বাংলাদেশ বার্তা টুডে
নড়াইলে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার, এক বছরের সাজা দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড
নড়াইল মির্জাপুর ক্যাম্পের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেফতার এক বছরের সাজা দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি; নড়াইল মির্জাপুর ক্যাম্পের মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ২৮ পিস ইয়াবা আট্যাবলেট সহ একজন গ্রেফতার এক বছরের সাজা দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড। শনিবার (৫) সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক জান্নাতুল নাঈম তাকে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুইহাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন মির্জাপুর ক্যাম্পের ইনচার্জ মোহাম্মদ মফিজ মোল্লা, এএসআই নাহিদ নিয়াজ এএসআই রমজান আলী হাওলাদার সঙ্গীও ফোর্স সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। মাদক মুক্ত নড়াইল জেলা গড়ার লক্ষ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মফিজ মোল্লা এর তত্ত্বাবধানে এএসআই নাহিদ নিয়াজ এএসআই রমজান আলী হাওলাদার সঙ্গীও ফোর্স সহ নড়াইল সদর থানার ৯,নম্বর সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের কালীপ্রসন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সামনে সিংগাশোলপুর বাজার টু বড়কুলা গামি পাকা রাস্তার উপর হইতে, মোঃ সাব্বির মোল্লা (২৭)পিতা হবিবার মোল্লা গ্রাম শোলপুর থানা ও জেলা নড়াইল কে (২৮)পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ হাতেনাতে গ্রেফতার করে। উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।
গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রতিটি সড়ক খানা-খন্দরে ভরে গেছে, পৌরবাসীর চরম দুর্ভোগে
গোপালগঞ্জ পৌরসভার প্রতিটি সড়ক খানা- খন্দরে ভরে গেছে, পৌরবাসীর চরম দুর্ভোগে... সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ০৫-০৯-২৬ গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা। গোপালগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় রাস্তার গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা-তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। জনদুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ সড়কগুলো সংস্কার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যাবে। এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৫টি সড়কের দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তবে অপর্যাপ্ত বাজেট ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবের কারণে সব সড়কের কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব হচ্ছে না। পৌরবাসী বর্তমান অনেক কষ্ট নিয়ে বসবাস করছেন। বিগত সরকারের উন্নয়ন নিয়ে ও নানা অভিযোগ উঠেছে এর নিরেপক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছেন পৌরবাসী!
গোপালগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, দুই যুবককে থানায় দিল স্থানীয়রা
গোপালগঞ্জে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, দুই যুবককে থানায় দিল স্থানীয়রা :- সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ০৫-০৯-২৬ সাংবাদিক পরিচয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক পল্লী ডেন্টাল চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আটকৃতরা হলেন- কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের ছোট পারুলিয়া গ্রামের বাদশা খানের ছেলে হারুন অর রশিদ খান (৩৮) এবং একই ইউনিয়নের তিতাগ্রামের লিয়াকত মোল্যার ছেলে রবিউল ইসলাম (৩২)। তারা নিজেদের ‘দৈনিক স্বাধীন কাগজ’-এর সাংবাদিক পরিচয় দেন এবং তাদের কাছে ওই পত্রিকার দুটি পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা জানান, ঘোনাপাড়া বাজারের পল্লী ডেন্টাল চিকিৎসক সাধন বিশ্বাসের সনদ ভুয়া দাবি করে তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই দুই যুবক। টাকা না দিলে ভিডিও ধারণ করে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি চিকিৎসক সাধন বিশ্বাস বাজারের ব্যবসায়ীদের জানালে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। এ সময় হারুন অর রশিদ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে তাদের দুইজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পল্লী ডেন্টাল চিকিৎসক সাধন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘ওই দুই ব্যক্তি আমার চেম্বারে এসে ‘দৈনিক স্বাধীন কাগজ’ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমার সনদপত্র দেখতে চান। তারা আমার সনদপত্র ভুয়া বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে আমার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ধারণ করে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন। পরে বিষয়টি বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ স্থানীয়দের জানালে তারা এসে দুজনকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।’ কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে স্থানীয়রা দুই ব্যক্তিকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন
সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের ৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের ৩৯ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে সোনারগাঁও প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও কেক কাটার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়। সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি এমএম সালাহউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক রবিউল হুসাইন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁও প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি মোক্তার হোসেন মোল্লা, ফজলে রাব্বি সোহেল, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, অর্থ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খায়রুল আলম খোকন, ক্রীড়া সম্পাদক হারুন অর রশিদ, নির্বাহী সদস্য মাহবুব রহমান, নির্বাহী সদস্য মনির হোসেন, সিনিয়র সদস্য মাসুদ শায়ান, মাহবুবুল ইসলাম সুমন, আনিসুর রহমান, নাসিরউদ্দিন, কবির হোসেন প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাঁচবিবি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা অ্যাডভোকেট জনির
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাঁচবিবি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনির মোস্তাকিন হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: আসন্ন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম জয়পুরহাট জেলা শাখার সদস্য সচিব, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও এপিপি অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাঁচবিবি পৌর পার্কে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, জয়পুরহাট জেলা শাখার আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনিকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম জয়পুরহাট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী মুকুল, এপিপি অ্যাডভোকেট শাহীনুর রেজা বানু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এপিপি অ্যাডভোকেট মোজাহিদুল ইসলাম মোনা, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনির সমর্থক ও আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঁচবিবি পৌরবাসী কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত। পৌর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, পাঁচবিবি পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পৌরবাসীর সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তিনি পাঁচবিবি পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচিতে পৌর এলাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, নাগরিকসেবা সহজীকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। দল-মত নির্বিশেষে সব নাগরিকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং পৌরবাসীর মৌলিক নাগরিক সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনের শেষে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনি পাঁচবিবি পৌরবাসীর কাছে দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে উন্নত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব পাঁচবিবি পৌরসভা গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
পারিবারিক শান্তির জন্য রাসুল (সাঃ) এর কিছু পরামর্শ! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
পারিবারিক শান্তির জন্য রাসুল (সাঃ) এর কিছু পরামর্শ! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ প্রিয় নবীজি (সা.)-এর আগমন ছিল সারা জগতের জন্য রহমতস্বরূপ। ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধ, সবার জন্য তিনি ছিলেন আদর্শ ব্যক্তিত্ব। বংশ-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নবী আদর্শে রয়েছে সফল জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা। বৈবাহিক জীবনে সব দম্পতিই একটি সুখময় জীবনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু অনাকাক্সিক্ষত অনেক বিষয়ই এ স্বপ্নের মধ্যে আড় হয়ে দাঁড়ায়, যা কখনো কখনো স্থায়ী পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়, কখনো বা এর পরিণতি দুজনের বিচ্ছেদ; যার প্রভাব শুধু দুজন মানুষের ওপর নয়, বরং দুটি পরিবার ও তাদের সন্তান-সন্ততির ওপর পড়ে। নবীজি (সা.)-এর বিস্তৃত জীবন অধ্যায়ে পরিবার গঠনমূলক এমন কিছু কার্যকর দিকনির্দেশনা আছে, যা অনুসরণ করে চললে যে কেউ অতীতের সব দাম্পত্য কলহের অবসান ঘটিয়ে নতুন করে একটি সুখী পরিবার গঠনে আগ্রহী হয়ে উঠবে। পরিবারকে সময় দেওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম সাহাবি হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, আমি একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উভয় জাহানের মুক্তির পথ কী, তা জানতে চাইলাম। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি উপদেশ দিলেন। এক. কথাবার্তায় আত্মসংযমী হবে। দুই. পরিবারের সঙ্গে তোমার অবস্থানকে দীর্ঘ করবে। তিন. নিজের ভুল কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪০৬) পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ যে রাসুল (সা.) তা উভয় জাহানের সফলতার পথ ও পাথেয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তবে তা একটি আদর্শ পরিবার গঠনে যে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে, তা তো স্পষ্ট। অবশ্য এখানে এটিও লক্ষণীয় যে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান যেন নিছক দৈহিক উপস্থিতিই না হয়। যেমন- ঘরে তো আছি কিন্তু টিভি, মোবাইল বা ব্যক্তিগত কাজে এতটাই নিমগ্ন, যা সঙ্গিনীর জন্য আরো বেশি পীড়াদায়ক। ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করা : স্ত্রীকে ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করা অনেকের কাছে খানিকটা লজ্জার বিষয় মনে করা হয়। এটি ঠিক নয়। নবীজির প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, নবীজি কি পরিবারের লোকদের তাদের ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করতেন? তিনি বললেন- হ্যাঁ, নবীজি ঘরের লোকদের তাদের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য যেতেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৭৬) এ ছাড়া অন্যান্য হাদিসে ঘরোয়া কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, রাসুল (সা.) নিজ হাতেই তাঁর পরিধেয় কাপড় সেলাই করতেন। প্রয়োজনে নিজের জুতা নিজেই সেলাই করে নিতেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৭৫৬) ব্যক্তিগত কাজে সঙ্গিনীর মতামত নেওয়া: চাকরি, ব্যবসা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গিনীর মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হয় না বা নিষ্প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। এটি আদৌ উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু ঘরোয়া বিষয়ই নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রেও নিজের স্ত্রীদের থেকে মতামত নিতেন। ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ নামক ইসলামী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে নবীজি স্বীয় স্ত্রী উম্মে সালমা (রা.)-এর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় যা অতি কার্যকরী বলে বিবেচিত হয়। (বুখারি, হাদিস : ২৭৩১) সঙ্গিনীর প্রতি ভালোবাসা মুখে প্রকাশ করা: হাবভাবে অনেক সময় ভালোবাসার কথার জানান দিলেও মুখে প্রকাশ করাটাকে লজ্জার বিষয় মনে করে অনেকেই। একবার বললেই দেখবেন, কথাটি শোনার জন্য সে কতটা আপেক্ষিক হয়ে ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীদের বিভিন্ন রোমাঞ্চকর কথায় আপ্লুত করে দিতেন। যেমন, হজরত খাদিজা (রা.) সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমার মনে তার প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দেওয়া হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৪৩৫) হজরত আয়েশা (রা.)-কে বলেছেন, ‘সবার চেয়ে আয়েশা আমার কাছে এমন প্রিয়, যেমন সব খাবারের মধ্যে সারিদ আমার কাছে বেশি প্রিয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪১১) সঙ্গিনীর জন্য নিজেকে ফিট রাখা: স্ত্রীর সাজগোজ এবং সুন্দর উপস্থাপন কে না পছন্দ করে? কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, তারও তো ইচ্ছা জাগে আপনাকে তার মনের মতো সাজে দেখতে। হ্যাঁ, এমনটাই বলেছেন আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা.)। ‘আমি আমার স্ত্রীদের জন্য এমনই পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন আমি তাদের ক্ষেত্রে সাজগোজ করে থাকতে পছন্দ করি।’ (বাইহাকি, হাদিস : ১৪৭২৮) দূরত্ব কমানো, আন্তরিকতা বাড়ানো : নবীজির পবিত্র জীবনীতে স্বীয় স্ত্রীদের সঙ্গে রোমান্টিকতার এত সব চিত্র অঙ্কিত রয়েছে, যা সত্যি একটি আদর্শ দাম্পত্য জীবনের উপমা। তার থেকে আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরবর্তী সময় নবীজির সম্মানিত স্ত্রীরা এসব ঘটনার বিবরণ এতটা উচ্ছ¡াসের সঙ্গে দিয়েছেন, যা তাঁদের ভেতরকার ভাব-আবেগের সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪) তিনি আরো বলেন, পাত্রের যে অংশে আমি মুখ রেখে পানি পান করতাম তিনি সেখানেই মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে পছন্দ করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ৩০০) কখনো কখনো আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করতাম এবং আমাকে খুশি করতে তিনি প্রতিযোগিতায় ইচ্ছা করেই নিজেকে পেছনে ফেলে দিতেন। এ ছাড়া একই সঙ্গে গোসল করা, একই প্লেটে খাবার খাওয়া, একই চাদরে রাত্রিযাপনসহ অসংখ্য রোমান্টিকতায় ভরপুর ছিল নবীজির দাম্পত্য জীবন। দাম্পত্য কলহের জের ধরে শত শত পরিবারে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে মিডিয়ার অবদানে হয়তো খুব ক্ষুদ্র অংশের ব্যাপারেই আমাদের জানা থাকে। বাস্তবতা হয়তো এর চেয়েও বেশি ভয়াবহ। স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামীর খুন হওয়া এটি তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কখনো এ কলহের রোষানলে পড়ে জীবন হারায় নিষ্পাপ সন্তান-সন্ততি। আমরা যদি হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের-আদর্শের এ ছোট ছোট বিষয় আমল করি, আশা করি তা আঁধারে আলোর প্রদীপ হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
কুষ্টিয়ায় দাফনের ৫ মাস পর পীরের মরদেহ কবর থেকে তুলে দরবারে পুনঃস্থাপন, এলাকায় চাঞ্চল্য
কুষ্টিয়ায় দাফনের ৫ মাস পর পীরের মরদেহ কবর থেকে তুলে দরবারে পুনঃস্থাপন, এলাকায় চাঞ্চল্য। তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দাফনের প্রায় পাঁচ মাস পর কথিত পীর মো. আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার বাবার মরদেহ কবর থেকে তুলে তার দরবারে পুনরায় রাখার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। এই চাঞ্চল্যকর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। সে সময় গণপিটুনিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন, যেখানে মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। নিহতের মৃত্যুর পর থেকেই তার ভক্তদের একটি অংশ কবর থেকে মরদেহ তুলে দরবারে রাখার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। নিরাপত্তার খাতিরে দাফনের পর কিছুদিন কবরস্থানে পুলিশি পাহারাও রাখা হয়। তবে শুক্রবার রাতে গোপনীয়তা রক্ষা করে ভক্তরা কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করে দরবারে নিয়ে স্থাপন করে। নিহতের ভাই মো. ফজলুর রহমান জানান, রাতের আঁধারে কারা এবং কীভাবে কবরস্থান থেকে মরদেহ তুলে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তাদের পরিবারের কেউ কিছু জানেন না। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহ চুরির বা উত্তোলনের এই অদ্ভুত ঘটনায় পুরো এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
ধামইরহাটে কবর খুঁড়ে মুক্তিযোদ্ধার কঙ্কাল চুরি, জড়িত স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী
ধামইরহাটে কবর খুঁড়ে মুক্তিযোদ্ধার কঙ্কাল চুরি, জড়িত স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী মো: ছাব্বির হাসান,নওগাঁ বিশেষ প্রতিনিধি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় কবর খুঁড়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কঙ্কাল চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সিয়াম হোসেন (২৬) নামে স্কুলপড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। কবর থেকে মরদেহের কঙ্কাল চুরির মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর কাজিপাড়া নামক গ্রামে। অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষার্থী একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে ও কাজিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাস পূর্বে ধামইরহাট উপজেলার কাজিপাড়া এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমানের দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। সম্প্রতি তার কবরস্থানে গিয়ে কবরের মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা কাছে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই কবর থেকে মরদেহের কঙ্কাল চুরি হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কবরস্থানে জড়ো হন অ
জাবিতে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা
জাবিতে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা জাবি প্রতিনিধি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ৫৪ ও ৫৫তম ব্যাচের নবীনবরণ, ৪৮ ও ৪৭তম ব্যাচের বিদায়ী সংবর্ধনা এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে এই নবীনবরন ও কৃতি শিক্ষার্থীব সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। কিন্তু ব্যাক্তিগত সমস্যার কারনে তিনি প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতে পারেনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, তিনি নবীনদের অভিনন্দন জানান এবং শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা খেয়াল করেছি গাইবান্ধা জেলা থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে মেধার সাক্ষর রেখে যাচ্ছে। এটা নি:সন্দেহে গৌরবের বিষয়।” এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত নারী আসন (গাইবান্ধা ১, ২, ৩, ৫)-এর সংসদ সদস্য মমতাজ আলো এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ মোতাহার হোসেন। এছাড়াও আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক এবং এবি টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মনজুরুল হক সাচ্ছা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোঃ শামছুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গাইবান্ধা জেলার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সমিতির পক্ষ থেকে ৫৪ ও ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান এবং অ্যাকাডেমিক ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। আলোচনা পর্ব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটির সমাপ্তি ঘটে। #.....
নড়াইলে শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানী চৌধুরীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই
নড়াইলে শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানী চৌধুরীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে: নড়াইলে শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই। নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভা এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার গলার স্বর্ণের চেইন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ওই ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানী চৌধুরী (৪৬) শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ৩৮ নম্বর এলএল গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় ছুটির পর ভ্যানে করে বাড়ি ফেরেন কৃষ্ণা রানী। বাড়িতে প্রবেশের সময় পেছন থেকে এক ব্যক্তি তার গলার চেইন টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও পরে জোর করে চেইনটি ছিঁড়ে নিয়ে যান তিনি। এ সময় শিক্ষিকার হাতে থাকা ছোট ব্যাগটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে ৮ হাজার টাকা ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ছিনিয়ে নেওয়া চেইনটির ওজন এক ভরি দুই আনা। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন কৃষ্ণা রানী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাড়িতে প্রবেশের সময় এক ব্যক্তি পেছন থেকে কৃষ্ণা রানীর কাছে গিয়ে তার গলার চেইন টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে চেইন ছিঁড়ে নিয়ে দ্রুত চলে যান তিনি। কিছুটা দূরে আরেক ব্যক্তি একটি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই গাড়িতে করে তারা পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর কৃষ্ণা রানী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
নীলফামারীতে পুকুরপাড় থেকে পরিত্যক্ত ‘তাজা’ ধাতব গ্রেনেড উদ্ধার
নীলফামারীতে পুকুরপাড় থেকে পরিত্যক্ত ‘তাজা’ ধাতব গ্রেনেড উদ্ধার রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি পুকুরের উত্তর অংশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পুরাতন তাজা ধাতব গ্রেনেড উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-১৩ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানার শ্বাসকান্দর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাব-১৩-এর সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল প্রশিক্ষিত বোম্ব ডিসপোজাল টিমের সহায়তায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে অভিযান চালায়। এ সময় গ্রামের মো. আলতাফ (৫০), পিতা-মৃত মোহাম্মদ আলীর বসতবাড়ির পূর্ব পাশে অবস্থিত পুকুরের উত্তর অংশে পরিত্যক্ত অবস্থায় কালো রঙের একটি পুরাতন তাজা ধাতব গ্রেনেড পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে গ্রেনেডটি উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডটির ওজন আনুমানিক ৪৫০ গ্রাম এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ ইঞ্চি। পরে উদ্ধারকৃত গ্রেনেডটি সৈয়দপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জিডি নম্বর-২৪৭ করা হয়েছে। র্যাব-১৩ জানিয়েছে, সমাজে অপরাধ ও সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূর ঝুল/ন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সারথী সরকার নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সারথী সরকার শ্রীরামপুর গ্রামের বিশ্বনাথ সরকারের স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার ও দৈনন্দিন কাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বিশ্বনাথ সরকারের বড় ছেলে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। এ সময় তিনি মাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি সারথী সরকারকে ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তবে ততক্ষণে সারথী সরকারের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ঘটনার পর বিষয়টি কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে পরিদর্শন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে কী কারণে সারথী সরকার আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিক ভাবে জানা যায়নি।
কালীগঞ্জে কল্যাণ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ২৬
কালীগঞ্জে কল্যাণ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ২৬ একরামুল ইসলাম তুষার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কল্যাণ জনহিতৈষী সংস্থার বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বি আই জি বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৪ সালে 'কল্যাণ' হয়। উল্লেখ্য এটি একটি জনহিতৈষী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজনের পাশাপাশি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদান প্রদান করে আসছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি শামসুজ্জামান লাভলু ও সেক্রেটারি মুসা করিমের নেতৃত্বে কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে । এসব কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় উৎসাহিত হচ্ছে এবং আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীরা শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সংস্থার পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান কল্যাণের সদস্য বৃন্দ উক্ত অনুষ্ঠান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ও কল্যাণের সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ও কল্যাণের সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঘিওরে কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্কে এক পরিবার পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে
ঘিওরে কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্কে এক পরিবার পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া, ফুলহারা ও রামকৃষ্ণপুর এলাকায় কিশোরদের একটি দলের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে । স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিকেল হলেই হিজুলিয়া-খোশালবাড়ি সেতু এলাকায় ২০ থেকে ৩০ জন কিশোর-তরুণের আড্ডা বসে। তাঁদের দাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে । নিরাপত্তাহীনতার কারণে একটি পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে । বড়টিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের হিজুলিয়া-খোশালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সীমা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর দুই ছেলে মেহেদী হাসান মেহেদী ও বিজয় হোসেন রাব্বিকে কয়েক দফা মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে । এসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিসও হয়েছে । সীমা আক্তার বলেন, কয়েক দিন আগে তাঁর ছেলেদের মারধরের ঘটনায় স্থানীয় মাতব্বরেরা অভিযুক্তদের জরিমানা করে ছেড়ে দেন । ওই সময় ঘিওর থানার দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি তার । তার অভিযোগ, কয়েক দিন আগে লক্ষ্মী হৃদয় নামের এক কিশোর ফোন করে তাঁকে হুমকি দেয়। পরে সন্ধ্যার দিকে একদল কিশোর-তরুণ দা, লাঠি ও কুড়াল নিয়ে তাঁদের বাড়ি ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে । এ সময় দুই ছেলেকে নিয়ে রাতের আঁধারে পাশের একটি গ্রামে চলে যান তিনি । সীমা আক্তারের ভাষ্য, তাঁদের না পেয়ে পরে পাশের বাড়ির মোজাম্মেলের ছেলে ইমরানকে রাস্তায় আটকে মারধর করা হয় । সীমা আক্তার বলেন, “নিরাপত্তার কারণে এখনো বাড়িতে ফিরতে পারছি না। কখন আবার হামলার শিকার হই, সেই আতঙ্কে দিন কাটছে ।” স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিশোরদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে । তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাঁরা প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে কথা বলতে সাহস পান না । ফুলহারা গ্রামের কিশোর লিওনের ভাষ্য, হিজুলিয়া সেতু ও খোশালবাড়ির ছোট সেতু এলাকায় প্রতিদিন বিকেলে ২০ থেকে ৩০ জন কিশোর-তরুণের আড্ডা বসে। এ বিষয়ে ঘিওর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই চিন্ময় মন্ডল বলেন, “এর আগে স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে বসেছিলেন। পরে কী ঘটেছে, তা আমি জানি না ।” ঘিওর থানার ওসি (তদন্ত) এম এ ওয়াদুদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন । তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে । এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কিশোর-তরুণদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে ।
অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় ধামইরহাটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত, বিপাকে রোগীরা
অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় ধামইরহাটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত, বিপাকে রোগীরা মো: ছাব্বির হাসান,নওগাঁ বিশেষ প্রতিনিধি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে জরুরি রোগী পরিবহন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের সময় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা। বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমনই একটি ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা এক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় রেফার করা হয়। কিন্তু রোগীকে নেওয়ার জন্য হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যায়নি। ফলে রোগীর স্বজনরা দ্রুত বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বাইরে থেকে কীভাবে রোগী নিয়ে যাবেন, সেটি তাদের নিজেদের বিষয় বলে জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা রোগীকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধামইরহাটের মতো সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা। জরুরি মুহূর্তে রোগীকে নওগাঁ, বগুড়া কিংবা রাজশাহীর উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর অনেক পরিবার নির্ভর করেন। কিন্তু চালক না থাকায় সেই সুবিধা কার্যত অচল হয়ে পড়লে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। এর আগে ২০২৬ সালের আগস্টেও ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স চালকের সংকট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় একটি সচল সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এদিকে পুরোনো এক প্রতিবেদনে ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালকের অভাবে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহৃত না হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের Facility Registry অনুযায়ী, ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নওগাঁ জেলার একটি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগ বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা সচল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জরুরি রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যেন কোনো রোগী বা স্বজনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভাবে একটি সরকারি যানবাহন পড়ে থাকা এবং জরুরি রোগীকে বেসরকারি পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন—জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য বরাদ্দ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যদি সংকটের সময় রোগীর কাজে না আসে, তাহলে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল কীভাবে পাবেন?