অভিযুক্ত শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ; উত্তেজিত অভিভাবকদের বিক্ষোভ, পুলিশি পাহারায় উদ্ধার কর্মকর্তাসহ শিক্ষকরা

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ৭ ঘণ্টা ঘেরাওয়ে শিক্ষক-শিক্ষা কর্মকর্তা

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে আসার পর অভিভাবকেরা তাঁকে আটকের চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার জেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের অফিসকক্ষে প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন। পরে পরিস্থিতি জানতে বিদ্যালয়ে গেলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদকেও অবরুদ্ধ করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলে এই অবস্থা। পরে পুলিশি পাহারায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ বিদ্যালয়ে থাকা সবাইকে বের করে নেওয়া হয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বাইরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা বিদ্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ৩১ আগস্ট ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানায়। এরপর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। 

বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে এলে অভিভাবকেরা তাঁকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।

এরপর ঘটনাস্থলে আসা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন ছাত্রীও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশোভন আচরণের অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, শিক্ষকের আচরণে মেয়েরা অস্বস্তি বোধ করত। তারা ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

কয়েকজন অভিভাবকের দাবি, এর আগেও অন্য দুটি বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার সময় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফল কী হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গজঘন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া বলেন, খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের বুঝিয়ে পুলিশি পাহারায় তাঁদের বের করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুটি বিদ্যালয়ে শিশুদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কথা শুনেছেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই শিক্ষক যেন আর শিক্ষকতা পেশায় ফিরতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি কখনো ভাবেননি ওই শিক্ষক এমন আচরণ করতে পারেন। বিষয়টি জানার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, ওই ছাত্রীর বাবা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়ে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে বের করে আনেন।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com