রাষ্ট্রপতি
জীবনের বিনিময়ে হলেও স্বাধীনতা-গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
জীবনের বিনিময়ে হলেও স্বাধীনতা-গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের মনসুর আহাম্মেদ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে এসে রোববার বিকেলে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় দেওয়া বক্তব্যে এ অঙ্গীকার করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, তাঁর জীবনের বিনিময়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেষ্টা করবেন তিনি। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি হানাহানি ও সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার রাজনীতিতে আসার আহ্বান জানান তিনি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন হয়েছে। তবে এখন আর মারামারি, খুনোখুনি দেখতে চান না তিনি। দেশের রাজনীতিতে শান্তি ও সমঝোতার পরিবেশ দেখতে চান রাষ্ট্রপতি। তরুণদের উদ্দেশে মাদক ও নানা অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলা ও সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি। ঠাকুরগাঁওয়ের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্যও জেলার মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবেগাপ্লুত রাষ্ট্রপতি বলেন, এই মাটির সঙ্গে তাঁর জীবনের সবকিছু জড়িয়ে আছে। ঠাকুরগাঁওবাসীর ভালোবাসার ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। এর আগে রোববার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছান দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তিনি। সেখান থেকে সেনুয়া পারিবারিক গোরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন রাষ্ট্রপতি। পরে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে পুরো ঠাকুরগাঁওজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নিজ জেলার মানুষের ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন—“মোর নাম এই নামে হোক, আমি তোমাদেরই লোক।” এ সময় না করে সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু খাইরুল কবির এর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, দুর্যোগ ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, হুইপ আখতারুজ্জামান, ঠাকুরগাঁও ২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও ৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন সহ, জেলা জামাতের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ডা. মুহাম্মদ শহীদ উজ জামান।
একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন, সংসদে আসছে উচ্চকক্ষ: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বহুল প্রত্যাশিত ‘জুলাই সনদে’ সই করেন। তবে ছাত্র-জনতা পক্ষ থেকে আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল— “ফ্যাসিবাদী হাসিনার নিয়োগ করা রাষ্ট্রপতি যদি জুলাই সনদে সই করেন, তা মেনে নেওয়া হবে না।”
জুলাই সনদে সই করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও “জুলাই জাতীয় সনদ” বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। বহুল প্রত্যাশিত এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ সনদে সই করেন বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
‘না ভোট’ ফিরল জাতীয় নির্বাচনে: জোটেও নিজ দলের প্রতীকেই হবে ভোট
উপদেষ্টা পরিষদের নীতিগত অনুমোদনের পর গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। ফলে জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রার্থী জোটের অংশ হলেও তাকে নিজ দলের প্রতীকেই ভোটে অংশ নিতে হবে।
ঢাকা সেনানিবাসে স্থাপিত হলো অস্থায়ী কারাগার
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব মো. হাফিজ আল আসাদ। এতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ধারা ৫৪১(১) ও প্রিজনস অ্যাক্ট ১৮৯৪-এর ধারা ৩(বি) অনুযায়ী, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোডের উত্তর পাশে অবস্থিত ‘এমইএস ভবন নং–৫৪’-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হলো।