বাংলাদেশ বার্তা টুডে
নড়াইলে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ একজন গ্রেপ্তার
নড়াইলে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ একজন গ্রেপ্তার উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি নড়াইলে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ একজন গ্রেপ্তার। বুধবার (২) সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর থানার ১২ নম্বর বিছালী ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মোঃ সুজন মিয়া (২৪) পিতা মতলেব শেখ গ্রাম মির্জাপুর সরদার বাড়ি থানা ও জেলা নড়াইলকে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ, এস আই মফিজ মোল্লা এএস আই নাহিদ নিয়াজ এএসআই রমজান আলী সঙ্গীয় ফোর্স সহ মির্জাপুর জোড়া ব্রিজ এলাকা হতে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এ সংক্রান্তে নড়াইল সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।
বাগেরহাটে বজ্রপাতে দুই সহোদর কৃষকের মর্মা/ন্তিক মৃ/ত্যু: শোকে স্তব্ধ শৌলখালী গ্রাম
বাগেরহাটে বজ্রপাতে দুই সহোদর কৃষকের মর্মা/ন্তিক মৃ/ত্যু: শোকে স্তব্ধ শৌলখালী গ্রাম ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মাঠে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে বিধান বাছাড় ও মানিক বাছাড় নামের দুই আপন ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।.. বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার শৌলখালী গ্রামে বুধবার দুপুরে বজ্রপাতে দুই সহোদর কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাটি স্থানীয় জনজীবনে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। নিহতরা হলেন ওই গ্রামের মনিরঞ্জন বাছাড়ের দুই ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)। ঘটনার দিন দুপুরে তারা উপজেলার মহিষপুরা পুলিশ ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী মাঠে নিজেদের জমিতে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার পর হঠাৎ করেই বজ্রপাত শুরু হয় এবং কোনো সতর্ক সংকেত পাওয়ার আগেই বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু ঘটে। মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাঠের খোলা জায়গায় কাজ করার সময় প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর খেলায় দুই ভাইয়ের প্রাণহানি ঘটে, যা পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। দুই সহোদরের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতার অভাব এবং খোলা মাঠে কাজ করার সময় সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিনিয়ত সাধারণ কৃষকরা এ ধরনের প্রাণঘাতী পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বিধান ও মানিক বাছাড় অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এবং পরিবারের হাল ধরতে তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করতেন। তাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ওই পরিবারটি এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। মাঠের কাজের সময় বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য কোনো আশ্রয়কেন্দ্র বা আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে, যা তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান ইয়াদ নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে শোকার্ত পরিবারটি অন্তত মানসিকভাবে কিছুটা ভরসা পায়। বজ্রপাত এখন বাংলাদেশে একটি বড় ধরনের দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, বিশেষ করে কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই সহোদরের এই মৃত্যু প্রমাণ করে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অস্বাভাবিক বজ্রপাত কৃষকদের জীবনযাত্রার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র স্থাপন এবং কৃষকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জোরালো হচ্ছে। প্রকৃতির এই চরম আঘাতের বিপরীতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে গ্রামীণ জনপদে কৃষকদের প্রাণহানি রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতির জন্যও একটি বড় অশনি সংকেত।
ধামইরহাটে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
ধামইরহাটে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি নওগাঁর ধামইরহাটে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষার ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকালে সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী তাহমিনা সারমিন। আয়োজক কমিটি জানান এবার ৫৩ তম জাতীয় স্কুল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রিড়া প্রতিযোগিতা মোট চারটি ইভেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রুপ পর্যায়ে কাবাডিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বড় শিবপুর দাখিল মাদ্রাসা ও হ্যান্ড বলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ধামইরহাট সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।এছাড়া একক ভাবে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি ছাত্র ছাত্রী পুরস্কার প্রাপ্ত হন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান, ভেড়ম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান, কুলফৎপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, বীরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদ জাহান, ধামইরহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিহা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন।খেলা পরিচালনা করেন সফিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীর চর্চা শিক্ষক মো,আতাউর রহমান সহ বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শরীর চর্চা শিক্ষকবৃন্দ।
পাঁচ টাকার নোট থেকে বাস্তবের কুসুম্বা মসজিদ, ইতিহাস-ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন
পাঁচ টাকার নোট থেকে বাস্তবের কুসুম্বা মসজিদ, ইতিহাস-ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় পাঁচ শতাব্দীর পুরোনো ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ। সময়ের নানা পরিবর্তন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ পেরিয়ে আজও স্ব-গৌরবে টিকে থাকা এই মসজিদ শুধু মুসলিমদের ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের এক মূল্যবান নিদর্শন। অসাধারণ স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক সৌন্দর্যের কারণে দেশের পাঁচ টাকার নোটেও স্থান পেয়েছে এই ঐতিহাসিক মসজিদের ছবি। ফলে ছোটবেলা থেকেই নোটে মসজিদের ছবি দেখে অনেকের মনে জাগে এটি একবার কাছ থেকে দেখার আকাঙ্ক্ষা। সেই আকর্ষণেই প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কুসুম্বা ইউনিয়নের কুসুম্বা গ্রামে মসজিদটির অবস্থান। রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের মান্দা ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থিত হওয়ায় সড়কপথে সহজেই এখানে যাওয়া যায়। মসজিদের চারপাশের সবুজ পরিবেশ ও বিশাল দিঘী দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। বিশাল দিঘী ঘিরে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে প্রায় ১০০ বিঘা আয়তনের বিশাল একটি দিঘী। প্রায় ১২০০ ফুট দীর্ঘ ও ৯০০ ফুট প্রশস্ত এই জলাধার একসময় স্থানীয় মানুষ ও মুসল্লিদের পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। বর্তমানে ঐতিহাসিক মসজিদের সঙ্গে বিশাল দিঘীটি পুরো এলাকার সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সুলতানি স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন কুসুম্বা মসজিদের স্থাপত্যে ফুটে উঠেছে সুলতানি আমলের শিল্পরুচি। উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৫৮ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৪২ ফুট বিস্তৃত মসজিদটির দেয়াল প্রায় ছয় ফুট পুরু। বাইরের দেয়াল পাথরে আবৃত হওয়ায় স্থাপনাটি পেয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। মসজিদের সামনের দেয়ালে রয়েছে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার। চার কোণায় রয়েছে অষ্টভুজাকৃতির চারটি বুরুজ। ছাদের ওপর দুই সারিতে নির্মিত ছয়টি গম্বুজ প্রাচীন সুলতানি স্থাপত্যের সৌন্দর্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ১৮৯৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মসজিদের কয়েকটি গম্বুজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে সংস্কার ও সংরক্ষণের মাধ্যমে স্থাপনাটির সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হয়। পাথরের অলংকরণে ফুটে উঠেছে শিল্পীর নিপুণতা মসজিদের অভ্যন্তরেও রয়েছে নানা নান্দনিক কারুকাজ। দুটি বিশাল পাথরের স্তম্ভ পুরো ছাদের ভার বহন করছে। পশ্চিম দেয়ালে থাকা তিনটি মেহরাবে ঝুলন্ত শিকল, ফুল ও লতাপাতার সূক্ষ্ম নকশা প্রাচীন শিল্পীদের অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় বহন করে। মসজিদের ভেতরে একসময় একটি দোতলা কক্ষ ছিল। স্থানীয়ভাবে এটি ‘জেনানা গ্যালারি’ বা নারীদের নামাজের স্থান হিসেবে পরিচিত। উত্তর দিকের মেহরাবের সামনে পাথরের পিলারের ওপর এই কক্ষটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মসজিদের সামনে রয়েছে প্রশস্ত খোলা প্রাঙ্গণ। পাথর বসানো সিঁড়ি দিয়ে সরাসরি দিঘীর দিকে নামা যায়। প্রবেশপথের কাছেই রয়েছে বাক্স আকৃতির একটি কালো পাথর, যা স্থাপনাটির প্রাচীনত্বের আরেকটি স্মারক। নির্মাণকাল নিয়ে রয়েছে মতভেদ কুসুম্বা মসজিদের নির্মাণকাল নিয়েও ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। প্রধান শিলালিপির তথ্য অনুযায়ী, আফগান সুলতান গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহের শাসনামলে ১৫৫৮ সালে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। তবে অন্য একটি শিলালিপিতে ১৪৯৮ সালে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়। এ কারণে মসজিদটির বয়স নিয়ে ৪৬৮ থেকে ৫২৮ বছরের মধ্যে বিভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। ‘কুসুম্বা’ নামের পেছনে লোককথা স্থানীয়ভাবে প্রচলিত একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের বেগম কুসুম বিবির নাম থেকেই এলাকার নাম হয় কুসুম্বা। পরে সেই নাম অনুসারে মসজিদটির নামও কুসুম্বা মসজিদ হয়। তবে এই জনশ্রুতির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাঁচ টাকার নোটের ছবি: টানে দর্শনার্থীদের কুসুম্বা মসজিদ দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। নওগাঁ শহরের পিএম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিহা হোসেন কৃপা বলেন, ‘পাঁচ টাকার নোটে এই মসজিদের ছবি দেখে অনেক দিন ধরেই এখানে আসার ইচ্ছা ছিল। সামনে থেকে দেখে খুব ভালো লাগছে। চারপাশের পরিবেশও সুন্দর। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের সুবিধার জন্য এখানে একটি রেস্ট হাউস করা হলে ভালো হয়।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইরিন জামান বলেন, ‘ছবিতে মসজিদটি দেখেছি। তবে সামনে থেকে দেখার অনুভূতি একেবারেই আলাদা। এত সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ আগে দেখিনি। বিশাল দিঘী ও চারপাশের পরিবেশ মুগ্ধ করার মতো।’ নামাজে ভরে ওঠে প্রাঙ্গণ ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের পাশাপাশি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরাও এখানে নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে শুক্রবার ও ঈদের জামাতে মসজিদের পুরো প্রাঙ্গণ মুসল্লিতে পূর্ণ হয়ে যায়। মসজিদের খতিব মাওলানা মোস্তফা আল-আমিন বলেন, ‘মসজিদের ভেতরে চারটি কাতারে প্রায় ৮০ জন মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। এছাড়া সামনের খোলা প্রাঙ্গণে প্রায় ৭০০ জন মুসল্লি একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান মাসে এখানে তারাবির নামাজও অনুষ্ঠিত হয়।’ পর্যটনের অপার সম্ভাবনা নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাচীন এই মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। পর্যটনের সম্ভাবনা আরও বাড়াতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’ সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ সংরক্ষণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে কুসুম্বা মসজিদ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজও দাঁড়িয়ে থাকা কুসুম্বা মসজিদ যেন অতীত আর বর্তমানের মধ্যে এক জীবন্ত সেতুবন্ধন। ধর্মীয় আবহ, প্রাচীন স্থাপত্য, পাথরের কারুকাজ, বিশাল দিঘী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বয়ে নওগাঁর এই স্থাপনাটি হয়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
তাড়াইলে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস
তাড়াইলে ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অবৈধ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে ২৮৫ পিস নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল এবং ২৫ পিস দুয়ারী (রিং জাল) জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। অভিযানে নেতৃত্ব দেন, তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় তাড়াইল সদর বাজারে মাছুম মিয়া নামের এক ব্যবসায়ীর দোকানে উপজেলা মৎস্য দপ্তর অভিযান পরিচালনা করে ৩১০ পিস অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এছাড়াও উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন মেসার্স লাবিব পোল্ট্রি ফিড এন্ড মেডিসিনের লাইসেন্স না থাকায় মৎস্য ও পশু খাদ্য আইনে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পরিচালিত অভিযানে জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট ও দুয়ারী (রিং জাল) উপজেলা পরিষদের খোলা জায়গায় জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান মিয়া, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মারুফ আকন্দ। এছাড়াও তাড়াইল থানার পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন। তাড়াইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী বলেন, অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার জলজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি। টেকসই মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
পরিবেশ ক্ষতি করার কারণে বসুন্ধরা সহ ৭ প্রতিষ্ঠানকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা
পরিবেশ ক্ষতি করার কারণে বসুন্ধরা সহ ৭ প্রতিষ্ঠানকে ২৩ লাখ টাকা জরিমানা সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতিসাধনের দায়ে নারায়ণগঞ্জের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং। গতকাল পরিবেশ অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের তথ্য, উপাত্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর বিভিন্ন ধারায় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফতুল্লার নয়ামাটি, কুতুবপুর এলাকার এবলুম ডিজাইন লিমিটেডকে ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। রূপগঞ্জের ভালুকার, কেশরাব এলাকার রিজেন্ট হোল্ডিংস ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে ৫ লাখ টাকা এবং আটলাপুর এলাকার ট্রেডস ওয়ার্থ হাইজভোল্ট লিমিটেডকে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। এ ছাড়া সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাট নিউটাউন এলাকার বসুন্ধরা পেপার মিলস লিমিটেডের বিরুদ্ধে ২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং ফতুল্লার কাইয়ুমপুর এলাকার মেসার্স সানলাইট ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ বাংলাবাজার এলাকার কোয়ালিটি টেক্সটাইলকে ১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বন্দরের কুড়িপাড়া, সদনপুর এলাকার স্টার পার্টিকেল বোর্ড মিলস লিমিটেডকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানের ওপর ধার্য করা ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪০ টাকা। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনানুগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করে এমন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার: সুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণ মামলায় দৃষ্টান্তমূলক বিচার: সুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাট: লালমনিরহাটে আলোচিত শিশু রিয়ামনি ধর্ষণ মামলার দীর্ঘ আট বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এ ঘটনায় জড়িত আসামি সুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এ রায় প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত—আসামি সুজন লালমনিরহাট সদর উপজেলার তালুক খুটামারা এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে। মামলা ও আদালত সূত্রের বরাতে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালে। ওই দিন আট বছর বয়সী শিশু রিয়ামনি তার মায়ের সঙ্গে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিল। তারা লালমনিরহাট আদালত প্রাঙ্গণের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় সুজন নামে এক যুবক শিশুটিকে ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে ফুসলিয়ে কাছেই এয়ারপোর্ট এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে সে পাশবিক নির্যাতন চালায়। শিশুটির কান্নাকাটি ও চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে এলে ধর্ষক সুজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আট বছর ধরে তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আসামি সুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারক তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (বিশেষ পিপি) অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ছিল। খোদ কোর্ট চত্বরের মতো নিরাপদ স্থানের পাশ থেকে শিশুকে তুলে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।" আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করছেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে এবং শিশু নির্যাতন রোধে একটি কড়া বার্তা দেবে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।
নাগেশ্বরীতে সার্ভিসিং সেলস গ্রাহকদের মেয়াদোত্তীর্ণ গ্রাহকদের চেক প্রদান
নাগেশ্বরীতে সার্ভিসিং সেলস গ্রাহকদের মেয়াদোত্তীর্ণ গ্রাহকদের চেক প্রদান কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:০২.০৯.২৬ কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সার্ভিসিং সেলস গ্রাহকদের মেয়াদোত্তীর্ণ গ্রাহকদের চেক প্রদান করেছে প্রগ্রেসিভ লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। বুধবার দুপুরে কলেজ মোড়স্থ ওই ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কার্যালয়ে ৬জন গ্রাহককে ১২ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। নাগেশ্বরী ব্রাঞ্চের জিএম ইনচার্জ জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আকরাম হোসেন, বিশেষ অতিথি রংপুর অঞ্চলের ডিএমডি আনিছুর রহমান, এএমডি শাহজাহান আলী, এজিএম অর্জুন সাহা, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আফরোজা বেগম লাকী, শাহনাজ বেগমসহ অনেকে।
চুয়াডাঙ্গায় বদলে যাচ্ছে মাদকের ধরন
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু,চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গায় দীর্ঘদিন ধরে ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবার মতো প্রচলিত মাদকের কারবার হয়ে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় নতুন ধরনের মাদকের কারবার ও ব্যবহার বেড়েছে। ফেনসিডিল ও গাঁজার পাশাপাশি বাড়ছে ট্যাপেন্টাডলসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশনের ব্যবহার। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির কয়েক বছরের অভিযানের তথ্যেও মাদকের ধরন পরিবর্তনের এ প্রবণতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও পরবর্তী এক বছরে ২৫ হাজার ৪৮৫টি ট্যাপেন্টাডল ও নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধারের তথ্য রয়েছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৬১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ২৩৮ কেজির বেশি গাঁজাও উদ্ধার করেছে বিজিবি। অভিযান, নজরদারি ও পাচারের কৌশলের ওপর উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ নির্ভর করে। তবে বিপুলসংখ্যক ট্যাপেন্টাডলসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এবং বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের ঘটনা মাদকের ধরন বদলে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাদক ও জুয়া নির্মূলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান সংসদীয় কমিটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতেও ট্যাপেন্টাডল উদ্ধারের বিষয়টিও বারবার সামনে আসছে। একাধিক অভিযানে শত শত থেকে হাজার হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধারের ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। ফলে প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি ওষুধজাত নেশাদ্রব্য এখন মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত টাপেন্টাডল ওষুধকে ২০২০ সালে মাদকদ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। মাদকসেবীরা এই জাতীয় ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করায় একে ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তফসিলে যুক্ত করে গেজেট প্রকাশ করে সরকার। এদিকে বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের শুরু থেকেই ‘ক’ শ্রেণির নিষিদ্ধ মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা, দর্শনা ও জীবননগর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এসব অঞ্চলে মাদক পাচারের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। তবে মাদকের বিস্তার এখন শুধু সীমান্ত এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। জেলার অভ্যন্তরেও বিভিন্ন সময়ে মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে চুয়াডাঙ্গা শহরের একটি কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে থেকে ৫ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর মাদক বিভিন্ন পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে শুধু সীমান্তে নজরদারি নয়, জেলার ভেতরের সরবরাহব্যবস্থার ওপরও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। মাদকের ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি কিশোর ও তরুণদের মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। সম্প্রতি জেলার জীবননগরে একটি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভায় চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্সপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদের মধ্যে মাদকাসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রসিকিউটর আকুব্বার আলী বলেন, মাদক প্রতিহত করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক কারবারি ও সেবনকারী উভয়ের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া দ্রুত বিচার শেষ করার জন্য সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমেও মাদক কারবারি ও মাদকের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাদক এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে যে, একার পক্ষে এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে কাজ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান বলেন, মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে। এতে অপরাধীদের মধ্যে আইনের প্রতি ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গাকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। এ জন্য সামারি ট্রায়ালের পাশাপাশি মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণেরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। আগে অনেকেই সহজে জামিন পেয়ে যেত। এখন দ্রুত সাজা হওয়ায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সরোয়ার বাবু বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সামারি ট্রায়াল কার্যকর ভূমিকা রাখছে। দ্রুত বিচার ও শাস্তির ফলে অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে
বোয়ালখালীতে মাদ্রাসা ছাত্রীর ম/র/দেহ উদ্ধার
বোয়ালখালীতে মাদ্রাসা ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার; মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেগঘন পোস্ট বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি-ঃ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে রাইসা আনঞ্জুম রামিসা (১৬) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আছমত মিয়া মেম্বার বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রাইসা শাকপুরা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। সে বোয়ালখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রায়খালী মিয়া বাপের বাড়ি এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পড়ালেখার সুবিধার্থে সে পূর্ব শাকপুরায় বৃদ্ধ নানীর সঙ্গে বসবাস করত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফেরে রামিসা। এরপর বেশ কিছু সময় তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা খুলে তাকে সিলিংয়ের ডাঁসার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিচে নামানো হয়। খবর পেয়ে বোয়ালখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে, মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে রামিসার দেওয়া একটি আবেগঘন পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তিনি লিখেন, “হায়াতের কোনো বয়স নেই, কখন যে হঠাৎ চলে যেতে হয়, কেউ জানে না। কাউকে কোনো কথায় কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিয়েন, হঠাৎ যদি দেখেন, আমি আর নেই—মাফ করে দিয়েন।” রামিসার মৃত্যুর পর তার ফেইসবুকের ওই পোস্টটি নিয়ে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পোস্টটি তার মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আধুনিক কসাইখানা চালু কুষ্টিয়ায়, শরিয়তসম্মত জবাই নিশ্চিতের দাবি
তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি । কুষ্টিয়ায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শহরের লাহিনী বটতলার জিকে ক্যানেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গবাদিপশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে নির্মিত কসাইখানাটিতে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতেও পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর পরিচালনার দায়িত্ব কুষ্টিয়া পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে কসাইখানাটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে এটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে ইসলামী রীতি অনুসরণ করা হবে। জবাইয়ের পর মাংস প্রস্তুত ও প্রক্রিয়াজাতের অন্যান্য ধাপে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুতে প্রচলিত ও যান্ত্রিক, উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে কসাইখানার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে মাংস ব্যবসায়ীদের সময় ও শ্রম কমার পাশাপাশি পশু জবাইয়ের বর্জ্য নির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শহরের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে পশু জবাইয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকির অভিযোগ রয়েছে। আধুনিক কসাইখানা চালুর ফলে নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হবে। এতে পরিবেশের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করা সহজ হবে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, কসাইখানায় জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে। ফলে রোগাক্রান্ত পশু শনাক্ত করে জবাই থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়ায় মাংস প্রস্তুত করার পাশাপাশি পশুর চামড়ার মানও সংরক্ষণ করা যাবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা থাকলেও মুসলিম ভোক্তাদের জন্য শরিয়তসম্মত জবাই নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহর নাম নিয়ে জবাই করা প্রাণীর মাংস ভক্ষণ করার নির্দেশনা রয়েছে। সূরা আল-আনআমের ১১৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা প্রাণীর মাংস খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সূরার ১২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ না করা প্রাণীর মাংস ভক্ষণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। হাদিসেও পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন এবং প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় কষ্ট না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ফলে আধুনিক কসাইখানায় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও পশু জবাইয়ের মৌলিক শরিয়তি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সচেতন মুসলিমদের মতে, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সমস্যা নেই। তবে পশু জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ, জীবিত পশুকে শরিয়তসম্মতভাবে জবাই এবং পরবর্তী প্রক্রিয়ায় ধর্মীয় বিধান অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সঠিক ব্যবস্থাপনায় কসাইখানাটি পরিচালিত হলে কুষ্টিয়া শহরে যত্রতত্র পশু জবাই বন্ধ হবে, পরিবেশ দূষণ কমবে এবং মাংস সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরবে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও শরিয়তসম্মত মাংস সরবরাহেও এ প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চুনারুঘাটে মোবাইল কোর্টে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড
চুনারুঘাটে মোবাইল কোর্টে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড । হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোঃ আফজল (২২) নামের এক যুবককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে মোবাইল কোর্ট। আজ বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব গালিব চৌধুরীর নেতৃত্বে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আফজল চুনারুঘাট পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাগবাড়ী পূর্বপাড়া এলাকার মোঃ আবুল কালামের ছেলে। প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলায় মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ মাদক কার্যক্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে আজ দিনব্যাপী এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আফজলকে এই দণ্ড প্রদান করেন বিচারক। চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী জানান, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ মাদক কার্যক্রম প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি সকলের সহযোগিতা ও সচেতনতা কামনা করেন।
সোনারগাঁয়ে ৩২ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার,বিশেষ অভিযানে আরো ৮ জন আটক
সোনারগাঁয়ে ৩২ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার,বিশেষ অভিযানে আরো ৮ জন আটক সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দেওয়ান আরজু (৫৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের আমবাগ এলাকার দেওয়ান আরজুর বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের তত্ত্বাবধানে সাব-ইন্সপেক্টর মো. সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেওয়ান আরজুর কাছ থেকে ৩২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার দেওয়ান আরজু উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের আমবাগ গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত দেওয়ান বিল্লাল এবং মায়ের নাম মৃত নুরজাহান। পুলিশের তথ্যমতে, দেওয়ান আরজুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় সোনারগাঁ থানায় আরও তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা ২০২৫ সালের ৭ মার্চ, দ্বিতীয়টি ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ এবং তৃতীয়টি ২০২৬ সালের ৯ মে দায়ের করা হয়। এসব মামলায় পরবর্তীতে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর আগে গত ৩১ আগষ্ট রাতে মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক কারবারি ও মাদকসেবী মোট ৮ জনকে আটকের তথ্য জানায় পুলিশ। পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ৮ জনকে আইনানুগ পক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়।
গাজীপুরে অটো সহ অটো রিক্সাচালকের ম/র/দেহ উদ্ধার: রিক্সা উদ্ধার ও গ্রেফতার
গাজীপুরে অটো সহ অটো রিক্সাচালক উধাও, তারপর চালকের মরদেহ এবং রিক্সা উদ্ধার এবং গ্রেফতার গাজীপুর প্রতিনিধি গাজীপুরের কাশিমপুরে হৃদয় (২৪) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় লুট হওয়া অটোরিকশাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় আরও তিনজন পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, হৃদয় আশুলিয়ার পূর্ব বাইদগ্রাম এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন। গত ৩১ আগস্ট সকালে প্রতিদিনের মতো অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা গ্যারেজ মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে অটোরিকশায় থাকা জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে সেটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গ্যারেজ মালিক ও তার লোকজন ট্র্যাকারের অবস্থান অনুসরণ করে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় পৌঁছান। সেখানে রাত আনুমানিক ২টার দিকে সন্দেহভাজন দুজনকে আটক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে হৃদয়ের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে কাশিমপুরের তেতুইবাড়ি এলাকায় বেক্সিমকো কোম্পানির একটি পরিত্যক্ত জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয় অটোরিকশাচালক হৃদয়ের মরদেহ। ঘটনার পর পিবিআই গাজীপুরের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হৃদয়কে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার পেছনে লুটের উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও কারণ স্পষ্ট হবে।
দেবীগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র্যালিতে নেতৃত্ব দিলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ
দেবীগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র্যালিতে নেতৃত্ব দিলেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক, পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগান নিয়ে অংশ নেন। র্যালিটি দেবীগঞ্জের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দলের রাজনৈতিক আদর্শ, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন নেতারা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে নেতাকর্মীদের জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দেশের মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে দেবীগঞ্জে দিনভর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।