হরিণাকুণ্ডুে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা :
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে এক ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এক সন্দেহের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলামকে মারধর করা হয়। রকিবুল ইসলাম ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বজলুর রহমানের ছোট ভাই।
এই ঘটনারই রেশ ধরে আজ শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান (আওয়ামী লীগ) এবং সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান (বিএনপি)-এর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের যারা আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), মিজান আলী (৪৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), মতিয়ার রহমান (৫০), আক্তার মোল্লা (৩২), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), বরকত মোল্লা (৪০), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার মেম্বার (৪২), গোলাপফার (৪৯), তোজিবার মোল্লা (৬৫), কবির মন্ডল (৩০), রুবেল মন্ডল (৩২), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪) এবং বাচ্চু মিয়া (৩২)।
হাসপাতাল সূত্র জানায়: আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৫ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন:
"একটি অত্যন্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের প্রায় ৬-৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।"
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় জানান:
"ঘটনাটি শোনার পরপরই বোয়ালিয়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষের কাছ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"