রংপুরের চার হত্যাকান্ডে নতুন প্রশ্ন, ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার ফোন?
বাংলাদেশ বার্তা টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ পিএম
রফিকুল ইসলাম সাবুল :রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে ঘটনার আগে ও পরে প্রায় ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে এ তথ্য জানান রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এ কারণে ঘটনার পেছনে পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুগ্ধ দাসের বাবা কানু দাস এবং সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস পরস্পরের ফুফাতো ভাই। সে হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে।
এদিকে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়েও তদন্তে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে তারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার আগে ও পরে ইয়াবা সেবনের কথা জানিয়েছিলেন। তবে ডোপ টেস্টের ফলাফলে মাদকের উপস্থিতি না পাওয়ার বিষয়টি এখন তদন্তকারীরা কীভাবে মূল্যায়ন করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন ভোরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, দুই আসামির মধ্যে ঘন ঘন যোগাযোগের উদ্দেশ্য এবং ডোপ টেস্টের ফলাফল--সবকিছুই তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।