বাংলাদেশ বার্তা টুডে
ইয়াবা বিক্রির সময় পুলিশের হাতে যুবক গ্রেপ্তার
বোয়ালখালী উপজেলায় ফের ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির সময় অভিযান চালিয়ে বাদশা মিয়া বাহারাম (৩৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছেন বোয়ালখালী থানা পুলিশ। শুক্রবার (৭আগষ্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেঙ্গুরা বাজার সংলগ্ন বেঙ্গুরা রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে ৫৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ২৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত বাদশা মিয়া বাহারাম ৫ং সারোয়াতলী ইউনিয়নের পূর্ব খিতাপচর গ্রামের ৬ নং ওয়ার্ডের মৌলানা আবদুল মাবুদ শাহ্ বাড়ীর মৃত আহম্মদ সেলিমের পুত্র। উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ আগষ্ট) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেঙ্গুরা বাজার এলাকার একটি মার্কেট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি সময় শুক্কুরুল হাসান সাফী (২৫) নামের যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন তার পকেট তল্লাশি চালিয়ে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত যুবককে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে লোক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টায় বোয়ালখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চুরাখালি এলাকায় অবস্থিত বোয়ালখালী সানশাইন একাডেমি প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শিল্পী, সংগঠক ও সাংবাদিক বিপ্লব জলদাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বকুল বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মাহফুজ রকি, সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষী উজ্জ্বল শুক্ল দাশ, সাধারণ সদস্য ও সাহিত্যিক চট্ট রিয়াজ চৌধুরী। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামশুন নাহার, সিনিয়র শিক্ষিকা শাহিদা আক্তার, ফারহানা শারমিনসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “বৃক্ষ আমাদের জীবন ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করার পাশাপাশি তাঁর যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে।” বক্তারা আরও বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও সবার দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ভবিষ্যতেও বৃক্ষরোপণ, বৃক্ষ বিতরণ ও পরিবেশ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ।
নিজ খরচে সড়ক সংস্কার করে প্রশংসায় ভাসছেন মঠবাড়িয়ার বিএনপি নেতা
চোখের সামনে একটি গাড়ি উল্টে যাওয়ার মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখে আর স্থির থাকতে পারেননি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা। বহু দিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকা প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি অবশেষে তিনি নিজেই সংস্কার করে দিয়েছেন। উপজেলার থানাপাড়া ব্রিজ থেকে টিকিকাটা মাদ্রাসা পর্যন্ত এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের খানাখন্দগুলোতে পানি জমে ছোটখাটো পুকুরের আকার ধারণ করত। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হতো শিক্ষার্থী, সাধারণ পথচারী এবং ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চালকদের। এতে নিয়মিত ঘটত ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সম্প্রতি সড়কটির একটি বিপজ্জনক অংশে একটি গাড়ি উল্টে যেতে দেখে স্থানীয় বিএনপি নেতা রাজু আহমেদ রাজা তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে রাস্তাটির ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে সংস্কার কাজ শুরু করেন। সংস্কার কার্যক্রমের সময় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ তাঁকে সহযোগিতা ও তদারকিতে সহায়তা করেন। টিকিকাটা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন জানান, সাপলেজা ও আমড়াগাছিয়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সড়কটি। মানবিক তাগিদ থেকেই রাজু আহমেদ এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন ও ইজিবাইক চালক রাব্বি জানান, গর্তের কারণে নিয়মিত গাড়ি বিকল ও দুর্ঘটনা ঘটত। এই ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের চলাচলের পথ এখন অনেক নিরাপদ হয়েছে। এ বিষয়ে রাজু আহমেদ রাজা জানান, "রাস্তাটির বেহাল দশা এবং চোখের সামনে দুর্ঘটনা দেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট সহ্য করতে পারিনি। সেই তাগিদ থেকেই নিজ খরচে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করেছি। এলাকার মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।"
রংপুরে ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত, দুই ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক
রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে পার্বতীপুর থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারীগামী লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে রংপুরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে দুর্ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিকল্প পথে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে বাবুপাড়া রেলগেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের সুপার আব্দুল্লা আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রেলওয়ে সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পার্বতীপুর থেকে বুড়িমারীগামী লোকাল ট্রেনটি সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে রংপুর স্টেশনে পৌঁছায়। সেখানে প্রায় ১০ মিনিট অবস্থানের পর ট্রেনটি বুড়িমারীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। স্টেশন থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর বাবুপাড়া রেলগেটের কাছে ট্রেনটির ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। এ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে কয়েকজন যাত্রী ট্রেন থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রেল বিভাগের কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, ট্রেনটির ইঞ্জিন ২ নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হয়। ১ নম্বর লাইনে কোনো সমস্যা না থাকলেও নিরাপত্তার কারণে লালমনিরহাট ও পার্বতীপুর থেকে আসা দুটি ট্রেনের চলাচল বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। তিনি জানান, পরে লাইনচ্যুত ইঞ্জিনটি সরিয়ে ৩ নম্বর লাইনে নেওয়া হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে বিকল্প ব্যবস্থায় ১ ও ২ নম্বর লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হয়। রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের সুপার আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, ‘লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। লাইনচ্যুত ইঞ্জিনটি উদ্ধারের জন্য লালমনিরহাট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে রিলিফ ট্রেন আসছে।’
বরেন্দ্র ববহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নয় নির্বাহী প্রকৌশলীকে দুদকের তলব
রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নয় নির্বাহী প্রকৌশলীকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে বিএমডিএর বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁদের বক্তব্য নিতে তলব করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ৩ আগস্ট বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালককে চিঠি দিয়েছে দুদক। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগসংশ্লিষ্ট নয় কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। দুদকের তলব করা কর্মকর্তারা হলেন—নাজমুল হুদা, এনামুল কাদির, তোফাজ্জল আলী সরকার, এটিএম রফিকুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, রেজাউল করিম, মনিরুজ্জামান, রুবিনা খাতুন ও সানজিদা খানম মলি। দুদকের চিঠি অনুযায়ী, নাজমুল হুদা, এনামুল কাদির, তোফাজ্জল আলী সরকার ও এটিএম রফিকুল ইসলামকে আগামী ১২ আগস্ট এবং রেজাউল ইসলাম, রেজাউল করিম, মনিরুজ্জামান, রুবিনা খাতুন ও সানজিদা খানম মলিকে ১৩ আগস্ট হাজির হতে বলা হয়েছে। বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, তলব করা কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে সানজিদা খানম মলিসহ তিনজন কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকলেও তাঁদের চলতি দায়িত্বে নির্বাহী প্রকৌশলী করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা অনুসন্ধান শেষে নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সানজিদা খানম মলির বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির দুদকের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী ডা. আবুল কাশেম বলেন, “বিষয়টি আমি তাঁদের মুখ থেকেই শুনেছি। তাঁরা দুদকের চিঠি পেয়েছেন। দুদক তাঁদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট তলব করেছে বলে জানতে পেরেছি। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। কোন অভিযোগ কি কারণ এর চেয়ে বেশি কিছু আমি জানি না।” দুদক অনুসন্ধান শেষে অভিযোগ গুলোর সত্যতা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্টদের ভুমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
বিশ্বনাথে সরকারী আদেশ অমান্য করে সড়কে গেইট নির্মাণের অভিযোগ
সিলেটের বিশ^নাথে সরকারি আদেশ অমান্য করে সড়কে গেইট নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালে ওই গেইটে ১৩ বছর আগে ‘নিখোঁজ’ হওয়া সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলীর নামে একটি নাম ফলক স্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনায় সচেতন এলাকাবাসীর পক্ষে গত বুধবার বিশ^নাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিশ^নাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ-বিন-কাশেমের বরাবরে বিশ^নাথ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মহরমপুর গ্রামের মৃত: মনোহর আলীর পুত্র সাজ্জাদ আলী দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বিশ^নাথ কলেজ রোড, বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর-বাইপাস রোড সংলগ্ন তিন রাস্তার মুখ মহরমপুর বৈদ্যকাপন থেকে ভোগশাইল রাস্তার সাথে বর্ণিত রাস্তার সংযুক্ত হয়েছে। সরকারী রাস্তার ওপর রাতের আধারে বৈদ্যকাপন গ্রামের মৃত: আরশ আলীর পুত্র আব্দুল আহাদ ও আব্দুল করিম, একই গ্রামের মৃত: আব্দুল জব্বারের পুত্র আব্দুল আহাদ এবং হারুন খানের পুত্র আজমান খানসহ আরো একাধিক ব্যক্তি অবৈধভাবে গেইট নির্মানের উদ্যোগ নেন। এমতাবস্থায় বিগত ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি সাবেক বিশ^নাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযুক্ত গেইটের নির্মাণাধীন ৪ ফুট পিলারটি ভেঙে ফেলেন এবং সরকারী সড়কে নির্মানাধীন গেইটটি না করার জন্য সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি আহবান জানান। কিন্তু উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ সরকারী নিষেধ থাকা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার দুটি পাকা পিলার নির্মাণ করে এবং সেখানে ‘স্বাগতম’ বৈদ্যকাপন, ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এম. ইলিয়াস আলী, সাবেক সংসদ সদস্য-সিলেট-২, স্থাপিত ২০০৫ইং" নামে একটি নামফলক স্থাপন করে। ২০২৫ সালে ভূল তথ্য দিয়ে (এম. ইলিয়াস আলী ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সংসদ সংসদ ছিলেন) বিশ্বনাথের নন্দিত সাবেক এই জনপ্রতিনিধির নাম ব্যবহার করে ওই নামফলক স্থাপন করায় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে, অভিযুক্তরা নামফলক পরিবর্তন করে 'সাবেক' শব্দ বাদ দিয়েজ পুণরায় আরেকটি নামফলক স্থাপন করে। সরকারী নিষেধ সত্ত্বেও পুণরায় আমার নিজস্ব ভূমির উপর একটি পিলার ও কারিকোনা গ্রামের মতছির আলীর ভূমির উপর অপর পিলার দিয়ে গেইট নির্মাণ করলে আমরা ২০২৫ সালে ২৩ জানুয়ারী সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এরই প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানছুরা আক্তার তদন্তের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষকে নিয়ে ওসমানীনগর সার্কেল অফিসে বৈঠক করেন। পুলিশ সুপার উভয় পক্ষের কথা শুনেন এবং বিগত সময়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকৌশলী গেইট নির্মাণে নিষেধ প্রদান করেছেন সেই কাগজপত্র দেখাতে বলেন। কিন্তু আমাদের কাছে উপরোক্ত অভিযুক্তদেরকে বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কোন নোটিশ ছিলনা, আমরা সহকারী পুলিশ সুপার বরাবরে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি দাখিল করতে পারিনি। এমন অবস্তায় সংশ্লিষ্ঠ সরকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই সরকারী সড়কে গেইট নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে একটি নোটিশ পাওয়া প্রয়োজনও সরকারী নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জোরপূর্বক গেইট নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোরদাবী জানাচ্ছি।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন প্রদর্শন করলেন এসবি প্রধান
বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেছেন। শনিবার (৮ আগষ্ট) সকাল ১১টায় তিনি বেনাপোল ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে পৌঁছান। পরিদর্শনকালে তিনি ইমিগ্রেশনের সার্বিক কার্যক্রম, যাত্রীসেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সার্বিক খোঁজখবর নেন ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ শাখাওয়াত হোসেন এবং নাভারন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোঃ আরিফ হোসেন। এছাড়াও বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান ও বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আশরাফ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সাতছড়ি সীমান্তে ৫৫ বিজিবির বিশেষ অভিযান: ৮টি গরু ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাই গরু উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে চোরাকারবারিদের ফেলে যাওয়া ৮টি ভারতীয় গরু, ১০ কেজি গাঁজা এবং বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর সাতছড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) একটি বিশেষ টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে। চোরাকারবারিরা ভারত থেকে অবৈধ পথে মাদক ও গরু নিয়ে সাতছড়ি বনাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। বিজিবি টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ও গবাদিপশু ফেলে গহীন জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায় চোরাকারবারিরা।পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৮টি ভারতীয় গরু, ১০ কেজি গাঁজা এবং বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা।হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) কর্তৃপক্ষ জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক পাচার রোধ ও চোরাচালান বন্ধে বিজিবির এই ধরনের কঠোর ও বিশেষ অভিযান সর্বদা অব্যাহত থাকবে। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য ও গরু আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। চোরাকারবারিদের সনাক্ত করতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
কালীগঞ্জে তোফাজ্জল ডাক্তারের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের মুরীদ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলাধীন ফুলদী বাজারের পুরাতন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মরহুম হাজী কদম আলীর জ্যেষ্ঠ পুত্র, সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন (রাসেল),প্রবাসী সোহেল ও ব্যবসায়ী জুয়েলের পিতা তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তোফাজ্জল ডাক্তার (৭৬) বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সারে ৮ টায় কালীগঞ্জ উপজেলা সরকারী হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মরহুম তোফাজ্জল হোসেন উপজেলার ফুলদী (মাইজপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য কবির হোসেনের চাচাতো ভাই। বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ফুলদী বাজার ব্যবসায়ীগণ মরহুমের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শুক্রবার বাদ জুম্মা স্থানীয় জনতা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মরহুম তোফাজ্জল হোসেন ডাক্তারের জানাজাপূর্ব মরহুমের স্মৃতিচারণ করেন বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ আল-আমিন দেওয়ান আল আবেদী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহাবুবর রহমান সবুজ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি উপজেলা সেক্রেটারী এড. তাইজুল ইসলাম, বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সারোয়ার হোসেন, সাবেক সদস্য কবির হোসেন, মরহুমের ছোট ছেলে জুয়েল প্রমূখ। অন্যদিকে মরহুম তোফাজ্জল হোসেনের মৃত্যুতে শোকাভিভূত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন, কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ মোখলেছুর রহমান, কালীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, কালীগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃআশরাফুল হক শিশির, আবুল কালাম খান প্রমূখ।
ত্যাগীদের মূল্যায়ন করছে বিএনপি- বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল বারী ড্যানি
বিগত ১৭ বছর যারা হাতে হাত রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে গনতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে তাদের সঠিক মূল্যায়ন করছে বিএনপি। নিজ এলাকা নেত্রকোনা বারহাট্টা সফরে এসে এই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী ড্যানি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিএনপিতে কোন দূর্ণীতিবাজের স্থান নেই। আপনারা আমার কোন কর্মী ভুল করলেও তার বিরুদ্ধে লিখবেন। বিএনপি স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে। এটিএম আব্দুল বারী ড্যানি বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান হওয়ার পর নিজ জন্মভূমি নেত্রকোনায় প্রথম সফর করেছেন। সফরে জনতার ড্যানি জনতার কাছে এই বার্তাই যেন দেখা গেছে দিনব্যাপী। শত শত নেতাকর্মী গিয়ে দেখা করেন এই নেতার সাথে। বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী ড্যানি দুপুরে নিজ জেলা নেত্রকোনা এসে পৌঁছান। এরপরই অপেক্ষারত নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের পর নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান তালুকদারের সহধর্মিণীর জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেন। জানাজার নামাজ শেষে তিনি মদনপুর শাহ সুলতান কমর উদ্দিন রুমী (রহ.) মাজার শরীফ জিয়ারত করেন এবং নেত্রকোনা জেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মরহুম ওয়ারেস উদ্দিন ফারাসের কবর জিয়ারত করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। বিকালের দিকে তিনি নিজ জন্মস্থান বারহাট্টা উপজেলায় আসেন। বারহাট্টা ফয়ার সার্ভিস মোড়ে বারহাট্টা উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও ওলামা দলের নেতাকর্মীরা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে তিনি নিজ গ্রামে গিয়ে বাবা ও মায়েরর কবর জিয়ারত করেন। মা বাবার কবর জিয়ারতের পর তিনি বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থ একজন দলীয় কর্মীদেরকে দেখতে যান। পাশাপাশি চরম অবহেলিত বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। উপজেলার ২ লক্ষ মানুষের একমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্র এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জনিত নানা ত্রুটি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর তাৎক্ষণিক আউটসোর্সিং এর একটা সমস্যা সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। দুই লাক্ষ গরীব অসহায় মানুষদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যাতে সব রকমের চিকিৎসা সেবা নিতে পারে সেই রকম পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬: ন্যায়বিচার, সমঅধিকার ও জাতিসত্ত্বার স্বীকৃতি চাই
আদিবাসী জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের নানামূখী চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। এ দিবসটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নে আদিবাসী জনগণের অসামান্য অবদানকেও স্বীকৃতি জানায়। ২০২৬ সালের জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য: “জীবন রক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে আদিবাসী ধাত্রীদের অনন্য অবদানকে সম্মান জানানো” যা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কল্যাণ ও ঐতিহ্যগত জ্ঞানের সংরক্ষণ নিশ্চিতকরণের ওপর আলোকপাত করে। বাংলাদেশে আদিবাসী জনগণের বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশ তার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। এ দেশ বৈচিত্র্যময় জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক অনন্য আবাসস্থল। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি এখানে ৫৪টিরও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস, যারা অন্তত ৩৫টি ভিন্ন ভাষায় কথা বলে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। তবে আদিবাসী সংগঠনগুলোর মতে, প্রকৃত সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখের কাছাকাছি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, সাঁওতাল, ওরাঁও, গারো, মাহাতো, পাংখোয়া, রাখাইন, মুন্ডা, মণিপুরীসহ বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী যুগ-যুগ ধরে তাদের স্বতন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বজায় রেখে বসবাস করে আসছে। আমাদের সংবিধান ও সমঅধিকারের অঙ্গীকার বাংলাদেশের সংবিধান সমতা ও ন্যায়বিচারের একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং আইনের সমান সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ কিংবা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জনজীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সমঅধিকার স্বীকৃত হয়েছে। তবে আরও স্পষ্টীকরণের জন্য সংবিধানে ‘জাতিসত্তা (Ethnicity) অথবা আদিবাসী (Indigenous Peoples)’ শব্দটির অন্তর্ভুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) কনভেনশন নং ১০৭ অনুসমর্থন করলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় এখনো উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। ২০১১ সালের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে দেশের জাতিগত বৈচিত্র্য স্বীকৃত হলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আদিবাসী জনগণ (Indigenous Peoples)’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যদিও কিছু সাংস্কৃতিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে, ভূমির মালিকানা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা, বিশেষ করে আইএলও -এর Committee of Experts on the Application of Conventions and Recommendations (CEACR), বার বার গুরুত্বারোপ করেছে যে, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে; যেখানে আদিবাসী জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার পূর্ণাঙ্গভাবে ভোগ করতে পারেন। আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, বাংলাদেশে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা এখনও একটি গুরুতর মানবাধিকার সংকট। Kapaeeng Foundation -এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৩২ জন আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুকে কেন্দ্র করে মোট ২৯টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, হত্যা, নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসী নারীদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার প্রতিফলন। তবে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। প্রতিশোধের আশঙ্কা, সামাজিক কলঙ্ক, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, আইনি সহায়তা ও সহায়ক সেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার বহু ঘটনাই নথিভুক্ত হয় না। এসব প্রতিবন্ধকতা শুধু ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করে না; বরং সহিংসতা, প্রান্তিকীকরণ এবং বৈষম্যের চক্রকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। তাই জরুরি ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়া, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সহায়তা ব্যবস্থা এবং অর্থবহ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব হবে না। বিচার বিলম্বিত মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত “বিচার বিলম্বিত মানেই বিচার থেকে বঞ্চিত” - এই বহুল প্রচলিত উক্তিটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। সহিংসতার অসংখ্য বেঁচে থাকা মানুষের জন্য বিচার শুধু ধীরগতির নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা অধরাই থেকে যায়। তদন্তে বিলম্ব, দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া, যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহে ব্যর্থতা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বহু ক্ষেত্রে অপরাধীদের জবাবদিহিতার অভাব বিচারপ্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরী ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত হন। এতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি: ঊনত্রিশ বছরের অপূর্ণ বাস্তবায়ন ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় তিন দশক পরও এর বহু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল অধিকতর স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের কার্যকর সমাধান এবং পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। পরবর্তী বিভিন্ন সরকার চুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করলেও আদিবাসী প্রতিনিধিদের মতে, অর্থবহ বিকেন্দ্রীকরণ, কার্যকর ভূমি কমিশন প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বেশ কয়েকটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে। এই বাস্তবায়ন ঘাটতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপের এক নতুন সুযোগ সম্প্রতি সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংরক্ষিত মহিলা আসন ১৯ -এর সংসদ সদস্য আন্না মিনজের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সাক্ষাতে অংশ নেয়। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রতিনিধিরা তাদের ন্যায্য দাবিসমূহ তুলে ধরে একটি সুপারিশপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। আদিবাসী নেতৃবৃন্দের এই উদ্যোগ নতুন করে দেশের জাতীয় আলোচনায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণ সংলাপ, সহনশীলতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বহু জাতীয় সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। একই অঙ্গীকার এখন প্রয়োজন, যাতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীও সংবিধানের পূর্ণ সুরক্ষা এবং অন্যান্য নাগরিকের মতো সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। তাদের কল্যাণে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বিবেচনার দাবি রাখে: ভূমি বিরোধের সমাধান: আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সরকারকে একটি কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একইসঙ্গে সমতলের আদিবাসীদের জন্য একটি পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা জরুরি। ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করা: আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুর ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত আইনি সহায়তা, সুরক্ষা, দ্রুত তদন্ত এবং কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি: জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংরক্ষণ ও বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে যাতে তারা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মানবাধিকার পরিস্থিতির নিয়মিত ও স্বাধীন পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন: পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে সকল অংশীজনের মধ্যে নতুন করে গঠনমূলক সংলাপ শুরু করা অপরিহার্য। বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী এ দেশের বাইরের কেউ নয়; বরং তারা এই রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম অংশীদার। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বহু সদস্য বাঙালি সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের প্রতি তাদের এই অবদান শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির মাধ্যমে নয়, বরং তাদের অধিকার, মর্যাদা এবং সমান নাগরিকত্ব নিশ্চিতকারী নীতিমালার মাধ্যমে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হওয়া উচিত। বাংলাদেশের শক্তি কখনোই সাংস্কৃতিক একরূপতার ওপর নির্ভর করেনি। বরং এর প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে বৈচিত্র্যের সমৃদ্ধিতে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষায়। তাই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি এবং পূর্বপুরুষের ভূমি রক্ষা করা কোনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দয়া প্রদর্শন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। নিকোলাস বিশ্বাস একজন উন্নয়নকর্মী এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লেখক।
সোনারগাঁয়ে প্রবাসফেরত ছেলের বিরুদ্ধে মাকে মারধর ও ঘরছাড়া করার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের শুকুরদী (বড়বাড়ী) এলাকায় প্রবাসফেরত এক ছেলের বিরুদ্ধে নিজ মাকে মারধর, ঘরছাড়া এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মা ফাতেমা আক্তার (৪৫) বাদী হয়ে ছেলে ফাহিম মোস্তাকিম আলভীসহ চারজনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে জমি বিক্রি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন মা। পরে ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতেও বিপুল অর্থ ব্যয় করেন। গত ২৪ জুলাই রাতে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা ফাতেমা আক্তার ও তার চাচাতো ভাইকে মারধর করে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী চিকিৎসা শেষে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগের পরও আসামিরা থানার তলবে সাড়া দেয়নি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতিত মা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সোনারগাঁও স্কুল ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতে লাথি মারার দৃশ্য ভাইরাল
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দুই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত এবং তাদের একজনকে লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জানা যায়, উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিসা তার এক বান্ধবীর প্রেমিক কিশোর মোঃ দিলসাদ হোসেনের (১৫) পক্ষে কথাবার্তা ও চিঠিপত্র আদানপ্রদান করতেন। প্রায় মাসখানিক আগে কাঁচপুর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী ওয়াকওয়েতে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় তানিসা ও তার বান্ধবী হেঁটে যাচ্ছিল। এসময় প্রেমের ঘটনায় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে মনে করে ও একটি তুচ্ছ কথার জের ধরে প্রেমিক দিলসাদ হোসেন তার প্রেমিকার বান্ধবী তানিসাকে একাধিকবার লাথি মারে। তবে, তানিসার বান্ধবী দিলসাদের সাথে তার প্রেমের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবী করেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় রায়েরটেক এলাকার বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি কয়েকদিন আগে মিমাংসা করেন। ঘটনা মিমাংসা করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লাথি দেওয়ার ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরাল হয়। ধারনা করা হচ্ছে, ঘটনার সাথে জড়িত দিলসাদ হোসেনের সহযোগী কেউ লাথি দেওয়ার ঘটনার সময় ভিডিওটি ধারণ করেছিল। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এলাকাবাসীর দাবি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী না হওয়ায় ঘটনাটি থানা পর্যন্ত গড়ায়নি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের কাছেও কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর কাঁচপুর পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরিফুজ্জামান আরিফ ঘটনাটি তদন্ত করেন। এসআই আরিফুজ্জামান আরিফ জানান, দিলসাদ হোসেন কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খাঁনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার নাম মোঃ সাফিউল ইসলাম। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত আরিফ ফেসবুকে এসে ক্ষমা চাইলেও এলাকার জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তানিসা কাঁচপুর উত্তরপাড়া হাবিব সাহেবের শ্যালকের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার নাম শাহিন মিয়া। এব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, বিদ্যালয়ে না এসে স্কুল ড্রেস পড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বেড়ানো ও একাধিক বার নানান ঘটনার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী তানিসা ও তার বান্ধবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সঠিক ভাবে জবাব না পাওয়া গেলে তাদেরকে টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আনোয়ার বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্কুল ছাত্রীকে লাথি দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি।তবে, এই ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দিতে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে ৭২ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৭২ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর থানাধীন ৭ নম্বর চিলারং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ রুহিয়া পাকা সড়কের পূর্ব পাশে ব্লক বিছানো রাস্তার ওপর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোঃ এরশাদ (৩২)পিতা: মোঃ রহমান, গ্রাম: ঘনিবিষ্টপুর, থানা: রুহিয়া; মোঃ জেমস (৩০), পিতা: পশির উদ্দীন, গ্রাম: হরিহরপুর, থানা: ঠাকুরগাঁও সদর; এবং মোঃ আবুল কালাম আজাদ (৪২), পিতা: মৃত জাবেদ আলী, গ্রাম: ঘনিবিষ্টপুর, থানা: রুহিয়া। তারা সবাই ঠাকুরগাঁও জেলার বাসিন্দা। অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে ৭২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ঠাকুরগাঁওয়ের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান আরও কঠোরভাবে চলবে। আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে, ফাঁসির কাষ্ঠে নেওয়ার জন্য বরণ করে নেব: রাশেদ খান
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, জামায়াত ও এনসিপিকে মনে রাখতে হবে, বিএনপি মরলে জামায়াতকেও মরতে হবে। আওয়ামী লীগ যদি আবার ফিরে আসে, তাহলে দমন-পীড়ন যেভাবে বেড়ে যাবে, তা তারা এখন কল্পনাও করতে পারছে না। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মোবারকগঞ্জ চিনিকলের গেস্টহাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জুলাই অভ্যুত্থান দিবসের জাতীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। সচিবালয় ঘেরাওয়ের নামে তারা মব সৃষ্টি করেছে। 'তারা যেভাবে মব সৃষ্টির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে, তাতে উল্টো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ তারাই তৈরি করে দিচ্ছে।' শেখ হাসিনার প্রচারিত অডিও নিয়ে তিনি বলেন,- শেখ হাসিনা কি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, এটা আমরা জানি না। সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত একটি প্রেস কনফারেন্সে শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। সেটি আসলেই তার বক্তব্য কি না, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি জীবিত থাকেন, তাহলে তাকে দেশে ফিরে আসতে হবে এবং আইনের পথেই তার বিচার মোকাবিলা করতে হবে। হাসিনা বেঁচে থাকলে দেশে ফিরে আসুক। আমরা তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে নেওয়ার জন্য বরণ করে নেব। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগের ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ এখন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। তাদের আর দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না। স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কালীগঞ্জের উন্নয়নে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চান তারা। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন চাঁদাবাজি করতে না পারে, সেদিকে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আবু তালিব, ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক প্যানেল মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হামিদুল ইসলাম হামিদ, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এএনএম জোবায়ের,বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।