বাংলাদেশ বার্তা টুডে
নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ, স্বাক্ষরহীন হাজিরা খাতা
নিলক্ষিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ, স্বাক্ষরহীন হাজিরা খাতা। আবু তাহের, বকশিগঞ্জ প্রতিনিধি। FPI সরোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ, সেবা নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয়দের জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত সরোয়ার জাহান (FPI)-এর বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগত কাজে চলে যান। এমনকি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। অভিযোগের বিষয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সরেজমিনে নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে সরোয়ার জাহানকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। ওই দিনের হাজিরা খাতায়ও তার কোনো স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সরোয়ার জাহান প্রথমে বলেন, “আমি অফিসে গিয়েছিলাম, স্বাক্ষর করে মাঠে এসেছি।” তবে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর নেই জানানো হলে তিনি বলেন, “অফিসে আসছি।” পরে আবার ফোন করলে তিনি জানান, অসুস্থ থাকায় সেদিন অফিসে যেতে পারবেন না। একই বিষয়ে তার বক্তব্যের পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্য দুই কর্মীকে পাওয়া গেলেও অনুপস্থিত সরোয়ার সরেজমিনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে সাইফুল ইসলাম (অফিস সহায়ক/নিরাপত্তা কর্মী) ও মর্জিনা সরকার (আয়া)-কে কর্মস্থলে পাওয়া যায়। তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সরোয়ার জাহানকে ওই সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিতে আসা এক রোগী বলেন, “সরোয়ার জাহান এখানে পরিদর্শক হিসেবে আছেন বলে জানি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে আমি চিনিই না। কারণ তাকে কখনো অফিসে বসে থাকতে দেখিনি।” স্থানীয় শফিক মিয়া বলেন, “ওষুধের সাপ্লাই বন্ধ হওয়ার পর থেকেই সরোয়ার সাহেবকে নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। তিনি ঠিকমতো অফিস করেন না—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “তার বাড়ি নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা গ্রামে হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ সহজে কথা বলতে সাহস পান না। তিনি নিজের ইচ্ছামতো আসেন এবং চলে যান। অনেক সময় অফিসে এসে এক মিনিটও বসেন না। সরকারি বেতন দেওয়া হয় জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্য, দায়িত্বে অবহেলা করার জন্য নয়।” স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে সরোয়ার জাহানের কর্মস্থলে অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি তারা লক্ষ্য করছেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাজিরা খাতা, উপস্থিতি রেজিস্টার ও দায়িত্ব পালনের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, নিলক্ষিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। তাই সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য
রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম সাবুল : রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রায়হান সিরাজী একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের সংসদীয় পর্যালোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কমিটির সদস্য হিসেবে রায়হান সিরাজীর অন্তর্ভুক্তি তাঁর সংসদীয় দায়িত্বের পরিধি আরও বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দেশের কৃষি খাত, কৃষকের স্বার্থ, খাদ্য উৎপাদন এবং কৃষি উন্নয়ন–সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সংসদীয় কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন। রংপুর-১ আসনের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়েও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তাঁর এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলের কৃষি ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস–ঐতিহ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় জাতীয় পর্যায়ে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা সম্ভব হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে।
হরিপুরে মহিলা দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
হরিপুরে মহিলা দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত জহুরুল ইসলাম (জীবন) হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৪ টার সময় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি অধ্যাপক করিমুল হক, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ রানা, ৫ নং ইউপি বিএনপি সভাপতি আব্দুল হামিদ, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সাবানা পারভীন ও সাধারণ সম্পাদিকা আয়েশা সিদ্দিকা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মহিলা দলের সভানেত্রীসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে নেতা-কর্মীরা উপজেলার প্রধান সড়কপথে একটি র্যালি বের করেন।অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তাঁরা দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। পরে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মাহফিলে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত নেতৃবৃন্দসহ দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করা হয়।
হরিরামপুরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন
হরিরামপুরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ৩২ জনের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে গ্রামীণ শক্তি নামের একটি এনজিওর পরিচালক মো. মাসুদ রানা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে । এ ঘটনায় মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তার নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় ১০১ দশমিক ৫ শতাংশ জমি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা । বুধবার দুপুরে হরিরামপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । এতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন । তারা পাওনা টাকা ফেরত এবং অভিযুক্তের সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর বন্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান । মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন আগে বিভিন্নভাবে ৩২ জনের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও তাদের পাওনা অর্থ এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি । এ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে । ভুক্তভোগীদের দাবি, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় হরিরামপুরের আইলকুন্ডি মৌজায় মাসুদ রানার নামে রেকর্ডভুক্ত প্রায় ১০১ দশমিক ৫ শতাংশ জমি বিক্রির চেষ্টা চলছে । তার স্ত্রী লিলি বেগমের মাধ্যমে ২০২৬ সালে ওই সম্পত্তির বায়না রেজিস্ট্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন । মানববন্ধনে মোসলেম উদ্দিন, আয়শা, রুবি আক্তার ও আব্দুল করিমসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন । তাদের আশঙ্কা, সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর হয়ে গেলে পাওনা টাকা আদায় আরও কঠিন হয়ে পড়বে । এ কারণে পাওয়ার দলিল নম্বর-১৭৬১ এবং সংশ্লিষ্ট বায়না দলিল যাচাই, আদালতের কোনো আদেশ, ক্রোক বা নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা কার্যকর করা এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা । অভিযোগের বিষয়ে মো. মাসুদ রানার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি । ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন । তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে ।
ঠাকুরগাঁওয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
ঠাকুরগাঁওেয় জালিয়াতির মাধ্যমে বিয়ের প্রলোভনে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই করিয়ে ‘বিয়ে হয়ে গেছে’ বলে প্রতারণা ও পরে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বুধবার রাত পৌনে একটার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রুজু করা হয়। মামলার অভিযুক্ত তরুণের নাম মো. মুহিব্বুর রহমান ওরফে রেজওয়ান (২২)। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী থানার কচুবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো. মুছা আলমের ছেলে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা স্থানীয় একটি প্লাস্টিক কারখানার শ্রমিক। প্রতিদিন সকালে জীবিকার তাগিদে তিনি কাজে বের হয়ে যান এবং রাতে বাড়ি ফেরেন। মায়ের অনুপস্থিতিতে অভিযুক্ত রেজওয়ানের সঙ্গে মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিচয় হয় ওই কিশোরীর। পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগের বিষয়টি টের পেয়ে নিষেধ করা হলেও রেজওয়ান কিশোরীকে প্রলোভন দেখাতে থাকেন। একপর্যায়ে কিশোরীকে ভুল বুঝিয়ে তিনটি একশ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন রেজওয়ান এবং দাবি করেন তাদের আইনি বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এজহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে রেজওয়ান বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং নিজেকে স্বামী দাবি করে ওই কিশোরীকে নিজ শয়নকক্ষে ধর্ষণ করেন। রাতে মা কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে কিশোরী পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। পরবর্তীতে মেয়েটির পরিবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপোসের চেষ্টা করলে অভিযুক্তের পরিবার তা এড়িয়ে যায়। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত রেজওয়ান পূর্ব থেকেই বিবাহিত এবং তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে সালিশে ব্যর্থ হয়ে বুধবার সদর থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী জানান, ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
চৌকিদারি প্যারেডে এসপির কঠোর বার্তা, অস্ত্রের তথ্য দিলেই সরকারি পুরস্কার
চৌকিদারি প্যারেডে এসপির কঠোর বার্তা, অস্ত্রের তথ্য দিলেই সরকারি পুরস্কার পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড়, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পঞ্চগড়ের বোদা ও আটোয়ারীতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পৃথকভাবে চৌকিদারি প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্যারেডে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোঃ আবু সাইন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বোদা ও আটোয়ারী থানা কম্পাউন্ডে অনুষ্ঠিত এসব প্যারেডে দুই থানার আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন। প্যারেড পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেন। তিনি নিজ নিজ এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, পলাতক আসামি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় জানানোর নির্দেশ দেন। এ সময় এলাকার সার সংকটের বিষয়েও সজাগ থাকার জন্য গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়। কোথাও সার নিয়ে অনিয়ম, মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান পুলিশ সুপার। প্যারেডে পুলিশ সুপার বিশেষভাবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান কিংবা অস্ত্র উদ্ধারে সহায়ক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারে সহযোগিতা করলে সরকারিভাবে পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ সুপার বলেন, গ্রামের মানুষের সঙ্গে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তাই অপরাধের আগাম তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ঘটনা ঘটার পর নয়, বরং ঘটনার আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে পুলিশকে জানাতে হবে। তিনি আরও বলেন, একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি না করে নিজ নিজ এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানোর জন্য তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানান। চৌকিদারি প্যারেডে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাটে র্যাবের অভিযানে ৩৯৮ বোতল মাদক জব্দ, গ্রেপ্তার ২
লালমনিরহাটে র্যাবের অভিযানে ৩৯৮ বোতল মাদক জব্দ, গ্রেপ্তার ২ রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি: লালমনিরহাট সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ২৯৮ বোতল এস্কাফ ও ১০০ বোতল ফেয়ারডিলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে লালমনিরহাট সদর থানার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক জব্দ করা হয়। র্যাব-১৩, রংপুরের সিপিএসসি-এর একটি আভিযানিক দল সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণপুর গ্রামের মো. রাজু আহম্মেদের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় শোয়ার ঘরের খাটের নিচে রাখা দুটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ২৯৮ বোতল এস্কাফ ও ১০০ বোতল ফেয়ারডিল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন,কর্ণপুর গ্রামের মো. আপ্তার আলীর ছেলে মো. রাজু আহম্মেদ (২৫) এবং একই এলাকার একরামুল হকের ছেলে শাহজাদা ইসলাম ওরফে শাওন (৩৭)। র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার দুজন ও জব্দ করা মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩, রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এবং অধিনায়কের পক্ষে বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
কালীগঞ্জে পৃথক মাদক মামলায় গ্রেফতার দুই, ইয়াবা উদ্ধার
কালীগঞ্জে পৃথক মাদক মামলায় গ্রেফতার দুই, ইয়াবা উদ্ধার আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে পৃথক দুটি মাদক মামলায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ২০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ) কালীগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ থানার মামলা নং-০৮, তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে জুয়েল মিয়া (২৫),হোল্ডিং-৩১০/ব্লক কে, সাং- পশ্চিম জয়দেবপুর, ডাকঘর- গাজীপুর এলাকার মৃত বাসির মিয়ার ছেলে। তার কাছ থেকে ১০৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় ১০ গ্রাম। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গাজীপুর। অপরদিকে কালীগঞ্জ থানার এফআইআর নং-০৯, তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মামলায় একই আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় সোহেল কাজী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে কালীগঞ্জের পানজোরা (কাজীবাড়ী) এলাকার মৃত ফুল বক্স কাজীর ছেলে। সোহেল কাজীর কাছ থেকে ১০১ পিস কথিত লালচে রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন ১০ গ্রাম এবং আনুমানিক মূল্য ৩০,৩০০ টাকা। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জের উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নিঃ) মোঃ ফায়জুর রহমান। পৃথক দুই ঘটনায় উদ্ধার করা ইয়াবার মোট পরিমাণ ২০৪ পিস, যার ওজন প্রায় ২০ গ্রাম। গ্রেফতার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি পরিবার পেল ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা
বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি পরিবার পেল ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করেছে বিআরটিএ ও জেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে মোট ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভুক্তভোগী স্বজনদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মেজবা উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জয়দেব চক্রবর্তী, বিআরটিএর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ারিং এস এম মাহফুজুর রহমান এবং বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু। মূলত সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজনহারা পরিবারগুলোকে কিছুটা আর্থিক সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাগুলোতে যারা নিজেদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়েছেন কিংবা মারাত্মক জখমের শিকার হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে এই অনুদান প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের এই কার্যক্রমে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মোট ২৭টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। যার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫ জন নিহতের প্রত্যেকের পরিবারকে বিআরটিএর তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার অনুদান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা অপর দুজনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য মোট ৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আকস্মিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মানবেতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছিল। এই আর্থিক সহায়তা তাদের জীবনসংগ্রামে সাময়িক স্বস্তি আনলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে এককালীন এই অর্থের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী আয়ের উৎস সৃষ্টির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনুষ্ঠানে বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সরকারের এই সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন যে, এ ধরনের অনুদান কেবল আর্থিক ক্ষতি পূরণ করতে না পারলেও স্বজন হারানো পরিবারগুলোর আকস্মিক ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিআরটিএ এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ এই পদক্ষেপে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে এই চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণ বিতরণই নয়, বরং সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা প্রতিকারের মাধ্যমে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে পরিবহন খাতের অব্যবস্থাপনা রোধে কঠোর নজরদারি এবং চালক ও যাত্রীদের মাঝে ট্রাফিক আইনের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র অনুদান বা ক্ষতিপূরণ বিতরণ কোনোভাবেই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্প হতে পারে না, বরং সড়ক দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরতে হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করার প্রবণতা বন্ধ না হলে এই ধরনের আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়িয়েও হতাহতের মিছিল থামানো সম্ভব হবে না। তাই বাগেরহাটের এই উদ্যোগের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন খাতের সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সড়কগুলোকে নিরাপদ করতে নীতিনর্ধারক থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে কোনো পরিবারকে আর কখনোই সড়ক দুর্ঘটনার মতো অনভিপ্রেত দাম পরিশোধ করতে না হয়।
কওমি মাদরাসায় মানসম্মত পাঠদান: তাড়াইলে শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা
কওমিকওমি মাদরাসায় মানসম্মত পাঠদান: তাড়াইলে শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষে আরও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসা ঐক্য পরিষদ। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানযীমুল মাদারিসিল কাওমিয়া আল আরাবিয়ার সাধারণ সম্পাদক শায়খুল হাদিস মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী,ইমাম উলামা পরিষদ, তাড়াইলের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন,ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হাফেজ মুফতি মুসা খান, নাদিয়াতুল কুরআন মাদরাসা, পাঁচবাড়ীয়া, ময়মনসিংহের নান্দাইলের মুহতামিম মাওলানা আমরুল্লাহ,তাড়াইলের সহিলাটি জামে মসজিদের খতিব ও শায়খুল হাদিস মাওলানা ছাদেকুর রহমান এবং বড়ভাগ এমদাদুল উলুম আলিম মাদরাসা, কিশোরগঞ্জের প্রভাষক হাফেজ মাওলানা আতাউর রহমান শাহান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসা ঐক্য পরিষদ,তাড়াইল উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবদুর রউফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ। দিনব্যাপী কর্মশালায় কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা, পাঠদান পদ্ধতি,শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে পাঠ উপস্থাপন,শিক্ষকদের দায়িত্ব ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসার শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠকে আরও সহজ,আকর্ষণীয় ও কার্যকরভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান,শিক্ষার গুণগত মান অনেকাংশেই নির্ভর করে শিক্ষকের দক্ষতা ও পাঠদানের পদ্ধতির ওপর। তাই শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো গেলে কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাদের মতে,মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষকদেরও নিয়মিত শেখার ও নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ ধরনের কর্মশালা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তারা। মাদরাসায় মানসম্মত পাঠদান: তাড়াইলে শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষে আরও কার্যকর পাঠদান নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসার শিক্ষকদের নিয়ে দিনব্যাপী শিক্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসা ঐক্য পরিষদ। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানযীমুল মাদারিসিল কাওমিয়া আল আরাবিয়ার সাধারণ সম্পাদক শায়খুল হাদিস মাওলানা শফিকুর রহমান জালালাবাদী,ইমাম উলামা পরিষদ, তাড়াইলের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন,ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হাফেজ মুফতি মুসা খান, নাদিয়াতুল কুরআন মাদরাসা, পাঁচবাড়ীয়া, ময়মনসিংহের নান্দাইলের মুহতামিম মাওলানা আমরুল্লাহ,তাড়াইলের সহিলাটি জামে মসজিদের খতিব ও শায়খুল হাদিস মাওলানা ছাদেকুর রহমান এবং বড়ভাগ এমদাদুল উলুম আলিম মাদরাসা, কিশোরগঞ্জের প্রভাষক হাফেজ মাওলানা আতাউর রহমান শাহান। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসা ঐক্য পরিষদ,তাড়াইল উপজেলা সভাপতি মাওলানা আবদুর রউফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা এমদাদুল্লাহ। দিনব্যাপী কর্মশালায় কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থা, পাঠদান পদ্ধতি,শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে পাঠ উপস্থাপন,শিক্ষকদের দায়িত্ব ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন স্বতন্ত্র কওমি মাদরাসার শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠকে আরও সহজ,আকর্ষণীয় ও কার্যকরভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান,শিক্ষার গুণগত মান অনেকাংশেই নির্ভর করে শিক্ষকের দক্ষতা ও পাঠদানের পদ্ধতির ওপর। তাই শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো গেলে কওমি মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাদের মতে,মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষকদেরও নিয়মিত শেখার ও নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ ধরনের কর্মশালা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
বিএনপি নেতা তারিকুল হাসানের সঙ্গে সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ, দ্রুত সুস্থতা কামনা
বিএনপি নেতা তারিকুল হাসানের সঙ্গে সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ, দ্রুত সুস্থতা কামনা শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য মো. তারিকুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সম্প্রতি ঢাকার একটি হাসপাতালে তার হৃদযন্ত্রে সফলভাবে রিং (স্টেন্ট) স্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে ফিরে বিশ্রামে রয়েছেন। তারিকুল হাসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের নেতৃবৃন্দ। এ সময় সাংবাদিক ক্লাবের নেতৃবৃন্দ তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম মহিদার রহমান, সহ-সভাপতি জি এম সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মীর আবু বকর, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আলী মিটন, অর্থ সম্পাদক মো. ফিরোজ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মো. হাফিজ, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাসুদ আলী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আবুল হোসেন ও কার্যকরী সদস্য মো. জাকিরুল ইসলাম এছাড়া সদর কমিটির সভাপতি নূর মোহাম্মাদ পাড়, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, অর্থ সম্পাদক মো. আতিকুজ্জামান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এনামুল হক সিকদার, ক্রীড়া সম্পাদক জাকির হোসেন জনি এবং জেলা কমিটির সদস্য এম এম রবিউল ইসলাম, মিহিরুজ্জামান বাবু, মো. হাফিজুর রহমান, আরিফুর রহমান ও শাহাদাৎ হোসেন শিমুল উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক ক্লাবের নেতৃবৃন্দ মো. তারিকুল হাসানের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করেন।
হিজুলিয়াতে বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগ, ছেলের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বাবা-মা
হিজুলিয়াতে বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগ, ছেলের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে বাবা-মা স্টাফ রিপোর্ট, সোহেল রানা খন্দকার, মানিকগঞ্জ : নেশাসক্ত ছেলের মারধর ও নির্যাতনের ভয়ে ১১ দিন ধরে এক দম্পতি বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের হিজুলিয়া গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার সালমান নামের ২২ বছর বয়সী এক নেশাগ্রস্ত ছেলের বিরুদ্ধে । ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন- হিজুলিয়া গ্রামের মরহুম আব্দুল খালেক খন্দকারের ছেলে জয়নাল আবেদীন ওরফে খন্দকার জনু (৬০) এবং তার স্ত্রী ছালমা আক্তার (৫০) । ঐ দম্পতির অভিযোগ, তাদের একমাত্র ছেলে সন্তান সালমান (২২) কয়েক বছর ধরে মাদকাসক্ত । নেশার টাকা না দিলে তিনি বাবা-মাকে মারধর করেন । বর্তমানে নিরাপত্তার জন্য অভিযুক্ত ঐ নেশাগ্রস্ত যুবকের বাবা-মা ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বাংগালা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত তফিউল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন । বাবা জয়নাল আবেদীন ও মা ছালমা আক্তার বলেন, করোনা মহামারির সময় এসএসসি পাস করার পর থেকে সালমান বেকার অবস্থায় বাড়িতে থাকে । এরপর গত চার-পাঁচ বছরে তিনি মাদকে জড়িয়ে পড়ে । ধীরে ধীরে তার আচরণও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে । নেশার টাকা না পেলে বাবা-মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধর করে । এর আগেও কয়েকবার ছালমা আক্তারকে মারধর করা হয়েছে বলে তারা জানান । পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে সালমানের মারধর থেকে বাঁচতে জয়নাল আবেদীন তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেন । এরপর থেকে তাঁ্রা আর নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি । নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বর্তমানে স্বজনের বাড়িতেই অবস্থান করছেন তারা । স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সালমান নামের নেশাগ্রস্ত ঐ যুবককে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল । সেখান থেকে ফিরে আসার পর তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে পরিবারের অভিযোগ । স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত ১টা-দেড়টা পর্যন্ত সালমানের বাড়িতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় । এতে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে । তবে সালমানের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলে স্থানীয়রা জানান । এ অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জয়নাল আবেদীন ও তার স্ত্রী । একই সঙ্গে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও । ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহাবুবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি । তবে বিষয়টি তিনি শুনেছেন । অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সালমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
দৌলতপুরে পদ্মার ভাঙনে আতঙ্ক, চোখের সামনেই বিলীন হচ্ছে বসতভিটা
দৌলতপুরে পদ্মার ভাঙনে আতঙ্ক, চোখের সামনেই বিলীন হচ্ছে বসতভিটা। তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পদ্মা নদীর ভাঙন। নদীর তীব্র স্রোতে প্রতিদিনই পাড় ভেঙে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও চলাচলের রাস্তা। ভাঙন আতঙ্কে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রীরচর এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও ফসলি জমি, কোথাও বসতভিটার অংশ এবং কোথাও রাস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মায় পানি বাড়ার পর থেকেই ভাঙন শুরু হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। নদীর পাড়ে ফাটল দেখা দেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অংশ ধসে পড়ছে। ফলে কখন কার ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়, তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন তারা। ভাঙনের কারণে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বিভিন্ন অংশ নদীতে চলে যাওয়ায় মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি নদীর কাছাকাছি থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদীতীরবর্তী কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, পাশের রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর এলাকায় নির্মিত বেড়িবাঁধের কারণে পানির প্রবাহের চাপ দৌলতপুরের দিকে বেড়েছে। এর ফলে ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, নদীভাঙন তাদের জন্য নতুন কোনো সংকট নয়। প্রতিবছরই বন্যা ও ভাঙনে কৃষিজমি ও বসতভিটা হারাতে হয়। নদীর বুকে নতুন চর জেগে উঠলে সেখানে আবার চাষাবাদ ও বসতি গড়ে ওঠে। কিন্তু কয়েক বছর না যেতেই সেই জমিও ভাঙনের কবলে পড়ে। এর আগে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় এলাকাতেও ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে বহু কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েন। ওই সময় ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এদিকে বর্তমান পরিস্থিতিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। একই সঙ্গে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা করে পুনর্বাসন এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে বহু পরিবার স্থায়ীভাবে বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পঞ্চগড়ে মহিলা দলের শোডাউন, কাটা হলো ৪৮ পাউন্ডের কেক
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পঞ্চগড়ে মহিলা দলের শোডাউন, কাটা হলো ৪৮ পাউন্ডের কেক পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড়, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বর্ণাঢ্য র্যালি, স্লোগান আর ৪৮ পাউন্ডের কেক কাটার মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজনে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে শহরের পরিবেশ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বর থেকে জেলা মহিলা দলের উদ্যোগে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র্যালি। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নারী নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। বিভিন্ন স্লোগানে মুখর র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও কেক কাটা অনুষ্ঠান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষভাবে তৈরি ৪৮ পাউন্ডের কেক কাটার সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফি। জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান্দবানু মুক্তির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মজিদা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শেলিনা করিম, সহ-সভাপতি জেবুন নাহার, শাহারা নাছরিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আদম সুফি বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আগামী দিনেও গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান্দবানু মুক্তি বলেন, ৪৮ বছরের পথচলায় জাতীয়তাবাদী মহিলা দল দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পঞ্চগড়েও সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শুধু উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করার নতুন প্রত্যয় তৈরি করেছে। তারা জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত নারী নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় করা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের মহিলা দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে ৪৮ পাউন্ডের কেক কাটার মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা। এ সময় নেতাকর্মীরা পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানান এবং সংগঠনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। বর্ণাঢ্য র্যালি থেকে কেক কাটা—পুরো আয়োজনজুড়েই ছিল নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়ে মহিলা দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংগঠিত করার প্রত্যয়ই উঠে এসেছে।
সাতক্ষীরায় আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালেও বাড়তি সতর্কতা
সাতক্ষীরায় আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, হাসপাতালেও বাড়তি সতর্কতা সাতক্ষীরা: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় হঠাৎ করেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়তি সতর্কতা জারি করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ২৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে কেবল গত দুই দিনেই নতুন করে ২৮ জন আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর ১৫ জন এবং ৭ সেপ্টেম্বর ১৩ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, আর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২০৭ জন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে সাতজনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরের বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিচতলার ২ নম্বর ওয়ার্ড পুরুষ এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড নারীদের জন্য পৃথক 'ডেঙ্গু ওয়ার্ড' হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে কর্তব্যরত নার্স আরিফা খাতুন জানান, আক্রান্তদের সার্বক্ষণিক নিবিড় তদারকিতে রাখা হচ্ছে এবং মশার বিস্তার ঠেকানো ও অন্যান্য রোগীদের সুরক্ষায় প্রতিটি বেডে বাধ্যতামূলকভাবে মশারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. জয়ন্ত কুমার সরকার জানান, জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন নতুন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। চিকিৎসকরা জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা কিংবা শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার চেয়ে জনসচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। বাসাবাড়ি ও আশপাশের আঙ্গিনায় কোনোভাবেই যেন জমানো পানি না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি ও প্রজননস্থল ধ্বংস করতে না পারলে এই বিস্তার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বাড়লেও, স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, হাসপাতালের প্রস্তুতির পাশাপাশি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উদ্যোগে দ্রুত মশা নিধন স্প্রে ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।