বাংলাদেশ বার্তা টুডে
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে মহালছড়ি জোনের মানবিক উদ্যোগ: বিতরণ হলো ধানের বীজ
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি রিজিয়নের মহালছড়ি জোন কর্তৃক সামাজিক দায়বদ্ধতা ও কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহালছড়ি উপজেলার থলিপাড়া ও টিএনটি পাড়া এলাকায় বাঙালি ও পাহাড়ি কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। উক্ত কার্যক্রমে মহালছড়ি জোনের পক্ষ থেকে ক্যাপ্টেন তাহমিদ সামিন উপস্থিত থেকে পাহাড়ি বাঙালি কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণ করেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা প্রদান এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মহালছড়ি জোন ভবিষ্যতেও স্থানীয় জনগণের কল্যাণে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
সংঘর্ষের পর বেরোবি ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে বহিরাগত ও সব ধরনের যানবাহন প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অতিথি, দর্শনার্থী এবং বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়িসহ সব ধরনের যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। ৪ আগস্ট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, সাম্প্রতিক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মাদক ও জোয়ার ব্যাপারে দলের কেউ সুপারিশ করলে, তার বিরুদ্ধেও মামলা দিবেন- এমপি আনোয়ারুল হক
সমাজ থেকে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদক ও জোয়ার ব্যাপারে আমার দলের কেউ সুপারিশ করলে, তার বিরুদ্ধেও মামলা দিবেন। নেত্রকোনার বারহাট্টায় মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সচেতনতামূলক বিট পুলিশিং সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডাক্তার আনোয়ারুল হক এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। 'বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি' এই স্লোগানকে সামনে রেখে নেত্রকোনার বারহাট্টায় মাদক, জুয়া, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং ও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সচেতনতামূলক বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে। বারহাট্টা থানার আয়োজনে উপজেলা অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হল রুমে (৩ আগষ্ট) সোমবার বিকালে বারহাট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুকের সঞ্চালনায় ও নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো: তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক। সভাপতির বক্তব্যে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশি সেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিট পুলিশিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন উপ-পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার অফিসারকে বিট অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। আপনারা পুলিশকে তথ্য দিন, আমরা আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। চোরা-চালান, মাদক, বাল্যবিবাহ, মুক্ত সমাজ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বারহাট্টা সার্কেল) সাব্বির হাসান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সাজেদুল ইসলাম, বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাংবাদিকবৃন্দ এবং জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি গ্যারেজে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট তাৎক্ষনিক উপস্থিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ফায়ার স্টেশনে রাত ৯টায় আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস টিম এবং সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ সাইফুজ্জামান (বিএফএম) জানান, হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের পশ্চিম পাশে গ্যারেজে অ্যাম্বুলেন্সটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। অ্যাম্বুলেন্সটির পাশেই বিভিন্ন আকারের বেশ কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডার সংরক্ষিত ছিল। সিলিন্ডারগুলোর উপস্থিতির কারণে আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়া স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে ভিন্ন রূপ ধারণ করেছিল। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির বিষয়টি অনুধাবন করে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা পানির পরিবর্তে বিশেষ 'ফোম' ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। ফোম ব্যবহারের ফলে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আরও জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা কিছু ব্যাটারি, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অ্যাম্বুলেন্স গাড়ির নাম্বার ঢাকা মেট্রো ছ ৭১-৩০০ অ্যাম্বুলেন্সসহ এবং গ্যারেজ বিল্ডিংয়ের কাঠামোগত কিছু ক্ষতি দৃশ্যমান হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ কুদরত-ই-খুদা গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে গণমিছিল বাস্তবায়নে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের মতবিনিময়
ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত গণমিছিল সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গাজী মোঃ মাহবুবুর রহমান-এর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন ১১ দলীয় ঐক্য, বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌরসভার নেতৃবৃন্দ। মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা মজলিসে শুরার অন্যতম সদস্য, বিশ্বনাথ উপজেলা আমীর, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং ১১ দলীয় ঐক্য বিশ্বনাথ উপজেলা ও পৌরসভার সমন্বয়ক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মতিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিশ্বনাথ উপজেলা নায়েবে আমীর ও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মাস্টার ইমাদ উদ্দিন, বিশ্বনাথ পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমীর আব্দুস সোবহান মেম্বার, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিশ্বনাথ পৌরসভা আহ্বায়ক মোঃ সাইফুল আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ব
সালিশের মারধরে আহত যুবকের মৃ/ত্যু, বিচার দাবিতে লা/শ নিয়ে সড়ক অবরোধ
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সালিশি বৈঠককের রায় অমান্য করায় মারধরের আহত যুবকের মৃত্যু। মামলা নেয়ার দাবিতে নিহত ফিরোজ হোসেনের (২০) লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টা থেকে ২ ঘন্টা ব্যাপী লাশ নিয়ে তার বাড়ির সামনে পাটগ্রাম উপজেলা সদরের আন্তঃজেলা মোড়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা। পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার (১ আগস্ট) পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত একটি সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত অমান্য করার অভিযোগে ফিরোজ হোসেনকে তার বাড়িতে গিয়ে মারধর করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার অপমান সহ্য করতে না পেরে তিনি বিষপান করেন। পরে তাকে প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় সোমবার তার মৃত্যু হয়। মারধরের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে নিহতের পরিবারের সেই অভিযোগ গ্রহন করেনি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। তবে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ উঠে খোদ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। মামলা নিতে ও অপরাধিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তার লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা গিয়ে মামলা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে দুই ঘন্টা পরে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পাটগ্রাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাফিউল ইসলাম সামলু, ছাত্রদল নেতা স্বাধীন, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা শাহীন সাই, তার ছেলে তুহীনসহ আরও কয়েকজন একটি শালিস বৈঠক করেন। সেখানে ফিরোজকে দোষি করে জরিমানা করা হয়। সেটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত শনিবার অভিযুক্তরা তার বাড়িতে গিয়ে মারধর করেন। এ অপমান সহিতে না পেয়ে অসুস্থ্য শরীর নিয়ে কীটনাশক পান করেন ফিরোজ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্নগোপনে থাকায় তাদের মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, আগে অভিযোগ না দিলেও রাত ৯টার দিকে নিহতের পরিবার অভিযোগ দিতে এসেছেন। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে রংপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ লাশের ময়নাতদন্ত করতে পারেন।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্বর্ণসহ যাত্রী আটক
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর অন্তর্বাস থেকে বিশেষ কৌশলে লুকানো ‘গোল্ড পেস্ট’ ও স্বর্ণালংকার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সোমবার (৩ আগস্ট) কাস্টমস গোয়েন্দার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। পরে সন্ধ্যায় শাহ আমানত বিমানবন্দরের জনসংযোগ বিভাগ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (সিআইআইডি) একটি টিম বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেয়। সিআইআইডির সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিজিএফআই, এনএসআই ও কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা যৌথভাবে ওই যাত্রীর গতিবিধি নজরে রাখেন। আটক যাত্রীর নাম মোহাম্মদ তুষার (৩৩) । তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণের দিঘলগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৪৮ ফ্লাইট (দুবাই থেকে আগত। তার কাচে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম ‘গোল্ড পেস্ট’ এবং প্রায় ১০০ গ্রাম ওজনের ৫টি চুড়িসহ বিভিন্ন স্বর্ণালংকার। অন্যান্য জব্দ সামগ্রী পাসপোর্ট, স্মার্টফোন ও বোর্ডিং পাস। সোমবার সকালে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর কাস্টমস হলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় যাত্রী মোহাম্মদ তুষারের পরিহিত অন্তর্বাসে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার ও সোনার পেস্ট জব্দ করা হয়। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল জানান, জব্দ করা স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রাথমিকভাবে ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বর্ণের সঠিক ওজন ও পরিমাণ নিশ্চিত করতে স্বর্ণকার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
টেকনাফে মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত রোহিঙ্গা নারী আটক, এপিবিএনের অভিযান
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক রোহিঙ্গা নারীকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এর সি/৫ ব্লকে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এপিবিএন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উনচিপ্রাং এপিবিএন ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই (নিরস্ত্র) শাহীনুর ইসলামের নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান চালায়। অভিযানে ক্যাম্পের মহিলা মাঝির সহযোগিতায় নিজ বসতঘর থেকে ঝিনুক আরা (৩০) নামে ওই নারীকে আটক করা হয়। এপিবিএন জানায়, আটক ঝিনুক আরা উনচিপ্রাং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এর বাসিন্দা। তিনি ২০১৮ সালে টেকনাফ মডেল থানায় দায়ের হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে নিরাপত্তা স্কটের মাধ্যমে তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে এপিবিএন সূত্র নিশ্চিত করেছে।
মহালছড়িতে নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নতুন ভবন উদ্বোধন, জোনের উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্প ও ত্রাণ বিতরণ
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নতুন ভবন শুভ উদ্বোধন করেছেন মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আল জাবির আসিফ, পিএসসি। উদ্বোধন উপলক্ষে মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, এতিম শিশু এবং স্থানীয় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি বিনামূল্যের মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন এবং বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করেন। পাশাপাশি জোনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং স্থানীয় অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আল জাবির আসিফ, পিএসসি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সেনাবাহিনী সবসময় জনকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তার এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহালছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, মহালছড়ি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠিানে বক্তারা ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার, এতিম ও অসহায় শিশুদের কল্যাণ এবং মানবিক সহায়তামূলক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় শিক্ষা ও মানবিক সেবামূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ বছর ধরে নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। বর্তমান মহালছড়ি জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল আল জাবির আসিফ, পিএসসি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক তদারকি করেন। তাঁর সার্বিক দিকনির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে স্থবির হয়ে থাকা নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হয় এবং সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মাদ্রাসা ও এতিমখানাটির শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
নওগাঁর বদলগাছীতে যুবদল নেতার হাতের কব্জি কাটলো আওয়ামীলীগ কর্মী
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় এক যুবদল নেতা। অভিযোগ, প্রতিপক্ষের ধারালো হাসুয়ার কোপে তাঁর বাম হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত নেতার পাশাপাশি তাঁর মাও আহত হয়েছেন। দুজনই বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত হাসান রমন (৪২) ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচিত। অপরদিকে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আমেনা বেগম একই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, মিজানুর রহমান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং তাঁর স্ত্রী ওই ওয়ার্ডের সভানেত্রী। স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, জমির সীমানার আইল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে মিজানুর রহমানের হাসুয়ার কোপে হাসান রমনের বাম হাতের কব্জি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁর মা বিউটি বেগমও আহত হন। আহতের বাবা ও মামলার বাদী দুদু মিয়া অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান দাবি করেন, জমির আইল কেটে ফেলাকে কেন্দ্র করে হাসান রমনসহ কয়েকজন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। তাঁর হাতে থাকা ঘাস কাটার হাসুয়া ধস্তাধস্তির সময় আঘাত করে, এতে হাসানের হাতের কব্জি কেটে যায় বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ঘটনায় মামলা দায়েরের পর প্রধান দুই আসামি মিজানুর রহমান ও আমেনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ব্যানার ঘিরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনী চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ‘জুডিসিয়াল কিলিং’ শিরোনামে জামায়াতের পাঁচ নেতা ও বিএনপির এক নেতার ছবি সংবলিত একটি ব্যানার নিয়ে দুই সংগঠনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাদের দাবি, একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীরা শিবির নেতা মেহেদী হাসানসহ কয়েকজনকে মারধর করেন। ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রদর্শনীস্থলের সামনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানার সঙ্গে প্রক্টরের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে ইট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে শিবিরের নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেন এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে যান। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব বলেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল কর্মসূচি পণ্ড করার চেষ্টা করেছে এবং তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার জন্য তিনি ছাত্রদলকে দায়ী করেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা মো. ইয়ামিনের দাবি, যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার সরানোর দাবি জানানো হলে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমান আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কাজ করছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উজিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে উজিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ পালন করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় "বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনের প্রধান ফটকের সামনে বিলুপ্তপ্রায় সৌন্দর্যবর্ধক কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলী সুজা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উজিরপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ জাহিদ আলম, সদস্য সচিব সরদার সোহেল, সদস্য মাহাবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, মোঃ সোহাগ হাওলাদার, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মহসিন মিয়া লিটন, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শরিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ কাওছার হোসেন রাড়ী, দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম আসাদ, সদস্য খলিলুর রহমান, উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ মারফুদুল হক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র কর্মকার, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন, মোঃ রেজাউল, নিখিল পাড়, মোঃ রুহুল আমিন। এছাড়াও সাংবাদিক মোস্তফা জামান সুমন, জাহিদ হাসান রানাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলী সুজা বলেন, "পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের কোনো বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং সেগুলোর পরিচর্যার দায়িত্বও নিতে হবে। উজিরপুর প্রেসক্লাবের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সমাজের অন্যান্য সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।" উজিরপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ জাহিদ আলম বলেন, "সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিবেশ সংরক্ষণেও সাংবাদিকদের ভূমিকা থাকা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই আমাদের এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। একটি গাছ শুধু ছায়া বা ফলই দেয় না, এটি মানুষের জীবন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ এবং তা পরিচর্যার আহ্বান জানাই।" দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় মারকাযুল কারিম সালেমা মজিদ কওমি মাদ্রাসা, শিকারপুর জিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শোলক এম. এ. রশিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোনার বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৮৫ নম্বর মার্দাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুসলিম পাড়া জামে মসজিদ, আদর্শ গ্রাম জামে মসজিদ, চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদ, ঠাকুরহাট জামে মসজিদসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করা হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির শেষে উজিরপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রতি পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তারা বলেন, একটি সবুজ, সুন্দর ও দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রত্যেক নাগরিকের উচিত নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করা এবং রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগই পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ উপহার দিতে।
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির মাগুরা জেলা কমিটি গঠন
বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (বিজেপিসি)-এর মাগুরা জেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে স্টার নিউজের মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ ইউনুছ আলী-কে সভাপতি এবং সিএনআই এর মাগুরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ আলী আশরাফ-কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা কমিটিতে বিভিন্ন পদে স্থানীয় সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে বিকাশ বাছাড়কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি কার্যনির্বাহী সদস্য পদেও একাধিক সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, অধিকার রক্ষা, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই হবে এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। নবগঠিত জেলা কমিটির সদস্যরা সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মাগুরায় সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সংগঠনের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
নোবিপ্রবিতে দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের ভিড়
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ফটোগ্রাফি ক্লাবের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ‘বাংলা দর্পণ সিজন-৭’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২ ও ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আলোকচিত্রী, শিক্ষার্থী এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। সোমবার (৩ আগস্ট) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, "ফটোগ্রাফি শুধু একটি শিল্পমাধ্যম নয়, এটি সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও প্রকৃতির নান্দনিক দলিল। একজন আলোকচিত্রী একটি ছবির মাধ্যমে মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং সমাজের বাস্তবতাকে এমনভাবে তুলে ধরতে পারেন, যা অনেক সময় হাজার শব্দেও প্রকাশ করা সম্ভব হয় না।" তিনি আরও বলেন, তরুণ আলোকচিত্রীদের উচিত প্রকৃতিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং সমাজের ইতিবাচক ও বাস্তব চিত্র ক্যামেরাবন্দি করা। এতে ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামও বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতেও ফটোগ্রাফি ক্লাবের এমন সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং নোবিপ্রবি ফটোগ্রাফি ক্লাবের উপদেষ্টা ও সমাজকর্ম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সিফাত-ই-মান্নান। প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী আশরাফুল ইসলাম শিমুল। আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় ১,১০০টি আলোকচিত্র জমা পড়ে। সেখান থেকে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৬৪টি সেরা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, জীবনসংগ্রাম, ঐতিহ্য, সমসাময়িক বাস্তবতা এবং মানবিক নানা গল্প ফুটে ওঠে নির্বাচিত আলোকচিত্রে। দর্শনার্থীদের জন্য প্রদর্শনীতে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ‘জুলাই কর্নার’ এবং একটি ফটোবুথ স্থাপন করা হয়, যা ব্যাপক সাড়া ফেলে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং আলোকচিত্রপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রদর্শনী প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের শেষে জাতীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। আয়োজকরা জানান, ‘বাংলা দর্পণ’ কেবল একটি আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা নয়; এটি নতুন প্রজন্মের আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের কাজ তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ভবিষ্যতেও এ আয়োজন আরও বৃহত্তর পরিসরে অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
কালীগঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মালামাল ক্রয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছর জুনে যোগদানের পর থেকেই কোনো মালামাল ক্রয় না করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে তিনি কয়েক লাখ টাকা পকেটস্থ করেছেন বলে জানা গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার, মনিহারি বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার ও ৫০ হাজার, সেপটিক ট্যাংকি পরিষ্কারে ৩০ হাজার, আসবাবপত্র মেরামত ও ক্রয়ে যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ৫৫ হাজার, কম্পিউটার মেরামতে ৪৫ হাজার, স্ট্যাম্প-সিলে ২২ হাজার, অফিস সরঞ্জামে ১৩ হাজার এবং পরিষ্কার সামগ্রীতে ৮ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ বিধি অনুযায়ী ব্যয় করা হয়নি। স্টোরের দায়িত্বে থাকা হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মাহবুবুর রহমান বিল-ভাউচারের কেনাকাটার কোনো মালামাল দেখাতে পারেননি। সরজমিনে পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর অভাবে হাসপাতালে নোংরা পরিবেশ দেখা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডা. মামুন যোগদানের পর প্রশাসনিক ও সেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। নিয়মিত সময়মতো অফিসে না আসা, অধস্তন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও দালাল-ফার্মাসিউটিক্যালস প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য রুখতে তিনি উদাসীন। এমনকি চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অরুণ কুমার দাস অফিস ফাঁকি দিয়ে বাইরে কাজ করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে তার প্রচার চালানো হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আদায় এবং রোগীদের থেকে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তিনি চেপে যান। হিসাব রক্ষক আব্দুল আজিজ জানান, তাকে হিসাবের সব কাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। সম্প্রতি এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে মারধরের ঘটনার পেছনেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে ডা. আমানউল্লাহ আল মামুনের মুখোমুখি হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে জানান, কেনাকাটার বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের প্রমাণ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, অনিয়ম-দুর্নীতি প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কালীগঞ্জ হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান ফেরাতে দুর্নীতিগ্রস্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সুধীসমাজ।