বাংলাদেশ বার্তা টুডে
সেনাকর্মকর্তা পরিচয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: মোংলায় পারভেজ গ্রেপ্তার
সেনাকর্মকর্তা পরিচয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: মোংলায় পারভেজ গ্রেপ্তার ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ র্যাব ও সেনাবাহিনীর ভুয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেজে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে পারভেজ ব্যাপারী (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাগেরহাটের মোংলা থেকে পিরোজপুরের কাউখালী থানা পুলিশ ও মোংলা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে মোংলা পৌর শহরের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ খুলনা সদর এলাকার কয়রা ২৩ নম্বর রোডের সাখাওয়াত ব্যাপারীর ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মোংলা থানা পুলিশের সহায়তায় এই অভিযান পরিচালনা করে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পারভেজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে র্যাব ও সেনাবাহিনীর মেজর বা কর্নেলসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতেন। এই ভুয়া পরিচয়ের সূত্র ধরে পিরোজপুরের এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা রাত্রিযাপনও করেন। সম্প্রতি পারভেজের এই প্রতারণার বিষয়টি পরিবারের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। এরপর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা নিলুফা বেগম বাদী হয়ে পিরোজপুরের কাউখালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর পারভেজ খুলনা থেকে পালিয়ে মোংলায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত পারভেজকে পিরোজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধর্ষণ মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বহু নারীর সঙ্গে একই কায়দায় প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা ও ১ লাখ টাকা জরিমানা
কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু: ক্লিনিক সিলগালা ও ১ লাখ টাকা জরিমানা, একরামুল ইসলাম তুষার, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় শিল্পী খাতুন (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে একটি প্রাইভেট ক্লিনিক সিলগালা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় হাসপাতালের মালিককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বারবাজারে নিউ গরীবশাহ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা নাহিদ। গত রোববার সকালে ওই ক্লিনিকে উপজেলার সাতগাছিয়া গ্রামের ইয়ার আলীর স্ত্রী শিল্পী বেগমের সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। এসময় শিল্পী বেগম অপারেশন থিয়েটারে মারা যান। তবে মৃত নারীর গর্ভ থেকে অপারেশনের মাধ্যমে নবজাতককে জীবিত বের করেন চিকিৎসকরা। ঐ ঘটনায় নিহত নারীর স্বজনরা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবেহলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করেন। স্বজনদের দাবি অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থা ছিল একদম স্বাভাবিক। সব পরীক্ষার রিপোর্টও ছিল সন্তোষজনক। কিন্তু অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়ার পরই ঘনিয়ে আসে অন্ধকার। স্বজনদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে অ্যানেশথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. তানভিরুল ইসলামের নাম থাকলেও তিনি দায়িত্বে উপস্থিত ছিলেন না। চিকিৎসকদের চরম ভুল ও অবহেলায় নিভে যায় শিল্পীর জীবনপ্রদীপ। এমনকি ক্লিনিকের মালিক ইসলাম হোসেন নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কারবার চালিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফাতিমা আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, উচ্চ রক্তচাপজনিত তীব্র জটিলতার কারণে রোগী অস্ত্রোপচার কক্ষে আসার আগেই মারা যান। ঘটনার তীব্রতায় সোমবার সকালে দ্রুত অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আমানুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে অনিয়ম ও প্রসূতির মৃত্যুর দায়ে নিউ মডার্ন গরীব শাহ ক্লিনিকটি চিরতরে বন্ধ করে সিলগালা করে দেওয়া হয়। একই সাথে ক্লিনিকটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অভিযুক্ত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর জন্য তলব করা হয়েছে
কালীগঞ্জে গ্রাম পুলিশদের সাপ্তাহিক হাজিরা ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান
কালীগঞ্জে গ্রাম পুলিশদের সাপ্তাহিক হাজিরা ও বিশেষ সম্মাননা প্রদান আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ কালীগঞ্জ থানার গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাপ্তাহিক হাজিরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশকে তথ্য ও সার্বিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান। থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মোঃ মাসুদ রানা শামিম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) মোঃ ইকবাল হোসেন। সভায় কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান সাপ্তাহিক হাজিরায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহায়তা করে বিশেষ ভূমিকা রাখায় জামালপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মো. সহিদুল্লাহ্ ও মোঃ সিদ্দিকুর রহমান এবং মোক্তারপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ শ্রী চিনি বাসকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ইবির শহীদ আনাস হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি রবি, সম্পাদক রাকিবুল
ইবির শহীদ আনাস হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি রবি, সম্পাদক রাকিবুল ওসমান গণি, ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শহীদ আনাস হল ডিবেটিং সোসাইটির ২০ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল' অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২০-২১ বর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আরবী ভাষা সাহিত্য বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম মনোনীত হয়েছেন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির উপদেষ্টা ও শহীদ আনাস হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল কাদেরের অনুমোদনক্রমে সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারির স্বাক্ষরে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি নাহিদ হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানিম তানভীর, সাংগঠনিক সম্পাদক সাররী শক্তি ইউশা, অর্থ সম্পাদক মিজানুর রহমান, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক সাইফুল হক, দপ্তর সম্পাদক রায়হান ইসলাম, ইকুইটি অফিসার নূরুল আবছার সম্রাট, শিক্ষা ও প্রকাশনা সম্পাদক আহমদ জাবের, বিতর্ক ও গবেষণা সম্পাদক আহাবুব রহমান অনিক, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিমূল আহসান নাযিফ, ইভেন্ট ও লজিস্টিকস সম্পাদক বনি আমীন, পিআর ও প্রমোশন সম্পাদক নাইম আলম, প্রেস ও আইটি সম্পাদক নূরুল ইসলাম। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন- আশরাফুল ইসলাম, মুজাহিদুর রহমান, মহিদুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, রাকিবুল হাসান। নবমনোনীত সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বলেন, শহীদ আনাস হল ডিবেটিং সোসাইটি খুব বেশিদিনের পুরোনো না হলেও শুরু থেকেই সাফল্য দেখিয়ে আসছে। অল্প সময়ের ভিতরে বিতর্ক অঙ্গনে নিজেদের ঝুলিতে জমা করেছে নানা উল্লেখযোগ্য অর্জন। নবমনোনীত সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, শহীদ আনাস হল ডিবেটিং সোসাইটি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী ডিবেটিং ক্লাব। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন বিতার্কিক তৈরিতে মনোনিবেশ করবে।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার ‘বড় হুজুর’কে গণপিটুনি
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার ‘বড় হুজুর’কে গণপিটুনি চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা চুয়াডাঙ্গার চুয়াডাঙ্গা আলম অ্যাপ শিক্ষার্থীর সাথে আলমডাঙ্গায় এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার ‘বড় হুজুর’ মাওলানা আবুল কালামকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল উপজেলার চরপাড়া গ্রামের একটি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে মাওলানা আবুল কালামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় জড় হন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা মাওলানা আবুল কালামকে আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মাদরাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। তবে মাওলানা আবুল কালামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু সাংবাদিক বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা মোবাইল ০১৮১৮-৩৪৩৯৩৬
সঙ্কটে জ্বালানি খাত: গ্যাস-বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বৃত্ত থেকে মুক্তির উপায়
সঙ্কটে জ্বালানি খাত: গ্যাস-বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের বৃত্ত থেকে মুক্তির উপায় মোহাম্মদ হাসান একটি দেশের অর্থনীতির চাকা কতটা সচল, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা। শিল্প-কারখানা চলবে, কৃষি উৎপাদন হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে, মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক থাকবে—এসবের পেছনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে এটি আর কেবল জনদুর্ভোগের বিষয় নয়; বরং অর্থনীতি, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য একটি বড় ধরনের ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। তীব্র গরমে একদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে শিল্প-কারখানায়। কোথাও উৎপাদন কমছে, কোথাও কারখানার যন্ত্রপাতি নির্ধারিত সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। অনেক উদ্যোক্তাকে অতিরিক্ত ব্যয়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমছে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ গিয়ে পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সংকটটি আকস্মিক নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে ধীরগতি, আমদানিনির্ভরতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি। ফলে আজ যে সংকট আমরা দেখছি, তা আসলে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যারই বহিঃপ্রকাশ। চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের বিশাল ব্যবধান দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো চাহিদা ও সরবরাহের বিপুল ব্যবধান। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৫,০০০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি। বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানিসহ সরবরাহ প্রায় ২,৮৩২ মিলিয়ন ঘনফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহে রয়েছে বিপুল ঘাটতি। এই ঘাটতি শুধু রান্নার চুলা কিংবা শিল্প-কারখানায় সীমাবদ্ধ থাকে না। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও প্রয়োজনীয় গ্যাসের অভাবে সেই সক্ষমতার বড় অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে, অন্যদিকে জ্বালানির অভাবে সেই সক্ষমতার একটি অংশ অকার্যকর পড়ে থাকছে। এটি নিঃসন্দেহে পরিকল্পনার একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করে। বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, সঞ্চালন অবকাঠামো আছে, কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি নেই—এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না। শিল্পে সংকট, অর্থনীতিতে অভিঘাত জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি অনুভূত হচ্ছে উৎপাদন খাতে। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকলে শিল্পের যন্ত্রপাতি স্বাভাবিক গতিতে চালানো যায় না। উৎপাদন চক্র ব্যাহত হয়, সময়মতো পণ্য তৈরি করা সম্ভব হয় না এবং কারখানার নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর। তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পে বিদেশি ক্রেতাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে হয়। উৎপাদন ব্যাহত হলে শুধু একটি চালান বিলম্বিত হয় না; দীর্ঘমেয়াদে ক্রেতার আস্থা ও বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে কারখানা চালু রাখতে উদ্যোক্তাদের অনেক ক্ষেত্রে ডিজেল বা ফার্নেস অয়েলের মতো তুলনামূলক ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। একজন উদ্যোক্তার পক্ষে দীর্ঘদিন এভাবে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে পণ্যের দাম, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানে। এখানেই গ্যাস সংকট একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়। উৎপাদন কমলে কর্মঘণ্টা কমে, আয় কমে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয় এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহও ব্যাহত হতে পারে। তাই শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে দেখতে হবে। এলএনজি আমদানি কি একমাত্র সমাধান? দেশীয় গ্যাসের ঘাটতি পূরণে এলএনজি আমদানির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—কতটা আমদানি এবং কী ধরনের আমদানিনির্ভরতা? আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কখনো বাড়ে, কখনো কমে। ভূরাজনৈতিক সংঘাত, সরবরাহ-শৃঙ্খলের বিঘ্ন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার—সবকিছুই আমদানিকৃত জ্বালানির ব্যয়কে প্রভাবিত করে। ফলে অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার সঙ্গে যুক্ত করে দেয়। বাংলাদেশের জন্য তাই প্রয়োজন ভারসাম্যপূর্ণ নীতি। যেখানে প্রয়োজন সেখানে এলএনজি আমদানি থাকবে, কিন্তু তার পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে হবে। বিশেষ করে স্থলভাগের সম্ভাব্য গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের অফশোর এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দেশের সমুদ্রসীমায় বিপুল সম্ভাবনার কথা বহুদিন ধরেই আলোচিত। কিন্তু সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেই হবে না; প্রয়োজন কার্যকর অনুসন্ধান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। কোথায় কী পরিমাণ গ্যাস বা অন্যান্য জ্বালানি সম্পদ রয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে জানতে হলে নিয়মিত ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও অনুসন্ধান চালাতে হবে। নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া জরুরি গ্যাস ও এলএনজির পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি। সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুশক্তির মতো উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর এখনই সময়। বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্প-কারখানা, সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো যেতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করা যেতে পারে। তবে নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে অবাস্তব উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা। বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের প্রযুক্তি, গ্রিডের সক্ষমতা, জমির প্রাপ্যতা, বিনিয়োগের ব্যয় এবং উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। অপচয় কমানোও নতুন জ্বালানি উৎপাদনের সমান গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সংকটের সমাধান শুধু নতুন গ্যাসক্ষেত্র বা নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র খোঁজার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। বিদ্যমান ব্যবস্থায় কতটা অপচয় হচ্ছে, কোথায় সিস্টেম লস বেশি, কোথায় অব্যবস্থাপনা রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতে হবে। গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণে অপচয়, অবৈধ সংযোগ এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি কমাতে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। একইভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও দক্ষ করতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তি, প্রকল্পের ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়ও নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বা অন্যান্য আর্থিক দায়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বার্থ, বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা এবং চুক্তির অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা উচিত। জ্বালানি নীতিতে দরকার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে থাকা জাতীয় জ্বালানি নীতি। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতির মৌলিক দিক পরিবর্তিত হলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং সংকট আরও গভীর হতে পারে। জ্বালানি অনুসন্ধান, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, আমদানি, নবায়নযোগ্য শক্তি, জ্বালানি দক্ষতা এবং মূল্য নির্ধারণ—সবকিছুকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জ্বালানি খাতের সিদ্ধান্ত যেন কোনো গোষ্ঠী বা স্বল্পমেয়াদি স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে সাময়িক সমস্যা ভেবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আজ শিল্পে গ্যাস নেই, কাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি নেই—এভাবে সংকট সামাল দিতে থাকলে একসময় পুরো অর্থনীতির ওপর এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথ। একটি হলো সংকট দেখা দিলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। অন্যটি হলো সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় পথটিই কঠিন, কিন্তু টেকসই। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে গতি, অফশোর সম্ভাবনা কাজে লাগানো, এলএনজি আমদানিতে বাস্তবসম্মত কৌশল, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, অপচয় ও সিস্টেম লস কমানো এবং আর্থিকভাবে টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদন—সবকিছুর সমন্বিত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। কারণ জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া শিল্পের নিরাপত্তা নেই, শিল্পের নিরাপত্তা ছাড়া কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নেই, আর কর্মসংস্থান ও উৎপাদন ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও সম্ভব নয়। সুতরাং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে কেবল একটি খাতের সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি জাতীয় ইস্যু। সাময়িক জোড়াতালি দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। অন্ধকারের এই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার সময় এখনই। কারণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু আলো জ্বালানো নয়—এটি বাংলাদেশের শিল্প, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পথও আলোকিত করা। লেখক: মোহাম্মদ হাসান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
মঠবাড়িয়ায় ৫ ফার্মেসী মালিককে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা
মঠবাড়িয়ায় ৫ ফার্মেসী মালিককে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা সালমান আহসান বাবু, মঠবাড়িয়া: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্যাম্পল (নমুনা) ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণের অভিযোগে পাঁচটি ফার্মেসিকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও ওষুধ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে মঠবাড়িয়া উপজেলার ফার্মেসি রোড এবং কেএম মার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতাউর রাব্বী। অভিযানকালে পিরোজপুর জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক সুশীল কুমার ঢালী উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্স ছাড়া ওষুধ বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিক্রির জন্য নিষিদ্ধ স্যাম্পল ওষুধ সংরক্ষণের সত্যতা পাওয়ায় ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’-এর ৪০(খ) ধারায় শহরের আকন মেডিকেল হল মালিক মোহাম্মদ শাহজাহান ১০,০০০ টাকা, আদর্শ মেডিকেল হল মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া হোসেন ১০,০০০ টাকা, রাকিব মেডিকেল হল মালিক মোস্তাফিজুর রহমান ৫,০০০ টাকা, নাজাহ ফার্মেসি মালিক মো. আলমগীর হোসেন ৫,০০০ টাকা, মাহবুব ফার্মেসি: মালিক মাহবুবুর রহমান ৫,০০০ টাকা করে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতাউর রাব্বী সাংবাদিকদের জানান, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের শূন্য সহনশীল নীতি বহাল থাকবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সোনারগাঁও মেয়ে জয়ার প্রথম মিউজিক ভিডিও ' মনঘুড়ি' প্রকাশ
সোনারগাঁও মেয়ে জয়ার প্রথম মিউজিক ভিডিও ' মনঘুড়ি' প্রকাশ সোনারগাঁও( নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেয়ে ও ফ্রান্সপ্রবাসী সংগীতশিল্পী জয়া বর্মণ-এর প্রথম মৌলিক মিউজিক ভিডিও ‘মনঘুড়ি’ প্রকাশিত হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর গানটি সংগীতশিল্পী সমরজিৎ রায়-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল এবং Apple Music, Spotify-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ডিজিটাল মিউজিক প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করা হয়। রোমান্টিক ঘরানার বাংলা আধুনিক এই দ্বৈত গানের কথা লিখেছেন সঞ্জয় রায়। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সমরজিৎ রায়। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জয়া বর্মণ ও সমরজিৎ রায়। নিজের প্রথম মৌলিক গান প্রকাশের অনুভূতি জানিয়ে জয়া বর্মণ বলেন, “গানটি আমার খুবই প্রিয়। এমন একটি সুন্দর কম্পোজিশনের অপেক্ষায় ছিলাম অনেক দিন। সমরজিৎ দার সুর ও সঞ্জয় দার কথায় গানটি দারুণ হয়েছে। আমরা সবাই গানটি নিয়ে আশাবাদী। আশা করছি শ্রোতাদেরও ভালো লাগবে।” সমরজিৎ রায় বলেন, “শ্রোতাদের জন্য একটি মিষ্টি ও হৃদয়ছোঁয়া রোমান্টিক গান উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করছি গানটি সবার মন ছুঁয়ে যাবে।” রোমান্টিক কথা, সুর এবং দুই শিল্পীর সুরেলা কণ্ঠের সমন্বয়ে নির্মিত ‘মনঘুড়ি’ ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে জয়া বর্মণ গানটির রেকর্ডিং ও মিউজিক ভিডিওর কাজ সম্পন্ন করেন। একই সফরে তিনি দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে একক সংগীত পরিবেশন করে প্রশংসা কুড়ান। এছাড়া বাংলা লোকসংগীত নিয়ে তার কাজ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাছরাঙা টিভির ‘রাঙা সকাল’, বাংলা ভিশনের ‘দিন প্রতিদিন’ এবং চ্যানেল ওয়ানের ‘বিনোদন আড্ডা’। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কৃতি সন্তান জয়া বর্মণের এই প্রথম মৌলিক মিউজিক ভিডিও প্রকাশকে ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
সোনারগাঁও পুলিশের বিশেষ অভিযান বিভিন্ন মামলার ১৩ জন আটক
সোনারগাঁও পুলিশের বিশেষ অভিযান বিভিন্ন মামলার ১৩ জন আটক। সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক মামলায় ৩ জন, পরোয়ানাভুক্ত ১ জন, মাদকসেবী ৫ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ১ জন, নিয়মিত মামলায় ২ জন এবং রাজনৈতিক মামলায় ১ জনসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সোনারগাঁ থানা এলাকায় এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানটি পরিচালনা করে। পুলিশ জানায়, মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোঃ মামুন মিয়া (৩৫), মোঃ আমজাদ হোসেন (৪৮) ও মোঃ সুমন (৩৮)। তারা সোনারগাঁ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া মাদকসেবনের অভিযোগে অপু (২২), মোঃ রাসেল (৩০), শফি উদ্দিন (৩৮), জাহাঙ্গীর আলম (৫০) ও রমজান হোসেন (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে পঞ্চমীঘাট এলাকার আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় শেরপুরের কাউসার আহমেদ (২৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজনৈতিক মামলায় ভারগাঁও-আদমপুর এলাকার আব্দুল করিম (৫৯)কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া নিয়মিত মামলায় হাবিবপুরের উজ্জল (৩৮) ও বাড়ী মজলিস এলাকার মোঃ হৃদয় (২৩)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ১৩ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোনারগাঁ থানা পুলিশ আরও জানায়, মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়াল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সোনারগাঁয়ে নারীকে মারধরের পর বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সোনারগাঁয়ে নারীকে মারধরের পর বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক নারীকে মারধর, অবৈধ অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ নয়জনের বিরুদ্ধে। নিহত নারীর ভাই মো. রাব্বি (২০) এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মোসাঃ মরিয়ম (৩৫) এর সঙ্গে ইকবাল হোসেনের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১১ বছরের একটি কন্যা ও ১৫ বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মরিয়মের বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে মাদক সেবন করতেন। এতে বাধা দেওয়ায় মরিয়মকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ইকবাল হোসেনসহ ইয়ামিন, আরমান, দিপু ও হিরন মরিয়মের ঘরে প্রবেশ করে মাদক সেবন শুরু করেন। মরিয়ম প্রতিবাদ করলে ইকবালের নির্দেশে আরমান, দিপু ও হিরন তাকে দুই হাত ধরে আটকে রাখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ইয়ামিন তাকে কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারেন। এতে তার চোখের নিচে গুরুতর জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, দিপু পিস্তল দিয়ে মরিয়মের ডান হাতের কব্জি ও পিঠে আঘাত করেন। হিরনও অপর একটি পিস্তল দিয়ে তার পিঠে আঘাত করেন। পরে ইয়ামিন তার হাতেও আঘাত করেন। একপর্যায়ে মরিয়ম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে আরমানের দেওয়া অজ্ঞাতনামা একটি ট্যাবলেট ইকবাল ‘ব্যথার ওষুধ’ বলে মরিয়মকে জোর করে খাওয়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর ছালেহা বেগম, শিউলী বেগম, লাইলি বেগম ও আনারকলি অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মরিয়মকে মৃত ভেবে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করেন খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় মরিয়মকে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভাই রাব্বি এ ঘটনায় ইকবাল হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে বেআইনি মারধর, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, বিষ প্রয়োগে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ এনে আইনগত ব্যবস্থা এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চাঁদাবাজি মামলায় সাহাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান গ্রেফতার
চাঁদাবাজি মামলায় সাহাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান গ্রেফতার গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এজাহার) অনুযায়ী, সাহাপাড়া ইউনিয়নের তুলসীঘাট বাজারের সার গোডাউনের বাইরের গেট এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাটি করা হয়। মামলায় সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এজাহারে চোরাই মালামালের মূল্য ৩৫ হাজার টাকা উদ্ধারের কথা উল্লেখ থাকলেও ওই মালামাল উদ্ধার করা হয়নি বলে জানা গেছে। গ্রেফতারের পর সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হবে
নলছিটিতে একই এলাকায় পৃথক অভিযানে গাঁজা-ইয়াবাসহ আটক ৪
নলছিটিতে একই এলাকায় পৃথক অভিযানে গাঁজা-ইয়াবাসহ আটক ৪ রাজীব কুমার মালো ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির নলছিটিতে একই স্থানে পৃথক অভিযানে ৫০ গ্রাম গাঁজা ও ছয় পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের গোদন্ডা এলাকার নবনির্মিত ব্রিজের ওপর অভিযান চালিয়ে মো. মুস্তাফিজুর রহমান (২৮) নামে এক যুবককে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। তিনি সুবিদপুর গ্রামের মোহাম্মদ বাবুল হাওলাদারের ছেলে। পুলিশ জানায়, এসআই (নিঃ) সুফল সরকার সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে মুস্তাফিজুর রহমানকে গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করেন। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর, রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই ব্রিজের ওপর পৃথক অভিযান চালায় এসআই নিঃ মিজানুর রহমান সংঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স। এ সময় আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু মোহাম্মদ ইয়াসিন (১৬)-এর হেফাজত থেকে ছয় পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সময় তার দুই সহযোগী মোহাম্মদ সুজন হাওলাদার (১৭) ও মোহাম্মদ রাফি (১৭)-কেও আটক করা হয়। ইয়াসিন নলছিটি উপজেলার কোকিলা গ্রামের আব্দুল সালামের ছেলে। সুজন একই গ্রামের মানিক হাওলাদারের ছেলে এবং রাফি মোহাম্মদ কুদ্দুস মোল্লার ছেলে। নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের আগ্রাসন: মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে রামপালের জনপদ
মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেলের আগ্রাসন: মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে রামপালের জনপদ ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের অপরিকল্পিত খনন ও তীব্র নদীভাঙনে বাগেরহাটের রামপালে শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে, যা জনপদকে অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের প্রভাবে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে, যা গত কয়েক বছরে শতাধিক পরিবারের বসতভিটা গ্রাস করেছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে মোংলা বন্দর সচল রাখা ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্য নিয়ে চ্যানেলটি খনন করা হলেও, বর্তমানে সেই চ্যানেলই রামপালবাসীর জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোমজাইপুর, সিংগড়বুনিয়া, ওড়াবুনিয়া ও হুড়কা ইউনিয়নের গোলারডাঙ্গি এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় থেকে সাত কিলোমিটার পাকা সড়ক এবং বহু ফসলি জমি, গাছপালা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কেবল বসতভিটাই নয়, রামপাল উপজেলা কৃষি অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬২০ মিটার দীর্ঘ বক্স কালভার্টটিও নদীগর্ভে চলে গেছে। এই ভাঙনের ফলে হাজারো মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ অসম্ভব হয়ে উঠেছে। জোয়ারের পানির চাপে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নৌকাই এখন স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মানকে চরম সংকটাপন্ন করে তুলেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নদীভাঙন এখন কেবল ঘরবাড়ি হারানোর সংকট নয়, এটি তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে। রোমজাইপুর এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবার এবং ওড়াবুনিয়া এলাকায় আরও ৪০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে সরকারি রাস্তার পাশে বা অন্যের আশ্রয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঝুঁকিতে থাকা আরও দেড় শতাধিক পরিবার প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের মতে, অপরিকল্পিত খননের ফলেই নদীর স্রোতধারা বাধাগ্রস্ত হয়ে এই বিধ্বংসী ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসন থেকে মাঝেমধ্যে সামান্য ত্রাণ বা ঢেউটিন সহায়তা দেওয়া হলেও তা পুনর্বাসনের জন্য কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। দীর্ঘদিনের এই সংকটে তাদের একমাত্র দাবি হলো অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান। তারা মনে করছেন, জিও ব্যাগ বা দায়সারা পাইলিং দিয়ে এই আগ্রাসন ঠেকানো সম্ভব নয়, বরং নদীর বাঁক সোজা করা এবং পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনাই পারে তাদের ভিটেমাটি রক্ষা করতে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এই ভাঙনের পেছনে একদিকে যেমন নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা ও জোয়ার-ভাটার প্রভাব দায়ী, তেমনি চ্যানেলে চলাচলকারী বড় বড় নৌযানের ঢেউও ভাঙন ত্বরান্বিত করছে। রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি এবং মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল রক্ষা সংগ্রাম কমিটির দাবি, ডিপিপির নকশা অনুযায়ী ৮৩টি খাল ও নদী খনন না করায় এই বিপর্যয় নেমে এসেছে। পরিবেশ ও নদীবিজ্ঞান গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস-এর তৎকালীন রিপোর্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনটি পয়েন্টে ভাঙন রোধে কাজ চলছে এবং বড় ভাঙন স্থানগুলোতে নতুন টেকসই প্রকল্পের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর দ্রুত পাইলিং বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে স্থানীয়রা বলছে, ড্রেজিংয়ের নামে অপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ বন্ধ না করলে এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না করলে কেবল পাইলিং দিয়ে ভাঙন রোধ করা অসম্ভব। পরিশেষে, রামপালের এই মানবিক বিপর্যয় কেবল স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি দেশের উপকূলীয় অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার বড় একটি ব্যর্থতার চিত্র। যদি দ্রুত ৩৪/২ নম্বর ফোল্ডার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ বাস্তবায়ন এবং নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে মানচিত্র থেকে রামপালের অনেক গ্রাম চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীভাঙন কবলিত মানুষের আর্তনাদ এবং ক্রমবর্ধমান কৃষি ও শিক্ষাগত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হলে সরকারিভাবে দীর্ঘমেয়াদী এবং বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি মুহূর্তের বিলম্ব হাজারো মানুষের স্বপ্নকে নদীর অতল গহ্বরে বিলীন করে দিচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় অশনিসংকেত হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
৩৩ প্রভাষক-সহ ৩৫ পদে চাকরি দিচ্ছে ইবি; আবেদন শেষ ২৮ সেপ্টেম্বর
ওসমান গণি, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক ও মেডিকেল অফিসার পদে স্থায়ী নিয়োগের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রশাসন। প্রার্থীদের আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অফিস চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদনপত্র পৌঁছে দিতে হবে। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. আতিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশি স্থায়ী নাগরিকদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফরমে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি বিভাগে ১ জন সহকারী অধ্যাপক, ৩৩ জন প্রভাষক ও চিকিৎসাকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে সমাজকল্যাণ বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদে ৬ গ্রেডে একজন, প্রভাষক পদে ৯ গ্রেডে লোক প্রশাসন (১), রাষ্ট্রবিজ্ঞান (৩), ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (২), শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (২), ফোকলোর অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিজ (৩), সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার (৩), কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম (৩), হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (৩), ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং (৩), মার্কেটিং (৩), ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (১), ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (২), এনভায়রনমেন্টাল সাইন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি (১), ফাইন আর্টস (১), ইংরেজি (১) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (১) পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া চিকিৎসাকেন্দ্রের জন্য মেডিকেল অফিসার পদে ৮ গ্রেডে একজন সাইকিয়াট্রিক নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন প্রক্রিয়া: আবেদন ফরম, নিয়োগের শর্তাবলী ও প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ জনতা ব্যাংক (পিএলসি), ইবি শাখা, কুষ্টিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.iu.ac.bd) থেকে পাওয়া যাবে।
গোমস্তাপুরে অসহায় মায়ের পাশে মানবিক ইউএনও জিল্লুর রহমান, ছেলের পড়ালেখায় আর্থিক সহায়তা
গোমস্তাপুরে অসহায় মায়ের পাশে মানবিক ইউএনও জিল্লুর রহমান, ছেলের পড়ালেখায় আর্থিক সহায়তা মোঃ তুহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান একজন অসহায় মহিলার ছেলের পড়ালেখার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ওই অসহায় মহিলার হাতে এ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। জানা গেছে, অসহায় ওই নারী তার ছেলের পড়ালেখা চালিয়ে নিতে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের নজরে এলে তিনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে আসেন এবং ছেলের পড়াশোনার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। সহায়তা পেয়ে ওই নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ইউএনওর সহযোগিতায় তার সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তার এমন মানবিক কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয়। তারা আশা করেন, ইউএনও জিল্লুর রহমানের মতো মানবিক কর্মকর্তাদের উদ্যোগে সমাজের অসহায় মানুষ আরও সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পাবেন। মানবিক এই উদ্যোগ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার চেষ্টা করছি।