আধুনিক কসাইখানা চালু কুষ্টিয়ায়, শরিয়তসম্মত জবাই নিশ্চিতের দাবি

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০০ পিএম

ছবি সংগৃহীত

তানভীর আজাদ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শহরের লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গবাদিপশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত কসাইখানাটিতে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতেও পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর পরিচালনার দায়িত্ব কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে কসাইখানাটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী রীতি অনুসরণ করা হবে। জবাইয়ের পর মাংস প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাতের অন্যান্য ধাপে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুতে প্রচলিত ও যান্ত্রিক, উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে কসাইখানার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে মাংস ব্যবসায়ীদের সময় ও শ্রম কমার পাশাপাশি পশু জবাইয়ের বর্জ্য নির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শহরের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে পশু জবাইয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ রয়েছে। আধুনিক কসাইখানা চালুর ফলে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। এতে পরিবেশের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করা সহজ হবে।

 

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, কসাইখানায় জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে। ফলে রোগাক্রান্ত পশু শনাক্ত করে জবাই থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়ায় মাংস প্রস্তুত করার পাশাপাশি পশুর চামড়ার মানও সংরক্ষণ করা যাবে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা থাকলেও মুসলিম ভোক্তাদের জন্য শরিয়তসম্মত জবাই নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

 

পবিত্র কোরআনে আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করার নির্দেশনা রয়েছে। সূরা আল-আনআমের ১১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা প্রাণীর মাংস খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সূরার ১২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ না করা প্রাণীর মাংস ভক্ষণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

হাদিসেও পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন এবং প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় কষ্ট না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে আধুনিক কসাইখানায় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও পশু জবাইয়ের মৌলিক শরিয়তি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

সচেতন মুসলিমদের মতে, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সমস্যা নেই। তবে পশু জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ, জীবিত পশুকে শরিয়তসম্মতভাবে জবাই এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় বিধান অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সঠিক ব্যবস্থাপনায় কসাইখানাটি পরিচালিত হলে কুষ্টিয়া শহরে যত্রতত্র পশু জবাই বন্ধ হবে, পরিবেশ দূষণ কমবে এবং মাংস সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও শরিয়তসম্মত মাংস সরবরাহেও এ প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com