বাংলাদেশ বার্তা টুডে
শরণখোলায় এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের মানববন্ধন
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৮৪ নং উত্তর আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক আব্দুস সাত্তারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে একই এলাকার মৃত নাসির উদ্দিন তালুকদারের পুত্র আলমগীর তালুকদার। ৮ আগষ্ট সকালে শহীদ মিনার সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় তাকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে এর প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা প্রধান শিক্ষক মোঃ বেলায়েত হোসেন, প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন মুক্তা, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) জুয়েল মীর ও প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জাকির হোসেন। বক্তারা অবিলম্বে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেয় শিক্ষক নেতারা। এ ব্যাপারে লাঞ্চিত শিক্ষক আব্দুল সাত্তার জানায়, গত ৬ আগষ্ট বিকালে স্কুল ছুটির পর রায়েন্দা বাজারে যাওয়ার সময় উপজেলার আমড়াগাছিয়া সাতঘর মসজিদে এলাকায় পৌঁছালে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী আলমগীরী নেতৃত্বে ৪/৫ জনের একটি দল তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে কিল, ঘুসি, চর থাপ্পড় মেরে আহত করে। এ ঘটনায় তিনি শরণখোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম বলেন, তিনি একটি অভিযোগ পেয়েছেন তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
শিক্ষার্থীকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: জবি ভিসি ড. রইছ উদদীন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্বনাথ ইসলামী ছাত্র সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অধ্যাপক ড. রইছ উদদীন বলেছেন, আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতার শিক্ষা নেই। তাইতো নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরাও চিনে না তার মা কে, বাপ কে। এজন্য সব কিছুর পূর্বে শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী নীতি নৈতিকতায় সবার উর্দ্ধে যেন থাকে, সেদিকেই সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে সে দেশ ও সমাজকে শুদ্ধ করার চেষ্টা করবে। সমাজ বা দেশে সকল অন্যায়, দূর্নীতি বিরুদ্ধে তার কন্ঠস্বর জাগ্রত হবে। আমাদেরকে এমন শিক্ষার্থীই তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে হবে। তিনি শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে সিলেটের বিশ্বনাথে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্বনাথ ইসলামী ছাত্র সংস্থা’র ২৬তম বৃত্তি প্রদান ও ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথাগুলো বলেন। তিনি আরোও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী ‘লার্ণিং উইথ হ্যাপিনেজ’ কর্মসূচী গ্রহণ করছেন। এটার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন যেন বাস্তবায়িত হয়। এ কর্মসূচী সত্যিকার অর্থে বাস্তিবায়িত হলে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনন্য বিপ্লব সাধিত হবে। বিশ্বনাথ ইসলামী ছাত্র সংস্থার সভাপতি আজাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাবেক সভাপতি শফিক আহমদ পিয়ার মেম্বারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম, উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আরব খান। অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্বনাথ ইসলামী ছাত্র সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ লুৎফুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাওলানা আহমদ আলী হেলালী, মাওলানা লুৎফুর রহমান, মাওলানা আবুল বশর মোহাম্মদ ফারুক। এসময় অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, বিশ্বনাথ ইসলামী ছাত্র সংস্থার নেতৃবৃন্দ’সহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামে বেওয়ারিশ মানবসেবা বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের নিয়ে ‘এক মুঠো ভালোবাসা’ শীর্ষক মানবিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নান্দনিক চট্টলা
গতকাল অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজিজ এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার সৈয়দ মুহম্মদ আয়াজ মাবুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নান্দনিক চট্টলার প্রেসিডেন্ট ইলিয়াছ রিপন। স্বাগত বক্তব্য দেন বেওয়ারিশ মানবসেবা বৃদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান গোলাম রহমান চৌধুরী। আয়োজনের অংশ হিসেবে বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, আলুসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান আবু তাহের চৌধুরী, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের ট্রেজারার প্রিন্সিপাল সানা উল্লাহ, বিশিষ্ট সংগঠক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব এম এ সবুর, সেবা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ডাঃ আর কে রুবেল, জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, নান্দনিক চট্টলার উপদেষ্টা মুরাদ চৌধুরী, আশার আলো মানবিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল নুর এবং প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সালমান, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও মাইন উদ্দিন, সাংগঠনকি সম্পাগক মো. নুর, সাংবাদিক রতন বড়ুয়া, মানবিক ব্যক্তিত্ব বায়েজিদ ফরায়েজী, মনির আহম্মদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান একিউএম মুসলেহ উদ্দিন, এস আর সলুশনের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সিকদার, আশার আলো মানবিক ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির মহাসচিব সোমা মুৎসুদ্দি, নান্দনিক চট্টলার কো-অর্ডিনেটর সাবরিনা আফরোজা, নান্দনিক চট্টলার সেক্রেটারি ঝিমি চাকমা ঝুম, সমন্বয়ক তানজিন নিপা , কণিকা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের জীবনে কিছুটা আনন্দ ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই ছিল ‘এক মুঠো ভালোবাসা’ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ।
ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘ/টনায় ২ জন নিহ/ত
ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আবুল হোসেন (৬০) ও অর্নব ইসলাম (১৩) নামের দুই জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল চালকও । শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের নেংড়ীহাট এলাকায় বালিয়াডাঙ্গী-ঠাকুরগাঁও সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পথচারী আবুল হোসেন রহিমানপুর ইউনিয়নের মৃত দেবারু মোহাম্মদের ছেলে ও নিহত অর্নব ইসলাম (১৩) বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার জিয়াবাড়ি এলাকার দেলাওয়ার হোসাইনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, দুপুরে একটি মোটরসাইকেল বালিয়াডাঙ্গীর দিক থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় নেংড়ীহাট এলাকায় আবুল হোসেন রাস্তা পারাপারের সময় মোটরসাইকেলটি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে পড়ে যান ও ঘটনাস্থলে মারা যান। একই ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোটরসাইকেলের আরোহী অর্নব ইসলাম মারা যান। অপরদিকে মোটরসাইকেল চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাজাহান আলী জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পথচারীসহ দুইজন নিহত হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
নোবিপ্রবি ছাত্রদলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, বহিষ্কার দুই নেতা
দীর্ঘদিন ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বিরোধ, প্রকাশ্য বাগ্বিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে এবার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম ও প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন। গত রোববার (২ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। তবে বিজ্ঞপ্তিতে দুই নেতার বিরুদ্ধে কী ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। বহিষ্কৃত দুই নেতা দাবি করেছেন, তাঁদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সেটিও জানানো হয়নি। দুই নেতা নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁদের বহিষ্কারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নেতৃত্বের বিরোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে বিরোধের একাধিক ঘটনা এর আগে প্রকাশ্যে এসেছে। গত ২১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের তৎকালীন প্রভোস্ট ড. মো. তসলিম মাহমুদের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হলের একটি আবাসিক আসনকে কেন্দ্র করে ওই বিরোধের সূত্রপাত। পরে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে উপাচার্যের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন হলের প্রভোস্ট। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল আবদুল মালেক উকিল হলের সামনে ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিনিকেতন এলাকায় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেনের সঙ্গে সংগঠনের এক নম্বর সহসভাপতি মো. আমিনুল ইসলামসহ কয়েকজনের হাতাহাতি হয়। পরে হলের সামনে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে সাব্বির হোসেনকে চ্যাংদোলা করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাও দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ওই ঘটনার পর সাব্বির হোসেনকে সংগঠনের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে সাব্বির হোসেনের দাবি, তিনি সাবেক উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের ডাক দেওয়ার পর থেকেই সংগঠনের একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাতও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বহিষ্কৃত প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন বলেন, ছাত্রদলের সভাপতি বর্তমানে ক্যাম্পাসের জুনিয়র ব্যাচের ১ যুগের ও বেশি সিনিয়র ও সাধারণ সম্পাদক শিবিরের বাছাইকৃত কর্মী। তারপরও কেন্দ্রের সিদ্বান্ত অনুযায়ী আমরা তাদের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলো আয়োজন করে যাচ্ছিলাম।কিন্তু কমিটি দেওয়ার পর থেকেই ছাত্রদলের সভাপতি ও শিবিরের বাছাইকৃত কর্মী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সবকিছুকে স্বৈরাচারীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতেছিলো। তিনি আরোও বলেন, আমরা সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন, সহ-সভাপতি সাখাওয়াত সায়েম, প্রচার সম্পাদক খায়রুল আমান শাওন ও আমাদের অনুসারীদের নিয়ে আমাদের প্লাটফর্মটা দ্বার করাচ্ছিলাম। শাওন আরোও বলেন, "নোবিপ্রবি ছাত্রদল সভাপতিকে ‘বুইড়া খাটাশ’ বলায় আমাকে বহিষ্কার করা হয়"। তিনি আরোও বলেন, "তবে এটুকু সত্য যে, আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কখনোই এমন কোনো কর্মকাণ্ডে একাত্ম হইনি, যা আমাদের দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার পরিপন্থী। চাঁদাবাজি, প্রকৌশলীকে হুমকি-ধমকি প্রদান, শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অবৈধভাবে হলের সিট দখল, বৈধভাবে বরাদ্দকৃত সিট বাতিলের জন্য হল প্রভোস্টের ওপর চাপ প্রয়োগ, জনসম্মুখে কাউকে হেনস্তা করা কিংবা অন্য কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা কখনো তাদের সঙ্গে ছিলাম না। তাদের সঙ্গে এসকল কর্মকান্ডে এক হতে না পারাই বহিষ্কারের কারণ হতে পারে"। সহসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন সায়েম বলেন, তাঁদের বহিষ্কারের আগে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ কী, সেটাও আমরা জানি না। আমাদের কাছ থেকে কোনো কিছু জানতেও চাওয়া হয়নি। হুট করেই বহিষ্কার করা হয়েছে।’ সায়েমের দাবি, নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটিকে ‘ভুজুংভাজুং কমিটি’ বলায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই দুই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম তাদের দফায় দফায় সতর্ক করেছে। কমিটি দেওয়ার আট মাস হয়ে গেলেও এক দিনের জন্যও তারা কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেনি।’ জাহিদ হাসানের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠন ও কমিটিকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করার পাশাপাশি তাঁরা সংগঠনের নীতির বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক টিমের নজরে ছিল। শোকজ না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে নোটিশের মাধ্যমে তাদের সতর্ক করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক টিম অনলাইনে এবং বিভিন্ন মিটিংয়েও তাদের সতর্ক করেছে।’ তিনি আরও বলেন, সংগঠনের সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে কেউ নন। দায়িত্ব নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ না নিলে তাঁর বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাখা ছাত্রদলে গ্রুপিংয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদ হাসান। তাঁর ভাষ্য, ‘গ্রুপিং বা অন্তর্কোন্দল এগুলো আমাদের কোনো বিষয় নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অমূলক। এখানে ছাত্রদলের যথাযথ নেতৃত্বের মাধ্যমেই সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে।’ তাঁর দাবি, বহিষ্কৃত দুই নেতা কার অনুসারী, সেটি বিবেচনায় নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক অভিযোগের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে কমিটি ঘোষণার প্রায় এক মাসের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ও সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান বাধনকে শোকজ করা হয়েছিল। পরে তাঁদের তিন মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে শুধু ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’ কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের বিস্তারিত উল্লেখ না থাকায় এবং বহিষ্কৃত নেতাদের শোকজ করা হয়েছিল কি না, তা কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
নওগাঁয় আর্জেন্টিনার পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কিশোর নিহত
মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা সংবাদ দাতা: নওগাঁর মান্দা উপজেলায় আর্জেন্টিনার পতাকা নামাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোশাররফ হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সাবাই বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোশাররফ উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়রা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে সাবাই বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আর্জেন্টিনার পতাকা টানানো হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যায় সেই পতাকা নামানোর জন্য মোশাররফ একটি গাছে ওঠে। এ সময় গাছের পাশে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা, বন্ধ বাফার গোডাউনের কার্যক্রম
দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা পরিশোধ না হওয়া ও পারিশ্রমিক কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাফার গোডাউনে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন শতাধিক শ্রমিক। এতে গোডাউনে সার ওঠা-নামা ও লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গোডাউনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে সার নিতে আসা ডিলার ও ট্রাকচালকরা বিপাকে পড়েছেন। সারবোঝাই ট্রাকগুলো গোডাউনের বাইরে অপেক্ষা করছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে না। বিশেষ করে নতুন ঠিকাদার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পাওনা পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাওনা টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। শ্রমিকরা জানান, বিএডিসি গোডাউনে সার পরিবহনের ক্ষেত্রে ডিলারদের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ৩ টাকা শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও সেখান থেকে অতিরিক্ত ১ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, গত দেড় বছরে এভাবে শ্রমিকরা বিপুল পরিমাণ অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ ছাড়া আগে প্রতি টন সারের জন্য শ্রমিকদের ১৪ টাকা ৪০ পয়সা করে দেওয়া হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে মাত্র ১ টাকা ১০ পয়সা করা হয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। দীর্ঘদিনের পাওনা ও পারিশ্রমিক নিয়ে সৃষ্ট এই অসন্তোষ থেকেই তারা কাজ বন্ধ করেছেন বলে জানান। কাজ বন্ধ থাকায় বাফার গোডাউনে সার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে সার নিতে আসা ট্রাকগুলো গোডাউনের বাইরে অপেক্ষা করছে। এতে সময় ও অর্থের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ট্রাকচালকরাও। শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে বিসিআইসির উপ-মহাব্যবস্থাপক আবু সাইদ রব্বানী বলেন, ঠিকাদার ও ডিলাররা সার নিতে এলেও শ্রমিকরা কাজ করছেন না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সমাধান করা সম্ভব না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। অন্যদিকে শ্রমিকদের পাওনা ও পারিশ্রমিক কমে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার আব্দুল মজিদ মণ্ডল বলেন, সর্দারের সঙ্গে আঁতাত করে ফ্যাসিস্ট আমলের কিছু শ্রমিক উল্টো ঠিকাদারের টাকা আত্মসাৎ করছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে টাকা দেওয়া হচ্ছে না। তারা কাজ বন্ধ করলে আমি সেখানে যাই। তখন শ্রমিকরা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। এদিকে দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধ এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করে দ্রুত লোড-আনলোড কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে সার সরবরাহে আরও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন মাদক সেবী কে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদক সেবনের অপরাধে তিন মাদক সেবী কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৮ আগষ্ট ) দুপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এই দন্ড দেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমীন হালদার। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের বেতুয়া গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৪৬), জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের পুনসহি এলাকার রহিম খানের ছেলে জয়নাল খান (২৭) এবং তুমলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিয়াখোলা এলাকার কাজী আনোয়ারের ছেলে কাজী জুয়েল (৩৫)। জানা যায়, আনোয়ার হোসেন ও জয়নাল খান ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন করে এলাকায় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট করছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ গ্রেফতার করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। কাজী জুয়েল বিরুদ্ধে মাদক সেবন করে স্থানীয় লোকদের ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং নেশার টাকা জোগাড় করতে বাড়ীর বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। অতিষ্ঠ হয়ে মা বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করেন। পরে পুলিশ তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড ও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় পৃথক তিনটি মামলা করা হয়েছে।
মাগুরায় পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের ধাওয়া খেয়ে থানায় শিবির নেতাকর্মীরা
মাগুরার শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সামনে সিরাত প্রতিযোগিতার পোস্টার লাগাতে গেলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ধাওয়া খেয়ে থানায় আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শ্রীপুর উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের দাবি, শনিবার বেলা ১২টার দিকে তারা শ্রীপুর সরকারি কলেজ গেটে জাতীয় সিরাত প্রতিযোগিতার পোস্টার লাগাতে গেলে এই ঘটনার শিকার হয়। উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি রিফাত হোসেন বলেন, সকল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগানো হচ্ছিল। কিন্তু দুপুর ১২ টার দিকে কলেজ গেটে লাগাতে গেলে শ্রীপুর কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি অন্তরের নেত্বেত্বে রামদা হকিস্টিক নিয়ে হা ম লা চালানো হয়। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একজনের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজ ছাত্রদল সভাপতি মেহেদী হাসান অন্তর। তিনি বলেন, কলেজ গেটে পোস্টার ব্যানার লাগানো নিষেধ রয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিবিরের কর্মীরা পোস্টার লাগিয়েছে। এ কারণে সাধারণ ছাত্ররা তাদের ধাওয়া দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া বলেন, ধাওয়া বা হামলা র কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছাত্ররা পোস্টার লাগাতে নিষেধ করেছিলো। পরে উপজেলা বিএনপি এবং জামাতের নেতৃবৃন্দ বিষয়টির মীমাংসা করে দিয়েছেন।
বাগআঁচড়ায় জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত
শার্শার সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান বলেছেন,খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করে না। এটি সমাজ ও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ এবং দলগত চেতনা বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শনিবার বিকালে বাগআঁচড়া হাইস্কুল মাঠে জামায়াতের যুব বিভাগের আয়োজনে ‘জুলাই স্মৃতি ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর সমাপনী ও জাঁকজমকপূর্ণ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, যে যুবসমাজ মাঠে দৌড়ায়, মাদক তাদের ছুঁতে পারে না।বর্তমান সমাজে মাদকের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ খেলাধুলা সমাজের ছেলেদেরকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। এ ধরনের সুস্থ ক্রীড়া আয়োজন তাঁদের দৈনন্দিন পেশাগত ব্যস্ততা ও মানসিক চাপের বাইরে এসে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক জীবনধারা গড়ে তুলতে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান। এর আগে গত ১ আগস্ট (শুক্রবার) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৮টি দলের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্টটির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা হয়েছিল। হাজারো দর্শকের করতালিতে মুখরিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় কলোনী সোনাতনকাঠি ফুটবল একাদশ ও টেংরা ফুটবল একাদশ। প্রথম বাঁশি থেকেই মাঠের দখল নিতে দুই দলের মধ্যে শুরু হয় টানটান উত্তেজনা ও হাড্ডাহাড্ডি আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে সোনাতনকাঠি কলোনী একাদশ চমৎকার ১ গোল আদায় করে নেয়। বিপরীতে টেংরা একাদশ গোল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। পরে তারা খেলায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজে ১-০ ব্যবধানে। ফলে জয় নিশ্চিত করে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে বিজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে টেংরা একাদশ। খেলা শেষে প্রধান অতিথি এমপি মাওলানা আজীজুর রহমান বিজয়ী চ্যাম্পিয়ন টেংরা একাদশ এবং রানার্সআপ সোনাতনকাঠি একাদশের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ফিরোজ আল মাহমুদ, বাগআঁচড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ বেলালি, সেক্রেটারি তবিবুর রহমান, জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাস্টার নজরুল ইসলাম মোল্লা,বাগআঁচড়া ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি মাওলানা হাদিউজ্জামান, সেক্রেটারি মাসুদ রানা,বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই ফরহাদ হোসেন,বাগআঁচড়া ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাঁন আরিফ হাসান,যুব নেতা হিমেল প্রমুখ।
সালথায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ
ফরিদপুরের সালথায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুহম্মদ আল ফাহাদ বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সালথায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রমকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানান। পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও পরিবেশের ক্ষতি রোধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রমের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ বা উদ্দেশ্যের সম্পর্ক নেই। এদিকে, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সালথায় পাট শুকানোর বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০
ফরিদপুরের সালথায় পাট শুকানোর জন্য বাঁশের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের জুগিকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুগিকান্দা গ্রামের বশির মাতুব্বরের বসতবাড়ির পাশে একটি মসজিদের সামনে পাট শুকানোর জন্য বাঁশ দিয়ে আড়া বাঁধেন হবি মেম্বারের সমর্থক হাবিবুর রহমান। এতে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হলে তারা বাঁশের ওই আড়া খুলে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হবি মেম্বারের সমর্থকেরা বশির মাতুব্বরকে আড়া খুলে ফেলার জন্য দায়ী করেন। একপর্যায়ে তারা বশির মাতুব্বরের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি বসতবাড়ি ও একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাট শুকানোর জন্য দেওয়া একটি বাঁশের আড়া খুলে ফেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান ওরফে হবি মেম্বার বলেন, পাটের আড়া বাঁধাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এর বাইরে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না। তার সমর্থকদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে বশির মাতুব্বর বলেন, বাঁশের আড়া খোলার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও তাকে দায়ী করে তার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্ত্রীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে তার স্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিনি নিজে পুলিশের একটি দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে কাতিহার বাজারে অভিনব টোকেন স্লিপ বানিয়ে চালকের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চুরি
আজ শনিবার কাতিহার হাটের সাইকেল-ভ্যান গ্যারেজ থেকে একটি অভিনব জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। নকল টোকেন স্লিপ বানিয়ে চালকের চোখ ফাঁকি দিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চুরি করার সময় এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয়রা। বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয়দের হেফাজতে রয়েছেন। তবে জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও তিনি নিজের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করছেন না; কেবল 01706-639191 এই মোবাইল নম্বরটিতে যোগাযোগ করার কথা বলছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে স্থানীয়রা আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছেন। যদি কেউ ওনাকে চিনে থাকেন বা উনার কোনো পরিচয় জেনে থাকেন, তবে অনুগ্রহ করে নিচের কমেন্টে জানান অথবা অনতিবিলম্বে যোগাযোগ করুন।
রামপালে সংসার চালাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন রেহেনা বেগম
দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে সব হারিয়ে এখন রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন এক অসহায় নারী। দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মাথার চুল বিক্রি করে ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের। জানা গেছে, রেহানা খাতুন নামের ওই নারী আগে একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় তিনি ও তার দুই সন্তান এখন আশ্রয় নিয়েছেন খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গায়। বর্তমানে রেলব্রিজের পাশের সরকারি জমিতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘর নির্মাণের চেষ্টা করছেন রেহানা। তবে চরম অভাব-অনটনের কারণে সেই ঘর এখনো পূর্ণতা পায়নি। কয়েক মাস ধরে শুধু বাঁশের কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও মাথা গোঁজার মতো কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা হয়নি। প্রখর রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি ও তার দুই সন্তান। স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম জানান, মাথা গোঁজার কোনো জায়গা না থাকায় রেহানা পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি তার মাথায় চুল নেই। জিজ্ঞেস করলে কাঁদতে কাঁদতে বলে—ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া দিতে চুল বিক্রি করে দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, রেহানার মতো অসহায় নারীর জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় প্রবীণ আবু তালেব শেখ বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাবো, যেন দ্রুত তাকে একটি ঘর দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে একটি বাঁশের ফ্রেম দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে রেহানার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা সম্ভব। স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, বাঁশের কাঠামো তৈরি আছে। এখন শুধু টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো যাবে। এজন্য এলাকার স্বচ্ছলদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন রেহানা। তার স্বপ্ন খুব বড় নয়—মাথার ওপর একটি টিনের ছাউনি, যেখানে বৃষ্টির দিনে সন্তানদের ভিজতে হবে না, আর রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবে তারা। রেহানা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ঘর নাই, খাওয়ার কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই। একজন মায়ের এই চরম ত্যাগ দারিদ্র্যের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। এখন প্রশ্ন—আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে একটি অসহায় মা ও তার সন্তানরা পাবে মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ আশ্রয়!
কিশোরী উদ্ধারে গিয়ে মামার মৃত্যু, থানায় কফিন নিয়ে বিক্ষোভ
রংপুরের পীরগাছার এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে গিয়ে মনোয়ারুল বকসি নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীর বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু পুলিশের পোশাক পরে পুলিশের সঙ্গে অভিযানে অংশ নিয়ে মনোয়ারুলকে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একজন বেসামরিক ব্যক্তি কীভাবে পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর আজ শনিবার (৮ আগস্ট) নিহতের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী কফিন নিয়ে থানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার মোংলাকুটি উজানপাড়া এলাকার শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সঙ্গে একই এলাকার ১৫ বছর বয়সী মিমি আক্তারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় সম্প্রতি তারা দুজন বাড়ি থেকে চলে যায়। এ ঘটনায় মিমির বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক চন্দ্রের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি পুলিশ দল ঢাকার সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে অভিযান চালায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ওই অভিযানে পুলিশের সঙ্গে শফিকুল ইসলাম মিন্টুও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর পরনে ছিল পুলিশের পোশাক। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সৌমিকের মামা মনোয়ারুল বকসিকে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মনোয়ারুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের এক স্বজন অভিযোগ করে বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে দুজন প্রেম করে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। তাদের উদ্ধারে গিয়ে কিশোরীর বাবা পুলিশের পোশাক পরে আমাদের স্বজনকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’ তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুলিশের পোশাক পরার বিষয়টি তদন্তাধীন। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, ‘মূল ঘটনা ঢাকার সাভার থানা এলাকায় ঘটেছে। মামলার আইনগত প্রক্রিয়া সেখানেই চলছে। পুলিশের পোশাক পরিধান ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এদিকে শনিবার নিহতের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। পরে কফিন নিয়ে তাঁরা পীরগাছা থানায় অবস্থান নিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।