নওগাঁয় ইউপি ভবনের মালামাল অন্যত্র নেওয়ার সময় চেয়ারম্যানকে ঘেরাও, উদ্ধার করলো পুলিশ
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
মোঃ রমজান হোসেন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর আত্রাইয়ের ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ হিসেবে থাকা জানালা অনুমোদিত প্রক্রিয়া ছাড়াই সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দুটি ভ্যান আটক করে জানালাগুলো জব্দ করেন এবং পরে চেয়ারম্যানকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ঘেরাও করে রাখেন।
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার সময় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের কয়েকটি জানালা দুটি ভ্যানযোগে পরিষদ এলাকা থেকে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল। ভ্যান দুটি পরিষদ এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে তারা ভ্যানের গতিরোধ করে জানালাগুলো আটকে দেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে পরিষদ প্রাঙ্গণে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় ব্যক্তিরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান ছুটিতে থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেন। পরে ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরিষদের জানালাগুলো নিজেদের হেফাজতে নেন।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে নিরাপত্তা দিয়ে একটি পিকআপ ভ্যানে করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে ভোঁপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ হামিদুল হক বাবু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি সম্পদ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। সরকারি সম্পদ অপসারণ, হস্তান্তর কিংবা নিলামের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি-বিধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। অনুমোদন ছাড়া পরিষদের জানালা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়মের বিষয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, দিনের আলোতে সরকারি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়রা তা আটক করেছেন। এরপরও তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের কারো কারো অভিযোগ যে, “আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। সরকারি সম্পদ সরানোর সময় হাতে-নাতে আটকের পরও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিয়ে চেয়ারম্যানকে পুলিশি নিরাপত্তায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, “সরকারি সম্পদ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় জনগণ মালামাল জব্দ করেছেন। আমরা এসে সেগুলো উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছি।” তিনি আরও দাবি করে বলেন, চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন অপরাধ স্বীকার করেছেন।
তবে, চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোঁপাড়া ইউনিয়নে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের জানালাগুলো কীভাবে, কার নির্দেশে, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল? তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, স্থানীয় জনতা ঘোষণা দিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিনকে ইউনিয়ন পরিষদে বসতে দেওয়া হবে না। এতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।