বাংলাদেশ বার্তা টুডে
পঞ্চগড়ে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজী আল তারিক গ্রেফতার
পঞ্চগড়, ৭ আগস্ট ২০২৬: পঞ্চগড় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আল তারিককে (৪৪) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল তাকে আটক করে। পরে তাকে পঞ্চগড় সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে কাজী আল তারিককে আদালতে হাজির করা হলে পঞ্চগড়ের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এএসএম সাজ্জাদ হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কাজী আল তারিক পঞ্চগড় জেলা শহরের রামেরডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, পলাতক আসামি কাজী আল তারিককে ডিবি পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৬০ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী নুর ইসলাম গ্রেফতার
ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৬০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রয়ের নগদ ৭৬ হাজার ৬৫০ টাকাসহ মো নূর ইসলাম (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার ১০ নং জামালপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের শিবগঞ্জ বাজার টু গোস্তহাটি হিরণবন সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত মো. নূর ইসলামের পানের দোকানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দোকানের ভেতর থেকে তাকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃত মো নূর ইসলাম (৩৩) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মধ্য পারপূগী গ্রামের মৃত বিশু মোহাম্মদের ছেলে। তার মায়ের নাম আমিনা বেগম। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল বলেন,মাদকের বিস্তার রোধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জনসাধারণের সহযোগিতায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক সেমিনার
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে বিশেষ "ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান" পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়। এছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের অংশগ্রহণে একটি অভ্যন্তরীণ আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডেঙ্গুর সর্বশেষ চিকিৎসা নির্দেশিকা (গাইডলাইন), আধুনিক চিকিৎসা প্রোটোকল এবং রোগীদের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে, পানির ট্যাংক ঢেকে রাখা, ফুলের টব ও ট্রের পানি নিয়মিত পরিবর্তন, পরিত্যক্ত পাত্র পরিষ্কার রাখা, জানালা-দরজায় মশানিরোধী জাল ব্যবহার এবং দিন-রাত মশারি টানিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তীব্র পেটব্যথা, অবিরাম বমি, শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট অথবা দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হাসপাতাল সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গণহত্যার দায় স্বীকার করুক এবং কারাগারে কারাগারে যাক: আইন মন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণহত্যাকারী ও পলাতক আসামি উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, “শেখ হাসিনা খুন, গুম ও গণহত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি যদি সত্যের মুখোমুখি হতে চান, তবে অবশ্যই তার দেশে ফিরে আইনি লড়াই চালানো উচিত। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং এর হাত অনেক লম্বা।” শেখ হাসিনা নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলেছেন। আইনও চায় তিনি দেশে ফিরে আসুক, গণহত্যার দায় স্বীকার করুক এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগারে যাক। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘আগামী শৈলকূপা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার বক্তব্য ও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অডিও বার্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি ভিডিও কনফারেন্সে আসার সাহস পাননি, কেবল একটি অডিও ক্লিপ পাঠিয়েছেন, যা অনেকেই এআই-জেনারেটেড বলছেন। আমার দৃষ্টিতে তিনি একজন পরোয়ানাভুক্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। চার সাড়ে চার হাজার মানুষকে ক্রসফায়ারে হত্যা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশত মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত তিনি। এতদিনেও কি তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা এসেছে? তিনি কি এতগুলো অপরাধের জন্য জনগণের কাছে মাফ চেয়েছেন?” বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, “আমার স্বপ্নের বিচার বিভাগ হবে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। সৃষ্টিকর্তার পরেই যেন মানুষ বিচার বিভাগের ওপর নিজের আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারে, সেই পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। অবকাঠামো বা পদ্ধতিগত সংকটের চেয়েও বিচার বিভাগের প্রধান সমস্যা হলো মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিচারকের অভাব। বিচারকদের মনে রাখতে হবে, এটি কেবল আর দশটা চাকরির মতো কোনো পেশা নয়; ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের আমানত রক্ষা করাই তাদের মূল দায়িত্ব।” উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এই মতবিনিময় ও স্মরণসভায় অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমে জড়িত থাকায় খোরশেদ আলী (৩০) যুবক গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঠাকুরগাঁও অনলাইন ক্যাসিনো কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। ডিবি সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ১০ নং জামালপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মালিগাঁও (কাশিডাঙ্গা) এলাকায় অভিযান চালিয়ে তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে, মোহাম্মদ খোরশেদ আলী (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন ও মোছাঃ মাজেদা বেগমের ছেলে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তিনি ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের নামে তৈরি করা অনলাইন ক্যাসিনো আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্যাসিনো বা জুয়াখেলায় অংশগ্রহণ করতেন। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অনলাইন ক্যাসিনো সমাজ ও অর্থনীতির জন্য একটি গুরুতর হুমকি। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে অনেক ব্যক্তি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এছাড়া অবৈধ অর্থের প্রবাহ সমাজে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)এর ওসি বলেন, অনলাইন ক্যাসিনো, সাইবার প্রতারণা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযান আরও কঠোরভাবে চলমান থাকবে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নতুন অডিটোরিয়াম উদ্বোধন, অসহায়দের সহায়তা বিতরণ
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে পানিবন্দী অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শুকনো খাবার, গৃহ মঞ্জুরির চেক ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়। শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল হক। এ সময় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আসমা-উল-হুসনা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স, পৌর বিএনপির সভাপতি আনিছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার শাকিল এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বিপ্লব সওদাগর। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি বকশীগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন।
ফরিদপুরে হামের সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক, মোট আক্রান্ত ৪ হাজার ৩০৬
ফরিদপুর জেলায় হাম (মিজলস) সংক্রমণ এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪০ জন রোগী শনাক্ত হওয়ায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০৬ জনে। তবে স্বস্তির বিষয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২১ জন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন নতুন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নতুন আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বোয়ালমারী, যেখানে ২৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া আলফাডাঙ্গায় ২৫ জন, সালথায় ২৩ জন, চরভদ্রাসনে ১৭ জন, সদরপুরে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, মধুখালীতে ৬ জন, ফরিদপুর সদরে ৫ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৪০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জনসহ মোট ৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ২৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২৫ জন এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে আরও ১৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের সময়মতো হাম-রুবেলা টিকা নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে এবং জ্বর বা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে অবহেলা করা যাবে না। স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সিংগাইরের উজ্জ্বল নক্ষত্র হামজা জজ হয়ে বাবার স্বপ্ন পুরণ করলেন
অপ্রতিরোধ্য মেধা ও মননশীলতা কঠোর অধ্যবসায় ১৭ তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ হওয়ায় পরিবার তথা এলাকাবাসির মুখ উজ্জ্বল ও বাবার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন পুরণ করলেন আমির হামজা। জানাগেছে সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ভুমদক্ষিন গ্রামের ব্যবসায়ী রুমান খানের পুত্র আমির হামজা বতমানে তিনি রাজশাহীতে সিভিল জজ হিসেবে সততার সঙ্গে বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন । তার এ অর্জনে পরিবার ও এলাকাবাসী আনন্দিত ও উদ্ভাসিত। বাবার স্বপ্ন পূরণে তার মা নাসিমার অক্লান্ত পরিশ্রমই এ সাফল্যের একমাত্র সারথি। উল্লেখ্য প্রাথমিকও ৮ম শ্রেণির হতে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি প্রাপ্ত হন হামজা । এসএসসি ও এইচএসসি সাফল্যের সহিত উর্ত্তীণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সহিত এলএলবি অনার্স ও মার্ষ্টাস সম্পূর্ণ করেন। অধ্যয়ন কালে প্রতিটি পরীক্ষায় অপ্রতিরোধ্য মেধারছাপ রেখেছেনতিনি। এ মেধাবী মুখ তার পরিবার তথা দেশের অহংকার। ।
বাগেরহাটে ট্রাকচাপায় মোটর সাইকেল চালকের মৃত্যু
বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল চালক শেখ শাহারিয়ার সৈকত (৩৮) মারা গেছেন। শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের শ্রীঘাট ফুলবাড়িয়া সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত শেখ শাহারিয়ার সৈকত সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শহিদুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট থেকে খুলনাগামী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক সৈকত সড়কে ছিটকে পড়ে মাথা, মুখ ও বুকে গুরুতর আঘাত পান। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শেখ মামুনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার পর কিছু সময় বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ট্রাকটি ঘটনাস্থলে রেখে পালিয়ে যান। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ট্রাক ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। পলাতক ট্রাকচালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।
ভাঙনদুর্গতদের পাশে দাঁড়ালেন আনোয়ারুল ইসলাম মুকুল
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহারা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম মুকুল। নিজ অর্থায়নে তিনি চর নোহালী ও চর বাগডরা এলাকার ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন আনোয়ারুল ইসলাম মুকুল। এ সময় তিনি চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন। আনোয়ারুল ইসলাম মুকুল বলেন, “আমি তিস্তা পাড়ের মানুষ। নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের কষ্ট আমি জানি এবং অনুভব করি। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।” তিনি তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত জিওব্যাগ ফেলা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সহায়-সম্বল হারানো পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সোনারগাঁওয়ে অটোরিকশা চালক হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অটোরিকশা চালকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে অটোরিকশা চালকের স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তোলেন নিহতের স্বজনরা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নিহত অটোরিক্সা চালকের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার ছেলে আবু জুম্মান সজিবকে নির্যাতন করে হত্যার পর মরদেহ ঘরে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়। আবু জুম্মান সজিব প্রেমের সম্পর্কের পপ আফসানাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ সময় স্ত্রী আফসানা, তার বাবা নুর হোসেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন সময় আবু জুম্মান সজিবকে হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগ করেছেন নিহতের মা। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় লিটন মিয়ার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে আবু জুম্মান সজিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত অটো চালকের চাচা নজরুল ইসলাম, মা সেলিনা বেগম, এলাকাবাসী মোঃ শুভ আহমেদ, লিপি আকতার, মোঃ নাছির উদ্দিন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বজনরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানান। মানববন্ধনে নিহতের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাতিজাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মামলা করতে চাই, কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হোক। নিহতের মা সেলিনা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। এর সঙ্গে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রশাসনের কাছে আমার আবেদন, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তারা ঘটনার পর পরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। মানববন্ধন শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয় । মিছিলটি কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পঞ্চগড়ে জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি কৃষকের
পঞ্চগড়, ৭ আগস্ট ২০২৬: পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ন্যায়বিচার ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মজিবর রহমান নামে এক কৃষক। শুক্রবার দুপুরে হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মজিবর রহমানের দাবি, গত ৩ জুন পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনি, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে তিনি পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আব্দুস কুদ্দুস, আব্দুল হোসেন, আলম হোসেন, নুরজামাল, আব্দুল হামিদ ওরফে লাড্ডুসহ মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। মজিবর রহমান অভিযোগ করেন, হামলার পর পরিবারের সদস্যদের শরীরে গুরুতর আঘাত থাকলেও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে সেসব আঘাত যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর মেয়ের গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকলেও মেডিকেল সার্টিফিকেটে তা উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ও পরিবারের অন্য সদস্যদের আঘাতের ক্ষেত্রেও ‘Simple Injury’ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে মামলার আসামিরা আদালত থেকে জামিন পান। গত ৪ আগস্ট জামিন পাওয়ার পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নিতে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মজিবর রহমান বলেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তাঁরা নিজ বাড়িতেও স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ বিষয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মখলেছুর রহমান বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলার বাদী কোনো ধরনের হুমকি বা ভয়ভীতির মধ্যে থাকলে থানায় জানালে বা লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
তুহিন হত্যার এক বছর: দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও মামলার রায় না হওয়ায় দ্রুত বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গাজীপুরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে সাংবাদিক তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শেষ না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করে হত্যায় জড়িত সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি, একই সঙ্গে সারাদেশে সাংবাদিক হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচার দাবি করেন। বক্তারা আরও বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বরিশালে রিহ্যাব হেলথ কেয়ার এন্ড নার্সিং হোম এর শুভ উদ্বোধন
বরিশাল নগরীর রুপাতলীতে গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের বিপরীতে পার্শে উদ্বোধন করা হয়েছে রিহ্যাব হেলথ কেয়ার এন্ড নার্সিং হোম। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় ফিতা কাটা, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার(NSDA) অনুমোদিত একটি সাস্থ্যকোর্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র । কোর্স গুলোহলো: নার্সিং কেয়ার, প্রাইমারি হেলথ কেয়ার, কেয়ারগিভিং, English for Work, Entrepreneurship development. অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা বরিশাল জেলা সভাপতি ও বরিশাল বাণী’র সম্পাদক মোঃ মামুন-অর-রশিদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাউন্সিলর প্রার্থী মোঃ কাওছার মোল্লা, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি বিভাগের ইনচার্জ ডা. সৈয়দ মাসুদ আলম, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অটিজম সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নিধি অরিন এবং রিহ্যাব হেলথ কেয়ার এন্ড নার্সিং হোমের নির্বাহী পরিচালক ইসরাত জাহান ইতি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও কর্নধার ডা. আল আমীন (শাওন)। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নার্সিং কেয়ার বিষয়ে শর্ট কোর্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রোগী অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে নার্সিং কেয়ার কোর্স সম্পন্নকারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন। বক্তারা বলেন, প্রশিক্ষিত নার্সিং কেয়ার কর্মীদের মাধ্যমে রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রাথমিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মানুষের সেবায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরে রিহ্যাব হেলথ কেয়ার এন্ড নার্সিং হোমের উত্তরোত্তর উন্নতি, সাফল্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলের কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সাতছড়ি ও রামগঙ্গায় পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য নিক্ষেপ: হুমকির মুখে প্রাকৃতিক পরিবেশ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক ও নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং তৎসংলগ্ন রামগঙ্গা এলাকা এখন অনিয়ন্ত্রিত প্লাস্টিক বর্জ্য ও প্লাস্টিক পণ্যের ভাগাড়ে পরিণত হতে চলেছে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই বনাঞ্চলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে এলেও কিছু অসচেতন পর্যটকের বেপরোয়া আচরণের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য। বিশেষ করে প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দর্শনার্থী, বনভোজনকারী (পিকনিক) ও আড্ডাবাজদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। সমাগম বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যেখানে-সেখানে প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, ওয়ান-টাইম প্লেট, গ্লাস ও উচ্ছিষ্ট খাবারের স্তূপ। নির্দিষ্ট স্থান বা ডাস্টবিন থাকা সত্ত্বেও একশ্রেণীর দর্শনার্থী বনের গাছপালা ও চা বাগানের ভেতরেই এসব পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য ফেলে চলে যাচ্ছেন। পরিবেশবিদদের মতে, বনের ভেতরের এই প্লাস্টিক বর্জ্য ও পরিত্যক্ত খাবারের প্লেট বনের সৌন্দর্য ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ নষ্ট করছে। একইসাথে বন্যপ্রাণী এসব প্লাস্টিক বা খাবারের বর্জ্য মুখে দিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে, যা চুনারুঘাটের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভয়াবহ বার্তা বহন করে। স্থানটি পরিদর্শনে আসা সচেতন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ এবং এই অনন্য সুন্দর বন রক্ষা করা আমাদেরই দায়িত্ব। প্রাকৃতিক স্থানগুলোতে এসে উন্মুক্তভাবে ময়লা ফেলার এই মানসিকতা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি পর্যটকদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে।" পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে পর্যটন কেন্দ্রটিতে সুনির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার জন্য জরিমানা নির্ধারণ এবং কঠোর নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। সেই সাথে প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, পরিবেশ নষ্ট করা থেকে সবাই বিরত থাকুন এবং সাতছড়ি-রামগঙ্গার অমূল্য সৌন্দর্য রক্ষায় দায়বদ্ধতার পরিচয় দিন।