বাংলাদেশ বার্তা টুডে
বাবার জানাজায় এসে নিজেই লাশ, কুষ্টিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত । বাবার জানাজায় এসে নিজেই লাশ, কুষ্টিয়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু। তানভীর আজাদ জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে শেষবারের মতো মুখটি দেখতে বাড়ি ফিরছিলেন ছেলে। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানো হলো না, পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। পরে বাবা ও ছেলের জানাজা একসঙ্গে সম্পন্ন করে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের আলামপুর ইউনিয়নের স্বস্তিপুর এলাকায়। নিহতরা হলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের লালনগর এলাকার জসিম উদ্দিন (৮০) এবং তার ছেলে নুর আলম জিকু (৪৫)। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান জসিম উদ্দিন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে মাগুরা থেকে মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তার ছোট ছেলে নুর আলম জিকু। তার সঙ্গে ছিলেন তার ভায়রা ভাই। রাত ৯টার দিকে তারা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের স্বস্তিপুর এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান জিকু। এ সময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা ভায়রা ভাইও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুর আলম জিকুর মরদেহ উদ্ধার করে। হাইওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. মহিদুল ইসলাম জানান, ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী নুর আলমের মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরদিন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে লালনগর কবরস্থানে বাবা জসিম উদ্দিন ও ছেলে নুর আলম জিকুর জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে একই কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও স্থানীয়দের হৃদয়বিদারক কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো কবরস্থান প্রাঙ্গণ।
দেবীগঞ্জে ভয়াবহ মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, প্রাণ গেল তরুণ আলু ব্যবসায়ীর
দেবীগঞ্জে ভয়াবহ মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, প্রাণ গেল তরুণ আলু ব্যবসায়ীর পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিপ্লব রায় (২২) নামে এক তরুণ আলু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শুভ্রদেব রায় (১৭) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দেউনিয়ার মোড় এলাকায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বিপ্লব রায় উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাটুন হারি আরাজি গ্রামের জগদীশচন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় আলু ব্যবসায়ী। আহত শুভ্রদেব রায় একই ইউনিয়নের ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের কৃষ্ণ রায়ের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বিপ্লব রায় লক্ষীরহাট এলাকার একটি কোল্ড স্টোরেজ থেকে বের হয়ে কালুরহাট এসবি-২ কোল্ড স্টোরেজে যান। সেখানে খাবার খেয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পথে দেউনিয়ার মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুই মোটরসাইকেলের আরোহীই গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিপ্লব রায়ের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত শুভ্রদেব রায়কে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, রাতের ওই দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেলই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষের শব্দে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। তরুণ বয়সে বিপ্লব রায়ের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছে।
কালীগঞ্জে নেশাগ্রস্ত হয়ে নিজ বাড়িতে আগুন, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড
কালীগঞ্জে নেশাগ্রস্ত হয়ে নিজ বাড়িতে আগুন, যুবকের এক বছরের কারাদণ্ড আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুর কালীগঞ্জে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজ বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মাছুম শেখ (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বালুয়াভিটা এলাকায় এ অভিযান ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মাছুম শেখ বালুয়াভিটা এলাকার মৃত সফুর উদ্দিন শেখের ছেলে। জানা গেছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করায় তার মা অভিযোগ করেন। পরে বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরে এলে তাকে আটক করে আদালতে হাজির করা হয়। কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন হালদার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অভিযানে প্রসিকিউটর ছিলেন কালীগঞ্জ থানার এএসআই মোঃ এমারত হোসেন। বেঞ্চ সহকারী ছিলেন মাহবুবুল ইসলাম।
তাড়াইলে জামায়াত নেতা মীর সেলিম রেজার ইন্তেকাল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাড়াইল উপজেলা শাখার রাজনৈতিক বিভাগীয় সেক্রেটারি মীর সেলিম রেজার ইন্তেকাল দিদারুল ইসলাম,তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিগধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা শাখার রাজনৈতিক বিভাগীয় সেক্রেটারি ও সাবেক বায়তুল মাল সম্পাদক মীর সেলিম রেজা ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ২ টা ৩০ মিনিটে ঢাকার লালমাটিয়ার ইউরো বাংলা হার্ট হাসপাতাল তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, ১ছেলে ও ১মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০মিনিটে শিমুলাটি ঈদগাহ ময়দানে জানাযা নামাজ শেষে শিমুলাটি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় কিশোরগঞ্জ জেলা উলামা বিভাগীয় সভাপতি মাওলানা আবদুল বারী রিয়াদী, জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা শামছুল আলম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা একেএম সানাউল্লাহ, তাড়াইল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির হাবিবুর রহমান, সেক্রেটারি এমকে মাসুদসহ উপজেলা জামায়াত, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের মুসল্লিরা অংশ নেন। মীর সেলিম রেজার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কিশোরগঞ্জ জেলার নেতৃবৃন্দ। শোক বার্তায় তারা বলেন, মরহুম মীর সেলিম রেজা ছিলেন একজন আদর্শবান দাঈ ও সংগঠক। ইসলামী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তিনি সারাজীবন কাজ করেছেন। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাড়াইল উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি তাড়াইলে ইসলামী আন্দোলনকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন অভিভাবককে হারালাম।
ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে ইবি ছাত্রের আকুতি
ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে ইবি ছাত্রের আকুতি ওসমান গণি, ইবি সংবাদদাতা: মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী মোঃ নূরশেদ। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। তাই মাকে বাঁচাতে সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে আকুতি জানিয়েছেন এই শিক্ষার্থী। নূরশেদ ইবির ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের শিক্ষার্থী। কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ডুমখালী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা তিনি। তাঁদের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। বাবা আব্দুল মালেক বর্তমানে বয়সের ভারে কাজ করতে পারছেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তার প্রবাসী বড় ভাই। গত ১৯ আগস্ট তাঁর মা সেতারা বেগমের পাকস্থলীর ক্যান্সার (তৃতীয় পর্যায়) শনাক্ত হয়। নূরশেদ জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর মাকে প্রাথমিকভাবে ছয়টি কেমোথেরাপি দিতে হবে। প্রতিটিতে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হবে। ইতোমধ্যে একটি কেমোথেরাপি সম্পন্ন হয়েছে। কেমোথেরাপিতে আশানুরূপ উন্নতি না হলে পরবর্তী ধাপে লেজার থেরাপির প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এরপর অস্ত্রোপচার করতে হবে যার সম্ভাব্য খরচ আট লক্ষাধিক টাকা। এতে তার মায়ের চিকিৎসায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন পড়বে। তবে চিকিৎসার এই বহুল ব্যয়ভার বহন করা তার পরিবারের জন্য দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রথম ধাপের কেমোথেরাপির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তাঁরা। তাই সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন নূরশেদ। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় আমাদের সামর্থ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। কেমোথেরাপি ও পরবর্তী অপারেশনের খরচ জোগাতে না পারলে মাকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে সবার কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি। সহযোগিতা পাঠানোর মাধ্যম-বিকাশ/নগদ: ০১৮৭৮-৩৮১০৩৪ ব্যাংক: সিটি ব্যাংক, পাঁচ রাস্তার মোড় শাখা, কুষ্টিয়া, হিসাব নম্বর: ১৭৮১৮৩০০০২৬৩৫ রাউটিং নম্বর: ২২৫৫০০৯৪৩
নওগাঁয় হানিট্র্যাপে শিক্ষক, নারী সদস্যসহ চক্রের ৪ প্রতারক গ্রেপ্তার
নওগাঁয় হানিট্র্যাপে শিক্ষক, নারী সদস্যসহ চক্রের ৪ প্রতারক গ্রেপ্তার মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁয় হানিট্র্যাপের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নারী সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। অভিযানে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জোরপূর্বক নেওয়া সাদা স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানা এলাকার এক স্কুলশিক্ষকের পূর্বপরিচিত ছিলেন নওগাঁ শহরের বাসিন্দা মোছা. চামেলী আক্তার মিলি। প্রয়োজনের সময় মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হতো। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিলি ওই শিক্ষককে জরুরি কথা বলার কথা বলে নওগাঁ শহরে তার বাসায় আসতে বলেন। জরুরি বিষয় মনে করে সরল বিশ্বাসে ওই শিক্ষক মিলির বাসায় গেলে সেখানে মিলিসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন তাকে আটক করে ভয়ভীতি ও মারধরের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এছাড়া ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ। এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়া এলাকার মোছাঃ চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার মোঃ রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়া এলাকার মোঃ সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার মো. নাঈম হোসেন (২৫)। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আন্তঃউপজেলা এই প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে ফাঁদে ফেলত। কখনো প্রলোভন দেখিয়ে, আবার কখনো ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আবার কখনো ছবি তুলে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করত। নওগাঁ সদর থানার অভিযানে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাকৃত চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নাগেশ্বরীতে চিত্রাঙ্কন, সুন্দর হাতের লেখা ও ম্যাথ অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা
নাগেশ্বরীতে চিত্রাঙ্কন, সুন্দর হাতের লেখা ও ম্যাথ অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা নাগেশ^রী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ১০.০৯.১৬ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বাইরে মেধা ও প্রতিভা যাচাইয়ের লক্ষ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সুন্দর হাতের লেখা এবং ম্যাথ অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নাগেশ্বরী কলেজ মোড়স্থ আাল-কাওছার মেরিট মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, মাঝে মাঝে পড়াশোনার ফাঁকে তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতা তাদের মননশীলতাকে আরও সমৃদ্ধ করে আরও প্রসারিত করে। অভিভাবকদের প্রত্যাশা, এই প্রতিষ্ঠানের এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের সন্তানরা পড়াশোনায় মনযোগী হওয়ার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে সুযোগ পায় এবং নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে। এতে করে খুশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সবাই। আল কাওছার মেরিট মাদরাসার পরিচালক জোনায়েদ হোসেন জানান, শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। জাহিদুল ইসলাম জাহিদ/নাগেশ্বরী/কুড়িগ্রাম।
শ্রীপুরে ট্রাক মালিকের বিরুদ্ধে চালককে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
শ্রীপুরে ট্রাক মালিকের বিরুদ্ধে চালককে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ শ্রীপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুরে ট্রাকের হিসাব-নিকাশ চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ট্রাক চালককে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী চালকের পিতা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের রাজধরপুর খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী দারিয়াপুর গ্রামের মোঃ নাসিরুল ইসলাম মিয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার ছেলে সুমন মিয়া (২৫) পেশায় ট্রাক চালক। সুমন মিয়া দারিয়াপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের ছেলে টিপু বিশ্বাসের (৩৫) ট্রাক চালাতেন। ০৯ সেপ্টেম্বর রাতে সুমন মিয়া ট্রাকের মালিক টিপু বিশ্বাসের কাছে হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে আর গাড়ি না চালানোর কথা জানান। এসময় টিপু বিশ্বাস ও জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ জন ক্ষিপ্ত হয়ে সুমন মিয়াকে মারধর করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামীরা সুমন মিয়ার হাত-পা বেঁধে ফেলে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় সুমন মিয়ার ডাক-চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং টিপু বিশ্বাস ও সুমন বিশ্বাসকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে শ্রীপুর থানার নাকোল ফাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত সুমন মিয়া ও অভিযুক্ত দুইজনকে থানায় নিয়ে যায়। অভিযোগকারী নাসিরুল ইসলাম বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে বিবাদীরা তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে মারপিট ও খুন-জখমের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। বর্তমানে তার ছেলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ। তবে তাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ড্রাইভার সুমনের বিরুদ্ধে ট্রাকের নতুন চাকা চুরি করে বিক্রি করে পুরাতন চাকা লাগানোর অভিযোগ ও করেছেন অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা। শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ওলি মিয় জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোনারগাঁও অবৈধ চায়না দুয়ারি ৪০ বস্তা জাল জব্দ
সোনারগাঁও অবৈধ চায়না দুয়ারি ৪০ বস্তা জাল জব্দ। সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০০টি জাল জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য অধিদফতর। পরে জব্দ করা এসব জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, অবৈধ জাল বিক্রির দায়ে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার আনন্দ বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের উপস্থিতিতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদার নেতৃত্বে মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা এ অভিযান চালান। অভিযান-সংশ্লিষ্টরা জানান, আনন্দ বাজারের বিভিন্ন দোকানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪০ বস্তায় প্রায় ৪০০ টি চায়না দুয়ারি জাল পাওয়া যায়।পরে এসব জাল বাজারেই জনসম্মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় ও এক ব্যবসায়ীকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, মৎস্য সংরক্ষণ আইনের আওতায় চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ ধরনের জাল ব্যবহারের ফলে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বংশ বিস্তারে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে। চায়না দুয়ারি জাল বিক্রি বা ব্যবহারের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্যকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয়দের দাবি, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার বন্ধে শুধু বিক্রয়কেন্দ্রে অভিযান নয়, এর ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।
জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ রক্ষায় সাতক্ষীরায় যুব পানি কমিটির বৃক্ষরোপন
জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ রক্ষায় সাতক্ষীরায় যুব পানি কমিটির বৃক্ষরোপন শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ জলাবদ্ধতা, নদী-খালের নাব্যতা হ্রাস ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার মতো উপকূলীয় এলাকার দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় সবুজায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ৫০টি গাছের চারা রোপণ করেছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় উত্তরণ এসআরবিএম প্রকল্পের সহযোগিতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে আম, মেহগনি, আমড়া, বকুল, রেইনট্রি ও সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি বড় আকৃতির চারা রোপণ করা হয়। প্রতিটি গাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যার সুবিধার্থে পাশে ছোট ছোট সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়। তীব্র রোদ ও বৃষ্টির প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে স্বেচ্ছাসেবী তরুণেরা কর্মসূচিতে অংশ নেন। রোপণ করা গাছগুলো শুধু লাগিয়ে রাখাই নয়, নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সেগুলোকে বড় করে তোলার দায়িত্বও নিয়েছে যুব পানি কমিটি। সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল বলেন, সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। নদী ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত পলি জমা এবং অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে টিআরএম বা জোয়ারাধার ব্যবস্থাপনা জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি কার্যকর নদীভিত্তিক সমাধান। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করা হয়। এতে নদীর পানি ধারণ ও নিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়ে। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোকাররাম বিল্লাহ ইমন বলেন, টিআরএমের সুফল টেকসই করতে শুধু বিল ও নদী ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট নয়। নদী-খালের আশপাশে পরিকল্পিত সবুজায়ন, মাটির ক্ষয় রোধ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোও জরুরি। যুব পানি কমিটির সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম বলেন, তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ, নদী ও খাল সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৃক্ষরোপণের মতো পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। যুব পানি কমিটির সদস্যরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন ও টিআরএম কার্যক্রমে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য ইফতি জামিল, ইমতি জামিল, লামিয়া জেরিন, মো. সাইমুন হাসনাত, মাহাবুবুর রহমান, সিয়াম হোসেন, করিমন নেছা শান্তা, তাসনিহা জুই, মো. নাইমুর রহমান চৌধুরী, লামিয়া সুলতানা, আবু তাহের বিল্যাহ, মিলন কুমার রুদ্র, জাহাঙ্গীর আলম ও হাফিজা আফরোজ নীলা। এ ছাড়া এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি সংস্থা উত্তরণের ফিল্ড অর্গানাইজার মো. গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধি ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সোনারগাঁও পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন অপরাধের ১৯ জন আটক
সোনারগাঁও পুলিশের বিশেষ অভিযান, বিভিন্ন অপরাধের ১৯ জন আটক সোনারগাঁও( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী, জুয়া আইনে ও ডাকাতি মামলার আসামিসহ মোট ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ থানা এলাকায় দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৯ জন মাদকসেবী, ৯ জন জুয়া আইনে এবং ১ জন ডাকাতি মামলার আসামি রয়েছেন। মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তাররা হলেন রাজিব সমাদ্দার (৩৮), কাউসার মোল্লা (২৩), রাশেদ (২২), সাহারুল ইসলাম (২৮), শাওন (২০), মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪৯), মোঃ সুমন ইসলাম (২৩), মোফাজ্জল (৩৮) ও তরিকুল ইসলাম (৫৫)। এছাড়া জুয়া আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আমিরুল ইসলাম (৪৭), মোঃ সোহেল (৪৫), মোঃ শাহানুর (৩২), নুরুজ্জামান (৫০), মোঃ শাকিল (২৫), খোরশেদ আলী (৩৫), আতিকুর (৩০), আজাদুল ইসলাম (৩০) ও মোঃ আতোয়ার ইসলামকে (২৭)। অন্যদিকে ডাকাতি মামলার ঘটনায় মামুন (৩৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সোনারগাঁয়ের ঝাউচর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সোনারগাঁও সওজের জায়গায় অবৈধ পাঁচ শতাধিক দোকান উচ্ছেদ
সোনারগাঁও সওজের জায়গায় অবৈধ পাঁচ শতাধিক দোকান উচ্ছেদ সোনারগাঁও( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ফলের দোকানসহ পাঁচ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালনা করেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার। অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে টংঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে তারা প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, সওজের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়কের সার্ভিস লেন ও ফিডার রোড সংকুচিত হয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছিলেন পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন সরকার বলেন, “মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা পাঁচ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখা এসব স্থাপনার কারণে যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল।” তিনি আরও বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ আবার সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবনের নিষিদ্ধ অভয়ারণ্যে মাছ ধরার অভিযোগে জাল-নৌকাসহ দুই জেলে আটক
সুন্দরবনের নিষিদ্ধ অভয়ারণ্যে মাছ ধরার অভিযোগে জাল-নৌকাসহ দুই জেলে আটক মোঃ নাজমুল ইসলাম সবুজ শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: পূর্ব সুন্দরবনের শেলারচর টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন অভয়ারণ্যের নিষিদ্ধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল ও দুটি নৌকাসহ দুই জেলেকে আটক করেছে বন বিভাগ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে শেলারচরের ছাপড়াখালি খাল থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত জেলেরা হলেন— বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোনাতলা গ্রামের সরোয়ার হোসেন (৩০) ও আইয়ুব আলী (২৮)। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও)-র নির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি টিম ছাপড়াখালি খালে টহল দেওয়ার সময় অসাধু জেলেদের মাছ ধরতে দেখে। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা নৌকা থেকে লাফিয়ে বনের গহীনে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে বনরক্ষীরা দুটি নৌকা ও মাছ ধরার জালসহ ওই দুই জেলেকে হাতেনাতে আটক করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, আটক জেলেরা বন আইন অমান্য করে সুন্দরবনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্যের নিষিদ্ধ খালে বেআইনিভাবে মাছ ধরছিল। পরিবেশ ও বনজ সম্পদ রক্ষায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বন আইনে মামলা দায়েরসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর যোগসাজসে এডিবি'র ১২ কোটি টাকার স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়ম
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর যোগসাজসে এডিবি'র ১২ কোটি টাকার স্যানিটেশন প্রকল্পে অনিয়ম। বান্দরবানে পৌর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন স্যানিটেশন (ল্যাট্রিন) নির্মাণ প্রকল্পে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দৃশ্যমান এসব অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এইসব অনিয়মের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বান্দরবান বিভাগের প্রৌকোশলী অনুপম দে–কে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি কর্ণপাত করেননি উল্টো। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আস্কারা দিয়ে গেছেন এমনই অভিযোগ স্থানীয় উপকারভোগীদের। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই নির্মাণ কাজ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছেন ‘লাকী এন্টারপ্রাইজ’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার মো. নাছির। এবং কাজের তদারকি করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে মো. সাদ্দাম হোসেন নামের স্থানীয় প্রতিনিধি। বান্দরবান পৌরসভার বনরূপা সিদ্দিক নগর এলাকার উপকারভোগীদের অভিযোগ, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিয়মবহির্ভূতভাবে নামমাত্র মূল্যের নিম্নমানের ইট, বালুর পরিবর্তে মাটি, পুরাতন রড, সিমেন্ট ও নিম্নমানের কংক্রিট দিয়ে ঢালাই কাজ চালানো হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণকাজে সরকারের নির্ধারিত শিডিউল বা প্রাক্কলন মানা হচ্ছে না। ঢালাইয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিমেন্ট ও ভালো মানের খোয়া না দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার পাঁয়তারা চলছে। স্থানীয়দের আরো অভিযোগ, প্রকল্পের ব্যাবহারিত সামগ্রী ইট, বালু, সিমেন্ট ও কংক্রিট, এবং সেফটি ট্যাংকির মালামাল পরিবহন কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ অর্থায়নে শ্রমিক ব্যাবহার না করে উপকারভোগী বাড়ির সদস্যদের দ্বারা জোরপূর্বক ভাবে বহনের কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন। এসব বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বনরূপা সিদ্দিক নগর এলাকার উপকারভুগী ড্রাইভার মুসলিম উদ্দিন। স্থানীয়রা আরো জানান, তড়িঘড়ি করে কাজ করার সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়লেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ না করার হুমকি দিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সঠিকভাবে তদারকি না করায় ঠিকাদাররা ইচ্ছেমতো নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ পাচ্ছেন। এই বিষয়ে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার মোঃ নাছির উদ্দিনের ম্যানেজার কাজল সেন জানান, প্রকল্পের কাজে কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ নেই। আমাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয়দের দাবি, “দরিদ্র ও প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা থাকলেও কোথাও সচ্ছল ব্যক্তি, প্রভাবশালী মহলের স্বজন এবং একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এসবের তালিকা কীভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে, কারা পরিবর্তন করেছে এবং প্রকল্পের অর্থ ও কাজের অগ্রগতি কীভাবে তদারকি করা হচ্ছে এসব প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর চান স্থানীয়রা।
মঠবাড়িয়ায় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, ২ ককটেল উদ্ধার
সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া : রাতের আঁধারে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মিঠাখালী আলম বাজার এলাকায় অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর কার্যালয়টির ভেতর থেকে লাল টেপ মোড়ানো দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গভীর রাতে একদল অজ্ঞাত পরিচয় লোক কার্যালয়ের শাটারের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কার্যালয়ে থাকা প্লাস্টিকের চেয়ার ও একটি এলইডি টেলিভিশন ভাঙচুরসহ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি কার্যালয় থেকে সরিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ভাঙচুরের শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই মঠবাড়িয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং দুটি ভাঙা চেয়ার, একটি ক্ষতিগ্রস্ত এলইডি টেলিভিশন, একটি ভাঙা তালা এবং দুটি অবিস্ফোরিত ককটেল আলামত হিসেবে জব্দ করে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন ফরাজী বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করি। পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।" বিষয়টি নিশ্চিত করে মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।