বাংলাদেশ বার্তা টুডে
টানা অতিবৃষ্টিতে কমেছে পাটের ফলন, ভালো দামে খুশি পাঁচবিবির পাট চাষিরা
লাভের আশায় চলতি মৌসুমে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ করেছেন কৃষকেরা। তবে মৌসুমের শুরু থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক জমিতে পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় এবার আঁশের ফলন কিছুটা কমার আশঙ্কা করছেন এ উপজেলার কৃষকেরা। তবে বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় ফলন কম হলেও কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন তারা। পাঁচবিবি বাজারে বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ দাম কিছুটা স্বস্তি দিলেও ফলন কমে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। উপজেলার কুসুম্বা, আটাপুর, বালিঘাটা ও ধরঞ্জী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক জমিতে পাটগাছ আশানুরূপ লম্বা ও সবল হয়নি। কোথাও কোথাও দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে প্রতি বিঘায় পাটের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের উচনা গ্রামের পাটচাষি শাহাদাত হোসেন ও আরিফুল ইসলাম বলেন, পাট চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, আগাছা পরিষ্কার, নিড়ানি, পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোসহ বিভিন্ন পর্যায়ে খরচ হয়। এর সঙ্গে শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। তাই ফলন কমে গেলে ভালো বাজারদর পেয়েও কাঙ্ক্ষিত লাভ করা কঠিন হবে। তবে এবার খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আটাপুর ইউনিয়নের বেতগাড়ী গ্রামের পাটচাষি মহাদেব সিং বলেন, গত বছর পাটের ভালো দাম পেয়েছিলাম। তাই এবারও এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গাছ তেমন বাড়েনি। ফলন কম হলে উৎপাদন খরচ উঠবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। ৬ থেকে ৭ মণ বিঘাপ্রতি পাট হয়েছে। উপজেলার বালিঘাটা ইউনিয়নের বীরনগর গ্রামের পাটচাষি লিটন মন্ডল বলেন, পাটের দাম ভালো থাকলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে। কিন্তু এবার গাছ ছোট হওয়ায় আঁশ কম পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদন কম হওয়ায় লাভও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বেলপুকুর গ্রামের পাটচাষি রায়হান বলেন, “দুই দিন আগে পাট কেটেছি। এখন জাগ দিচ্ছি। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে সব মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে বাজারে এবার পাটের দাম ভালো থাকায় কিছুটা আশাবাদী। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ শেষ হলে বাজারে নতুন পাটের সরবরাহ বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকেরা বলছেন, ফলন কম হওয়ায় বাজারে পাটের দাম ভালো থাকলে তাদের সম্ভাব্য লোকসান কিছুটা কমানো সম্ভব হবে। কৃষকদের দাবি, পাটের উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় সরকারিভাবে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ন্যায্য দামে পাট কেনার ব্যবস্থা করা হলে তারা আরও বেশি লাভবান হবেন। পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলার অনেক এলাকায় পাটের ফলন সন্তোষজনক হওয়ার আশা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা পাটের ভালো দাম পেয়ে উৎপাদনজনিত ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।
মাধাবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেজুরা সেতু এলাকায় তেলবাহী লরি, বালুবাহী ট্রাক ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার বেজুরা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা রিপন মিয়া (২৭) এবং পশ্চিম মাধবপুর এলাকার নাসির উদ্দিনের ছেলে আবুল খায়ের (৫০)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেজুরা সেতুর ওপর একটি তেলবাহী লরি ও বালুবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবাহী ট্রাকটি পাশ দিয়ে যাওয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকে থাকা রিপন মিয়া ও সিএনজির যাত্রী আবুল খায়ের নিহত হন। খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ, শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক মিয়া জানান, তেলবাহী লরি ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষের পর ট্রাকটি সিএনজির ওপর উঠে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনাকবলি
ঠাকুরগাঁওয়ে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত
শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, জীবনমানের উন্নয়ন, ভাষা-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন বক্তারা। রোববার জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে শহরের প্রেসক্লাব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। ‘আদিবাসী ধাত্রীদের সম্মান—জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রেসক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়। শোভাযাত্রা শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি যাকোব খালকোর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভূমি-সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আদিবাসী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্যসেবা ও ধাত্রীদের যথাযথ সম্মান ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা। সভায় আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি তাদের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে আলোচনা না করে বছরের প্রতিটি দিন তাদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। উন্নয়নের মূলধারায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করলেই একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। উল্লেখ্য, বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তাদের জীবন-জীবিকার নানা সংকট সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
স্কুল ছাত্রীকে লাথি মারার ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর আটক সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিবারের জিম্মায়,ছাতীকে টি সি প্রদান
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর দিলসাদ হোসেনকে রংপুরে তার গ্রামের বাড়ি থেকে এনে সমাজ সেবা বিভাগের প্রবেশন কর্মকতার তত্ত্বাবধানে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে তাকে সোনাূরগাঁও থানার থানার আনা হয়। পরে সেখানে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী ও অভিযুক্ত কিশোরের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে স্কুল ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার জেরে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে টিসি দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষের। তবে ওই শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি জানিয়েছেন, দুই শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বাইরে অবস্থান করে। তাদের পরিবারকে তাদের সন্তানরা ভবিষ্যতে এমন করলে চিঠির মাধ্যমে টিসি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ড্রেস পরা এক ছাত্রীকে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়েতে পেছন থেকে লাথি মারছে এক কিশোর। ছাত্রীটি প্রতিবাদ করার পরও তাকে আবার লাথি মারা হয়। পরে ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত কিশোরকে ধরে নিয়ে সালিস করেন। সেখানে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য ক্ষমা চাইতে দেখা যায় অভিযুক্ত কিশোরকে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর কাঁচপুরের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুল ড্রেস পড়া দুই ছাত্রী তানিসা আক্তার ও মিম আক্তার হেঁটে যাচ্ছিল। এসময় বখাটে এক কিশোর পেছন থেকে এক ছাত্রীকে লাথি মারে। মেয়েটি প্রতিবাদ করলে তাকে পেছন থেকে আবার উড়ন্ত লাথি মারে ছেলেটি। এসময় ওই কেউ একজন এটি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত সাড়ে ১১ বছর বয়সী দিলসাদ হোসেন কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার বাবা সাফিউল ইসলাম পেশায় রিকশা চালক ও মা মোছাম্মদ দুলালী গার্মেন্টস কর্মী। খোঁজ নিয়ে জানা যায় , গত প্রায় এক মাস আগে সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ ছাত্রী তানিসা আক্তার ও সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী মিম আক্তার কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ের পাশে হাঁটতে যায়। এসময় দিলশাদ হোসেন নামের এক কিশোর পেছন থেকে তানিসাকে পরপর দুইবার লাথি মারে। ছেলেটির সঙ্গে কেউ একজন সেটি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে দিলে সেটি বৃহস্পতিবার থেকে ভাইরাল হয়ে যায়। সূত্র জানায়, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস ওয়ান থেকে শুরু করে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করনো হয়। ওই স্কুলে বর্তমানে এডহক কমিটিতে বিএনপি নেতা মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সদস্য সচিব স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার, অভিভাবক প্রতিনিধি মোঃ মমিনুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ মনোয়ার হোসেন। তাদের দাবি, তারা ওই ছাত্রীদের টিসি দেননি। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে দুই শিক্ষার্থী বাইরে অবস্থান করার কারণে তাদের তাদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় ফোনে তাদের ডেকেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়। নির্যাতনের শিকার মেয়ে তানিসা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার শাহীন আলমের মেয়ে। সে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিন্ম মাধ্যমিকের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা শাহীন মিয়া কাঁচপুরে স্কয়ার গার্মেন্টসে কাজ করেন। তার মা হাজেরা বেগম অসুস্থ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টিকটকে দেওয়ার জন্যই ঘটনাটি ভিডিও করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় স্কুল ছাত্রীকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী তানিসা সোনারগাঁও নিউজকে জানান, স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়া এক বড় আপুর সঙ্গে ছুটির পর সে ওই ওয়াকওয়ে দিয়ে যাচ্ছিল। ওই আপু একজনের বাসায় যাবেন বলে তাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। ওয়াকওয়েতে যাওয়ার সময় দিলসাদসহ তিন-চারজন কিশোর বসে ছিল। তাঁরা হেঁটে যাওয়ার সময় দিলসাদ তাকে লাথি মারে। সঙ্গে থাকা বড় আপু লাথি মারার কারণ জানতে চাইলে দিলসাদ গালিগালাজ করে। পরে সেখান থেকে সরে যাওয়ার সময় তাকে আবার লাথি মারা হয়। ঘটনাটি ভিডিও করা হলেও তাঁরা তখন কিছু বলেনি। তানিসা জানায়, পরে তাদের বিদ্যালয়ে ডেকে নিয়ে এ ঘটনায় বিচার করা হয়। সে দিলসাদকে আগে থেকেই চিনত বলেও জানায়। তানিসার মা হাজেরা আক্তার সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, বিদ্যালয় থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, তাঁর মেয়ে ‘ভালো নয়’ এবং তাকে আর বিদ্যালয়ে রাখা হবে না। এমনকি বিদ্যালয়ে ঢুকতেও দেওয়া হবে না বলে তাদেরকে জানানো হয়েছে। তার মেয়েকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তানিসার বাবা শাহীন আলম। তিনি বলেন, স্কুলের স্যাররাসহ অন্যরা তার মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে বলেছেন। অভিযুক্ত কিশোরের মা মোছাম্মদ দুলালী দাবি করেন, বকা দেওয়ার কারণে তাঁর ছেলেকে ওই স্কুলছাত্রীকে মারধর করেছে। পরে এলাকার লোকজন তাঁর ছেলেকে মারধর করেছে এবং কান ধরে ওঠবস করিয়েছে। সে আর এমন কাজ করবে না বলে স্বীকার করেছে। ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা শাহীন আলম আরো জানান, তার মেয়েকে লাথি মারার ভাইরাল ভিডিওটি এক মাস আগের। তিনি বলেন, স্কুল চলাকালীন সময় স্কুলের বাইরে ঘোরাফেরার করায় স্কুলের স্যারেরা বিচার করে তার মেয়ে তানিসাকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে। শাহীন মিয়া বলেন, আমরা গরীব মানুষ। কাজ কর্ম করে খাই। এখন এই স্কুলে পড়তে পারবো না। মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে হবে। সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন সোনারগাঁও নিউজকে বলেন, ওই কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে তার পরিবার এবং স্কুলছাত্রীর পরিবারকে থানায় বসা হয়েছিল। তিনি বলেন, স্কুলছাত্রীর পরিবার মামলা না করায় সমাজসেবা বিভাগের প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকার সোনারগাঁও নিউজকে জানান, বিভিন্ন সময়ে দুই শিক্ষার্থী স্কুলে না এসে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ঘোরাঘুরি করে। তবে দুই শিক্ষার্থীকে একাধিক বার মৌখিক সতর্ক করা হলেও তারা শোনেনি। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ভবিষ্যৎতে এমন করলে তাদের টিসি দেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে তাদের বহিষ্কার করা হয়নি। তবে ঘটনাটি স্কুলের বাইরে তাই স্থানীয় লোকজন ছেলে ও ছাত্রীদের বিচার করেছে শুনেছি। তিনি আরো বলেন, ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্কুলের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়া ও উৎশৃঙ্খল আচরণের কারণে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, এলাকাবাসী আমরা সবাই বসে ছাত্রীর পরিবারকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। টিসির দেওয়ার বিষয়ে পরিবারের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদেরকে চাপে রাখতে এটা বলা হয়েছিল। এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ, এলাকার লোকজন বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তারা যদি বলে ডেকে বলে সেটাই তো হবে। আমি তো একা কিছু করছি না। তিনি বলেন, বার বার একটি মেয়ে আমাদের স্কুলের বদনাম করতেছে-এজন্য কথা বলা, শাসন করা। সে ড্রেসটা পড়ে না গেলে আমাদের তো সমস্যা ছিল না। সবই তো বুঝতাছেন আপনারা সবাই থেকে একটা মিল মিশ করে দিয়েন। ইউএনও স্যার তাদেরকে ডেকেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ মহিউদ্দিন মিয়া জানান, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য তাদের অভিভাবকদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে তাদের স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হবে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তিনি বলেন, স্কুল ছাত্রীকে লাথি মেরেছে একটি কিশোর। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে দুই স্কুল ছাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে তিনি নিজে স্কুলে গিয়ে খতিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাজ সেবা বিভাগের প্রবেশন অফিসার নূর ফারজানা সোনারগাঁও নিউজকে জানান, স্কুল ছাত্রীকে লাথি দিয়ে ভাইরাল কিশোরকে তার জিম্মায় বাবা মায়ের কাছে দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাস ওই কিশোরকে কাউন্সিলের মাধ্যমে ভালো পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। প্রমেশন অফিসারের কাছে বাবা মাসহ প্রতি মাসে দু’তিন বার হাজিরা দেবেন। এ কিশোরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উক্তত্যর শিকার মেয়ের ও তার পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আদালতে দাখিলকৃত সাজানো প্রত্যয়নপত্রের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চলাচলের রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধে মারামারি মামলায় প্রতিপক্ষ মামলার দায়/সাজা থেকে বাঁচতে আদালতে দাখিলকৃত সাজানো প্রত্যয়নপত্রের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার । রবিবার ৯ই আগষ্ট সকাল ১১ টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবারের আয়োজনে সিংগাইর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন প্যারামাউন্ট টাওয়ারে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ভিকটিমের পরিবারের পক্ষে মো.ফারুক হোসেন লিখিত বক্তব্যে জানান,তাদের বসতবাড়ি থেকে সড়কে বের হওয়ার একমাত্র পায়ে হাটার রাস্তাটি বিগত ৩০ জুন ২০২০ সালে প্রতিপক্ষ মো.রফিকুল ইসলাম মাস্টার গং বন্ধ করে দেন। বিষয়টি তার মা,বাবা,দাদী প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের মারপিট করে ষাটোর্ধ্ব নারী তার দাদির বাম হাত ভেঙ্গে ফেলে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা করান। পরবর্তীতে সিংগাইর থানায় একটি মামলা ( নং- ১১(৭)২০২০ সিং) দায়ের করেন । মামলটি পিবিআই তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সে মামলায় আসামী ১.রফিকুল ইসলাম মাস্টার ও ২ নং আসামী তার ছোট ভাই মহিদুর রহমান হাজতবাস করেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে আসামীগন নানাভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। তারা অসহায় হয়ে নিরবে সহ্য করে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আদালত চার্জগঠন করে স্বাক্ষী প্রমান গ্রহন করেন। ৫ বছর পর হঠাৎ ঘটনার মূলহোতা ১ নং আসামী রফিকুল ইসলাম মাস্টার বাংলাদেশ স্কাউটস মানিকগঞ্জ জেলা শাখার প্যাডে একটি সাজানো প্রত্যয়ন পত্র বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন। যেটা গত ৩০ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে মানিকগঞ্জ জেলা স্কাউটসের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ.আক্রাম হোসাইন স্বাক্ষর করেন। এ বিষয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে আলাপ আলোচনা করে জানাযায়,যে তারিখে মানিকগঞ্জ জেলা স্কাউটসের সহ-সভাপতি ও সিংগাইর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ.আক্রাম হোসাইন স্বাক্ষর করেছেন তার ১ বছর আগেই তিনি অবসরে চলে যান। প্রত্যয়নপত্রে যা উল্লেখ রয়েছে তা ভিত্তিহীন বানোয়াট। ষাটোর্ধ্ব নারীর বাম হাত ভেঙ্গে দেয়ার দায় থেকে বাঁচতে সে স্কাউটসের নথিপত্র কাজে লাগানোর চেস্টা করছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। প্রকৃতপক্ষে তার অপরাধ বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছেন । সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনার সুষ্ঠ ও ন্যায় বিচার দাবি করেন । এ সময় ভিকটিম বরুন বিবি, তার পুত্র মুক্তার হোসেনসহ স্থানীয় সাকিব হোসেন,সোহান হোসেন, জসিম মিয়া, জুবায়ের ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অভিনব কায়দায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ক্রেতা সেজে প্রেফতার: রাজশাহী জেলা পুলিশ
রাজশাহীর বাগমারায় আট বছর ধরে পলাতক থাকা সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে অভিনব কৌশলে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি ছিল, তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। কিন্তু পুলিশ জানতে পারে, তিনি ঢাকায় অবস্থান করে অনলাইনে ব্যবসা করছেন। পরে ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামি হলেন বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সূর্যপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলামের ছেলে হাসিবুল ইসলাম (৪০)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোরে একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত চারটি মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে তাঁর সাজা হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। সাজা হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসিবুল মালয়েশিয়ায় রয়েছেন। এরপর দীর্ঘদিন তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে ‘রংধনু শপ’ নামে একটি অনলাইন কসমেটিকস বিক্রির সাইটের সন্ধান পায় তারা। পুলিশ জানতে পারে, ওই অনলাইন ব্যবসার পরিচালক হাসিবুল ইসলাম। এরপর পুলিশ ক্রেতা সেজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। যোগাযোগের সূত্র ধরে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে ঢাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাগমারা থানার এসআই শিহাব উদ্দীন বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়ার পর বিভিন্ন সোর্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। একপর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, হাসিবুল ঢাকায় অবস্থান করছেন। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হাসিবুলের এক স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা জানতেন হাসিবুল মালয়েশিয়ায় থাকেন। তিনি বাড়িতে টাকাও পাঠাতেন। তবে ঢাকায় অবস্থান করে অনলাইন ব্যবসা করছেন—এ বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। তবে তিনি পুলিশ কে ধন্যবাদ জানান তারা খুব চ্যালেঞ্জ ভাবে হাসিবুল কে প্রেফতার করেছে।অন্যান্য পলাতক আসামিদের এই ভাবে খুঁজে গ্রেফতার করা উচিৎ। বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা হাসিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কৌশলী অনুসন্ধানের মাধ্যমে তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই বিষয়ে রাজশাহী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আকতার বলেন,আমরা অনেক কষ্ট করে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি হাসিবুল কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি আমরা । সে প্রায় আট বছর ধরা ছোয়ার বাইরে ছিল। তাকে আদালত পাঠালে তার বিরুদ্ধে অন্যান্য থানায় যে মামলা গুলো আছে সেগুলো আদালত তাকে দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করবে।
সাতক্ষীরা ছাত্রদলের উপর হামলা,জেলা সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের কঠোর হুশিয়ারি
সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নে একটি কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনজুরুল আলম বাপ্পী এবং ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান। আহত অন্যদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দলীয় সূত্রমতে, রাতে প্রায় ১৫ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মীর উপর ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙ্গা এলাকায় একদল ব্যক্তি হামলা চালায়। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত মনজুরুল আলম বাপ্পী জানান ঘোনা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা মো. নাজমুল হাসানের একটি কল রেকর্ড শনিবার তাদের হাতে আসে। ওই কল রেকর্ডে ছাত্রদলের এক নেতা ও বিএনপিকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানতে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন নাজমুলের কাছে গেলে তাকে আটকে রাখা হয়। জাহিদ হোসেনকে আটকে রাখার খবর পেয়ে তিনি কয়েকজন ছাত্রদল নেতা-কর্মীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এবং তারপরেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছেন। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রায়হান অভিযোগ করেন, স্থানীয় জামায়াতের ছত্রছায়ায় ছাত্রলীগ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এই ঘটনার নিন্দা ও হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক জে এম দুদায়েভ মাসুদ খান অর্ঘ্য এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং সেই সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি আরো বলেন ""সাতক্ষীরা ছাত্রদল যেকোন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিপক্ষে। শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতির সংগঠন সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল যেকোন অপশক্তিকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করবে"" হামলার খবর পেয়ে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। এদিকে হামলার প্রতিবাদে রাতেই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রদল। সমাবেশ থেকে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ায় তাৎক্ষনিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ : মহালছড়িতে সচেতনতামূলক আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ
“জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে মহালছড়ি উপজেলায় বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (০৯ আগষ্ট) বেলা ১১ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে মহালছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হলরুমে কক্ষে এসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডাঃ ধনিষ্ট চাকমা। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এডিন চাকমা,স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মোঃ মনজুরুল আলম, মহালছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দীপক সেন, মহালছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকিয়া বেগম, মহালছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী ও সুধীজনরা। অনুষ্ঠানে মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব, নবজাতকের সুস্থ বিকাশে মায়ের দুধের অপরিহার্যতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সকলের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর সমাপনী ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে লালমনিরহাটে মানববন্ধন
অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হওয়া এবং তা বন্ধে বাধা দেওয়ায় আরিফুল ইসলাম (৩২) নামের এক কলেজ শিক্ষককে নৃসংভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে লালমনিরহাটে মানববন্ধন পালিত হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে জেলার মোগলহাট টেম্পু স্ট্যান্ড রোডে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত ১ আগস্ট লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট এলাকার বাসিন্দা, লালমনিরহাট সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইনস্ট্রাক্টর ও ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অতর্কিত হামলার শিকার হন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া এলাকার রহিদুল ইসলাম, হাসান আলী ও মাসুদ আলীসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনা করে আসছে। চক্রটির প্রভাবে এলাকার বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে শিক্ষক আরিফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এই জুয়ার প্রতিবাদ করে আসছিলেন এবং তা বন্ধ না করলে পুলিশকে জানানোর হুঁশিয়ারি দেন। এরই জের ধরে গত ১ আগস্ট বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। আহত শিক্ষকের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার ছেলের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। হামলার নয় দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি। প্রথমে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে তড়িঘড়ি করে নেওয়া আগের অসম্পূর্ণ মামলাটি বাতিল করে মূল অভিযুক্তদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন মামলা গ্রহণের জোরালো দাবি তোলেন বক্তারা। ঘটনায় ছয়জন চিহ্নিত জুয়াড়িসহ মোট ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরের সাত দিন অতিক্রম করলেও পুলিশ এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। সার্বিক বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
শরণখোলায় হামিম পরিবহনের চাপায় এক ইজিবাইক চালকের মৃত্যু ও তিন যাত্রী আহত
বাগেরহাটের শরণখোলায় হামিম পরিবহনের চাপায় এক ইজিবাইক চালকের মৃত্যু ও তিন যাত্রী আহত হয়েছে। (৯ আগষ্ট)রবিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলা রাজৈর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনার ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পথচারীদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজৈর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে হামীম পরিবহনের একটি গাড়ি সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় এ সময় ওই গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ইজিবাইকে চাপা দেয় এতে ঘটনাস্থলে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা ইজিবাইক চালক আবু হানিফ বেপারী (৬৫) ঘটনাস্থলে নিহত হয়। এসময় আরও তিনজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ড্রাইভার চাপা দিয়েই ঘটনা স্থল থেকে ছিটকে পড়ে। আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে শরণখোলা থানা পুলিশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গাড়ি চালকের খামখেয়ালিপনার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। হামিম পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন গাড়িটি ব্রেকফেল করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে শরণখোলা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
কালীগঞ্জে ৪ দলীয় ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মোবারক আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ৪ দলীয় ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার( ৮আগস্ট) সন্ধ্যায় সময় ৪ দলীয় ফুটবল খেলার খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আবু তালিব, ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক প্যানেল মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হামিদুল ইসলাম হামিদ, তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন। এ সময় বিএনপি নেতা কামরুল মুন্সি, উপজেলা ক্রিড়া ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফুজ্জামান রনি, যুবদল নেতা হাসানুজ্জামান মন্নু, ব্যবসায়ী নেতা মেহেদী হাসান বাবু,স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন,প্রভাষক প্রবীর কুমার, ছাত্রদল নেতা শিপুলসহ খেলোয়াড় ও সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
৬০ হাজার বছর পেছনে থমকে যাওয়া মানবজাতি: তানজানিয়ার শিকারি জীবনের শেষ চিহ্ন -সংগ্রাহক ‘হাদজা’ উপজাতি
আধুনিক বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ অভিযান আর প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষে ভাসছে, তখনো আফ্রিকার বুশল্যান্ডে হাজার হাজার বছর আগের আদিম জীবনধারা আঁকড়ে বেঁচে আছে এক অনন্য মানব সম্প্রদায়—‘হাদজা’ (Hadza)। তানজানিয়ার উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত 'লেক এয়াসি' (Lake Eyasi) অববাহিকার শুষ্ক বনভূমিতে ছড়িয়ে রয়েছে এদের বসবাস। আধুনিক কোনো সুযোগ-সুবিধা, কৃষিকাজ কিংবা অর্থভিত্তিক অর্থনীতি স্পর্শ করতে পারেনি এদের। গবেষকদের মতে, প্রাক-কৃষিযুগের এই মানবগোষ্ঠী হলো মানব সভ্যতার অন্যতম প্রাচীন জীবন্ত শিকড়। জিনতাত্ত্বিক (Genetic) গবেষণায় দেখা গেছে, হাদজাদের ইতিহাস প্রায় ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ বছর পুরোনো। মানবজাতির সূচনালগ্নে আফ্রিকার প্রাক-ঐতিহাসিক মানুষ যেভাবে জীবন ধারণ করত, তারা আজও সেভাবেই রয়ে গেছে। এরা সম্পূর্ণ যাযাবর। পানির উৎস ও শিকারের প্রাচুর্যের ওপর নির্ভর করে তারা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে। মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে গাছের শুকানো ডালপালা ও লতাপাতা বাঁকিয়ে তারা ডিম্বাকৃতির কুঁড়েঘর তৈরি করে। বর্ষাকালে তারা বড় বাওবাব (Baobab) গাছের প্রাকৃতিক গহ্বর কিংবা পাথরের গুহায় আশ্রয় নেয়। হাদজাদের সমাজব্যবস্থা প্রথাগত যেকোনো সমাজের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং পুরোপুরি সাম্যবাদী। এদের সমাজে কোনো রাজা, গোত্র প্রধান বা শাসক নেই। প্রথাগত অর্থে কেউ কাউকে নির্দেশ দেয় না। খাবার বা সম্পদ জমিয়ে রাখার কোনো মানসিকতা এদের মধ্যে নেই। শিকার বা সংগৃহীত খাদ্য পুরো দলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেওয়া হয়। ফলে সমাজে কোনো ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য নেই। হাদজাদের নিজস্ব ভাষাকে বলা হয় ‘হাদজানে’। এটি একটি বিশেষ বিচ্ছিন্ন ভাষা (Language Isolate)। কথা বলার সময় তারা জিভ দিয়ে একধরনের ‘ক্লিক’ (Clicking Sound) বা চোষা ধ্বনি তৈরি করে, যার সাথে পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষার প্রত্যক্ষ মিল নেই। পুরুষরা ছোটবেলা থেকেই কাঠের ধনুক ও পশুর রগ দিয়ে তীর তৈরি করতে শেখে। ‘ডেজার্ট রোজ’ নামের গাছ ফুটিয়ে তৈরি করা বিশেষ বিষ তীরের ফলায় মাখিয়ে তারা হরিণ, বাবুন বানর, হাইর্যাক্স বা পাখি শিকার করে। শিকারের সময় তারা পোষা কুকুরকে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করে। নারীরা জঙ্গল থেকে বুনো কন্দ, আলু, বাওবাব ফল ও বেরি জাতীয় ফল কুড়িয়ে আনে। হাদজাদের সবচেয়ে প্রিয় খাবার হলো বুনো মধু। মধু খুঁজতে তারা এক বিশেষ পাখির (Honeyguide bird) শিষের সংকেত অনুসরণ করে। পাখিটি মৌচাকের সন্ধান দিলে হাদজারা আগুন ও ধোঁয়ার সাহায্যে গাছে উঠে মধু সংগ্রহ করে এবং উপহার হিসেবে পাখিকে মৌচাকের মোম খেতে দেয়। হাদজা সমাজে কোনো কাগজের মুদ্রা বা ধাতব মুদ্রা নেই। সংগৃহীত মধুর বিনিময়ে তারা পার্শ্ববর্তী গোত্রগুলোর কাছ থেকে ধাতব তীরের ফলা, ভুট্টার দানা কিংবা ব্যবহৃত টায়ার থেকে তৈরি বিশেষ জুতা সংগ্রহ করে। হাদজাদের জীবনে কোনো ঘড়ি, ক্যালেন্ডার, জন্মদিন বা বার্ষিক উৎসবের অস্তিত্ব নেই। এমনকি তাদের ভাষায় ‘এক’ এবং ‘দুই’ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশের শব্দ নেই। বয়স বা বছরের হিসাব রাখার প্রয়োজনও তারা কখনো বোধ করে না। বর্তমানে হাদজা জনগোষ্ঠীর মোট সংখ্যা মাত্র ১,০০০ থেকে ১,৩০০ জনের মতো, যার মধ্যে কেবল ৪০০-৫০০ জন পুরোপুরি প্রথাগত জীবন ধরে রেখেছে। তবে আধুনিক সভ্যতার আগ্রাসনে তারা চরম সংকটে পড়েছে: গত ৫০ বছরে পার্শ্ববর্তী কৃষি ও গবাদিপশু পালনকারী গোত্রগুলোর জমি দখলের কারণে হাদজারা তাদের ঐতিহাসিক শিকার ভূমির প্রায় ৯০% অংশ হারিয়ে ফেলেছে। বন উজাড় হওয়ার কারণে বুনো প্রাণীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে, ফলে শিকারিদের প্রায়ই অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। বহিরাগতদের আগমন এবং অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের ফলে তারা নানা ছোঁয়াচে রোগের সংস্পর্শে আসছে। আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় শিশুমৃত্যুর হার অতিরিক্ত বেশি এবং এদের গড় আয়ু মাত্র ৩২ থেকে ৩৫ বছর। প্রকৃতির সাথে পরম ভারসাম্যে বেঁচে থাকা এই জনগোষ্ঠী কোনো প্রদর্শনী নয়, বরং মানব ইতিহাস ও নৃবিজ্ঞানের এক অমূল্য জীবন্ত দলিল। প্রকৃতির সাম্যবাদের এই শেষ প্রতিনিধিদের যদি রক্ষা করা না যায়, তবে মানবজাতির নিজস্ব অতীতে ফিরে তাকানোর অন্যতম প্রধান জানালাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র মহড়া, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ
কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এর উনছিপ্রাং এলাকায় সশস্ত্র মহড়া, চাঁদাবাজি, অপহরণ, হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন রোহিঙ্গার অভিযোগ, ক্যাম্পের রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া এলাকায় বসবাসরত মোহাম্মদ রফিক ও তার সহযোগীদের ঘিরে এসব অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, ওই চক্রের সদস্যরা প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। ক্যাম্পের সি-ব্লকের হেড মাঝি নুর জুহার অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে সি-৫ ব্লকের সিকান্দরকে হেড মাঝি করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পে উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মোহাম্মদ রফিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক নারীকে নিজ বাসায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কথিত একটি সশস্ত্র গ্রুপ নিয়ে মোহাম্মদ রফিক ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দেন। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। কয়েকজন রোহিঙ্গার দাবি, ক্যাম্পে কারও বিরুদ্ধে কথা বলা বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার চেষ্টা করলে রেশন কার্ড বন্ধ করে দেওয়া কিংবা রাতে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে নিরাপত্তার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিষয়ে ক্যাম্পের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, কথিত সশস্ত্র গ্রুপের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। একজন স্থানীয় রোহিঙ্গা অভিযোগ করে বলেন, “রফিকের বিরুদ্ধে কথা বললে রাতে ঘুমের মধ্যে ধরে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।” স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মিয়ানমার থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে ওই চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মোহাম্মদ রফিকের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মোহাম্মদ সাব্বিরের বক্তব্যও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। সাধারণ রোহিঙ্গাদের দাবি, বিষয়টিকে কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিরোধ হিসেবে না দেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—ক্যাম্পে যদি সত্যিই সশস্ত্র মহড়া, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? তাদের দাবি, দ্রুত ক্যাম্প এলাকায় প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।
সাতমেরা সীমান্তে বাংলাদেশি বৃদ্ধকে বিএসএফ ধরে নেওয়ার পর ভারতীয় নাগরিক আটক
পঞ্চগড়, ৮ আগস্ট ২০২৬: পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা সীমান্তে এক বাংলাদেশি বৃদ্ধকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশে প্রবেশ করা এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছেন স্থানীয়রা। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটক করে বিরাজোত এলাকায় নিয়ে যান। আটক ব্যক্তি ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার চাউলহাটি তশনপাড়া এলাকার বাসিন্দা দীপঙ্কর গোপ (৩৫)। স্থানীয়দের দাবি, দীপঙ্কর একটি চা-বাগানে কাজ করার সময় ভুলবশত সীমান্তের কাঁটাতার পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানান। এর আগে গত বুধবার সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দা তমিজ উদ্দীন (৭৮) গরু খুঁজতে সীমান্তের কাছে গেলে বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। তমিজ উদ্দীনের ছেলে আজাহার জানান, তার বাবা বয়স্ক এবং কানে কম শোনেন। তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। বাবাকে ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আটক ভারতীয় নাগরিককে হস্তান্তর না করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আটক ভারতীয় নাগরিক দীপঙ্কর গোপ এবং বিএসএফের হাতে থাকা বাংলাদেশি বৃদ্ধ তমিজ উদ্দীনের বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শরণখোলায় এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে শিক্ষক নেতৃবৃন্দের মানববন্ধন
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৮৪ নং উত্তর আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক আব্দুস সাত্তারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে একই এলাকার মৃত নাসির উদ্দিন তালুকদারের পুত্র আলমগীর তালুকদার। ৮ আগষ্ট সকালে শহীদ মিনার সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় তাকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করে এর প্রতিবাদ ও শাস্তির দাবিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতা প্রধান শিক্ষক মোঃ বেলায়েত হোসেন, প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন মুক্তা, প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) জুয়েল মীর ও প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জাকির হোসেন। বক্তারা অবিলম্বে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেয় শিক্ষক নেতারা। এ ব্যাপারে লাঞ্চিত শিক্ষক আব্দুল সাত্তার জানায়, গত ৬ আগষ্ট বিকালে স্কুল ছুটির পর রায়েন্দা বাজারে যাওয়ার সময় উপজেলার আমড়াগাছিয়া সাতঘর মসজিদে এলাকায় পৌঁছালে এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী আলমগীরী নেতৃত্বে ৪/৫ জনের একটি দল তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে কিল, ঘুসি, চর থাপ্পড় মেরে আহত করে। এ ঘটনায় তিনি শরণখোলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রোকেয়া খানম বলেন, তিনি একটি অভিযোগ পেয়েছেন তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।