প্রশিক্ষণ শেষে গুড় তৈরির উপকরণ পেলেন ২৪০ গোলচাষি

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গোলপাতার গুড় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ২৪০ জন গোলচাষির মধ্যে গুড় তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক কৃষককে উন্নতজাতের ২০১টি করে গোলগাছের চারা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা প্রশাসন মাঠে উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে কৃষকদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে রয়েছে—ডোঙ্গা, ধামা (গাবলা), স্টিলের উড়ি, কাঠের বৈঠা, খুনতি, দুটি দা, গাদ কাটার ছাঁকনি ও কলসি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে ৬০ জন গোলচাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী সাত দিনের মধ্যে অন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরও গোলের গুড় তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করা হবে।

তিনি বলেন, “উচ্চমাত্রার লবণাক্ততা রয়েছে এমন জমিতে গোলগাছ ছাড়া অন্য কোনো ফসল চাষ করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি কার্বন শোষণের ক্ষেত্রেও গোলপাতা গাছের গুরুত্ব অনেক। বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন শোষণে গোলগাছ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।”

অনুষ্ঠানে উপকরণ বিতরণের উদ্বোধন করেন বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুগারক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রতন কুমার গণপতি, পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান, সিপিপির সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান খান, সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্বাস আলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জুলহাস আজাদ, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম, উপজেলা অতিরিক্ত কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুবা বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা।

চাকামইয়া ইউনিয়নের বাইনবুনিয়া গ্রামের গোলচাষি সফিজ উদ্দিন বয়াতী বলেন, “আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে গোলের গুড় উৎপাদন করি। বর্তমানে আমার ১৫০টি গাছ রয়েছে। আমার বাপ-দাদারাও গোলের আবাদ করতেন। হয়তো আগের গুড়ের মান ভালো ছিল না। আজকে যেসব উপকরণ দেওয়া হলো, তা দিয়ে এখন মানসম্মত গুড় তৈরি করতে পারুম।”

একই গ্রামের কৃষক মো. শাহজাহান বয়াতী বলেন, “আমার দুই থেকে তিনশ গোলগাছের বাওর আছে। আগে আমরা যেমন-তেমনভাবে গোলগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করতাম। সরকার এসব উপকরণ দেওয়ায় এখন ভালো মানের গোলের গুড় উৎপাদন করা সম্ভব হবে।”

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com