বাংলাদেশ বার্তা টুডে
জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ রক্ষায় সাতক্ষীরায় যুব পানি কমিটির বৃক্ষরোপন
জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ রক্ষায় সাতক্ষীরায় যুব পানি কমিটির বৃক্ষরোপন শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ জলাবদ্ধতা, নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার মতো উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ৫০টি গাছের চারা রোপণ করেছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় উত্তরণ এসআরবিএম প্রকল্পের সহযোগিতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে আম, মেহগনি, আমড়া, বকুল, রেইনট্রি ও সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি বড় আকৃতির চারা রোপণ করা হয়। প্রতিটি গাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যার সুবিধার্থে পাশে ছোট ছোট সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়। তীব্র রোদ ও বৃষ্টির প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাসেবী তরুণেরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। রোপণ করা গাছগুলো শুধু লাগিয়ে রাখাই নয়, নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সেগুলোকে বড় করে তোলার দায়িত্বও নিয়েছে যুব পানি কমিটি। সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল বলেন, সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। নদী ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত পলি জমা এবং অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে টিআরএম বা জোয়ারাধার ব্যবস্থাপনা জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি কার্যকর নদীভিত্তিক সমাধান। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করা হয়। এতে নদীর পানি ধারণ ও নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়ে। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোকাররাম বিল্লাহ ইমন বলেন, টিআরএমের সুফল টেকসই করতে শুধু বিল ও নদী ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট নয়। নদী-খালের আশপাশে পরিকল্পিত সবুজায়ন, মাটির ক্ষয় রোধ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোও জরুরি। যুব পানি কমিটির সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম বলেন, তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ, নদী ও খাল সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৃক্ষরোপণের মতো পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। যুব পানি কমিটির সদস্যরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন ও টিআরএম কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য ইফতি জামিল, ইমতি জামিল, লামিয়া জেরিন, মো. সাইমুন হাসনাত, মাহাবুবুর রহমান, সিয়াম হোসেন, করিমন নেছা শান্তা, তাসনিহা জুই, মো. নাইমুর রহমান চৌধুরী, লামিয়া সুলতানা, আবু তাহের বিল্যাহ, মিলন কুমার রুদ্র, জাহাঙ্গীর আলম ও হাফিজা আফরোজ নীলা। এ ছাড়া এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের ফিল্ড অর্গানাইজার মো. গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সোনারগাঁও পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন অপরাধের ১৯ জন আটক
সোনারগাঁও পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন অপরাধের ১৯ জন আটক সোনারগাঁও( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী, জুয়া আইনে ও ডাকাতি মামলার আসামিসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ থানা এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৯ জন মাদকসেবী, ৯ জন জুয়া আইনে এবং ১ জন ডাকাতি মামলার আসামি রয়েছেন। মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তাররা হলেন রাজিব সমাদ্দার (৩৮), কাউসার মোল্লা (২৩), রাশেদ (২২), সাহারুল ইসলাম (২৮), শাওন (২০), মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪৯), মোঃ সুমন ইসলাম (২৩), মোফাজ্জল (৩৮) ও তরিকুল ইসলাম (৫৫)। এছাড়া জুয়া আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আমিরুল ইসলাম (৪৭), মোঃ সোহেল (৪৫), মোঃ শাহানুর (৩২), নুরুজ্জামান (৫০), মোঃ শাকিল (২৫), খোরশেদ আলী (৩৫), আতিকুর (৩০), আজাদুল ইসলাম (৩০) ও মোঃ আতোয়ার ইসলামকে (২৭)। অন্যদিকে ডাকাতি মামলার ঘটনায় মামুন (৩৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সোনারগাঁয়ের ঝাউচর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সোনারগাঁও সওজের জায়গায় অবৈধ পাঁচ শতাধিক দোকান উচ্ছেদ
সোনারগাঁও সওজের জায়গায় অবৈধ পাঁচ শতাধিক দোকান উচ্ছেদ সোনারগাঁও( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ফলের দোকানসহ পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার। অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে টংঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে তারা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সওজের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়কের সার্ভিস লেন ও ফিডার রোড সংকুচিত হয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছিলেন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার বলেন, “মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা এসব স্থাপনার কারণে যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল।” তিনি আরও বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ আবার সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবনের নিষিদ্ধ অভয়ারণ্যে মাছ ধরার অভিযোগে জাল-নৌকাসহ দুই জেলে আটক
সুন্দরবনের নিষিদ্ধ অভয়ারণ্যে মাছ ধরার অভিযোগে জাল-নৌকাসহ দুই জেলে আটক মোঃ নাজমুল ইসলাম সবুজ শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: পূর্ব সুন্দরবনের শেলারচর টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন অভয়ারণ্যের নিষিদ্ধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল ও দুটি নৌকাসহ দুই জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে শেলারচরের ছাপড়াখালি খাল থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত জেলেরা হলেন— বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের সরোয়ার হোসেন (৩০) ও আইয়ুব আলী (২৮)। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)-র নির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি টিম ছাপড়াখালি খালে টহল দেওয়ার সময় অসাধু জেলেদের মাছ ধরতে দেখে। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা নৌকা থেকে লাফিয়ে বনের গহীনে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে বনরক্ষীরা দুটি নৌকা ও মাছ ধরার জালসহ ওই দুই জেলেকে হাতেনাতে আটক করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, আটক জেলেরা বন আইন অমান্য করে সুন্দরবনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্যের নিষিদ্ধ খালে বেআইনিভাবে মাছ ধরছিল। পরিবেশ ও বনজ সম্পদ রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বন আইনে মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর যোগসাজসে এডিবি'র ১২ কোটি টাকার স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়ম
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর যোগসাজসে এডিবি'র ১২ কোটি টাকার স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়ম। বান্দরবানে পৌর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন স্যানিটেশন (ল্যাট্রিন) নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দৃশ্যমান এসব অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এইসব অনিয়মের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বান্দরবান বিভাগের প্রৌকোশলী অনুপম দে–কে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি উল্টো। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আস্কারা দিয়ে গেছেন এমনই অভিযোগ স্থানীয় উপকারভোগীদের। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই নির্মাণ কাজ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছেন ‘লাকী এন্টারপ্রাইজ’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মো. নাছির। এবং কাজের তদারকি করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে মো. সাদ্দাম হোসেন নামের স্থানীয় প্রতিনিধি। বান্দরবান পৌরসভার বনরূপা সিদ্দিক নগর এলাকার উপকারভোগীদের অভিযোগ, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে নামমাত্র মূল্যের নিম্নমানের ইট, বালুর পরিবর্তে মাটি, পুরাতন রড, সিমেন্ট ও নিম্নমানের কংক্রিট দিয়ে ঢালাই কাজ চালানো হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণকাজে সরকারের নির্ধারিত শিডিউল বা প্রাক্কলন মানা হচ্ছে না। ঢালাইয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিমেন্ট ও ভালো মানের খোয়া না দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার পাঁয়তারা চলছে। স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, প্রকল্পের ব্যাবহারিত সামগ্রী ইট, বালু, সিমেন্ট ও কংক্রিট, এবং সেফটি ট্যাংকির মালামাল পরিবহন কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ অর্থায়নে শ্রমিক ব্যাবহার না করে উপকারভোগী বাড়ির সদস্যদের দ্বারা জোরপূর্বক ভাবে বহনের কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। এসব বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বনরূপা সিদ্দিক নগর এলাকার উপকারভুগী ড্রাইভার মুসলিম উদ্দিন। স্থানীয়রা আরো জানান, তড়িঘড়ি করে কাজ করার সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়লেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ না করার হুমকি দিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সঠিকভাবে তদারকি না করায় ঠিকাদাররা ইচ্ছেমতো নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ পাচ্ছেন। এই বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার মোঃ নাছির উদ্দিনের ম্যানেজার কাজল সেন জানান, প্রকল্পের কাজে কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ নেই। আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, “দরিদ্র ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা থাকলেও কোথাও সচ্ছল ব্যক্তি, প্রভাবশালী মহলের স্বজন এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসবের তালিকা কীভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে, কারা পরিবর্তন করেছে এবং প্রকল্পের অর্থ ও কাজের অগ্রগতি কীভাবে তদারকি করা হচ্ছে এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর চান স্থানীয়রা।
মঠবাড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, ২ ককটেল উদ্ধার
সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া : রাতের আঁধারে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিঠাখালী আলম বাজার এলাকায় অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর কার্যালয়টির ভেতর থেকে লাল টেপ মোড়ানো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গভীর রাতে একদল অজ্ঞাত পরিচয় লোক কার্যালয়ের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কার্যালয়ে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ার ও একটি এলইডি টেলিভিশন ভাঙচুরসহ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি কার্যালয় থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভাঙচুরের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দুটি ভাঙা চেয়ার, একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলইডি টেলিভিশন, একটি ভাঙা তালা এবং দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল আলামত হিসেবে জব্দ করে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন ফরাজী বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করি। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।" বিষয়টি নিশ্চিত করে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনা: মাজারে যাওয়ার পথে অটোরিকশা উল্টে ব্যবসায়ী নিহত
মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনা: মাজারে যাওয়ার পথে অটোরিকশা উল্টে ব্যবসায়ী নিহত হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মনতলা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুলাল দেব (৫০) নিহত হয়েছেন। আজ বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাতছড়ি-চাকলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত দুলাল দেব মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের পানিহাতা গ্রামের মৃত মনমোহন দেবের ছেলে। তিনি মনতলা বাজারের একজন সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে দুলাল দেব একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে হযরত নাসির উদ্দিন সিপাহসালার (র.) মাজারে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাতছড়ি-চাকলা এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে তিনি গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে।এদিকে, মনতলা বাজারের বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ীর আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, দুর্ঘটনা কবলিত যানটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পল্টুন সরিয়ে নেওয়ায় বড়মাছুয়া রকেট ঘাটে নৌযুগের সমাপ্তি
পল্টুন সরিয়ে নেওয়ায় বড়মাছুয়া রকেট ঘাটে নৌযুগের সমাপ্তি সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া : বলেশ্বর নদীর তীরে মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট থেকে পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে পন্টুনটি বরিশালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ঘাটের শেষ দৃশ্যমান স্মৃতিচিহ্নটিও সরে গেল। একসময় স্টিমারের হুইসেল, যাত্রীদের ভিড় ও পণ্য ওঠানামায় সরগরম থাকা এ ঘাট এখন নিস্তব্ধ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট নির্মাণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার সুবিধার্থে ঘাটে পন্টুন ও বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়। একসময় বড়মাছুয়া ছিল দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ ঘাট দিয়ে নৌপথে যাতায়াত করতেন। ঢাকা, বরিশাল ও খুলনাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্যও এ ঘাট দিয়ে পরিবহন করা হতো। স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্টিমার চলাচলের সময় ঘাট এলাকায় প্রতিদিনই ছিল ব্যস্ততা। নির্দিষ্ট সময়ে স্টিমারের হুইসেল শুনলেই যাত্রী ও স্বজনদের ছোটাছুটি শুরু হতো। কেউ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন, কেউ আসতেন স্বজনকে বিদায় জানাতে। স্টিমার ছেড়ে যাওয়ার পর নদীর তীরে আবার নেমে আসত অপেক্ষাকৃত নীরবতা। তবে সময়ের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্টিমার সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড়মাছুয়া ঘাটের গুরুত্ব কমতে থাকে। নৌপথে যাত্রী পরিবহন বন্ধ হওয়ার পর পন্টুনটি দীর্ঘদিন ঘাটে পড়ে ছিল। সেটিই হয়ে উঠেছিল হারিয়ে যাওয়া নৌযাতায়াতের একটি স্মারক। বুধবার সেটিও সরিয়ে নেওয়ায় ঘাটের পুরোনো চেহারার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না। বলেশ্বরের তীরে এখন রয়েছে ঘাটের স্থান ও সেই সময়ের স্মৃতি। স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, বড়মাছুয়া ঘাট শুধু একটি নৌযান ওঠানামার স্থান ছিল না, এ অঞ্চলের মানুষের জীবনের সঙ্গে এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। কর্মসংস্থান, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করেছেন। প্রবীণ কৃষক অমল রায় বলেন, নৌযুগের অবসান হলেও বড়মাছুয়া ঘাটের সেই ব্যস্ত সময়ের স্মৃতি স্থানীয় মানুষের কাছে অমলিন হয়ে থাকবে। সময়ের স্রোতে পন্টুনটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বলেশ্বরের তীরে স্টিমারের হুইসেলে মুখর সেই দিনগুলোর গল্প থেকে যাবে মানুষের স্মৃতিতে। মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতাউর রাব্বি বলেন, দেশের একমাত্র প্যাডের সমৃদ্ধ নৌযানটি আর্থির লোকসানের কারনে সরকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে ঘাটটি অব্যবহৃত পড়ে ছিল। বুধবার নৌকর্তৃপক্ষ রকেট ঘাটটি বরিশালে স্থানান্তরিত করে নেয়।
সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ বনদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এ প্রেক্ষিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের নিকট জমা প্রদান করে। আত্মসমর্পণকারী ডাকাত জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা এবং শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মো: ছাব্বির হাসান,নওগাঁ বিশেষ প্রতিনিধি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় আইন অনুযায়ী যে কোনো দলের যোগ্যতা থাকা সব বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ, দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে দল সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যেন সঠিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের বার্তা কী—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মেসেজ ক্লিয়ার। যেহেতু এটি দলীয় নির্বাচন নয়, ফলে এই নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে যাদের যোগ্যতা আছে আইন অনুযায়ী তারা সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যা যা করা প্রয়োজন তা করতে জনগণের সরকার এবং সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে।
অভিযানে পালালেন কথিত সাংবাদিক শাহীন পাঁচবিবিতে ৬৫৬ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ স্ত্রী আটক
অভিযানে পালালেন কথিত সাংবাদিক শাহীন পাঁচবিবিতে ৬৫৬ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ স্ত্রী আটক মোস্তাকিন হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় মোছা. উম্মে হাবিবা নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি কথিত সাংবাদিক ও মাদক ব্যবসায়ী মো. শাহীন আলমের স্ত্রী বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে অভিযানের সময় শাহীন আলম পালিয়ে যান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জয়পুরহাট ২০ বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) অধিনায়কের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম উচনা গ্রামে হাবিবুর রহমানের ছেলে শাহীন আলমের (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ৩৩ হাজার ৭৯৭ টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বিজিবির হিসাবে জব্দ করা আলামতের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭ টাকা। বিজিবি জানায়, অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে শাহীন আলম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে তাকে মামলায় পলাতক আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী উম্মে হাবিবাকে আটক করে আসামি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শাহীন আলম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় চলাফেরা করতেন। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের হিলি স্থলবন্দর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। বিজিবির দাবি, শাহীন আলম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আওয়ামীলীগের সময়ে তার বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো এবং স্থানীয়ভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বলে জানায় বিজিবি। এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগের বরাত দিয়ে বিজিবি জানায়, শাহীন আলম কথিত একটি গ্যাংয়ের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। বিজিবি আরও দাবি করেছে, শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় বা স্পর্শকাতর তথ্য ভারতে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযান শেষে আটক উম্মে হাবিবা এবং উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও ধারালো অস্ত্র পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ২০ বিজিবি। এ ঘটনায় পলাতক শাহীন আলমকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি: গাইবান্ধায় দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা
ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি: গাইবান্ধায় দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা গাইবান্ধা প্রতিনিধি: ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি এবং ক্যাশমেমোতে উল্লেখিত সারের পরিমাণের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রিত সারের পরিমাণের অসঙ্গতি পাওয়ায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুই বিসিআইসি সার ডিলারকে মোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—মেসার্স আতাউর রহমান ও মেসার্স সাইদার রহমান ট্রেডার্স। এর মধ্যে মেসার্স আতাউর রহমানকে ৩০ হাজার টাকা এবং মেসার্স সাইদার রহমান ট্রেডার্সকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছে সার বিক্রির সময় যথাযথভাবে ক্যাশমেমো প্রদান না করা এবং ক্যাশমেমোতে উল্লেখিত সারের পরিমাণের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রিত সারের পরিমাণের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার বিক্রিতে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও কৃষকদের হয়রানি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সার বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল সার ব্যবসায়ীকে সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
আজ আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস
আজ আন্তর্জাতিক আত্বহত্যা প্রতিরোধ দিবস নীরব মহামারি: শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার, নেপথ্য কারণ ও সামাজিক বাস্তবতা শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী (শিপন) প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বজুড়ে এই দিবসের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হলেও আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার মতো বিষয়গুলো এখনো উপেক্ষিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোর উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে তরুণেরা, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি মানসিক ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত আত্মহননের মতো চরম পথ বেছে নিচ্ছেন। বিগত ১ বছরে আত্মহত্যার চিত্র: কতজন ও কারা? আঁচল ফাউন্ডেশনের হালনাগাদ সমীক্ষাতথ্য অনুযায়ী, বিগত ১ বছরে দেশের ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন (এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৫১৩ জন)। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩৩ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যু ঘটছে। এই পরিসংখ্যানকে স্তর ও লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: শিক্ষার স্তরভিত্তিক বিন্যাস: স্কুলগামী শিক্ষার্থী: ১৯০ জন (৪৭.৪%) আত্মহত্যার শীর্ষে রয়েছে কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীরা। কলেজ শিক্ষার্থী: ৯২ জন (২২.৮%),বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী: ৭৭ জন (১৯.১%) (যার মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি),মাদ্রাসা শিক্ষার্থী: ৪৪ জন (১০.৭%) লিঙ্গভিত্তিক হার : নারী শিক্ষার্থী: ২৪৯ জন (৬১.৮%),পুরুষ শিক্ষার্থী: ১৫৪ জন (৩৮.২%) (স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের হার সামান্য বেশি।) বয়সভিত্তিক বিন্যাস ঃ সর্বাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে (প্রায় ৬৬.৫%)। গবেষণা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী আত্মহত্যার নেপথ্যে প্রধানত নিম্নলিখিত কারণগুলো কাজ করেঃ ১. একাডেমিক চাপ ও পরীক্ষার ফলাফল (পরীক্ষায় ফেল বা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া): বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরপরই আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২. মানসিক নির্যাতন, অপমান ও সাইবার বুলিং: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া, চুরির অপবাদ দেওয়া কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কটূক্তির শিকার হওয়া। ৩. আবেগীয় সংকট ও সম্পর্কঘটিত টানাপোড়েন: প্রেমঘটিত বিচ্ছেদ, সম্পর্কে প্রতারণা কিংবা অভিমান। ৪. পারিবারিক কলহ ও অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ: অভিভাবক ও সমাজের অতিরিক্ত প্রত্যাশা, পরিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা ও পারিবারিক সহিংসতা। ৫. যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল: সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়া এবং বিচারের আশাহীনতা। ৬. আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ: পরিবারে চরম আর্থিক দৈন্য বা এনজিও ঋণের জাঁতাকলে নাভিশ্বাস ওঠা। এই কারণগুলো কতটা যুক্তিযুক্ত বা সংগত? মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ‘আত্মহত্যা কোনো যুক্তিযুক্ত সমাধান নয়’—তবে একজন সংকটাপন্ন মানুষের মানসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করা জরুরি: ব্যর্থতা নাকি ব্যবস্থার ত্রুটি? শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষায় ফেল করে বা কাঙ্ক্ষিত জিপিএ পায় না, তখন তারা মনে করে তাদের জীবনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এটি তাদের একক ব্যর্থতা নয়; বরং আমাদের একমুখী জিপিএ-কেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা। সমাজ ও পরিবার সফলতার একটি সংকীর্ণ সংজ্ঞা চাপিয়ে দেয়, যার ফলে শিশুরা হেরে যাওয়াকে সহ্য করতে পারে না। বয়ঃসন্ধিকালের আবেগপ্রবণতা: ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে মস্তিষ্কের গঠনগত ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে কিশোর-কিশোরীরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ থাকে। তাদের ‘আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা’ (ঊছ) এবং সংকট মোকাবিলার সহনশীলতা (জবংরষরবহপব) কম থাকে। এ কারণে সাময়িক অপমান, বকাঝকা বা প্রেমঘটিত বিচ্ছেদকে তারা জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে ভুল করে। সামাজিক লজ্জা ও আশাহীনতা: বিষণ্নতা বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে আমাদের সমাজে ‘পাগলামি’ বা ‘দূর্বলতা’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে একজন ব্যক্তি যখন মানসিক কষ্টে ভোগে, তখন সে কারো সাহায্য চাইতে পারে না। চরম আশাহীনতা (ঐড়ঢ়বষবংংহবংং) থেকে সে মনে করে মৃত্যুই একমাত্র মুক্তি। সাইবার বুলিং ও সামাজিক বিচার: অনলাইনে বা সমাজে যখন কাউকে অপবাদ দেওয়া হয় বা হেয় করা হয়, তখন সমাজ তার পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাকেই অভিযুক্ত করে। এই বিচারহীনতা ও লোকলজ্জার ভয় মানুষকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। উত্তরণ ও করণীয় ১. মনোভাবের পরিবর্তন: জিপিএ বা প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যই জীবনের শেষ কথা নয়—এই বার্তা শিশু বয়স থেকেই পরিবার ও স্কুলে দিতে হবে। ২. প্যারেন্টাল এডুকেশন: অভিভাবকদের সন্তানদের মানসিক পরিবর্তন বুঝতে হবে। তুচ্ছ কারণে বকাঝকা, তুলনা করা কিংবা বাল্যবিবাহের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ৩. প্রাতিষ্ঠানিক কাউন্সেলিং: প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিট চালু রাখা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা। ৪. সাইবার সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা: অনলাইনে হেনস্তা বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকারদের দ্রুিক আইনি ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের জীবন রক্ষা করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র ও সংবেদনশীল সমাজের দায়িত্ব।
বাহুবলে হাসপাতাল কোওর্ডিনেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভা ধ্বংস
বাহুবলে হাসপাতাল কোওর্ডিনেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভা ধ্বংস। হবিগঞ্জপ্রতিনিধি:(আজিজুর রহমান) হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল কোওর্ডিনেশন কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর ১২ টার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হল রুমে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতালের সেবামূলক কার্যক্রমের মানোন্নয়নে নানামুখী দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান বৃদ্ধি, রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। কোওর্ডিনেশন কমিটির সভা শেষে সিভিল সার্জন বাহুবল উপজেলার বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি ক্লিনিকগুলোর সেবার মান, লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা যাচাই করেন এবং সরকারি নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার তাগিদ দেন। এদিকে, বাহুবল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ব টেকনিশিয়ানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে অভিযান চালায়। অভিযানকালে লার্ভা জন্মানোর বিভিন্ন সম্ভাব্য উৎস ও প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয় এবং স্থানীয় জনসাধারণকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করা হয়।
সোনারগাঁও খেলনা পিস্তল সহ আটক ৪
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে একটি খেলনা পিস্তল (গ্যাস লাইটার)সহ চারজনকে আটক করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জামপুর ইউনিয়নের মিরেরটেক সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার পূর্ব পাশে আলমপুরাগামী পাকা সড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই নাসির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ‘মাইক সেভেন’ ডিউটি পালনকালে ওই এলাকায় একটি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেন। পুলিশের সংকেত অমান্য করে অটোরিকশাটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে অটোরিকশাসহ চারজনকে আটক করেন। পরে সংবাদ পেয়ে এসআই সেলিমসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করেন। এ সময় জামপুর ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে আমিনুল মানিক (২০)-এর পরিহিত প্যান্টের ডান কোমর থেকে একটি লোহার তৈরি পিস্তল সদৃশ গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বস্তুটির রিসিভারের পেছনে ও এক পাশে ইংরেজিতে ‘XINSHI… MADE IN CHINA’ লেখা এবং গোল চিহ্নের মধ্যে ‘GC’ লেখা রয়েছে। এছাড়া এতে ট্রিগার গার্ড, ব্যারেলের সামনের অংশে কালো কস্টেপ এবং গ্রিপারে বিভিন্ন দাগ রয়েছে। আটক অপর তিনজন হলেন একই এলাকার মৃত হানিফের ছেলে ইমন (১৯), নবী হোসেনের ছেলে আলামিন (১৯) এবং কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা, বর্তমানে কলাপাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসকারী আব্দুল ইসলামের ছেলে সাব্বির (২০)। তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এইচ এম মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘উদ্ধারকৃত খেলনা পিস্তল ও অটোরিকশা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’