হামলা
রাউজান প্রেস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জুয়েল বড়ুয়ার ওপর সন্ত্রাসী হামলা
চট্টগ্রাম নগরীর বিবিরহাট কাঁচা বাজারের ২ নম্বর গলিতে দৈনিক নববাণী পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরোচীফ, বিজয় টিভির হাটহাজারী প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম রিপোর্টারস ফোরামের সদস্য এবং রাউজান প্রেস ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক জুয়েল বড়ুয়ার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ হামলা হয়। অভিযুক্ত একই এলাকার মৃত রহমান ড্রাইভারের ছেলে মো. পিন্টু। থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, রাস্তায় ফুটবল খেলতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে পিন্টু অতর্কিতভাবে জুয়েল বড়ুয়ার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। একপর্যায়ে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। ঘটনার রাতেই ভুক্তভোগী সাংবাদিক পাঁচলাইশ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
মাদকের প্রতিবাদ করায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তারেকের ওপর হামলা
গাইবান্ধা শহরে পলাশপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা তারেকুজ্জামান তারেক-এর ওপর এক মাদক ব্যবসায়ী বার্মিজ ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এবং ভুক্তভোগীর দাবি, সদর থানার ওসি ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওসিকে একাধিকবার মাদক ব্যবসার বিষয়ে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, পলাশপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এলাকা থেকে গাইবান্ধা ক্লিনিক পর্যন্ত প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চলে। তারেক এর প্রতিবেশী আতিকুর রহমান আল আমিন মুঠোফোনে জানান পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তারেকের ছোট ভাই আরিফ বড় ভাইকে ছুড়িকাঘাত করেছে। তবে ছোট ভাই আরিফ নেশাগ্রস্ত। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সাতক্ষীরায় ঘের ও জমি জবরদখলের চেষ্টা, সন্ত্রাসী হামলায় ২ যুবক গুরুতর আহত
সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার ৮ নম্বর ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আফসার আলী গাজীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক অন্যের ভোগদখলীয় জমি ও মৎস্য ঘের জবরদখল এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ জুলাই (২০২৬) ঘটা এই বর্বরোচিত হামলায় জমির প্রকৃত মালিকপক্ষের স্বাধীন হোসেন ও আশানুর নামের দুই যুবক মধ্যযুগীয় কায়দায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার দাদপুর গ্রামের তিন ভাই—হাজী আনিসুর রহমান, নজরুল ইসলাম ও জাফর আলী—২০০৭ সালে কালিগঞ্জ থানার দমদমা মৌজার খতিয়ান নম্বর ১৩৭, দাগ নম্বর ২৫-এর জমিটি এসএ রেকর্ডীয় মালিক কুলসুম বিবির নিকট থেকে ক্রয় করেন। জমির মালিকানা দাবি করে একই বছর আদম আলী গাজীর পুত্র বিএনপি নেতা আফসার গাজী আদালতে মামলা দায়ের করলে ২০১১ সালে আদালত ক্রেতাদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালেও আদালত আফসারের অভিযোগ ভিত্তিহীন ঘোষণা করে পুনরায় ক্রেতাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। রায়ের প্রেক্ষিতে জমির মিউটেশন (নামজারি) ও খাজনা পরিশোধ সম্পন্ন করে মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখল ও মৎস্য চাষ করে আসছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে পুঁজি করে ভাড়াশিমলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আফসার আলী গাজী পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তার ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে অবৈধভাবে জমি জবরদখলের চেষ্টা চালান এবং উল্টো আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত কালিগঞ্জ থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিলে তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জমিতে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু আফসার মেম্বার প্রশাসনের সেই নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে ঘেরের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মাছ লুটে নেন, পাশাপাশি ঘেরের ঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বেড়িবাঁধ কেটে দিয়ে আরও প্রায় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করেন। সে সময় বাধা দিতে গেলে মালিকদের মারধর ও খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়, যার সাক্ষী স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম ও লিটন পাড়। এই ঘটনায় কালিগঞ্জ থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করা হয়। এই জমি জবরদখলের বিষয়টি নিয়ে গত ২৯ মার্চ জাতীয় দৈনিক "আজকের খবর" এবং ৩০ মার্চ আঞ্চলিক পত্রিকা "দৈনিক পত্রদূত"-এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর গত ২০ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী জমির প্রকৃত মালিকগন। যা ২১ এপ্রিল বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর আফসার মেম্বার কিছুদিন নিরব থাকলেও অতি সম্প্রতি তিনি আবারও তার পুরনো জমি দখলের উন্মত্ত নেশায় মেতে ওঠেন। সর্বশেষ গত ৩ জুলাই (২০২৬) আফসার আলী গাজী সরকারদলীয় পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমি দখলের উদ্দেশ্যে তার নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের লেলিয়ে দেন। তারা দা, কোদাল, শাবল ও বাঁশের মতো দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমির প্রকৃত মালিকপক্ষের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালান। হামলার শিকার হয়ে নজরুল ইসলামের পুত্র স্বাধীন হোসেন এবং তার ভাগিনা আশানুর জীবননাশের আশঙ্কায় গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসকের সূত্রে জানা যায়, আঘাত আর কিছুটা গভীর হলেই তাদের দুজনেরই জীবননাশের শঙ্কা ছিল। তিন দিন চিকিৎসা শেষে গত ৫ জুলাই আক্রান্ত দুই যুবক বাড়ি ফিরলে আফসার গাজীর পক্ষ থেকে নতুন করে হুমকি-ধামকি শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। থানায় যেন কোনো প্রকার পুলিশি মামলা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, সেজন্য রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি হামলার সময় স্থানীয় মানুষের মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিওচিত্র যেন কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত না হয়, সে ব্যাপারেও কঠোর হুঁশিয়ারি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় একের পর এক জমি জবরদখল ও চাঁদাবাজির মামলার মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে হয়রানিকারী এই প্রভাবশালী নেতার হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং নিজেদের জমি ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী।
নওয়াপাড়ায় সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রশাসন কে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
যশোরের অভয়নগরে জাতীয় দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের যশোর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ আবুল বাশারের ওপর ককটেল (হাত বোমা) নিক্ষেপের ঘটনায় উত্তাল যশোর, অভয়নগর, নওয়াপাড়ার সাংবাদিক মহল। হামলাকারীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা ও হুশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। যশোরের নওয়াপাড়ায় সাংবাদিক আবুল বাশারের ওপর ককটেল (হাত বোমা) হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ। আজ দুপুরে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিক মোঃ আবুল বাসার একজন সাহসী প্রতিভাবান, তার কলমে সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধ অনুসন্ধানি রিপোট প্রকাশ পায়, তিনি যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন এর সদস্য, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলা আমরা সাংবাদিক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নিবো না। সভায় বক্তারা বলেন, আজ আবুল বাশারের ওপর হামলা হয়েছে, আগামীকাল যে আমাদের ওপর হবে নাতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। এ সময় বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একইসঙ্গে প্রশাসন কে হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা। নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের অভয়নগর ইউনিট প্রধান ও দৈনিক প্রভাতফেরীর নির্বাহী সম্পাদক হারুণ অর রশীদ, ডেপুটি ইউনিট প্রধান মোঃ কামরুল ইসলামসহ প্রেসক্লাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া এটিএন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার নজরুল ইসলাম মল্লিকসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সংহতি জানিয়ে সভায় উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা।
পলাশবাড়ীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ১৩
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর জুনদহ বাজারে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বে মীমাংসিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলের দুই ভাগ্নে কাকন ও নিরন বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের কর্মী এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিনকে মারধর করেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল, ৪ নম্বর বরিশাল ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি মিল্লাত সরকার মিলন, পলাশবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহীন, সাধারণ সম্পাদক তাবিজ, জবা, ডাবলু, শহীদ জিয়ার ১৯ দফা বাস্তবায়ন পরিষদের গাইবান্ধা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান মনা, জাকিরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষের পর রাতে পলাশবাড়ী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আজহারুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় তাঁর পিতা আবুল আলা মওদুদ এবং জামায়াতের কর্মী মিজান আহত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা এ হামলা চালান। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোন আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আহতদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে আশরাফুল ইসলাম, মিল্লাত সরকার মিলন ও শামিম রেজা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের পর জুনদহ বাজারে উভয় পক্ষের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত তৎপরতা চালাচ্ছে। পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ারী আলম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হরিণাকুণ্ডুে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে এক ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এক সন্দেহের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলামকে মারধর করা হয়। রকিবুল ইসলাম ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বজলুর রহমানের ছোট ভাই। এই ঘটনারই রেশ ধরে আজ শনিবার সকালে বোয়ালিয়া গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান (আওয়ামী লীগ) এবং সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান (বিএনপি)-এর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের যারা আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন— ছানোয়ার হোসেন ছনো (৫৫), মিজান আলী (৪৫), বিভান আলী (২২), ঝন্টু মিয়া (৪৫), মতিয়ার রহমান (৫০), আক্তার মোল্লা (৩২), রাশিদুল ইসলাম (৩৫), বরকত মোল্লা (৪০), ফেন্টু মিয়া (৫০), মশিয়ার মেম্বার (৪২), গোলাপফার (৪৯), তোজিবার মোল্লা (৬৫), কবির মন্ডল (৩০), রুবেল মন্ডল (৩২), কাবিল (৪০), তোতা মিয়া (৩৪), নুর আলী (৫৪) এবং বাচ্চু মিয়া (৩২)। হাসপাতাল সূত্র জানায়: আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৫ জনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে এবং ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও পুলিশের পদক্ষেপ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন: "একটি অত্যন্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমাদের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের প্রায় ৬-৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।" তবে এই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় জানান: "ঘটনাটি শোনার পরপরই বোয়ালিয়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষের কাছ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা
কালীগঞ্জ উপজেলার আড়পাড়ায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় মো. আনোয়ার হোসেন নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন)রাত সাড়ে ১২টার দিকে আড়পাড়া এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জের আড়পাড়া এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ী এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষার্থে এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে অবসরপ্রাপ্ত এএসপি আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাদক কারবারিদের একটি দল প্রকাশ্যে অপকর্ম করার সময় তিনি পুনরায় বাধা দিলে, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও পেটাতে থাকে। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তার চিৎকার ও আশপাশের লোকজনের ছুটে আসতে দেখে হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে অবিলম্বে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একজন সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা যদি মাদক নিয়ে প্রতিবাদ করে নিজ এলাকায় এভাবে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এমন প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। একজন সাবেক পুলিশ সুপারের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এই বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িত অপরাধী ও মাদক কারবারিদের চিহ্নিত করে দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে চিহ্নিত সকল মাদক ব্যবসায়ী ও হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।