বাংলাদেশ বার্তা টুডে
বারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি শামসু মেম্বার: শানখলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আস্থার প্রতীক
বারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি শামসু মেম্বার: শানখলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আস্থার প্রতীক আজিজুর রহমান (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার শানখলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য (মেম্বার) শামসুল হক সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তিনি পরপর দুইবার এই ওয়ার্ড থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।এলাকাবাসী জানান, শামসুল হক একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। এলাকার যেকোনো অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার। বিশেষ করে মাদক, জুয়া ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষ তাকে মেহনতি ও অবহেলিত মানুষের পরম বন্ধু মনে করেন।৮নং ওয়ার্ডের একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা যায়, শামসু মেম্বার শুধু একজন জনপ্রতিনিধিই নন, বরং এলাকার উন্নয়নের এক মূর্ত প্রতীক। রাস্তাঘাটের সংস্কার, কালভার্ট নির্মাণ এবং সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করেন, সুখে-দুঃখে শামসু মেম্বার সর্বদা তাদের পাশে থাকেন। গভীর রাতেও কেউ বিপদে পড়লে তাকে পাশে পাওয়া যায়। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের দাবি, শানখলা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শামসুল হকের মতো সৎ, যোগ্য ও সাহসী জনপ্রতিনিধির বিকল্প নেই। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটে পুনরায় নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সর্বস্তরের জনগণ।
নীলফামারীতে হত্যা মামলায় ২৪ ঘণ্টায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার
নীলফামারীতে হত্যা মামলায় ২৪ ঘণ্টায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি: নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাহাগিলী সন্ন্যাসীপাড়া (ঘাটেরপাড়) গ্রামের আকাশ রায় (২২), তার বাবা শ্যামল রায় (৪৫) এবং শ্যামলের স্ত্রী ববিতা রানী রায় (৪২)। র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত ৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে। এ সময় প্রতিবাদ করায় বাদীকে মারধর করা হয়। বাদীর ডাকচিৎকার শুনে তার বাবা-মা এগিয়ে এলে আসামিরা তার মাকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করে এবং বাবাকে মারধর করে জখম করে। একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে আহত ব্যক্তিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৬ আগস্ট বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে কাজল গীর (২৬) বাদী হয়ে ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৩। র্যাব-১৩ জানায়, মামলা দায়েরের পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১, সিপিএসসি, পোড়াবাড়ী, গাজীপুর এবং র্যাব-১৩, সিপিসি-২, নীলফামারীর যৌথ দল ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ডেল্টা গার্মেন্টসের বিপরীত পাশে ডেল্টার মোড় এলাকায় আলালের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে মামলা
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে মামলা হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউসুফ আলী নামে এক ক্লিনিকের পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা মামলাটি করেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে স্কুলছাত্রীকে তার বাড়িতে ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত ইউসুফ আলী উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাঞ্চনশ্বর কানার বাজার এলাকার মৃত আছমত আলীর ছেলে। তিনি রংপুর নিউ রূপসী বাংলা নামে একটি ক্লিনিকের পরিচালক। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজের ক্লিনিকে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার সুবাদে পরিবারটির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে ইউসুফ আলীর। গতকাল দুপুরে মা শহরে গেলে বাড়িতে একা ছিলেন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই ছাত্রী। তখন তার মায়ের মোবাইল নম্বর নেওয়ার অজুহাতে বাড়িতে ঢোকেন ইউসুফ। এরপর তিনি ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সে তার মাকে মুঠোফোনে ঘটনাটি জানায়। মা বাড়ি ফিরে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমার মেয়ের জীবন যে নষ্ট করেছে তাঁর বিচার চাই। আমরা গরিব মানুষ, আসামিরা প্রভাবশালী। তারা না কি টাকা দিয়ে সব কিনে ফেলেছে। তাই তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমি টাকার অভাবে অসুস্থ মেয়ের দুটি টেস্ট করাতে পারিনি। ওষুধ কেনারও টাকা নেই।’ কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
সোনারগাঁও আধিপত্য বিস্তার: বিএনপি অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র খুলে নেওয়ার ঘটনা
সোনারগাঁও আধিপত্য বিস্তার: বিএনপি অফিসের বিভিন্ন আসবাবপত্র খুলে নেওয়ার ঘটনা সোনারগাঁও ( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ের হামলা ভাংচুরের পর এবার আসবাপত্র ও জানালার গ্রীল লুট করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে । পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নং ওয়ার্ড কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এসব লুট করে নিয়ে যায়। এর আগে গত বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের সংষর্ষে ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খাঁন, আব্দুল লতিফসহ সহ ১০-১৫জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাস স্ট্যান্ডে পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলায় কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংর্ষষ হয়। সংঘর্ষে আব্দুর রউফ পক্ষের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়। অপর পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খাঁন, ডালিম আহত হয়। এদিকে সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রীল লুট করে নিয়ে যায়। সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলির পক্ষের আহত সবুর খাঁন বাদি হয়ে সোনারগাঁও থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচুত্য হওয়ার পর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করেন। বিরোধের জেরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে হামলা করে ভাংচুর করা হয়। পরে রাতে বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার টেবিল, কেবিনেটসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রীল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ভাংচুর করা হয়। অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আব্দুল রউফের স্ত্রী ও ছেলেরা বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার টেবিল ও জানালার গ্রীল পিকআপে করে নিয়ে গেছেন। উল্টো দলীয়ভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এ অপপ্রচার করা হচ্ছে। সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দলীয়ভাবে নিজেরা মিমাংসা করতে পারলে মামলার প্রয়োজন নেই। তবে মিমাংসা না হলে উভয় পক্ষের মামলা গ্রহন করা হবে। সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধে দলীয় কার্যালয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের মধ্যে হামলা সংঘর্ষ হয়। দলীয় পদ ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে এমপি সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
ধর্ষণ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় - ইলিয়াস হোসেন মাঝি
ধর্ষণ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় - ইলিয়াস হোসেন মাঝি নিজস্ব প্রতিনিধি: বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে রাষ্ট্রের ব্যর্থতায়। অপরাধের সামাজিক প্রতিরোধে ঘাটতির দায় সমাজের। ব্যাক্তির দোষ অনেকটাই পরিবারের। ধর্ষণের দায় ও নিতে হবে এই তিন পক্ষকেই। ধর্ষণ হল সম্মতি ছাড়া বল প্রয়োগের মাধ্যমে ঘটিত একটি জঘন্য যৌন নিপীড়ন ও অপরাধ। যা মানবতার চরম লঙ্ঘন। এটি কেবল শারীরিক নির্যাতন নয় বরং শিকারের মানসিক ও সামাজিক জীবনকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়। সমাজ থেকে এই অপরাধ দূর করতে কঠোর আইন প্রয়োগ, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা অপরিহার্য। অপরাধী সে যে বয়সেরই হোক, তাকে পাকড়াও করার দায়িত্ব পুলিশের। বিচার করবেন আদালত। তাই শুধুই পিতা-মাতার দোষ খুঁজে বেড়ালেই কর্তব্য কর্ম শেষ হয়ে যায় না। কেননা অপরাধ হয়ে গেলে দায়িত্ব চলে আসে নিরাপত্তা প্রশাসন ও বিচারালয়ের হাতে। তাই ধর্ষকের মতো অপরাধী ধরার বিষয় দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে পুলিশকে। করতে হবে যথাযথ তদন্ত। আর অপরাধ চূড়ান্ত করবে আদালত। ধর্ষকের সাজা কেমন হবে সেটার এখতিয়ার ও তাদের। কিন্তু অপরাধীকে যদি ধরাই না যায় কিংবা তদন্ত ও বিচার কাজ যদি বছরের পর বছর চলে যায় তবে সে ভুক্তভোগীর ভোগান্তির মাত্রা লম্বাই হতে থাকে। পুলিশ ও আদালতের বেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে রাষ্ট্রকে। কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় সবকিছু সার্বভৌম রাষ্ট্রের অধিকারে। ধর্ষণের দায় ও তাই কোন ক্রমেই এড়াতে পারে না সে। কারণ ধর্ষক ও তারই নাগরিক। তাকে সুনাগরিক করতে না পারার ব্যর্থতা পরিবার ও সমাজের শুধু নয়, রাষ্ট্রেরও বটে। ধর্ষণ মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। এটি ব্যক্তির স্বাধীনতা, সম্মান এবং মৌলিক মানবাধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। দিন দিন এই সামাজিক ব্যাধিটি বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মধ্যে ছিল অনেক ধর্ষক ও। তাদের শিকার হয় অন্তত দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার নারী। নিপীড়িত এই নারীদের সম্মান জানাতে গিয়ে এদেশের অনেক বক্তার দল প্রায়ই সম্ভ্রমহানি শব্দটি প্রয়োগ করে থাকেন। এখানে সম্ভ্রামহানি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ধর্ষকের লজ্জার ভাগ নিতে হয় ধর্ষণের শিকার নারীকেই। অথচ অন্য যেকোন অপরাধের বেলায় দোষ বলুন, লজ্জা বলুন সবই অপরাধীর। ধর্ষণের কারণ - ১/ নৈতিকতার অবক্ষয়: সমাজের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। ২/ আইনের প্রয়োগের দীর্ঘসূত্রতা: বিচার হীনতার সংস্কৃতি ও অপরাধীদের যথাসময়ে শাস্তি না হওয়া। ৩/ পর্নোগ্রাফি ও অপসংস্কৃতি: অবাধ তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং কুরুচিপূর্ণ বিনোদন যুব সমাজকে বিপথগামী করছে। ৪/ পুরুষ তান্ত্রিক মানসিকতা: নারীর প্রতি অবমূল্যায়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করার মানসিকতা। সমাজ এর প্রভাব - ১/ শারীরিক ক্ষতি: শিকারকে মারাত্মক শারীরিক আঘাত, জটিল রোগ এবং অনেক ক্ষেত্রে অবাঞ্চিত গর্ভধারণের শিকার হতে হয়। ২/ মানসিক ট্রমা: ভুক্তভোগী আজীবন ভয়, লজ্জা, বিষন্নতা, মানসিক অবসাদ এবং মানসিক অবসাদ বা ট্রামার মধ্যে থাকে। ৩/ সামাজিক অবক্ষয়: সমাজ অনেক সময় অপরাধীকে বাদ দিয়ে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করে যা পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে। প্রতিকার ও প্রতিরোধ - ১/ কঠোর আইন ও দ্রুত বিচার: ধর্ষণ রোধে বিদ্যমান আইনের নিরপেক্ষ ও দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ২/ সামাজিক আন্দোলন: অপরাধীদের সামাজিক ও আইনগতভাবে বয়কট করতে হবে এবং প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। ৩/ সচেতনতা বৃদ্ধি: পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছোটবেলা থেকেই নৈতিক শিক্ষা ও নারীর সম্মান বোধ শেখাতে হবে। ধর্ষণ কোনো সাধারণ অপরাধ নয় এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এই অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হলে দল মত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং একটি নিরাপদ বাসযোগ্য রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। লেখক: মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
নেত্রকোনায় পুলিশের অভিযানে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার
নেত্রকোনায় পুলিশের অভিযানে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা; নেত্রকোনার বারহাট্টা থানা পুলিশের অভিযানে যৌতুক নিরোধ মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক টিপু সুলতান নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরের দিকে তাকে নেত্রকোনা জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামি টিপু সুলতান নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা থানাধীন সাহতা গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে। তার বিরুদ্ধে নেত্রকোনা আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে সিআর- ৬৭১(১)২০২৫ নম্বর মামলা চলমান ছিল। এ মামলার বিচারকার্য শেষে আদালত আসামিকে ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। সাজা ঘোষণার পর থেকেই টিপু সুলতান গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিলেন। পরবর্তীতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারহাট্টা থানা পুলিশ জানতে পারে, সাজাপ্রাপ্ত আসামি টিপু সুলতান গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানা এলাকায় অবস্থান করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের একটি আভিযানিক দল জয়দেবপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম সাংবাদিকদের কাছে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, 'আসামি টিপু সুলতান যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে তাকে জয়দেবপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার তাকে নেত্রকোনা জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।'
শ্রীপুরের কচুবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫, আটক ৩
শ্রীপুরের কচুবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫, আটক ৩ আব্দুর রশিদ মোল্লা, শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কচুবাড়িয়া গ্রামে বুধবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন এবং ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খালপাড়ায় এক শিশুকে শাসনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হন। আহতরা হলেন- লিলি বেগম, রসূল মুন্সি, মোঃ ছমির, পাঞ্জাব ও মোঃ রিপন। তাদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (দারিয়াপুর) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শ্রীপুর থানার এসআই সুবির বলেন, "হাসপাতাল থেকে দুই পক্ষের ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
নেত্রকোনায় সরকারি প্রণোদনার সার দোকানে বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ীকে জরিমানা
নেত্রকোনায় সরকারি প্রণোদনার সার দোকানে বিক্রির অপরাধে ব্যবসায়ীকে জরিমানা রিপন কান্তি গুণ, নেত্রকোনা; নেত্রকোনার বারহাট্টায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) আওতায় বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত এমওপি সার দোকানে বিক্রির অভিযোগে এক সার ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের সার দোকানে কেন বিক্রি হবে? এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। উপজেলার গোপালপুর বাজারের 'মইন উদ্দিন ট্রেডার্স' নামের একটি দোকানে (২০ আগস্ট) বৃহস্পতিবার বিকালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বারহাট্টা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজেদুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এসময় প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা। অভিযান সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের গোপালপুর বাজারের 'মইন উদ্দিন ট্রেডার্স' নামক দোকানে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত এমওপি সার বিক্রি করে আসছিল। গোপনে তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) আওতায় বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত এমওপি সার বিক্রির অপরাধে মুমিন মিয়া নামক এক ব্যক্তিকে 'সার ব্যবস্থাপনা আইন-২০০৬' এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক সুরক্ষায় বারহাট্টা থানার একদল পুলিশ সদস্য উপস্থিত থেকে সহযোগিতা প্রদান করেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির (WFP) আওতায় প্রত্যেক কৃষককে ১০ কেজি এমওপি ও ১০ কেজি ডিএপি সার বিনামূল্যে বিতরণের কথা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বরাদ্দকৃত সার প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে পরিমাণ অনুযায়ী ওজন করে বিতরণ করার নিয়ম রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বারহাট্টা উপজেলায় ২ হাজার কৃষকের নামে সার ও বীজের প্রণোদনা বরাদ্দ থাকলেও তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের অনেকের নাম নেই। এতে সরকারি প্রণোদনার সুফল প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কৃষকদের দাবি, প্রণোদনার তালিকা পুনঃযাচাই করে প্রকৃত কৃষকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা এবং সরকারি সার অনিয়মের মাধ্যমে দোকানে বিক্রি হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্তদের তদারকি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য নির্ধারিত সার দোকানে বিক্রির ঘটনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বারহাট্টা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাজেদুল ইসলাম জানান, কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযান কসমেটিকস ও মাদক উদ্ধার, বাইক জব্দ
সীমান্তে ৬১ বিজিবির অভিযান কসমেটিকস ও মাদক উদ্ধার, বাইক জব্দ হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাদকদ্রব্য, ভারতীয় কসমেটিকস এবং একটি মোটরসাইকেল আটক করেছে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি)। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সীমান্ত এলাকায় বিজিবির বিশেষ টহল চলাকালে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, হাতীবান্ধা উপজেলার দোলাপাড়া এলাকায় প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে এক সন্দেহভাজন চোরাকারবারি দ্রুত পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে ২ বোতল ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। একই দিনে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এলাকার ম্যাক্স কোম্পানির সামনে আরেকটি পৃথক অভিযান চালায় বিজিবি। সেখান থেকে ২ হাজার ৩৭৬ পিস ভারতীয় কসমেটিকস উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এসব মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৪৪০ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি। হাতীবান্ধা থানায় পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের চোরাচালান ও মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবির এই কঠোর ও জিরো টলারেন্স অভিযান ভ
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও খতীব হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকীর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দুধরচকী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, একজন শিক্ষাবিদ, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং নীতিবান ব্যক্তি হিসাবে, তিনি এই নতুন দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অফিসের মর্যাদাকে আরও সমুন্নত রাখবেন। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বৃহত্তর সমৃদ্ধি, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি। আমি মহামান্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি এবং দায়িত্ব পালনে তার সাফল্য কামনা করি।
ঘুষ ছাড়া মেলে না ঋণ, সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: ধামইরহাটে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে ব্যাপক অনিয়ম
ঘুষ ছাড়া মেলে না ঋণ, সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: ধামইরহাটে ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে ব্যাপক অনিয়ম মোঃ মোস্তাকিন হোসেন ধামইরহাট উপজেলা প্রতিনিধি (নওগাঁ) নওগাঁর ধামইরহাটে সরকার নিবন্ধিত ‘ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’ (এসএফডিএফ) নামক সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ ও গ্রাহকের সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির ফিল্ড অফিসার আশিকুর রহমান এবং ব্যবস্থাপক (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কৃষকরা চরম হয়রানি ও আর্থিক শোষণের চিত্র তুলে ধরেছেন। ভুক্তভোগীদের বিস্ফোরক অভিযোগ উপজেলার একাধিক প্রান্তিক কৃষক জানান, সরকারের এই উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে ঋণ পেতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিতে হয় নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ। ঘুষ ছাড়া কোনো সাধারণ কৃষক এখান থেকে ঋণ পান না। আব্দুল মান্নান (ভুক্তভোগী কৃষক): তিনি জানান, পূর্বে ২,০০০ টাকা ঘুষ দিয়ে তিনি একটি ঋণ গ্রহণ করেছিলেন এবং নিয়মিত কিস্তিতে তা সম্পূর্ণ পরিশোধও করেছেন। পরবর্তীতে পুনরায় ঋণের জন্য আবেদন করলে তার নিকট ৫,০০০ টাকা ‘বকশিস’ বা ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানাভাবে মানসিক হয়রানি করা হয়। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। হাসান (ভুক্তভোগী সদস্য): তিনি অভিযোগ করে বলেন, নিয়মিত ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি সঞ্চয় বাবদ তিনি ১০,০০০ টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফিল্ড অফিসার আশিক ও ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম জানান যে, তার সঞ্চয়ের কোনো টাকাই জমা হয়নি! সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাৎ করায় তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অন্যান্য ভুক্তভোগী: অপর এক ভুক্তভোগী জানান, ফিল্ড অফিসার আশিকুর রহমান তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ১০,০০০ টাকা ঘুষ দিলে তবেই ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণ ছাড় করা হবে। ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, ঘুষ ছাড়া এই অফিসে কোনো কাজই হয় না। তারা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও বিচার দাবি করছেন। ব্যবস্থাপকের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে ধামইরহাট উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে কোনো ফিল্ড অফিসার যদি গ্রাহকদের সাথে এ ধরনের অনৈতিক লেনদেন করে থাকে এবং তার সত্যতা বা তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে গঠিত সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে ঘুষ বাণিজ্য ও সঞ্চয় আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গ্যাস সংকট, লোডশেডিং ও শিল্পের স্থবিরতা: জ্বালানি নিরাপত্তায় কোথায় আমাদের ঘাটতি?
গ্যাস সংকট, লোডশেডিং ও শিল্পের স্থবিরতা: জ্বালানি নিরাপত্তায় কোথায় আমাদের ঘাটতি? মোহাম্মদ হাসান বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর জ্বালানি সংকটের অভিঘাত আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে লোডশেডিং। রাজধানী থেকে গ্রাম—কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে, কোথাও গ্যাসের স্বল্পচাপে রান্নার চুলা জ্বলছে না। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে, কোনো কোনো কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ সংকটটি আর কেবল জ্বালানি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পোৎপাদন ও জনজীবনের সর্বত্র। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখলে বোঝা যায়, গ্যাস সরবরাহের ওপর বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের নির্ভরতা কতটা গভীর। এলএনজি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাস না পেলে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়। আর উৎপাদন কমলে বিদ্যুৎ চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান বাড়ে, যার অনিবার্য পরিণতি লোডশেডিং। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার খবর এবং গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকা শুধু অস্বস্তির বিষয় নয়; এটি শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু, প্রবীণ এবং কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সেবাখাতও ক্ষতির মুখে পড়ে। গ্যাস সংকটের মূল চিত্র বাংলাদেশের গ্যাস খাত দীর্ঘদিন ধরেই একটি কাঠামোগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একসময় দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দৈনিক উৎপাদন প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদন ধীরে ধীরে নিম্নমুখী হচ্ছে। বিপরীতে শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও নগরায়ণের কারণে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। এই ব্যবধান পূরণে ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়েছে। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ-এর মাধ্যমে আমদানি করা গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এই ব্যবস্থারও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। টার্মিনাল সংস্কার, কারিগরি ত্রুটি, কার্গো সংকট কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা—যেকোনো একটি কারণেই আমদানিনির্ভর সরবরাহব্যবস্থা চাপের মুখে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সংকট তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়া বা সক্ষমতার তুলনায় কম গ্যাস সরবরাহ করা মানেই জাতীয় গ্রিডে বিপুল পরিমাণ গ্যাসের ঘাটতি। আর সেই ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে বিভিন্ন খাতে রেশনিং করতে হয়। শিল্পে গ্যাস কমলে উৎপাদন কমে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে, আর আবাসিক এলাকায় চাপ কমলে রান্নার চুলা পর্যন্ত জ্বলে না। শিল্পের চাকা থেমে গেলে ক্ষতি শুধু মালিকের নয় নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর কিংবা ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলের চিত্র আমাদের জন্য সতর্কবার্তা। কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, কোথাও কারখানা পুরোপুরি বন্ধ, আবার কোথাও শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত কাঁচামাল পড়ে থাকছে, কিন্তু গ্যাসের অভাবে যন্ত্রপাতি চালানো যাচ্ছে না। একটি শিল্পকারখানা বন্ধ থাকা মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন বন্ধ থাকা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শ্রমিকের আয়, উদ্যোক্তার বিনিয়োগ, ব্যাংকঋণের কিস্তি, সরবরাহকারীর ব্যবসা, পরিবহন খাত এবং রাষ্ট্রের রাজস্ব। উৎপাদন কমে গেলে রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে উদ্যোক্তারা আর্থিক সংকটে পড়বেন এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গভীর। শিল্পোদ্যোক্তারা শুধু বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল দেন না; তাঁদের কাঁচামাল আমদানি, শ্রমিকের মজুরি, ব্যাংকঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ও অন্যান্য নির্ধারিত খরচ রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও এসব ব্যয় বন্ধ থাকে না। ফলে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট শিল্পের আর্থিক সক্ষমতাকে দ্রুত দুর্বল করে দিতে পারে। সংকট কি কেবল সাময়িক? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে আসে—এটি কি নিছক সাময়িক সরবরাহ সংকট, নাকি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট? বাস্তবতা বলছে, দুটিই সত্য। এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যা কিংবা কার্গো না আসার মতো তাৎক্ষণিক কারণ সংকটকে তীব্র করতে পারে। কিন্তু মূল সমস্যাটি আরও গভীরে। দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমছে, অথচ চাহিদা বাড়ছে। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আবার এলএনজি আমদানি করতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—সবকিছুই এই ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। অতএব, শুধু আরও কয়েকটি এলএনজি কার্গো আমদানি করে বর্তমান সংকট সামাল দেওয়া গেলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। আজকের ঘাটতি আগামীকাল আবার ফিরে আসতে পারে, যদি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি না আসে। জ্বালানি নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকার করতে হবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার সম্পর্ক সরাসরি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া শিল্পায়ন টেকসই হতে পারে না। নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বাড়ানো কিংবা উৎপাদনশীলতা উন্নত করা—সবকিছুর পূর্বশর্ত হলো নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ। তাই জ্বালানি খাতকে শুধু সংকট দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত পরিকল্পনা। প্রথমত, দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান আরও জোরদার করতে হবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোর সর্বোচ্চ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। দ্বিতীয়ত, এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টার্মিনাল ও পাইপলাইন অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। একটি টার্মিনালে সমস্যা দেখা দিলে যাতে পুরো সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত না হয়, সে জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, গ্যাস ব্যবহারে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক যুক্তি অনুসরণ করতে হবে। কোন খাতে কত গ্যাস যাবে, সংকটের সময়ে কীভাবে রেশনিং হবে এবং কোন খাতকে কীভাবে সুরক্ষা দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে একটি পূর্বনির্ধারিত ও জনসম্মুখে ব্যাখ্যাযোগ্য নীতি থাকা দরকার। চতুর্থত, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানির বহুমুখীকরণ করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন জরুরি। জনগণের দুর্ভোগকে পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে জ্বালানি সংকটের অর্থনৈতিক হিসাব গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর মানবিক মূল্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একজন মা যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা রান্নার চুলার পাশে বসে থাকেন, একজন সিএনজি চালক যখন গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেন, একজন শ্রমিক যখন কাজ না থাকায় কারখানার সামনে বসে থাকেন কিংবা একজন শিক্ষার্থী যখন বিদ্যুৎহীন ঘরে পড়াশোনা করতে বাধ্য হয়—তখন সংকটের প্রকৃত মূল্যটি বোঝা যায়। জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সাফল্য তাই শুধু উৎপাদনের পরিমাণ দিয়ে মাপা যাবে না। জনগণ কতটা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছে, শিল্প কতটা সচল থাকছে এবং অর্থনীতি কতটা স্থিতিশীল থাকছে—সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। সংকট থেকে শিক্ষা নেওয়ার সময় বর্তমান গ্যাস সংকটকে কেবল একটি সাময়িক দুর্ভোগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতাগুলো নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। দেশীয় গ্যাসের মজুত কমছে, চাহিদা বাড়ছে, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে—এই বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতাও ঝুঁকিতে পড়বে। তাই এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বাস্তবভিত্তিক জ্বালানি কৌশল; সাময়িক জোড়াতালি নয়, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ; সংকট দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া নয়, সংকটের আগেই প্রস্তুতি। বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতেই হবে। গ্যাসের চুলা জ্বলবে, কারখানার চাকা ঘুরবে এবং মানুষের ঘরে বিদ্যুতের আলো থাকবে—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো একই জ্বালানি নিরাপত্তার তিনটি অবিচ্ছেদ্য দিক। বর্তমান সংকট তাই আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে: জ্বালানি নিরাপত্তা কোনো খাতভিত্তিক বিষয় নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি, জনজীবন ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এখন প্রয়োজন সেই উপলব্ধিকে কার্যকর নীতি ও দূরদর্শী পরিকল্পনায় রূপ দেওয়া। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
সন্ত্রাসের ক্ষত ভুলে নয়, স্মৃতির শক্তিতে নিরাময়
সন্ত্রাসের ক্ষত ভুলে নয়, স্মৃতির শক্তিতে নিরাময় ২১ আগস্ট আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকারদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন দিবস সঞ্জয় মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি। সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম নেই, কোনো সীমান্ত নেই—কিন্তু এর ক্ষত থাকে মানুষের হৃদয়ে। একটি বিস্ফোরণ মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে একটি প্রাণ, ভেঙে দিতে পারে একটি পরিবার, থামিয়ে দিতে পারে অসংখ্য স্বপ্ন। সেইসব নিরপরাধ মানুষকে স্মরণ এবং তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতেই প্রতি বছর ২১ আগস্ট পালিত হয় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের শিকারদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন দিবস। জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসের মূল লক্ষ্য হলো সন্ত্রাসবাদের শিকার ও বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি সম্মান জানানো, তাদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং সন্ত্রাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা। ২০২৬ সালের দিবসটির প্রতিপাদ্য—“Healing through Memory”, অর্থাৎ “স্মৃতির মাধ্যমে নিরাময়”। জাতিসংঘের বার্তায় বলা হয়েছে, স্মরণ কেবল অতীতকে মনে রাখা নয়; এটি ক্ষত সারিয়ে ওঠা, পুনর্গঠন এবং নতুন আশার পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ মানুষ। কেউ হারান বাবা-মা, কেউ সন্তান, কেউ জীবনসঙ্গী; আবার অনেকে শারীরিক ও মানসিক ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকেন বছরের পর বছর। তাদের কাছে একটি সন্ত্রাসী হামলা কোনো পুরোনো সংবাদ নয়—এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা, প্রতিদিনের বেদনা। তাই এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানবিকতা, ন্যায়বিচার, সামাজিক সংহতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা ও বেসামরিক জনগণের সুরক্ষায় কাজ করা মানুষরাও প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সন্ত্রাসের জবাব যেন আরেকটি ঘৃণা না হয়—হোক মানবিকতা। যারা সন্ত্রাসের নির্মমতায় প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের স্মৃতি আমাদের কাছে কেবল শোকের নয়; বরং শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকারের প্রতীক। ২১ আগস্ট তাই শুধু স্মরণের দিন নয়—এটি প্রতিজ্ঞার দিন। প্রতিজ্ঞা হোক—সন্ত্রাসের শিকার মানুষদের আমরা ভুলব না, তাদের কণ্ঠকে নীরব হতে দেব না এবং এমন একটি বিশ্ব গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাব, যেখানে কোনো নিরপরাধ মানুষকে সহিংসতার কারণে তার জীবন, স্বপ্ন কিংবা প্রিয়জন হারাতে হবে না।
গাজীপুর জেলা পরিষদ'র সাবেক সদস্য শহিদুল কাদের নান্নুর মৃত্যু
গাজীপুর জেলা পরিষদ'র সাবেক সদস্য শহিদুল কাদের নান্নুর মৃত্যু আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুর জেলা পরিষদ'র সাবেক সদস্য শহিদুল কাদের (নান্নু)র মৃত্যু। (ইন্না----- রাজিউন) গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শফিউল কাদের (নান্নু) বুধবার রাতে প্রায় ১ টার সময় নরসিংদীর বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরলে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তবরত চিকিৎসক শফিউল কাদের (নান্নু)কে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত নান্নু কালীগঞ্জ পৌরসভার ঘোনাপাড়া এলাকার মরহুম নুরুদ্দিন মাষ্টারের জৈষ্ঠ্য পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি মা, ২ ভাই, ১ বোন,স্ত্রী, এক ছেলে রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট)বাদ জোহর ঘোনাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মরহুমের জানাজায় উপস্থিত হয়ে মরহুমের প্রতি স্মৃতিচারন করেন কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ লুৎফর রহমান, জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ হারুনউর রশিদ দেওয়ান, গাজীপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সোনারগাঁওয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ৭
সোনারগাঁওয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ৭ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ ৭ জন আহত হয়েছেন।বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকায় রাস্তায় ভারি যানবাহন চলাচলকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বা¯’্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁও থানায় মো. মহিউদ্দিন বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকায় ¯’ানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর হাল্কা যানবাহন চলাচলের জন্য একটি সড়ক নির্মাণ করেন। ওই সড়ক নির্মাণের পর থেকে একটি কোম্পানির ভারি যানবাহন চলাচল শুরু করে। ফলে সড়কটি বিভিন্ন ¯’ানে ভেঙে যায়। এ নিয়ে গত ১৩ মে এলাকাবাসীর গণ স্বাক্ষরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি স্বারকলিপি প্রদান করে। এসময় ইউএনও কার্যালয়ে উপ¯ি’ত নারী পুরুষকে ভারী যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ইউএনও আসিফ আল জিনাত এ বিষয়ে ব্যব¯’া নেওয়ার আশ্বাস দেন। ইউএনওর আশ্বাসে গ্রামবাসী ওই রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে বাধা প্রদান করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিমেন্ট ভর্তি একটি ট্রাক এ রাস্তা দিয়ে কোম্পানিতে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী বাধা দেয়। খবর পেয়ে কোম্পানির ঠিকাদার ও বিএনপির কর্মী আবুল হোসেন আবুর নেত...ত্বে ১০-১৫জনের একটি দল দেশিয় অস্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মাহমুদুল ইসলাম শুভ, মায়মুনা আক্তার, পারুল আক্তার, আরাফাত মিয়া, মুজাহিদ হোসেন, রাব্বী মিয়াসহ ৭জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বা¯’্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় আহত মাহমুদুল ইসলাম শুভ জানান, দীর্ঘদিন পর তাদের এলাকায় পাকা রাস্তা হয়েছে। এ রাস্তায় হাল্কা যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়। ভারি যানবাহন চলাচল করার কারনে কয়েক¯’ানে রাস্তা দেবে ভেঙ্গে যায়। ফলে ইউএনও কার্যালয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ইউএনও এ রাস্তায় ভারি যানবাহন চলাচল করলে বাধা দিতে পরামর্শ দেন। পরদিন থেকে ওই রাস্তায় ভারী যান চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার বাধা দেওয়ায় হামলার শিকার হয়েছি। সাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী ০১৭১০৩৩০০৯৪