চিকিৎসক না হয়েও প্রেসক্রিপশন দেওয়ার অভিযোগ, গর্ভের সন্তান হারালেন অন্তঃসত্ত্বা নারী

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ

পঞ্চগড় | ২৮ আগস্ট ২০২৬

পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল বাজারে চিকিৎসক না হয়েও রোগীদের প্রেসক্রিপশন লিখে ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রোকসানা আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ রোগীদের দিয়ে থাকেন। তাঁর দেওয়া ওষুধ সেবনের পর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ করেছে পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোকসানা আক্তার পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। তবে তিনি চিকিৎসক নন। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জগদল বাজারের মাতৃসেবা ফার্মেসিতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হলে রোগীদের প্রেসক্রিপশন লেখার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তাঁর দাবি, রোগীদের ওষুধ লেখার অনুমতি রয়েছে তাঁর।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট একই এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী শারমিন আক্তার ওই ফার্মেসিতে চিকিৎসার জন্য যান। তখন তিনি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রোকসানা আক্তার তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ কয়েক ধরনের ওষুধ লিখে দেন।

পরিবারের দাবি, এসব ওষুধ সেবনের পর শারমিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় চিকিৎসক না হয়েও ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

শারমিনের স্বামী মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তাঁর স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। চিকিৎসক না হয়েও তাঁকে বিভিন্ন ওষুধ দেওয়া হয়েছে। ওষুধ সেবনের পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত গর্ভের সন্তানটি মারা যায়। তিনি ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেওয়া এবং অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ সরবরাহ করা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক বলেন, সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীকে চিকিৎসক না হয়েও এভাবে ওষুধ দেওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এলাকার ফার্মেসিগুলোতে নিয়মিত তদারকির দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসক না হলে এ ধরনের ওষুধ লেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে শারমিন আক্তারের গর্ভের সন্তান মৃত্যুর সঙ্গে রোকসানা আক্তারের দেওয়া ওষুধের সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো চিকিৎসা পরীক্ষা বা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পরই গর্ভের সন্তান মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com