বাংলাদেশ বার্তা টুডে
গঙ্গাচড়ায় পর্যাপ্ত সার মজুত, বাড়তি দামে বিক্রি ঠেকাতে নজরদারি
গঙ্গাচড়ায় পর্যাপ্ত সার মজুত, বাড়তি দামে বিক্রি ঠেকাতে নজরদারি রফিকুল ইসলাম সাবুল : (রংপুর) প্রতিনিধি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকেরা যাতে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সময়মতো সার পান, সে জন্য ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। তবে কিছু খুচরা ব্যবসায়ী ও সার ডিলারের বিরুদ্ধে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনিয়ম ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা এবং অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সার ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন। এ সময় তিনি সার মজুত, বিক্রয় ও কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়ে খোঁজ নেন। পরিদর্শন শেষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রুবেল হুসেন বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। পরিদর্শনকালে কোথাও কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি। ডিলারদের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের ওপরও নজরদারি রাখা হচ্ছে।’ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টে সরকারের নির্ধারিত সারের মূল্যতালিকা বা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা সরকারি নির্ধারিত দাম দেখে সার কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি ডিলারদের সার উত্তোলন, মজুত ও বিক্রয়ের হিসাব ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বাড়তি দামে সার বিক্রিতে জরিমানা সারের দাম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি গঙ্গাচড়ার চৌধুরীরহাট বাজারে অভিযান চালানো হয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অপরাধে দুই সার ব্যবসায়ীকে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অনিয়ম প্রমাণিত হলে জরিমানার পাশাপাশি ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত বাজার ও ডিলার পয়েন্ট পরিদর্শন করছে। কৃষকেরা যাতে ন্যায্য মূল্যে সার পান এবং কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির সুযোগ না থাকে, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। বেতগাড়ীতে নিয়ম মেনে সার পাওয়ার দাবি কৃষকদের গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ী ইউনিয়নের সার ডিলার হাজী মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম (মেসার্স মোতাজ্জেরুল ইসলাম)-এর ডিলার পয়েন্টও পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। বেতগাড়ীতে পর্যাপ্ত টিএসপি , ডিএপি, ইউরিয়া, এম ও পি সার আছে। সকাল ১০ ঘ: থেকে বিকাল ০৪ ঘ: পর্যন্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান,মো.সাইফুল রাজা ও ইসরাত জাহান উপস্থিত থেকে সার বিতরণ করছেন বলে জানা গেছে। সার বিতরণের সময় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলেন কৃষি কর্মকর্তা। কৃষক মো. নুরুন্নবী ও মামুন মিয়া জানান, তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সার নিয়ম অনুযায়ী পাচ্ছেন। সার পেতে তাঁদের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। ২০২৬ সালের নীতিমালায় ডিজিটাল হিসাব সরকার বর্তমানে নতুন সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়ন করছে। এ নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিমাসে উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে ইউনিয়নভিত্তিক ফসলের চাহিদা বিবেচনায় ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। আমন মৌসুমসহ পরবর্তী রবি মৌসুমের চাহিদাও এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন ডিলারের অধীনে নির্দিষ্ট তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র বা অনুমোদিত খুচরা বিক্রেতা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা কাছাকাছি স্থান থেকে সার কেনার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া ডিলারদের সার উত্তোলন, মজুত ও কৃষকের কাছে বিক্রয়ের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উপজেলা কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বরাদ্দ, মজুত ও বিক্রয় কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোংলায় স্বাস্থ্যঝুঁকি চরমে: ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল চার শতাধিক
মোংলায় স্বাস্থ্যঝুঁকি চরমে: ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল চার শতাধিক ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট বাগেরহাটের মোংলায় গত তিন মাসে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে, যেখানে ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যুসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩৩ জন। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় গত তিন মাসে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের ব্যবধানে উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ২৭৪ জন এবং হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৯ জন, যার সম্মিলিত সংখ্যা ৪৩৩ জন। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে দুইজন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা স্থানীয় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী এবং ৫ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মূলত বর্ষা পরবর্তী সময়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি এবং টিকা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতার কারণে ডেঙ্গু ও হামের এই দ্বিমুখী প্রকোপ দেখা দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু এবং কম বয়সী ব্যক্তিদের হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি হওয়ায় অভিভাবকরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, জনবহুল এলাকাগুলোতে মশা নিধনের নিয়মিত কার্যক্রম নেই বললেই চলে এবং স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচারণার অভাবে সাধারণ মানুষ শুরুতেই সঠিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের স্বজনরা জানান, প্রাথমিক অবস্থায় জ্বর বা হামের উপসর্গ দেখা দিলেও অনেকে একে সাধারণ রোগ মনে করে অবহেলা করছেন, যা পরবর্তীতে জটিল আকার ধারণ করছে। হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এবং রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় অনেককেই মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মশা নিধনে কার্যকর ওষুধের প্রয়োগ এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত না করলে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া এবং ডেঙ্গুর ভয়াবহতা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এক প্রকার ভীতির সঞ্চার করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন জানিয়েছেন, ডেঙ্গু ও হামের ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। তবে কেবল হাসপাতালের সেবাই যথেষ্ট নয়, বরং ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঠ পর্যায়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল সতর্কবার্তা দিয়ে এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, বরং মশা নিধনে নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রম এবং শিশুদের হামের টিকার আওতা আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রয়োজন। মোংলায় ডেঙ্গু ও হামের এই যুগপৎ প্রাদুর্ভাব কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং এটি স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতার ওপর একটি বড় পরীক্ষা। সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এই সংক্রমণ আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা স্থানীয় জনজীবনকে স্থবির করে দেবে। দ্রুত মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি জোরদার এবং আক্রান্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়। সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় থাকে।
সোনারগাঁও পুলিশের রাতভর বিশেষ অভিযান আটক ৩০, গাঁজা ইয়াবা উদ্ধার
সোনারগাঁও পুলিশের রাতভর বিশেষ অভিযান আটক ৩০, গাঁজা ইয়াবা উদ্ধার সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও মাদকসেবীসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে সোনারগাঁ থানার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সোনারগাঁ থানা সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৩ কেজি গাঁজা ও ৫১ পিস ইয়াবাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন চেঙ্গাকান্দির আবু সাঈদ (২৮), পাকুন্ডা মধ্যপাড়ার আব্দুল কাদির (৪১), ভাটিবন্দরের মোছা. আছিয়া (৫৫) ও শাহপুরের কাউসার (৪০)। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার পরোয়ানাভুক্ত সাত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন মোফাজ্জল মিয়া, নুর হোসেন, রুহুল আমিন, সুলতান মিয়া, সাব্বির হোসেন, আলামিন ও মোহাম্মদ আলী। একই অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৮ জন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। তারা হলেন তানভির হোসেন (২৪), ফাহিম (১৯), সাকিব খান (২৪), মমিন মিয়া (৩২), আরিফুল ইসলাম (১৯), কামাল হোসেন (৪২), সবুজ (৩১), রিপন (২৬), সাগর (৩২), নুর মোহাম্মদ (৪৬), আউয়াল (৪০), রকি হোসেন (৩১), মহাদেব চন্দ্র দাস (২৯), অহিদ (২৯), কাউসার (২৩), কামাল (২৫), সাগর (২৫) ও আব্দুল লতিফ (৪৫)। এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ইসলামপট্টি এলাকা থেকে মো. আরাফাত (১৯) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবীসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে সোনারগাঁ থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জনপ্রিয়তার শীর্ষে শামীম রেজা: পার্বতীপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থিতা ঘিরে গণজোয়ার
জনপ্রিয়তার শীর্ষে শামীম রেজা: পার্বতীপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থিতা ঘিরে গণজোয়ার গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এখন বইছে আগাম নির্বাচনী আমেজ। আর এই আমেজে সকল জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনার শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে মেম্বার পদপ্রার্থী শামীম রেজার নাম। ওয়ার্ডের গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, পাড়া-মহল্লায় তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব এক গণজোয়ার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পার্বতীপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি প্রান্তে শামীম রেজার ব্যাপক সামাজিক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকা, তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কাজে উদ্বুদ্ধ করা এবং এলাকার যেকোনো সংকটে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার কারণে তিনি সর্বস্তরের মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। বর্তমানে ওয়ার্ডটির প্রতিটি চা-স্টল, মোড় ও হাটে-বাজারে শামীম রেজার জনপ্রিয়তার বিষয়টিই প্রধান আলোচনার খোরাক। সর্বস্তরের ভোটারদের মতে, অবহেলিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও মডেল ওয়ার্ড গড়ার জন্য শামীম রেজার বিকল্প নেই। নিজের প্রার্থিতা ও এলাকার স্বপ্ন নিয়ে শামীম রেজা বলেন, "আমার মূল লক্ষ্য পদ-পদবি নয়, মানুষের সেবা করা। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেয়, তবে এই ওয়ার্ডকে গোমস্তাপুরের মধ্যে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব।" এলাকার তরুণ ও প্রবীণ ভোটারদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন অব্যাহত থাকলে, আসন্ন নির্বাচনে শামীম রেজা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
জাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান। জাকসু নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এর নেতৃবৃন্দ। আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ইশতেহারে শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে ও নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিতে,শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে জাকসুর গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইশতেহারে চারটি দাবি পেশ করা হয়েছে। দাবি গুলো হলো: ১. জাকসু নির্বাচন নিয়মিত ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়োজনের জন্য একটি সুস্পষ্ট নির্বাচনী ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা। ২. নির্বাচিত জাকসুর মেয়াদ শেষে যাতে দীর্ঘ সময়ের জন্য নেতৃত্বশূন্যতা সৃষ্টি না হয়,সে লক্ষ্যে দ্রুত সময়ের মধ্যে তফসিল ঘোষণা সহ পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি আগেভাগেই গ্রহণ করা। ৩. জাকসুর গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪. শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জাকসুকে আরও কার্যকর করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় ও মতবিনিময়ের ব্যবস্থা করা। তাছাড়া আজ সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ তম জাকসু আয়োজন বিষয়ে প্রশাসনের সাথে আলোচনার পর জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেছেন যদি আর্থিক জোগানের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় তাহলে খুব শীঘ্রই জাকসু আয়োজন হবে। প্রশাসনও এই বিষয়টি বাস্তবায়নে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান জাকসুর মেয়াদ শেষ হবে।
কুড়িগ্রামে প্রশাসনের তৎপরতায় সারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক
কুড়িগ্রামে প্রশাসনের তৎপরতায় সারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ৮,৯,২৬ কুড়িগ্রামে সার সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে সৃষ্ট সাময়িক অস্থিরতা কাটতে শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি ও কৃষি বিভাগের সমন্বিত তৎপরতায় অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান, মজুত সার উদ্ধার এবং ডিলার পর্যায়ে তদারকি জোরদার করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এতে কৃষকদের উদ্বেগও কমেছে। প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় সারের প্রকৃত কোনো সংকট নেই। অতিরিক্ত সার কেনা ও মজুদের প্রবণতা এবং গুজবের কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে। সোমবার ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারীর বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে কৃষকদের ভিড় দেখা যায়। রৌমারীতে একটি ডিলার পয়েন্টে প্রায় এক হাজার কৃষক সার নিতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ৭৫০ বস্তা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের ব্রিজপাড় এলাকায় সার বিতরণের স্লিপ নিয়ে কয়েকজন কৃষক সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কুড়িগ্রামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। আগাম ভুট্টা, আলু ও বেগুন চাষের জন্য কিছু কৃষক অতিরিক্ত সার কেনার চেষ্টা করায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছিল। কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ একযোগে কাজ করছে। জেলা প্রশাসক অর্ণপূর্ণা দেবনাথ বলেন, গুজবে কান না দিয়ে কৃষকদের ধৈর্য ধরতে হবে। কোনো ডিলার বা ব্যবসায়ী নিয়মের বাইরে সার বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অবৈধভাবে সার মজুত করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত সার বিতরণের ফলে কুড়িগ্রামে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাসুল (সা.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী
রাসুল (সা.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ রাসূল (সা.) ছিলেন মহান চরিত্রের অধিকারী আদর্শের জীবন্ত প্রতীক। আল-কোরআনই হলো তার জীবনাদর্শ। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘তিনি ছিলেন আল-কোরআনের মূর্ত প্রতীক’। তিনি তার জীবনে আল-কোরআনের প্রতিটি অনুশাসনের রূপায়ণ ও বাস্তবায়ন করেছেন। এজন্য তাকে ‘জীবন্ত কোরআন’ও বলা হয়। জন্মলগ্ন থেকেই তার মাঝে বিরাজ করছিল সর্বোত্তম চরিত্র মাধুরী ও আদর্শ। তিনি ছিলেন সর্বোত্তম মানুষ। বাল্যকাল থেকেই তার স্বভাব ছিল কলুষতা, কাঠিন্যতা ও কর্কশমুক্ত। নম্রতা ছিল তার প্রধান হাতিয়ার। তিনি ছিলেন দয়াশীল, সহনশীল ও সহানুভূতিশীল এবং সর্বমহলে বিশ্বস্ত। ওয়াদা পূরণ বা অঙ্গীকার পালন করা রাসুল (সা.)-এর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার পালন না করাকে জঘন্যতম পাপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন, ‘যে অঙ্গীকার পালন করে না তার ধর্ম নেই’। তাই তিনি নির্দেশ দেন, ‘তোমরা যখন অঙ্গীকার করবে, তখন তা পালন করবে’। ব্যক্তিগতভাবে ওয়াদা-অঙ্গীকার পালনে তিনি ছিলেন নিষ্কলুষ ও নির্ভেজাল। তাইতো অল্প বয়সেই তিনি ‘আল আমিন’ উপাধিতে ভূষিত হন। সাহাবি কবি হাসসান বিন সাবিত (রা.) রাসুল (সা.) সম্পর্কে আবৃত্তি করে বলেন, ‘আপনার চেয়ে সুন্দর আমার দু’চোখ কাউকে কখনো দেখেনি, আপনার চেয়ে সুন্দর সন্তান কোনো নারী কখনো জন্ম দেয়নি। আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সব দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত করে। হে আল্লাহ! আপনি যেমন চেয়েছেন ঠিক তেমন করেই তাকে সৃষ্টি করেছেন।’ কবির এই কবিতাই বলে দিচ্ছে কেমন ছিলেন তিনি। কেমন ছিল তার অনুপম আদর্শের সৌন্দর্য। অনুভব করার বিষয়। এজন্য তার উন্নত আদর্শের স্বীকৃতি দিয়েছেন মহান আল্লাহতায়ালা। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আপনি সুমহান চরিত্রের অধিকারী’ (সুরা আল কলম : ৪)। আল্লাহতায়ালা তাকে শুরু থেকেই সুন্দর ভূষণে নিরন্তর বিভূষিত করেছিলেন। অন্যায়ের প্রতিকার ও প্রতিশোধ গ্রহণের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও সহিষ্ণুতা আল বালা-মুসিবতে সহ্য ও স্থিরতা ছিল আখলাকে নববীর অনন্য ভূষণ। প্রত্যেক ধৈর্য ও সহনশীল লোকের জীবনবৃত্তান্ত খুঁজে দেখলে তাতে অব্যশই কোনো না কোনো বিকৃতি বা ফাঁকফোকর পাওয়া যাবে। কিন্তু এর বিপরীতে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র মাধুরী ছিল এতটা সুনির্মল ও নির্ভেজাল যে, তার ওপর শত্রুদের পক্ষ থেকে জুলুমণ্ডঅত্যাচারের মাত্রা যতটা বেড়ে গিয়েছিল ঠিক তার সহিষ্ণুতা আর স্থিরতার চরম সীমাও ততটা বিরল ইতিহাসের জন্ম দিয়ে যাচ্ছিল। আরবের মূর্খ মানুষগুলোর সীমা লঙ্ঘনের পরিধি যতটা বেড়েছিল তার সহনশীলতার পরিধিও ততটা বিস্তৃত হয়েছিল। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘যেকোনো ক্ষেত্রে যখন রসুল (সা.)-এর সামনে দুটি পথ খোলা থাকত তখন তিনি বারবার সহজ পথটিই অবলম্বন করতেন যতক্ষণ না গুনাহের পর্যায়ে পৌঁছে যেত। কারণ যেকোনো গুনাহের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দূরে। ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থে তিনি কখনো কারো থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। কিন্তু আল্লাহর কোনো বিধান লঙ্ঘন করা হলে সে ক্ষেত্রে তিনি প্রতিশোধ নিতে দ্বিধায় ভুগতেন না’ (বোখারি শরিফ : ১/৫০৩)। রাগ আর ক্রোধের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সংযমী। আর রাযি ও সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অগ্রগামী। রাগ শয়তানের কুমন্ত্রণার অংশ বিশেষ বলে তিনি কখনো রাগ করতেন না। এজন্যই তিনি এক আগন্তুককে উত্তম নসিহত হিসেবে বলেন, ‘রাগ করো না’। এমনটি তিনি তিনবার বলেছেন। (বোখারি শরিফ : ২/৯০৩)। তবে পূর্বে যে বিষয়টি বলা হয়েছে, নিজের স্বার্থে তিনি কখনো কারো থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করেননি। কিন্তু আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করা হলে সে ক্ষেত্রে তিনি প্রতিশোধ নিতে দ্বিধায় ভুগতেন না। তা আপন জায়গায় বহাল থাকবে। হজরত আয়েশা (রা.)- এর সূত্রে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.) কখনো কাউকে মেরেছেন এমনটি হয়নি। নিজের স্ত্রীদের বেলায়ও না; এমনকি কোনো সেবক, কর্মচারীর ক্ষেত্রেও না। তবে জিহাদের ময়দানে আল্লাহর জন্য বেইমানদের ওপর আক্রমণ করেছেন। কেউ তাকে কষ্ট দিলে তিনি তার থেকে প্রতিশোধ নিতেন না। তবে শরিয়তের কোনো হুকুম লঙ্ঘন করলে দোষী হিসেবে তাকে শাস্তি দিতেন’ (সহিহ মুসলিম)। রসুল (সা.)-এর বদান্যতা ছিল তার অন্যতম জীবনাদর্শ। দয়া ও দানশীলতা ছিল তার চরিত্রের ভূষণ। নিজের কাছে কিছু থাকলে তিনি কাউকে ফিরিয়ে দিতেন না। হজরত মুসা বিন আনাস (রা.) তার বাবা সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘রাসুল (সা.)-এর কখনো এমনি যে, কেউ তার কাছে কিছু চেয়েছে আর তা তিনি দেননি। তিনি বলেন, একবার এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-এর কাছে একটি বকরি চাইলে তিনি তাকে এত বেশি পরিমাণ দান করলেন, যা দুই পাহাড়ের মধ্যস্থান পূর্ণ করে দেবে। অতঃপর লোকটি নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এসে বললেন, হে সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম গ্রহণ করো। কেননা, মুহাম্মদ (সা.) এত বেশি দান করেছেন যে, তিনি নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার ভয় করেন না’- (সহিহ মুসলিম)। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘লোকটি রসুল (সা.)-এর কাছে শুধু দুনিয়াবি স্বার্থেই এসেছিল। কিন্তু সন্ধ্যা বেলা এমন অবস্থা সৃষ্টি হলো যে, রসুল (সা.)-এর আনীত দ্বীন উক্ত ব্যক্তির কাছে পৃথিবী ও তার মধ্যকার সবকিছু থেকে শ্রেয়’- (মুসনাদে আহমাদ)। কথাবার্তা, মত প্রকাশ ও কোনো কাজ করতে যাওয়ায় সাহসিকতা প্রদর্শন একটি চমৎকার গুণ। যুদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় তিনি ছিলেন সব মানুষের চেয়ে বেশি সাহসী। বীর সিপাহি হজরত আলী (রা.) বলেন, যখন যুদ্ধ শুরু হতো তখন আমরা রসুল (সা.)-কে আড়াল নিয়ে আত্মরক্ষা করতাম। তিনি থাকতেন আমাদের মধ্য থেকে শত্রুদের সবচেয়ে নিকটবর্তী। এর অনেক প্রমাণ রয়েছে উহুদ ও হুনাইনের যুদ্ধে। নবীজি (সা.)-এর সর্বোত্তম আদর্শের অন্যতম ছিল তার লজ্জাশীলতা। লজ্জাশীলতা ছিল তার চরিত্রের এক মহান ভূষণ। লজ্জাশীলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘লজ্জা ঈমানের অঙ্গ’। বস্তুত মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতিটি বাণী, কাজকর্ম, কথাবার্তা, আচরণ এবং তার জীবনের প্রতিটি ঘটনাও তৎপরবর্তী বিশ্ববাসীর জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ, উৎকর্ষতম, অনুসরণীয় আদর্শ। একটি অনুপম আদর্শ ও চরিত্রের যতগুলো মহৎ গুণ প্রয়োজন, মানবহিতৈষী বিশ্বনেতা মহানবী (সা.)-এর চরিত্রে তার সবগুলোরই অপূর্ব সমাবেশ ঘটেছিল। তিনি তার উৎকর্ষতম আদর্শের মাধ্যমে বিশ্বমানবতাকে সত্যের দিকে আকৃষ্ট করেছেন। তার অনুপম আদর্শে মুগ্ধ হয়ে মানুষ দলে দলে ইসলামের শান্তির পতাকাতলে সমবেত হয়ে তার আদর্শে নিজেদের জীবনকে উজ্জ্বল করে গড়ে তুলেছিল। মানবজীবনের প্রতিটি ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি বিশ্বমানবতার জন্য শ্রেষ্ঠতম ও অনিন্দ্য সুন্দর অনুসরণীয় আদর্শ উপহার দিয়ে গেছেন যা প্রতিটি যুগ ও শতাব্দীর মানুষের জন্য মুক্তির দিশারী হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। উপরোক্ত আলোচনায় বর্ণিত নবীজি (সা.)-এর কয়েকটি বিশেষ গুণাবলি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রতিয়মান হয় যে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বাপেক্ষা উত্তম চরিত্রের অধিকারী। যার পক্ষে পবিত্র কোরআনুল কারিমও একই কথা বলেন। কিয়ামত পর্যন্ত যারা তার অনুসরণ করবে অবশ্যই তারা হেদায়েত পাবে। আর ইহকালে শান্তি ও পরকালে মুক্তি লাভ করবে । নবীজি (সা.)-এর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা-ভক্তি আমাদের আছে। কেনইবা থাকবে না, তিনি সর্বোত্তম চরিত্র মাধুরীর অধিকারী সুন্দরতম মানুষ ও রাসুল। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা যেন উপরিউক্ত আলোচনার প্রতি আমল করার তাওফিক দান করেন আমীন। লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি: জকিগঞ্জ উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সিলেট। সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট। সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট। সাবেক প্রধান শিক্ষক: হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দক্ষিণ সুরমা সিলেট।
সোনারগাঁও পশু খাদ্যর লাইসেন্স না থাকায় অর্থদন্ড ও ৪ ফার্মেসীকে মামলাসহ ২২ হাজার টাকা জরিমানা
সোনারগাঁও পশু খাদ্যর লাইসেন্স না থাকায় অর্থদন্ড ও ৪ ফার্মেসীকে মামলাসহ ২২ হাজার টাকা জরিমানা, আগষ্ট মাসে ১২ লাখ টাকা আদায় সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পশু খাদ্য বিক্রির লাইসেন্স না থাকায় এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুরে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিম। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিম জানান, অভিযানে পশু খাদ্য বিক্রয়ের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় মোগরাপাড়া চৌরাস্তা বাজারের আফনান ট্রেডার্সের মালিককে মৎস্য ও পশু খাদ্য আইন, ২০১০-এর ৪(২০) ধারায় ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম আরো বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোসাম্মৎ নইফা বেগম, সহকারী কমিশনারের পেশকার মো. বায়েজিদ, সোনারগাঁও থানার এসআই হারুনসহ পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন। সোনারগাঁয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ৪ ফার্মেসীকে মামলা এবং ২২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে ,সোমবার বিকেল ৫টায় উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাঁচপুর বাজারে ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর অধীনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করেন, সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মামুন সরকার। এসময় অভিযানকালে নারায়ণগঞ্জ জেলার ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক এবং সোনারগাঁ থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মামুন সরকার বলেন, ফার্মেসী মালিকদের আইন ও বিধিবিধান মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর বিধিবিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা আইনবহির্ভূত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। ভোক্তাদের নিরাপদ ও মানসম্মত ওষুধ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য যে,মোবাইল কোর্টের মাসিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্ট মাসে নিষ্পত্তি করা ২০টি মামলায় মোট ১৬ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব মামলায় আদালত মোট ১২ লাখ ৮০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করেন। এছাড়া অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় একজনকে ৩ দিনের কারাদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে অপর একজনকে ১ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জনস্বার্থ রক্ষা, সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষা ও বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আগস্ট মাসজুড়ে কঠোর অবস্থানে ছিল উপজেলা প্রশাসন। কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিমের নেতৃত্বে পরিচালিত একাধিক মোবাইল কোর্ট অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ২০টি মামলা দায়ের ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ১২ লাখ ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। প্রশাসনের এমন ধারাবাহিক অভিযানের ফলে কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল ও আশপাশের এলাকায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাইরুজ তাসনিম বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা, সরকারি সম্পত্তি সুরক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এদিকে প্রশাসনের এ ধরনের নিয়মিত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জনদুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
নড়াইলে শিশু বলাৎকারের দায়ে মাদরাসা শিক্ষক মেরাজ আলীর যাবজ্জীবন
নড়াইলে শিশু বলাৎকারের দায়ে মাদরাসা শিক্ষক মেরাজ আলীর যাবজ্জীবন উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে: নড়াইলে শিশু বলাৎকারের দায়ে মাদরাসা শিক্ষক মেরাজ আলীর যাবজ্জীবন। নড়াইলে মাদরাসার ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রকে বলাৎকারের মামলায় মেরাজ আলী (২৫) নামে এক শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া তাকে ৩ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেয় আদালত। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নড়াইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ ছামিদুল ইসলাম এ আদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মেরাজ আলী চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার রুদ্রপুর কালিয়াবকরি গ্রামের বাসিন্দা। মামলার বিবরণীতে জানা যায়, নড়াইল পৌরসভা এলাকার একটি মাদরাসায় গত বছরের (১০ জুলাই) রাতে ওই ছাত্রকে তার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করেন দণ্ডপ্রাপ্ত মেরাজ আলী। পরে তার মা-বাবাকে কিছু না বলার জন্য শিশুটিকে ভয় দেখান। দুই মাসে ওই শিক্ষক একাধিকবার ওই মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকার করেছেন এমন ঘটনা সে তার মা'কে জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে মেরাজ আলী পালিয়ে যান। পরে (১২ জুলাই) স্থানীয় লোকজন মেরাজ আলীকে আটক করে পুলিশে দেন। এ ঘটনায় ওই শিশুর মা সদর থানায় মামলা করেন। নড়াইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিবুর রহমান আজিজ বলেন, আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ আদায় করে শিশুটির পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।
কমরেড বদরুদ্দীন উমর এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভার আয়োজন
কমরেড বদরুদ্দীন উমর এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা সভার আয়োজন।* বিশ্বনাথ প্রতিনিধি আফজাল মিয়া। বাঙলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ৭ সেপ্টেম্বর মার্কসবাদী লেনিনবাদী কমিউনিস্ট বিপ্লবী কমরেড বদরুদ্দীন উমর এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার জীবন ও কর্মের উপর আলোকপাত করা হয়। সংগঠনটির সভাপতি খালেদ উদ দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কমরেড বদরুদ্দীন উমরের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন প্রবীণ রাজনীতিক নুরুল হুদা সালেহ, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সংগঠক শিরিন মিয়া, বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মজনু মুহিবুর রাহমান ও প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক বদরুল ইসলাম (মহসিন)। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কমরেড উমর ছিলেন, শ্রমিক ও মেহনতি জনগণের মুক্তি সংগ্রামের আপসহীন নেতা। তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন কিভাবে নিজের পুরোটা জীবন মুক্তির সংগ্রামে নিয়োজিত রাখা যায়। কমরেড উমরের জীবন এবং এদেশের জনগণের মুক্তির সংগ্রাম অবিচ্ছেদ্য। আলোচনায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কমরেড উমরের দেখানো পথে লড়াই ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ খুঁজে পাবে তাদের শান্তির ও স্বস্তির ঠিকানা।
গাইবান্ধায় গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতন: প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার
গাইবান্ধায় গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা ও নির্যাতন: প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার রফিকুল ইসলাম সাবুল : রংপুর প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামে স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি মো. মিজানুর রহমান শেখকে (২৭) নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব-১৩ ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মিজানুর রহমান শেখ গাইবান্ধা সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামের আব্দুস ছামাদ শেখের ছেলে। র্যাব জানায়, মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর স্বামী বাজারে যাওয়ার পর মিজানুর রহমান শেখ ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করেন। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরে আরও কয়েকজন আসামি পরস্পর যোগসাজশে ভুক্তভোগীকে চরিত্রহীন ও লম্পট আখ্যা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৮ আগস্ট গাইবান্ধা সদর থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলার পর থেকেই মিজানুর রহমান শেখ আত্মগোপনে ছিলেন। র্যাব-১৩ জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর গাইবান্ধা ক্যাম্প ও র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের যৌথ দল ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান শেখকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কুড়িগ্রামে যুবক হত্যা: রংপুরে র্যাবের অভিযানে আসামি গ্রেফতার
কুড়িগ্রামে যুবক হত্যা: রংপুরে র্যাবের অভিযানে আসামি গ্রেফতার রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে ট্রাকচালক হামিদুর রহমান বাবু (২৮) হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে রংপুরের পীরগাছা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল মজিদ (৪১)। তিনি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের রামরামপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে। র্যাব-১৩ জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে রংপুর জেলার পীরগাছা থানার চণ্ডীপুর বাজারের মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল মজিদকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উলিপুর থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উলিপুর থেকে চিলমারী যাওয়ার পাকা সড়কের পশ্চিম পাশে নিরাশার পাথার এলাকায় একটি জমির পাশে রাস্তার ওপর হামিদুর রহমান বাবুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা বিষয়টি তার স্বজনদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। পরে উলিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামিদুর রহমান বাবুকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। তার মাথা, চোখ ও কানে গুরুতর জখমের চিহ্ন ছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করে হত্যা করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা গত ৩ আগস্ট উলিপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ১০। র্যাব জানায়, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র্যাব। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ সদর কোম্পানি, রংপুরের একটি দল অভিযান চালিয়ে আব্দুল মজিদকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অধিনায়কের পক্ষে বিপ্লব কুমার গোস্বামী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গোপালগঞ্জে পার্কে মাদকবিরোধী অভিযানে নারী সহ ৪ জন গ্রেপ্তার-৬ মাস কারাদণ্ড
গোপালগঞ্জে পার্কে মাদকবিরোধী অভিযানে নারী সহ ৪ জন গ্রেপ্তার-৬ মাস কারাদণ্ড : সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জে সদর উপজেলার নামিদামী স্বনামধন্য সাভানা পার্ক এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও মোট ১০ হাজার ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। গতকাল রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, গোপালগঞ্জের একটি বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ১৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটকরা হলেন- মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হরিদাসদি এলাকার সুমী আক্তার (৩০), একই উপজেলার তাতীকান্দী এলাকার সাগর জমাদার (২৮), গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজির বাজার এলাকার পাখি (২৪) এবং সাতপাড় দক্ষিণপাড়া এলাকার রিমি বালা (২০)। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন পৃথক প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. কে. এম. ফয়জুল বারী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। গোপালগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নবী নেওয়াজ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
পঞ্চগড়ে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক
পঞ্চগড়ে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী আটক পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি | সঞ্জু বনিক সৌরভ পঞ্চগড়, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পঞ্চগড়ে খাবার ও শরবতের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে আলম হক (নাম) নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রী মৌসুমী আক্তার ও বাবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত বাবুল হোসেনকে আটকের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে খাবার ও শরবতের সঙ্গে বিষাক্ত পদার্থ খাইয়ে আলম হককে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা। নিহত আলম হকের বড় ভাই আব্দুল করিম বলেন, “আমি আলমের বউকে বলি, তুমি যদি কিছু করে থাকো তাহলে বল। বাচ্চাদের কথা চিন্তা করে তোমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করব। এরপরও সে কিছু বলেনি। পরে আমাদের ভাগনে মকছেদুলের কাছে বাবুলের সঙ্গে তার এক বছর ধরে প্রেমের কথা স্বীকার করেছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।” পরিবারের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “আলমের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছিল। সোমবার স্থানীয়রা ফোন করে জানায়, নিহতের স্ত্রী ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।” ওসি আরও বলেন, “নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেনের করা ইউডি মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রূপান্তর করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই মামলায় মৌসুমীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় অপর অভিযুক্ত বাবুল হোসেনকে আটকের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের মৃত্যুর পেছনে বিষক্রিয়া বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
ভূমি সেবায় আস্থা ফেরানো এসিল্যান্ড মহেশ্বর মন্ডলের বদলি, হতাশ উজিরপুরবাসী
ভূমি সেবায় আস্থা ফেরানো এসিল্যান্ড মহেশ্বর মন্ডলের বদলি, হতাশ উজিরপুরবাসী মোঃ কাওছার হোসেন, বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মন্ডলের বদলি, হতাশ উজিরপুরবাসী। ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা, সাহসী পদক্ষেপ ও আন্তরিকতার মাধ্যমে মাত্র এক বছরের কর্মকালেই উজিরপুরবাসীর আস্থা অর্জন করেছেন উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল। ভূমি সংক্রান্ত কাজে দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে তার বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসিত হলেও হঠাৎ বদল হতাশ স্থানীয়রা। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন মহেশ্বর মণ্ডল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভূমি সংক্রান্ত মামলা ও বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে সেটেলমেন্ট এলাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে বলে জানান স্থানীয়রা। ভূমি সেবার পাশাপাশি উজিরপুর পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন মহেশ্বর মণ্ডল। পৌরসভার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ প্রণয়নেও ভূমিকা রাখেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া ছিল তার কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ফলে অল্প সময়েই তিনি উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সৎ, দক্ষ ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পান। এদিকে মহেশ্বর মণ্ডলকে উজিরপুর থেকে খুলনায় বদলি করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ছিল তার উজিরপুরে শেষ কর্মদিবস। তার বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই তাকে সততার প্রতীক উল্লেখ করে বলেন, ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা আনা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে মহেশ্বর মণ্ডলের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তার বদলি হওয়ায় ভূমি সংক্রান্ত সেবায় আবারও ভোগান্তি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। স্বল্প সময়ের কর্মকাল হলেও কাজের মাধ্যমে উজিরপুরবাসীর মনে যে আস্থা তৈরি করেছেন, তার বদলির খবরে সেটিই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নতুন কর্মস্থল খুলনাতেও তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।