাতেনাতে ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সদ্য প্রণীত ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬’ এর আওতায় নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইনের অধীনে বারহাট্টা থানায় এটিই প্রথম মামলা। জনপ্রতিনিধি হয়েও ইউপি সদস্যদের এমন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর খবরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বারহাট্টায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলাধীন সাহতা ইউনিয়নের ধনাইখালি নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলা সদরের পিউরি গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে। উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ধনাইখালি নদীর সাহতা সেতু এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটিতে নেতৃত্ব দেন বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা আক্তার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের বিনা অনুমতিতে সাহতা ইউনিয়নের ধনাইখালি নদীর সাহতা সেতু এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল। এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা আক্তার অবৈধ বালু উত্তোলনকারী রফিকুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সাহতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে অভিযানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন। এদিকে, প্রশাসনের এই অভিযানের পর স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এলেও তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এলাকার অনেকের অভিযোগ, ধনাইখালি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সাথে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরাসরি জড়িত রয়েছেন। বাজিতপুর থেকে আসা রফিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ধরা পড়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও, নেপথ্যের ওই স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্পূর্ণভাবে পর্দার আড়ালেই রয়ে গেছেন। স্থানীয়দের দাবি, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কেবল শ্রমিক বা বাইরের লোকদের জরিমানা করলেই হবে না, বরং নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
হরিপুরে র্যাবের অভিযান: ২১৩ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার ১
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২১৩ বোতল ফেনসিডিলজাতীয় মাদক জব্দ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় মাদক মজুদের অভিযোগে মো. দুলবাহার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুলবাহার হরিপুর উপজেলার জীবনপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। র্যাব-১৩ জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-১, র্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হরিপুর থানার জীবনপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে দুলবাহারের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শয়নকক্ষ থেকে কোডেইনসমৃদ্ধ ফেনসিডিলজাতীয় ১৯৩ বোতল ফেনসিবিল ও ২০ বোতল এসকাফ জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা হয় ২১৩ বোতল মাদক। র্যাবের দাবি, অবৈধ মাদকদ্রব্য নিজ বাড়িতে মজুদ রাখার অভিযোগে বাড়ির মালিক দুলবাহারকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দ করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
হরিপুরে র্যাবের অভিযান: ২১৩ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার ১
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২১৩ বোতল ফেনসিডিলজাতীয় মাদক জব্দ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় মাদক মজুদের অভিযোগে মো. দুলবাহার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুলবাহার হরিপুর উপজেলার জীবনপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। র্যাব-১৩ জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-১, র্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হরিপুর থানার জীবনপুর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে দুলবাহারের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শয়নকক্ষ থেকে কোডেইনসমৃদ্ধ ফেনসিডিলজাতীয় ১৯৩ বোতল ফেনসিবিল ও ২০ বোতল এসকাফ জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে জব্দ করা হয় ২১৩ বোতল মাদক। র্যাবের দাবি, অবৈধ মাদকদ্রব্য নিজ বাড়িতে মজুদ রাখার অভিযোগে বাড়ির মালিক দুলবাহারকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জব্দ করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
নোবিপ্রবিতে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১০ম ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. শিবলুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইএসডিএম বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়ন্ত কুমার বসাক। এ সময় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রতিমা সরকার, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সোহেল খান, সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা সনেট, সহকারী অধ্যাপক নিগার সুলতানা ও সহকারী অধ্যাপক সজীব আহমেদসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, শিক্ষাজীবন শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আজীবন থাকবে। পেশাগত জীবনে তারা যেখানেই থাকুক, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি নিজেদের কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করবে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী একটি বিষয়। উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে নোয়াখালীর মানুষকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা পেশাগত জীবনের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণেও কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য বিদায়ী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পরে বিদায়ী ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের সংবর্ধনা জানানো হয়।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিস্ফোরক তথ্য: বাংলাদেশে গোপন জাল বিস্তারের চক্রান্তে আল কায়দা
ঢাকা: দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে বাংলাদেশে গোপন নেটওয়ার্ক বা ‘স্লিপার সেল’ গড়ে তোলার পাঁচতারা করছে ভারতীয় উপমহাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘ভারত উপমহাদেশীয় আল-কায়দা’ (একিউআইএস)। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক জঙ্গি তৎপরতার মধ্যে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে উগ্রবাদীদের এই নতুন কৌশলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধীনে গঠিত ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরি নিরাপত্তা টিম’-এর ৩৮তম বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে ২০০৫ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৬ সালের জুনের শুরুর দিক পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে। প্রতিবেদনে যে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশে স্লিপার সেল তৈরির চেষ্টা: একিউআইএস বৃহৎ আকারে সংগঠিত না হয়ে ছোট ছোট গোপন ইউনিট বা ‘স্লিপার সেল’ আকারে ছড়িয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছে। তারা বাংলাদেশকে নিজেদের লজিস্টিক ও অর্থায়নের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। দিল্লি হামলা ও আঞ্চলিক বিস্তার: প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের দিল্লিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ আইইডি হামলার পেছনে একিউআইএস-এর সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে নেটওয়ার্ক বাড়ানোই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও চরমপন্থা: শুধু ঐতিহ্যবাহী বিস্ফোরকই নয়, বিশ্বজুড়ে আইএস ও আল-কায়দা চরমপন্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং জৈব ও রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ (যেমন- রাইসিন ও সায়ানাইড) তৈরির নির্দেশিকা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা নতুন মাত্রার হুমকি তৈরি করছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এই মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা বিশেষ সতর্কতার তাগিদ দিয়েছেন। "জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ দলগুলো অত্যন্ত দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত। কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ এসব তথ্য প্রকাশ করে না। তাই এ প্রতিবেদনকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।" মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনের সাবেক রাষ্ট্রদূত। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক জানিয়েছেন— "বাংলাদেশে চরমপন্থী মতাদর্শের অনুসারীরা সরাসরি প্রকাশে না এসে নীরবে কাজ করতে পছন্দ করে। তারা সুযোগের অপেক্ষায় 'স্লিপার সেল' হিসেবে থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত প্রতিনিয়ত এদের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা, যেন কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ তারা না নিতে পারে।" আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট- আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন অস্থিরতা এবং সাহেল অঞ্চলের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের উপস্থিতি জানান দিতে চাইছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আল-কায়দার ১৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে তারা মরিয়া। তাই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
নওগাঁয় মধ্যরাতে ডিবি পুলিশের অভিযানে এক অনলাইন জুয়াড়ি গ্রেফতার, নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ
নওগাঁয় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে রাহুল হোসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি দল নওগাঁ পৌর এলাকার গোস্তহাটি মোড়ের কাঁচাবাজারে অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জুবায়েরের ফলের দোকানের সামনে অবৈধ মানি ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার পরিচয় রাহুল হোসেন, পিতা আব্দুর রাজ্জাক, সাং-আরজি নওগাঁ মধ্যপাড়া, থানা ও জেলা-নওগাঁ বলে জানা যায়। ডিবি পুলিশ আরও জানায়, আটক ব্যক্তির মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম ‘basa8.com’ ও ‘bgd33’-এর তথ্য পাওয়া গেছে। গত চার মাসে ওই দুটি প্ল্যাটফর্মে মোট ৫ লাখ ১৯ হাজার ৬৮০ টাকা লেনদেনের তথ্যও পাওয়া যায়। অভিযানকালে রাহুলের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার নগদ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে উপস্থিত লোকজনের সামনে তার মোবাইল ফোন ও টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোনারগাঁও ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একজনের মৃ/ত্যু
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে টিপু সুলতান (৪০) নামে এক দৌড়বিদের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৬টায় সোনারগাঁ রানার্সের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সোনারগাঁ ৭.৫ কে রান ২০২৬’-এ এ ঘটনা ঘটে। পানামনগরের আমিনপুর মাঠ থেকে ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটারের দৌড় শুরু হওয়ার পর প্রায় অর্ধেক পথ অতিক্রম করলে বালুয়া দিঘিরপাড় এলাকায় টিপু সুলতান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। আয়োজকদের মেডিকেল টিম দ্রুত তাকে সোনারগাঁ সেবা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মদনপুরের আল বারাকা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত টিপু সুলতান মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ব্যবসায়ী আশরাফ প্রধানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। সোনারগাঁ ৭.৫ কে রান ২০২৬-এর প্রধান আয়োজক শিমুল ভূইয়া জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৬০০ দৌড়বিদ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। টিপু সুলতানও তাদের একজন ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুতে আয়োজকরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এদিকে, প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ আয়োজক কমিটিও টিপু সুলতানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
সোনারগাঁওয়ে নিজ অর্থায়নে সড়ক সংস্কার করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী গোলজার প্রধান
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে রাস্তার ভোগান্তি দূর করলো সমাজ সেবক চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী গোলজার প্রধান। তিনি উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি এ ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে সমাজ সেবা করে আসছেন। জামপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দীর্ঘ ৭ বছর ধরে এ রাস্তার ভোগান্তি দূর করতে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৭০০ মিটার রাস্তার কাজ করে দিয়েছেন। কালারটেক থেকে বাসাবো তিলাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এ রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশে পানি ও কাদার কারণে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে এলাকার মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি তারা হাজী গোলজার প্রধানকে অবহিত করলে তিনি রাস্তাটি সরেজমিনে দেখে মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন। পরে জন সাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে হাজী গোলজার প্রধান নিজস্ব অর্থায়নে কালারটেক থেকে বাসাবো তিলাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার রাস্তার কাজ শুরু করেন। বর্তমানে রাস্তার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে স্বস্তি পেয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি নিয়ে আমাদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। বর্ষাকালে কাদা ও পানি জমে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ত। হাজী গোলজার প্রধান রাস্তাটি সরেজমিনে দেখে আমাদের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে কাজটি করে দিয়েছেন। এতে আমাদের চলাচলের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে। তারা আরও বলেন, এই রাস্তা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। রাস্তার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বিশেষ করে তিলাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচলেও সুবিধা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাস্তাটির উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী গোলজার প্রধান বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে আমি রাস্তাটি সরেজমিনে দেখে বিষয়টি বিবেচনা করি। মানুষের চলাচলের কষ্টের কথা চিন্তা করে কালারটেক থেকে বাসাবো তিলাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার রাস্তার কাজ নিজস্ব অর্থায়নে করে দিয়েছি। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের যেকোনো প্রয়োজন ও দুর্ভোগে পাশে থাকার চেষ্টা করব।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষ/নের প্রতিবাদে মানববন্দন
১১ আগস্ট রাত ৩ ঘটিকায় ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে এক ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে ১৩ আগষ্ট হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঝালকাঠির সচেতন নাগরিকদের এক মানব বন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গ্রিন ফোর্স ঝালকাঠি জেলা কমিটির সভাপতি ও ঝালকাঠি মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক এপিপি অ্যাডভোকেট সাকিনা আলম লিজা, কবিতাচক্র ঝালকাঠির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি কবি মু আল আমীন বাকলাই, গ্রীন ফোর্স জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, রোগী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি ও এডাব সভাপতি শাহ আলম খলিফা, মহিলা দলের নেত্রী ফারজানা ইয়াসমিন, গণফোরাম সভাপতি সাগর, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু হাসান খান, প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি শাকিল হাওলাদার রনি, বাংলাদেশ বন্ধুজন সভাপতি শাহারিয়ার সীমান্ত প্রমূখ। বক্তারা বৃদ্ধা নারীকে হাসপাতালের ভেতর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণকারী ধৃত আসামি নাসির মোল্লা ও বেল্লাল শিকদারের ফাঁসির দাবি করেন। হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব অবহেলা এবং নৈশ প্রহরীদের ডিউটি না করা- এজন্য দায়ী বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে শতাধিক নারী পুরুষ এই মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং আইনজীবীরা ধর্ষকদের পক্ষে কোন প্রকার আইনি সহায়তা না দেয়- সে জন্য দাবীও করা হয়। মানববন্ধন শেষে হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয় ও হাসপাতালে ভর্তি ভিকটিমের সঙ্গে দেখা করে আইনগত সহায়তা ও অন্যান্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মানববন্দনকারীরা। এছাড়াও জেলা প্রশাসক এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন ইতোমধ্যেই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আসামিদের ধরা হয়েছে। বৃদ্ধা মহিলা কে খাদ্য নিরাপত্তার আওতায় আনার আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক।
নওগাঁয় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী শ্বশুর নিহত, জামাই আহত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় শুকুর আলী (৫৮) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার জামাই সাদ্দাম হোসেন (৩৪) আহত হয়েছেন। তবে মোটরসাইকেলে থাকা ১০ বছরের নাতি অক্ষত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ছাতুনতলী-দেবীপুর মোড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শুকুর আলী পার্শ্ববর্তী নিয়ামতপুর উপজেলার পাইকরা গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় ছাতুনতলী এলাকায় আসার পর শুকুর আলী তার জামাই সাদ্দাম ও নাতিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে নিয়ামতপুরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে দেবীপুর মোড়ের কাছাকাছি পৌঁছালে মহাদেবপুর থেকে শিবপুরগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই শুকুর আলীর মৃত্যু হয়। আহত হন সাদ্দাম। দুর্ঘটনায় শিশুটি অক্ষত থাকে। খবর পেয়ে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করে এবং চালক মনতাজ আলী (৫০)কে আটক করে। আটক মনতাজ আলী পোরশা উপজেলার সারাইগাছী বারিন্দা গ্রামের ইয়াদ আলীর ছেলে। মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ট্রাকটি জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গঙ্গাচড়ায় কেক কেটে দৈনিক করতোয়ার বর্ষপূর্তি উদযাপন
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক করতোয়া পত্রিকার ৫০তম বর্ষপূর্তি ও ৫১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটা হয়েছে। বুধবার রাতে গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের উপজেলা প্রতিনিধি সাজু আহমেদ লালের সভাপতিত্বে এবং দৈনিক করতোয়ার গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রতিনিধি রুহুল ইসলাম রয়েলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলী আরিফ সরকার রিজু, নিউজ২৪-এর উপজেলা প্রতিনিধি সুজন আহম্মেদ, খোলা কাগজের নির্মল রায়, চ্যানেল এস-এর প্রতিনিধি শফিকুজ্জামান সোহেল, মুক্ত খবরের মাসুদুর রহমান শিমু, সকালের সময়ের মোস্তাকিন আলম নয়ন ও এদিনের প্রতিনিধি শাহাজালাল শ্রাবণ। সভাপতির বক্তব্যে সাজু আহমেদ লাল বলেন, “দৈনিক করতোয়া দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে পাঠকের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই দীর্ঘ পথচলা সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার।” প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলী আরিফ সরকার রিজু বলেন, “সংবাদপত্র সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার কথা বলে। দৈনিক করতোয়া দীর্ঘদিন ধরে সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছে।” নিউজ২৪-এর উপজেলা প্রতিনিধি সুজন আহম্মেদ বলেন, “দীর্ঘ ৫০ বছরের পথচলায় দৈনিক করতোয়া পাঠকের কাছে যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে, তা সংবাদপত্রের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন। আগামীতেও পত্রিকাটি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।” চ্যানেল এস-এর প্রতিনিধি শফিকুজ্জামান সোহেল বলেন, “গণমাধ্যমের প্রতিযোগিতামূলক সময়ে টিকে থেকে পাঁচ দশক পার করা সহজ নয়। পাঠকের আস্থা, পেশাদারিত্ব ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের কারণেই দৈনিক করতোয়া দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে পেরেছে।” অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও দৈনিক করতোয়ার গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রতিনিধি রুহুল ইসলাম রয়েল বলেন, “দৈনিক করতোয়ার ৫০ বছরের পথচলার অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। পত্রিকাটি সবসময় সত্য, ন্যায় ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পক্ষে কাজ করেছে। ৫১ বছরে পদার্পণের এই সময়ে গঙ্গাচড়াসহ দেশের মানুষের কথা আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তুলে ধরাই আমাদের অঙ্গীকার।” বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পাঠকের আস্থা ধরে রেখে দৈনিক করতোয়া দেশের সংবাদপত্র জগতে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য পত্রিকাটির দীর্ঘ পথচলা অনুসরণীয় বলেও মন্তব্য করেন তারা। পরে অতিথি ও সাংবাদিকরা একসঙ্গে কেক কেটে দৈনিক করতোয়ার ৫১ বছরে পদার্পণ উদযাপন করেন। এ সময় গঙ্গাচড়ায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: ৫ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে তলব
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রণীত নিয়োগ নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল, সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হকসহ পাঁচ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।আগামী বুধবার (১৯ আগস্ট) তাদের দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী থেকে গত ১১ আগস্ট জারি করা এক নোটিশে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে আগামী ১৯ আগস্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে ব্যর্থ হলে অভিযোগ-সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক। দুদকের নোটিশ অনুযায়ী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক প্রণীত নিয়োগ নীতিমালা অমান্য করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগটি অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকেও নিয়োগ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ জন্য তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালীতে উপস্থিত হয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দুদকের তলব করা অন্যরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরী, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. জামশেদুল ইসলাম, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্রাবন্তী দত্ত। নোটিশে দেওয়া সূচি অনুযায়ী, ১৯ আগস্ট সকাল ১০টায় মো. জামশেদুল ইসলাম, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে প্রাবন্তী দত্ত, বেলা ১১টায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজওয়ানুল হক, ১১টা ১৫ মিনিটে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল এবং ১১টা ৩০ মিনিটে মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরীকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে নোটিশে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। দুদকের অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নোবিপ্রবিতে শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে এর আগেও দুদকের অনুসন্ধান ও অভিযান হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের পর দুদক তথ্য সংগ্রহ করেছিল।
স্ক্রলের গভীরে: অ্যালগরিদমের যুগে সাহিত্যের প্রতিরোধ
দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা কত কিছু 'পড়ি'? সকালে ঘুম ভাঙার সঙ্গেই হাতে চলে আসে ফোন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার—একের পর এক পোস্ট স্ক্রল করি। নিউজ পোর্টালের হেডলাইন চোখ বুলাই, বন্ধুর স্ট্যাটাস দেখি, গ্রুপের শত শত মেসেজ পার করি। বিরক্তিতে বা আনন্দে তাৎক্ষণিক রিঅ্যাক্ট করি, মাঝে মাঝে কমেন্ট লিখি। দিনশেষে মাথা বালিশে রেখে যখন ভাবি, মনে হয়—এত কিছু দেখলাম, জানলাম, পড়লাম; কিন্তু মনটা যেন শূন্য। সকালে দেখা সেই পোস্টের বিষয়বস্তু, যে ভিডিওতে মুহূর্তের জন্য উত্তেজিত হয়েছিলাম, তার মূল বক্তব্য—কিছুই আর ঠিকঠাক মনে পড়ে না। তথ্যের এই প্লাবনে আমরা ভেসে যাই, কিন্তু কোনো কিছুই যেন আঙিনায় থিতু হয় না। এই দ্রুততা আর ক্ষণস্থায়ীতার মধ্যেই দাঁড়িয়ে প্রশ্ন জাগে—সাহিত্যের মতো একটি ধীর, নিস্তব্ধ ও গভীর মাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা কি আজও অক্ষুণ্ণ? আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন তথ্য ও যোগাযোগের গতি অভূতপূর্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথ্যের প্রসারকে যেমন গণতান্ত্রিক করেছে, তেমনি জ্ঞানার্জনের পথকে সহজ করেছে। এখন মফস্বলের কোনো তরুণও তার লেখা বিশ্বের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পায়; সাহিত্য চর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে—অনলাইন গল্পপত্রিকা, সাহিত্যভিত্তিক গ্রুপ, কবিতা পাঠের লাইভ সেশন। কিন্তু এই দ্রুততারই একটি অন্ধকার পাশ রয়েছে। সংক্ষিপ্ততা, স্পষ্টতা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার এই সংস্কৃতিতে দীর্ঘ সময় ধরে একটি লেখা বা ভাবনার সঙ্গে থাকার অভ্যাস ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। মনোযোগের এই সংকট আমাদের চিন্তার গভীরতাকেও সংকুচিত করছে। ঠিক এই খানেই সাহিত্য নিজের প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করে। সাহিত্য পাঠককে একটি গল্পের ভেতর ডুব দিতে বলে, একটি চরিত্রের সঙ্গে দিনের পর দিন কাটাতে বলে, কোনো সময়, সমাজ বা পরিবেশকে অনুভব করতে বলে। এটি ধৈর্যের পাঠ, গভীর মনোযোগের অনুশীলন। কোনো উপন্যাস যখন আমরা ধীরে ধীরে পড়ি, তখন আমরা শুধু ঘটনা আত্মস্থ করি না, তার পাশাপাশি প্রশ্নও করি—'কী ঘটল' নয়, 'কেন ঘটল', 'আমি যদি এই চরিত্রের জায়গায় হতাম, তাহলে কী করতাম'—এই আত্মজিজ্ঞাসাই সাহিত্যের প্রধান উপহার, যা সামাজিক মাধ্যমের দ্রুত ও খণ্ডিত তথ্যপ্রবাহে সহজে পাওয়া যায় না। সাহিত্য সমালোচনামূলক চিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন তৈরি করে, যা যেকোনো ভাইরাল তথ্যকে অন্ধভাবে গ্রহণ না করে যাচাই-বিশ্লেষণের মানসিকতা গড়ে তোলে। বিশেষ করে, সাহিত্য আমাদের একই ঘটনার একাধিক সত্যের সহাবস্থান দেখায়—উপন্যাসের নায়ক নিজের চোখে যেমন একটি সত্য দেখে, অন্য চরিত্র তার থেকে ভিন্ন সত্য দেখে; পাঠককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, ভাবতে হয়। এই অভিজ্ঞতা আমাদের কোনো একটি সত্যকে সহজে চূড়ান্ত বলে মেনে নেওয়ার বদলে তার ভেতরের ভিন্ন দিকগুলো দেখতে শেখায়। শুধু তাই নয়, সাহিত্য মানবিক বোধের উৎস। একটি উদাহরণ দিই: মহাশ্বেতা দেবীর 'হাজার চুরাশির মা' পাঠককে শুধু এক মায়ের সংগ্রামের গল্পই শোনায় না, সে তাকে নিয়ে যায় স্বাধীনতা-উত্তর বাংলার এক ভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক জগতে। পাঠকও শেষ পর্যন্ত যেন ওই মায়ের দুঃখ, ক্ষোভ ও ভালোবাসার কিছুটা নিজের ভেতর অনুভব করেন—এমনকি যদি তাঁর নিজের জীবন তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়। এই অভিজ্ঞতা ডিজিটাল বিশ্বের একটি শিরোনাম বা ভিডিও ক্লিপে সহজে সম্ভব নয়। সাহিত্য আমাদের কল্পনাকেও সক্রিয় করে। চলচ্চিত্র তার দৃশ্যের একটি নির্মিত রূপ আমাদের সামনে হাজির করে; সাহিত্য সেই দৃশ্যের অনেকখানি নির্মাণের দায়িত্ব পাঠকের কল্পনার হাতে তুলে দেয়। ভাষার দিক থেকেও সাহিত্য আমাদের সমৃদ্ধ করে—সামাজিক মাধ্যমের সংক্ষিপ্ত, তথ্যবহুল ভাষার বিপরীতে সাহিত্য ভাষার সূক্ষ্ম ব্যবহার শেখায়, যা একই অনুভূতিকে ভিন্ন মাত্রায় প্রকাশ করতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো—সাহিত্য আর সামাজিক মাধ্যম কি পরস্পরের শত্রু? নিশ্চয়ই না। সামাজিক মাধ্যম আজ সাহিত্যের বিজ্ঞাপনের স্থান, তরুণ লেখকদের আত্মপ্রকাশের মঞ্চ, নতুন বইয়ের খবর জানার দ্রুততম পথ। কিন্তু এই সহাবস্থানের মধ্যেই একটি সূক্ষ্ম বিপদ আছে। সাহিত্যচর্চার স্বাভাবিক ধীরতা ও নিবিড়তার সঙ্গে যখন তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তার চাপ যুক্ত হয়, তখন লেখকের মনোযোগ কখনো কখনো সৃষ্টির বদলে প্রতিক্রিয়া পাওয়ার দিকে সরে যেতে পারে। এখানে আরও একটি মৌলিক পার্থক্য আছে: অ্যালগরিদম সাধারণত আমাদের আগের পছন্দের ভিত্তিতে পরবর্তী পছন্দ অনুমান করে—আমরা যা পছন্দ করি, তার আরও কিছু আমাদের সামনে হাজির হয়। সাহিত্য তার বিপরীত কাজ করে। এটি আমাদের এমন মানুষ, এমন জীবন, এমন প্রশ্ন ও এমন মতের সামনে দাঁড় করায়, যা আমরা নিজেরা হয়তো খুঁজে নিতাম না। এই অস্বস্তিকর, অচেনা জগতের মুখোমুখি হওয়াই সাহিত্যকে অ্যালগরিদম থেকে আলাদা করে এবং তার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে। বোঝা জরুরি যে, তথ্য পাওয়া এবং জ্ঞান অর্জন এক নয়; মতামত প্রকাশ করা এবং চিন্তা করা এক জিনিস নয়। আমরা কয়েক সেকেন্ডে একটি খবর শেয়ার করতে পারি; কিন্তু তার প্রেক্ষাপট, মানুষের জীবনে তার অভিঘাত এবং ঘটনাটির মানবিক অর্থ বুঝতে আমাদের দ্রুত তথ্যপ্রবাহের বাইরে আরও গভীর পাঠের প্রয়োজন হয়—সাহিত্য সেই গভীরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। বাংলাভাষী সমাজের বাস্তবতায় এর প্রাসঙ্গিকতা গভীর। বাংলা ভাষার সাহিত্যঐতিহ্য আমাদের গৌরবের। বর্তমান প্রজন্মকে এককথায় ‘সাহিত্যবিমুখ’ বলে আখ্যা দেওয়া ঠিক হবে না; কারণ তারা ই-বুক, অডিওবুক, অনলাইন পত্রিকা ও সাহিত্যবিষয়ক পডকাস্টের মতো নতুন মাধ্যমেও সাহিত্যের সংস্পর্শে আসছে। কিন্তু 'পড়া' মানে কি কেবল চোখ বুলানো? নাকি তার মধ্যে থেমে ভাবার, প্রশ্ন করার সুযোগ আছে? পাঠের মাধ্যম বদলাচ্ছে—বইয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল পাঠচক্র, সাহিত্য পডকাস্ট, ডিজিটাল বই ও সাহিত্য প্ল্যাটফর্ম—এসব নতুন পথ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু মাধ্যম যাই হোক, মূল চ্যালেঞ্জ হলো পাঠকের মধ্যে থেমে ভাবার অভ্যাসটি ধরে রাখা। বইমেলায় মানুষের উপস্থিতি অন্তত এটুকু মনে করিয়ে দেয়—বইয়ের প্রতি আগ্রহ এখনও নিঃশেষ হয়নি; তবে এটি শুধু উৎসবের আনন্দে সীমাবদ্ধ না থেকে নিত্যজীবনের অভ্যাস হয়ে উঠতে হবে। স্কুল-কলেজের পাঠ্যবইয়ের বাইরে সাহিত্য যেন 'অতিরিক্ত বোঝা' না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। ভবিষ্যতের কথা ভাবলে দেখি, অ্যালগরিদম দিন দিন আমাদের মনোযোগকে আরও খণ্ডিত করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের আগ্রহ ও চাহিদা অনুমান করে আরও বেশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক কনটেন্ট পরিবেশন করতে পারে; ফলে আমরা চাইলে এমন এক তথ্যপরিসরে আটকে পড়তে পারি, যেখানে নতুন বা অস্বস্তিকর ভাবনার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ কমে যায়। ঠিক এই সময়ে সাহিত্য হয়ে উঠতে পারে এক ধরনের মানসিক প্রতিরোধ। কারণ যারা গভীরভাবে পড়তে জানে, তারা অ্যালগরিদমের তৈরি একই ধরনের তথ্যের বৃত্তে আটকে থাকে না; তারা প্রশ্ন করতে জানে, ভিন্ন মতকে গ্রহণ করতে জানে, নিজের চিন্তার স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধার করে। এই অর্থে সাহিত্য শুধু একটি শিল্পমাধ্যম নয়; এটি আমাদের মনোযোগের ওপর অন্যের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে নিজের ভেতরের স্বাধীন জায়গাটি রক্ষা করারও একটি উপায়। সাহিত্য তাই কোনো পলায়ন নয়, বরং ডিজিটাল নির্ভরতার মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন। সামাজিক মাধ্যম আমাদের যুক্ত করে ক্ষণিকের সঙ্গে; সাহিত্য যুক্ত করে নিরবধির সঙ্গে। আমরা যদি শুধু যা দ্রুত পাই, তাই গ্রহণ করতে থাকি, তবে হারিয়ে যাবে সেই গভীর মানবিক অভিজ্ঞতাগুলো—যা সময় নেয়, নিস্তব্ধতা চায়, আত্মনিবেদন দাবি করে। তাই প্রযুক্তির এই দাপুটে অগ্রযাত্রায় সাহিত্যের প্রয়োজন কমেনি; বরং মানুষের মনোযোগ যখন ছিন্নভিন্ন, মতামত যখন ভাসাভাসা, তখন সাহিত্যের আহ্বান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—থামো, ভাবো, গভীরে যাও। আর সেই গভীরেই লুকিয়ে আছে আমাদের নিজেদের সঙ্গে নিজের দেখা, যা কোনো স্ক্রল কখনো দেয় না। লেখক : জহিরুল ইসলাম, গণমাধ্যমকর্মী, চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার।