বাংলাদেশ বার্তা টুডে
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাঁচবিবি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা অ্যাডভোকেট জনির
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাঁচবিবি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনির মোস্তাকিন হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি: আসন্ন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম জয়পুরহাট জেলা শাখার সদস্য সচিব, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও এপিপি অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনি। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাঁচবিবি পৌর পার্কে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, জয়পুরহাট জেলা শাখার আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনিকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম জয়পুরহাট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী মুকুল, এপিপি অ্যাডভোকেট শাহীনুর রেজা বানু, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল আহসান জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এপিপি অ্যাডভোকেট মোজাহিদুল ইসলাম মোনা, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনির সমর্থক ও আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঁচবিবি পৌরবাসী কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা থেকে বঞ্চিত। পৌর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, পাঁচবিবি পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও জনবান্ধব পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পৌরবাসীর সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তিনি পাঁচবিবি পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচিতে পৌর এলাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, নাগরিকসেবা সহজীকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। দল-মত নির্বিশেষে সব নাগরিকের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং পৌরবাসীর মৌলিক নাগরিক সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনের শেষে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম জনি পাঁচবিবি পৌরবাসীর কাছে দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে উন্নত, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব পাঁচবিবি পৌরসভা গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
পারিবারিক শান্তির জন্য রাসুল (সাঃ) এর কিছু পরামর্শ! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
পারিবারিক শান্তির জন্য রাসুল (সাঃ) এর কিছু পরামর্শ! হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ প্রিয় নবীজি (সা.)-এর আগমন ছিল সারা জগতের জন্য রহমতস্বরূপ। ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধ, সবার জন্য তিনি ছিলেন আদর্শ ব্যক্তিত্ব। বংশ-বর্ণ-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নবী আদর্শে রয়েছে সফল জীবনযাপনের দিকনির্দেশনা। বৈবাহিক জীবনে সব দম্পতিই একটি সুখময় জীবনের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু অনাকাক্সিক্ষত অনেক বিষয়ই এ স্বপ্নের মধ্যে আড় হয়ে দাঁড়ায়, যা কখনো কখনো স্থায়ী পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়, কখনো বা এর পরিণতি দুজনের বিচ্ছেদ; যার প্রভাব শুধু দুজন মানুষের ওপর নয়, বরং দুটি পরিবার ও তাদের সন্তান-সন্ততির ওপর পড়ে। নবীজি (সা.)-এর বিস্তৃত জীবন অধ্যায়ে পরিবার গঠনমূলক এমন কিছু কার্যকর দিকনির্দেশনা আছে, যা অনুসরণ করে চললে যে কেউ অতীতের সব দাম্পত্য কলহের অবসান ঘটিয়ে নতুন করে একটি সুখী পরিবার গঠনে আগ্রহী হয়ে উঠবে। পরিবারকে সময় দেওয়া : রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রিয়তম সাহাবি হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, আমি একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উভয় জাহানের মুক্তির পথ কী, তা জানতে চাইলাম। উত্তরে রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি উপদেশ দিলেন। এক. কথাবার্তায় আত্মসংযমী হবে। দুই. পরিবারের সঙ্গে তোমার অবস্থানকে দীর্ঘ করবে। তিন. নিজের ভুল কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪০৬) পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ যে রাসুল (সা.) তা উভয় জাহানের সফলতার পথ ও পাথেয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তবে তা একটি আদর্শ পরিবার গঠনে যে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে, তা তো স্পষ্ট। অবশ্য এখানে এটিও লক্ষণীয় যে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান যেন নিছক দৈহিক উপস্থিতিই না হয়। যেমন- ঘরে তো আছি কিন্তু টিভি, মোবাইল বা ব্যক্তিগত কাজে এতটাই নিমগ্ন, যা সঙ্গিনীর জন্য আরো বেশি পীড়াদায়ক। ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করা : স্ত্রীকে ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করা অনেকের কাছে খানিকটা লজ্জার বিষয় মনে করা হয়। এটি ঠিক নয়। নবীজির প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, নবীজি কি পরিবারের লোকদের তাদের ঘরোয়া কাজে সহযোগিতা করতেন? তিনি বললেন- হ্যাঁ, নবীজি ঘরের লোকদের তাদের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং নামাজের সময় হলে নামাজের জন্য যেতেন। (বুখারি, হাদিস : ৬৭৬) এ ছাড়া অন্যান্য হাদিসে ঘরোয়া কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, রাসুল (সা.) নিজ হাতেই তাঁর পরিধেয় কাপড় সেলাই করতেন। প্রয়োজনে নিজের জুতা নিজেই সেলাই করে নিতেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৩৭৫৬) ব্যক্তিগত কাজে সঙ্গিনীর মতামত নেওয়া: চাকরি, ব্যবসা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গিনীর মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হয় না বা নিষ্প্রয়োজনীয় মনে করা হয়। এটি আদৌ উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু ঘরোয়া বিষয়ই নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রেও নিজের স্ত্রীদের থেকে মতামত নিতেন। ‘হুদায়বিয়ার সন্ধি’ নামক ইসলামী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটে নবীজি স্বীয় স্ত্রী উম্মে সালমা (রা.)-এর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময় যা অতি কার্যকরী বলে বিবেচিত হয়। (বুখারি, হাদিস : ২৭৩১) সঙ্গিনীর প্রতি ভালোবাসা মুখে প্রকাশ করা: হাবভাবে অনেক সময় ভালোবাসার কথার জানান দিলেও মুখে প্রকাশ করাটাকে লজ্জার বিষয় মনে করে অনেকেই। একবার বললেই দেখবেন, কথাটি শোনার জন্য সে কতটা আপেক্ষিক হয়ে ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীদের বিভিন্ন রোমাঞ্চকর কথায় আপ্লুত করে দিতেন। যেমন, হজরত খাদিজা (রা.) সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমার মনে তার প্রতি ভালোবাসা ঢেলে দেওয়া হয়েছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৪৩৫) হজরত আয়েশা (রা.)-কে বলেছেন, ‘সবার চেয়ে আয়েশা আমার কাছে এমন প্রিয়, যেমন সব খাবারের মধ্যে সারিদ আমার কাছে বেশি প্রিয়।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৪১১) সঙ্গিনীর জন্য নিজেকে ফিট রাখা: স্ত্রীর সাজগোজ এবং সুন্দর উপস্থাপন কে না পছন্দ করে? কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, তারও তো ইচ্ছা জাগে আপনাকে তার মনের মতো সাজে দেখতে। হ্যাঁ, এমনটাই বলেছেন আমাদের রাসুলুল্লাহ (সা.)। ‘আমি আমার স্ত্রীদের জন্য এমনই পরিপাটি থাকা পছন্দ করি, যেমন আমি তাদের ক্ষেত্রে সাজগোজ করে থাকতে পছন্দ করি।’ (বাইহাকি, হাদিস : ১৪৭২৮) দূরত্ব কমানো, আন্তরিকতা বাড়ানো : নবীজির পবিত্র জীবনীতে স্বীয় স্ত্রীদের সঙ্গে রোমান্টিকতার এত সব চিত্র অঙ্কিত রয়েছে, যা সত্যি একটি আদর্শ দাম্পত্য জীবনের উপমা। তার থেকে আরো আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরবর্তী সময় নবীজির সম্মানিত স্ত্রীরা এসব ঘটনার বিবরণ এতটা উচ্ছ¡াসের সঙ্গে দিয়েছেন, যা তাঁদের ভেতরকার ভাব-আবেগের সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ভালোবেসে কখনো কখনো আমার নাম হুমায়রা বা লাল গোলাপ বলে ডাকতেন। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪৭৪) তিনি আরো বলেন, পাত্রের যে অংশে আমি মুখ রেখে পানি পান করতাম তিনি সেখানেই মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে পছন্দ করতেন। (মুসলিম, হাদিস : ৩০০) কখনো কখনো আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করতাম এবং আমাকে খুশি করতে তিনি প্রতিযোগিতায় ইচ্ছা করেই নিজেকে পেছনে ফেলে দিতেন। এ ছাড়া একই সঙ্গে গোসল করা, একই প্লেটে খাবার খাওয়া, একই চাদরে রাত্রিযাপনসহ অসংখ্য রোমান্টিকতায় ভরপুর ছিল নবীজির দাম্পত্য জীবন। দাম্পত্য কলহের জের ধরে শত শত পরিবারে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে মিডিয়ার অবদানে হয়তো খুব ক্ষুদ্র অংশের ব্যাপারেই আমাদের জানা থাকে। বাস্তবতা হয়তো এর চেয়েও বেশি ভয়াবহ। স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামীর খুন হওয়া এটি তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কখনো এ কলহের রোষানলে পড়ে জীবন হারায় নিষ্পাপ সন্তান-সন্ততি। আমরা যদি হযরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের-আদর্শের এ ছোট ছোট বিষয় আমল করি, আশা করি তা আঁধারে আলোর প্রদীপ হবে। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে আমল করার তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন। লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
কুষ্টিয়ায় দাফনের ৫ মাস পর পীরের মরদেহ কবর থেকে তুলে দরবারে পুনঃস্থাপন, এলাকায় চাঞ্চল্য
কুষ্টিয়ায় দাফনের ৫ মাস পর পীরের মরদেহ কবর থেকে তুলে দরবারে পুনঃস্থাপন, এলাকায় চাঞ্চল্য। তানভীর আজাদ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দাফনের প্রায় পাঁচ মাস পর কথিত পীর মো. আব্দুর রহমান ওরফে শ্রী শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার বাবার মরদেহ কবর থেকে তুলে তার দরবারে পুনরায় রাখার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে। এই চাঞ্চল্যকর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীরের দরবারে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। সে সময় গণপিটুনিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন, যেখানে মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। নিহতের মৃত্যুর পর থেকেই তার ভক্তদের একটি অংশ কবর থেকে মরদেহ তুলে দরবারে রাখার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। নিরাপত্তার খাতিরে দাফনের পর কিছুদিন কবরস্থানে পুলিশি পাহারাও রাখা হয়। তবে শুক্রবার রাতে গোপনীয়তা রক্ষা করে ভক্তরা কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করে দরবারে নিয়ে স্থাপন করে। নিহতের ভাই মো. ফজলুর রহমান জানান, রাতের আঁধারে কারা এবং কীভাবে কবরস্থান থেকে মরদেহ তুলে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তাদের পরিবারের কেউ কিছু জানেন না। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মরদেহ চুরির বা উত্তোলনের এই অদ্ভুত ঘটনায় পুরো এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
ধামইরহাটে কবর খুঁড়ে মুক্তিযোদ্ধার কঙ্কাল চুরি, জড়িত স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী
ধামইরহাটে কবর খুঁড়ে মুক্তিযোদ্ধার কঙ্কাল চুরি, জড়িত স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী মো: ছাব্বির হাসান,নওগাঁ বিশেষ প্রতিনিধি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় কবর খুঁড়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার কঙ্কাল চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সিয়াম হোসেন (২৬) নামে স্কুলপড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। কবর থেকে মরদেহের কঙ্কাল চুরির মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের বড়শিবপুর কাজিপাড়া নামক গ্রামে। অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষার্থী একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে ও কাজিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সাত মাস পূর্বে ধামইরহাট উপজেলার কাজিপাড়া এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমানের দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়। সম্প্রতি তার কবরস্থানে গিয়ে কবরের মাটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা কাছে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই কবর থেকে মরদেহের কঙ্কাল চুরি হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে কবরস্থানে জড়ো হন অ
জাবিতে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা
জাবিতে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা জাবি প্রতিনিধি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাইবান্ধা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ৫৪ ও ৫৫তম ব্যাচের নবীনবরণ, ৪৮ ও ৪৭তম ব্যাচের বিদায়ী সংবর্ধনা এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে এই নবীনবরন ও কৃতি শিক্ষার্থীব সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। কিন্তু ব্যাক্তিগত সমস্যার কারনে তিনি প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতে পারেনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, তিনি নবীনদের অভিনন্দন জানান এবং শিক্ষার্থীদের মেধা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা খেয়াল করেছি গাইবান্ধা জেলা থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। পরবর্তীতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে মেধার সাক্ষর রেখে যাচ্ছে। এটা নি:সন্দেহে গৌরবের বিষয়।” এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, সংরক্ষিত নারী আসন (গাইবান্ধা ১, ২, ৩, ৫)-এর সংসদ সদস্য মমতাজ আলো এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মোঃ মোতাহার হোসেন। এছাড়াও আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক এবং এবি টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ মনজুরুল হক সাচ্ছা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোঃ শামছুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত গাইবান্ধা জেলার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে সমিতির পক্ষ থেকে ৫৪ ও ৫৫তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিদায়ী শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান এবং অ্যাকাডেমিক ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখা কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন অতিথিরা। আলোচনা পর্ব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটির সমাপ্তি ঘটে। #.....
নড়াইলে শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানী চৌধুরীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই
নড়াইলে শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানী চৌধুরীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে: নড়াইলে শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানীর গলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাই। নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভা এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার গলার স্বর্ণের চেইন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ওই ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কৃষ্ণা রানী চৌধুরী (৪৬) শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ৩৮ নম্বর এলএল গার্লস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় ছুটির পর ভ্যানে করে বাড়ি ফেরেন কৃষ্ণা রানী। বাড়িতে প্রবেশের সময় পেছন থেকে এক ব্যক্তি তার গলার চেইন টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও পরে জোর করে চেইনটি ছিঁড়ে নিয়ে যান তিনি। এ সময় শিক্ষিকার হাতে থাকা ছোট ব্যাগটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ব্যাগে ৮ হাজার টাকা ছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, ছিনিয়ে নেওয়া চেইনটির ওজন এক ভরি দুই আনা। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন কৃষ্ণা রানী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাড়িতে প্রবেশের সময় এক ব্যক্তি পেছন থেকে কৃষ্ণা রানীর কাছে গিয়ে তার গলার চেইন টান দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে চেইন ছিঁড়ে নিয়ে দ্রুত চলে যান তিনি। কিছুটা দূরে আরেক ব্যক্তি একটি গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই গাড়িতে করে তারা পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর কৃষ্ণা রানী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করেছে। লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শনাক্ত করা সম্ভব হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
নীলফামারীতে পুকুরপাড় থেকে পরিত্যক্ত ‘তাজা’ ধাতব গ্রেনেড উদ্ধার
নীলফামারীতে পুকুরপাড় থেকে পরিত্যক্ত ‘তাজা’ ধাতব গ্রেনেড উদ্ধার রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি পুকুরের উত্তর অংশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পুরাতন তাজা ধাতব গ্রেনেড উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-১৩ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সৈয়দপুর থানার শ্বাসকান্দর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। র্যাব-১৩-এর সিপিসি-২, নীলফামারী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল প্রশিক্ষিত বোম্ব ডিসপোজাল টিমের সহায়তায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে অভিযান চালায়। এ সময় গ্রামের মো. আলতাফ (৫০), পিতা-মৃত মোহাম্মদ আলীর বসতবাড়ির পূর্ব পাশে অবস্থিত পুকুরের উত্তর অংশে পরিত্যক্ত অবস্থায় কালো রঙের একটি পুরাতন তাজা ধাতব গ্রেনেড পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে গ্রেনেডটি উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডটির ওজন আনুমানিক ৪৫০ গ্রাম এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ ইঞ্চি। পরে উদ্ধারকৃত গ্রেনেডটি সৈয়দপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানায় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জিডি নম্বর-২৪৭ করা হয়েছে। র্যাব-১৩ জানিয়েছে, সমাজে অপরাধ ও সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূর ঝুল/ন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার শেখ জোবায়ের আল জামান, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সারথী সরকার নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সারথী সরকার শ্রীরামপুর গ্রামের বিশ্বনাথ সরকারের স্ত্রী। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার ও দৈনন্দিন কাজ শেষে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বিশ্বনাথ সরকারের বড় ছেলে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। এ সময় তিনি মাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি সারথী সরকারকে ঘরের আড়ার সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর চিৎকারে পরিবারের অন্য সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তবে ততক্ষণে সারথী সরকারের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। ঘটনার পর বিষয়টি কালিগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিকভাবে পরিদর্শন শেষে মরদেহ উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে কী কারণে সারথী সরকার আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিক ভাবে জানা যায়নি।
কালীগঞ্জে কল্যাণ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ২৬
কালীগঞ্জে কল্যাণ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত ২৬ একরামুল ইসলাম তুষার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কল্যাণ জনহিতৈষী সংস্থার বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বি আই জি বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৪ সালে 'কল্যাণ' হয়। উল্লেখ্য এটি একটি জনহিতৈষী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজনের পাশাপাশি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদান প্রদান করে আসছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি শামসুজ্জামান লাভলু ও সেক্রেটারি মুসা করিমের নেতৃত্বে কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে । এসব কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় উৎসাহিত হচ্ছে এবং আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীরা শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সংস্থার পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানান কল্যাণের সদস্য বৃন্দ উক্ত অনুষ্ঠান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ও কল্যাণের সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ও কল্যাণের সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঘিওরে কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্কে এক পরিবার পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে
ঘিওরে কিশোর গ্যাংয়ের আতঙ্কে এক পরিবার পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া, ফুলহারা ও রামকৃষ্ণপুর এলাকায় কিশোরদের একটি দলের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বিক্রিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে । স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিকেল হলেই হিজুলিয়া-খোশালবাড়ি সেতু এলাকায় ২০ থেকে ৩০ জন কিশোর-তরুণের আড্ডা বসে। তাঁদের দাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে । নিরাপত্তাহীনতার কারণে একটি পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে । বড়টিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের হিজুলিয়া-খোশালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সীমা আক্তারের অভিযোগ, তাঁর দুই ছেলে মেহেদী হাসান মেহেদী ও বিজয় হোসেন রাব্বিকে কয়েক দফা মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে । এসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিসও হয়েছে । সীমা আক্তার বলেন, কয়েক দিন আগে তাঁর ছেলেদের মারধরের ঘটনায় স্থানীয় মাতব্বরেরা অভিযুক্তদের জরিমানা করে ছেড়ে দেন । ওই সময় ঘিওর থানার দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি তার । তার অভিযোগ, কয়েক দিন আগে লক্ষ্মী হৃদয় নামের এক কিশোর ফোন করে তাঁকে হুমকি দেয়। পরে সন্ধ্যার দিকে একদল কিশোর-তরুণ দা, লাঠি ও কুড়াল নিয়ে তাঁদের বাড়ি ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে । এ সময় দুই ছেলেকে নিয়ে রাতের আঁধারে পাশের একটি গ্রামে চলে যান তিনি । সীমা আক্তারের ভাষ্য, তাঁদের না পেয়ে পরে পাশের বাড়ির মোজাম্মেলের ছেলে ইমরানকে রাস্তায় আটকে মারধর করা হয় । সীমা আক্তার বলেন, “নিরাপত্তার কারণে এখনো বাড়িতে ফিরতে পারছি না। কখন আবার হামলার শিকার হই, সেই আতঙ্কে দিন কাটছে ।” স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিশোরদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে । তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নিজেদের ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাঁরা প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে কথা বলতে সাহস পান না । ফুলহারা গ্রামের কিশোর লিওনের ভাষ্য, হিজুলিয়া সেতু ও খোশালবাড়ির ছোট সেতু এলাকায় প্রতিদিন বিকেলে ২০ থেকে ৩০ জন কিশোর-তরুণের আড্ডা বসে। এ বিষয়ে ঘিওর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই চিন্ময় মন্ডল বলেন, “এর আগে স্থানীয় লোকজন এ বিষয়ে বসেছিলেন। পরে কী ঘটেছে, তা আমি জানি না ।” ঘিওর থানার ওসি (তদন্ত) এম এ ওয়াদুদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন । তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে । এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কিশোর-তরুণদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে ।
অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় ধামইরহাটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত, বিপাকে রোগীরা
অ্যাম্বুলেন্স চালক না থাকায় ধামইরহাটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত, বিপাকে রোগীরা মো: ছাব্বির হাসান,নওগাঁ বিশেষ প্রতিনিধি নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে জরুরি রোগী পরিবহন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের সময় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বজনরা। বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমনই একটি ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা এক রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় রেফার করা হয়। কিন্তু রোগীকে নেওয়ার জন্য হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যায়নি। ফলে রোগীর স্বজনরা দ্রুত বিকল্প যানবাহনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বাইরে থেকে কীভাবে রোগী নিয়ে যাবেন, সেটি তাদের নিজেদের বিষয় বলে জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা রোগীকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধামইরহাটের মতো সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা। জরুরি মুহূর্তে রোগীকে নওগাঁ, বগুড়া কিংবা রাজশাহীর উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর অনেক পরিবার নির্ভর করেন। কিন্তু চালক না থাকায় সেই সুবিধা কার্যত অচল হয়ে পড়লে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। এর আগে ২০২৬ সালের আগস্টেও ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স চালকের সংকট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় একটি সচল সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভাবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এদিকে পুরোনো এক প্রতিবেদনে ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালকের অভাবে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহৃত না হওয়ার তথ্যও উঠে এসেছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের Facility Registry অনুযায়ী, ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নওগাঁ জেলার একটি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগ বা বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা সচল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জরুরি রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যেন কোনো রোগী বা স্বজনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভাবে একটি সরকারি যানবাহন পড়ে থাকা এবং জরুরি রোগীকে বেসরকারি পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন—জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য বরাদ্দ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যদি সংকটের সময় রোগীর কাজে না আসে, তাহলে সাধারণ মানুষ সেই সেবার সুফল কীভাবে পাবেন?
অভিযোগ প্রত্যাহার, চিটাগাং স্টিলের বিরুদ্ধে অভিযোগে অবসান ভুল বোঝাবুঝির স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় অভিযোগ, দাবি জজ মিয়ার
অভিযোগ প্রত্যাহার, চিটাগাং স্টিলের বিরুদ্ধে অভিযোগে অবসান ভুল বোঝাবুঝির স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় অভিযোগ, দাবি জজ মিয়ার নারায়নগঞ্জ (সোনারগাঁ) সংবাদদাতা : বিএসআরএম রডের ওজন কম পাওয়ার অভিযোগে চিটাগাং স্টিলের বিরুদ্ধে দেওয়া লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মোঃ জজ মিয়া। গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিএসআরএমের উত্তরা অফিসের হেড অব সেলস বরাবর দেওয়া এক লিখিত আবেদনে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়টি জানান। লিখিত প্রত্যাহারপত্রে মোঃ জজ মিয়া উল্লেখ করেন, ১০ হাজার কেজি পণ্যের মধ্যে প্রায় ২০ কেজি কম পাওয়া গিয়েছিল। তবে অন্য স্কেলে ওজন করলে সামান্য তারতম্য হতে পারে। এ নিয়ে যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে তা অবসান হয়েছে বলে তিনি জানান। অভিযোগ প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে জজ মিয়া আরও উল্লেখ করেন, তাকে ভুল বুঝিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল লিখিত অভিযোগ করতে প্রভাবিত করেছিল। পরবর্তীতে প্রকৃত বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ায় তিনি আগের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। প্রত্যাহারপত্রে চিটাগাং স্টিলকে ‘সুনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করেন মোঃ জজ মিয়া। একই সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য কামনা করেন। এর ফলে বিএসআরএম রডের ওজন নিয়ে চিটাগাং স্টিলের বিরুদ্ধে জজ মিয়ার করা পূর্বের অভিযোগটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, আলোচনার মাধ্যমে তারও অবসান হয়েছে বলে প্রত্যাহারপত্রে উল্লেখ করা হয়। চিটাগাং স্টিল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যবসায়িক লেনদেনে সামান্য ওজনের তারতম্য বা ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল থাকা প্রয়োজন। জজ মিয়ার অভিযোগ প্রত্যাহারের মাধ্যমে বিষয়টির একটি ইতিবাচক সমাধান হয়েছে।
গঙ্গাচড়ায় মেধার স্বীকৃতি, বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৬ শিক্ষার্থী পেল সম্মাননা
গঙ্গাচড়ায় মেধার স্বীকৃতি, বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৬ শিক্ষার্থী পেল সম্মাননা রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় রি.কে.এস পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বেতগাড়ীর শবনম শেহনাজ চৌধুরী আইডিয়াল মডেল স্কুল প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঙ্গাচড়া উপজেলা সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর বেতগাড়ী ইউনিয়ন শাখার আমির মো. শাহ আলম এবং রাজধানী টিভির রংপুর ব্যুরো প্রধান মো. রফিকুল ইসলাম সাবুল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শবনম শাহনাজ চৌধুরী আইডিয়াল মডেল স্কুলের পরিচালক মো. বুলু মিয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আজ যারা বৃত্তি পেয়েছে, তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” বিশেষ অতিথি রাজধানী টিভির রংপুর ব্যুরো প্রধান মো. রফিকুল ইসলাম সাবুল বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এ অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। মেধার যথাযথ বিকাশে শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা প্রয়োজন।” সভাপতির বক্তব্যে স্কুলের পরিচালক মো. বুলু মিয়া বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। তাদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিতেই এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও নৈতিক শিক্ষায় এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।” অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৬ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইবিতে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উদযাপিত
বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইবিতে শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম জন্মাষ্টমী উদযাপিত ওসমান গণি, ইবি সংবাদদাতা: পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদযাপন পরিষদ। এ উপলক্ষে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপন, পূজা ও প্রার্থনা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, গীতাপাঠ ও কীর্তন, ধর্মালোচনা, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় পূজা ও প্রার্থনা শেষে সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে ধর্মালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ও শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন বাবর ফিরোজ। ধর্মালোচনায় প্রধান আলোচক ছিলেন মানিকগঞ্জের শিবালয়ের উথলী রাধামদন গোপাল মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈতবংশদ্ভব নন্দলাল গোস্বামী। বিশেষ আলোচক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. গৌতম কুমার দাস, অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল বলেন, “শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমীর আয়োজনটি শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও অংশগ্রহণমূলক চেতনার প্রতিচ্ছবি। এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে সনাতনী শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় চর্চার জন্য একটি স্থায়ী মন্দির নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।” তিনি আরও বলেন, “সনাতনী শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক ইসলামিক কোর্সের ক্ষেত্রে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং একাডেমিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রশাসন বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতেই একটি অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ গড়ে উঠবে। উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও উঁচু-নিচুর বিভাজন ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় সত্তা গড়ে তোলাই আমাদের চেতনা হওয়া উচিত। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব ধর্মের মানুষের মর্যাদা, সম্মান ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণী ধারণ করে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে দেশ বিনির্মাণে এগিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশ বিশ্বে একটি অসাম্প্রদায়িক, সম্প্রীতিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।” ইবি সংবাদদাতা নামঃ ওসমান গণি মোবাঃ ০১৯১৭৫৭১১৮৮ তারিখঃ ০৫-০৯-২৬
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে জামায়াতের স্বাগত মিছিল, লংমার্চ সফল করার আহ্বান
টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ে জামায়াতের স্বাগত মিছিল, লংমার্চ সফল করার আহ্বান মোহাম্মদ হোসাইন, টেকনাফ (কক্সবাজার): কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ৩টায় হোয়াইক্যং স্কুল থেকে বাজার এলাকা মিছিলটি বের হয়ে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন। মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তারা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-তেল ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবি জানান। সমাবেশে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিতে হবে। তিনি আগামী দিনের কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান। টেকনাফ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা রফিক উল্লাহ বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নুরুল হোসাইন ছিদ্দিকী বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ঐক্য প্রয়োজন। তিনি ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। মিছিল ও সমাবেশে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।