বাংলাদেশ বার্তা টুডে
ঝিনাইদহে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা
ঝিনাইদহে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে শহরের কাঞ্চননগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে জেলা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আয়োজনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বিআরটিএ ঝিনাইদহ সার্কেলের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস,ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মশিউর রহমান,মোটরযান পরিদর্শক সজীব সরকার ও সোহাগ হোসেন,কাঞ্চননগর স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষক রিগান মাহমুদ,এসএ টিভির জেলা প্রতিনিধি ফয়সাল আহমেদসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় বক্তারা,সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলা,নিরাপদে রাস্তা পারাপার এবং দুর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
আখেরি চাহার শোম্বা তাৎপর্য ও শিক্ষা : হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ” আখেরি চাহার শোম্বা তাৎপর্য ও শিক্ষা, এ দিনটি মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে থাকে। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবনে এ দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয়। ফারসি ভাষায় ‘আখের’ অর্থ শেষ, আর ‘চাহার শোম্বা’ অর্থ বুধবার। অর্থাৎ হিজরি সনের সফর মাসের শেষ বুধবারকেই আখেরি চাহার শোম্বা বলা হয়। এ দিনে নবিজি (স.) শেষ বারের মতো রোগ থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর শোকর আদায় করেছিলেন বলে প্রতি বছর মুসলমানরা শুকরিয়ার দিবস হিসেবে দিনটি পালন করে থাকেন। রসুলুল্লাহ (স.)-এর জীবনের প্রতিটি কথা ও কাজ, তার সব আচরণ, প্রতিটি পদক্ষেপ তথা সমগ্র জীবনই সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে অনুকরণীয় অনুসরণীয়; যা কুরআনুল করিমে নানা আঙ্গিকে ব্যক্ত হয়েছে। তবে নবুওয়াত জীবনের প্রথম অধ্যায় মক্কি জীবনের ১৩ বছর তাকে নির্মম নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে। হিজরতের পর মদিনায় গিয়েও তাকে ইহুদি-মোনাফেকদের নতুন ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। মক্কার কাফেররা মদিনার ইহুদি মোনাফেকদের যোগসাজশে তাকে অশান্তিতে রেখেছিল। নানা কৌশলে তার প্রাণনাশের চেষ্টা পর্যন্ত করেছে। ৭ম হিজরিতে হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মুহরম মাসে ইহুদিদের একটি চক্র ‘লবিদ ইবনে আসম’ যিনি জাদুবিদ্যায় খুব পারদর্শী ছিলেন, তাকে দিয়ে তারা মুহাম্মদ (স.)-কে জাদু করান। লবিদ কৌশলে নবিজির এক ইহুদি গোলামের মাধ্যমে তার ব্যবহৃত চিরুনি ও চুল সংগ্রহ করে। তারপর মোমের একটি পুতুল বানিয়ে তাতে ১১টি সুচ বিদ্ধ করে একটি সুতায় কুফরি মন্তর পড়ে ১১টি গিট দেয়। সবকিছু পুতুলটির মধ্যে রেখে একটি কূপে পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রেখে দেয়। এই জাদুর প্রভাবে রসুলুল্লাহ (স.) শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। অতঃপর হজরত জিবরাইল (আ.) সুরা ফালাক ও সুরা নাস নিয়ে অবতীর্ণ হন। এ দুইটি সুরার আয়াতসংখ্যা ১১। মহান আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তার প্রিয় হাবিবকে জানিয়ে দেন—ইহুদি লবিদ আপনাকে জাদু করেছে, আপনি অমুক কূপ থেকে জাদুর সরঞ্জাম তুলে তাতে এই সুরা দুইটির একেকটি আয়াত পাঠ করে ফুঁক দিতে থাকুন। নবিজি হযরত আলী (রাদ্বি.)-এর মাধ্যমে জাদুর সব সরঞ্জাম উদ্ধার করে সুরা ফালাক ও নাসের ১১টি আয়াত পর্যায়ক্রমে পাঠ করালে জাদুর কার্যকরিতা নষ্ট হয়ে যায়, এতে তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। এরপর নবী (স.) গোসল করেন এবং বলেন আমার শরীরটা এখন অনেক হালকা মনে হচ্ছে, আমি নিজেকে পূর্ণ সুস্থ মনে করছি। এই দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার। নবিজির সুস্থতার খবর পেয়ে একে একে স্ত্রীগণ তার কাছে আসেন, মেয়ে ফাতেমাতুজ জোহরা (রাদ্বি.), ইমাম হাসান ও হুসাইন (রাদ্বি.)-কে নিয়ে উপস্থিত হন। বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরাম নবিজির হুজরার কাছে এসে ভিড় জমান। নবিজি আবেগজড়িত কণ্ঠে সবাইকে বলেন, ‘হে আমার প্রিয় সাহাবি ও ভ্রাতৃবৃন্দ! আমার মৃত্যুর পর, আমার বিয়োগে তোমাদের অবস্থা কীরূপ হতে পারে?’ এ কথা শুনে সবাই কাঁদতে আরম্ভ করেন। তিনি সবাইকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, কেউ চিরকাল থাকে না, আমাকেও আমার রবের হুকুম মানতে হবে, তার কাছে যেতে হবে। এরপর তিনি মসজিদে নববিতে প্রবেশ করে হযরত আবু বকর সিদ্দিককে (রাদ্বি.) ইমামতি করার নির্দেশ করেন। রাসূল (স.)-এর জীবদ্দশায় আবু বকর (রাদ্বি.)-কে দিয়ে ইমামতি করিয়ে তিনি ইঙ্গিত করলেন যে, আমার ইন্তেকালের পর তোমাদের প্রথম খলিফা হবেন, আমার প্রিয় সাথি আবু বকর। নবিজিকে পূর্ণ সুস্থ দেখে সাহাবায়ে কেরাম খুবই আনন্দিত হন, প্রত্যেকে নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সাদকা করেন। হজরত আবু বকর (রাদ্বি.) তৎকালীন সময়ে ৫ হাজার দিনার গরিবদের দান করে দেন। হজরত উমার ফারুক (রাদ্বি.) ৭ হাজার দিনার সাদকাহ্ করেন। হজরত ওসমান গনি (রাদ্বি.) করেছিলেন ১০ হাজার দিনার। হযরত আলি (রাদ্বি.) দান করেন ৩ হাজার দিনার। সাহাবী আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাদ্বি.) এই খুশির সংবাদে ১০০ উট আল্লাহর রাস্তায় দান করেন। এ থেকে আমরা শিক্ষা পেতে পারি, নবির প্রতি সাহাবিদের ভালোবাসা কেমন ছিল। এক কথায় বলা যায়, নবি (স.)-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা ছিল নিখাদ ও অতুলনীয়। তারা নবিজির জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করতে পর্যন্ত দ্বিধা করেননি। প্রিয় নবি (স.)-এর প্রিয় উম্মতের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে—জীবনের সবকিছুর চেয়ে যেন আমরা নবিজিকে ভালোবাসি, তার অনুসৃত পথে নিজেদের জীবন সাজাই। যেহেতু নবি (স.)-এর রোগমুক্তির দিনটি ছিল সমগ্র জগতের জন্য খুশির দিন, তাই এ দিনে আল্লাহর কাছে আমাদের ফরিয়াদ থাকবে, তিনি যেন যাবতীয় অকল্যাণ থেকে দূরে রেখে আমাদেরকে সুস্থ সুন্দর জীবন দান করেন। আমিন। লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
সিরাজুম মনির উলফাত গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে
সিরাজুম মনির উলফাত এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে রংপুর জেলা স্কুল হতে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে জিপিএ ৫.০০ পেয়ে কৃতকার্য হয় সে। সে মোঃ নজরুল ইসলাম নজু এবং মোছাঃ রুবী খাতুনের কনিষ্ঠ সন্তান। দেশ ও জনগনের কল্যাণে কাজ করতে চায় সিরাজুম মনির । সিরাজুম মনিরের মা-বাবা এবং তার মামা কবি ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাবুল মহান আল্লাহ্ তায়ালার নিকট শুকরিয়া জানিয়েছেন এবং সন্তানের জন্য দেশবাসীর নিকট দোয়া চেয়েছেন।
সাতক্ষীরায় নব ঘোষিত এনসিপি কমিটিকে প্রত্যাখ্যান: ৭২ ঘন্টার আল্টিমের্টাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবঘোষিত সাতক্ষীরা জেলা আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে দলের একাংশের মধ্যে। নব কমিটিকে ‘অস্বচ্ছ’ ও ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পরিবর্তন করা না হলে গণপদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা শহরের (শহীদ আলাউদ্দিন চত্বরের) নিউমার্কেট মোড়ের আল বারাকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা এনসিপির একাংশ এবং দলটির ছাত্রসংগঠন ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ পৃথকভাবে এই দাবি জানায়। উল্লেখ্য গত রবিবার আগামী ছয় মাসের জন্য সাতক্ষীরা জেলা এনসিপির ১৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। দলের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। উক্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে অধ্যক্ষ মো. আখতারুজ্জামানকে। সদস্যসচিব হয়েছেন মো. কামরুজ্জামান (বুলু) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম রজব আলী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সি এম নাজমুল ইসলাম ও শেখ নাজমুল হুদা। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে। নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা ত্যাগী ও যোগ্য কর্মীদের মূল্যায়ন না করে পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে এই ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। তারা বলেন, এই প্রতিবাদ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; বরং প্রশ্নবিদ্ধ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে। নতুন কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পাওয়া মো. কামরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পরিবর্তন না হলে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। তিনি তাঁর বিভিন্ন সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। এছাড়া বঞ্চিত ও পদত্যাগকারী নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক সংকটের দ্রুত সমাধান করতে হবে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি পরিবর্তন না হলে গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা এনসিপির বার্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক সি.এম নাজমুল ইসলাম, বর্তমান সদস্য সচিব মো. কামরুজ্জামান বুলু, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আবদুল্লাহ, সদর উপজেলা কমিটির সমন্বয়কারী মাছুম আশরাফ উদ্দীন, শেখ আল ইমরান, রফিকুল ইসলাম, বার্নাবাশ দাদা ও আবদুল্লাহ আবদুল মালেক প্রমুখ । অন্যদিকে সন্ধ্যা ছয়টায় একই স্থানে জাতীয় ছাত্রশক্তি সাতক্ষীরা জেলা শাখাও একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে। ছাত্রশক্তির নেতারা অভিযোগ করেন, ঘোষিত কমিটিতে এমন ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন, যাদের গত ছয় মাসে দলের কোনো কার্যক্রমে দেখা যায়নি। এমনকি কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদেও তারা মাঠে ছিলেন না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক হাসিবুল হাসান রুমন, সদস্যসচিব বখতিয়ার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক মোজাহিদুল ইসলামসহ উপজেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাটে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষ/ণ: র্যাবের হাতে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
লালমনিরহাট সদর উপজেলায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি মো. মিজানুর (২০) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১০টা ৫০ মিনিটে রংপুরের তাজহাট থানাধীন মডার্ন মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩, সিপিএসসি, রংপুরের একটি আভিযানিক দল। গ্রেপ্তার মিজানুর লালমনিরহাট সদর থানার নামা খোলাইঘাট (চিনাতুলি) গ্রামের মো. আলতাফের ছেলে। র্যাব-১৩-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মামলার এজাহার অনুযায়ী ভুক্তভোগী কিশোরী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। গত ১৪ জুলাই দুপুরে মিজানুর তাকে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে দেখা করতে বলে। সরল বিশ্বাসে ওই দিন দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে কিশোরী তিস্তা নদীর পাড়ে তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে মিজানুর তাকে জোরপূর্বক স্থানীয় এক ব্যক্তির পাটক্ষেতের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় কিশোরী চিৎকার করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তার মুখ চেপে ধরে। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মিজানুর পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা কিশোরীকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় গত ১৮ জুলাই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি নম্বর-২৯। মামলা হওয়ার পর থেকেই মিজানুর আত্মগোপনে ছিল। র্যাব জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে রংপুরের মডার্ন মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের আইন বিষয়ক সম্পাদক হলেন নোবিপ্রবির রেদোয়ান
বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পর্ষদে আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রেদোয়ান। সোমবার (১০ আগস্ট) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মো. জাহানুর ইসলাম ও স্থায়ী পর্ষদের মুখপাত্র মাহদী হাসান মজুমদার কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রুহুল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইশা সুলতানা সাদিয়া মনোনীত হয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর নবমনোনীত আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. রেদোয়ান বলেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আমি ফোরামের আইনভিত্তিক কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করতে চাই। নিয়মিত আইনবিষয়ক লেখালেখি, সমসাময়িক আইন ও বিচারব্যবস্থার বিশ্লেষণ, গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা, আইনসচেতনতামূলক কর্মশালা, সেমিনার, বিতর্ক ও অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক আয়োজনের মাধ্যমে সদস্যদের আইনবিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করতে চাই। একই সঙ্গে তরুণ লেখকদের মধ্যে আইন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ে চিন্তাশীল লেখালেখির চর্চা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় রাখি। তিনি শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, এই গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে ফোরামের লক্ষ্য ও অগ্রযাত্রায় যাতে কার্যকর অবদান রাখতে পারি, সেজন্য আমি সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া, সহযোগিতা ও শুভকামনা প্রত্যাশা করছি। উল্লেখ্য, ‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। বর্তমানে দেশের ২৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
‘কারেন্ট কখন আসে, কখন যায়—ঠিক নেই’, বকশীগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ
‘কারেন্ট কখন আসে, আর কখন যায়—তার ঠিক নেই।’ প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে এমন মন্তব্য এখন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার অনেক বিদ্যুৎ গ্রাহকের। বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি সাপ্লাই সাব-স্টেশন কেন্দ্র রয়েছে। এটি শেরপুর জেলার গাজীর খামার গ্রিড সাব-স্টেশন কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। বকশীগঞ্জ সাপ্লাই সাব-স্টেশন কেন্দ্রের আওতায় প্রায় ৭৫ হাজার আবাসিক ও ১ হাজার ৭০০ সেচ গ্রাহক রয়েছেন। অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পিক সময়ে বকশীগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকছে ১৩ মেগাওয়াট। অন্যদিকে অফ-পিক সময়ে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। এ সময়ও ঘাটতি থাকছে ১০ মেগাওয়াট। চাহিদা ও সরবরাহের এই বড় ব্যবধানের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাহাত বলেন, দিন-রাত মিলিয়ে কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে খুব কষ্ট হয়। বিশেষ করে রাতে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজু বলেন, বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পর আবার চলে যাচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বগারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা শরিফ বলেন, গরমের মধ্যে বিদ্যুতের এমন সংকটে মানুষের কষ্ট আরও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা দরকার। এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (বকশীগঞ্জ জোনাল অফিস) মো. আকবর হোসেন মিঞা বলেন, বকশীগঞ্জে পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৮ মেগাওয়াট। আর অফ-পিক সময়ে চাহিদা ১৬ মেগাওয়াটের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর লোডশেডিংয়ের বিষয়টি নির্ভর করছে। সরবরাহ বাড়লে বকশীগঞ্জেও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমে আসবে। স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুতের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে লোডশেডিং কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নওগাঁয় এসএসসি-২০২৬ উত্তীর্ণ মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেবে ‘হেল্পলাইন হ্যালো নওগাঁ’
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (A+) পাওয়া নওগাঁ জেলার মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বৃত্তি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হেল্পলাইন হ্যালো নওগাঁ’। সংগঠনটির শিক্ষা সহায়তা ও বৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য এ বৃত্তি দেওয়া হবে। বৃত্তির জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (A+) প্রাপ্ত হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীকে নওগাঁ জেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল হতে হবে। ‘হেল্পলাইন হ্যালো নওগাঁ’ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করে তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকাই এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। বৃত্তি কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বা প্রয়োজনীয় যোগাযোগের জন্য মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, চিফ কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষা উপ-কমিটি, হেল্পলাইন হ্যালো নওগাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।
উনছিপ্রাং ক্যাম্পে ‘গোলাগুলির’ অভিযোগে রোহিঙ্গা আটক, সিআইসি বললেন—কোনো গোলাগুলি হয়নি
কক্সবাজারের টেকনাফের উনছিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এ ‘গোলাগুলির ঘটনায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে নুর জোহার নামে এক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (১৬-এপিবিএন)। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে তাকে আটক করা হয়। তবে ক্যাম্প-২২-এর ইনচার্জ (সিআইসি) রণি আলম নূর জানিয়েছেন, ক্যাম্পে কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। ফলে গোলাগুলির ঘটনায় নুর জোহারকে আটকের বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ক্যাম্পে বসবাসরত একাধিক রোহিঙ্গার দাবি, হেড মাঝি মো. রফিকের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার জের ধরে নুর জোহারকে পরিকল্পিতভাবে একটি ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আটক নুর জোহারের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা বা অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে তাকে আটক করা হয়েছে। হেড মাঝি রফিকের ইন্ধনে বিপুল অর্থের বিনিময়ে তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগে হেড মাঝি রফিকের অনুসারীদের মাধ্যমে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছিল। তার ভাষ্য, তাদের পরিবারে পাঁচ সন্তান রয়েছে। পরিবারের একজন অভিভাবককে এভাবে আটক করায় তারা চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। ক্যাম্প-২২-এ বসবাসরত কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, ১০ আগস্ট রাতে উনছিপ্রাং ক্যাম্পে তারা কোনো গোলাগুলির শব্দ শুনেননি কিংবা গোলাগুলির ঘটনা দেখেননি। তাদের দাবি, নুর জোহারকে পরিকল্পিতভাবে একটি ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হয়ে থাকতে পারে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান। সূত্র জানায়, এর আগেও হেড মাঝি মো. রফিকের বিরুদ্ধে হয়রানি, হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ এনে ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন নুর জোহার। ওই অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ক্যাম্পের বিভিন্ন অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে, তার ছেলে ও জামাতাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তার বাড়িতে অস্ত্র ও ইয়াবা রেখে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া হেড মাঝি রফিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ক্যাম্প-২২-এর আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে হেড মাঝি মো. রফিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সাধারণ রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, ক্যাম্পে প্রভাব ও আধিপত্য ধরে রাখতে হেড মাঝি মো. রফিকের বিরুদ্ধে সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর চাপ, হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নুর জোহারকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে ১৬-এপিবিএনের এসআই শাহিন বলেন, ‘নুর জোহার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না বলেও জানান তিনি। তবে গোলাগুলির ঘটনায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা। অন্যদিকে ক্যাম্প-২২-এর ইনচার্জ (সিআইসি) রণি আলম নূর বলেন, ‘ক্যাম্পে কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি।’ ঘটনার বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে নুর জোহারের আটকের ঘটনায় তার পরিবার ও ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নুর জোহার নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার প্রতিবাদে জাকসুর বিক্ষোভ মিছিল
এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রদানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে এর প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। মিছিল শেষে আয়োজকরা বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
নোবিপ্রবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এনটিআরসিএ বিষয়ক সিদ্ধান্তে বিক্ষোভ সমাবেশ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্তৃক এনটিআরসিএ (NTRCA) এর নিয়োগ বেসরকারি স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির উপর ন্যস্ত করায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টায় নোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে নোবিপ্রবির সালাম হল, মালেক হল , শান্তিনিকেতন, গ্যারেজ হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেয়। তার মধ্যে, "টাকা না মেধা, মেধা মেধা","নিয়োগ বানিজ্যের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন" , "কোটা গেছে যেই পথে, কমিটি যাবে সেই পথে","চাচা না চাকরি? চাকরি চাকরি","মামা না চাকরি? চাকরি চাকরি","২৪ এর হাতিয়ার গর্জে ওঠো আরেকবার","জালোরে জালো, আগুন জালো","ইনকিলাব ইনলিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ টাকা না মধা, মেধা মেধা","আবু সাইদ মুদ্ধ , শেষ হয়নি যুদ্ধ ","নিয়োগ বানিজ্যের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট একশন", ইত্যাদি। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম রাফি বলেন, আমরা আমাদের মামা-খালুদের সময় দেখেছি টাকা বা কমিটির মাধ্যমে স্কুল-কলেজ গুলোতে নিয়োগ দিতে। যা পরবর্তীতে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ হতো। তবে এখন আবার কথা উঠেছে যে নিয়োগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ম্যানেজিং কমিটি দিবে। সারা বাংলাদেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এগুলো মেনে নিবেনা। এনটিআরসিএ এর মাধ্যমেই নিয়োগ দিতে হবে। নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ও এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, শিক্ষক বিষয়টি কোন ছিনিমিনি খেলা নয়, তাই নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ শিক্ষকরা যাতে কারো কাছে ধর্না না দেয়। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে মেধাবি শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে ধর্না দিবে, চাকরির জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা কারো কাছে ধর্না দেওয়াটা জাতির জন্য লজ্জাজনক।সরকারকে বলবো এগুলো থেকে বের হয়ে আসুন। আমরা জানিনা আপনাদের এ বুদ্ধি কে দেয়। যদি এ থেকে সরে না আসেন, তাহলে আমরা যেভাবে ২৪ এ জেগে উঠেছিলাম সেভাবে আবার জাগ্রত হবো। উল্লেখ্য, আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএ (NTRCA)-র থেকে সরিয়ে গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এমন সিদ্ধান্তের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। পরবর্তীতে , বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এ বিক্ষোভ মিছিল করে।
এক যুগে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
২০১৫ সালের ১২ মে যাত্রা শুরু করা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাককানইবিসাস) এ বছরের ১২ মে পা রাখে এক যুগে। সেই মাইলফলক ঘিরে সোমবার (১০ আগস্ট) দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ‘ঐক্য, নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতা’ প্রতিপাদ্যে সাজানো এই আয়োজনে ছিল আনন্দ র্যালি, বৃক্ষরোপণ, কেক কাটা, ক্যালেন্ডার-ডায়েরি উন্মোচন ও সেমিনার। সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদযাপন। এরপর ক্যাম্পাসের চত্বরে বৃক্ষরোপণ ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা এগিয়ে চলে। দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে উন্মোচন করা হয় সমিতির নতুন বছরের ক্যালেন্ডার ও ডায়েরি। দিনের মূল আয়োজন ছিল বিকেলে, প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনার। সমিতির সভাপতি মোছা. জান্নাতী বেগমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ সাদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। উপাচার্য বলেন, সাংবাদিকরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অহংকার ও অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সারাদেশে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। বস্তুনিষ্ঠ সত্য প্রকাশের অধিকার যেমন তাদের রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার দায়িত্বও তেমনি সবার একসঙ্গে বহন করার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। চাটুকারিতা নয়, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার আদর্শ মেনে সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত সাফল্য মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করেন সাংবাদিকরাই। সততার সঙ্গে এই পেশায় কাজ করলে তা ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেমিনারে বিশেষ বক্তব্য রাখেন দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের হেড অব অনলাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া ও সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শিয়াবুর রহমান শিহাব এবং আল জাজিরার সাংবাদিক মওদুদ আহমেদ সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসান, প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. জিল্লুর রহমান পল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন অনুষ্ঠানে। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাককানইবিসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের সমস্যা-সম্ভাবনা ও অর্জন গণমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার চর্চা চালিয়ে আসছে।
জাবিতে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘পঞ্চান্নে পঞ্চান্ন’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫তম আবর্তন কর্তৃক আয়োজিত ‘পঞ্চান্নে পঞ্চান্ন’ উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চলমান থাকায় পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে সোমবার (১০ আগস্ট) দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয় ‘জাবির আলপনা উৎসব’। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ভোজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে সেন্ট্রাল ফিল্ড মাঠ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত জাতীয় সংগীত ও আনন্দ পরিক্রমা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় ড্রোন শুট ও কালচারাল ফ্ল্যাশমব। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গণপরিবেশনার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নৃত্য, সংগীত ও নাটক পরিবেশন করেন। পাশাপাশি ছিল সুনামধন্য ব্যান্ডের কনসার্ট। সবশেষে ডিজে পরিবেশনার মাধ্যমে জমকালো এই আয়োজনের সমাপ্তি হয়।
গাইবান্ধায় অপহৃত ১৪ বছরের স্কুলছাত্রী উদ্ধার, র্যাবের হাতে গ্রেফতার ৩
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অপহরণের শিকার ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে র্যাব। এ ঘটনায় অপহরণ মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সমস গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন—সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সমস গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. বেল্লাল হোসেন (৩৩) ও মো. বিদ্যুত (২৮) এবং বেড়াডাঙ্গা বাজার এলাকার মৃত মছলিম উদ্দিনের ছেলে মো. বাবুল হোসেন (৩৫)। র্যাব-১৩, সিপিসি-৩ গাইবান্ধার দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া ভিকটিম স্থানীয় ধর্মপুর পি.এন. বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় বেল্লাল হোসেন তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। ওই ছাত্রী তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি বাবা-মাকে জানায়। পরে ভিকটিমের পরিবার বেল্লালের বাবা-মাকে বিষয়টি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানোসহ অপহরণের হুমকি দেয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে আসামিদের বাড়ির উত্তর পাশে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে বেল্লাল ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বজনরা আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা ভিকটিমকে খুঁজে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরবর্তীতে আর কোনো সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা গত ৫ আগস্ট সুন্দরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-০৯। মামলা দায়েরের পর আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়। র্যাব জানায়, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার এবং অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য উদ্ধার হওয়া ভিকটিম ও গ্রেফতার আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী।
লালমনিরহাটের এক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় লালমনিরহাটে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। জেলায় মোট ১৮ হাজার ৪২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২৭ জন। কালীগঞ্জ উপজেলার এএম রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল পাঁচজন, তারা সবাই অকৃতকার্য। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এএম রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মদাতী ইউনিয়নে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে গত ১৯৯৯ সালে এএম রথবাড়ী বালিকা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ২০১১ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক থেকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয়। কালক্রমে গত ২০২৩ সালে এএম রথবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়টির নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুইশ। তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। যার মধ্যে সাতজন এমপিওভুক্ত হলেও চারজন নন-এমপিও শিক্ষক। শূন্য পদ রয়েছে চারটি। চলতি বছর এ বিদ্যালয়টি থেকে পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং সবাই অকৃতকার্য হয়। পাঠদান নিম্নমুখি হওয়ায় ফলাফলে ধস নেমে এসেছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম মুখ ধুবড়ে পড়ে। প্রধান শিক্ষক নিজে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অন্য শিক্ষকরা যে যার মতো বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করেন। বেতনের সময় বেতন আর লোক দেখানো হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন শিক্ষকরা। ফলে পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। যার প্রতিফলন ঘটেছে এ ফলাফলে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মদাতী ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব জানান, নিম্ন মাধ্যমিকের শিক্ষকরা বেতন পেলেও উচ্চ মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়নি। বেতন ভাতা না পাওয়ায় উচ্চ বিদ্যালয় শাখার শিক্ষকরা বেতন ভাতা না পেয়ে অনেকটা আগ্রহ হারিয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষক সংকট রয়েছে। যার কারণে এবছর পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বদরুল আলম জানান, এএম রথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।