বাংলাদেশ বার্তা টুডে
মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত
মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত প্রতিবেদক মোঃ ফয়সাল খন্দকার- মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের নবগঠিত কার্যকরী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে প্রেসক্লাবের স্থায়ী কার্যালয়ে উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রেসক্লাবের সার্বিক কার্যক্রম, সাংগঠনিক কাঠামো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুল ইসলাম রানা, সিনিয়র সহ-সভাপতি সুমন সরদার, সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম সাগর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত হোসাইন ও শাহিন আলম, কোষাধ্যক্ষ গাজী এমদাদুল হক মানিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শামীম আহমেদ জয়, ক্রীড়া সম্পাদক শাহাদাত হোসেন এবং কার্যকরী সদস্য মাইনুদ্দীন চৌধুরী। সভায় বক্তারা বলেন, একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল প্রেসক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এ লক্ষ্যে মতলব উত্তর প্রেসক্লাবকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও সাংবাদিকবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় প্রেসক্লাবের স্থায়ী কার্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে প্রেসক্লাবের ভূমিকা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও সহযোগিতা বজায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন অনিয়ম, সমস্যা, জনদুর্ভোগ ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে গণমাধ্যমে আরও বেশি প্রচারের বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন বক্তারা। সভায় প্রেসক্লাবের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কার্যকরী কমিটির সকল সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রেসক্লাবের উন্নয়ন ও সাংবাদিকদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সভা শেষে প্রেসক্লাবের সার্বিক উন্নয়ন, সদস্যদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং মতলব উত্তরবাসীর কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শাহ এমদাদীয়ার উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শাহ এমদাদীয়ার উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি মিলন বৈদ্য শুভ,চট্টগ্রাম (প্রতিনিধি): চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ‘গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা’-এর বোয়ালখালী অডিশন, ফ্রি বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প এবং রক্তদাতা পুনর্মিলনী, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধা বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং বার্ষিক ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওলাদে রাসুল, সাজ্জাদানশীনে দরবারে গাউছুল আজম আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ সুফি সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)-এর গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ্ এমদাদীয়া) বোয়ালখালী উপজেলাধীন চরণদ্বীপ দায়রা শাখা ও আলহাজ্ব সৈয়দুল হক খান ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে ১৬ আগস্ট রবিবার বোয়ালখালী উপজেলাধীন চরণদ্বীপ দায়রা শাখা প্রাঙ্গণে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফ গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের নায়েব সাজ্জাদানশীন ও মোন্তাজেম এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিরি)-এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহ সুফি আলহাজ্ব সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী (ম.)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলৈন আলহাজ্ব সৈয়দুল হক খান ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও খান এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সৈয়দুল হক খান, শাহজাদা সৈয়দ এরহাম হোসাইন, শাহজাদা সৈয়দ মানাওয়ার হোসাইন। নির্ধারিত অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে কর্মসূচির সূচনা হয়। শুরুতে গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হিফজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা’-এর বোয়ালখালী অডিশন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ৯টায় লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং সন্দ্বীপ এবং লিও ক্লাব অব চিটাগং সন্দ্বীপ (জেলা ৩১৫ বি৪, বাংলাদেশ)-এর সার্বিক সহযোগিতায় একটি ‘ফ্রি বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প’ পরিচালনা করা হয়। এই ক্যাম্পে আগত তিন শতাধিক রোগীদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে কনসালটেশন, বিনামূল্যে চশমা বিতরণ এবং প্রয়োজনে অপারেশন সাপোর্ট প্রদান করা হয়। সকাল ১০টায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম ও মাইজভাণ্ডারী শাহ্ এমদাদীয়া ব্লাড ডোনার্স গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্প এবং রক্তদাতা পুনর্মিলনী। এতে এলাকার বহু তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে দুপুর ২টায় মাইজভাণ্ডারী ফাউন্ডেশন ও দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মেধা বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাদে মাগরিব বার্ষিক মিলাদুন্নবী (স.) মাহফিল অনুষ্ঠিত হয় যেখানে বিভিন্ন আলেম ও ওলামায়ে কেরমানগণ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। এসব কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে অংশ নেন লায়ন মোহাম্মদ আশরাফ উল্লাহ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম এর ইনচার্জ ডা. মিসবাহ উদ্দীন, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন, আঞ্জুমানে মোত্তাবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারী (শাহ্ এমদাদীয়া) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শেখ শাকিল মাহমুদ, দারুত-তায়ালীম সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন, দপ্তর ও পাঠাগার সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল করিম, চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ সোহেল চৌধুরী, রাঙ্গামাটি জেলার মুহাম্মদ পারভেজ উদ্দীন, বোয়ালখালী উপজেলার আবদুস সালাম, মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন, আহমদুর রহমান আইয়ুব, হাফেজ হারুনুর রশিদ, আবদুল কাদের জাবেদ, আবদুল মাবুদ সুজন, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, মোস্তফা আহমদ ইফতি প্রমুখ।
রাউজানে সমাজ সংস্কার ও মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
রাউজানে সমাজ সংস্কার ও মাদক বিরোধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত মিলন বৈদ্য শুভ,রাউজান, (চট্টগ্রাম): উপজেলার ৩নং চিকদাইর ইউনিয়নের উত্তর পাঠানপাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে সমাজ সংস্কার এবং মাদকের বিরুদ্ধে মতবিনিময় সভা ও মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ আগস্ট সোমবার বিকেলে উত্তর পাঠানপাড়া মোহাম্মদ হাশেম জামে মসজিদ সংলগ্ন ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম। চিকদাইর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ আজগর এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ বাছা মিয়া, রাউজান থানার সেকেন্ড অফিসার মোঃ তানভীর হোসেন, উত্তর জেলা যুবদলের সহ সভাপতি সাবের সুলতান কাজল, চিকদাইর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মোঃ ওমর ফারুক, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রাসেল খান, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুমন, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহ সম্পাদক মোঃ শাহ নেওয়াজ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ শয়ন। সংগঠক মোঃ বাহাদুরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান, সাবেক সর্দার মোঃ কামাল, সর্দার মোঃ আব্বাস, মোঃ সেকান্দর সওদাগর, মোঃ বেলাল, যুবদল নেতা মাসুদ রানা, সমাজ প্রতিনিধি মোঃ রিদোয়ান, দিলোয়ারা বেগম। এছাড়া এসময় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ
কালীগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে উপজেলা কোলা ইউনিয়নের বড় বায়সা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যায়নরতচতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক শাহ আলম বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক উক্ত প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক। মঙ্গলবার( ১৮ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানতে পেরে উক্ত শিক্ষককে ৪ ঘন্টা স্কুলে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছিয়েএলাকাবাসীকে শান্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনি হেফাজতে নেন। নিপীড়িতা ছাত্রীর ভাষ্যমতে লম্পট শিক্ষক শাহ আলম প্রায়ই তার বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং এ ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখায়। ঘটনার দিন শিক্ষক তাকে বাথরুমে দেখা করতে বলে। কিন্তু মেয়েটি ভয় পেয়ে যায়। বাথরুমে না যেয়ে বাড়ি চলে আসে এবং অভিভাবকদেরকে জানিয়ে দেয়। নির্যাতিতা মেয়েটির ভাষ্যমতে শিক্ষক শাহ আলম একই ধরনের কাজ তার সহপাঠীদের সাথেও করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে আমি। কালীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজওয়ানা নাহিদের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন যে আমি থানার অফিসার্স ইনচার্জের নিকট থেকে জানতে পারি যে বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগে জনতা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তারপর আমি সেখানে যাই এবং উক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। ঘটনার তদন্তের মাধ্যম দিয়ে শিক্ষক দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছাত্রীর লেখা চিরকুট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন,লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগতভাবে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
গবেষণা থেকে প্রকাশনা: জাবিতে একাডেমিক পাবলিশিং নিয়ে হায়ার স্টাডি ক্লাবের বিশেষ সেমিনার
গবেষণা থেকে প্রকাশনা: জাবিতে একাডেমিক পাবলিশিং নিয়ে হায়ার স্টাডি ক্লাবের বিশেষ সেমিনার জাবি প্রতিনিধি গবেষণার ধারণা থেকে একটি মানসম্মত গবেষণাপত্র তৈরি, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থাপন এবং জার্নালে প্রকাশের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে হায়ার স্টাডি ক্লাবের (JUHSC) উদ্যোগে ডিকোডিং একাডেমিক পাবলিশিং: রিসার্চ, কনফারেন্সেস অ্যান্ড জার্নালস’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। সেশনে আলোচক হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আওলি উর রহমান। তিনি নিজের গবেষণা ও প্রকাশনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গবেষণার বিষয় নির্বাচন, গবেষণাপত্র প্রস্তুত, সম্মেলনে উপস্থাপন, জার্নাল নির্বাচন ও প্রকাশনা প্রক্রিয়া সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আওলি উর রহমানের ২৮টি আন্তর্জাতিক স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নাল প্রকাশনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি গবেষণাপত্রে তিনি প্রথম লেখক এবং ১৫টিতে সহলেখক। এ ছাড়া তাঁর আটটি IEEE সম্মেলনভিত্তিক প্রকাশনা রয়েছে, যার দুটিতে তিনি প্রথম লেখক এবং ছয়টিতে সহলেখক। সেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তা গবেষণা শুরু করার ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফল কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের জার্নাল ও সম্মেলনে উপস্থাপন করা যায়, সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো এবং উপদেষ্টা হিসেবে বরণ করে নেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং একাডেমিক পাবলিশিংয়ের বাস্তব প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
আড়াই বছর পর কাজ শুরু: চুনারুঘাটে বৃষ্টির পানিতেই চলছে সড়কের কার্পেটিং, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
আড়াই বছর পর কাজ শুরু: চুনারুঘাটে বৃষ্টির পানিতেই চলছে সড়কের কার্পেটিং, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: দীর্ঘ আড়াই বছর চরম ভোগান্তির পর অবশেষে শুরু হয়েছে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট-দেউন্দি-শায়েস্তাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার কাজ। তবে কাজ শুরু হলেও চরম অনিয়ম আর গুণগত মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের কাজ রাতে করা এবং বৃষ্টির জমে থাকা পানির মধ্যেই কার্পেটিং করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দে ভরা ও চলাচলের অনুপযোগী ছিল। দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভাঙা রাস্তা দিয়ে চরম কষ্ট ও ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেছেন। সম্প্রতি সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হলে স্থানীয়দের মনে স্বস্তি ফেরার কথা ছিল, কিন্তু কাজের পদ্ধতি দেখে তারা চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের আলোয় কাজ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাতের আঁধারে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিংয়ের কাজ করছে। সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে, বৃষ্টির কারণে সড়কে জমে থাকা পানির ওপরেই কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই পিচ ও পাথর ঢেলে কার্পেটিং করা হচ্ছে।স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘ আড়াইটা বছর আমরা এই রাস্তার জন্য নরক যন্ত্রণা ভোগ করেছি। এখন ভাঙা রাস্তা ঠিক করা হচ্ছে ভালো কথা, কিন্তু বৃষ্টির পানির মধ্যে যেভাবে কাজ চলছে, তাতে এই রাস্তা দুই দিনও টিকবে না। দুই দিন পরে যদি আবার রাস্তা ভেঙে যায়, তবে আমাদের এই কষ্টের কোনো শেষ থাকবে না। সরকারি টাকার এভাবে অপচয় আমরা মেনে নেব না। "সচেতন মহলের দাবি, ভেজা রাস্তা ও জমে থাকা পানির ওপর কার্পেটিং করলে পিচের বাঁধন (বন্ডিং) শক্ত হয় না। ফলে সামান্য লোড নিলেই বা অল্প দিনের মধ্যেই কার্পেটিং উঠে গিয়ে রাস্তা আগের চেয়েও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। রাতের অন্ধকারে কাজ করার মূল উদ্দেশ্যই হলো অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা, যাতে সাধারণ মানুষ তা সহজে ধরতে না পারে। এই বিষয়ে স্থানীয় জনগণ ও পথচারীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে এই নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে দিনের আলোয় সিডিউল অনুযায়ী সঠিক গুণগত মান বজায় রেখে সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠান বলছে সঠিক নিয়ম মেনে তারা কাজ করছে নিয়মের বাহিরে কোন কিছু করা হচ্ছে না
কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীল বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় গৃহকর্ত্রী খুন, বাবা-মেয়ে গুরুতর আহত
কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীল বাড়ীতে ডাকাতির ঘটনায় গৃহকর্ত্রী খুন, বাবা-মেয়ে গুরুতর আহত আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ীর বাড়ীতে দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দল গৃহকর্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে গৃহকর্তা ও তার মেয়েকে গুরুতর জখম করেছে। নিহতের নাম মোসা. কামরুন নাহার আক্তার (৩৫)। আহত তার স্বামী মঞ্জুরুল হক (৪০) ও মেয়ে সানজিদা আক্তার (১৬)। ঘটনাটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে কালীগঞ্জের নাগরী ইউনিয়নের নগরভেলা তেঁতুইবাড়ি গ্রামে ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে নগরভেলা গায়েনবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলামের টিনশেড বাড়ির গ্রিলের গেটের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে ১০-১২ জনের একদল ডাকাত। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। বাড়িতে ঢুকেই তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁদের কোপাতে শুরু করে। এ সময় ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। ততক্ষণে মঞ্জুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. কামরুন নাহার আক্তার মারা যান। আহত ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার মেয়ে সানজিদা আক্তার মিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ফাইজুর রহমান বলেন, ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে গৃহকর্ত্রী মোসা. কামরুন নাহার ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহত দুইজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই পরিবার একটি এনজিও থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিতে এসে ডাকাত দলের সদস্যরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বাড়ির ভেতরের আসবাবপত্র সব গোছানো অবস্থায় রয়েছে। বাড়ির সদস্যরা হাসপাতালে থাকায় কোনো মালামাল বা টাকা লুট হয়েছে কি না তা এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, হামলার ধরন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ডাকাত বেশে এসে এই হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্রাইমসিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তাঁরা ভেতরে প্রবেশের পর বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
সোনারগাঁও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে বড় ভাই: প্রধান শিক্ষক ৪ বছর ধরে লন্ডনে
সোনারগাঁও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে বড় ভাই।প্রধান শিক্ষক ৪ বছর ধরে লন্ডনে সোনারগাঁও সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাজী মতিউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসবির আহমেদ প্রায় চার বছর ধরে লন্ডনে অবস্থান করছেন— দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কীভাবে ছুটিতে রয়েছেন এবং একজন প্রধান শিক্ষক টানা প্রায় চার বছর কীভাবে ছুটি কাটাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর আপন ভাই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পারভেজ আহমেদ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী সানজিয়া বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে নাগরিক টিভির সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে অর্থ দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘদিনের ছুটির বিষয়টি কীভাবে অনুমোদিত হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম কার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীপুরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট, নিরাপত্তাহীনতায় বৃদ্ধ বাবা-মা
শ্রীপুরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট, নিরাপত্তাহীনতায় বৃদ্ধ বাবা-মা আব্দুর রশিদ মোল্লা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুরে সামাজিক দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষের সুযোগে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবাসীর বৃদ্ধ বাবা-মা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ১৭ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের চন্ডিখালী গ্রামের আফ্রিকান প্রবাসী মোঃ রবিউল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুক্তভোগী প্রবাসীর দুলাভাই সাবেক সেনাসদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, "প্রবাসীর ফাঁকা বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা ও তার স্ত্রী থাকেন। তারা কেউই সামাজিক বা রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না। স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুটপাটের জন্য স্থানীয় একটি গ্রুপ এই হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।" ভুক্তভোগী রবিউল ইসলামের বৃদ্ধ পিতা মীর কাশেম মল্লিক জানান, "সন্ধ্যার পর কিছু ছেলে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরের দামি জিনিসপত্র, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। বাড়িতে শুধু আমি ও আমার স্ত্রী থাকি। আমরা দুজনেই বৃদ্ধ, এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।" স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুলাই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জুলাই আমিরুল মোল্যা নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় উভয় গ্রুপের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আলম বিশ্বাস (৫৫), সিরাজ মোল্লা (৪০), আমিরুল বিশ্বাস (৫০) ও রাশেদ শেখ (৩৫) সহ ৫জন আহত হন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ১০-১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনাকে নেক্কারজনক আখ্যা দিয়ে শ্রীপুর থানার ওসি মোঃ ওলি মিয়া বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
যশোরের শার্শায় বুরুজ বাগান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সভাপতির পদত্যাগের দাবীত মানববন্দন
যশোরের শার্শায় বুরুজ বাগান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সভাপতির পদত্যাগের দাবীত মানববন্দন স্টাফ রিপোর্টার, যশোর- অনিময়তান্ত্রিকভাবে যশোরের শার্শায় বুরুজ বাগান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করার প্রতিবাদে নাভারনে মানববন্ধন করেছে, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১ টার দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারন বাজারে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। বিশিষ্ঠ শিক্ষা অনুরাগী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ৷ শার্শা বুরুজ বাগান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির সভাপতি তানজির খান কনির পদত্যাগের দাবি করে বক্তব্য রাখেন , অভিভাবক ও সুধী সমাজ । প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বুরুজ বাগান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের, পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে তানজির খান কনির , সভাপতি করে এডহক কমিটি অনুমোদন দেয় যশোর শিক্ষাবোর্ড। মানববন্দনে বক্তারা অভিযোগ করেন, কুরুজবাগান পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সদ্য ঘোষিত অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে তানভীর ইসলাম খান টনির নিয়োগ নিয়ে এলাকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে তার সভাপতি পদ বাতিল করে গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য ব্যক্তিকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করার দাবি জানান।
জলবায়ু পরিবর্তন: বাস্তুচ্যুতি, বৈষম্য ও মানবিক ঝুঁকি
জলবায়ু পরিবর্তন: বাস্তুচ্যুতি, বৈষম্য ও মানবিক ঝুঁকি - নিকোলাস বিশ্বাস জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উঠলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে কিছু পরিচিত দৃশ্য - ভয়াবহ দাবানল, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ কিংবা খরায় ফেটে যাওয়া মাটি। সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টেলিভিশনের পর্দায় এসব দৃশ্যই সবচেয়ে বেশি স্থান পায়। কারণ এগুলো তাৎক্ষণিক, দৃশ্যমান এবং উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এগুলো জলবায়ু সংকটের কেবল দৃশ্যমান অংশ। যেমনি হিমশৈলের (Iceberg) সবচেয়ে বড় এবং গভীর অংশ লুকিয়ে থাকে পানির নিচে তেমনি জলবায়ূ পরিবর্তনের গভীর প্রভাব ও ক্ষত মিশে থাকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মাঝে যা উপর থেকে দেখা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত ক্ষতি শুধু ঘরবাড়ি ধ্বংস বা ফসলহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলে। এই সংকটকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের দৃশ্যমান দুর্যোগের বাইরে গিয়ে এর অন্তর্নিহিত কারণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবগুলো বুঝতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। দৃশ্যমান দুর্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকাশ্য রূপ বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা ক্রমাগত বাড়ছে। অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, দীর্ঘস্থায়ী খরা, তীব্র তাপপ্রবাহ, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় এবং দাবানল পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপর্যস্ত করছে। এসব দুর্যোগ তাৎক্ষণিক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম হয়। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলো ত্রাণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের মনোযোগ সীমাবদ্ধ থাকে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই, অথচ এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলো অনেক বেশি গভীর এবং জটিল যা আমাদের জীবনকে দূর্বীসহ করে তোলে। দুর্যোগের আড়ালে শুরু হয় আরেকটি সংকট প্রতিটি জলবায়ুজনিত দুর্যোগ একটি দীর্ঘ শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়ার সূচনা করে। যখন খরায় ফসল নষ্ট হয়, তখন শুধু কৃষকের উৎপাদনই কমে না; খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেয়, বাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে যায় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী আরও বেশি খাদ্য অনিরাপত্তার মুখোমুখি হয়। কৃষক তার আয়ের উৎস হারান, পরিবারগুলো ঋণের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয় এবং অনেক মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। একইভাবে নদী, খাল ও জলাধার শুকিয়ে গেলে শুধু পানির সংকটই সৃষ্টি হয় না; কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপদ পানির জন্য দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়, যা তাদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগকেও সীমিত করে। খাদ্য নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুতর কিন্তু কম আলোচিত প্রভাবগুলোর একটি হলো খাদ্য নিরাপত্তা। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা হ্রাস, বন্যা ও খরার কারণে কৃষি উৎপাদন দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের ক্ষুদ্র কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফসলের উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। দরিদ্র পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে কম এবং নিম্নমানের খাদ্য গ্রহণ করে। এর ফলে অপুষ্টি বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের মধ্যে। ক্ষুধা তখন শুধু একটি মানবিক সংকট নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা ও টেকসই খাদ্য উৎপাদনে বিনিয়োগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব হুমকি জলবায়ু পরিবর্তন এখন জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং তাপজনিত অসুস্থতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যার কারণে নিরাপদ পানির উৎস দূষিত হয়ে কলেরা, ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে মশাবাহিত রোগ যেমন ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার বিস্তার নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় অনেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে জরুরি চিকিৎসা প্রদান ব্যাহত হয়। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী ও সহনশীল করে গড়ে তোলা জরুরি। অর্থনৈতিক ক্ষতি ও বৈষম্যের বিস্তার জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশ নয়, অর্থনীতিকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিটি দুর্যোগের পর সরকারকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্গঠনে। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। তারা সঞ্চয় হারায়, ঋণগ্রস্ত হয়, অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্যের চক্রে আটকে পড়ে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যেসব জনগোষ্ঠীর দায় সবচেয়ে কম, তারাই এর সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন ও সামাজিক অস্থিরতা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ তাদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, উপকূলীয় লবণাক্ততা, বন্যা ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে বহু এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। ফলে জলবায়ুজনিত অভিবাসন দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে সীমিত ভূমি, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ায় অনেক অঞ্চলে সামাজিক উত্তেজনা, সংঘাত এবং নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত নয়, সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের কারণে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ নতুন অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। ভবিষ্যতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ এবং বৈশ্বিক অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু বা পরিবেশগত অভিবাসীর সংখ্যা ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১০০ কোটিরও বেশি হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে কোটি কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হতে পারে। এর মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই প্রায় ২ কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণ জলবায়ু অভিবাসীতে পরিণত হতে পারে। Internal Displacement Monitoring Centre (IDMC) -এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে (২০১৪–২০২৩) জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ঘটিয়েছে যা বিভিন্ন দেশে অমানবিক বিপর্যয় ডেকে আনছে। জলবায়ু সংকট: উন্নয়নেরও বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রকে স্পর্শ করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষা ব্যাহত হয়। স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হয়ে পড়ে। কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি বড় অংশ পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে ব্যয় করতে হয়। ফলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন অনেক দেশের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এজন্য পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই জরুরী। দুর্যোগের আগে বিনিয়োগই সর্বোত্তম সমাধান জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা শুধু দুর্যোগের পর ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। প্রয়োজন জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ, জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা, বন ও প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে এমন নীতি প্রণয়ন করতে হবে, যা দুর্যোগ ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেবে এবং তাদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। দৃশ্যমান ক্ষতির বাইরে তাকানোর সময় এখনই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটিই মানুষের জীবন, জীবিকা, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ করে। তাই শুধু বন্যা, খরা কিংবা দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি হিসাব করলেই চলবে না। আমাদের দেখতে হবে খাদ্য সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বাস্তুচ্যুতি এবং উন্নয়নের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব। এই সামগ্রিক চিত্রটি উপলব্ধি করলেই আমরা এমন নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারব, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সহনশীল, নিরাপদ এবং টেকসই পৃথিবী গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। উপসংহার: সংকটের আড়ালে গভীর সংকট জলবায়ু পরিবর্তন কেবল একটি পরিবেশগত সংকট নয়; এটি মানবসভ্যতার অস্তিত্ব, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য এক বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ। অতএব, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আমাদের শুধু দৃশ্যমান দুর্যোগ নয়, বরং এর অন্তর্নিহিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলোর প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রকৃত সমাধান তখনই সম্ভব, যখন আমরা কেবল লক্ষণ নয়, সংকটের মূল কারণ এবং এর বহুমাত্রিক প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করব। তাহলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সহনশীল এবং টেকসই পৃথিবী নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। লেখক: নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রীল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত।
সানন্দবাড়ীতে ৭ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক
সানন্দবাড়ীতে ৭ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক আবু তাহের, বকশিগঞ্জ প্রতিনিধি। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭ কেজি গাঁজাসহ মনোয়ারা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সানন্দবাড়ী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন মনোয়ারা বেগমকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার মনোয়ারা বেগম দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সিলেটপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আয়নাল হকের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্যের একটি চালান সম্পর্কে গোপন তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা ৭ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেপ্তার নারীকে উদ্ধারকৃত গাঁজাসহ যথাযথ পুলিশ পাহারায় দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে থানায় এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের অন্তর্কোন্দল চরমে, হলজুড়ে ভাঙচুর-সংঘর্ষ
মোঃ জাহিদ হাসান নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে দুই গ্রুপের অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সালাম হল এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার সময় সাব্বির হোসেন শান্তর গ্রুপ বহিরাগতদের এনে হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি এবং সেক্রেটারির সালাম হলের রুমে ব্যাপক ভাঙচুর চলে। এছাড়াও , নোবিপ্রবির সালাম ও মালেক হলের বিভিন্ন রুম ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে, সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা একজোটে সাব্বির গ্রুপের অনুসারীদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া গড়ায় অডিটোরিয়াম থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ পর্যন্ত। সেখানে উভয় পক্ষ সংঘর্ষ ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হন। ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে। এ নিয়ে তাতক্ষনিক তদন্ত কমিটি গঠন করেন নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও আহতদের দেখে জানান, আমরা এ নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ,কর্মচারীরা এখানে আছেন। পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা অতিদ্রুত এ নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো। উল্লেখ্য, গতকাল গভীর রাতে ছাত্রদলের দু পক্ষের মধ্যে মালেক হল এবং পকেট গেট সংলগ্ন এলাকায় দু পক্ষের সংঘর্ষ হয়। উক্ত সংঘর্ষের জেরে আজ দুপুরে আবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে আহত হয় প্রায় ৫ জন।
রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১. ৩০ টায় নগর ভবনে রাসিক প্রশাসকের দপ্তরে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে জাপানের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাসিক প্রশাসক। মতবিনিময়কালে রাজশাহীর দক্ষ জনশক্তিকে জাপানের বিভিন্ন সেক্টরে কাজে লাগানো, ম্যাংগো প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি পণ্য সংরক্ষণে হিমাগার স্থাপন, স্বাস্থ্যসেবা, জাপানী ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট স্থাপন, তথ্য ও প্রযুক্তি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া রাজশাহী সিটির সঙ্গে জাপানের কোনো শহরের সিস্টার সিটি সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়েও বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণ করে জাপানের সঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাসিক প্রশাসক। জাপানের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন, জাপান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাওয়ামোতো ইয়াসুহিরো, জেনারেল ইনকরপোরেটেড অ্যাসোসিয়েশন হামিংবার্ডের রিপ্রেজেন্টেটিভ ডিরেক্টর ইউতা শিগেমোরি, ওয়েস্ট ওকায়ামা মেডিকেল ক্লিনিকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ও হ্যান্ডসন ল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেইজি ইশিমোতো এবং ওকায়ামা বিজনেস কলেজ ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্টের মো. জিয়াউল করিম। এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, সচিব সোহেল রানা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মোঃ মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখকদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি
ঠাকুরগাঁওয়ে পেশার মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি জেলা শাখার পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। মঙ্গলবার জেলা কালেক্টরেট চত্বরে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন পালন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দলিল লেখ সমিতি ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো: আব্দুল ওয়াদুদ সরকার প্রমুখ। মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কার্যক্রমে সংগঠনের সদস্যগণ অংশ নেন। স্মারকলিপিতে ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না, দলিল প্রতি সম্মানি ভাতা ৫ হাজার টাকা বাস্তবায়ন করতে করা, রেজি: প্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতিত অন্য কেহ দলিল সম্পাদিত করতে পারবে না ও দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য দলিল দাখিল করতে পারবে না মর্মে প্রজ্ঞাপণ জারী করা, থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ব্যতিত অনবিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারী করা, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারী খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দেওয়া, যেহেতু পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজ পত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়, সেহেতু দলিল লেখকদের পেশাগত কারণে দলিল লেখা/মুসাবিধা ব্যাংক হিসাবে দলিল লেখকদের আসামী করা যাবে না এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি প্রদান করার দাবি রয়েছে।