সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে মেশে-অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে: হাজী আশরাফ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
নারায়নগঞ্জ (সোনারগাঁ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোগরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের ফলাফল ঘোষণা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মোগরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও শিক্ষানুরাগী এবং মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী আশরাফ উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক-অভিভাবক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিতারা সুলতানা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়নের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, ফলাফল, শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমি এই স্কুলেরই ছাত্র। এই স্কুলে লেখাপড়া করেছি। প্রায় ৪০ বছর পর আজ সেই স্কুলে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। এটি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও আবেগের বিষয়।”
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আজ সন্তানদের ফলাফল নিতে এসেছেন। ফলাফল ভালো বা খারাপ-যাই হোক, সেটি মেনে নিতে হবে। ফলাফল আশানুরূপ না হলে সন্তানকে বকাঝকা না করে উৎসাহ দিতে হবে। আপনারা সন্তানকে উৎসাহ দিলে আজ ফলাফল খারাপ হলেও আগামীতে সে ভালো করার চেষ্টা করবে।
নিজের পরিবারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আমিও একজন শিক্ষার্থীর বাবা। আমার সন্তান দুটি বিষয়ে খারাপ করেছে। এ কারণে তার মা তাকে বকাঝকা করেছে। কিন্তু আমি তাকে উৎসাহ দিচ্ছি, যাতে সে হতাশ না হয়ে পরবর্তী পরীক্ষায় আরও ভালো করার চেষ্টা করে।
তিনি আরও বলেন, সন্তানদের শুধু পড়াশোনার ফলাফলের দিকে নজর দিলেই হবে না, তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে-এসব বিষয়েও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে। সন্তানদের ভালো পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে এবং মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে তাদের দূরে রাখতে হবে।
হাজী আশরাফ উদ্দিন অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবক-উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সন্তানদের পড়াশোনা ও আচরণগত উন্নয়নের বিষয়ে নজর দেওয়ার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।