বাংলাদেশ বার্তা টুডে
মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনা: মাজারে যাওয়ার পথে অটোরিকশা উল্টে ব্যবসায়ী নিহত
মাধবপুরে সড়ক দুর্ঘটনা: মাজারে যাওয়ার পথে অটোরিকশা উল্টে ব্যবসায়ী নিহত হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মনতলা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দুলাল দেব (৫০) নিহত হয়েছেন। আজ বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাতছড়ি-চাকলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত দুলাল দেব মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নের পানিহাতা গ্রামের মৃত মনমোহন দেবের ছেলে। তিনি মনতলা বাজারের একজন সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে দুলাল দেব একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে হযরত নাসির উদ্দিন সিপাহসালার (র.) মাজারে জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সাতছড়ি-চাকলা এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে তিনি গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে।এদিকে, মনতলা বাজারের বিশিষ্ট এই ব্যবসায়ীর আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, দুর্ঘটনা কবলিত যানটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পল্টুন সরিয়ে নেওয়ায় বড়মাছুয়া রকেট ঘাটে নৌযুগের সমাপ্তি
পল্টুন সরিয়ে নেওয়ায় বড়মাছুয়া রকেট ঘাটে নৌযুগের সমাপ্তি সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া : বলেশ্বর নদীর তীরে মঠবাড়িয়ার বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট থেকে পন্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে পন্টুনটি বরিশালের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ঘাটের শেষ দৃশ্যমান স্মৃতিচিহ্নটিও সরে গেল। একসময় স্টিমারের হুইসেল, যাত্রীদের ভিড় ও পণ্য ওঠানামায় সরগরম থাকা এ ঘাট এখন নিস্তব্ধ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট নির্মাণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামার সুবিধার্থে ঘাটে পন্টুন ও বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়। একসময় বড়মাছুয়া ছিল দক্ষিণাঞ্চলের নৌযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এ ঘাট দিয়ে নৌপথে যাতায়াত করতেন। ঢাকা, বরিশাল ও খুলনাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্যও এ ঘাট দিয়ে পরিবহন করা হতো। স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্টিমার চলাচলের সময় ঘাট এলাকায় প্রতিদিনই ছিল ব্যস্ততা। নির্দিষ্ট সময়ে স্টিমারের হুইসেল শুনলেই যাত্রী ও স্বজনদের ছোটাছুটি শুরু হতো। কেউ গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন, কেউ আসতেন স্বজনকে বিদায় জানাতে। স্টিমার ছেড়ে যাওয়ার পর নদীর তীরে আবার নেমে আসত অপেক্ষাকৃত নীরবতা। তবে সময়ের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্টিমার সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড়মাছুয়া ঘাটের গুরুত্ব কমতে থাকে। নৌপথে যাত্রী পরিবহন বন্ধ হওয়ার পর পন্টুনটি দীর্ঘদিন ঘাটে পড়ে ছিল। সেটিই হয়ে উঠেছিল হারিয়ে যাওয়া নৌযাতায়াতের একটি স্মারক। বুধবার সেটিও সরিয়ে নেওয়ায় ঘাটের পুরোনো চেহারার আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না। বলেশ্বরের তীরে এখন রয়েছে ঘাটের স্থান ও সেই সময়ের স্মৃতি। স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, বড়মাছুয়া ঘাট শুধু একটি নৌযান ওঠানামার স্থান ছিল না, এ অঞ্চলের মানুষের জীবনের সঙ্গে এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। কর্মসংস্থান, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষ এ ঘাট ব্যবহার করেছেন। প্রবীণ কৃষক অমল রায় বলেন, নৌযুগের অবসান হলেও বড়মাছুয়া ঘাটের সেই ব্যস্ত সময়ের স্মৃতি স্থানীয় মানুষের কাছে অমলিন হয়ে থাকবে। সময়ের স্রোতে পন্টুনটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বলেশ্বরের তীরে স্টিমারের হুইসেলে মুখর সেই দিনগুলোর গল্প থেকে যাবে মানুষের স্মৃতিতে। মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আতাউর রাব্বি বলেন, দেশের একমাত্র প্যাডের সমৃদ্ধ নৌযানটি আর্থির লোকসানের কারনে সরকার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে ঘাটটি অব্যবহৃত পড়ে ছিল। বুধবার নৌকর্তৃপক্ষ রকেট ঘাটটি বরিশালে স্থানান্তরিত করে নেয়।
সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ সক্রিয় সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়েছেন তারা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ বনদস্যুকে আটক করা হয়। এ সময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এ প্রেক্ষিতে গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২টি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের নিকট জমা প্রদান করে। আত্মসমর্পণকারী ডাকাত জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা এবং শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন। সুন্দরবনের সব সক্রিয় বনদস্যুকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি। কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী
যে কোনো দলের বৈধ প্রার্থী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মো: ছাব্বির হাসান,নওগাঁ বিশেষ প্রতিনিধি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় আইন অনুযায়ী যে কোনো দলের যোগ্যতা থাকা সব বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে তো আওয়ামী লীগ হিসেবে নির্বাচন করছে না। দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগই নেই। কারণ, দলীয় মনোনয়নও থাকছে না, দলীয় প্রতীকও থাকছে না। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে দল সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। উপজেলা বিএনপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে একজন সমর্থিত প্রার্থী ঠিক করে দিতে পারে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকেও স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের ভূমিকা থাকবে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না। বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা নির্বাচন করবে, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং তারা যেন সঠিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন সহযোগিতা করবে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের বার্তা কী—জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের মেসেজ ক্লিয়ার। যেহেতু এটি দলীয় নির্বাচন নয়, ফলে এই নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে যাদের যোগ্যতা আছে আইন অনুযায়ী তারা সবাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যা যা করা প্রয়োজন তা করতে জনগণের সরকার এবং সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে।
অভিযানে পালালেন কথিত সাংবাদিক শাহীন পাঁচবিবিতে ৬৫৬ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ স্ত্রী আটক
অভিযানে পালালেন কথিত সাংবাদিক শাহীন পাঁচবিবিতে ৬৫৬ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ স্ত্রী আটক মোস্তাকিন হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় মোছা. উম্মে হাবিবা নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি কথিত সাংবাদিক ও মাদক ব্যবসায়ী মো. শাহীন আলমের স্ত্রী বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে অভিযানের সময় শাহীন আলম পালিয়ে যান। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জয়পুরহাট ২০ বিজিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) অধিনায়কের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স পাঁচবিবি উপজেলার পশ্চিম উচনা গ্রামে হাবিবুর রহমানের ছেলে শাহীন আলমের (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৬৫৬ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ৩৩ হাজার ৭৯৭ টাকা, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বিজিবির হিসাবে জব্দ করা আলামতের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৭ টাকা। বিজিবি জানায়, অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে শাহীন আলম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে তাকে মামলায় পলাতক আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী উম্মে হাবিবাকে আটক করে আসামি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শাহীন আলম নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় চলাফেরা করতেন। স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের হিলি স্থলবন্দর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। বিজিবির দাবি, শাহীন আলম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আওয়ামীলীগের সময়ে তার বিরুদ্ধে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখানো এবং স্থানীয়ভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে বলে জানায় বিজিবি। এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগের বরাত দিয়ে বিজিবি জানায়, শাহীন আলম কথিত একটি গ্যাংয়ের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতেন এবং স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন। বিজিবি আরও দাবি করেছে, শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় বা স্পর্শকাতর তথ্য ভারতে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযান শেষে আটক উম্মে হাবিবা এবং উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও ধারালো অস্ত্র পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঁচবিবি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ২০ বিজিবি। এ ঘটনায় পলাতক শাহীন আলমকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি: গাইবান্ধায় দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা
ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি: গাইবান্ধায় দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা গাইবান্ধা প্রতিনিধি: ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি এবং ক্যাশমেমোতে উল্লেখিত সারের পরিমাণের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রিত সারের পরিমাণের অসঙ্গতি পাওয়ায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুই বিসিআইসি সার ডিলারকে মোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়। জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—মেসার্স আতাউর রহমান ও মেসার্স সাইদার রহমান ট্রেডার্স। এর মধ্যে মেসার্স আতাউর রহমানকে ৩০ হাজার টাকা এবং মেসার্স সাইদার রহমান ট্রেডার্সকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছে সার বিক্রির সময় যথাযথভাবে ক্যাশমেমো প্রদান না করা এবং ক্যাশমেমোতে উল্লেখিত সারের পরিমাণের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রিত সারের পরিমাণের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার বিক্রিতে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও কৃষকদের হয়রানি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং সার বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল সার ব্যবসায়ীকে সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
আজ আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস
আজ আন্তর্জাতিক আত্বহত্যা প্রতিরোধ দিবস নীরব মহামারি: শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার, নেপথ্য কারণ ও সামাজিক বাস্তবতা শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী (শিপন) প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বজুড়ে এই দিবসের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হলেও আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার মতো বিষয়গুলো এখনো উপেক্ষিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোর উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশে তরুণেরা, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি মানসিক ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং প্রতিনিয়ত আত্মহননের মতো চরম পথ বেছে নিচ্ছেন। বিগত ১ বছরে আত্মহত্যার চিত্র: কতজন ও কারা? আঁচল ফাউন্ডেশনের হালনাগাদ সমীক্ষাতথ্য অনুযায়ী, বিগত ১ বছরে দেশের ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন (এর আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৫১৩ জন)। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩৩ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যু ঘটছে। এই পরিসংখ্যানকে স্তর ও লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: শিক্ষার স্তরভিত্তিক বিন্যাস: স্কুলগামী শিক্ষার্থী: ১৯০ জন (৪৭.৪%) আত্মহত্যার শীর্ষে রয়েছে কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীরা। কলেজ শিক্ষার্থী: ৯২ জন (২২.৮%),বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী: ৭৭ জন (১৯.১%) (যার মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি),মাদ্রাসা শিক্ষার্থী: ৪৪ জন (১০.৭%) লিঙ্গভিত্তিক হার : নারী শিক্ষার্থী: ২৪৯ জন (৬১.৮%),পুরুষ শিক্ষার্থী: ১৫৪ জন (৩৮.২%) (স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি হলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীদের হার সামান্য বেশি।) বয়সভিত্তিক বিন্যাস ঃ সর্বাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে (প্রায় ৬৬.৫%)। গবেষণা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী আত্মহত্যার নেপথ্যে প্রধানত নিম্নলিখিত কারণগুলো কাজ করেঃ ১. একাডেমিক চাপ ও পরীক্ষার ফলাফল (পরীক্ষায় ফেল বা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পাওয়া): বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরপরই আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২. মানসিক নির্যাতন, অপমান ও সাইবার বুলিং: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া, চুরির অপবাদ দেওয়া কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কটূক্তির শিকার হওয়া। ৩. আবেগীয় সংকট ও সম্পর্কঘটিত টানাপোড়েন: প্রেমঘটিত বিচ্ছেদ, সম্পর্কে প্রতারণা কিংবা অভিমান। ৪. পারিবারিক কলহ ও অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ: অভিভাবক ও সমাজের অতিরিক্ত প্রত্যাশা, পরিবারের অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা ও পারিবারিক সহিংসতা। ৫. যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল: সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়া এবং বিচারের আশাহীনতা। ৬. আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ: পরিবারে চরম আর্থিক দৈন্য বা এনজিও ঋণের জাঁতাকলে নাভিশ্বাস ওঠা। এই কারণগুলো কতটা যুক্তিযুক্ত বা সংগত? মনোবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ‘আত্মহত্যা কোনো যুক্তিযুক্ত সমাধান নয়’—তবে একজন সংকটাপন্ন মানুষের মানসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করা জরুরি: ব্যর্থতা নাকি ব্যবস্থার ত্রুটি? শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষায় ফেল করে বা কাঙ্ক্ষিত জিপিএ পায় না, তখন তারা মনে করে তাদের জীবনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এটি তাদের একক ব্যর্থতা নয়; বরং আমাদের একমুখী জিপিএ-কেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা। সমাজ ও পরিবার সফলতার একটি সংকীর্ণ সংজ্ঞা চাপিয়ে দেয়, যার ফলে শিশুরা হেরে যাওয়াকে সহ্য করতে পারে না। বয়ঃসন্ধিকালের আবেগপ্রবণতা: ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে মস্তিষ্কের গঠনগত ও হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে কিশোর-কিশোরীরা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ থাকে। তাদের ‘আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা’ (ঊছ) এবং সংকট মোকাবিলার সহনশীলতা (জবংরষরবহপব) কম থাকে। এ কারণে সাময়িক অপমান, বকাঝকা বা প্রেমঘটিত বিচ্ছেদকে তারা জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে ভুল করে। সামাজিক লজ্জা ও আশাহীনতা: বিষণ্নতা বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাকে আমাদের সমাজে ‘পাগলামি’ বা ‘দূর্বলতা’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ফলে একজন ব্যক্তি যখন মানসিক কষ্টে ভোগে, তখন সে কারো সাহায্য চাইতে পারে না। চরম আশাহীনতা (ঐড়ঢ়বষবংংহবংং) থেকে সে মনে করে মৃত্যুই একমাত্র মুক্তি। সাইবার বুলিং ও সামাজিক বিচার: অনলাইনে বা সমাজে যখন কাউকে অপবাদ দেওয়া হয় বা হেয় করা হয়, তখন সমাজ তার পাশে দাঁড়ানোর বদলে তাকেই অভিযুক্ত করে। এই বিচারহীনতা ও লোকলজ্জার ভয় মানুষকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। উত্তরণ ও করণীয় ১. মনোভাবের পরিবর্তন: জিপিএ বা প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যই জীবনের শেষ কথা নয়—এই বার্তা শিশু বয়স থেকেই পরিবার ও স্কুলে দিতে হবে। ২. প্যারেন্টাল এডুকেশন: অভিভাবকদের সন্তানদের মানসিক পরিবর্তন বুঝতে হবে। তুচ্ছ কারণে বকাঝকা, তুলনা করা কিংবা বাল্যবিবাহের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। ৩. প্রাতিষ্ঠানিক কাউন্সেলিং: প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ইউনিট চালু রাখা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা। ৪. সাইবার সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা: অনলাইনে হেনস্তা বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকারদের দ্রুিক আইনি ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের জীবন রক্ষা করা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র ও সংবেদনশীল সমাজের দায়িত্ব।
বাহুবলে হাসপাতাল কোওর্ডিনেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভা ধ্বংস
বাহুবলে হাসপাতাল কোওর্ডিনেশন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত, বেসরকারি ক্লিনিক পরিদর্শন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে লার্ভা ধ্বংস। হবিগঞ্জপ্রতিনিধি:(আজিজুর রহমান) হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতাল কোওর্ডিনেশন কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর ১২ টার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হল রুমে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতালের সেবামূলক কার্যক্রমের মানোন্নয়নে নানামুখী দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান বৃদ্ধি, রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। কোওর্ডিনেশন কমিটির সভা শেষে সিভিল সার্জন বাহুবল উপজেলার বেশ কয়েকটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি ক্লিনিকগুলোর সেবার মান, লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা যাচাই করেন এবং সরকারি নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার তাগিদ দেন। এদিকে, বাহুবল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ব টেকনিশিয়ানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তে অভিযান চালায়। অভিযানকালে লার্ভা জন্মানোর বিভিন্ন সম্ভাব্য উৎস ও প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয় এবং স্থানীয় জনসাধারণকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করা হয়।
সোনারগাঁও খেলনা পিস্তল সহ আটক ৪
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে একটি খেলনা পিস্তল (গ্যাস লাইটার)সহ চারজনকে আটক করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জামপুর ইউনিয়নের মিরেরটেক সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার পূর্ব পাশে আলমপুরাগামী পাকা সড়ক থেকে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই নাসির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ‘মাইক সেভেন’ ডিউটি পালনকালে ওই এলাকায় একটি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেন। পুলিশের সংকেত অমান্য করে অটোরিকশাটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে অটোরিকশাসহ চারজনকে আটক করেন। পরে সংবাদ পেয়ে এসআই সেলিমসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটক ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি করেন। এ সময় জামপুর ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে আমিনুল মানিক (২০)-এর পরিহিত প্যান্টের ডান কোমর থেকে একটি লোহার তৈরি পিস্তল সদৃশ গ্যাস লাইটার উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, বস্তুটির রিসিভারের পেছনে ও এক পাশে ইংরেজিতে ‘XINSHI… MADE IN CHINA’ লেখা এবং গোল চিহ্নের মধ্যে ‘GC’ লেখা রয়েছে। এছাড়া এতে ট্রিগার গার্ড, ব্যারেলের সামনের অংশে কালো কস্টেপ এবং গ্রিপারে বিভিন্ন দাগ রয়েছে। আটক অপর তিনজন হলেন একই এলাকার মৃত হানিফের ছেলে ইমন (১৯), নবী হোসেনের ছেলে আলামিন (১৯) এবং কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা, বর্তমানে কলাপাড়া এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসকারী আব্দুল ইসলামের ছেলে সাব্বির (২০)। তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এইচ এম মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ‘উদ্ধারকৃত খেলনা পিস্তল ও অটোরিকশা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
পঞ্চগড়ে ১০ টাকার সিমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট! গ্রাহকের অজান্তে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগ, আটক ৩
পঞ্চগড়ে ১০ টাকার সিমে ফিঙ্গারপ্রিন্ট! গ্রাহকের অজান্তে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগ, আটক ৩ পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড় | ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাত্র ১০ টাকায় সিম বিক্রি। সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট। এরপরই গ্রাহকের অজান্তে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগ। এমন ঘটনায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মোবাইল অপারেটরটির তিন ব্র্যান্ড প্রোমোটারকে আটক করে রাখেন স্থানীয়রা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বন্দরপাড়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা। আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঠাকুরগাঁওয়ের আবু নাইয়ান নাহিদ, পঞ্চগড় জালাসী এলাকার রবিউল ইসলাম ও বাবু। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে ৪ নম্বর কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের বন্দরপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় মাত্র ১০ টাকায় রবি ও ইয়ারটেল সিম বিক্রি করছিলেন ওই তিনজন। সিম দেওয়ার সময় গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্টও নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, এসব তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকদের অজান্তে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সিম নেওয়ার পরপরই অনেকের আগে থেকে থাকা নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায় বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের দাবি, তিন দিনে প্রায় ৪ থেকে ৫ শত মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছে। এমনকি কয়েকজনের নগদ অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয় কয়েকজন ওই ব্র্যান্ড প্রোমোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে তারা নিজেদের অবস্থান পঞ্চগড়ের বলেয়াপাড়া এলাকায় বলে জানান। স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তাদের আটক করে বন্দরপাড়া গ্রামে নিয়ে আসেন। একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, ‘১০ টাকায় সিম দেওয়ার কথা বলে আমাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছে। তারা চলে যাওয়ার পরই নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়। কোন সিম দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সেটিও আমরা জানি না।’ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও গ্রাহকদের তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘিওরের বড়টিয়া বাজারে মাদক ভাগাভাগি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-১
ফুলহারা বাজারে মাদক ভাগাভাগি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত-১ সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের ফুলহারা বাজারে মাদক ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে । বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে ফুলহারা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে । স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বড়টিয়া বাজার এলাকার নাহিদ গ্রুপের সঙ্গে ফুলহারা বাজার এলাকার মিনার গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে মাদক ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয় । একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন । এতে একজন আহত হন । অভিযোগে নাহিদ, টিটু, শৈশব দাস, তুষার, লাল চাঁন, লাল আশিক, আকরাম ও জাকিরসহ কয়েকজনের নাম পাওয়া করা গেছে । অপর পক্ষের মিনার ও আনোয়ার হোসেনসহ ৪/৫ জন ছিল জানা গেছে । দুই পক্ষের সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও আহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি । এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহাবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন ।
ফরিদগঞ্জের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা
ফরিদগঞ্জের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা সোহাঈদ খান জিয়া ।। ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭ নং পাইকপাড়াগ ইউনিয়নের কামালপুরে গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার ( ৮ সেপ্টেম্বর ২৬) মাগরিব নামাজের পরে। শোল্লা আশেক আলী স্কুল এন্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামালপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মুনতাসির কামালপুর জামে মসজিদ থেকে মাগরিবের নামাজ পড়ে বের হয়।এসময় কামরুল বেপারী মুনতাসিরকে ডেকে নেয়। তাঁর সাথে থাকা চুরি দিয়ে ভয় দেখিয়ে বাগানে নিয়ে যায়। এমনকি ডাক চিৎকার দিলে তাঁকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে হাত বেঁধে ফেলে হত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি আশপাশের ক'জন নারী দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার দিয়ে এগিয়ে গেলে সে পালিয়ে যায়। পরে তাঁরা কিশোরকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি। এতে মুনতাসির আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এঘটনায় মুনতাসিরের পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। মুনতাসিরের পরিবার বলেন, কামরুলের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। কামরুল মুনতাসিরকে চুরি দেখিয়ে বাগানে নিয়ে হাত বেঁধে ফেলে। হয়তো তাঁকে মেরে ফেলার জন্য এ কাজটা করেছে।
ওয়ানডে অভিষেকে ১৫০ রান করে বিশ্বরেকর্ড করলেন হারমান
ওয়ানডে অভিষেকে ১৫০ রান করে বিশ্বরেকর্ড করলেন হারমান। ক্রিকেট ইতিহাসে এর চেয়ে বড় ইনিংস অসংখ্য ইনিংস রয়েছে। কিন্তু এই ইনিংস দিয়ে ২৪ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার হারমান ঢুকে গেলেন ইতিহাসের পাতায়। ওয়ানডেতে আজই অভিষেক হলো হারমানের! আর তাতেই হারমান ছুঁয়ে ফেললেন ওয়ানডে অভিষেকের সর্বোচ্চ রানের এক বিশ্ব রেকর্ড! খেললেন ১৭টি চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কায় ১২৬ বলে ১৫০ রানের ইনিংস। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সপ্তম ওভারেই হারায় ইস্টারহুইজেনকে। এরপর হারমান আর ডি জর্জি মিলে নামিবিয়ার বোলিং প্রায় ধ্বংস করে দেন। দুজনে মিলে যোগ করেন ১৬৬ বলে ১৯০ রানের বিরাট পার্টনারশিপ। হারমান সেঞ্চুরি করেন মাত্র ৯৩ বলে। দলকে ২১৭ রানে রেখে ডি জর্জি ৮৪ বলে ৭২ রানে ফিরলেও হারমানের ব্যাট থেমে থাকেনি। ব্রেভিসকে সাথে নিয়ে আরও ৫৯ রান যোগ করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি আউট হন ১২৬ বলে ১৫০ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলে। ৫০ ওভার শেষে তারা তুলেছে ৬ উইকেটে ৩৪৮ রান। ব্যাটিং করতে নেমে নামিবিয়া আফ্রিকার বোলিংয়ে সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১ ওভার শেষে মাত্র ১৬২ রান তুলতে পেরেছে। নামিবিয়ার ওপেনার মালান ক্রুজার সর্বোচ্চ ৩৫ রান, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান স্মিত ৩১ রান এবং অধিনায়ক এরাসমাস ২১ রান করলেও আর কেউ উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলার প্রেনেলান সুব্রায়েন ৬ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচটি ডিএলএস ম্যাথডে ৯৯ রানে জয়ী হয়েছে।
নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ, স্বাক্ষরহীন হাজিরা খাতা
নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ, স্বাক্ষরহীন হাজিরা খাতা। আবু তাহের, বকশিগঞ্জ প্রতিনিধি। FPI সরোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, সেবা নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয়দের জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত সরোয়ার জাহান (FPI)-এর বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। অভিযোগের বিষয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সরেজমিনে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে সরোয়ার জাহানকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। ওই দিনের হাজিরা খাতায়ও তার কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরোয়ার জাহান প্রথমে বলেন, “আমি অফিসে গিয়েছিলাম, স্বাক্ষর করে মাঠে এসেছি।” তবে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর নেই জানানো হলে তিনি বলেন, “অফিসে আসছি।” পরে আবার ফোন করলে তিনি জানান, অসুস্থ থাকায় সেদিন অফিসে যেতে পারবেন না। একই বিষয়ে তার বক্তব্যের পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্য দুই কর্মীকে পাওয়া গেলেও অনুপস্থিত সরোয়ার সরেজমিনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে সাইফুল ইসলাম (অফিস সহায়ক/নিরাপত্তা কর্মী) ও মর্জিনা সরকার (আয়া)-কে কর্মস্থলে পাওয়া যায়। তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সরোয়ার জাহানকে ওই সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা এক রোগী বলেন, “সরোয়ার জাহান এখানে পরিদর্শক হিসেবে আছেন বলে জানি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে আমি চিনিই না। কারণ তাকে কখনো অফিসে বসে থাকতে দেখিনি।” স্থানীয় শফিক মিয়া বলেন, “ওষুধের সাপ্লাই বন্ধ হওয়ার পর থেকেই সরোয়ার সাহেবকে নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। তিনি ঠিকমতো অফিস করেন না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তার বাড়ি নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা গ্রামে হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ সহজে কথা বলতে সাহস পান না। তিনি নিজের ইচ্ছামতো আসেন এবং চলে যান। অনেক সময় অফিসে এসে এক মিনিটও বসেন না। সরকারি বেতন দেওয়া হয় জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্য, দায়িত্বে অবহেলা করার জন্য নয়।” স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে সরোয়ার জাহানের কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি তারা লক্ষ্য করছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাজিরা খাতা, উপস্থিতি রেজিস্টার ও দায়িত্ব পালনের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। তাই সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য
রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম সাবুল : রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রায়হান সিরাজী একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সংসদীয় পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কমিটির সদস্য হিসেবে রায়হান সিরাজীর অন্তর্ভুক্তি তাঁর সংসদীয় দায়িত্বের পরিধি আরও বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দেশের কৃষি খাত, কৃষকের স্বার্থ, খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষি উন্নয়ন–সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সংসদীয় কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। রংপুর-১ আসনের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তাঁর এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের কৃষি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস–ঐতিহ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা সম্ভব হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে।