বাংলাদেশ বার্তা টুডে
নাগেশ্বরীর যে গ্রামের মানুষ পানিবন্দী থাকে বছরের পর বছর
নাগেশ্বরীর যে গ্রামের মানুষ পানিবন্দী থাকে বছরের পর বছর যুবক যুবতীদের বিয়ে দিতে চান না অন্য গ্রামের মানুষ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ২০.০৮.২৬ বসতভিটার চারদিকেই পানি। যেনো বন্যায় তলিয়ে গেছে চারপাশ। নদী কিংবা কোনো বিল নয়। তবুও বছরের প্রায় অর্ধেকটা সময় ধরে পানিতে তলিয়ে থাকে হাজার হাজার একর ফসলী জমি। শুধু কৃষি জমিই নয় জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী থাকেন দুই গ্রামের অসংখ্য পরিবার। এমন করুণ চিত্র চোখে পড়ে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার দুধকুমার নদীর অববাহিকায় বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের লুছনি ও কুটিরচর এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বন্যার সময় দুধকুমার নদীর পানি নেমে গেলেও নামে না এই এলাকার পানি। ফলে ইরি মৌসুমে এক ফসলী চাষাবাদ হলেও আমন ও অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করতে না পারায় ক্ষতির মুখে কৃষকরা। রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় স্কুল-কলেজে যেতে পারে না ছেলে-মেয়েরা। স্বাস্থ্যসেবাসহ নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এখানকার মানুষ। এমনকী এই এলাকার যুবক-যুবতীদের সাথে অন্য কোনো এলাকার যুবক যুবতীর বিয়ে দিতে চান না কেউ। এছাড়াও কৃষিপণ্য বাজারজাত করণ, হাট-বাজার করা, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন এবং দৈনন্দিন কাজে ভোগান্তির শেষ থাকে না। এমনকী বসতবাড়ির চারপাশে পানি থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদেরকে নিয়ে মৃত্যু ঝুঁকি শঙ্কা কাটে না তাদের। অভিযোগ, প্রায় ২৫ বছর ধরে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তি পোহালেও খোঁজ নেয় না স্থানীয় প্রশাসন কিংবা কোনো জনপ্রতিনিধি। এ অবস্থায়, বহু বছরের দুঃখ ঘোঁচাতে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ লাইনের মাধ্যমে দুধকুমার নদীতে সংযোগ দিয়ে স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি এলাকাবাসীর। কুটিরচর এলাকার কৃষক আমিনুর রহমান, আজিবর রহমান, পল্লী চিকিৎসক দুলাল মিয়া জানান, দুধকুমার নদীর চরবেষ্টিত এই এলাকায় বন্যা পরবর্তী সময়ে নদীর পানি নামলেও নামে না এই এলাকার পানি। যে কারণে শুধু ইরি আবাদ ছাড়া কোনো ফসলের আবাদ হয় না। প্রতিবছর ইরি আবাদের জন্য একাধিকবার ধানের চারা লাগাতে হয় তাদের। কারণ চারা রোপনের পর ভাড়ি বৃষ্টি কিংবা বন্যা হলে, পানি নামার কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, কষ্টের ফসলগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি লোকসান গুণতে হয় তাদের। লুছনী এলাকার রহমত আলী, জামাল উদ্দিন, সুরমান আলী জানান বছরে ৪ থেকে ৫ মাস পানিবন্দী থাকেন তারা। রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এতে করে বাজার-সদাইসহ সকল কাজে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষা বঞ্চিত হতে হচ্ছে শিশু কিশোরদের। এছাড়াও কোনো প্রসূতি নারীকে হাসপাতালেও নিতে পারেন না তারা। গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালনেও নানাভাবে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। এছাড়াও মাসের পর মাস পানি জমে থাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাবে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হন তারা। উপদ্রপ বাড়ে বিভিন্ন পোকামাকরের। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, পরিদর্শনের জন্য অফিস থেকে লোক পাঠানো হয়েছিলো। তারা পরিদর্শন করে এসেছে। পানি নিষ্কাশনে জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
নাগেশ্বরীতে অরণ্যের সবুজ উৎসব পালিত
জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: পরিবেশবাদী সংগঠন অরণ্য-এর উদ্যোগে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘সবুজ উৎসব-২০২৬’। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে চার শতাধিক ফলজ ও ভেষজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ প্রতিযোগিতা, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, বৃক্ষ প্রদর্শনী ও শুভেচ্ছা বক্তব্য ও অতিথিদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষক ও অতিথিরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন। বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সবুজ করে না, এটি জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মাটি সংরক্ষণ ও বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বৃক্ষ রোপণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করেন। কাচারী পয়রাডাঙ্গা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আজিজুল ইসলাম মন্ডল বলেন, “একটি গাছ কেটে ফেললে তার পরিবর্তে অন্তত তিনটি গাছ রোপণ করতে হবে। তবেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।” গাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে। তারা জানায়, বিদ্যালয়ে এমন কর্মসূচির মাধ্যমে গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের সচেতনতা বাড়ছে। পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় গাছ লাগানো ও পরিচর্যার প্রতি আগ্রহও তৈরি হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শ্রী নিখিল চন্দ্র বর্মন,একাডেমিক সুপারভাইজার নাগেশ্বরী উপজেলা, বিশেষ অতিথি ছিলেন জনাব মোঃ তরিকুল ইসলাম, প্রভাষক, মধ্য কুমোরপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব মুহাম্মদ আব্দুল কাদের, অরণ্যের উপদেষ্টা জনাব মোঃ নুর আমিন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুস ছোবহান জুয়েল ও সংগঠনের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবু জোবায়েদ সাগর ও সভাপতিত্ব করেন জনাব নুর মোহাম্মদ আল আমিন সভাপতি,অত্র বিদ্যালয়। আয়োজকেরা জানান, পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে আয়োজিত এ কর্মসূচি এলাকায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
কলকাতায় হোটেলের আগুনে নিহত আরও দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত, সাতক্ষীরার সাজুর পরিবারে শোকের মাতম
কলকাতায় হোটেলের আগুনে নিহত আরও দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত, সাতক্ষীরার সাজুর পরিবারে শোকের মাতম সাতক্ষীরা: ভারতের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের তালিকায় আরও দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান সাজু এবং অপরজন একই উপজেলার রেবতী সরকার। বুধবার রাতে এ খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর থেকে নিহতদের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা জানান, কোমরের ব্যথার চিকিৎসার জন্য ৫-৬ দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন আলিমুজ্জামান সাজু। বুধবার তার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তার মৃত্যুর সংবাদ আসে। চার ভাই ও এক বোনদের মধ্যে সবার ছোট সাজুর বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ডের ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় সাত জন বাংলাদেশির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
পাঁচবিবি দলিল লেখক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি অমল, সম্পাদক বাবুল নির্বাচিত
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সমিতির ৮৬ জন সদস্য গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। নির্বাচনে দুটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে শ্রী অমল চন্দ্র ৫০ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াজেদ আলী মোল্লা পেয়েছেন ৩৪ ভোট। অপরদিকে মনিরুজ্জামান বাবুল ৫১ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস সোবাহান মোল্লা পেয়েছেন ৩৩ ভোট। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৫টি পদের সবকটিতেই অমল-বাবুল প্যানেলের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. জুয়েল রানা। নবনির্বাচিত সভাপতি শ্রী অমল চন্দ্র ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাবুল বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। তবে পাঁচবিবি উপজেলার সকল দলিল লেখকের পেশাগত স্বার্থ রক্ষা ও কল্যাণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন তারা।
সোনারগাঁও ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ
সোনারগাঁও ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সোনারগাঁও( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোমেন খান। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন-এর সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আঃ মতিন সরকার-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ আলম মিয়া, বিদ্যালয় উন্নয়ন কমিটির আহবায়ক আপেল হক, নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য আঃ মজিদ খাঁন ও নুরুল হক, উন্নয়ন কমিটির সদস্য রুবেল হুসাইন, কাঁচপুর ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম এবং ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকবৃন্দ এবং কৃতী শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা কৃতী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, আজকের এই তরুণ শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উন্নয়ন কমিটির সদস্য রুবেল হুসাইন বলেন, এসএসসি পরীক্ষার এই সাফল্য জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ গড়ার প্রথম ধাপ। আগামী দিনে দেশ, জাতি ও সমাজের হাল ধরতে হলে শুধু ভালো ফলাফল করলেই চলবে না, বরং সৎ, নীতিবান ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও উন্নত সোনারগাঁ নির্মাণে তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, আজকের এই কৃতী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কান্ডারী। মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে তরুণদের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরা যাতে মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হওয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির যুগে নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন অতিথিরা। সংবর্ধনাপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। এক শিক্ষার্থী জানায়, “শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সঠিক গাইডলাইন ছাড়া এই সাফল্য অর্জন সম্ভব ছিল না। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় আরও ভালো ফলাফল করে আমরা আমাদের বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করতে চাই। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে মেধা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। এরপর একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আনন্দমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
পঞ্চগড়ে এলাকাবাসীর হাতে আটক যুবক, ট্যাপেন্টাডলসহ ৬ মাসের কারাদণ্ড
পঞ্চগড়ে এলাকাবাসীর হাতে আটক যুবক, ট্যাপেন্টাডলসহ ৬ মাসের কারাদণ্ড পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড়, ২০ আগস্ট ২০২৬: পঞ্চগড় সদর উপজেলার দলোয়াপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অভিযোগে এক যুবককে আটক করে এলাকাবাসী। পরে তাকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হলে তার কাছ থেকে তিন পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মোঃ আখতারুল ইসলাম (২৬) নামে ওই যুবককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানার পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানি শেষে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আখতারুল ইসলাম পঞ্চগড় সদর উপজেলার দলোয়াপাড়া এলাকার মোঃ মোশারফ হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দলোয়াপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবনের সময় আখতারুল ইসলামকে দেখতে পান কয়েকজন এলাকাবাসী। পরে তারা তাকে আটক করে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানান। খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে তিন পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আখতারুল ইসলামকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরোয়ানাসহ তাকে পঞ্চগড় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী তার সাজা কার্যকর করবে। পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জের সাতছড়ির গহীন জঙ্গল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার
হবিগঞ্জের সাতছড়ির গহীন জঙ্গল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার। আজিজুর রহমান হবিগঞ্জের সাতছাড় জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ৬টি পিস্তল, ৭টি ম্যাগাজিন ও ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমানের নেতৃত্বে সাতছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সুত্রে যানা যায়, সীমান্ত পিলার ১৯৭৮ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতছড়ি রিজার্ভ ফরেস্টের দুর্গম পাহাড়ি ও ঘন জঙ্গল এলাকায় বিশেষ কৌশলে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে বিজিবির ধারণা, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিস্তার রোধ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে নিরাপদ সড়ক চাই’র পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী
ঠাকুরগাঁওয়ে নিরাপদ সড়ক চাই’র পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করা হয়। বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার বুড়ির বাঁধ এলাকায় এ কর্মসূচী পালন করা হয়। “পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়” এই স্লোগানে নিরাপদ সড়ক চাই ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে অংশ নেন, সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. জাহিদ ইকবাল, সহ সভাপতি মাসুদ আহম্মেদ সুবর্ণ, সাধারণ সম্পাদক ননী গোপাল বর্মন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহার রাজা, কার্যনির্বাহী সদস্য রুমানা আক্তার লিসাসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ সময় সংগঠনটের পক্ষ থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকার বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের বনজ ও ফলজ গাছের চারা রোপন করা হয়। এ জাতীয় সচেতনতামূলক ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচী ধারাবাহিকভাবে পালন করা হবে বলে জানান সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সুন্দরবনের কেওড়া ফল: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
সুন্দরবনের কেওড়া ফল: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা ম.ম.রবি রবি ডাকুয়াঃ সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ কেওড়া প্রাকৃতিকভাবে উপকূল রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর খাদ্যসংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সুন্দরবনের নদী-খাল ও লবণাক্ত চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কেওড়া গাছ বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সনেরাটিয়া অ্যাপেটালা বৈজ্ঞানিক নামের এই ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদটি মূলত বর্ষা মৌসুমে প্রচুর পরিমাণে ফল দেয়, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে কেবল একটি পরিচিত খাদ্য উপাদান নয় বরং জীবিকার একটি মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটসহ সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় জোয়ার-ভাটার লবণাক্ত মাটিতে কেওড়া গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এর অনন্য শ্বাসমূল লবণাক্ত পরিবেশে টিকে থাকতে বিশেষ সহায়তা করে। ফাগুনের শেষে ফুল আসার পর চৈত্র থেকে ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত এই ফল সংগ্রহের উপযুক্ত সময়, যা উপকূলের প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় টক স্বাদের বৈচিত্র্য যোগ করার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। কেবল পরিবেশ রক্ষায় নয়, বরং বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কেওড়া গাছের ভূমিকা এখন ক্রমবর্ধমান। দীর্ঘদিন ধরে উপকূলের মানুষের কাছে ঘরোয়া খাবার হিসেবে পরিচিত কেওড়া ফলকে কেন্দ্র করে এখন গড়ে উঠছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কুটির শিল্প। ফরিদা বেগমের মতো স্থানীয় নারীরা মৌসুমে কেওড়া সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আচার ও চাটনি তৈরির মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন। ছোট চিংড়ি মাছ ও মসুর ডালের সঙ্গে কেওড়া ফলের রান্না উপকূলীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী অংশ হলেও, বর্তমানে এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় এনজিও কর্মীরা মনে করেন, যদি এই ফলটিকে যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত করে দেশব্যাপী বাজারজাত করা সম্ভব হয়, তবে উপকূলীয় নারীদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে এই প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ফলের মান নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিক প্যাকেজিংয়ের অভাব এখনও একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে, যা ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক মুনাফায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কেওড়া ফলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপযোগিতা নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ জুলফিকার হোসেনের গবেষণা নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কেওড়া ফলে ভিটামিন সি, পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপাদান রয়েছে। বন বিভাগের তথ্যমতে, এই ফলটি কেবল মানুষের খাদ্যই নয়, বরং চিত্রা হরিণ, বানর ও বিভিন্ন পাখির প্রধান খাদ্য উৎস হিসেবে বনের খাদ্যচক্র ও ভারসাম্য রক্ষায় অপরিহার্য। এছাড়া বসন্তকালে কেওড়া ফুলে মৌমাছির ব্যাপক বিচরণ থাকায় সুন্দরবনের মধু উৎপাদনেও এই গাছটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বন কর্মকর্তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা যে হারে বাড়ছে, তাতে ধানসহ প্রচলিত ফসল চাষ কঠিন হয়ে পড়ছে, যেখানে কেওড়া একটি অভিযোজিত ও সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে টিকে থাকার অনন্য ক্ষমতা প্রদর্শন করছে। ভবিষ্যৎ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কেওড়া গাছের পরিকল্পিত সংরক্ষণ ও বনায়ন কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কেওড়া গাছ নদী ভাঙন রোধে ও চরভূমি স্থিতিশীল রাখতে যে ভূমিকা রাখে, তা উপকূলীয় কৃষি জমি ও বসতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের উচিত অবৈধভাবে কেওড়া গাছ কাটা রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা এবং সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় একে আরও উৎসাহিত করা। যদি এই বনজ সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে এটি কেবল উপকূলের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে না, বরং লবণাক্ত অনাবাদি জমিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করে তুলে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে। সুন্দরবনের এই অনন্য ফলটিকে টিকিয়ে রাখার অর্থ হলো একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র ও উপকূলীয় ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত রাখা।
গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জে বীরমুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন
গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জে বীরমুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামধন গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন (৮২) অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ১৯ আগষ্ট বুধবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশ ঘটিকায নিজ বাসভবনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাযা পুর্ব এক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত আরা তুলি, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল জব্বার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামসহ প্রমুখ।উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ ইফফাত জাহান তুলি বলেন,মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন চার ছেলে ও এক কন্যা সন্তান সহ নাতি নাতনি রেখে গেছেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুতে তাকে শেষ বিদায় দেওয়ার জন্য জানাযায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে মহালছড়িতে নৌযান শুমারির উদ্বোধন
জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে মহালছড়িতে নৌযান শুমারির উদ্বোধন মোঃ কাউছারুল ইসলাম, মহালছড়ি প্রতিনিধি: ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়িতে নৌযান শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় মহালছড়ি মৎস্য আহরণ উপ-কেন্দ্রের সামনে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের ব্যবস্থাপনায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফানুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রিয়াসাদ উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম বকুল,মৎস কর্মকর্তা প্রবীণ চন্দ্র চাকমা, সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মানিক রঞ্জন খীসা, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছানোয়ার হোসেন, উপজেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের জোনাল অফিসার মোঃ এস এম নাসির উদ্দিন সহ নৌযান জড়িপের তথ্য সংগ্রহকারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকবৃন্দ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এ শুমারির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযানের প্রকৃত সংখ্যা, ধরন, ব্যবহার, মালিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন, নৌপথ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা জোরদার ও নীতিনির্ধারণে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নওগাঁয় নারীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দুই আসামি গ্রেপ্তার
নওগাঁয় নারীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা, ১২ ঘণ্টার মধ্যেই দুই আসামি গ্রেপ্তার মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেল্ট ও ভুক্তভোগীর জুতার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: ধামইরহাট উপজেলার মড়লই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) ও মো. তারেক রহমান (২১)। পুলিশ জানায়, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের একটি আমবাগান থেকে আগুনে পোড়া এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কাউসার আলী মরদেহটি তার মা মেরিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে অভিযান চালিয়ে প্রথমে বাবুল হোসেনকে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মেরিনা বেগমের সঙ্গে বাবুল হোসেনের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় নষ্ট করতে তার মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আরও দুইজন জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করছে।
সোনারগাঁয়ে ছুটির পর শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাস্তা মেরামতের অভিযোগ, রড ঢুকে ছাত্র আহত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাস্তা মেরামতের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অসাবধানতাবশত রড ঢুকে কাউসার হোসেন নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহত কাউসার হোসেন উপজেলার কলতাপাড়া এলাকার মোহাম্মদ কবির হোসেনের ছেলে। পরে তাকে মিরেরটেক সেবা হাসপাতালে নেওয়া হলে হাতে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কাউসার হোসেনের দাবি, স্কুল ছুটির পর শিক্ষকরা তাদের দিয়ে রাস্তা মেরামতের কাজ করান। প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত তার হাতে রড ঢুকে যায়। কাউসারের পরিবারের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাস্তা মেরামতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় এ কাজে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা। এদিকে বিদ্যালয়ের আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রাস্তা মেরামতের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০টি করে ইট অথবা ২০০ টাকা করে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শাহজালাল। তিনি বলেন, “আজ আমি একটু আগেই স্কুল থেকে চলে এসেছি। পরে ঘটনাটি শুনেছি। জানতে পেরেছি, কাজ শেষে খেলতে গিয়ে তার হাত কেটে গেছে। এরপর আমি ফোন করে তার খোঁজখবর নিয়েছি।” ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাস্তা মেরামতের কাজ করানোর অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করেছে পরিবারটি।
দুই বছরে রংপুরে ৪ জেলা প্রশাসক বদলি, ক্ষোভ-অসন্তোষ
দুই বছরে রংপুরে ৪ জেলা প্রশাসক বদলি, ক্ষোভ-অসন্তোষ রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মাত্র দুই বছরে রংপুরে চার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সময়ে চারজন নতুন জেলা প্রশাসককে পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে মোহাম্মদ এনামুল আহসান ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন মাত্র চার মাসের কিছু বেশি সময় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার জেলা প্রশাসক পরিবর্তনের ঘটনায় রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাস ১৩ দিনের মাথায় মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন অনেকে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসানকে ২০ আগস্ট প্রত্যাহার করা হয়। একই সঙ্গে মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালকে রংপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর প্রায় এক বছর দুই মাস দায়িত্ব পালনের পর মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালকে প্রত্যাহার করে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর মোহাম্মদ এনামুল আহসানকে জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাস ২০ দিনের মাথায় তাকেও পরিবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে রংপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়। তিনিও মাত্র চার মাস ১৩ দিন দায়িত্ব পালনের পর প্রত্যাহারের শিকার হন। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে মোহাম্মদ রুহুল আমিনের স্থলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মিজ ইশরাত জাহানকে রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এ পদে পদায়ন করা হয়। তিনি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। বারবার জেলা প্রশাসক পরিবর্তনের ফলে প্রশাসনের ধারাবাহিকতা ও জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, একজন জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে ঘন ঘন পরিবর্তন করা হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয়দের দাবি, রংপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগের প্রধান জেলায় জেলা প্রশাসক নিয়োগ ও প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে আরও স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।
৬ বছরের শিশুকে ধ/র্ষ/ণের অভিযোগে প্রতিবেশী দাদা গ্রে/প্তার
৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী দাদা গ্রেপ্তার হাসানুজ্জামান হাসান, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মজিব উদ্দিন সেলিম (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের আলাউদ্দিনগরের ইসলাম নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মোবাইল ফোন দেখানোর কথা বলে শিশুটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান একই এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে মজিব উদ্দিন সেলিম। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। মজিব উদ্দিন মমিনপুর দাখিল মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী এবং সম্পর্কে শিশুটির দাদা বলে জানা গেছে। ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পার্শ্ববর্তী হাতীবান্ধা উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি দল। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়ার পরই ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হাতীবান্ধা উপজেলা থেকে মজিব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।