বাংলাদেশ বার্তা টুডে
জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করবে তথ্য কমিশন: তথ্য উপদেষ্টা
জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করবে তথ্য কমিশন: তথ্য উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম সাবুল এক মাসের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে জনগণ যাতে সহজে ও দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে নতুন তথ্য কমিশন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা কালচারাল অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তথ্য কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠন করা হবে। কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ে যাতে পক্ষপাতিত্ব, বঞ্চনা কিংবা কাউকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ না ওঠে, সেভাবেই এর কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই হবে কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গণমাধ্যমের পরিচয় ও বিভিন্ন ধরনের কার্ড প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাঁকে নিয়েও বিভিন্ন ধরনের কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। প্রকৃত ও মূলধারার গণমাধ্যমকে সঠিক জায়গায় আসতে হবে। গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, কেউ জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে কিংবা সরকারের সমালোচনার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। তারপরও মানবিক দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মনোকষ্ট পেয়েছেন। আগের সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভোট চুরির মাধ্যমে অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার বাসনার কারণে তারা জনগণের কথা ভাবেনি। বর্তমান সরকার নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশজুড়ে সংস্কৃতির প্রসার এবং যুবসমাজকে দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে। জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার সঙ্গে যুক্ত করতে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা কালচারাল অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করবে তথ্য কমিশন: তথ্য উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম সাবুল এক মাসের মধ্যে তথ্য কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে জনগণ যাতে সহজে ও দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে নতুন তথ্য কমিশন। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা কালচারাল অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তথ্য কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠন করা হবে। কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ে যাতে পক্ষপাতিত্ব, বঞ্চনা কিংবা কাউকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ না ওঠে, সেভাবেই এর কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই হবে কমিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গণমাধ্যমের পরিচয় ও বিভিন্ন ধরনের কার্ড প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তাঁকে নিয়েও বিভিন্ন ধরনের কার্ড তৈরি করা হচ্ছে। প্রকৃত ও মূলধারার গণমাধ্যমকে সঠিক জায়গায় আসতে হবে। গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, কেউ জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য প্রচার করলে কিংবা সরকারের সমালোচনার নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারের ন্যূনতম কোনো দায় নেই। তারপরও মানবিক দিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মনোকষ্ট পেয়েছেন। আগের সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভোট চুরির মাধ্যমে অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকার বাসনার কারণে তারা জনগণের কথা ভাবেনি। বর্তমান সরকার নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশজুড়ে সংস্কৃতির প্রসার এবং যুবসমাজকে দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে। জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার সঙ্গে যুক্ত করতে সরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। মতবিনিময় সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, জেলা কালচারাল অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয়ে কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেম, সাড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ; যুবক গ্রেপ্তার
এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয়ে কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেম, সাড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ; যুবক গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম সাবুল রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তা পরিচয়ে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীর পরিবারের কাছ থেকে পদোন্নতির কথা বলে সাড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় তরুণীর বাবা বাদী হয়ে গতকাল বুধবার গঙ্গাচড়া মডেল থানায় ওই যুবক ও তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত যুবক লিয়ন মিয়া ওরফে সম্রাট হোসেন সামিম (৩০)। তিনি গঙ্গাচড়া উপজেলার সয়রাবাড়ী ফুলবাড়ীর চওড়া এলাকার সাফুল মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে মুঠোফোনে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে লিয়নের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, লিয়ন একটি অ্যাফিডেভিটের কপি এনে তরুণীকে তাতে স্বাক্ষর করতে বলেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর কর্মস্থল থেকে বিয়ের অনুমতি এখনো দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁর চাকরি চলে যেতে পারে বলেও তিনি তরুণীকে জানান। এরপর পদোন্নতির জন্য সাড়ে ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন বলে তরুণীর পরিবারের কাছে জানান লিয়ন। পদোন্নতির পর বিয়ের বিষয়টি স্বজনদের জানানো হবে—এমন আশ্বাসে বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করে তাঁকে ওই অর্থ দেওয়া হয়। এ সময় লিয়নের মা-বাবাও তরুণীর বাড়িতে এসেছিলেন বলে স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন। তবে পরে লিয়নের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয় তরুণীর পরিবারের। খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, লিয়ন এনএসআইয়ের কর্মকর্তা নন। এদিকে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে লিয়ন ওই তরুণীর বাড়িতে যান। পরে তাঁর ঘরে প্রবেশ করে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। তরুণীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা সেখানে গিয়ে লিয়নকে আটক করেন। পরে তাঁকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়। ওই তরুণীর অভিযোগ, লিয়ন বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্ত্রী পরিচয়ে নিয়ে যেতেন এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতেন। তরুণীর বাবা বলেন, ‘নিজেকে এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় আমরা তাঁকে বিশ্বাস করেছিলাম। মেয়েকে বিয়ে করবেন—এমন আশ্বাসে তাঁকে টাকা দিয়েছি। পরে জানতে পারি, তাঁর পরিচয় ভুয়া। আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি।’ পুলিশ জানায়, লিয়নের কাছ থেকে বিয়ের একটি অ্যাফিডেভিটের কপি ও এনএসআইয়ের একটি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যাফিডেভিটে ওই তরুণীকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কাগজটি ভুয়া এবং লিয়ন নিজেই এটি তৈরি করেছেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, লিয়নের আগে বিয়ে হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী রয়েছেন—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। একই কৌশলে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তিনি প্রতারণা করেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর বলেন, আটক করার পর লিয়নের কাছ থেকে বিয়ের অ্যাফিডেভিট ও এনএসআইয়ের কার্ড পাওয়া গেছে। এগুলো ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর আগে স্ত্রী থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজনের সঙ্গে একইভাবে প্রতারণার অভিযোগের তথ্য মিলেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে। ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় লিয়ন ও তাঁর মা-বাবার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। লিয়নকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁর মা-বাবার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সোনারগাঁও আপন দুই ভাইয়ের তান্ডব বিএনপি অফিস ভাঙচুর, আহত ১১
সোনারগাঁও আপন দুই ভাইয়ের তান্ডব বিএনপি অফিস ভাঙচুর, আহত ১১ সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ের হামলা ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নং ওয়ার্ড কার্যালয়ে এ হামলার ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। হামলায় ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সংঘর্ষে দু’জনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। তারা দুই জন আপন ভাই। এ বিরোধের জেরে বুধবার দুপুর ১ টায় আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খাঁন, আব্দুল লতিফ, মনির হোসেন, ডালিম মিয়া ও ইমজামানসহ ১০-১৫জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলাকারীরা কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে। এসময় সোনারগাঁও থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ, বাবুল বেপারীসহ কয়েকজন হামলাকারীদের বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আব্দুর রউফের পক্ষের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়। এছাড়াও আব্দুল জলিল পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খাঁন, ডালিম আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বাবুল বেপারী, আবু বকর সিদ্দিকের অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে আপন দুই ভাই এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী এই দুই নেতার দীর্ঘদিনের রেষারেষিতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। এলাকাবাসী বলছে, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং একই কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল জলিল এই দুই ভাইয়ের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে প্রায়ই এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই দুই ভাইয়ের কোন্দল নতুন কোনো বিষয় নয়। এর আগেও তাদের বিরোধের জেরে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে থানায় মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ জানান, গত ঈদের দিন মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার আহবান জানিয়ে তিনি বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে আব্দুল জলিল তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। বুধবার বিএনপির কার্যালয়ে বসে কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে অতর্কিতভাবে জলিলের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এসময় তার দুই ছেলেসহ ৮নেতাকর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এসময় তারা বিএনপি কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে। তিনি আরও বলেন, প্রতিপক্ষ গ্রুপ এর আগেও তার লোকজনের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। দীর্ঘ দুই মাস বিরতির পর আজ দলীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে তার ও তার লোকজনের ওপর এ অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, গত বছরে আব্দুর রউফ তাদের গ্রামে নিরীহ মানুষের বাড়িতে আগুন দিয়েছিল। ওই মামলায় তাকেও আসামী করা হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে সেসহ তার অনুসারী ৫ জনকে চার্জশীট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই মামলায় আব্দুর রউফ আদালতে হাজির দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে মহড়া দেয়। পরে বিষয়টি জানতে গিয়ে তারা বিএনপির কার্যালয়ে আমাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আটকে মারধর করে। পরে তার নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে। এ বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু জানান, বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এর আগেও তাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একটি কুচক্রী মহল বা তৃতীয় পক্ষ দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এসব করাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দলীয় ঊর্ধ্বতন মহলের সাথে আলোচনা করে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির দায়ে অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, হামলা ও সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আহত রয়েছে। তবে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবে চিকিৎসা শেষে অভিযোগ দেবে বলে শুনেছি।
উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ: ৭৪ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেলেন শায়েস্তাগঞ্জের জেমি
উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ: ৭৪ লাখ টাকার আন্তর্জাতিক বৃত্তি পেলেন শায়েস্তাগঞ্জের জেমি আজিজুর রহমাম (হবিগঞ্জ প্রতিনিধি) হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী সাবেক ছাত্রী এবং জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি চট্টগ্রামের স্বনামধন্য এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন (AUW)-এ উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকা (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন। চার বছর মেয়াদি এই আন্তর্জাতিক বৃত্তির আওতায় তিনি প্রতি বছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন। গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান এক চিঠির মাধ্যমে জেমিকে এই বৃত্তি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জেমির বাবা আফজল আলী শায়েস্তাগঞ্জের পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আর্থিক ও নানাবিধ প্রতিকূলতার মধ্যেও বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় জেমি তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে শায়েস্তাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে ২০২৫ সালে সফলতার সাথে এইচএসসি পাস করেন। এইচএসসি পাসের পর জেমি শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসের বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের 'সামার স্কুল প্রোগ্রামে' অংশ নেন। অত্যন্ত নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের সাথে এই প্রোগ্রামটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই তাঁর সামনে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার এই চমৎকার সুযোগটি উন্মোচিত হয়। এমন গৌরবময় অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি গণমাধ্যমকে জানান, “প্রথমে এত বড় বৃত্তির খবরটি শুনে আমি নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বারবার চিঠিটি পড়ার পর যখন নিশ্চিত হলাম, তখন আমার আনন্দের সীমা ছিল না।” এই সাফল্যের জন্য তিনি তাঁর পরিবার ও শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। জেমির এই অভাবনীয় সাফল্যে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকাবাসী, তাঁর স্কুল ও কলেজ পরিবার এবং সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
ভাঙ্গায় পল্লী চিকিৎসকদের যক্ষা, ডেঙ্গু ও ওরাল হাইজিন বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন
ভাঙ্গায় পল্লী চিকিৎসকদের যক্ষা, ডেঙ্গু ও ওরাল হাইজিন বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন মামুন মিঞা ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যক্ষা, ডেঙ্গু ও ওরাল হাইজিন বিষয়ে পল্লী চিকিৎসকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভাঙ্গা উপজেলা পল্লী চিকিৎসক সমিতির আয়োজনে এবং ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO) ডা. সোহাগ মিয়া। আলোচনায় যক্ষা, ডেঙ্গু ও মুখের স্বাস্থ্য পরিচর্যা (ওরাল হাইজিন) বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আয়েশা আক্তার, মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুল হক এবং ডেন্টাল সার্জন ডা. আঁখি আক্তার। বক্তারা বলেন, যক্ষা ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে পল্লী চিকিৎসকদের যথাযথ ধারণা থাকা জরুরি। রোগীর উপসর্গ বুঝে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত উচ্চতর চিকিৎসার জন্য রোগীকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে রেফার করতে হবে। এ সময় অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার ঝুঁকি বাড়ে। তাই রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। বক্তারা আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের লক্ষণ শনাক্ত করে সঠিক সময়ে রোগীকে রেফার করা গেলে অনেক জটিলতা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব। বিশেষ করে যক্ষা ও ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়ে পল্লী চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে। ওরিয়েন্টেশনে ওরাল হাইজিনের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা, সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করা এবং মুখ ও দাঁতের কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পল্লী চিকিৎসকরা অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, প্রান্তিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পল্লী চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই রোগের লক্ষণ শনাক্তকরণ, নিরাপদ প্রাথমিক চিকিৎসা ও যথাযথ রেফারেল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এ ধরনের ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাতক্ষীয়ায় স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে শহরের নিউমার্কেট এলাকায় পথসভা শেষে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি র্যালি বের করেন। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ভুট্টোর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব শরিফুজ্জামান সজিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান। এ সময় সভায় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সোহেল আহমেদ মানিক, জেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি আহছানুল কাদির স্বপনসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পথসভায় বক্তারা বলেন যে বিনা অপরাধে স্বেচ্ছাসেবক দলের কোনো নেতা-কর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকটি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে পালন করতে হবে। এছাড়া চলমান বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয় এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল ও সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
শার্শায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার এক ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার
শার্শায় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার এক ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার মহিউদ্দীন বাপ্পী , বাগআঁচড়া,শার্শা,বেনাপোল(যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় ৩য় শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোকছেদ আলী(৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ২ টার টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবার থেকে মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে আটক করা হয়। আটক মকছেদ আলী উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের মহিষা মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত কোরবান আলী মোড়লের ছেলে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু মহিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত মকছেদ আলী তাদের প্রতিবেশী শিশুটি তাকে চাচা বলে ডাকত। গত ১২ আগস্ট বিকেলে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি খেলতে যায়। এ সময় অভিযুক্ত মোকছেদ তাকে টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ির পাশের একটি ঘেরের পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।পরে শিশুটিকে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশী এক নারীর কাছে ঘটনার কথা জানায়। বিষয়টি শিশুটির বাবার কাছে পৌঁছালে তিনি মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে শার্শা থানায় এজাহার দায়ের করলে পুলিশ আসামীকে আটক করেন। শার্শা থানার অফিসার্স ইনচার্জ(ওসি) শামিনুর ইসলাম জানান, আটক আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ হয়েছে।
সুন্দরবনে অবমুক্ত বাঘিনীর রহস্যময় অন্তর্ধান: ৪০টি ক্যামেরায় মিলছে না অস্তিত্ব
সুন্দরবনে অবমুক্ত বাঘিনীর রহস্যময় অন্তর্ধান: ৪০টি ক্যামেরায় মিলছে না অস্তিত্ব ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ শিকারিদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার ও দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ অবস্থায় সুন্দরবনে অবমুক্ত করা বাঘিনীটি এক মাস পেরিয়ে গেলেও ট্র্যাপিং ক্যামেরায় ধরা না পড়ায় তৈরি হয়েছে গভীর শঙ্কা ও ধোঁয়াশা।.. সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা শেষে গত ১২ জুলাই যে বাঘিনীটিকে বন্য পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, এক মাস পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। বন বিভাগ বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য ওই এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী শ্যালনদীর পূর্বপাড় ও জয়মনি এলাকা জুড়ে প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৪০টি স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাপিং ক্যামেরা বসিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এতগুলো ক্যামেরার কোনোটিতেই বাঘিনীটির অস্তিত্ব বা চলাচলের কোনো ফুটেজ ধরা পড়েনি। দীর্ঘ সময় খাঁচাবন্দি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর বাঘিনীটি বন্য পরিবেশে নিজেকে কতটা মানিয়ে নিতে পেরেছে এবং সে আদৌ জীবিত আছে কি না, তা নিয়ে এখন জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বাঘিনীটির অবমুক্তির সময়কার শারীরিক দুর্বলতা ও ভারসাম্যহীনতা তার টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে, যা পুরো বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ভুক্তভোগী বাঘিনীটির এই অন্তর্ধানের পেছনে বনের বর্তমান পরিবেশগত পরিস্থিতি এবং শিকারিদের তৎপরতাকেও বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অবমুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, খাঁচা থেকে বের হওয়ার সময় বাঘিনীটি সোজা হয়ে দাঁড়াতে হিমশিম খাচ্ছে এবং বারবার পেছনের দিকে তাকাচ্ছে, যা তার মানসিক ও শারীরিক অস্থিরতারই বহিঃপ্রকাশ। এদিকে বন বিভাগ দাবি করছে, অবমুক্তির পর ১৫০ মিটার এলাকা জুড়ে বাঘিনীটির পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছিল, যা তার প্রাথমিক বেঁচে থাকার প্রমাণ দেয়। তবে বর্তমানে সেই একই এলাকায় অন্য তিনটি বাঘিনীর বিচরণ রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই বাঘিনীটির জন্য একটি প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় মানুষের সংস্পর্শে থাকার পর বন্য পরিবেশে ফিরে আসা একটি বাঘের জন্য অন্য বাঘের আধিপত্য বজায় থাকা এলাকায় টিকে থাকা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, যেখানে তার পুনরায় কোনো শিকারি বা চোরাকারবারির ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বন বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বাঘিনীটি মারা যায়নি বরং অন্য এলাকায় সরে গেছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিচরণ করে থাকে, ফলে বাঘিনীটি তার নিজের এলাকা পরিবর্তন করে ক্যামেরার আওতার বাইরে চলে যেতে পারে। বন বিভাগ আগামী সপ্তাহে আবারও এই ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করবে এবং এলাকাটিতে নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। যদিও বন কর্মকর্তাদের এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছেন না সচেতন মহল। চিকিৎসাধীন বাঘিনীটিকে এমন একটি এলাকায় অবমুক্ত করা হয়েছে যেখানে অন্য বাঘের উপস্থিতি আগেই নিশ্চিত ছিল, যা তার টিকে থাকার সম্ভাবনাকে আরও সংকীর্ণ করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে বাঘিনীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের কৌশলগত ত্রুটি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। পরিশেষে, সুন্দরবনের মতো একটি স্পর্শকাতর ইকোসিস্টেমে উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীর পুনর্বাসন প্রক্রিয়া যে কতটা জটিল, এই ঘটনাটি তারই একটি বড় উদাহরণ। বাঘিনীটির এই রহস্যময় অন্তর্ধান কেবল একটি প্রাণীর বেঁচে থাকার লড়াই নয়, বরং সুন্দরবনের বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের কার্যকারিতা ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক ব্যর্থতা বা সীমাবদ্ধতার দিকেও ইঙ্গিত করে। যদি বাঘিনীটি জীবিত থেকে থাকে, তবে তার পরবর্তী অবস্থান নিশ্চিত করা এবং তাকে নিরাপদ করিডোরে ফিরিয়ে আনা বন বিভাগের জন্য এখন বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে, যদি সে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকে, তবে তা সুন্দরবনের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ছিদ্র থাকারই প্রমাণ দেয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও বনজ সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর জন্য এই ঘটনাটি একটি সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণী অবমুক্তকরণ ও পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে আরও কঠোর ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণ অনিবার্য করে তুলেছে।
সোনারগাঁয়ে আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বর্ণাঢ্য বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
সোনারগাঁয়ে আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বর্ণাঢ্য বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত। সোনারগাঁও সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নিজস্ব ক্যাম্পাসে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগষ্ট) দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সম্মানিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সংস্কৃতির সেতু বেয়ে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সঠিক বিকাশের লক্ষ্যে আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত 'বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান'। এতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভা এবং দেশীয় সংস্কৃতির সুন্দর প্রতিফলন ফুটিয়ে তোলে। আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আনুমানিক ৮০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ করেন। নাচ, গান, গজল ও আবৃত্তির মতো বৈচিত্র্যময় প্রতিযোগিতায় সুর ও ছন্দের মেলবন্ধনে মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায় শিক্ষার্থীরা। আইকন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পরিচালক ও অধ্যক্ষের বক্তব্যে শেখ জাহিদুল ইসলাম রাহীম অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার বক্তব্যে বলেন, কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় শিক্ষা সীমাবদ্ধ নয়। খেলাধুলা, নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটক শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটায় এবং নেতৃত্বগুণ তৈরি করে। প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমরাই এই দেশের ভবিষ্যৎ। আজকের এই মঞ্চে তোমাদের যে আত্মবিশ্বাস দেখলাম, তা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বজায় রাখবে। এসময় তিনি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করে বলেন, সন্তানদের শুধু পড়ার জন্য চাপ দেবেন না। তাদের ভালো লাগার জায়গাগুলোকে চিহ্নিত করে উৎসাহিত করবেন। আমরা শিক্ষক হিসেবে সর্বদা আপনাদের পাশে আছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল ভালো জিপিএ অর্জন নয়, বরং প্রতিটি শিশুকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীর ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হতে পারে।
মনোসামাজিক পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ২০২৬ অনুষ্ঠিত
আজ ১৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল ১১টায় পুলিশ লাইন্স, পিওএম কনফারেন্স রুমে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) ও রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর যৌথ আয়োজনে ‘মনোসামাজিক পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির। প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর জনাব মুরশিদা ফেরদৌস বিনতে হাবিব, পিএইচডি। প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যবৃন্দ। প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির বলেন, “পুলিশ শুধু আইন ও শৃঙ্খলা রক্ষার (Law and Order) গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করে না; বরং সামাজিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে অনেক সময় প্রচলিত আইনের পাশাপাশি নানাবিধ পারিবারিক ও সামাজিক জটিল সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখতে হয়।” তিনি বলেন, থানায় বা পুলিশের কাছে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা অনেক সময় পারিবারিক দ্বন্দ্ব, নির্যাতন, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মানসিক ট্রমা ও অস্থিরতার মধ্যে থাকেন। পুলিশ সদস্যরা যদি সেবা প্রত্যাশীদের এই মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বুঝে সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে পারেন, তাহলে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক অস্থিরতা কমাতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বের কঠোরতা ও কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান মানসিক চাপের কথা উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনার বলেন, “মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা নিরন্তর দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই।” ফলে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও পেশাগত চাপ মোকাবিলায় মনোসামাজিক সহায়তা ও মানসিক সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত প্রতিরোধে এ ধরনের প্রশিক্ষণ সময়োপযোগী বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে মানসিক চাপ, হতাশা ও বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবিলায় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স এবং যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সচেতন ও দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে তারা নিজেরা যেমন মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে পারবেন, তেমনি সেবা নিতে আসা মানুষের
সোনারগাঁও পৌরসভা সরকারি গাড়ি নষ্ট হওয়ায় যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে সাবার
সোনারগাঁও পৌরসভা সরকারি গাড়ি নষ্ট হওয়ায় যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে সাবার সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সোনারগাঁও পৌরসভার লাখ লাখ টাকার সরকারি গাড়ি রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এতে অপচয় হচ্ছে সরকারী সম্পদ। সময়মতো সংস্কার ও যত্ন নেওয়া হলে এসব গাড়ি এভাবে নষ্ট হতো না বলে মনে করছেন পৌরসভার অনেক বাসিন্দা। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার পাশে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা একটি গাড়ি বর্তমানে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মরিচা ধরে গাড়িটির বিভিন্ন অংশ একে একে খসে পড়ছে। এর পাশেই পড়ে রয়েছে মাটি খনন ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত আরেকটি গাড়ি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় সেটির চাকা নষ্ট হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর সরকারি ব্যবস্থাপনায় পৌরসভার বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য দুটি গাড়িসহ প্রয়োজনীয় যানবাহন দেওয়া হয়। কিছুদিন ব্যবহারের পর নতুন গাড়ি পাওয়ার পর পুরোনো গাড়িগুলো মেরামত ও সংরক্ষণ না করে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখা হয়। এতে রোদ-বৃষ্টিতে গাড়িগুলোতে মরিচা ধরে ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, গাড়িগুলো এভাবে পড়ে থাকার সুযোগে রাতের আঁধারে বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পৌরসভার কিছু কর্মচারীর সহযোগিতায় চোরেরা এসব যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে বিক্রি করেছে। বিশেষ করে গত ৫ আগস্টের পর চুরির ঘটনা বেড়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় পৌরসভার দু-একজন কর্মচারী আটকও হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে কেনা এসব যানবাহন এভাবে ফেলে না রেখে দ্রুত সংস্কার, সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ হবে, অন্যদিকে পৌরসভার নাগরিক সেবাতেও এগুলো কাজে লাগানো সম্ভব হবে। তবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, গাড়িগুলো সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে যাওয়ার পরই সেখানে রাখা হয়েছে। এগুলো সরকারি সম্পদ হওয়ায় নিয়মনীতি অনুসরণ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
কালীগঞ্জে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
কালীগঞ্জে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগষ্ট) সকালে উপজেলার জামালপুর কলেজ মাঠে জামালপুর কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি হাজী মোঃ জাহাঙ্গীর কবির এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম কামরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ হুমায়ুন কবির মাস্টার, সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু। কলেজের সহকারী অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক নাজমুন নাহার এর যৌথ সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আলম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান লাভলু, জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ হারুন অর রশিদ দেওয়ান, বাহাদুরশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জয়নাল আবেদীন প্রমূখ। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হোসেন মোঃ সামসুল আলম এর সার্বিক সহযোগীতায় অনুষ্ঠানে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সাফল্যের জন্য ক্রেস্ট প্রদান করে তাদের সংবর্ধনা ও অভিনন্দন জানান। ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষায় আরও ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং পুরস্কার গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন রুহিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলাউদ্দিন। পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। মঙ্গলবার বিকেলে বিদ্যালয় হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহকারী প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী, সিনিয়র শিক্ষক হারিসুল ইসলাম, মকসেদ আলীসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যেন সমগ্র ঠাকুরগাঁও জেলায় মডেল হিসেবে গড়ে ওঠে, সে বিষয়ে ইউএনও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন। শ্রেণিকক্ষে দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিষয়ভিত্তিক বিশেষ যতœ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে তারা মূলধারায় ফিরে আসতে পারে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ে ৪টি বিশেষ ক্লাব গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়। ক্লাব গুলো হলো- কম্পিউটার ক্লাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব ও সাইন্স ক্লাব। সভায় গৃহিত সকল গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও নির্দেশনা রেজুলেশন আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়।
নোবিপ্রবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ, দ্রুত বিচারের দাবি
নোবিপ্রবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ, দ্রুত বিচারের দাবি নোবিপ্রবি প্রতিনিধি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকরা। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি দেন ক্যাম্পাসে কর্মরত ৩৩ জন সাংবাদিক। এশিয়া পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তৌফিক আল মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন। এতে গতকাল ছাত্রদলের উচ্ছৃঙ্খল কিছু নেতাকর্মীর হাতে দৈনিক কালের কণ্ঠের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সাদমান রাকিন, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম এবং দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান সাংবাদিকরা। মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার দেশের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকাল ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরির পেছনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উভয় পক্ষই যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করত, তাহলে পরিস্থিতি এতটা দূর গড়াত না বলে আমরা মনে করি। এ ক্ষেত্রে এটি তাদের সাংগঠনিক ও দলীয় ব্যর্থতা।” তিনি আরও বলেন, “গতকালই যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, তখনই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে, ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, “ক্যাম্পাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর যে ধরনের হামলা ও আক্রমণের ঘটনা ঘটছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও উদ্বেগজনক। গত ১৭ বছর ধরে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের যে স্বৈরাচারী ভূমিকা আমরা দেখেছি, এখন যদি একই ধরনের ভূমিকা ছাত্রদলের কাছে চলে যায়, তাহলে বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ জুলাই আন্দোলনে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি।” তিনি আরও বলেন, “আমি প্রশাসনের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাবো, তারা যেন ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অন্যথায় প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হওয়ার এবং অতীতের মতো স্বৈরাচারী পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।” সাদমান রাকিন বলেন, “আমাদের কাছে এ ঘটনায় যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং আমরা সেগুলো প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। তাই এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্তা বাজারের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ফাহাদ হোসেন, নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সাজিদ খান, ভোরের বাণীর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাঈমুর রহমান, চ্যানেল ২৪-এর প্রতিনিধি কাউসার আহমেদ, মুক্ত কলমের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য ফাইজা আফরোজ প্রমি। পরে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ক্যাম্পাসে কর্মরত ৩৩ জন সাংবাদিকের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার আলোচিত হানিট্র্যাপ কান্ড মামলায় আরও গ্রেফতার
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার আলোচিত হানিট্র্যাপ কান্ড মামলায় আরও গ্রেফতার গাজীপুর প্রতিনিধি গাজীপুরের শ্রীপুরে তরুণ-তরুণীদের ফাঁদে ফেলে জিম্মি, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে একটি কথিত ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খোকন মিয়া ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে ওই বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে মারধর ও টাকা আদায় করতেন। সম্প্রতি মোবাইল ব্যবসায়ী নাসিরকে আটকে রেখে নির্যাতনের পর তার স্বজনদের কাছ থেকে বিকাশে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বুধবার সন্দেহজনকভাবে কয়েকজন তরুণ-তরুণী ওই বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা সেটি ঘেরাও করেন। এ সময় খোকন পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। পরে গণপিটুনিতে আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযানের সময় বাড়ি থেকে রক্তমাখা পোশাক, প্লাস্টিকের পাইপ, বৈদ্যুতিক তার, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ঘটনার মূল অভিযুক্ত খোকন মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে...