কুড়িগ্রামের মত ঘটনা ঘটার আশংকা

কৃত্রিম সার সংকট: বস্তাপ্রতি ৪শ টাকা বাড়তি আদায় করছে ডিলাররা?

বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:

জেলা জুড়ে আমন মৌসুমের ভরা সময়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের সিন্ডিকেটে তৈরি হয়েছে সারের কৃত্রিম সংকট। কৃষি বিভাগের দাবি অনুযায়ী, জেলায় সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও মাঠপর্যায়ে ডিলারদের দোকানে গেলে মিলছে না সার।

 

 তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিলেই রাতারাতি মিলছে ইউরিয়া, ডিএ প ও টিএসপিসহ সব ধরণের সার। ডিলারদের এমন কারসাজিতে আমন চাষ নিয়ে চরম বিপাকে ও দিশাহারা হয়ে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক।

 

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে হবিগঞ্জ জেলায় মোট সারের চাহিদা ১৯ হাজার ৯৪০ টন। এর বিপরীতে সরকার ইতিমধ্যে ১৮ হাজার ৩৬১ টন সার সরবরাহ করেছে। 

 

কাগজে-কলমে সামান্য ঘাটতি থাকলেও বাস্তবে এটিকে বড় কোনো সংকট বলার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ইউরিয়ার দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপ ১ হাজার ৫০ টাকা, এমওপি ১ হাজার টাকা এবং টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু কৃষকেরা যখন ডিলারদের কাছে যাচ্ছেন, তখন "সার নেই" বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

 

ক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ বেঙ্গল সার সরকার কেন বন্ধ করে রেখেছে এজন্য সারের ঘাটতি অবিলম্বে বেঙ্গল সার বাজারজাত করা হোক।

  পূরণ করতে পারছে না গোপনে অতিরিক্ত টাকা দিলে কিংবা খুচরা দোকান থেকে বাড়তি দামে সার কিনতে হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে প্রতি বস্তা ইউরিয়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ডিএপি ও টিএসপি ১ হাজার ৪৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে—যা কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

কয়েকজন প্রান্তিক চাষি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ধানের চারা রোপণের এই সময়ে জমিতে সার দেওয়া খুবই জরুরি। কিন্তু ডিলারের কাছে গেলে সার পাওয়া যায় না। 

 

বেশি টাকা দিলে ঠিকই পাওয়া যায়। আমরা গরিব মানুষ, বাড়তি টাকা দিয়ে সার কিনতে গিয়ে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছি।"এ বিষয়ে জেলা সার ডিলার সমিতির পক্ষ থেকে চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম বরাদ্দের অজুহাত দেওয়া হলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। 

 

জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের হয়রানি করা হলে বা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিলে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগের ঠিকানা:

বাংলাদেশ বার্তা টুডে

৫৬, চানখারপুল লেন, নাজিমুদ্দিন রোড, বংশাল, ঢাকা-১১০০

ইমেইল: info@bangladeshbartatoday.com