বাংলাদেশ বার্তা টুডে
কালীগঞ্জে ভাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড
কালীগঞ্জে ভাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩ প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড আব্দুল মতিন খান কালীগঞ্জ (গাজীপুর) কালীগঞ্জ উপজেলার খলাপাড়া ও বাসাইরবাজার ভাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করেছে ভাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৩১ আগষ্ট) কালীগঞ্জ উপজেলার খলাপাড়া ও বাসাইর বাজার ৩ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে, বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমীন হালদার। অভিযানে ওজন ও পরিমাপ মানদন্ড আইন ২০১৮ এর ৫২ ধারায় ০১ টি মামলায় সিয়াম বাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ,খলাপাড়াকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ৫০,০০০/- এবং ঔষধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩ এর ৪০ (খ) ও (গ) ধারায় ভাই ভাই মেডিকেল হল এর জামিল আহম্মেদ(৩৯) পিতা ওসমান গণি মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ করায় ৩,০০০/-, সবুজ মেডিকেল হল এর তাপস ধর(৩৩) পিতা: বিষ্ণু চন্দ্র ধর , ফিজিশিয়ান সেম্পল জাতীয় ঔষধ বিক্রয়ের উদ্দেশ্য প্রদর্শন করায় ৩,০০০/- ২ টি মামলা সহ মোট ৫৬,০০০/-জরিমানা করা হয়। ভাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মহিউদ্দীন ওয়ারেছী, পরিদর্শক, বি এস টি আই, গাজীপুর ও তানজিনা আফরিন, ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ,গাজীপুর ও বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম।
নওগাঁয় এসির কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মেকানিকের মৃত্যু
নওগাঁয় এসির কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মেকানিকের মৃত্যু মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এসির কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আব্দুল গনি পলাশ (৪২) নামে এক এসি মেকানিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের শালবাড়ি গ্রামের বেলাল হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল গনি পলাশ উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের কালাইডাঙ্গা (ইশ্বরদেবত্তোর) গ্রামের মৃত রফিজ উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার বিকেলে শালবাড়ি গ্রামের বেলাল হোসেনের বাড়িতে এসির কাজ করতে যান আব্দুল গনি পলাশ। কাজের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন। নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দিনাজপুরের আমাদের পাঠশালা স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শন করেন
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী দিনাজপুরের আমাদের পাঠশালা স্কুল এন্ড কলেজ পরিদর্শন করেন দিনাজপুর প্রতিনিধি- দিনাজপুর শহরের "আমাদের পাঠশালা স্কুল এন্ড কলেজ" আকস্মিক পরিদর্শন করলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি।। প্রতিমন্ত্রী দিনাজপুরে বেলা ১২টায় ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচী’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকগণের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় তিনি নির্ধারিত স্কুল পরিদর্শনে বের হলে হঠাৎ করেই দিনাজপুর ঈদগাহ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত আমাদের পাঠশালা স্কুল এন্ড কলেজ এ যান। তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় বিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান আনিসুল হক জুয়েল, প্রধান শিক্ষক রাহিনুর ইসলাম সিদ্দিকী, পরিচালক আসাদুজ্জামাননুর সহ শিক্ষকবৃন্দ তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। প্রতিমন্ত্রী পুরো বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখেন ও বিদ্যালয়টির নান্দনিকতা, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ- শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শেখার পদ্ধতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শেখার বিষয়ে তাদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং বিদ্যালয়টির কার্যক্রমের জন্য প্রশংসা করেন। এসময় বিদ্যালয়টির অধ্যক্ষ রাহিনুর ইসলাম সিদ্দিকী জানান, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীকে পেয়ে আমরা আনন্দিত। তাঁর এই আগমণ আমাদের কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করবে। আমাদের শিক্ষার্থীরাও তাঁকে কাছে পেয়ে দারুণ উচ্ছসিত। আমাদের প্রতিষ্ঠানে তাঁর এই পরিদর্শনে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
ধামইরহাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেল ইজিবাইক আহত- ৪
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আমাইতাড়া-রাঙ্গামাটি সড়কে রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ইজিবাইক উল্টে গেলে চারজন আহত হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে ফাঁসিপাড়া এলাকায় সোরহাব ডাক্তারের বাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইজিবাইকটি ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার খারাপ অংশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের ড্রেনে উল্টে যায়। এতে ইজিবাইকে থাকা চারজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আমাইতাড়া-রাঙ্গামাটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোনারগাঁও প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
সোনারগাঁও প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চর হুগলা এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও গোপনে ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনায় সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ (২১) সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ধর্ষকের বিচারের দাবিতে সোনারগাঁ থানা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার চর হুগলা এলাকার মৃত নুরু মিয়ার ছেলে মো. ইয়ামিন (৩৫) ও একই এলাকার আসলাম ফকিরের ছেলে মো. ইব্রাহিম খলিল (৩০)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রায় দেড় বছর ধরে বিদেশে রয়েছেন। এই সুযোগে অভিযুক্তরা তাকে প্রায়ই কু-প্রস্তাব ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলত। কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে অভিযুক্তরা পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ঘরে প্রবেশ করে। পরে ইয়ামিন তাকে ধর্ষণ করে এবং ইব্রাহিম খলিল তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে ইয়ামিন তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্ত ইয়ামিন তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং গর্ভপাত ঘটানোর জন্য চাপ দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে কিল-ঘুসি মারে এবং পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী নারী জানান, বর্তমানে তিনি ৩টি সন্তান নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
টেকনাফের জাদিমুড়ায় প্রকাশ্যে ৬-৭ রাউন্ড গুলিবর্ষণের অভিযোগ
টেকনাফের জাদিমুড়ায় প্রকাশ্যে ৬-৭ রাউন্ড গুলিবর্ষণের অভিযোগ রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আধিপত্য ও মাদক কারবার ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্র উদ্ধারের দাবি এলাকাবাসীর বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া স্টেশন এলাকায় প্রকাশ্যে ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জাদিমুড়া স্টেশনের হাইওয়ে সড়কের ওপর, স্থানীয় একটি মসজিদের কিছুটা পশ্চিমে এবং ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসিন্দারা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের ওই সময়ে হঠাৎ পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬-৭ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ বা হতাহত হয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে গুলির অভিযোগ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাদিমুড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ আগস্ট রাতে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি। এলাকাবাসীর অভিযোগের তীর জাদিমুড়া এলাকার সোলতান আহমদ ওরফে নাগুর ছেলে আব্দুল গফুর এবং তার দুই ছেলে আব্দুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের দিকে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা সংক্রান্ত একাধিক মামলাসহ অন্যান্য মামলাও রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, সীমান্তবর্তী টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে মাদক কারবার ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, যাদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিষয়ে পূর্বের মামলা, আদালতের নথি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পুরোনো হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ এদিকে একই এলাকার হাজী মতিউর রহমানের ছেলে আব্দুল মোনাফ কোম্পানি অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করা হয়। আব্দুল মোনাফ কোম্পানির দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডের মামলায় আব্দুল গফুর এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর পর একই ধরনের সময়ে আবারও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটায় তিনি ও তার পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “২০১৯ সালে রাত ১১টার দিকে আমার কলেজপড়ুয়া ছেলে ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। ওই মামলায় আব্দুল গফুর এজাহারনামীয় আসামি ছিল। প্রায় সাত বছর পর আবারও আমার পরিবারের অন্য সন্তানদের নিয়ে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।” পুলিশ কার্যালয়ের কাছাকাছি গুলির ঘটনায় উদ্বেগ ঘটনাস্থল ১৬ এপিবিএন পুলিশ কার্যালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি স্থাপনার আশপাশে যদি প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে তার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সময় কারা সেখানে ছিল তা শনাক্ত করা হোক। পাশাপাশি গুলির খোসা বা অন্য কোনো আলামত পাওয়া গেলে তা জব্দ করে পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযুক্ত আব্দুল গফুরের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয়দের অভিযোগের মুখে থাকা আব্দুল গফুরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ৩০ আগস্ট রাতের গুলিবর্ষণের ঘটনা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা ইয়াবা ব্যবসা ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তবে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তার কাছ থেকে অভিযোগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এলাকাবাসী বলছেন, অভিযোগটি গুরুতর হওয়ায় কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। গুলিবর্ষণের প্রকৃত কারণ, কারা গুলি করেছে, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে মাদক বা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আধিপত্যের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যদি মাদক, অস্ত্র বা অন্যান্য মামলার রেকর্ড থাকে, তাহলে সেগুলো যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। এই বিষয় নিয়ে টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট মামলার নথিই হবে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। ৩০ আগস্ট রাতের এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা, অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
নওগাঁয় অফিস সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগ, স্বাস্থ্য সহকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
নওগাঁয় অফিস সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগ, স্বাস্থ্য সহকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী মোঃ হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময়ে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি জেলা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য সহকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটের দিকে মোঃ হাবিবুর রহমানকে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগ পাওয়া যায়। ওই সময় সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম চলমান থাকলেও তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন না করে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছিলেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাদের দাবি, ওই সময় চেম্বারে একাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সরকারি চাকরিতে থাকা একজন স্বাস্থ্যকর্মী কর্মঘণ্টার মধ্যে ব্যক্তিগত চেম্বারে কীভাবে রোগী দেখেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এদিকে হাবিবুর রহমান স্বাস্থ্য সহকারি পদে কর্মরত হওয়ায় তার ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন এবং এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সরকারি অফিস সময়ে একজন সরকারি কর্মচারী যদি ব্যক্তিগত চেম্বারে থাকেন, তাহলে সরকারি সেবা নিতে আসা মানুষগুলো সেবা পাবেন কীভাবে? বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।” আরেক বাসিন্দা বলেন, “তিনি স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কী দায়িত্ব পালন করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে রোগী দেখার অনুমোদন আছে কি না, সেটি পরিষ্কার হওয়া দরকার। সরকারি চাকরির পাশাপাশি অনুমোদনহীনভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।” অভিযোগের বিষয়ে মোঃ হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে, সরকারি কর্মঘণ্টায় ব্যক্তিগত চেম্বারে অবস্থানের কারণ এবং স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে রোগী দেখার বৈধতা নিয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খায়রুল আলম বলেন, “সরকারি অফিস সময় চলাকালে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে পারবেন না। আর হাবিবুর রহমান একজন স্বাস্থ্য সহকারী। তার ব্যক্তিগতভাবে চিকিৎসা বা প্র্যাকটিস করার কোনো আইনগত অধিকার নেই।” তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের নজরে আসার পর জেলা সিভিল সার্জনকে অবগত করা হয়েছে। পরবর্তীতে হাবিবুর রহমানকে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।” স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে সরকারি কর্মঘণ্টায় ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখার ঘটনা সত্য কি না, তা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গাইবান্ধায় দেশীয় অস্ত্র সহ আটক দুই
গাইবান্ধায় দেশীয় অস্ত্র সহ আটক দুই গাইবান্ধা প্রতিনিধি অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, গাইবান্ধা এর নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা জেলাধীন গাইবান্ধা সদর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করিয়া ৩০/৮/২০২৬ ইং গাইবান্ধা সদর থানাধীন ০৫নং বল্লমঝাড় ইউপির ০৮ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কোমরপুর গ্রামস্থ ধৃত আসামি ১। মোঃ রাসেল মিয়া (৩০), পিতা- মোঃ একাব্বর মিয়া সাং দক্ষিণ কোমরপুর থানা- গাইবান্ধা সদর জেলা- গাইবান্ধা এর টিনশেট বসত বাড়ির উত্তর দুরারী শয়ন কক্ষের ভিতর তোষকের নিচ হইতে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ১। একটি সুইচ গিয়ার টিপ চাকু ২। একটি লোহার শাবল ৩। একটি লোহার চেইন ৪। একটি চাইনিজ কুড়াল সাদৃশ্য কাঠের বাট যুক্ত রাউডি ৫। একটি স্টিলের পাইপ উপস্থিত সাক্ষিদের সামনে ১৮ঃ৩০ ঘটিকায় জব্দ করা হয়।অতঃপর ধৃত আসামী মোঃ রাসেল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে বর্নিত আলামত গুলো বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য ব্যাবহার করে আসছে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য মতে উক্ত তারিখ ২০ঃ৫০ ঘটিকায় ধৃত ২ নং আসামী হৃদয় সরকার পনির@ পূর্ন (৪০), পিতা- মৃত আব্দুস সাত্তার সাং ব্রীজরোড কালিবাড়ী থানা- গাইবান্ধা সদর জেলা- গাইবান্ধা এর বসতবাড়ীর সামনে পৌঁচ্ছালে ডিবি পুলিশের উপস্থিতা টের পাইয়া কৌশলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা কালে ০২নং আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।তার দেওয়া তথ্যমতে পূর্ব দুয়ারী শয়ন কক্ষের তোষকের নিচ হইতে ১। একটি লোহার ধারালো ছোরা ২। একটি লোহার বাট যুক্ত হাতুরি উদ্ধার পূর্বক সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা হয়। অবৈধ দেশীয় অস্ত্র গুলো নিজ হেফাজতে রেখে পরস্পর যোগসাজসে বিভিন্ন অপরাধ করে আসছিল।তাহাদের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানার মামলা নং ৬৯ তারিখ ৩১/০৮/২০২৬ খ্রিঃ।ধারা- ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের সেকশন ১৯(এফ) ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
তাড়াইলে ছাত্রলীগের মিছিলের মামলায় আসামী সাংবাদিক-বিএনপি-এনসিপি নেতারা
তাড়াইলে ছাত্রলীগের মিছিলের মামলায় আসামী সাংবাদিক-বিএনপি-এনসিপি নেতারা রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় বিএনপি, এনসিপি ও যুবদলের নেতাকর্মীসহ সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। মামলাটিকে ‘হয়রানিমূলক ও মিথ্যা’ দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকালে জেলা শহরে এনসিপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও তাড়াইল উপজেলা এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং মামলার কয়েকজন ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে এনসিপির নেতারা বলেন, গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলার মধ্যবর্তী রাইজানী ব্রিজ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনার জেরে গত শনিবার (২৯ আগস্ট) তাড়াইল উপজেলা বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আকবর হোসেন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯-এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ ধারায় মামলা করেন। এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি, এনসিপি ও যুবদলের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকেও আসামি করা হয়েছে। তারা জানান, মামলার ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে জুলাই যোদ্ধা, তাড়াইল উপজেলা প্রেসক্লাবে কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের তাড়াইল উপজেলা প্রতিনিধি মো. ওমর খান সানিকে। ২৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে উপজেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল ভূঁইয়াকে। সংবাদ সম্মেলনে জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইকরাম হোসেন বলেন, ‘তাড়াইল উপজেলায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একটি মহল হয়রানি ও নির্যাতন করছে। যে সব মামলায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন, এমন বিএনপির ত্যাগী কর্মী, এনসিপির নেতাকর্মী, সাধারণ ব্যবসায়ী ও ছাত্রদেরও আসামি করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘অবিলম্বে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এনসিপি ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতারা মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ এবং এলাকায় শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে মামলার বাদী তাড়াইল উপজেলা বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আকবর হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাড়াইল থানার সেকেন্ড অফিসার ফুরকান জানান, মামলাটি ইতোমধ্যে এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। কারা কীভাবে মামলায় আসামি হয়েছেন, সে বিষয়ে বাদীই ভালো বলতে পারবেন।
সোনারগাঁও চৈতী কম্পোজিট গারমেন্টসকে পৌনে একলাখ টাকা জরিমানা
সোনারগাঁও চৈতী কম্পোজিট গারমেন্টসকে পৌনে একলাখ টাকা জরিমানা সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শীলমন্দী এলাকায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে চৈতী কম্পোজিট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকা পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং। সোমবার (৩১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন ঢাকা নমুনা সংগ্রহকারী দলের সদস্যরা চৈতী কম্পোজিট লিমিটেড পরিদর্শন করেন। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) থেকে তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে সংগৃহীত নমুনা পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সূচকে নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি মাত্রা পাওয়া যায়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তরল বর্জ্যে বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) ৭৬ মিলিগ্রাম/লিটার, কেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (সিওডি) ৪২৯ মিলিগ্রাম/লিটার এবং টোটাল সাসপেন্ডেড সলিডস (টিএসএস) ১৩৯ মিলিগ্রাম/লিটার পাওয়া যায়। এছাড়া বর্জ্যের পিএইচ মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ১৬ এবং রঙের মাত্রা ৫৩৩ পিটি-কো। পরিবেশ অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় পাওয়া এসব মান পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এ নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য সীমার বাইরে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। পরবর্তীতে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ধারা ৭ অনুযায়ী পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। এরই ভিত্তিতে চৈতী কম্পোজিট লিমিটেডের ওপর মোট ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকা পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিদর্শন, অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
লালমনিরহাটে গার্ল গাইডসের দীক্ষা ও ব্যাজ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
লালমনিরহাটে গার্ল গাইডসের দীক্ষা ও ব্যাজ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাট: আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডসের উদ্যোগে হলদে পাখি ঝাঁক গাইডদের দীক্ষা অনুষ্ঠান এবং নৈপুণ্য সূচক ব্যাজ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তুষভান্ডার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তুষভান্ডার নছব উদ্দিন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পৃথকভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন ও জেলা কোষাধ্যক্ষ শারমিন আরা হক, উপজেলা কমিশনার হোসনে মাহবুবা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশিদা আখতারা লুবনা। আইন, প্রতিজ্ঞা ও নীতি অনুসরণ করার শপথ বাক্য পাঠ করান প্রশিক্ষক সুমাইয়া তাবাচ্ছুম ও তানিয়া আমিন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গার্ল গাইডসের এসব কার্যক্রম মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল, চরিত্রবান ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমাজসেবা ও নেতৃত্বের এই চর্চা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনকে আরও সুশৃঙ্খল করবে। অনুষ্ঠানে উপজেলার একাধিক বিদ্যালয়ের গার্ল গাইডসের বিভিন্ন স্তরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত
মাদক নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের সিদ্ধান্ত মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামের রাউজানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও আরও উন্নত রাখতে মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকবিরোধী ও অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা, সমাবেশ এবং প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাউজান উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রাহাতুল ইসলাম। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জয়িতা বসু, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, রাউজান উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তৈয়ব চৌধুরী, বর্তমান সভাপতি কাজী সরোয়ার খান মনজু, সাধারণ সম্পাদক মোজাফফর হোসাইন শিকদারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ, কিশোর অপরাধ, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতা যথেষ্ট নয়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে মাদকের বিস্তার রোধে পরিবার ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকবিরোধী ও অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা-সমাবেশ আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে। তবে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য। মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কালীগঞ্জে ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণে যুবকের গলায় জুতার মালা
কালীগঞ্জে ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণে যুবকের গলায় জুতার মালা একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: সোমবার (৩১ আগস্ট) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১০নং কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের কুমারহাটি মোহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও আচরণের অভিযোগে এক যুবককে আটক করে এলাকাবাসী । স্থানীয়দের অভিযোগ, ঐ যুবক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেখিয়ে বিভিন্ন সময় অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেন। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে গ্রামবাসী তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন। পরে এলাকাবাসী ।পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত যুবককে জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয় বলে জানা গেছে।
ফরিদপুরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে চাকরি, খাস জমিতে ভবন ও ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ফরিদপুরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে চাকরি, খাস জমিতে ভবন ও ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মামুন মিঞা, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বারাংকুলা গ্রামের আবদুল আলীম খান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও কোটার অপব্যবহার, সরকারি খাস জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ, ভূমি অফিসে প্রভাব খাটিয়ে অনিয়ম এবং ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবদুল আলীম খান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে আসছেন। এমনকি নিজের জামাতা রজব মোল্লাকে ছেলে পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাইয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তার সন্তানদেরও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পায়রা বন্দর ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র ও মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আবদুল আলীম খান এক সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রীর প্রভাব ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে ঋণের অর্থের ব্যবহার ও অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বোয়ালমারী পৌর শহরের দক্ষিণ কামারগ্রাম এলাকায় প্রদীপ ডাক্তারের বাড়ির পাশের সরকারি খাস জমি একসনা বন্দোবস্ত নিয়ে নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে তিনতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আবদুল আলীম খানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তার ছেলে সেলিম খান বোয়ালমারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কর্মরত থাকায় প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এছাড়া আবদুল আলীম খান অতীতে বোয়ালমারী ভূমি অফিসে চাকরির সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকটি পরিবার। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ও ফাইল গায়েবের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাখালতলী ও বারাংকুলা মৌজার একটি জমি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আবদুল আলীম খান ও তার বড় ভাইয়ের ছেলে মাসুদ খান—যিনি শেখর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চাকরি করতেন—প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের নামে বিআরএস রেকর্ড ও খতিয়ান তৈরি এবং পরে জমিটি মিউটেশন করে বিক্রি করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি বোয়ালমারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে ওই জমিতে নির্মিত একটি অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় মাসুদ খানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল আলীম খান ও তার পরিবারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে মুক্তিযোদ্ধা সনদ, সরকারি চাকরির নথি, খাস জমির বন্দোবস্ত, ভূমি রেকর্ড, মিউটেশন এবং ঋণের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুন্দরবনে ঢুকতে বনজীবিদের সংশয়
সুন্দরবনে ঢুকতে বনজীবিদের সংশয় ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ঋণগ্রস্ত জেলেদের মধ্যে জলদস্যু ও চাঁদাবাজদের কবলে পড়ার তীব্র আতঙ্ক কাজ করছে। দীর্ঘ তিন মাসের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আগামীকাল ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন বনজীবী ও জেলেরা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বনের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যা আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদগুলোতে এখন নৌকা মেরামত, জাল বোনা এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের যোগাড় নিয়ে চরম ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে এই জীবিকার পথ উন্মুক্ত হওয়ার আনন্দ ছাপিয়ে জেলেদের মনে ভর করেছে গভীর সংশয়। বন বিভাগ থেকে পাশ-পারমিট সংগ্রহের প্রস্তুতি চললেও, বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর নিজেদের নিরাপত্তা এবং উপার্জিত অর্থের সুরক্ষাকে ঘিরেই প্রধানত এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে প্রবেশ করা জেলেদের জন্য জলদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অবৈধ শিকারি চক্রের দৌরাত্ম্য এক বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জীবন নির্বাহের জন্য তাদের এনজিও এবং স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বনে প্রবেশ করলেই তাদের আয়ের একটি বড় অংশ জলদস্যুদের ‘স্লিপ’ বা টোকেন মানি হিসেবে চাঁদা দিতে হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানিয়েছেন যে, অতীতে প্রতি ১৫ দিনের যাত্রার জন্য নৌকাপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে দস্যুদের আগাম চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো। এছাড়া বনে দায়িত্বরত অসাধু বনকর্মীদের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষ দিয়ে মাছ শিকার এবং ফাঁদ পেতে হরিণ শিকারি চক্রের অবৈধ তৎপরতা বনজীবীদের নিরাপত্তাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। এই চক্রগুলোর সাথে সংঘাতের ভয়ে অনেক জেলে বনে ফিরতে দ্বিধাবোধ করছেন, কারণ মাছ ও কাঁকড়া আহরণের পর চাঁদা ও অবৈধ খরচের হিসাব মেলালে তাদের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলেদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. শামসুল আরেফীন জানিয়েছেন যে, সুন্দরবনে জেলেদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে লোকালয়ে লুকিয়ে থাকা দস্যুদের সহযোগীরা, যারা জেলেদের কাছ থেকে টোকেনের নামে চাঁদা আদায় করে, তাদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলের মাধ্যমে দস্যুদের দৌরাত্ম্য নির্মূল করা সম্ভব হবে। তবে বনজীবীদের মতে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বনের অভ্যন্তরে নিয়মিত টহল জোরদার এবং অসাধু চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে না দিলে তাদের আতঙ্ক দূর করা সম্ভব নয়। সুন্দরবনকেন্দ্রিক এই অর্থনীতি মূলত হাজার হাজার পরিবারের জীবন-জীবিকার একমাত্র উৎস। কিন্তু প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়ে জলদস্যু ও চাঁদাবাজদের আধিপত্যের যে চিত্র ফুটে ওঠে, তা উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। যদি প্রশাসনের কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও চাঁদাবাজদের এই দুষ্টচক্র সক্রিয় থাকে, তবে বনজীবীরা কেবল অর্থনৈতিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং বনের সামগ্রিক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। আগামী কয়েক মাস জেলেদের জন্য কতটা নিরাপদ হবে, তা এখন প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং আইন প্রয়োগের কঠোরতার ওপরই নির্ভর করছে। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হলে দস্যুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।