বিশ্ববিদ্যালয়
JKKNIU-SDC এর ‘Industry Visit 3.0’ সফলভাবে অনুষ্ঠিত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় স্স্কিল ডেভেলপমেন্ট ক্লাব (JKKNIU SDC)-এর আয়োজনে Industry Visit 3.0 সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীরা ঢাকার শ্যামপুর, কদমতলীতে অবস্থিত Igloo Ice Cream Factory পরিদর্শন করেন। এই ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে মোট ৩৫ জন অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ছিলেন ৩২ জন শিক্ষার্থী এবং ক্লাবের ৩ জন সাবেক ও ট্রাস্টি বডি সদস্য— জাহিদুল হাসান (সাবেক সভাপতি), মনিরুল ইসলাম (সাবেক সাধারণ সম্পাদক) এবং লুৎফুল নাসিফ (সাবেক সাধারণ সম্পাদক)। পরিদর্শনের সময় অংশগ্রহণকারীরা Igloo Ice Cream Factory-এর বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং আইসক্রিম উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন। ফ্যাক্টরির আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা, মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া (Quality Assurance), স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। সেশনের প্রধান বক্তা ছিলেন এ. কে. এম. আলী রেজা, Assistant General Manager (QA), Igloo Ice Cream Factory। তিনি Igloo-এর উৎপাদন প্রক্রিয়া, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, বিভিন্ন পণ্যের বৈচিত্র্য এবং খাদ্যশিল্পে ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ধরনের ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব শিল্পপরিবেশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন, কর্পোরেট সংস্কৃতি বোঝা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। JKKNIU Skill Development Club শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, বাস্তবমুখী শিক্ষা এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করবে।
জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সেই তিন শিক্ষক, আজ তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে
দুই বছর আগের সেই উত্তাল জুলাই। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, তখন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শহীদ মিনার প্রাঙ্গণও হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের প্রতীক। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির ঘটনার বিরুদ্ধে যখন অধিকাংশ শিক্ষক নীরব ছিলেন, তখন মাত্র তিনজন শিক্ষক প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিপীড়নবিরোধী সমাবেশ করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই তিন শিক্ষকই আজ দেশের তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা হলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁরা শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানান এবং নিপীড়নের প্রতিবাদে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন। সেই সময় আন্দোলন ঘিরে দেশে একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ও প্রাণহানির খবর আসছিল বিভিন্ন স্থান থেকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কিংবা ব্যক্তিগত ঝুঁকির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও এই তিন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁদের ভাষায়, এটি ছিল একজন শিক্ষকের নৈতিক দায়িত্ব পালন। দুই বছর পর ফিরে তাকালে দেখা যায়, তাঁদের তিনজনই এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন। আন্দোলনের পর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ প্রথমে নোবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমানে তিনি লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার সম্প্রতি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হানিফ মুরাদ বলেন, ঐসময় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমে গিয়েছিল , এক পর্যায়ে তারা সব শিক্ষকদের মেইল করে অনুরোধ করে ওদের সাথে থাকার জন্য। আমরাও আগে থেকে প্রিপারেশন নিচ্ছিলাম এরপর ওদের মেইল পেয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমরাও ওদের সাথে গিয়ে আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করবো। বিশেষ করে আমি, জাহাঙ্গীর স্যার, শফিক স্যার আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেই। তিনি আরও বলেন , তখন আমরা কোনো কিছু পাওয়ার প্রত্যাশায় আন্দোলনে নামিনি। আমার অনুভূতি ছিলো আমরা তো শিক্ষক আমাদের ছাত্রদের উপর নির্মম অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। তিনি বলেন, একজন শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে থাকা যতটা ইম্পর্ট্যান্ট, যৌক্তিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা মারা যাচ্ছে তখন তাদের পাশে থাকা আরো বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। এতে আমরা চাকরিচ্যুত হওয়া, এরেস্ট হওয়া এবং মেরেও ফেলতে পারতো এগুলো নিয়ে চিন্তা না করে আন্দোলনে ছাত্রদের পাশে দাড়াই। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শহিদ মিনারের সামনে দাড়িয়েছি যখন দেখেছি আমাদের ছাত্রদের দাবি ন্যায্য, তারা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছিলো তখন তাদের উপর গুলি ছোড়া হচ্ছিলো, তাদের উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছিলো। বিশেষ করে আবু সাঈদকে যখন গুলি করে হত্যা করা হয় তখন আমরা ছাত্রদের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করি। ঐসময় এই চিন্তা করিনি আমাদের চাকরি চলে যাবে আমাদের ক্ষতি হবে বা এরকম কিছু। তিনি জানান, আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলনে রাজপথে ছিলাম। আমাদের ১৯৭১ এ জন্ম হয়নি দেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি, আমার জীবদ্দশায় ভবিষ্যতে আবার যদি কখনো দাড়াতে হয় দেশের জন্য আবারো দাড়াবো, ইনশাআল্লাহ। অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বলেন, আমি আন্দোলন করেছি একটি বৈষম্যবিরোধী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, প্রত্যেকে প্রত্যেকের অধিকার ফিরে পাক। এর জন্য যে আমাকে কিছু পেতে হবে তাই আন্দোলন করিনি। ছাত্র সমাজের উপর হামলা, সারাদেশে গুম, খুন, হত্যা এর প্রতিবাদে ঐ সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। তিনি বলেন, আমি একটি বিষয় ধারণ করি; আজকের ছাত্র আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এজন্য আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে যতটুকু করার আমি করি। দায়িত্ব পেয়েছি এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, সরকারকেও ধন্যবাদ। দায়িত্ব পাওয়াই বড় কথা নয় এই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারাই মূল বিষয়। দুই বছরের ব্যবধানে নোবিপ্রবির শহীদ মিনারের সেই ছোট্ট প্রতিবাদ আজ ইতিহাসের একটি অধ্যায় হয়ে আছে। সেই সমাবেশে উপস্থিত তিন শিক্ষক এখন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের অংশ। তাঁদের এই পথচলা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং সংকটময় সময়ে নৈতিক অবস্থান, শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবারও একটি উপলক্ষ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘স্মৃতিতে জুলাই’ শীর্ষক দিনব্যাপী আয়োজন ১ আগস্ট
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) আগামী ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ‘স্মৃতিতে জুলাই’ শীর্ষক একটি দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে থাকবে ফটো এক্সিবিশন, লাইভ ক্যানভাস পেইন্টিং, ওপেন ক্যানভাস ‘জুলাই স্বাক্ষর’, মিরর ইনস্টলেশন, বই প্রদর্শনী এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, স্মৃতি ও তাৎপর্যকে ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে জানতে ও অনুভব করার সুযোগ পাবেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
ড. শফিকুল ইসলাম কি প্রো-ভিসি নাকি নোবিপ্রবি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিএনপির সভাপতি?
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অন্যতম সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সভাপতির পদে বহাল রয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পূর্ণকালীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে দলীয় শিক্ষক সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা এবং সভাপতি হিসেবে তার স্বাক্ষরিত কিছু বিজ্ঞপ্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য একটি স্বায়ত্তশাসিত, পূর্ণকালীন ও নীতি-নির্ধারণী প্রশাসনিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু তিনি সরাসরি দলীয় শিক্ষক সংগঠনের সভাপতির পদে আসীন থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ‘স্বার্থের সংঘাত’ এড়ানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার পদে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার বা মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রদান করেন। ফলে তাঁরা সরকারি পদের প্রশাসনিক মর্যাদা ধারণ করেন। সরকারি কর্মকর্তা (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর বিধি ২৫(১) এ বলা আছে "কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক কাজ করে এমন কোনো সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে তার সঙ্গে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করতে পারবেন না।" এছাড়াও , বিধি ২৫(২) এ বলা হয়েছে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকা কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের প্রচার-প্রচারণা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা দলীয় পদের দায়িত্ব সামলাতে পারবেন না। তাছাড়া ,বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও ইউজিসি অনুযায়ী, ভিসি (উপাচার্য), প্রো-ভিসি (উপ-উপাচার্য) এবং ট্রেজারার (কোষাধ্যক্ষ) পদগুলো হলো সার্বক্ষণিক প্রাধিকারভুক্ত প্রশাসনিক পদ।একজন সাধারণ শিক্ষক ক্লাসের বাইরে শিক্ষক রাজনীতি করতে পারলেও, তিনি যখন ইউজিসি ও সরকারের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে 'প্রো-ভিসি' হিসেবে দায়িত্ব পান, তখন তাঁর প্রধান আইনি বাধ্যবাধকতা হয় সার্বক্ষণিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর জন্য নিরপেক্ষ অভিভাবক হিসেবে কাজ করা। দলীয় শিক্ষক সংগঠনের যেকোন পদে বহাল থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক উপ-উপাচার্যের দায়িত্বে থাকলে সরাসরি 'Conflict of Interest' বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়। এছাড়াও , ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় দেশের তৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় নোবিপ্রবিতে রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে। ওই আদেশে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ,কর্মকর্তা, কর্মচারীর নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠন, সহযোগী সংগঠন, অঙ্গ সংগঠন বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে সম্পৃক্ত হয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন না। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ধরনের দলাদলি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়াও , নোবিপ্রবি আইন ২০০১-এর ধারা ৪৭ (৫) ও (৬) এর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রশাসনের ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচারেও অংশ নিতে পারবেন না। তবে এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, "এটা তো কোনো দলীয় রাজনৈতিক দল না। আমরা এমনিতেই আমাদের সাদাদলের পক্ষ থেকে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি "। তিনি আরও বলেন , এ ব্যাপারে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনিক পদে থেকে এধরনের সংগঠনের সাথে যুক্ত না থাকাই ভালো"
মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষির ওপর নোবিপ্রবিতে সেমিনার
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেঘনা অববাহিকায় ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি: গবেষণা ও উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। মুখ্য আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। এছাড়াও নোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিন এবং নোয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোসাম্মৎ শওকত আরা কলি উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, "দেশে জলবায়ু ও কৃষি নিয়ে এ ধরনের গবেষণা এখনও তুলনামূলকভাবে কম এবং গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নও সহজে পাওয়া যায় না। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য ও বন্যার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের গবেষণা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান"। মুখ্য আলোচক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নোবিপ্রবির এ প্রকল্পটি দেখেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প পরিচালককে উৎসাহিত করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য নিরাপত্তা বর্তমানে আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এখনই জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন এবং আধুনিক, অভিযোজন সক্ষম কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রথাগত কৃষি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান। সেমিনারে প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করে প্রকল্প পরিচালক জানান, "সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা ও এর বহুমাত্রিক প্রভাব, কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মিটিগেশন ও অ্যাডাপটেশন কৌশল, মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে ভবিষ্যতে সয়াবিন ও বার্লি চাষের সম্ভাবনা এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়"। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে আয়োজিত এ সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
বহিরাগত শিক্ষককে ট্রেজারার করার পরিকল্পনা: নোবিপ্রবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনের নাম আলোচনায় আসার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে নোবিপ্রবির ট্রেজারার পদে নিয়োগের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতি রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। গত ৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হানিফ মুরাদ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ট্রেজারারের পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকেই পদটি পূরণে নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের নাম সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, নোবিপ্রবির আগের দুইজন ট্রেজারারই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক ছিলেন। ফলে এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে অনেকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাইরে থেকে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ সেই প্রত্যাশায় ভাটা ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা এবং অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে ট্রেজারার পদের জন্য তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন। বর্তমানে অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক। গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় স্বীকৃতি ও গবেষণা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক প্রশাসন পরিচালনায় তাঁর বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত বলেও মত সংশ্লিষ্টদের। এ ছাড়া আলোচনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফিসারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স(ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মহিনুজ্জামান, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস(এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক রাকিব-উল ইসলাম। অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের অন্যতম সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনিও আলোচনায় ছিলেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ সোচ্চার হয়েছেন। তাদের মতে, দুই দশক পূর্ণ করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও বারবার বাইরে থেকে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নেতৃত্ব বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, নিজস্ব শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় সহজ হয়। কিন্তু যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়ন না করায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেস (আইআইএস)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সালাম এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বিশ বছর। শিক্ষা ও গবেষণায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমসাময়িক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগিয়ে। ইতোমধ্যেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করছে। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক দক্ষতারও ছাপ রেখে চলেছেন। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অতীতের ট্রেজারার স্যাররা, যারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ পেয়েছিলেন।" তিনি আরও লেখেন, "বর্তমানেও ট্রেজারার হওয়ার যোগ্য অনেক অধ্যাপক এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন। তাই অতীতের ন্যায় এবারও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ হোক—এটাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দাবি বলে আমি বিশ্বাস করি।" ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট(টিএইচএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জামশেদুল ইসলাম তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, "নিজেদের যোগ্য ও ত্যাগী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বাইরের কাউকে দায়িত্ব দিলে তা নোবিপ্রবির শিক্ষকদের জন্য অসম্মানের বিষয় হবে।" তিনি আরও লেখেন, "নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন শিক্ষক জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন এবং সাদা দল, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম কিংবা উটাব (UTAB)-এর মতো সংগঠনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি। নোবিপ্রবির নিজস্ব যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ট্রেজারার নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।" নোবিপ্রবি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক নুর হোসেন বাবু তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "নোবিপ্রবির ট্রেজারার হওয়ার মতো এখনো দু'জন শিক্ষক আছেন যারা যোগ্য এবং ফ্যাসিস্ট নয় বরং বঞ্চিত এবং বিএনপির জন্য নিবেদিত। তাহলে তাদেরকে মূল্যায়ন না করে কেন ফ্যাসিবাদের দোসর ও লীগ নেতাদেরকে নিয়োগের চক্রান্ত চলছে? ছোট-বড় যারা অর্থ ও স্বার্থের কারণে এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন, তাদের সব অপকর্ম রেকর্ড হচ্ছে। সব ফাঁস হবে। সাবধান হয়ে যান।" তিনি আরও লেখেন, "আমাদের জোর দাবি হচ্ছে নোবিপ্রবি থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হোক।" অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, "আজ দল সরকারে, কিন্তু মূল্যায়িত হচ্ছেন কারা? যদি সত্যি দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হন এবং তাঁদের জায়গা দখল করেন অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা বা বিতর্কিত ব্যক্তিরা—তবে তা দল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগের।" তিনি আরও লেখেন, "যোগ্যতা, সততা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান ও ত্যাগকে যথাযথ গুরুত্ব দিন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।" সব মিলিয়ে, ট্রেজারার নিয়োগকে ঘিরে নোবিপ্রবির নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়নের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের প্রত্যাশা, এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজস্ব যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে জাবিতে হায়ার স্টাডি ক্লাবের ‘হায়ার স্টাডি ৩৬০°’ শীর্ষক দিন0ব্যাপী সেমিনার আয়োজন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হায়ার স্টাডি ক্লাবের উদ্যোগে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, গবেষণা, আইইএলটিএস প্রস্তুতি, ভিসা প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক আবেদন কৌশল নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বিশেষ সেমিনার ‘হায়ার স্টাডি ৩৬০°’। এক আয়োজনে দেশি-বিদেশি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক শিক্ষা পরামর্শ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ পাওয়া জাবির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি, আবেদন ও সফলতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। শনিবার (২৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। নিবন্ধন ও কুইজ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মাহদি হাসান। এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হয় কমনওয়েলথ স্কলারশিপ, EducationUSA, স্টিপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম, আইডিপি আইইএলটিএস মাস্টারক্লাস, স্মার্ট ইউনিভার্সিটি সিলেকশন, এমএক্সটি স্কলারশিপ, একাডেমিক সিভি রাইটিং এবং ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ-বিষয়ক সেশন। কমনওয়েলথ স্কলারশিপবিষয়ক সেশনে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ‘President's PhD Scholarship’ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিডসের ‘Commonwealth PhD Scholarship’ অর্জনকারী সহকারী অধ্যাপক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জনে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, সুস্পষ্ট একাডেমিক লক্ষ্য এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতির বিকল্প নেই। আবেদনকারীদের শুরু থেকেই গবেষণা ও প্রোফাইল গঠনে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে মাস্টার্স ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পাওয়া আকমল মাসুদ বলেন, সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণার অভিজ্ঞতা এবং সময়মতো প্রোফাইল প্রস্তুতিই তাঁকে সফলতা এনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আবেদন নিয়ে অনুষ্ঠিত EducationUSA সেশনে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনফরমেশন অফিসার ড. মারা বার্ড এবং এডুকেশন আউটরিচ কোঅর্ডিনেটর মুহাম্মদ সোহেল ইকবাল আবেদন প্রক্রিয়া, অর্থায়নের সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন ও প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আবেদন সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে স্টিপেন্ডিয়াম হাঙ্গেরিকাম স্কলারশিপ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনে পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে পিএইচডি এবং হাঙ্গেরির ইউনিভার্সিটি অব ডেব্রেসেনে স্কলারশিপপ্রাপ্ত মো. শাহরিয়ার ইসলাম। তিনি আবেদন কৌশল, প্রোফাইল গঠন এবং প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। দুপুরের বিরতির পর আইডিপি এডুকেশনের অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড অঞ্চলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মারিয়া (ডালিয়া) ফ্লোইন আইইএলটিএস প্রস্তুতি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP), স্কলারশিপ এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তাঁর ভাষ্য, ভাষাগত দক্ষতা ও শক্তিশালী SOP একজন আবেদনকারীর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরপর স্মার্ট ইউনিভার্সিটি সিলেকশন ও অধ্যাপকদের কাছে কার্যকর ই-মেইল লেখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন ফারহান আপন। একই পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের Wesleyan University-তে পূর্ণাঙ্গ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া মো. মেহেদী হাসান গবেষণা, ল্যাব অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন নিয়ে নিজের যাত্রার গল্প তুলে ধরেন। এমএক্সটি স্কলারশিপবিষয়ক সেশনে এস. এম. শাহরিয়ার আহমেদ জাপান সরকারের এ স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। আর একাডেমিক সিভি রাইটিং সেশনে এমএক্সটি স্কলারশিপপ্রাপ্ত গাজী ইশমাম হাসান বলেন, একটি সুসংগঠিত ও তথ্যসমৃদ্ধ একাডেমিক সিভিই অনেক সময় আবেদনকারীর সফলতার প্রথম ধাপ। তিনি কার্যকর সিভি তৈরির বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। দিনের শেষ সেশনে ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপ নিয়ে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া কবির। ইউরোপের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথ মাস্টার্সের সুযোগ পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শক্তিশালী গবেষণা-প্রোফাইল, মানসম্মত SOP এবং সুপারিশপত্র আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরস্কার বিতরণ, সনদ প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এ আয়োজন। সমাপনী বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হায়ার স্টাডি ক্লাবের সভাপতি আব্দুস সাফওয়ান বলেন, ‘হায়ার স্টাডি ৩৬০°’-এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ, গবেষণা, ভর্তি ও ভিসাসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্কলারশিপপ্রাপ্ত গবেষক ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একত্রিত করে শিক্ষার্থীদের জন্য বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার একটি সমন্বিত রোডম্যাপ তৈরি করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের আশা প্রকাশ করেন তিনি। #.....
জাবিতে হায়ার স্টাডি ক্লাবের আয়োজনে ‘হায়ার স্টাডি ৩৬০°’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার আগামীকাল
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহায়তা দিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) হায়ার স্টাডি ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন ‘হায়ার স্টাডি ৩৬০°’। আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে সংগঠনটি। আজ বৃহস্পতিবার সংগঠনটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আয়োজকরা জানান, দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মেক্সট (MEXT), কমনওয়েলথ এবং স্টিপেন্ডিয়াম হাংগেরিকামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ অর্জনের উপায়, আইইএলটিএস (IELTS) প্রস্তুতির কৌশল ও আবেদন প্রক্রিয়ার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টি থেকে সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ (ফুল ফান্ডিং) নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানো শিক্ষার্থীরাও এতে বক্তব্য দেবেন এবং সরাসরি নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে পরামর্শ দেবেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকায় অবস্থিত ইউএস এম্ব্যাসির অ্যাসিস্ট্যান্ট ইনফরমেশন অফিসার ড. মারা বার্ড (Dr. Mara Bird) ও এডুকেশন আউটরিচ কোঅর্ডিনেটর মুহাম্মদ সোহেল ইকবাল। এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষাসেবা সংস্থা ও আইইএলটিএসের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতিষ্ঠান ‘আইডিপি এডুকেশন’ থেকে যুক্ত থাকবেন সংস্থাটির আইইএলটিএস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর কে এম বি জামান এবং অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড অঞ্চলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মারিয়া ফ্লোইন। আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এই আয়োজনটি একটি কার্যকর ও সমন্বিত গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আয়োজক সংগঠনটি।
জাককানইবি কর্মচারী সমিতির সভাপতি বাআবিকফের যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) কর্মচারী কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআবিকফ) যুগ্ম আহ্বায়ক পদে মনোনীত করা হয়েছে। গত ১৪ জুন আহ্বায়ক কমিটির সভায় এই মনোনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই ফেডারেশনের সদস্য সচিব মো. আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল ইসলামকে জানানো হয়। চিঠিতে স্মারক নম্বর হিসেবে উল্লেখ করা হয়- বাআবিকফ/২০২৬/০১/০২(৬১)। চিঠিতে বলা হয়, নজরুল ইসলামের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সক্ষমতা, একাগ্রতা, সক্রিয়তা এবং নিঃস্বার্থ ও নিরলস কার্যক্রমের মাধ্যমে ফেডারেশনকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই আহ্বায়ক কমিটি তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। চিঠিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়, তিনি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে ফেডারেশনের স্বার্থে পালন করবেন। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বাআবিকফের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ও কাউন্সিলরবৃন্দ, দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সংগঠন এবং ফেডারেশনের নিজস্ব অফিস নথিতে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের কার্যালয় বুয়েটের টেকনিক্যাল এমপ্লয়েজ এসোসিয়েশনে অবস্থিত।
ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নে নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের কর্মশালা
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রেসক্লাবের উদ্যোগে নবীন প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য দিনব্যাপী সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অন রুমে আয়োজিত এ কর্মশালায় ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল সাংবাদিকতা এবং পেশাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়। নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা কামারুজ্জামান। কর্মশালায় মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন চ্যানেল ২৪-এর নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি হাসিব আল আমিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিলন হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মো. তৌফিকুল ইসলাম, অর্থ ও সম্পদ সম্পাদক জসীম উদ্দিন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান, কার্যনির্বাহী সদস্য হিমেল রানা ও মাহাতাব চৌধুরীসহ প্রেসক্লাবের প্রশিক্ষণার্থীরা। কর্মশালায় মূল বক্তা হাসিব আল আমিন বলেন, "সাংবাদিকতা রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তবে এই পেশা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেক সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের চাপ ও হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।" তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সাংবাদিকতার ধরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। একটি স্মার্টফোনের মাধ্যমেও এখন নাগরিক সাংবাদিকতা (Citizen Journalism) সম্ভব হচ্ছে। অনেক সময় নাগরিক সাংবাদিকদের তথ্য-উপাত্ত মূলধারার গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের উৎস হয়ে ওঠে। তবে যেকোনো তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "ভালো সাংবাদিক হতে হলে নিয়মিত সংবাদ পড়তে হবে, অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের লেখার ধরণ অনুসরণ করতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এই সময়ে যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে অবশ্যই তা যাচাই করতে হবে।" বিশেষ অতিথি কামারুজ্জামান বলেন, ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা অন্যান্য ধারার সাংবাদিকতার তুলনায় ভিন্ন। এখানে প্রতিটি সংবাদ প্রকাশে দায়িত্বশীলতা ও বস্তুনিষ্ঠতার পরিচয় দিতে হবে। কোনো অভিযোগভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, "কোনো বিষয় আইনবহির্ভূত মনে হলেই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। আগে বিষয়টি সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন ও তথ্য যাচাই করতে হবে। এরপরই সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।" প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, একসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংবাদিকতার প্রতি অনাগ্রহ থাকলেও বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন, যা গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সচেতনতার ইতিবাচক প্রতিফলন। তিনি বলেন, "সাংবাদিকতার মূল শক্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। কোনো তথ্য হাতে পেলেই তা সংবাদে প্রকাশ করা যাবে না। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিক—সবার জন্যই নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।" তিনি আরও বলেন, নোবিপ্রবির অনেক সাবেক শিক্ষার্থী বর্তমানে জাতীয় গণমাধ্যমে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষণার্থীরাও সততা, পেশাদারিত্ব ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সভাপতির বক্তব্যে নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, "একজন দক্ষ ক্যাম্পাস সাংবাদিক গড়ে তুলতেই এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সংবাদ লেখার কৌশল, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল সাংবাদিক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবেন-এটাই আমাদের প্রত্যাশা। নোবিপ্রবি প্রেসক্লাব ভবিষ্যতেও সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করবে।" কর্মশালায় সংবাদ লেখার কৌশল, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংবাদ উপস্থাপনা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শেষে প্রশিক্ষণার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
নোবিপ্রবির আবাসিক হলে দিন-দুপুরে চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি আবাসিক কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে হলের ৩২০ নম্বর কক্ষে এ চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, সকালে কক্ষে থাকা একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিষয়টি হল প্রশাসনকে জানানো হয়। এদিকে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হল প্রশাসন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করছে। তাই দ্রুত চোরকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানান তারা। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজতাবা ফয়সাল নাঈম বলেন, “আজ সকাল ৭টা ৪০ থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে রুম থেকে আমার ল্যাপটপ ও রুমমেটের ফোন চুরি হয়ে গেছে। বিভিন্ন ক্যামেরায় দেখা যায়, চোর সকাল ৭টা থেকেই হলের বিভিন্ন ফ্লোর ঘুরে দেখে এরপর তৃতীয় তলায় আমাদের রুমে ঢোকে। মাথায় ক্যাপ ও মুখে মাস্ক পরা একজন বহিরাগত ব্যক্তি ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ধরে হলে ঘুরে বেড়িয়েছে, অথচ কোনো নিরাপত্তা ছিল না। গেটে আনসার সদস্য ছিল না, সিসিটিভি ক্যামেরাও পর্যাপ্ত নয়।” তিনি আরও বলেন, “গত ৯টি সেমিস্টারের সব একাডেমিক ডকুমেন্ট, চলমান প্রজেক্ট ও গবেষণার বিভিন্ন ফাইল, ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, দুটি ম্যাগাজিনের সম্পাদিত লেখা, অসংখ্য ছবি, ভিডিও ও রেকর্ড ছিল ল্যাপটপে, যার অনেক কিছুরই কোনো ব্যাকআপ নেই। ল্যাপটপ উদ্ধার করা সম্ভব না হলে এগুলোর কোনোটিই ফিরে পাওয়া যাবে না। প্রশাসনের কী সীমাবদ্ধতা আছে, তা নিয়ে কথা বলছি না। ল্যাপটপের সঙ্গে এক মাস আগে কেনা একটি অফিসিয়াল ফোনও চুরি হয়েছে। তাই চাইলে ফোন ও ল্যাপটপ—দুটিই উদ্ধার করা সম্ভব। আশা করছি প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।” ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই খারাপ। আনসার সদস্যরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন না বললেই চলে। দিনের আলোতেই হল থেকে চুরির ঘটনা ঘটে, অথচ নিরাপত্তাকর্মীদের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায় না।” এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ বলেন, “চুরির ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করেছি। তদন্তের সুবিধার্থে তাদের একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছি। প্রক্টর মহোদয় আশা করি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।” এ বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠিত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে নতুন টিএসসি ভবনের অডিটরিয়ামে প্রথমবারের মতো এই অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। প্রধান অতিথি নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, মেধা আর পরিশ্রম দিয়েই তারা ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সবাইকে সমান চোখে দেখা উচিত এবং শুধু পড়াশোনা নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও দক্ষ হতে হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান। উপাচার্য বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান তৈরি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে স্মার্ট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান এবং শিক্ষার্থীদের বলেন, ভর্তি হওয়া দিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়নি, বরং এখান থেকেই আসল যাত্রা শুরু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে জানান, ২০০৫ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর মাত্র এক বছরের মধ্যেই ২০০৬ সালে এটি উদ্বোধন হয়। তিনি প্রতি বছর সমাবর্তন আয়োজনের আহ্বান জানান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও ওরিয়েন্টেশন উপ-কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পরিচালক (ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা) ড. মো. আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।এসময় নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের ফোল্ডার, নোটবুক, কলম ও একাডেমিক ক্যালেন্ডার দেওয়া হয়।
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন ও শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে আনন্দ র্যালি বের করে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। র্যালি শেষে আনন্দমুখর পরিবেশে প্রশাসনিক ভবন চত্বরে কেক কাটা ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসন উদ্দিন শেখর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। এসময় তিনি বলেন, নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা থাকার পরও আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও অ্যাওয়ার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। প্রথমবারের মতো ডিনস কমপ্লেক্স চালু করেছি। সেই সাথে গবেষণাগার সমৃদ্ধিকরণ ও মেডিকেল সেন্টার সংস্কার করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। আরো ৪৭ জন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আপগ্রেডেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে আরো ১২০০ কোটি টাকার প্রজেক্ট পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সকলের সহায়তা কামনা করেন। সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অপরিসীম চেষ্টায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের অবদানকে আমি গভীরভাবে স্মরণ করছি। আমি প্রত্যাশা করছি, একদিন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে তৈরি হবে। সেজন্য আমাদের সকলকে বিভেদ ভুলে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অনুষ্ঠানের শুরুতে সবাইকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ময়নুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন মানবিকী অনুষদের ডিন সুকান্ত বিশ্বাস, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, কৃষি অনুষদের ডিন ড. জিলহাস আহমেদ জুয়েল ও রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামান। এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকে আলোকসজ্জা করা হয়।
গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘গবেষণা সপ্তাহ–২০২৬ '
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় নতুন গতি আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড এক্সটেনশন সেন্টার আয়োজন করতে যাচ্ছে পাঁচদিনব্যাপী 'গবেষণা সপ্তাহ ২০২৬'। আগামী ২৮ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ আয়োজন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করে তোলা, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুষ্ঠু ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো — এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আয়োজনটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত বুধবার (২৪ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য ও রিসার্চ ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং জ্ঞানচর্চার ধারাবাহিকতাই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে। তাঁর প্রত্যাশা, 'রিসার্চ উইক ২০২৬' বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি পূর্ণমাত্রার গবেষণাসহায়ক প্রতিষ্ঠায় পরিণত করার পথে মাইলফলক হয়ে উঠবে। পাঁচদিনের এই আয়োজনে থাকছে একাধিক কর্মশালা ও সেমিনার। SPSS, Stata, NVivo এবং পাইথনভিত্তিক মেশিন লার্নিং বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের সহযোগিতায়। এর বাইরে বিদেশি বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ, একাডেমিক ও গবেষণা রাইটিং, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনার কৌশল এবং গবেষণায় AI-এর প্রয়োগ নিয়েও আলাদা সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। তরুণ গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে রাখা হয়েছে 'রিসার্চ আইডিয়া কম্পিটিশন' এবং একটি অনলাইন সেশন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রিসার্চ অ্যান্ড এক্সটেনশন সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেন্দ্রটি এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা অর্থায়নে ৯৫৩টি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করেছে এবং সেসব গবেষণার ফলাফল দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ২৪ জুন রাত ৯টা থেকে চালু হওয়া গুগল ফর্মে নিবন্ধন করতে হবে। অফলাইন সেমিনারে আসন মাত্র ৮০টি, তাই প্রথমে আসলে আগে সুযোগ পাওয়া যাবে। তবে শিক্ষকদের জন্য আলাদা কোনো নিবন্ধনের প্রয়োজন নেই।